


♣পল্লীসমাজ♣
—শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
অষ্টম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
====CONTENTS===
*****************************************************************************
-
পল্লীসমাজ গল্পের উৎস
-
গল্পের পূর্ব সূত্র
-
গল্পের প্রধান চরিত্র গুলির পরিচয়
-
বিষয়সংক্ষেপ
-
শব্দার্থ ও টীকা
-
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর,
-
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর
-
দু-একটি বাক্যে উত্তর লেখো
-
হাতে কলমে প্রশ্ন ও উত্তর
-
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখাে
-
সন্ধি করাে :
-
নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করাে
-
নীচে দেওয়া শব্দগুলির দলবিশ্লেষণ করাে
-
ব্যাসবাক্যগুলিকে সমাসবদ্ধ পদে পরিণত করাে
-
নীচের বাক্যগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন করাে :
-
নীচে দেওয়া শব্দদুটিকে দুটি আলাদা আলাদা অর্থে ব্যবহার
উৎসঃ পাঠ্যাংশটি শরৎচন্দ্রের ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে রেঙ্গুনে থাকাকালীন তিনি এই উপন্যাসটি লেখেন। ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসটি ১৩২২ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি– ১৯১৬ সাল) ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকার আশ্বিন, অগ্রহায়ণ, পৌষ সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ‘আশ্বিন’ সংখ্যায় প্রথম দুটি পরিচ্ছেদ ও ‘অগ্রহায়ণ’ সংখ্যায় তৃতীয় থেকে নবম পরিচ্ছেদ পর্যন্ত ছাপানো হয়।
গল্পের পূর্ব সূত্রঃ দুইটি জমিদার পরিবারের পারিবারিক কলহের জের ধরে উপন্যাসের যাত্রা শুরু হয়। দুই জমিদার পরিবারের একটি পরিবার বলরাম মুখু্য্যের ছেলে যদু মুখুয্যের মেয়ে রমা। অন্য পরিবারটি হলো বলরাম মুখুয্যের মিতা বলরাম ঘোষাল পরিবারের রমেশ এবং বেণী মাধব ঘোষাল। বলরাম মুখু্য্যে অনেক বুদ্ধিমান ছিলেন এবং বর্ধমান রাজ সরকারের চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তিনি বর্ধমান সরকারের কাছে কুঁয়াপুরের জমিদারী লিখে নেন এবং বলরাম মুখুয্যে তার মিতা (বন্ধু) বলরাম ঘোষালকে নিয়ে বিক্রমপুর থেকে কুঁয়াপুর নামে একটি গ্রামে আসেন। বলরাম ঘোষালের বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে মনোমালিন্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব এমন রূপ নেয় যে বছর বিশেক তাদের পরস্পরের মুখদর্শন বন্ধ থাকে। কিন্তু বলরাম মুখুয্যের মৃত্যুর পর দেখা যায়, নিজের সমস্ত সম্পত্তি নিজের সন্তান যদু মুখু্য্যে ও বন্ধু বলরাম ঘোষালের দুই সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। সেই থেকে এই দুই পরিবার সেই সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছে।
গল্পের প্রধান চরিত্র গুলির পরিচয়—
বলরাম মুখুয্যে ও বলরাম ঘোষাল দুই বন্ধু।
গ্রাম— কুঁয়াপুর।
রমা— বলরাম মুখুজ্জের ছেলে যদু মুখুজ্জের মেয়ে।
বেণীমাধব— বলরাম ঘোষালের বড়ো ছেলের পুত্র হলেন বেনীমাধব। সেই সূত্রে রমেশ ও বেনীমাধব কাকাতো দুই ভাই।
রমেশ— বলরাম ঘোষালের দুই ছেলে। ছোট ছেলে তারিণী ঘোষালের পুত্র হলেন রমেশ।
বিষয়সংক্ষেপঃ দু-দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে একশো বিঘের মাঠ ডুবে গিয়েছে। কৃষকদের সব ধান নষ্ট হওয়ার জোগাড়। জমিদার বেণী মাধবের কাছে গিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় তারা রমেশের কাছে, জল কেটে বার করে দেওয়ার কথা বলে। গোপাল সরকারের সাহায্য নিয়ে পুরো বিষয়টা বুঝে রমেশ জমিদার বেণী ঘোষালের কাছে গিয়ে বাঁধ কেটে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বাঁধ কাটলে দু-তিনশো টাকার ক্ষতি হবে—এই যুক্তি দেখিয়ে জমিদার বেণী ঘোষাল রমেশের কথায় রাজি হল না। তাই রমেশ জমিদারির আর-এক অংশীদার রমার কাছে গেলেন সমস্ত ঘটনা বলে। কিন্তু রমার কাছেও একই উত্তর পেয়ে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। রমেশ নিজেই বাঁধ কেটে দেবে বলে রমাকে জানিয়ে দেয়।
এদিকে রমা আকবর নামে এক লেঠেলকে বাঁধ পাহারা দিতে পাঠায়। সেই রাতেই বাঁধ পাহারা দিতে যাওয়া আকবর আর তার ছেলেদের আক্রমণ প্রতিহত করে গ্রামের চাষিদের নিয়ে রমেশ জোর করে বাঁধ কেটে দেন। আহত আকবরকে দিয়ে জমিদার বেণী ঘোষাল থানায় অভিযোগ দায়ের করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। রমাও থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিলে আকবর মাথা নাড়িয়ে বলে, “না দিদিঠাকরান আর সব পারি সদরে গিয়ে গায়ের চোট দেখাতে পারি না।” আকবর আর তার ছেলেরা নিজের গ্রামে ফিরে গেলে রমা অনেক কথা ভাবতে ভাবতে তাঁর চোখ জলে ভরে যায়।
শব্দার্থ ও টীকা
১. অবিশ্রান্ত— অবিরত, না থেমে, টানা
২. চণ্ডীমণ্ডীপে— ঠাকুরদালানে
৩. বাঁধ— জল আটকানোর জন্য নির্মিত মাটির দেয়াল
৪. হত্যা দিয়া— কিছু পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা
৫. দ্রুত পদে— তাড়াতাড়ি হেঁটে যাওয়া
৬. হুঁকা— তামাক খাওয়ার যন্ত্র
৭. মড়াকান্না— মিথ্যা কান্না
৮. অপরাহ্ণবেলা— বিকেল বেলা
৯. অকস্মাৎ— হঠাৎ
১০. প্ৰবৃত্তি— ইচ্ছা
১১. প্রস্থান— চলে যাওয়া
১২. ক্রুদ্ধভাবে— রাগের সঙ্গে
১৩. হেজে— ভিজে
১৪. নাগরাজুতো— একপ্রকার শৌখিন জুতো
১৫. তথাপি— তবুও
১৬. বিনীত— বিনয়ের সঙ্গে
১৭. সংবরণ— নিয়ন্ত্রণ
১৮. লোকসান— ক্ষতি
১৯. সদর— বাড়ির বাইরের অংশ
২০. কোপালে— কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়লে
২১. বন্ধক— কোনো কিছু জমা রেখে টাকা দেওয়া
২২. উচ্ছিষ্ট— বাতিল বা পড়ে থাকা
২৩. ধার-কর্জ— ধার দেনা
২৪. অপমানকর— অপমান করে যা
২৫. নিরুত্তর— উত্তর না দেওয়া।
২৬. প্রাঙ্গণে— উঠোনে
২৭. সন্ধ্যাপ্রদীপ— সন্ধে বেলায় প্রদীপ জ্বালানো
২৮. সুমুখে— সামনে
২৯. আঁচল— শাড়ির বা বস্ত্রের শেষ অংশ
৩০. উৎকণ্ঠা— উদ্বেগ
৩১. তুলসীমূলে— তুলসীতলায়
৩২. নিষেধবাক্য— বারণ করা হয়েছে এমন কথা
৩৩. তদাবস্থায়— সেই অবস্থায়
৩৪. মৃদুকণ্ঠে— নীচু গলায়
৩৫. প্রত্যাখ্যান— ফিরিয়ে দেওয়া
৩৬. অভিভাবক— দেখাশোনা করে যে, তত্ত্বাবধায়ক
৩৭. বিহ্বল— হতভম্ব
৩৮. বিবাদ— ঝগড়া
৩৯. সাঙ্গ— সমাপ্ত, শেষ
৪০. তৎক্ষণাৎ— সঙ্গে সঙ্গে
৪১. বাবিতণ্ডা— তর্কাতর্কি, কথা কাটাকাটি
৪২. বন্দোবস্ত— ব্যবস্থা
৪৩. হতবুদ্ধি— বুদ্ধিহীন
৪৪. মিনতি— অনুরোধ
৪৫. যথার্থ— সঠিক
৪৬. অগোচর— অজানা
৪৭. পান্ডুর— হলুদ
৪৮. মনস্তত্ত্ব— মনের প্রকৃতি
৪৯. অভিরুচি— ইচ্ছা
৫০. ত্রয়োদশী— পূর্ণিমা বা অমাবস্যার পরে ৫১. তেরোতম দিন
৫২. অস্বচ্ছ— অপরিষ্কার
৫৩. জ্যোৎস্না— চাঁদের আলো
৫৪. প্রৌঢ়— বয়স্ক
৫৫. ভীষণাকৃতি— ভয়ংকর দেখতে
৫৬. ওষ্ঠপ্রান্তে— ঠোঁটের ওপর
৫৭. অনুনয়— অনুরোধ
৫৮. ঈষৎ— সামান্য
৫৯. জড়সড়— আড়ষ্ট, সংকুচিত
৬০. সাবেক দিনের— পুরোনো দিনের
৬১. অনতিদূরে— বেশি দূরে নয়
৬২. হস্তগত— হাতের মুঠোয়
৬৩. হটাতে নারলাম— হঠাতে পারলাম না
৬৪. তেনার— তাঁর
৬৫. বরবাদ— নষ্ট
৬৬. আল্লার কিরে— আল্লার নামে দিব্যি
৬৭. ওয়ারেন্ট— গ্রেফতারি পরোয়ানা
৬৮. সমঝে— বুঝে
৬৯. মুই— আমি
৭০. হাজতে— জেলে
৭১. উপক্রম— সম্ভাবনা
৭২. নিরুদ্যম— উদ্যম বা উৎসাহহীন
৭৩. অশ্রুপ্লাবিত— চোখের জলে ভেসে যাওয়া
৭৪. পাষাণ— পাথর
৭৫. নিরন্তর— অনবরত
৭৬. কালামুয়ে— কালামুখে
৭৭. ফৈরিদি (ফরিয়াদ) — অভিযোগকারী
৭৮. অকথ্য— যা বলার যোগ্য নয়
৭৯. ভর্ৎসনা— নিন্দা
৮০. হেতু— কারণ
৮১. সুকুমার— সুন্দর, অল্প বয়স্ক
============================================================
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
♣পল্লীসমাজ♣
অষ্টম শ্রেণি বাংলা
===================================
• সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ :
১. পল্লীসমাজ গদ্যাংশটির লেখক হলেন—
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তরঃ (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি উপন্যাস হলো—
(ক) পথের দাবী
(খ) গোরা
(গ) বিষবৃক্ষ
(ঘ) পঞ্চগ্রাম
উত্তরঃ (ক) পথের দাবী।
৩. পল্লীসমাজ গদ্যাংশটি যে উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে—
(ক) শ্রীকান্ত
(খ) বড় দিদি
(গ) গৃহদাহ
(ঘ) পল্লীসমাজ
উত্তরঃ (ঘ) পল্লীসমাজ।
৪. কুঁয়াপুর গ্রামের _________ বিঘার মাঠটাই একমাত্র ভরসা।
(ক) একশো
(খ) দুশো
(গ) তিনশ
(ঘ) চারশ
উত্তরঃ (ক) একশো।
৫. গ্রামের দক্ষিণ ধারের বাঁধটি কাদের দখলে ছিল ?
(ক) সরকারের
(খ) ঘোষাল ও মুখুজ্জেদের
(গ) বসুদের
(ঘ) সেনদের
উত্তরঃ (খ) ঘোষাল ও মুখুজ্জেদের।
৬. ‘প্রাঙ্গণে তুলসী মূলে সন্ধ্যা প্রদীপ দিয়া..’— সন্ধ্যা প্রদীপ কে দিচ্ছিল ?
(ক) মাসি
(খ) রমা
(গ) দাসী
(ঘ) বেণী
উত্তরঃ (খ) রমা।
৭. রমেশ ও রমার কতদিন পর দেখা হয়েছিল ?
(ক) এক বছর
(খ) এক সপ্তাহ
(গ) মাসখানেক
(ঘ) ছ মাস
উত্তরঃ (গ) মাসখানেক।
৮. রমা’র ভাইয়ের নাম কী ?
(ক) যতীন
(খ) মহিম
(গ) নবীন
(ঘ) পরান
উত্তরঃ (ক) যতীন।
৯. “বাড়ি ফিরে সারারাত্রি ঘুম হল না।”–কার ঘুম হল না ?
(ক) বেণীর
(খ) হালদারমশাইয়ের
(গ) রমেশের
(ঘ) রমার
উত্তরঃ (গ) রমেশের।
১০. আকবরের বাড়ি ছিল—
(ক) রায়পুরে
(খ) পিরপুরে
(গ) রায়গঞ্জে
(ঘ) উদয়পুরে
উত্তরঃ (খ) পিরপুরে।
১১. ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসে আকবরের ছেলের নাম—
(ক) গবর
(খ) গহর
(গ) গফুর
(ঘ) গফ্ফর
উত্তরঃ (খ) গহর।
১২. বাঁধের গায়ের জলা থেকে বৎসরে মাছ বিক্রি হয়—
(ক) তিনশো টাকার
(খ) চারশো টাকার
(গ) পাঁচশো টাকার
(ঘ) দু-তিনশ টাকার
উত্তরঃ (ঘ) দু-তিনশ টাকার
১৩. আকবর রমাকে কী বলে সম্বোধন করেছে ?
(ক) দিদিমণি
(খ) দিদিভাই
(গ) দিদিঠাকরান
(ঘ) মাঠাকরুন
উত্তরঃ (গ) দিদিঠাকরান।
১৪. “আকবর বুড়োমানুষ তুই, সরে যা”–কথাটি বলেছে—
(ক) বেণী
(খ) রমা
(গ) হিন্দুস্থানি চাকর
(ঘ) রমেশ
উত্তরঃ (ঘ) রমেশ।
১৫. “না দিদিঠাকুরান আর সব পারি সদরে গিয়ে গায়ের চোট দেখাতে পারি না”- উক্তিটি কার ?
(ক) বেণীর
(খ) আকবরের
(গ) রমার
(ঘ) রমেশের
উত্তরঃ (খ) আকবরের।
16.‘তুমি অত্যন্ত হীন এবং নীচ।’ – একথা রমেশ বলেছিল –
(A) বেণীকে
(B) রমাকে
(C) আকবরকে
(D) গোপালকে
Ans: (B) রমাকে।
17.আকবর লাঠিয়ালের ছেলের নাম –
(A) গহর
(B) জহর
(C) হীরক
(D) ফজর
Ans: (A) গহর।
18‘রমেশ অবাক হইয়া কহিল, ব্যাপার কী?’ – রমেশের এই প্রশ্নের উত্তরে চাষিরা বলেছিল –
(A) বেণীর সঙ্গে তারা কোনো বিষয় আলোচনা করতে চায় না,
(B) ছেলেপুলের হাত ধরে তাদের পথে ভিক্ষে করতে হবে
(C) একশো বিঘের মাঠ ডুবে গেছে, জল বার করে না দিলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে, গ্রামের কেউই খেতে পাবে না
(D) রমা দেবীর কাছে তাদের যাবতীয় আবেদন ব্যর্থ হয়ে গেছে
Ans: (C) একশো বিঘের মাঠ ডুবে গেছে, জল বার করে না দিলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে, গ্রামের কেউই খেতে পাবে না।
19.চণ্ডীমণ্ডপে বসে রমেশ জমিদারির হিসাবপত্র দেখছিল –
(A) গোপাল
(B) নেপাল
(C) অলোক
(D) পুলক সরকারের কাছে বসে
Ans: (A) গোপাল সরকারের কাছে বসে।
20.জলার বাঁধ কেটে দিলে বেণীর মতে –
(A) একশো- দুশো
(B) দু-তিনশো
(C) তিন-চারশো
(D) চার-পাঁচশো টাকার মাছ বেরিয়ে যাবে।
Ans: (B) দু-তিনশো টাকার মাছ বেরিয়ে যাবে।
==============================================================
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর
♣পল্লীসমাজ♣
অষ্টম শ্রেণি বাংলা
===========================
১. ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের রচয়িতার নাম কী ? উক্ত উপন্যাসের তিন শরিকের নাম লেখো।
উত্তরঃ পল্লী সমাজ উপন্যাসের রচয়িতার নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের তিন শরিকের নাম হল বেণী ঘোষাল, রমা ও রমেশ।
২. ‘পল্লীসমাজ’- গল্পের রচয়িতার নাম কী ? তাঁর লেখা একটা ছোটোগল্পের নাম লেখো।
উত্তরঃ ‘পল্লীসমাজ’-গল্পের রচয়িতার নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর লেখা
একটি ছোটোগল্প হল ‘মহেশ’।
৩. ‘পল্লীসমাজ’ গদ্যাংশে রমা আকবরকে কী পাহারা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ গ্রামের পাশে জলার বাঁধ পাহারা দেওয়ার জন্য রমা আকবরকে পাঠিয়েছিলেন।
৩. ‘পল্লীসমাজ’ গল্পে গ্রামের চাষিদের একমাত্র ভরসা কী ছিল ? গ্রামের চাষিরা কী বিপদে পড়েছিল ?
উত্তরঃ ‘পল্লীসমাজ’ গল্পে গ্রামের চাষিদের একমাত্র ভরসা ছিল একশো বিঘার মাঠ৷ বর্ষায় প্রবল বৃষ্টিতে চাষীদের ১০০ বিঘা মাঠের ধান ডুবে গিয়েছিল।
৪. “তাহার সমস্ত মুখের উপর কাঁচা রক্ত জমাট বাঁধিয়া গিয়াছে”– উদ্ধৃত অংশটি কোন গদ্যের অংশ ? কার, মুখের ওপর কীভাবে কাঁচা রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল?
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ গদ্যের অংশ।
গ্রামের দক্ষিণে জলার বাঁধ কাটা রোধ করতে গিয়ে রমেশের কাছে মার খেয়ে আকবরের মুখের ওপর কাঁচা রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল।
৫. “রমা তেমনি মৃদুভাবেই জবাব দিল”- রমা কাকে, কী জবাব দিয়েছিল ?
উত্তরঃ রমা জবাব দিয়েছিলেন যে নিজের ক্ষতি করতে না পেরে নিষ্ঠুর হতে দোষ নেই, রমেশের দয়া থাকলে সে নিজেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিক।
৬. “রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল।”— রমেশের হতবুদ্ধির কারণ কী ?
উত্তরঃ ‘অত টাকা সে লোকসান করতে পারবেন না’। রমার কাছ থেকে এই উত্তর শুনে রমেশ হতবুদ্ধি হয়েছিল।
৭. “রমেশ দ্রুতপদে প্রস্থান করিল”— রমেশের দ্রুত প্রস্থানের কারণ কী ?
উত্তরঃ প্রবল বৃষ্টিতে প্রজাদের ধান ডুবে যাওয়ার অভিযোগ শুনে তার সমাধান করতে বেণী ঘোষালের কাছে যাওয়ার জন্য রমেশ দ্রুতপদে প্রস্থান করলেন।
৮. “রমেশ কিছুমাত্র ভূমিকা না করেই কহিল”— উদ্ধৃত কথাটি রমেশ কাকে বলেছিল ? কী বলেছিল ?
উত্তরঃ উদ্ধৃত কথাটি রমেশ তার দাদা বেণী মাধবকে বলেছিল।
রমেশ বলেছিল ‘জলার বাঁধ আটকে রাখলে তো আর চলবে না, এখনই সেটা কাটিয়া দিতে হবে।’
৯. রমেশ রমার কাছে গিয়েছিলেন কেন ?
উত্তরঃ প্রবল বৃষ্টিতে একশ বিঘার মাঠ জলে ডুবে গিয়েছিল। সেই মাঠের বাঁধ থেকে জল বার করে দেওয়ার জন্য রমেশ রমার মত জানতে গিয়েছিলেন।
১০. “না, অত টাকা লোকসান আমি করতে পারব না।”—উদ্ধৃতাংশটির বক্তা কে ? তিনি কাকে কথাগুলি বলেছেন ?
উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন রমা। তিনি রমেশকে প্রশ্নে উদ্ধৃত কথাগুলি বলেছেন।
নীচের প্রশ্নগুলির দু-একটি বাক্যে উত্তর লেখো :
১. গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ কী করছিল?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ জমিদারি হিসাবপত্র দেখছিল।
২. গ্রামের একমাত্র ভরসা কী ছিল?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে গ্রামের একমাত্র ভরসা ছিল একশো বিঘার মাঠ। যে মাঠের ধান বৃষ্টির জলে ডুবে গিয়েছিল।
৩. ‘বোধ করি এই কথাই হইতেছিল’— কোন কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে বৃষ্টির জলে গ্রামের চাষিদের একমাত্র ভরসা একশো বিঘার মাঠ ডুবে যায়। কৃষকরা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রমেশের কাছে এসে জল বার করে দেওয়ার আবেদন করে। রমেশ তাদের কথা শুনে যখন বাড়ি পৌঁছায় তখন তার দাদা বেণী তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে তামাক খাচ্ছিলেন পাশে হালদার মহাশয় ও ছিলেন। রমেশ ভেবেছিল তারা বুঝি অসহায় কৃষকদের জমি বৃষ্টির জলে ডুবে যাওয়া ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করছে। এখানে সেই কথার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৪. রমা আকবরকে কোথায় পাহারা দেবার জন্য পাঠিয়েছিল?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে রমা আকবরকে একশো বিঘে জমির দক্ষিণ ধারের ঘোষাল ও মুখুজ্জেদের বাঁধ পাহারা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিল।
৫. ‘পারবি নে কেন?’ — উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন কাজটি করতে পারবে না ?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ভূত উক্তির উদ্দিষ্ট বক্তা লাঠিয়াল আকবর। সে যে রমেশের হাতে মার খেয়েছে সেকথা থানায় গিয়ে জানাতে পারবে না।
===========================================
‘হাতে কলমে’ প্রশ্নোত্তর
পল্লীসমাজ
অষ্টম শ্রেণি বাংলা
==================================================================
১.শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখাে।
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উপন্যাস হল ‘শ্রীকান্ত এবং ‘পথের দাবী।
২.শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি ছােটোগল্পের নাম লেখাে।
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি ছােটোগল্প হল— ‘মহেশ’ এবং ‘অভাগীর স্বর্গ’।
৩. কুড়িজন কৃষক রমেশের কাছে এসে কেঁদে পড়ল কেন ?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে প্রবল বৃষ্টিতে একশো বিঘের মাঠ জলে ডুবে যায়। এই একশো বিঘের মাঠ গ্রামের ভরসা সমস্ত চাষিদেরই কিছু কিছু জমি সেখানে আছে। জমে থাকা জল বাইরে না বের করলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে। মাঠের দক্ষিণধারে ঘোষাল ও মুখুজ্জেদের বাঁধ কাটিয়ে দিলে জমা জল বাইরে বেরোতে পারে। তাই সারাদিন কৃষকরা জমিদার বেণীবাবুর কাছে অনেক কাকুতি মিনতি করে কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। তাই কৃষকরা উপায় না পেয়ে দয়ালু মানুষ ছোটবাবু রমেশের কাছে সাহায্য চাইতে এসে কেঁদে পড়েছিল।
৪.রমেশ বেণীর কাছে জল বার করে দেবার হুকুম দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল কেন?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে একশো বিঘার মাঠ বৃষ্টির জলে ডুবে ধান নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ওই মাঠের দক্ষিণ দিকে যে বাঁধ রয়েছে তা ঘোষাল ও মুখুজ্জেদের। চাষিদের আসন্ন বিপদের কথা চিন্তা করে সহানুভূতিশীল রমেশ সেই বাঁধ কাটতে রাজি থাকলেও বেণী রাজি ছিলেন না। বেণী ছিল জমিদার ও রমেশের বড়দা। বেণী এ বিষয়ে মত না দিলে চাষিদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই রমেশ বেণীকে বাঁধ কাটার হুকুম দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করছিল।
৫. বেণী জল বার করতে চায়নি কেন?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে বাঁধের গায়ে একটি জলা আছে যেখানে প্রতি বছর যা মাছ উৎপন্ন হয়, তাতে দুশো টাকা আয় হয়। জমিদার বেণীবাবু বৈষয়িক লোক। গরিব চাষিদের দুঃখকষ্টের কথা ভেবে বছরে দুশো টাকা লোকসান করার ইচ্ছা বেণীর ছিল না। তাই বেণী বাঁধের জল বের করে দিতে চায়নি। কারণ, বাঁধ কাটলে জলের সঙ্গে মাছও বেরিয়ে যাবে।
৬. ‘ঘৃণায়, লজ্জায়, ক্রোধে, ক্ষোভে রমেশের চোখমুখ উত্তপ্ত হইয়া উঠিল’ – রমেশের এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে একশো বিঘা মাঠের দক্ষিণ দিকের বাঁধ কেটে না দিলে চাষিদের কত বড় ক্ষতি হবে তা বুঝতে পেরেও বেণী নিজের স্বার্থের কথা ভেবে বাঁধ কাটতে রাজি হয়নি। এমনকি রমেশ এবিষয়ে তার দাদাকে বোঝানোর চেষ্টা করলে বেণী জানায়, চাষিরা নিরুপায় হয়ে তাদের কাছেই জমি বন্দক রাখবে এবং সেই সুযোগে বেণীদের কিছু রোজগার হবে। এমনকি অসহায় গরিব চাষিদের বেণী ছোটোলোক বলেও তাচ্ছিল্য করে। এরকম চরম স্বার্থপর নীচ মানসিকতার পরিচয় পেয়ে সহানুভূতিশীল রমেশ বেণীর প্রতি ঘৃণায়, লজ্জায়, ক্রোধে, ক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
৭. ‘রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল’ – রমেশের বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে প্রজাদরদী রমেশ দাদার কাছে সমস্যার সমাধান না পেয়ে রমার কাছে উপস্থিত হয়েছিল। রমেশ ভেবেছিল, রমা চাষিদের সমস্যার কথা শুনে তাঁর মতোই বাঁধ কেটে জল বার করে দিতে রাজি হবে। কিন্তু রমা রাজি হয় না। এমনকি দরিদ্র চাষিদের সংকটের কথা জেনেও রমা নিজের লোকসানের কথা চিন্তা করে। রমার এই মায়া মমতাহীন আচরনে রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে যায়। কারণ, রমেশের বিশ্বাস ছিল রমা তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।
৮. রমা রমেশের অনুরোধে রাজি হয়নি কেন ?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে রমা জানত বাঁধ কাটিয়ে দিলে দুশো টাকার লোকসান হবে। রমার পিতা রমা ও তার ভাইয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে গেছেন। নাবালক ভাইয়ের সম্পত্তি ও জমিদারির অভিভাবক রমা। তাই গরিব কৃষকদের স্বার্থে এত টাকা লোকসান করা রমার উচিত মনে হয়নি। একারণে রমা রমেশের অনুরোধে রাজি হয়নি।
৯. ‘মানুষ খাঁটি কি না, চেনা যায় শুধু টাকার সম্পর্কে” কে, কার সম্পর্কে একথা বলেছিল? সে কেন একথা বলেছিল?
উত্তর:-
বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি:– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ নামক পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা রমেশ। সে রমা সম্পর্কে একথা বলেছিল।
একথা বলার কারণ:- রমেশের মনে ধারণা ছিল দরিদ্র চাষিদের সংকটের কথা চিন্তা করে রমা নিজের লোকসানের কথা না ভেবে বাঁধ কাটতে রাজি হবে। কিন্তু রমা ক্ষতি স্বীকার করতে চায়নি। রমাকে রমেশ অনুরোধ করলে রমা রমেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। রমার এই স্পর্ধা দেখে রমেশ রাগে বিহ্বল হয়ে যায় এবং রমাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর মনে হয়। রমার সম্পর্কে রমেশের যে উচ্চ ধারণা ছিল তা ভেঙে যাওয়ায় রমেশ এমন মন্তব্য করে।
১০. ‘রমা বিহ্বল হতবুদ্ধির ন্যায় ফ্যালফ্যাল করিয়া চাহিয়া রহিল’ রমার এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে রমা চাষিদের জন্য নিজের ক্ষতি স্বীকার করতে চায়নি। সে চায়নি বাঁধ কাটিয়ে দেওয়া হোক। কারণ, বাঁধ কাটলে জলের সাথে মাছ বেরিয়ে যাবে। তাতে তার লোকসান হবে। এমনকি রমেশ বারবার অনুরোধ করলে রমা রমেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। রমার মানবিকতাহীন এই বৈষয়িক মনোবৃত্তির পরিচয় পেয়ে রমেশ তাকে হীন ও নীচ বলে অপমান করে। রমার সম্বন্ধে রমেশের এমন প্রতিক্রিয়ায় রমা বিহ্বল ও হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল।
১১. রমা আকবরকে ডেকে এনেছিল কেন ?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে আকবর পিরপুরের প্রজা। সাবেক দিনে লাঠির জোরে সে জমিদারকে অনেক বিষয়সম্পত্তি হস্তাগত করে দিয়েছে। তাই সেদিন সন্ধের পর ক্রোধে ও অভিমানে ক্ষিপ্ত হয়ে রমা তাকে ডেকে এনে বাঁধ পাহারা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিল। যাতে রমেশ গায়ের জোরে বাঁধ কেটে দিতে না পারে।
১২. ‘মোরা নালিশ করতি পারব না’ কে একথা বলেছে? সে নালিশ করতে পারবে না কেন?
উত্তর:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তির বক্তা পিরপুরের প্রজা ও লাঠিয়াল আকবর।
আকবর পিরপুরের প্রজা। সে একজন দক্ষ লাঠিয়াল ও সৎ মুসলমান প্রজা। পাঁচখানা গ্রামের লোক তাকে সর্দার হিসেবে মান্য করে। সে গরিব হলেও তার আত্মসম্মান আছে, ন্যায় অন্যায় বোধ আছে। রমার আদেশে সে রমেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও রমেশের উচ্চ মনোভাব ও পৌরুষের প্রশংসা না করে পারেনি। তাই বেণীবাবু রমেশের নামে আকবরকে থানায় মিথ্যে অভিযোগ জানাতে বললেও আকবর নালিশ করতে অস্বীকার করে। কারণ এমন একজন মহান মানুষের নামে মিথ্যে কথা বলতে আকবরের রুচিতে বেঁধেছিল।
. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখাে :
১. ‘নইলে আর ব্যাটাদের ছােটোলােক বলেছে কেন ?’ বক্তা কে ? এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বক্তার চরিত্রের কী পরিচয় পাও ?
উত্তর:-
বক্তা কে?:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ গদ্য থেকে গৃহীত আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন বেণী ঘোষাল।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:- প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কয়েকটি বিশেষ দিক ফুটে উঠেছে। বেণী ঘোষাল চরিত্রটি সামন্ততান্ত্রিক চরিত্র। তিনি মূলত প্রজাপীড়ক জমিদার। তিনি একাধারে জমিদার ও মহাজন। মহাজনী করে তিনি জমিদারির সীমানা বাড়িয়েছেন এবং পরের প্রজন্মের জন্যে কৌশল করে আরও বেশি সম্পদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। মূলত প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের দয়ামায়াহীন, লোভী, স্বার্থপর, ও হীন মানসিকতার পরিচয় মেলে।
২. বেণী, রমা ও রমেশচরিত্র তিনটির তুলনামূলক আলােচনা করাে। সেইসঙ্গে এই তিনটি চরিত্রের মধ্যে কোন চরিত্রটি তােমার সবথেকে ভালাে লেগেছে এবং কেন তা জানাও।
উত্তর:- কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ গদ্যে যে চরিত্রগুলি রয়েছে তারা প্রত্যেকেই নিজস্ব মহিমায় সমুজ্জ্বল। এক্ষণে আমরা এই গদ্যের বেণী, রমা ও রমেশ চরিত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলনামূলক আলোচনা করব।
বেণী ঘোষাল একজন জমিদার। সে জানে কীভাবে প্রজাদের শোষণ করে বড়লোক হতে হয়। আবেগ তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তাই প্রজারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অসংখ্য প্রজার সারা বছরের ভাত নষ্ট হবে জেনেও নিজেদের ক্ষতি করে সে বাঁধ কাটতে রাজি হয়নি। উল্টে আশা করেছে গরীব প্রজারা জমি বন্ধক রেখে তার কাছে টাকা ধার নিতে আসুক, যাতে তার লাভ হয়। বেণী চরিত্রটি দয়ামায়াহীন, স্বার্থপর, অসৎ প্রজাপীড়ক এক চরিত্র।
রমা একজন গ্রাম্য মহিলা। সেও সামন্ততন্ত্রের প্রতিনিধি। নাবালক ভাইয়ের একমাত্র অভিভাবক রমা একই সঙ্গে জমিদারি এবং সংসার সামলেছে। তৎকালীন সমাজের নারী হলেও সে একজন বৈষয়িক জমিদার। সে প্রজাদের ক্ষতি করতে না চাইলেও নিজের ভাইয়ের ক্ষতি করে বাঁধ কেটে দিতে রাজি হয়নি। এমনকি প্রয়োজনে রমেশকে কঠিন কথা বলতেও সে পিছুপা হয়নি। এর থেকে বোঝা যায় রমা ব্যক্তিত্বময়ী ও দুঁদে জমিদারও বটে।
রমেশ একটি সু-হৃদয়ের আবেগপ্রবণ চরিত্র। জমিদার হলেও সে প্রজাদের ক্ষতি করে জমিদারি চালাতে নারাজ। সে জানে প্ৰজা বাঁচলেই জমিদার বাঁচবে। বাঁধের জল বের করলে ক্ষতি হবে জেনেও সে বাঁধ কাটতে চায়। কারণ সে জানে এ ক্ষতি কৃষকদের ক্ষতির কাছে কিছুই নয়। গরিবের চোখের জল সে সহ্য করতে পারে না। তাইতো বাঘাবাঘা লাঠিয়ালদের সাথে লড়াই করে সে বাঁধ কেটে দেয়। রমেশ মহৎ আদর্শ। সুদৃঢ় সত্যনিষ্ঠা ও বিরাট মানবিকতার আশ্চর্য সমন্বয়ে সে গঠিত। সে যথার্থই প্রজাহিতৈষী।
এই তিনটি চরিত্রের মধ্যে রমেশ চরিত্রটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ, তাঁর চরিত্রের মধ্যে মহৎ আদর্শ, সুদৃঢ়তা, সত্যনিষ্ঠা ও বিরাট মানবিকতার আশ্চর্য সমাবেশ লক্ষ করা যায়। তার বলিষ্ঠ বাহু এবং প্রশস্ত বক্ষ বাংলাদেশের জীর্ণ দুর্বল পল্লিসমাজের সেবায় উৎসর্গীকৃত ছিল। তাই তার চরিত্রটি আমার ভালো লাগে।
৩. উপন্যাসের নামে পাঠ্যাংশটির নামকরণও ‘পল্লীসমাজ’ নামেই রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে নামকরণটি সুপ্রযুক্ত হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে মতামত জানাও।
উত্তর:- নামকরণের মধ্য দিয়ে সাহিত্যের ভাববস্তুর আভাস পাওয়া যায় ৷ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাস থেকে গৃহীত ‘পল্লীসমাজ’ নামক পাঠ্যাংশে তৎকালীন গ্রাম্য সমাজই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। বেণী, রমা, রমেশ প্রভৃতি চরিত্র মিশিয়ে গদ্যের কাহিনি আবর্তিত হলেও পল্লীসমাজের প্রেক্ষাপটে ও প্রভাবে সবকিছু পরিচালিত হয়েছে। অন্যান্য উপন্যাস বা গল্পে সমাজের ভূমিকা থাকলেও তা প্রাধান্য লাভ করে না। কিন্তু পল্লীসমাজে সমাজই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। উপন্যাসের যে নির্বাচিত অংশ আমাদের পাঠ্যাংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে সেখানেও আমরা স্বল্প পরিসরে গ্রাম্য পরিবেশ, সেখানকার সমস্যা, জমিদারদের আচরণ, রাজনীতি সবকিছুর প্রকাশ দেখতে পাই। তাই আলোচ্য ‘পল্লীসমাজ’ নামকরণটি যথোপযুক্ত ও সার্থক।
৪.পল্লীসমাজ’ পাঠ্যাংশে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনাে নিদর্শন পেয়ে থাকলে সে সম্পর্কে আলােচনা করাে। এ ধরনের ব্যবস্থার সুফল ও কুফল সম্পর্কে আলােচনা করাে।
উত্তরঃ ‘
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পল্লীসমাজ’ সমাজ সমালোচনামূলক উপন্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম। এই রচনায় সমকালীন বাংলাদেশের ক্ষয়িষ্ণু সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া যায়। হিন্দু সমাজের প্রকৃত আদর্শ ও মনোভাব এবং সমগ্র জীবনযাত্রার একটি নিখুঁত চিত্র এই উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে। ‘পল্লীসমাজ’ গদ্যাংশে বেণী ঘোষাল চরিত্রের মধ্যে দিয়ে লেখক দেখিয়েছ, জমিদাররা কীভাবে প্রজাদের সর্বস্বান্ত করতেন এবং কীভাবে তাঁরা তাঁদের জমির পরিধি বাড়াতেন। জমিদার বেণী ঘোষাল চরিত্রের মধ্যেই সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া যায়।
সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার সুফল:- সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পর কোনো সুফল আছে বলে মনে হয় না। একথা ঠিক, প্রজাপীড়ক জমিদারের পাশাপাশি অনেক সময় প্রজাদরদি সামন্তও থাকতেন। তাঁরা প্রজাদের মঙ্গলার্থে নানান হিতকর পরিকল্পনা নিতেন। একই সঙ্গে প্রজাদের সার্বিক স্বার্থরক্ষাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ। এমন জমিদারের অধীনে প্রজারা সুখে-শান্তিতে জীবন কাটত।
সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার কুফল:- সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় কৃষক-সহ সমস্ত প্রজাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। তারা ফসল উৎপন্ন করেও একবেলা পেটপুরে খেতে পারত না। জমিদারের সীমাহীন লোভ, লালসা, বিলাসিতার শিকার হয়ে তাদের সর্বস্ব হারাতে হত। নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে যে কোনো প্রজার চরম সর্বনাশ করতে দ্বিধা বোধ করত না।
সন্ধি করাে :
» বৃষ + তি = বৃষ্টি,
» সম্ + বরণ = সংবরণ,
» কাঁদ + না = কান্না,
» অতি + অন্ত = অত্যন্ত
» এক + অন্ত = একান্ত ।
» অন্ + আত্মীয় = অনাত্মীয়
. নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করাে : নিরুত্তর, নমস্কার, তারকেশ্বর, যথার্থ, প্রত্যাখ্যান, আশ্চর্য, তদবস্থা।
» নিরুত্তর = নিঃ + উত্তর।
» নমস্কার = নমঃ + কার।
» তারকেশ্বর = তারক + ঈশ্বর।
» যথার্থ = যথা + অর্থ।
» প্রত্যাখ্যান =প্রতি + আখ্যান।
» আশ্চর্য = আঃ + চর্য।
» তদবস্থা =তৎ + অবস্থা।
নীচে দেওয়া শব্দগুলির দলবিশ্লেষণ করাে : অপরাহ্ন, অকস্মাৎ, আহ্বান, দক্ষিণ, উচ্ছিষ্ট, উত্তপ্ত, বিস্ফারিত, দীর্ঘশ্বাস, অশ্রুপ্লাবিত, হিন্দুস্থানি, অস্বচ্ছ।
» অপরাহ্ন = অ – প – রান্ – হ, [ মুক্তদল— অ, প, হ (৩টি), রুদ্ধদল—রান্ (১টি)] । )
» অকস্মাৎ = অ -কস্ – মাৎ, [ মুক্তদল—অ (১টি), রুদ্ধদল—কস, মাৎ (২ টি)]।
» আহ্বান = আ – হ – বান্ [ মুক্তদল—আ, হ (২ টি),রুদ্ধদল-বান্ (১টি)]।
» দক্ষিণ = দক্ – ক্ষিণ, [ মুক্তদলশূন্য (০), রুদ্ধদল দক, ক্ষিণ (২ টি)]।
» উচ্ছিষ্ট = উচ – ছিষ – ট, [মুক্তদল—ট ১টি, রুদ্ধদল—উচ, ছিষ (২ টি)]।
» উত্তপ্ত = উৎ – তপ্ -ত, [মুক্তদল—ত (১টি), রুদ্ধদল-উৎ, তপ (২ টি)]।
» বিস্ফারিত = বিস্ – ফা – রি – ত, [মুক্তদল-ফা, রি, ত (৩টি), রুদ্ধদল—বি (১টি)]।
» দীর্ঘশ্বাস = দীর – ঘ-স্বাস, [মুকৃতদল—ঘ (১টি), রুদ্ধদল—দীর, শ্বাস (২ টি)]।
» অশ্রুপ্লাবিত = অশ – রু – প্লা – বি ত (মুক্তদল—রু, বি, ত (৩টি), রুদ্ধদল-অশ, প্লা (২টি)]
» হিন্দুস্থানি = হিন – দুস্ – থা – নি [মুক্তদল —থা, নি (২ টি), রুদ্ধদল-হিন, দুস (২ টি)]।
» অস্বচ্ছ = অ-স্বচ্- ছ (মুক্তদল—অ, ছ (২ টি), রুদ্ধদল—স্বচ (১টি)]।
নীচে দেওয়া ব্যাসবাক্যগুলিকে সমাসবদ্ধ পদে পরিণত করাে। কোনটি কী ধরনের সমাস তা নির্ণয় করাে :
জল ও কাদা
নয় আহত
ত্রি অধিক দশ
বেগের সহিত বর্তমান।
মড়ার জন্য কান্না
চন্ডী পুজোর জন্য তৈরি যে মণ্ডপ
উত্তরঃ
জল ও কাদা = জলকাদা (দ্বন্দ্ব সমাস)।
নয় আহত = অনাহত (নঞ-তৎপুরুষ সমাস)।
ত্রি অধিক দশ = ত্রয়ােদশ (মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস)।
বেগের সহিত বর্তমান = সবেগে (সহার্থক বহুব্রীহি সমাস)
মড়ার জন্য কান্না = মড়াকান্না (নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস)।
চণ্ডী পুজোর জন্য তৈরি যে মণ্ডপ = চণ্ডীমণ্ডপ (মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস)।
. নীচের বাক্যগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন করাে :
কথাটা রমেশ বুঝিতে পারিল না। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তরঃ কথাটা রমেশ শুনিল কিন্তু বুঝিতে পারিল না।
এ বাড়িতে আসিয়া যখন প্রবেশ করিল তখন সন্ধ্যা হয় হয়। (সরল বাক্যে)
উত্তরঃ সন্ধ্যা হতে না হতেই এ বাড়িতে আসিয়া প্রবেশ করিল।
ওরা যাবে কি ? (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তরঃ ওরা যাবে কিনা সেটাই জিজ্ঞাস্য।
বেণীর এই অত্যন্ত অপমানকর প্রশ্নের উত্তর দিবারও তাহার প্রবৃত্তি হইল না। (হ্যাঁ-বাচক বাক্যে)
উত্তরঃ বেণীর এই অত্যন্ত অপমানকর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে সে বিরত রইল।
তুমি নীচ, অতি ছােটো। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তরঃ তুমি নীচ এবং অতি ছােটো।
পথে আর এতটুকু কাদা পাবার জো নেই দিদিমা। (প্রশ্নবােধক বাক্যে)
উত্তরঃ পথে কি আর এতটুকু কাদা পাবার জো আছে দিদিমা ?
মাসি উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ থাকায় এ সকলের কিছুই জানিতে পারেন নাই। (জটিল বাক্যে)
উত্তরঃ যেহেতু মাসি উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ ছিলেন সেহেতু এ সকলের কিছুই জানিতে পারেন নাই।
১০. নীচে দেওয়া শব্দদুটিকে দুটি আলাদা আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্যরচনা করাে : যাত্রা, বাঁধ।
» যাত্রা (পালাগান শােনা): গুপ্তিপাড়ায় আজ রাতে যাত্রা আছে।
» যাত্রা (এবারের মতাে) : অপমানের হাত থেকে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গেলাম।
» বাঁধ (বন্ধন যুক্ত) : মালপত্রগুলিকে দড়ি দিয়ে ভালাে করে বাঁধ কি ?
» বাঁধ (পাড়) : নদীর বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকছে।
