প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাকুরি সংক্রান্ত আচরণবিধি
(সার্ভিস কন্ডাক্ট রুল)
মেমো নং: 906-SE (Pry.) DATED . KOLKATTA 9TH JULY, 2001
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কর্তব্য:
===========================================================
ক) শিক্ষা আইন অনুসারে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সঠিক পঠন পাঠন বাস্তবায়িত করা। সরকারি নির্দেশ অনুসারী সরকারি প্রোগ্রাম সমূহ বাস্তবায়ন।
খ) শিক্ষক শিক্ষিকার জন্য নির্ধারিত কাজ গুলি সম্পাদন করা।
গ) স্কুলে আসা যাওয়া বিষয়ে সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা।
ঘ) ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার বিষয়ে তাদের অভিভাবকদের অবগত করা।
৬) ছাত্র ছাত্রীদের শারীরিক, সামাজিক, নৈতিক, প্রক্ষভিক ও মানসিক উন্নতির দিকে লক্ষ্য রাখা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অধিকার:
=========================================
১) শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সকল প্রকার পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার আছে।
২) শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জোটবদ্ধতা, সংগঠন প্রভৃতি গঠন করার বা যোগদান করার অধিকার আছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের বাধ্যবাধকতা
===========================================
১) ছুটিতে থাকাকালীন কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা কোনো পরিষেবা বা কোনো প্রকার নিযুক্তি থেকে বিরত থাকবেন।
২) কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজেকে কোনো ব্যবসা বা অন্য কোনো চাকরি মধ্যে নিয়োজিত করতে পারবেন না (কেবলমাত্র কোন সামাজিক কাজকর্ম এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দাতব্য কাজের সাথে যুক্ত হতে পারেন)। তবে এ বিষয়ে বলা যায় কোন রকম পঞ্চায়েত স্তরের বা পৌরসভা বা বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়াতে অর্থাৎ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোন বাধা-বিপত্তি নেই।
৩) স্কুলে পাঠদানের সময় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে ভালোবাসা ও স্নেহের মাধ্যমে পাঠদান করতে হবে। এক্ষেত্রে তার জাতি ধর্ম লিঙ্গ ভাষা বা সামাজিক মর্যাদা বা তার জন্মস্থান প্রভৃতি যেন কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।।
৪) শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কর্মক্ষেত্রে তার সকল সহকর্মী এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহাশয়ের সাথে সকল পাঠক্রমিক এবং সহপাঠক্রমিক বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করবেন।
৫) বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কোনোরকম টিউশন বা কোচিং এর সাথে যুক্ত থাকলেও কোনো রকম পারিশ্রমিক নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের বার্ষিক কর্মক্ষমতা রিপোর্ট
(ANNUAL PERFORMANCE REPORT)
১) সকল শিক্ষক শিক্ষিকাকে তার বার্ষিক স্ব-মূল্যায়ন রিপোর্ট (Self Appraisal Repon তার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহাশয় অবশ্যই তার মন্তব্য সেই রিপোর্টে উল্লেখ করবেন।
১২) প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষ শেষে সকল স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সেই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের বার্ষিক শিক্ষা সংক্রান্ত রিপোর্ট (APR) সংশ্লিষ্ট চক্রের অবর বিদ্যালয়ের পরিদর্শকের মাধ্যমে সেই জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাইমারি) এবং জেলার প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল অফিসে জমা করতে হবে।
৩) বার্ষিক কর্মক্ষমতা রিপোর্টের (Annual Performance Report) ফরম্যাট রাজ্য সরকার দ্বারা নির্ধারিত হবে।
৪) জেলা স্কুল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কোনো শিক্ষক শিক্ষিকা বা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সেই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কমিটি এর সাথে আলোচনা করা যেতে পারে।
৫) বিদ্যালয়ের সকল প্রকার সরকারি নথি সহ সকল স্থাবর অস্থাবর বিষয় সম্পত্তির Custodian হবেন সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা। তার অধীনেই এই সমস্ত কিছু সংরক্ষিত/ গচ্ছিত থাকবে।।
সাময়িক বরখাস্ত (Suspension)
===========================================================
(ক) কোনো প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে (GO-906-SE (pry) dt-09.07.2001 এর Rule ৯-এর Sub-Rule (১) এর অধীনে যদি কোনো তদন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউন্সিল দ্বারা বিবেচিত হয় বা যেখানে তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউন্সিলের দ্বারা অনুমিত হয় বা এই ধরনের কোনো তদন্ত অনিষ্পাদিত থাকে তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউন্সিল একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে।
(খ) যখন কোনো একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের জন্য কোনো মামল চলে তখন নিয়োগকারী সংস্থা (Appointing Authority) হিসাবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউন্সিল সেই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে।
সচরাচর যখন কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা কোন ফৌজদারি অপরাধের জন্য পুলিশের দ্বারা গ্রেফতার হন এবং ৪৮ ঘন্টা বা তার বেশি সময় পুলিশ হেফাজতে থাকেন তখন সংশ্লিষ্ট চক্রের এসআই অফ স্কুল পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুসারে সংশ্লিষ্ট জেলা স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করেন। এরপর সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে জেলা স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেফাজতে আটকের তারিখ থেকে সেই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে থাকেন এবং পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে যোগ দিতে পারবেন না বা একজন শিক্ষক যিনি কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন তার সাথেও অনুরূপ পদ্ধতিতে বিবেচনা করা হবে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
১) Sub-Rule (1) এর অধীনে এই ধরনের সাসপেনশনের বিষয়টি জেলা স্কুল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে স্কুল শিক্ষা অধিকর্তা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং বোর্ডকে জানিয়ে রাখা হয়।
২) সাসপেন্ড থাকাকালীন যে-কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা তার ‘অর্ধ বেতন ছুটিতে থাকাকালীন বেতনের সমান বেতন পান’। অর্থাৎ তার মূল বেসিকের অর্ধেক এবং বাকি অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন।
৩) যদি তার সাসপেন্ডের মেয়াদ তিন মাস অতিক্রান্ত হয় তখন জেলা স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে সাবসিস্টেন্স ভাতা বর্ধিত হয় এবং মূল বেসিকের ৫০% এর বদলে ৭৫% ধার্য করা হয়। (where the period of suspension exceeds three months, the appointing authority shall be competent to increase the amount of subsis-tence allowance for the remaining period of suspension by such amount, not exceeding fifty percent of the subsistence allowance admissible during the first three months of suspension, if, in the opinion of the appointing authority, the period of suspension has been prolonged for reasons to be recorded in writing)
৪) এখানে বলে রাখা ভালো পুরো বেতন প্রক্রিয়াটি হয় ডি পি এস সি চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুসারে হয়ে থাকে এবং এই সময়কালে সেই সাসপেন্ডেড টিচারকে অবশ্যই একটি হলফনামা দাখিল করতে হয় যে ‘এই সময়কালে তিনি অন্য কোনো রকম কাজের (কোনো ব্যাবসা বা অন্য কোনো কাজ) সাথে যুক্ত নেই বা তার অন্য কোনো সোর্স অফ ইনকাম নেই’। Sub-Rule (4)
জরিমানা:
=======================================================
সাসপেনশন ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে কখনো-কখনো জরিমানা বা পেনাল্টি স্বরূপ শাস্তিও দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন,
১) নিন্দা বা ভর্ৎসনা (নিয়ম বহির্ভূত কাজের জন্য কখনো কখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারা শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিন্দিত বা তিরস্কৃত হতেও পারেন)।
২) দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতি প্রভৃতি কারণে তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা প্রমোশন আটকে দেওয়া বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।
৩) নিয়মবহির্ভূত কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য চাকুরি থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে কিন্তু এটা মূলত দু-ধরনের হয়,
প্রথমত এই চাকরি থেকে বহিষ্কৃত হলেও ভবিষ্যতে কোনো চাকরির ক্ষেত্রে সেটা বাধা হবে না আর দ্বিতীয়ত এই চাকরি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথে ভবিষ্যতেও কোনো চাকরিতে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
∎ জরিমানা আরোপ ও তার পদ্ধতি
================================================================
১) উপরে উল্লেখিত জরিমানা গুলির প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (Disciplinary Authority) দ্বারা গঠিত তদন্তকারী দলের (Enquiry team) দেওয়া রিপোর্টে উপর ভিত্তি করে জরিমানা আরোপ করা হয়।
২) উপরে উল্লেখিত প্রত্যেকটি জরিমানার ক্ষেত্রেই শাস্তি প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে Show Cause বা কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয় এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের
সুযোগ দেওয়া হয়।
** জরিমানা/শান্তির বিরুদ্ধে শিক্ষক শিক্ষিকা কর্তৃক আবেদন
===================================================================
উল্লেখিত আইনের সেকশন ৯১ অনুসারে একটি আপিল কমিটি গঠন করা হয়। শাস্তি প্রাপ্ত শিক্ষক বা শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে লাগু হওয়া জরিমানা বা শাস্তির বিরুদ্ধে রুল ৮ অনুসারে আপিল কমিটির কাছে আবেদন করতে পারেন। আপিল কমিটি ঘটনার পুনর্বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটি চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হয়।
SOURCE-PRIMARY TEACHERS MANUAL
©Kamaleshforeducation.in (2023)




