সপ্তম শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান (Science)
বিষয়ের -তড়িৎ অধ্যায়
। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা এই প্রশ্ন উত্তরগুলি প্র্যাকটিস করে নিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলি বিভিন্ন প্রশ্ন বিচিত্রা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
===================================================
সঠিক উত্তর নির্বাচন করে লেখ
(1) তড়িতের সুপরিবাহী পদার্থ হল- রবার / প্লাস্টিক / তামা / কাঠ।
উঃ – তামা।
(2) ইলেকট্রিক বাল্বের ফিলামেন্টে থাকে- টাংস্টেন / নাইক্রোম / তামা / নিকেল।
উঃ – টাংস্টেন।
(3) নাইক্রোম তার ব্যবহৃত হয় যেখানে তা হল- বালব / ইস্ত্রি / ফিউজ তার / ক্যালকুলেটর।
উঃ – ইস্ত্রি।
(4) তড়িৎ বর্তনীতে সুইচ অন অবস্থায় থাকলে বর্তনীটি- মুক্ত বর্তনী / বদ্ধ বর্তনী / শর্ট সার্কিট / কোনোটিই নয়।
উঃ – বদ্ধ বর্তনী।
(5) টর্চের সেলকে বলা হয়- প্রাইমারি সেল / সেকেন্ডারি সেল / টার্সিয়ারি সেল / রিভারসিভিল সেল।
উঃ – প্রাইমারি সেল।
=====================================
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
1.ইলেকট্রিক বাল্বে ফিলামেন্ট তৈরি হয়-
(a) নাইক্রোম
(b) টাংস্টেন
(c) তামা
(d) নিকেল ধাতু দিয়ে।
উত্তরঃ (b) টাংস্টেন
2.সোলার ক্যালকুলেটরে ব্যবহার হয়-
(a) সোলার প্যানেল
(b) নির্জলকোশ
(c) ডায়নামো
(d) কোনোটাই নয়।
উত্তরঃ (a) সোলার প্যানেল
3.ইলেকট্রিক ইস্ত্রির কুণ্ডলী তৈরি হয়-
(a) নাইক্রোমের তার দিয়ে
(b) তামার তার দিয়ে
(c) টাংস্টেনের তার দিয়ে
(d) কোনোটাই নয়।
উত্তরঃ (a) নাইক্রোমের তার দিয়ে
4.ইলেকট্রিক ইস্ত্রিকে গরম হতে যে তার সাহায্য করে তা হল-
(a) টাংস্টেন
(b) নাইক্রোম
(c) তামা
(d) ফিউজার।
উত্তরঃ (b) নাইক্রোম
5.ইলেকট্রিক কলিংবেলে কী চুম্বক ব্যবহার করা হয়?
(a) দণ্ডচুম্বক
(b) তড়িৎচুম্বক
(c) চুম্বক শলাকা
(d) অশ্বক্ষুরাকৃতি চুম্বক।
উত্তরঃ (b) তড়িৎচুম্বক
6.ইলেকট্রিক ক্রেনে ব্যবহৃত হয়-
(a) চুম্বক শলাকা
(b) সৌরকোশ
(c) দণ্ডচুম্বক
(d) তড়িৎচুম্বক।
উত্তরঃ (d) তড়িৎচুম্বক।
7.নাইক্রোম তার থাকে-
(a) ফিউজ তার
(b) বাল্বে
(c) ইলেকট্রিক ইস্ত্রিতে
(d) ইলেকট্রিক কলিংবেলে
উত্তরঃ (c) ইলেকট্রিক ইস্ত্রিতে
৪. ইলেকট্রিক বাল্বের ফিলামেন্ট তৈরি যা দিয়ে তা হল-
(a) টাংস্টেন
(b) নাইক্রোম
(c) তামা
(d) স্টিল
উত্তরঃ (a) টাংস্টেন
9.তড়িৎপ্রবাহের তাপীয় ফলের ব্যবহারিক প্রয়োগের উদাহরণ হল-
(a) বৈদ্যুতিক ঘণ্টা
(b) ইলেকট্রিক বাল্ব
(c) LED
(d) সৌর ক্যালকুলেটর
উত্তরঃ (b) ইলেকট্রিক বাল্ব
10.ইলেকট্রিক ইস্ত্রির বাইরের আবরণটি যে বস্তু দ্বারা গঠিত-
(a) স্টেইনলেস স্টিল
(b) তামা
(c) নাইক্রোম
(d) অভ্র।
উত্তরঃ (a) স্টেইনলেস স্টিল
11.টর্চের লাইটে ব্যবহৃত হয়-
(a) ভোল্টীয়সেল
(b) নির্জল সেল
(c) সঞ্চয়ন সেল
(d) লেক ল্যান্স সেল
উত্তরঃ (b) নির্জল সেল
12.বাল্বের যে অংশটি আলো দেয় তা হল-
(a) কাচ
(b) ফিলামেন্ট
(c) তামার মোটাতার
(d) সবকটিই
উত্তরঃ (b) ফিলামেন্ট
13.তড়িৎকোশ হল-
(a) আলোক উৎস
(b) তাপের উৎস
(c) বিদ্যুৎ উৎস
(d) রাসায়নিক শক্তির উৎস
উত্তরঃ (c) বিদ্যুৎ উৎস
14.হাতঘড়িতে ব্যবহৃত হয়-
(a) ডায়নামো
(b) বোতামসেল
(c) লেকল্যান্স সেল
(d) কোনোটাই নয়
উত্তরঃ (b) বোতামসেল
15.প্রাইমারি সেল বা মুখ্য সেলের অপর নাম-
(a) ব্যাটারি
(b) সোলার সেল
(c) ডিসপজেবল সেল
(d) বোতাম সেল
উত্তরঃ (c) ডিসপজেবল সেল
16. নীচের কোন্ পদার্থটি তড়িতের সুপরিবাহী?
(a) প্লাস্টিক
(b) কাঠ
(c) চিনেমাটি
(d) অ্যালুমিনিয়াম
উত্তরঃ (d) অ্যালুমিনিয়াম
17.ড্রাইসেলের (শুষ্ক তড়িৎসেলের) ধনাত্মক প্রান্তটি হল-
(a) ধাতব চাকতি
(b) ধাতব টুপি
(c) ধাতব চোঙের দেহের উপরের প্রান্ত
(d) ধাতব চোঙের পার্শ্বতল ।
উত্তরঃ (b) ধাতব টুপি
18.বাল্বের যে অংশটি আলো দেয় তা হল-
(a) কাচ
(b) ফিলামেন্ট
(c) ‘তামার মোটা তার
(d) নাইক্রোম তার
উত্তরঃ (b) ফিলামেন্ট
19.ব্যাটারির ধাতব চাকতির প্রান্তে কী চিহ্ন থাকে?
(a) – +
(b) –
(c) 0
(d) কিছুই না
উত্তরঃ (b) –
20.সমতড়িৎগ্রস্ত দুটি বস্তুর মধ্যে-
(a) আকর্ষণ হয়
(b) বিকর্ষণ হয়
(c) আকর্ষণ ও বিকর্ষণ হয়
(d) কিছুই হয় না
উত্তরঃ (b) বিকর্ষণ হয়
21.একটি নির্জল কোশে বিভবপ্রভেদ 1.5 ভোল্ট হলে 9 ভোল্টের একটি ব্যাটারি তৈরি করতে নির্জল কোশের প্রয়োজন-
(a) 9টি
(b) 6টি
(c) 12টি
(d) 13টি
উত্তরঃ (b) 6টি
22.সেলের ধাতব চাকতির প্রান্ত কী চিহ্নযুক্ত?
(a) +
(b) –
(c) +-
(d) x
উত্তরঃ (b) –
23.টর্চের ব্যাটারিগুলিকে বিপরীত অভিমুখে যুক্ত করে সুইচ অন্ করলে-
(a) টর্চের বাল্ব জ্বলবে না
(b) কখনো জ্বলবে, কখনো জ্বালবে না
(c) সব সময় জ্বলে থাকবে
(d) এদের কোনোটাই নয়
উত্তরঃ (a) টর্চের বাল্ব জ্বলবে না
25.কাঠের টুলের ওপর দাঁড়িয়ে নিরাপদ কারণ কাঠ তড়িতের- ইলেকট্রিকের কাজ করা
(a) সুপরিবাহী
(b) অন্তরক
(c) কোনোটিই নয়
(d) অর্ধ-পরিবাহী
উত্তরঃ (b) অন্তরক
26.রাসায়নিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়–
(a) মোটরে
(b) নির্জল কোশে
(c) বৈদ্যুতিক ঘণ্টায়
(d) সোলার সেলে
উত্তরঃ (b) নির্জল কোশে
27.তড়িৎপ্রবাহে উৎপন্ন তাপের পরিমাণ প্রদত্ত কোন্টির ওপর নির্ভরশীল নয়-
(a) তড়িৎপ্রবাহমাত্রা
(b) তড়িৎ সঞ্চয়
(c) তড়িৎ রোধ
(d) সোলার সেল-এর ওপর
উত্তরঃ (d) সোলার সেল-এর ওপর
29.নীচের কোন্ যন্ত্রে তড়িৎচুম্বক ব্যবহৃত হয় না?
(a) ইলেকট্রিক কলিংবেল
(b) বৈদ্যুতিক বাতি
(c) বৈদ্যুতিক মোটর
(d) টেলিফোন।
উত্তরঃ (b) বৈদ্যুতিক বাতি
30.বৈদ্যুতিক বর্তনীতে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়-
(a) ফিলামেন্ট তার
(b) ফিউজতার
(c) নাইক্রোম তার
(d) নিউট্রাল তার
উত্তরঃ (b) ফিউজতার
31.তড়িৎচুম্বকের শক্তিবৃদ্ধি প্রদত্ত কোন্ ক্ষেত্রে সর্বাধিক হবে?
(a) শুধু তারের পাকসংখ্যা বাড়ানো হল
(b) শুধু তড়িৎপ্রবাহমাত্রা বাড়ানো হল
(c) শুধু তড়িৎপ্রবাহের সময় বাড়ানো হল
(d) তারের পাকসংখ্যা ও তড়িৎপ্রবাহমাত্রা একসঙ্গে বাড়ানো হল।
উত্তরঃ (d) তারের পাকসংখ্যা ও তড়িৎপ্রবাহমাত্রা একসঙ্গে বাড়ানো হল।
32.প্রদত্ত কোল্টিতে তড়িৎচুম্বক ব্যবহৃত হয়?
(a) ইলেকট্রিক বেল
(b) লাউডস্পিকার
(c) রেডিয়ো
(d) সবকটি
উত্তরঃ (d) সবকটি
33.LED-এর মধ্যে তড়িৎপ্রবাহিত হলে নীচের যেটিতে পরিণত হয় তা হল-
(a) তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে
(b) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে
(c) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে
(d) তাপশক্তি আলোকশক্তিতে।
উত্তরঃ (b) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে
34.LED থেকে নির্গত আলোর রং হয়-
(a) সবুজ
(b) হলুদ
(c) লাল
(d) সবগুলিই
উত্তরঃ (d) সবগুলিই
35.LED-তে কোন্ জিনিসটি অনুপস্থিত-
(a) সার্কিট
(b) ফিলামেন্ট
(c) অন্তরিত তার
(d) ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত।
উত্তরঃ (b) ফিলামেন্ট
36.কার দেহে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা আছে?
(a) মানুষ
(b) হাঙর
(c) জেলিফিশ
(d) ইলিশ
উত্তরঃ (c) জেলিফিশ
37.স্নায়ুকোশের মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে দেহের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য পরিবাহিত হয়-
(a) তড়িৎ উদ্দীপনার সাহায্যে
(b) হৃৎস্পন্দনের মাধ্যমে
(c) নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে
(d) প্রবাহিত রক্তের মাধ্যমে
উত্তরঃ (a) তড়িৎ উদ্দীপনার সাহায্যে
38.কোন্ ধরনের পেশিতে তড়িৎ উদ্দীপনা তৈরির জন্য বিশেষ উপাদান থাকার ফলে বিদ্যুৎত্তরঙ্গের আকারে ছড়িয়ে পড়ে?
(a) হৃৎপিণ্ডপেশি
(b) নার্ভপেশি
(c) উভয়েই
(d) কোনোটাই নয়।
উত্তরঃ (a) হৃৎপিণ্ডপেশি
39.মানবদেহের হৃদস্পন্দন পরিমাপের যন্ত্রটি হল-
(a) ইলেকট্রন কার্ডিয়াম
(b) স্ফিগমোম্যানোমিটার
(c) ব্যারোমিটার
(d) থার্মোমিটার
উত্তরঃ (a) ইলেকট্রন কার্ডিয়াম
=========================================================================
শূন্যস্থান পূরণ করো:
1.মানুষের দেহ তড়িতের ——–
উত্তরঃ সুপরিবাহী
2.মস্তিষ্কতরঙ্গ হল ——-
উত্তরঃ তড়িতীয়
3.জীবদেহের ——— তড়িৎপরিবাহী হয়।
উত্তরঃ তরল
4.——– মাছ যথেষ্ট তীক্ষ্ণ তড়িৎ তৈরি করতে পারে, যা তার শত্রুকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।
উত্তরঃ ইলেকট্রিক ইল
5.———- মস্তিষ্ক নিয়ে গঠিত যা তড়িৎ উদ্দীপনা পরিবাহিত করে।
উত্তরঃ স্নায়ুকোশ
6.——- জাতীয় অমেরুদণ্ডী প্রাণীর স্নায়ুকোশ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে।
উত্তরঃ স্কুইড
7.LED ——– এর প্রান্তটি বড়ো।
উত্তরঃ ধনাত্মক
8.সেল সংখ্যা বাড়ালে তড়িৎচুম্বকের ——— বাড়ে।
উত্তরঃ শক্তি
9.পরিবাহ ——–কম হলে তার মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ মাত্রা হবে।
উত্তরঃ রোধ, বেশি
10.কোনো চৌম্বক পদার্থের ওপর তার জড়িয়ে ওই তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ পাঠালে ওই পদার্থট ———- পরিণত হয়।
উত্তরঃ চুম্বকে
11.——– পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করলে তড়িৎচুম্বকের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
উত্তরঃ তারের
12.একটি কাঁচা লোহার দণ্ডের মধ্য দিয়ে তড়িৎ চালনা করলে দন্ডটি ——– পরিণত হবে।
উত্তরঃ চুম্বকে
13.কোনো ——— মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহিত হলে তার নিকটস্থ চুম্বকের ওপর প্রভাব পড়ে।
উত্তরঃ পরিবাহীর
14.লাউডস্পিকার তৈরি করতে —— চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
উত্তরঃ তড়িৎ
15.ফিউজতার খুব ——- উন্নতায় গলে যায়।
উত্তরঃ কম
16.সূর্যের আলো সোলার প্যানেলের ওপর পড়লে ওই আলোকশক্তি ——— তে পরিণত হয়।
উত্তরঃ তড়িৎশক্তিতে
16.বৈদ্যুতিক সার্কিটের নিরাপত্তার জন্য ——- ব্যবহার করা হয়।
উত্তরঃ ফিউজতার
18.সোলার কুকারে ——– সেল ব্যবহার হয়।
উত্তরঃ সোলার
19.সোলার ক্যালকুলেটরে তড়িৎশক্তির উৎস হল ——–
উত্তরঃ সোলার সেল
20.বাল্বের ফিলামেন্ট তৈরি হয় ——— দিয়ে।
উত্তরঃ টাংস্টেন
21. ইলেকট্রিক ইস্ত্রিতে নাইক্রোম তার —— ওপর জড়ানো থাকে।
উত্তরঃ অভ্রের
22.কোন্ সেলে রাসায়নিক শক্তি ——- শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উত্তরঃ তড়িৎ
23.বর্তনীবদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন করতে ——- ব্যবহৃত হয়।
উত্তরঃ সুইচ
24.টর্চের সুইচ অন করলে বাল্বের ভিতরে যে অংশটা জ্বলে ওঠে তাকে বলে
উত্তরঃ ফিলামেন্ট
25.দুই বা তার অধিক সংখ্যক সেলের সমবায়কে————-বলে।
উত্তরঃ ব্যাটারি
26.টর্চের ভিতরে যে ব্যাটারি থাকে, তা আসলে.———–।
উত্তরঃ নির্জলকোশ
27.টর্চ জ্বালানোর জন্য ——– ব্যবহার করা হয়।
উত্তরঃ Dry cell
28.সেলের ——- প্রান্তকে ” দাগ দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
উত্তরঃ ধণাত্মক
29. বর্তনী আঁকার জন্য দুটি সেলের প্রতীক ———
উত্তরঃ
30.পরিবাহীর মধ্যে তড়িদ্গ্রস্তকণা একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত হলে পরিবাহীতে ——— এর সৃষ্টি হয়।
উত্তরঃ তড়িৎপ্রবাহ
31.বাল্বের দুই প্রান্তের সঙ্গে সেলের দুই প্রান্ত যুক্ত করে, যে ব্যবস্থা করা হয়, তা হল ——- বা ——
উত্তরঃ সার্কিট বা বর্তনী
32.মোটরগাড়িতে ব্যবহৃত সেলটি হল ——-
উত্তরঃ সেকেন্ডারি সেল
33.ফিলামেন্টের মধ্যকার ধাতবতারের ——- দুপ্রান্ত চিহ্ন যুক্ত থাকে।
উত্তরঃ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক
=============================================================
সত্য অথবা মিথ্যা নির্ণয় করো :
1.ফিউজ তার তামার তৈরি, যার মধ্য দিয়ে খুব বেশি পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহিত হলে, সেটি নিজে গলে যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা
2.বৈদ্যুতিক বাতির ফিলামেন্ট নাইক্রোম তার দ্বারা গঠিত।
উত্তরঃ মিথ্যা
3.সোলার প্যানেল দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুৎ অনেক বেশি খরচ সাপেক্ষ।
উত্তরঃ মিথ্যা
4.ইলেকট্রিক ইস্ত্রি হল তড়িৎপ্রবাহের ফলে চুম্বকীয় বল সৃষ্টির উদাহরণ।
উত্তরঃ মিথ্যা
5.টাংস্টেন ধাতুর রোধ উচ্চ মানের হয়।
উত্তরঃ সত্য
6.মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোশ নিয়ে গঠিত।
উত্তরঃ সত্য
7.স্নায়ুকোশের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য তড়িৎ উদ্দীপনার সাহায্যেই পরিবাহিত হয়।
উত্তরঃ সত্য
8.শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হল অক্টোপাসের দেহে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা।
উত্তরঃ মিথ্যা
9.ইলেকট্রিক সরঞ্জামে চিনামাটি বা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়।
উত্তরঃ সত্য
10.শূন্যমাধ্যম তড়িতের সুপরিবাহী।
উত্তরঃ মিথ্যা
11.সেলের প্রতীক বড়ো রেখাটি ধনাত্মক প্রান্ত নির্দেশ করে।
উত্তরঃ সত্য
12.ব্যাটারি একটি তড়িৎগ্রস্ত বস্তু।
উত্তরঃ মিথ্যা
13.কোনো বর্তনীর সুইচ অন করা থাকলে, বর্তনীটি হয় মুক্তবর্তনী
উত্তরঃ মিথ্যা
14.বায়ু তড়িতের সুপরিবাহী।
উত্তরঃ মিথ্যা
15.তড়িৎচুম্বকের চুম্বকত্ব তড়িৎপ্রবাহ বন্ধ করার পরও থেকে যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা
16.LED-এর ফিলামেন্ট থাকে না।
উত্তরঃ সত্য
17.একটি তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহিত হলে তারটি চুম্বকে পরিণত হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা
18.তড়িৎচুম্বক একটি অস্থায়ী চুম্বক।
উত্তরঃ সত্য
19.টাংস্টেন ধাতুর রোধ নিম্নমানের হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা
===================================================================
যথার্থ উত্তর দ্বারা সমানুপাতিক সম্পর্ক করো:-
-
ফিলামেন্টযুক্ত : টর্চের বাল্ব :: ফিলামেন্টহীন :——
উত্তর: LED।
-
তড়িতের সুপরিবাহী: স্টিলের চামচ : : তড়িতের কুপরিবাহী :——-
উত্তর: কাঠের স্কেল।
-
ইলেকট্রিক : নাইক্রোম :: ইলেকট্রিক ফিলামেন্টে :——–
উত্তরঃ টাংস্টেন।
-
ড্রাইসেলের ধনাত্মক প্রান্ত: ধাতবটুপি : : ঋণাত্মক প্রান্ত :——-
উত্তর: ধাতবচাকতি।
=============================================================
নিচের প্রশ্নগুলির অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(1) গৃহে বৈদ্যুতিক বর্তনী নিরাপত্তার জন্য কি তার ব্যবহার করা হয়?
উঃ – ফিউজ তার।
(2) প্রাইমারি সেলে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উঃ – রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
(3) নাইক্রোম তার কি কি দিয়ে তৈরি?
উঃ – নিকেল, ক্রোমিয়াম, লোহা এবং ম্যাঙ্গানিজ।
(4) তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের প্রয়োগ হয় এমন একটি যন্ত্রের উদাহরণ দাও।
উঃ – ইলেকট্রিক ইস্ত্রি (Electric Iron) ।
(5) বাল্বের ফিলামেন্ট কোন ধাতু দিয়ে তৈরি?
উঃ – টাংস্টেন।
(6) LED এর পুরো নাম কি?
উঃ – LED এর পুরো নাম Light Emitting Diode
(7) ব্যাটারিতে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উঃ – রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে।
(8) বাল্বের ফিলামেন্ট ও ফিউজ তারের মূল পার্থক্যটি লেখ।
উঃ – বাল্বের ফিলামেন্ট উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট হয়। আর ফিউজ তারের গলনাঙ্ক খুব নিম্ন হয়।
(9) ইলেকট্রিক কলিং পেলে কি ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়?
উঃ – তড়িৎ চুম্বক।
(10) ইলেকট্রিক ইস্ত্রিতে কি তার ব্যবহার করা হয়?
উঃ – নাইক্রোম তার।
(11) তড়িৎ উৎপন্ন করতে পারে এমন দুটি মাছের নাম লেখ।
উঃ – জেলিফিস, ইলেকট্রিক ইল (Electric eel) ।
(12) একটি সেকেন্ডারি সেল এর উদাহরণ দাও
উঃ – গাড়িতে ব্যবহৃত শক্তিশালী ব্যাটারি।
========================================
নিচে প্রশ্নগুলি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(1) সৌরকোশের (Solar) দুটি ব্যবহার লেখ।
উঃ – (১) বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যবহার করা হয়। (২) বিভিন্ন রকম যন্ত্রাংশ যেমন ক্যালকুলেটর, সোলার কুকার, সোলার টেবিল ফ্যান ইত্যাদি চালাতে ব্যবহৃত হয়।
(2) তড়িতের সুপরিবাহী এবং কুপরিবাহী পদার্থ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ – তড়িতের সুপরিবাহী পদার্থ: যেসব পদার্থের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচল করতে পারে, তাদের তড়িৎ এর সুপরিবাহী পদার্থ বলে। যেমন লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম।
তড়িতের কুপরিবাহী পদার্থ: যেসব পদার্থের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচল করতে পারেনা, তাদের তড়িৎ এর কুপরিবাহী পদার্থ বলে। যেমন কাঠ, পাথর ইত্যাদি।
(3) অন্তরক কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উঃ – যেসব পদার্থের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে না, তাদের কুপরিবাহী বা অন্তরক বলে। যেমন প্লাস্টিক, চিনামাটি, ইট, কাঠ, পাথর।
(4) ফিউজ তার কি? এর বৈশিষ্ট্য লেখ।
উঃ – বৈদ্যুতিক সার্কিটের নিরাপত্তার জন্য নিম্ন গলনাঙ্ক বিশিষ্ট যে তার ব্যবহার করা হয় তাকে ফিউজ তার বলে। ফিউজ তারের গলনাঙ্ক খুব নিম্ন হয়।
(5) মুক্ত বর্তনী ও বদ্ধ বর্তনী কাকে বলে? সোলার ক্যালকুলেটরে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উঃ – মুক্ত বর্তনী: বর্তনী কোথাও চিহ্ন হয়ে গেলে তার মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচলে বাঁধা পড়ে, তখন বর্তনী কাজ করে না তখন ওই বর্তনীকে মুক্ত বর্তনী বলে।
বদ্ধ বর্তনী: যদি বর্তনী কোথাও ছিন্ন না হয় তখন ওই বর্তনীকে বদ্ধ বর্তনী বলে।
সোলার ক্যালকুলেটরে (Solar Calculator) সৌরশক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
(6) ফিউজ তার কেন ব্যবহার করা হয়?
উঃ – যেকোনো বৈদ্যুতিক সার্কিটের নিরাপত্তার জন্য ফিউজ তার ব্যবহার করা হয়। এই ফিউজের মধ্যে দিয়েই তড়িৎ ওই সার্কিটে প্রবেশ করে। ফিউজ তার খুব কম উষ্ণতায় গলে যায়। ফলে কোন কারনে খুব বেশি পরিমাণ তড়িৎ এসে পড়লে ফিউজ তার খুব উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গলে যায়। হলে বর্তনী ছিন্ন হয়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাই সার্কিটের কোন ক্ষতি হয় না।
(7) তড়িৎ চুম্বকের কয়েকটি ব্যবহার লেখ।
(i) ইলেকট্রিক কলিংবেলে তড়িৎ চুম্বকের ব্যবহার হয়।
(ii) লাউড স্পিকার তৈরি করতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
(iii) ইলেকট্রিক ক্রেনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
(iv) চোখে কোন চুম্বক পদার্থের কনা পড়লে তা তুলতে ব্যবহার করা হয় এক বিশেষ যন্ত্রের সেই যন্ত্র তৈরি করতে তড়িৎচুম্বক ব্যবহৃত হয়।
(v) মোটর তৈরিতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
(vi) টেলিফোনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
(8) বোতাম সেল কি?
উঃ – ইলেকট্রিক হাত ঘড়িতে যে সেল থাকে তা দেখতে অনেকটা বোতামের মতো একেই বোতাম সেল বলে।
(9)প্রশ্ন: তড়িৎ কি?
উত্তর: তড়িৎ এক প্রকার শক্তি যা ইলেকট্রন প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয়।
(10)প্রশ্ন: তড়িদাধান কাকে বলে? তড়িদাধানের একক কি?
উত্তর: তড়িৎ আধান যুক্ত কণাকে বা তড়িদাহিত কণাকে তড়িদাধান বলে।
তড়িদাধান দু’ধরনের হয়ে থাকে (১) ধনাত্মক আধান ও (২) ঋণাত্মক আধান
তড়িদাধানের একক কুলম্ব।
প্রশ্ন: তড়িৎ চলাচলের উপর নির্ভর করে পদার্থ কত প্রকার? কি কি? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: তড়িৎ চলাচলের ওপর নির্ভর করে পদার্থ তিন প্রকার যথা: (১) তড়িৎ পরিবাহী বা তড়িৎ সুপরিবাহী (২) তড়িৎ অপরিবাহী বা কুপরিবাহী বা অন্তরক (৩) অর্ধপরিবাহী।
(১) তড়িৎ পরিবাহী বা তড়িৎ সুপরিবাহী: যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান যুক্ত কণা খুব সহজেই চলাচল করতে পারে, তাদের তড়িৎ পরিবাহী বা সুপরিবাহী বলে।
উদাহরণ: সোনা, রূপো, তামা প্রভৃতি ধাতু; গ্রাফাইট, গ্যাস কার্বন প্রভৃতি অধাতু; অ্যাসিড, ক্ষার বা লবণের জলীয় দ্রবণ প্রভৃতি তড়িৎ পরিবাহী।
(২) তড়িৎ অপরিবাহী বা কুপরিবাহী বা অন্তরক: যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান যুক্ত কনা চলাচল করতে পারে না তাদের তড়িৎ অপরিবাহী বা তড়িৎ কুপরিবাহী বা অন্তরক বলে।
উদাহরণ: শুকনো কাঠ, কাগজ, রাবার, প্লাস্টিক, কাচ প্রভৃতি।
(৩) অর্ধপরিবাহী: তড়িৎ পরিবাহী ও অন্তরক ছাড়াও আরও এক ধরনের পদার্থ রয়েছে যাদের মধ্যে তড়িৎ-এর পরিবাহিতা পরিবাহী ও অন্তরক পদার্থের মাঝামাঝি, তাদের অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor) বলা হয়।
উদাহরণ: জার্মেনিয়াম ও সিলিকন প্রভৃতি অর্ধপরিবাহী (Semi conductor)।
প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহ কাকে বলে?
উত্তর: কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান যুক্ত কণা বা তড়িদাধানের প্রবাহকে তড়িৎ প্রবাহ বলা হয়।
প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহ মাত্রা কাকে বলে?
উত্তর: কোন পরিবাহীর যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে ওই পরিবাহীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা বলে।
প্রশ্ন: তড়িৎপ্রবাহ মাত্রা পরিমাপ করা হয় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
উত্তর: তড়িৎ প্রবাহ মাত্রা পরিমাপ করা হয় অ্যামিটার যন্ত্রের সাহায্যে।
প্রশ্ন: তড়িৎ বিভব বলতে কী বোঝো? তড়িৎ বিভব কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: তড়িদাহিত কোন বস্তুর তড়িৎ বিভব বলতে বোঝায় ঐ বস্তুর এমন এক তড়িৎ অবস্থা যার দ্বারা বোঝা যায় ঐ বস্তু অন্য কোন বস্তুকে তড়িৎ প্রদান করবে, না অন্য কোন বস্তু থেকে তড়িৎ গ্রহণ করবে।
তড়িৎ বিভব দুই প্রকার যথা:
(১) উচ্চ বিভব বা ধনাত্মক বিভব: ধনাত্মক তড়িৎগ্রস্ত বস্তুর বিভবকে উচ্চ বিভব বা ধনাত্মক বিভব বলে।
(২) নিন্ম বিভব বা ঋনাত্মক বিভব: ঋনাত্মক তড়িৎগ্রস্ত বস্তুর বিভবকে নিন্ম বিভব বা ঋনাত্মক বিভব বলে।
প্রশ্ন: বিভব প্রভেদ কাকে বলে?
উত্তর: দুটি ভিন্ন বিভাব সম্পন্ন বস্তুর বা বিন্দুর বিভবের পার্থক্যকে ওই বস্তু বা বিন্দু দুটির বিভব প্রভেদ বলা হয়।
প্রশ্ন: বিভব প্রভেদের সঙ্গে তড়িৎপ্রবাহের সম্পর্ক কি?
উত্তর: দুটি ভিন্ন বিভব সম্পন্ন তড়িৎ গ্রস্ত বস্তুকণার মধ্যে সংযোগ ঘটালে উচ্চ বিভবসম্পন্ন বস্তুকণা থেকে নিম্ন বিভবসম্পন্ন বস্তুকণার দিকে তড়িৎ প্রবাহ হয়। প্রবাহ ততক্ষণ স্থায়ী হয় যতক্ষণ না পর্যন্ত বস্তুকণা দুটির বিভব সমান হয়। বস্তুকণা দুটির বিভব সমান হয়ে গেলে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিভব প্রভেদ যত বেশি হবে তড়িৎ প্রবাহ তত বেশি হবে।
প্রশ্ন: সমপ্রবাহ কাকে বলে?
উত্তর: কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে একই দিকে তড়িৎ প্রবাহ হলে তাকে সমপ্রবাহ(Direct Current or DC) বলে।
প্রশ্ন: পরিবর্তী প্রবাহ কাকে বলে?
উত্তর: কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখ যদি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যায়ক্রমে বিপরীতমুখী হয় তবে তাকে পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current or AC) বলে।
প্রশ্ন: তড়িৎ উৎস কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: যেসব ব্যবস্থার সাহায্যে অন্য কোন শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে তড়িৎ উৎস বলে। তড়িৎ উৎসব দু প্রকার। যথা: (১) তড়িৎ কোশ (২) ডায়নামো।
প্রশ্ন: তড়িৎ কোশ কাকে বলে? এর উদাহরণ দাও?
উত্তর: যে ব্যবস্থা সাহায্যে অন্য কোন শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে রাখা যায় তাকে তড়িৎ কোশ বলে।
উদাহরণ: রাসায়নিক কোশ বা ব্যাটারি, সৌর কোষ প্রভৃতি।
প্রশ্ন: ডায়নামো কাকে বলে?
উত্তর: যে বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্বারা যান্ত্রিকশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বলে।
প্রশ্ন: রাসায়নিক কোশ কাকে বলে? রাসায়নিক কোশ কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: যে ব্যবস্থার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে কোন যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে কোন বদ্ধ বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পাঠানো যায়, তাকে রাসায়নিক কোশ বলে।
রাসায়নিক কোশ তিন প্রকার। যথা: (১) প্রাথমিক কোশ, (২) গৌণ কোশ ও (৩) প্রমাণ বা মানব কোশ।
প্রাথমিক কোশ: যে তড়িৎকোশে বাহ্যিক কোন তড়িৎ উৎস ছাড়াই রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় তাকে প্রাথমিক কোশ বলে।
রাসায়নিক শক্তি ➡ তড়িৎ শক্তি
উদাহরণ: ভোল্টীয় কোশ, নির্জল কোশ ইত্যাদি।
গৌণ কোষ: যে তড়িৎকোশে বাহ্যিক কোন তড়িৎ উৎসের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত করা হয় এবং রাসায়নিক শক্তিকে আবার তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় তাকে গৌণ কোশ বলে।
তড়িৎ শক্তি ➡ রাসায়নিক শক্তি ➡ তড়িৎ শক্তি
উদাহরণ: লেড-অ্যাসিড সঞ্চয়ক কোশ, ক্ষারীয় সঞ্চয়ক কোশ ইত্যাদি।
প্রমাণ বা মানব কোশ: যে তড়িৎকোশের তড়িৎচালক বল কোশটি সক্রিয় থাকাকালীন সর্বদা একটি নির্দিষ্ট মানে স্থির থাকে এবং যাকে তড়িৎচালক বলের মানক হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তাকে প্রমাণ কোশ বা মানক কোশ বলে।
উদাহরণ: ওয়েস্টন ক্যাডমিয়াম কোশ, ক্লার্ক কোশ
প্রশ্ন: পরিবাহীর রোধ কাকে বলে? রোধ কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
উত্তর: যে ধর্মের জন্য কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাকে ওই পরিবাহীর রোধ বলে।
পরিবাহীর রোধের বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: উষ্ণতা অপরিবর্তিত থাকলে, পরিবাহীর রোধ যেসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে সেগুলি হল- পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদ এবং পরিবাহীর উপাদান।
পরিবাহীর দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভরতা: পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদ ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে, পরিবাহীর রোধ তার দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক অর্থাৎ পরিবাহীর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে রোধও বৃদ্ধি পায় ।
পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের উপর নির্ভরতা: পরিবাহীর দৈর্ঘ্য ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে, পরিবাহীর রোধ তার প্রস্থচ্ছেদের ব্যস্তানুপাতিক অর্থাৎ পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদ বৃদ্ধি পেলে রোধও হ্রাস পায় ।
পরিবাহীর উপাদানের উপর নির্ভরতা: পরিবাহীর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদ অপরিবর্তিত থাকলে, পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর উপাদানের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কোন কোন উপাদানের রোধ বেশি হয় আবার কোন কোন উপাদানের রোধ কম হয়।
প্রশ্ন: তড়িৎ বর্তনী কাকে বলে ? তড়িৎ বর্তনী কত প্রকার ও কি কি ?
উত্তর: তড়িৎ উৎস, রোধ ও অন্যান্য তড়িৎ যন্ত্রাদি কোন পরিবাহীর দ্বারা যুক্ত হয়ে যে বর্তনীর সৃষ্টি করে তাকে তড়িৎবর্তনী বলে।
তড়িৎবর্তনী দুই প্রকার। যথা:
(১) উন্মুক্ত বর্তনী (Open Circuit): যে তড়িৎ-বর্তনীর কোন একটি প্রান্ত খোলা বা উন্মুক্ত তাকে উন্মুক্ত বর্তনী বা Open Circuit বলে।
(২) বদ্ধ বর্তনী (Closed Circuit): যে তড়িৎ-বর্তনীর সকল প্রান্ত বদ্ধ বা বন্ধ তাকে বদ্ধ বর্তনী বা Closed Circuit বলে।
উদাহরণ: আমারা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বদ্ধ বর্তনী ও উন্মুক্ত বর্তনী ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করি। যখন আমরা বৈদ্যুতিক পাখা (Fan) বা বৈদ্যুতিক আলো(Blub) চালানোর জন্য সুইচ অন করি তখন যে তড়িৎ-বর্তনী কাজ করে তা হল বদ্ধ বর্তনী বা Closed Circuit। এক্ষেত্রে তড়িৎ-বর্তনীর কোন প্রান্ত খোলা থাকে না। আবার যখন পাখা বা আলো বন্ধ করার দরকার হয় তখন আমরা সুইচ অফ করি, এক্ষেত্রে তড়িৎ বর্তনী সুইচ এর স্থানে এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় অর্থাৎ খোলা থাকে। তাই সুইচ অন অফ অবস্থায় বর্তনীটি হল উন্মুক্ত বর্তনী বা Open Circuit ।
প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের ফলাফল বর্ণনা কর ।
উত্তর: প্রবাহের ফলাফল নিম্নরূপ:
১. তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল: কোনো পরিবাহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহিতে তাপের সৃষ্টি হয়।
২. তড়িৎ প্রবাহের রাসায়নিক ফল: অনেক প্রকার তরল পরিবাহী আছে যাদের ভেতর তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে দেখা যায়। তড়িৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়াকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
৩. তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বকীয় ফল: চৌম্বক পদার্থ (যেমন কাঁচা লোহা) দ্বারা সৃষ্ট কোনো দন্ডের গায়ে অন্তরিত তামার তার জড়িয়ে তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে দন্ডটি চুম্বকে পরিণত হয়। এই প্রকার চুম্বককে তড়িৎ চুম্বক বলা হয়। আবার কোন পরিবাহীর ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে ওই পরিবাহীর নিকটস্থ অঞ্চলে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
৪. তড়িৎ প্রবাহের যান্ত্রিক ফল: বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে যন্ত্রের গতি বা কাজ করার ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। এইরকম যন্ত্রকে বৈদ্যুতিক যন্ত্র বলা হয়।
প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল হল তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা প্রবাহিতে তাপ উৎপন্ন করা। এই উৎপন্ন তাপ যেসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে সেগুলি হল – (১) প্রবাহমাত্রা, (২) পরিবাহীর রোধ এবং (৩) তড়িৎ প্রবাহের সময়কাল।
প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল সংক্রান্ত জুলের সূত্র গুলি লেখ। এবং সূত্রগুলিকে গাণিতিক রূপে প্রকাশ করো।
উত্তর: বিজ্ঞানী জেমস্ প্রেসকট জুল সর্বপ্রথম তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল সম্পর্কিত তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এই সূত্রগুলিকেই জুলের সূত্র বলা হয়ে থাকে।
গাণিতিক রূপের সুবিধার্থে ধরি,
পরিবাহীর রোধ = R
তড়িৎ প্রবাহমাত্রা = I
তড়িৎ প্রবাহের সময়কাল = t
পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ = H
জুলের প্রথম সূত্র: পরিবাহীর রোধ ও তড়িৎ প্রবাহের সময়কাল অপরিবর্তিত থাকলে কোন পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ তড়িৎ প্রবাহমাত্রার বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, H ∝ I² ; যখন R ও t ধ্রুবক।
জুলের দ্বিতীয় সূত্র: তড়িৎ প্রবাহমাত্রা ও তড়িৎ প্রবাহের সময়কাল অপরিবর্তিত থাকলে কোন পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ পরিবাহীর রোধের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, H ∝ R ; যখন I ও t ধ্রুবক।
জুলের তৃতীয় সূত্র: তড়িৎ প্রবাহমাত্রা ও পরিবাহীর রোধ অপরিবর্তিত থাকলে কোন পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ তড়িৎ প্রবাহের সময়কালের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, H ∝ t ; যখন I ও R ধ্রুবক।
সূত্রগুলিকে সমন্বয় করে পাই,
H ∝ I²Rt
বা, H = I²RtJ ; J একটি ধুবক। একে জুলের তুল্যাঙ্ক বলে।
এখন CGS পদ্ধতিতে, H- কে ক্যালােরিতে , I– কে অ্যাম্পিয়ারে , t- কে সেকেন্ডে প্রকাশ করলে J-এর মান হয় 4.2 ।
অতএব , H = I²Rt4.2 ক্যালােরি
= 0.24I²Rt ক্যালােরি
এবং SI পদ্ধতিতে, H- কে জুলে প্রকাশ করলে J = 1 হয়।
অতএব , H = I²Rt জুল ।
প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের কয়েকটি ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখ।
উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের কয়েকটি ব্যবহারিক প্রয়োগ –
১. ইলেকট্রিক ইস্ত্রি: ইলেকট্রিক ইস্ত্রি অভ্রের কাঠামোর ওপর নাইক্রোম তার জড়িয়ে তৈরি করা হয়। এই তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে নাইক্রোম তার গরম হয়ে কাজ শুরু করে।
২. ইলেকট্রিক বাল্ব: ইলেকট্রিক বাল্বের মধ্যে তড়িৎ সংযোগ করলে বাল্বের ভিতর অবস্থিত ফিলামেন্ট (যা টাংস্টেন ধাতু দিয়ে তৈরি) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন ঐ তাপশক্তি আলোক শক্তিতে বদলে গিয়ে আলো প্রদান করে।
৩. ফিউজ তার: যেকোনো বৈদ্যুতিক সার্কিট এর নিরাপত্তার জন্য ফিউজ তার ব্যবহার করা হয়। ফিউজ তার খুব কম উষ্ণতায় গলে যায়। কোন কারণে বর্তনীতে বেশি পরিমান তড়িৎ এসে পড়লে ফিউজ তার উত্তপ্ত হয়ে গলে যায় ফলে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হাত থেকে রক্ষা পায়।
===============================================
-
দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও :
-
LED-এর পুরো কথাটি কী?
-
পরিবাহীর উন্নতা বাড়ালে রোধ কমে-এমন একটি পদার্থের নাম লেখো।
-
একটি LED ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত কীভাবে চেনা যায়?
-
কলিংবেলে কী ধরনের চুম্বক থাকে?
-
জোড়ালো তড়িৎচুম্বক গঠন করতে কেমন আকারের লোহার দণ্ডকে নির্বাচন করা হয়?
-
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
-
জীবের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ায় তড়িৎশক্তির ভূমিকা আলোচনা করো।
-
স্কুইড নিয়ে কেন বিজ্ঞানীরা স্নায়ুকোশের গবেষণা করেন?
-
দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও :
-
নিজের দেহে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো।
-
জীবদেহের তরলপদার্থ তড়িৎপরিবাহী হয় কেন?
-
মস্তিষ্কের তরঙ্গের প্রকৃতি কীরূপ?
-
স্কুইডের স্নায়ুকোশে বিদ্যুৎপরিবহণের কারণ কী?

