ANS-যে নদীতে সারা বছর জল থাকে তাকে নিত্যবহ নদী বা বহুবর্ষজীবী নদী বলা হয় ।
২.৩ দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে কী বলে ?
ANS- দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব বলা হয়।
২.৪ আগ্রা শহরটি কোন্ দুটি নদীর দোয়াব অঞ্চলে অবস্থিত ?
ANS-আগ্রা শহরটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলের অংশ।
২.৫ তাজমহল কোন শিলা দিয়ে তৈরী ?
ANS-তাজমহল মূলত সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি ।
২.৬ লোয়েস্ সমভূমি কী দ্বারা গঠিত ?
ANS-লোয়েস সমভূমি মূলত বায়ুপ্রবাহের দ্বারা বাহিত সূক্ষ্ম পলি এবং বালুকণা সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয় ।
২.৭ ভারতের সাতপুরা কী জাতীয় পর্বত ?
ANS-সাতপুরা পর্বতমালা হল একটি স্তূপ পর্বত (block mountain)।
২.৮ মৃত্তিকায় খনিজ পদার্থ কত শতাংশ থাকে ?
ANS-মৃত্তিকায় খনিজ পদার্থ প্রায় ৪৫% থাকে ।
২.৯ পৃথিবীর দীর্ঘতম খাল কোনটি ?
ANS-চীনের গ্র্যান্ড ক্যানেল বিশ্বের প্রাচীনতম এবং দীর্ঘতম খাল ।
২.১০ ‘ভূমধ্যসাগরে চাবিকাঠি’ কাকে বলে ?
ANS-ভূমধ্যসাগরের চাবিকাঠি বলা হয় জিব্রাল্টার প্রণালী-কে ।
৩। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে-কোনো চারটি) : ২×৪=৮
৩.১ পর্বত ও পাহাড়ের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
ANS-পাহাড় ও পর্বতের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল উচ্চতা ও আকৃতি। সাধারণভাবে, পর্বতগুলি পাহাড়ের চেয়ে উঁচু এবং খাড়া ঢালু হয়ে থাকে, যার চূড়া আরও স্পষ্ট এবং তীক্ষ্ণ হয়।
অন্যদিকে, পাহাড়গুলি সাধারণত ছোট এবং কম খাড়া হয়ে থাকে, যার চূড়া গোলাকার বা অস্পষ্ট হয়।
৩.২ মালভূমিকে ‘টেবিলল্যান্ড’ বলা হয় কেন ?
ANS-মালভূমিকে টেবিল ল্যান্ড বলা হয় কারণ এর আকৃতি অনেকটা টেবিলের মতো। মালভূমি হল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু বিস্তৃত ভূমি যা উপরে প্রায় সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়। এই কারণে একে টেবিল ল্যান্ডও বলা হয়।
৩.৩ লোয়েস সমভূমি কাকে বলে ?
ANS-লোয়েস সমভূমি হল এক প্রকারের সমভূমি যা প্রধানত সূক্ষ্ম পলি বা বালুকণা দ্বারা গঠিত, যা বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে এসে সঞ্চিত হয়। একে ইংরেজিতে “Loess Plain” বলা হয়।
৩.৪ ‘জলবিভাজিকা’ বলতে কী বোঝো ?
ANS-জলবিভাজিকা (Watershed) হল পাশাপাশি অবস্থিত দুটি বা তার বেশি নদী অববাহিকাকে পৃথককারী উচ্চভূমি। সহজ ভাষায়, এটি এমন একটি এলাকা যেখানে বৃষ্টির জল বা অন্যান্য উৎস থেকে আসা জল একটি নির্দিষ্ট নদী বা জলাধারে নিষ্কাশিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, মধ্য এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চল পৃথিবীর একটি প্রধান জলবিভাজিকা, যা থেকে অনেক নদী বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
৩.৫ টীকা লেখো : মিয়েন্ডার।
ANS-মিয়েন্ডার হলো নদীর একটি বাঁকানো গতিপথ। সাধারণত, নদীর নিম্নগতি বা সমভূমিতে মিয়েন্ডার দেখা যায়, যেখানে নদীর স্রোত তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং নদী তার পথে আসা বাধাগুলি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাঁক তৈরি করে। এই বাঁকানো গতিপথকে নদী বাঁক বা মিয়েন্ডার বলা হয়। শব্দটি তুরস্কের মিয়েন্ডারেস নদী থেকে এসেছে, । মিয়েন্ডার গঠনের মূল কারণ হল নদীর স্রোতের গতিপথ এবং ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য। যখন নদীর জল একটি বাঁকের বাইরের দিকে ধাক্কা মারে, তখন সেখানে ক্ষয় বেশি হয় (কাট ব্যাংক), এবং ভেতরের দিকে স্রোত কম থাকার কারণে পলি জমা হয় (পয়েন্ট বার)। এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকলে বাঁকগুলি আরও স্পষ্ট হতে থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে নদী আরও বেশি আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। সংক্ষেপে, মিয়েন্ডার হল নদীর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, যা নদীর গতিপথে বাঁক তৈরি করে এবং এটি নদীর নিম্নগতিতে বেশি দেখা যায়।
৩.৬ প্লাবনভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয় ?
ANS-…প্লাবনভূমি (floodplain) মূলত নদী বা স্রোতের পাশে অবস্থিত একটি সমতল ভূমি, যা নদীর তীর থেকে উপত্যকার বাইরের প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি নদী ভাঙ্গন ও পলি জমা হওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। যখন নদী উপচে পড়ে বা বন্যা হয়, তখন নদীর তীরবর্তী এলাকায় পলিমাটি জমা হতে থাকে, যার ফলে প্লাবনভূমি গঠিত হয়।
৩.৭ রেগোলিথ কী ?
ANS-রেগোলিথ হল পৃথিবীর পৃষ্ঠে শিলা, ধুলো এবং অন্যান্য আলগা উপাদানের একটি স্তর। এটি সাধারণত কঠিন শিলার উপরে থাকে এবং এটি আবহাওয়া এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়।
৪। নিচের যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×৪=১২
৪.১ ভঙ্গিল পর্বত ও স্তূপ পর্বতের দুটি পার্থক্য লেখো।
ANS-নিচে দুটি প্রধান পার্থক্য তুলে ধরা হলো: ১. গঠন প্রক্রিয়া: ভঙ্গিল পর্বত: ভঙ্গিল পর্বতগুলি পৃথিবীর প্লেটগুলির পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলে গঠিত হয়। এই সংঘর্ষে শিলাস্তরের উপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং শিলা ভাঁজ হয়ে উপরে উঠে আসে। স্তূপ পর্বত: স্তূপ পর্বতগুলি মূলত ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা চ্যুতির কারণে গঠিত হয়। যখন কোনো একটি অংশ উপরে উঠে আসে এবং তার সংলগ্ন অংশ নিচে বসে যায়, তখন স্তূপ পর্বত তৈরি হয়, according to Wikipedia. ২. আকৃতি: ভঙ্গিল পর্বত: ভঙ্গিল পর্বতগুলি সাধারণত সুউচ্চ এবং সুগঠিত হয়, এদের চূড়াগুলি তীক্ষ্ণ এবং ঢালু হয়ে থাকে। স্তূপ পর্বত: স্তূপ পর্বতগুলির আকৃতি সাধারণত বন্ধুর হয় এবং এদের উপরিভাগ অনেকটা টেবিলের মতো চ্যাপ্টা হয়ে থাকে।
৪.২ টীকা লেখো : শাখানদী।
ANS-একটি শাখানদী হল একটি প্রধান নদী থেকে উৎপন্ন হওয়া ছোট নদী। এটি মূল নদী থেকে বের হয়ে কিছুদূর গিয়ে আবার মূল নদীতেই ফিরে আসে না, বরং অন্য কোনো জলাশয়ে পতিত হয় বা সমুদ্রে মেশে। উদাহরণস্বরূপ, যমুনা নদীর একটি শাখানদী হল ধলেশ্বরী। একটি প্রধান নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে যে নদী মূল নদীতে ফিরে আসে না, বরং অন্য কোনো জলাশয়ে পতিত হয়, তাকে শাখানদী বলে। এই নদী মূল নদীর জলরাশি বহন করে নিয়ে যায় এবং এটি মূল নদীর একটি অংশ হিসাবে বিবেচিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, গঙ্গা নদীর একটি প্রধান শাখানদী হল হুগলি নদী। এটি গঙ্গা থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে মিশেছে।
৪.৩ পৃথিবীর বৃহত্তম নদী আমাজনে কোনো বদ্বীপ না থাকার কারণ কী ?
ANS-কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো: অতিরিক্ত জলপ্রবাহ: আমাজন নদী পৃথিবীর বৃহত্তম নদী এবং এর জলপ্রবাহও অনেক বেশি। এই কারণে, নদী দ্বারা বাহিত পলি দ্রুত সমুদ্রে পৌঁছে যায় এবং জমাট বাঁধার সুযোগ পায় না। গভীর মোহনা: আমাজন নদীর মোহনা খুব গভীর। ফলে, পলি সমুদ্রে প্রবেশ করার পর সহজেই গভীর জলের সাথে মিশে যায় এবং বদ্বীপ তৈরি করতে পারে না। প্রবল ঢেউ ও স্রোত: আটলান্টিক মহাসাগরের ঢেউ ও স্রোত অনেক শক্তিশালী। এই ঢেউ ও স্রোত আমাজন নদীর মোহনায় এসে পলির সঞ্চয়কে বাধা দেয় এবং পলিকে দূরে সরিয়ে দেয়, যার ফলে বদ্বীপ তৈরি হতে পারে না। এই কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবেই আমাজন নদীতে কোনো বদ্বীপ গঠিত হয়নি।
৪.৪ টীকা লেখো : বদ্বীপ।
ANS-বদ্বীপ হল নদীর মোহনায় পলি জমে তৈরি হওয়া একটি ভূমি। এটি দেখতে অনেকটা ইংরেজি ‘ব’ অক্ষরের মতো, তাই একে ব-দ্বীপ বলা হয়। নদী যখন সমুদ্রে বা হ্রদে মেশে, তখন তার স্রোতের বেগ কমে যায় এবং নদীবাহিত পলিমাটি জমা হতে থাকে। এই জমা হওয়া পলির ফলেই ব-দ্বীপ গঠিত হয়। আরও বিস্তারিতভাবে , ব-দ্বীপ হল: নদীর মোহনায় সৃষ্টি: যখন একটি নদী একটি বৃহৎ জলাধার, যেমন – সাগর বা হ্রদে গিয়ে মেশে, তখন তার গতিপথ পরিবর্তন হয় এবং নদীর স্রোত কমে যায়। পলিমাটির সঞ্চয়: নদীর স্রোত কমে যাওয়ায় নদীবাহিত পলিমাটি আর বেশিদূর যেতে পারে না, ফলে নদীর মোহনায় জমা হতে থাকে। দ্বীপের মতো গঠন: এই পলির স্তূপ ধীরে ধীরে দ্বীপের মতো আকার নেয়, যা দেখতে অনেকটা ইংরেজি ‘ব’ অক্ষরের মতো। তাই এর নাম ব-দ্বীপ। বিভিন্ন নদীর ব-দ্বীপ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর ব-দ্বীপ, নীলনদের ব-দ্বীপ, মিসিসিপি নদীর ব-দ্বীপ পৃথিবীর বিখ্যাত ব-দ্বীপের উদাহরণ। সংক্ষেপে, ব-দ্বীপ হল নদীর মোহনায় পলিমাটি জমে তৈরি হওয়া একটি বিশেষ ধরনের ভূমি যা ইংরেজি ‘ব’ অক্ষরের মতো দেখতে।
৪.৫ নিলনদের মিম্ন অংশে বন্যা হয় কেন ?
ANS-নীল নদের নিম্ন অববাহিকায় বন্যার প্রধান কারণ হল ইথিওপিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, যা নীল নদের প্রধান উপনদীগুলির প্রবাহকে বৃদ্ধি করে। এই অতিরিক্ত জল নীল নদের মূল স্রোতে মিলিত হয়ে বন্যা সৃষ্টি করে। এছাড়াও, পুরনো পলল সরানোর জন্য এবং মাটিকে উর্বর করার জন্য নীল নদের বন্যা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে বর্তমানে আসোয়ান বাঁধের কারণে মিশরে আর এই বন্যা দেখা যায় না। নীল নদের বন্যা মূলত দুটি কারণে হয়ে থাকে: বৃষ্টিপাত: গ্রীষ্মকালে ইথিওপিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আটবারাহ এবং সোবাত নদীর জল বৃদ্ধি পায়, যা নীল নদের মূল স্রোতে এসে মেশে এবং এর ফলে বন্যা হয়। এই উপনদীগুলি নীল নদের প্রবাহের 90% পর্যন্ত অবদান রাখে এবং প্রচুর পরিমাণে পলি বহন করে। প্রাচীন পলল অপসারণ: নীল নদের বন্যা প্রতি বছর পলিমাটি বয়ে নিয়ে আসত, যা মাটিকে উর্বর করত। এই পলিমাটি প্রাচীন মিশরের কৃষিকাজে সহায়তা করত। তবে, আসওয়ান বাঁধ নির্মাণের পর থেকে এই প্রাকৃতিক বন্যা আর ঘটে না। অতএব, নীল নদের নিম্ন অববাহিকায় বন্যার প্রধান কারণ হল ইথিওপিয়ার ভারী বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে উপনদীগুলির মাধ্যমে অতিরিক্ত জল নীল নদে এসে মেশা।
৪.৬ টীকা লেখো : ভেল্ড
ANS-ভেল্ড (Veld) হল দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রশস্ত, গ্রামীণ ভূদৃশ্য, যা মূলত ঘাস এবং কম ঝোপঝাড় দ্বারা আচ্ছাদিত। এটি একটি উন্মুক্ত তৃণভূমি, যা দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, লেসোথো, এসওয়াতিনি, জিম্বাবুয়ে এবং বতসোয়ানার মতো দেশগুলিতে দেখা যায়। ভেল্ড শব্দটি এসেছে আফ্রিকান্স ভাষা থেকে, যার অর্থ “ক্ষেত্র”। এটি সাধারণত পশুচারণ এবং কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভেল্ডের বিভিন্ন অঞ্চল তাদের উচ্চতা অনুসারে ভিন্ন হয়, যেমন হাইভেল্ড, লো ভেল্ড এবং মিডল ভেল্ড। ভেল্ড সাধারণত গাছপালা এবং ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে, তবে খুব কম গাছ থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ভেল্ডে পশুপালন এবং খনির জন্য ব্যবহৃত হয়। ভেল্ডের জলবায়ু সাধারণত মৃদু এবং নাতিশীতোষ্ণ হয়ে থাকে।
৫। নিচে যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫x২=১০
৫.১ উদাহরণ ও চিত্রসহ পর্বতের শ্রেণিবিভাগ করে বর্ণনা দাও।
৫.২ মালভূমির শ্রেণিবিভাগ করে আলোচনা করো।
৫.৩ মাটি সৃষ্টির নিয়ন্ত্রকগুলি আলোচনা করো।
৫.৪ আফ্রিকার সাভানা ও ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদ সম্বন্ধে আলোচনা করো।