অণুজীবের জগৎ-

অষ্টম শ্রেণী

পরিবেশ বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর |

Class 8 Poribesh Bigyan 

    April 17, 2025  

===============================================================================================

    ” অণুজীবের জগৎ ” থেকে সমস্ত রকম প্রশ্ন উত্তর করে দেওয়া হল। পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের সমস্ত স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর (West Bengal Board Poribesh Bigyan Class 8) ছাত্র ছাত্রীরা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে এই প্রশ্ন উত্তর গুলি প্র্যাকটিস করে নিতে পারো। 

অণুজীবের জগৎ 

অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান

(Class 8 Poribesh Bigyan Chapter 7)

সঠিক উত্তর নির্বাচন করে বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখ।

(1) যক্ষ্মা একটি ____রোগ। (a) ছত্রাক ঘটিত (b) আদ্যপ্রাণী ঘটিত (c) ভাইরাস ঘটিত (d) ব্যাকটেরিয়া ঘটিত।

উঃ- যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

(2) অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়- (a) ব্যাকটেরিয়া থেকে (b) ছত্রাক থেকে (c) প্রোটোজোয়া থেকে (d) ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক থেকে।

উঃ- অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায় ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক থেকে

(3) একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ হল- (a) ম্যালেরিয়া (b) টাইফয়েড (c) ডায়ারিয়া (d) ডেঙ্গু

উঃ – একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ হল ডেঙ্গু।

(4) জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন- (a) রবার্ট কখ (b) লুই পাস্তুর (c) ডক্টর জেনার (d) ফ্লেমিং

উঃ- জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর

(5) একটি উপকারী ভাইরাস হলো- (a) র‍্যাবিস ভাইরাস (b) ফাজ ভাইরাস (c) পোলিও ভাইরাস (d) HIV

উঃ – একটি উপকারী ভাইরাস হলো ফাজ ভাইরাস।

(6) একটি ব্যাকটেরিয়ার ঘটিত রোগ হল – (a) পক্স (b) পোলিও (c) হেপাটাইটিস (d) কলেরা।

উঃ – একটি ব্যাকটেরিয়ার ঘটিত রোগ হল কলেরা।

(7) কোন অনুজীব পাটের কাণ্ডের পেকটিন নষ্ট করে দেয়? (a) ব্যাকটেরিয়া (b) ভাইরাস (c) ছত্রাক (d) আদ্যপ্রাণী

উঃ – ব্যাকটেরিয়া।

(8) স্লিপিং সিকনেস একটি- (a) ভাইরাস (b) ব্যাকটেরিয়া (c) আদ্যপ্রাণী (d) ছত্রাক ঘটিত রোগ।

উঃ – স্লিপিং সিকনেস একটি আদ্যপ্রাণী ঘটিত রোগ।

(9) প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক হল- (a) পেনিসিলিন (b) অ্যাম্পিসিলিন (c) স্টেপটোমাইসিন (d) ক্লোরোমাইসেটিন।

উঃ – প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক হল পেনিসিলিন।

  অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান 

অণুজীবের জগৎ 

=======================================================

নিচের প্রশ্নগুলির অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।

(1) হাইফি কী?

উঃ- ছত্রাকের দেহ এককোশী গোলাকার (ইস্ট) বা সরু সুতোর মতো অংশ দিয়ে তৈরি। এই সুতোর মতো অংশের নাম হল হাইফি।

(2) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণকারী একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখ।

উঃ – রাইজোবিয়াম।

(3) মানুষের অন্ত্রে কোন ব্যাকটেরিয়ার বাস করে?

উঃ – এশ্চেরিচিয়া কোলাই।

(4) কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ‘ব্যাকটেরিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেন?

উঃ – বিজ্ঞানী এরেনবার্গ।

(5) একটি অ্যান্টিবায়োটিকের নাম লেখ।

উঃ – পেনিসিলিন।

(6) মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে বসবাসকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়া হল____।

উঃ – এশ্চেরিচিয়া কোলাই।

(7) ভাইরাসঘটিত দুটি রোগের নাম লেখো।

উঃ – পোলিও, জলাতঙ্ক, হেপাটাইটিস, ডেঙ্গুজ্বর, AIDS ইত্যাদি।

(8) ডাল জাতীয় গাছের মূলে থাকে নামক____ মিথোজীবী।

উঃ – রাইজোবিয়াম।

(9) হাইফি ও মাইসেলিয়াম কোন অনুজীবে দেখা যায়?

উঃ – মিউকর, পেনিসিলিয়াম ছত্রাকে।

(10) মানুষের তৈরি প্রথম অ্যান্টিবায়োটিকটি কোন ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়?

উঃ – মানুষের তৈরি প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক হল পেনিসিলিন। এটি পেনিসিলিয়াম নোটেটাম নামক ছত্রাকের দেহ থেকে পাওয়া যায়।

  অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান 

অণুজীবের জগৎ 

=======================================================

নিচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।

(1) ভাইরাস কথাটির শব্দগত অর্থ কি? ভাইরাসের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

উঃ- ভাইরাস কথাটির শব্দগত অর্থ হলো বিষ।

 

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য গুলি নিচে দেওয়া হল-

(১) এদের কোনরকম কোশীয় গঠন নেই।

(২) এদের কোন কোশ আবরণী, সাইটোপ্লাজম বা নিউক্লিয়াস থাকে না। পরিবর্তে বাইরে প্রোটিনে তৈরি খোলকের মধ্যে নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে।

(৩) এরা সবাই পরজীবী বা রোগ সৃষ্টিকারী। কেবলমাত্র পোশাক জীব কোষের প্রবেশ করলে এদের মধ্যে জীবনের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। আর প্রসব কোষের বাইরে থাকার সময় এরা জড় বস্তুর মত আচরণ করে।

 

(2) খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে অনুজীবরা কিভাবে সাহায্য করে? অথবা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের একটি করে ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ লেখো। অথবা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের দুটি পদ্ধতি লেখ।

 

উঃ- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে অণুজীবদের ভূমিকা:

(১) দই তৈরি- যখন বইয়ের মধ্যে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উষ্ণতায় গরম দুধের সঙ্গে মেশানো হয় তখন তাদের সংখ্যা খুব তাড়াতাড়ি বাড়তে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে।

(২) বিশেষ বিশেষ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় চিজ, কেক, ধোকলা, ইডলি, দোসা, পাউরুটির মতো নানা খাবার বানানো যায়।

(৩) ইস্টের কোশ ফলের রসে থাকা শর্করাকে ভেঙে অ্যালকোহল তৈরি করে। ব্যাকটেরিয়া এই অ্যালকোহলকে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে।

 

(3) কিভাবে খাদ্যকে ভালো রাখা সম্ভব তিনটি উপায় উল্লেখ করো।

 

উঃ- খাদ্যকে ভালো রাখার উপায়:-

(১) কোন পাত্রে বায়ুশূন্য করে খাদ্যকে রেখে বা বিশেষ মোড়কে রেখে।

(২) মাছ মাংস বা ফলে নুন মাখিয়ে রাখলে।

(৩) কাটা আম, লেবু, বাঁধাকপি, পেঁয়াজে ভিনেগার যোগ করলে।

(৪) খাদ্যকে কম তাপমাত্রায় রেখে।

 
(4) নিচের রোগ গুলির মধ্যে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত, ভাইরাস ঘটিত, আদ্যপ্রাণী ঘটিত রোগকে চিহ্নিত কর- কলেরা, মিজেলস, কালাজ্বর, ডিপথেরিয়া।

 

উঃ- কলেরা- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত

ডিপথেরিয়া- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত

কালাজ্বর- আদ্যপ্রাণী ঘটিত

মিসলস (হাম)- ভাইরাস ঘটিত

 

(5) অনুজীবের যেকোনো দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

উঃ – (১) অধিকাংশ অনুজীবদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্যাসের প্রয়োজন হয় আবার ইস্ট কিংবা টিটেনাস রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবরা কম অক্সিজেন ঘনত্বেও বেঁচে থাকতে পারে।

(২) অণুজীবদের বেঁচে থাকার জন্য ভেজা জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

(৩) অন্ধকার জায়গায় এরা তাড়াতাড়ি বাড়ে। সরাসরি সূর্যের আলো সংস্পর্শে এলে কোন কোন অনুজীব মারা যায়।।

 

(6) আদ্যপ্রাণী বা প্রোটোজোয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। আদ্যপ্রাণীঘটিত দুটি রোগের নাম লেখো।

উঃ – আদ্যপ্রাণী বা প্রোটোজোয়ার বৈশিষ্ট্য গুলি নিচে দেওয়া হলো –

(১) আদ্যপ্রাণীদের দেহ একটিমাত্র কোশ নিয়ে গঠিত। কোশে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।

(২) এরা নানা আকারের হয়- গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বা বা থালার মত।

(৩) এরা স্বাধীনভাবে একা থাকে। আবার অনেকে মিলে একসঙ্গে থাকে। আবার কেউ কেউ পোষক কোশের মধ্যে থেকে নানা রোগ সৃষ্টি করে।

(৪) এরা নানা ভাবে চলাচল করে। কারো দেহে ক্ষনপদ, আবার কারো দেহে চাবুকের মতো ফ্ল্যাজেলা বা চুলের সিলিয়া মত থাকে।

আদ্যপ্রাণীঘটিত দুটি রোগের নাম হল ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর।

 

(7) নিন্মলিখিত ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার নাম উল্লেখসহ একটি করে উপকারী ভূমিকা ব্যাখ্যা করো- কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ।

উঃ – কৃষি: – ক্লাসট্রিডিয়াম, অ্যাজোটোব্যাকটার জাতীয় স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া ও নানা সায়ানোব্যাকটেরিয়া সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেনকে শোষণ করে নিজেদের দেহে নাইট্রোজেন যৌগ গঠন করে। এইসব অনুজীব মরে গেলে ওই নাইট্রোজেন যৌগগুলো মাটিতে মুক্ত হয়।

 

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ:- যখন দই এর মধ্যে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া গরম দুধের সঙ্গে মেশানো হয় তখন এই ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিড রূপান্তরিত করে।

 

(8) অ্যান্টিবায়োটিক কাকে বলে? উদাহরণ দাও

উঃ – বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের দেহ নিঃসৃত কিছু কিছু জৈব যৌগ অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা দেয় অথবা তাদের মেরেও ফেলে। এইসব যৌগকে নানাভাবে বিশুদ্ধিকরণের ও প্রয়োজনে রাসায়নিকভাবে পরিবর্তনের মাধ্যমে নানান জীবনদায়ী ঔষধ তৈরি করা হয়। এই জীবনদায়ী ঔষধ গুলোকে এন্টিবায়োটিক বলা হয়। স্টেপটোমাইসিন, অ্যাম্পিসিলিন।

 
(9) অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি কাকে বলে? টীকাকরণের প্রয়োজনীয়তা কি? অথবা, টিকা বা ভ্যাকসিন বলতে কি বোঝো? একটি রোগের নাম কর যার ঠেকাতে টিকা নেওয়া হয়?

 

উঃ – যখন কোন জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া বা ছত্রাক) আমাদের দেহে প্রবেশ করে, তখন জীবাণুর গাত্র বা দেহ থেকে বেরোনো নানা ক্ষতিকারক যৌগ আমাদের দেহে প্রবেশ করে। এরা হলো অ্যান্টিজেন । এদের ধ্বংস করার জন্য আমাদের শরীরে এক ধরনের যৌগ তৈরি হয়। এরা অ্যান্টিজেনকে আক্রমণ করে ও ধ্বংস করে। এই প্রোটিনধর্মী যৌগগুলি হল আন্টিবডি। কোনো জীবদেহের রোগ প্রতিরোধের এই স্বাভাবিক ক্ষমতায় হলো অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি।

কোন মৃত, দুর্বল, জীবিত অণুজীবকে বা সরাসরি অনুজীবের দেহ থেকে বেরোনো দুর্বল বিষকে নির্দিষ্ট ডোজে আগে থেকে কোন মানুষের দেহে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হলে, ওই ধরনের অণুজীবদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় টীকাকরণ বা অনাক্রম্যকরণ বা ভ্যাকসিনেশন। ভ্যাকসিন ব্যবহার করে টাইফয়েড, টিটেনাস, পোলিও, ডিপথেরিয়ার মত বহু রোগকে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

 

(10) নাইট্রোফিকেশন কাকে বলে? একটি নাইট্রিফাইং এবং ডিনাইটিফাইং ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখ।

উঃ – নাইট্রোসোমোনাস, নাইট্রোব্যাকটার নামক নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়াকে যথাক্রমে নাইট্রাইট ও নাইট্রেট রূপান্তরিত করে। এই পদ্ধতিতে নাইট্রিফিকেশন বলে।

একটি নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার: নাইট্রোসোমোনাস।

ডিনাইটিফাইং ব্যাকটেরিয়ার: সিউডোমোনাস।

 

SOURCE-SCIENCEMASTER.IN

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top