Social Welfare

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমৃদ্ধকরণ

শিক্ষা উৎকর্ষে ভারতের উত্থান

Posted On: 23 JUN 2025 3:04PM

২১ জুন২০২৫

মুখ্য বিষয়:

  • জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ আমূল সংস্কার ঘটিয়েছে শিক্ষাকে নমনীয়, বহু বিভাগীয় এবং বিশ্বমানের ও একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী গড়ে তুলতে।

  • নিপুণ ভারত মিশনের সূচনা হয়েছে, যাতে প্রত্যেক শিশু প্রাথমিক সাক্ষরতা এবং গণনা প্রক্রিয়া শিখতে পারে ২০২৬-২৭ এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীতে পাঠান্তে।

  • ১৪ হাজার ৫০০’রও বেশি পিএম শ্রী (পিএম স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া) স্থাপিত হয়েছে চলতি কেন্দ্র, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত স্কুলগুলিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে।

  • উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৭০ হাজার ১৮ (২০২৫)

Institute

2014-15

2024-25

IITs

16

23

IIMs

13

21

AIIMS

7

20

  • আইআইটি-র দুটি বিদেশি ক্যাম্পাস স্থাপিত হয়েছে জাঞ্জিবার এবং আবুধাবিতে।

  • বিশ্ব উদ্ভাবন সূচকে ভারতের স্থান উন্নীত হয়েছে ২০১৪’র ৭৬ থেকে ২০২৪ – এ ৩৯ – এ।

  • কিউএস বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং – এ ৫৪টি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ – এর তালিকায় স্থান পেয়েছে, ২০২৫ – এর ৪৬ এবং ২০১৫’য় মাত্র ১৩ থেকে।

  • ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (এনএফএসইউ) বিশ্বের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ফরেন্সিক সায়েন্স এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ানো হয়।

ভূমিকা

গত এক দশকে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি (এনইপি) ২০২০’তে অনেক রূপান্তরকারী সংস্কার হয়েছে বিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষাকে জোরদার করতে। নিপুণ ভারত মিশন, পিএম শ্রী কর্মসূচি, ন্যাশনাল কারিক্যুলাম ফ্রেমওয়ার্ক, ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক – এর মতো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে নমনীয়তা, বহু বিভাগীয় এবং আন্তর্জাতিকতা যুক্ত করতে, যাতে কয়েক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুণমান বৃদ্ধি হয়। পিএম বিদ্যালক্ষ্মীর মতো নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে আর্থিক বাধা দূর করা। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি, আইআইএম এবং এআইআইএমএস – এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলির সম্প্রসারণের পাশাপাশি গতি শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অগ্রবর্তী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন স্থাপন প্রমাণ করে যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা বহাল করতে দৃঢ় দায়বদ্ধতা। মৌলিক শিক্ষা থেকে কোয়ান্টাম কম্প্যুটিং এবং সৃজনশীল প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে আধুনিক গবেষণা, এই প্রয়াস সুযোগ-সুবিধার প্রসার করছে, গুণমান বৃদ্ধি করছে এবং প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং – এ ভারতের উন্নত ভূমিকা এবং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রের পুনর্গঠন শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং সুবিধার জন্য বিশ্ব হাব হিসেবে দেশে ক্রমবর্ধমান মর্যাদার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

রূপান্তরকারী নীতি: এনইপি ২০২০

জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০’তে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষায় একাধিক রূপান্তরকারী সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা, সমতা, গুণমান, সাশ্রয়ী এবং দায়বদ্ধতার মতো মূল স্তম্ভের উপর নির্মিত এই নীতির লক্ষ্য ভারতকে প্রাণবন্ত জ্ঞান সমাজ এবং আন্তর্জাতিক জ্ঞানের সুপার পাওয়ার হিসেবে রূপান্তর করা, বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষাকে আরও সার্বিক, নমনীয়, বহু বিভাগীয়, একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয়তার উপযোগী করার মাধ্যমে। এর আরও লক্ষ্য, প্রতিটি পড়ুয়ার নিজস্বতাকে প্রকাশ করা। নিম্নোক্ত সারণীতে এই নীতির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে:

               

বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন

ভারত তার জ্ঞান অর্থনীতিকে জোরদার করছে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে, যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে। গবেষণা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদের ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হওয়ার জন্য দেশের স্বপ্নের মূল চালিকাশক্তি এই প্রতিষ্ঠানগুলি।

                               

 

  • উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএআইএসএইচই পোর্টাল অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩.৮ শতাংশ হারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০১৪-১৫’র ৫১ হাজার ৫৩৪ থেকে ২০২৫ – এর জুনে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার ১৮ হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে আছে – বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্ট্যান্ড অ্যালোন বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ, পিএম বিদ্যালক্ষ্মী এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি২০১৪-১৫’র ৭৬০ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ – এর জুনে এ পর্যন্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮, যা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার ভারতের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

  • কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি: ২০১৪-১৫’য় ৩৮ হাজার ৪৯৮টি কলেজের তুলনায় ২০২৫ – এর জুনে এ পর্যন্ত কলেজের সংখ্যা হয়েছে ৫২ হাজার ৮১, যা উচ্চ শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাচ্ছে।

  • আইআইটি সংখ্যা বৃদ্ধি২০১৪’য় ১৬টি ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) ছিল। এর পরবর্তী বছরগুলিতে অতিরিক্ত ৭টি নতুন আইআইটি হওয়ায় ২০২৫ – এর জুনে এ পর্যন্ত মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩।

                             

আইআইটি পরিকাঠামো বৃদ্ধি২০২৫ – এর ৭ মে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৫টি আইআইটি (তিরুপতি, পালাক্কার, ভিলাই, জম্মু এবং ধারওয়ার) – এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণের প্রস্তাব অনুমোদন করে। ২০২৫-২০২৯ – এর মধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের অতিরিক্ত ১১ হাজার ৮২৮.৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে এই ৫টি আইআইটি বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ১১১-র তুলনায় ১৩ হাজার ৬৮৭ জন ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে পারবে। অর্থাৎ, বৃদ্ধির সংখ্যা ৬ হাজার ৫৭৬।

  • আইআইএম২০১৪’য় ১৩টি ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) ছিল। ২০২৫ – এর জুনের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১।

  •                                  
  • চিকিৎসা শিক্ষায় বৃদ্ধি২০১৪ থেকে এইমস্‌ – এর সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ (জুন, ২০২৫), প্রায় তিন গুণ।

  • বিদ্যালয়ের উন্নীতকরণ১৪ হাজার ৫০০টি বিদ্যালয়ের উন্নীতকরণ হয়েছে পিএম শ্রী (পিএম স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া) যোজনায়।

  • একলব্য মডেল স্কুল ইনিশিয়েটিভইএমআরএস – এর লক্ষ্য দুর্গম স্থানে তপশিলি উপজাতির জন্য গুণমানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। এগুলি পরিচালনা করে উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশনাল এডুকেশন সোস্যাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস্‌ (এনইএসটিএস)। চালু একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল (ইএমআরএস) – এর সংখ্যা ২০১৩-১৪’য় ১২৩ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ এ হয়েছে ৪৭৭।

                            

                                         

                             

                       

শিক্ষা পরিকাঠামো এবং ্যাঙ্কিং  এর উন্নতি

হায়ার এডুকেশন ফান্ডিং এজেন্সি (এইচইএফএ) এবং ওয়ার্ল্ড ক্লাস ইন্সটিটিউশনস্‌ স্কিম – এর মতো ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষায় উৎকর্ষ আনতে সাহায্য করেছে। ইন্সটিটিউশন অফ এমিনেন্স (আইওই) – এর মর্যাদা, বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং – এ ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, আইআইটি-র মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সম্প্রসারণ ঘটিয়ে জাঞ্জিবার এবং আবুধাবিতে আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস স্থাপন, উচ্চতর শিক্ষা এবং উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার ভারতের লক্ষ্যের প্রতিফলন।

  • ২০১৭’য় সরকার হায়ার এডুকেশন ফান্ডিং এজেন্সি (এইচইএফএ) স্থাপন করে বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করতে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঋণ দেওয়ার জন্য। এ পর্যন্ত ৪৩০২৮.২৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদিত হয়েছে ১০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য। এর মধ্যে ২১০৫৯০.৫৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

  • ২০১৭’র ওয়ার্ল্ড ক্লাস ইন্সটিটিউশন স্কিম শুরু হয় ভারতে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যয় সাশ্রয়কারী বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে। ১২টি (৮টি সরকারি এবং ৪টি বেসরকারি) প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ল্ড ক্লাস ইন্সটিটিউশন স্কিম – এ ইন্সটিটিউশনস অফ এমিনেন্স (আইওই) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

  • গ্লোবাল ইনোভেশন ইন্ডেক্স (জিআইআই) – এ ভারতের অবস্থান ঊর্ধ্বমুখী, ২০১৪’র ৭৬ থেকে ২০২৪ – এ ৩৯ হয়েছে।

  • ৫৪টি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং – এ স্থান পেয়েছে। ২০১৫’র ১৩তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ২০২৫ – এ ৪৬তম স্থানে।

  • জাঞ্জিবারে আইআইটি মাদ্রাজ ক্যাম্পাস এবং আবুধাবিতে আইআইটি দিল্লি ক্যাম্পাস।

এক নতুন ভারতের জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্র গঠন

ভারত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে রূপান্তরকারী তরঙ্গের সাক্ষী থেকেছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে, যেমন –  পরিবহণ এবং ফরেন্সিক সায়েন্স থেকে কোয়ান্টাম টেকনোলজি ও ডিজিটাল এডুকেশন – এ অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে ওঠার মাধ্যমে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি দেশের উদ্ভাবন, শিল্প সহযোগিতা এবং জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্রের বিশ্ব নেতৃত্বে পৌঁছনোর প্রয়াসের প্রতিফলন।

গতিশক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

গতিশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জিএসভি), পরিবহণ ও লজিস্টিক্স ক্ষেত্রে ভারতের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, স্থাপিত হয় ২০২২ – এর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধনী) ২০২২ আইনের মাধ্যমে, যা সংসদে পাশ হয়েছিল ২০২২ – এর অগাস্টে। ভারত সরকারের রেল মন্ত্রকের অধীনে এই বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুরু করে ২০২২ – এর ৬ ডিসেম্বর।

এই বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৩ – এর সেপ্টেম্বরে এয়ার বাসের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে। এই মউ – এ নজর দেওয়া হয়েছে আকাশপথ ও উড়ান ক্ষেত্রের জন্য শিক্ষাক্রম তৈরি, এইসব পাঠ্যক্রম পরিচালনা করার জন্য উপযুক্ত সাহায্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষা জগতের সঙ্গে যোগাযোগ, সিম্পোসিয়াম, কর্মশালা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজন ও যৌথ গবেষণার উপর। এছাড়া মউ অনুযায়ী, শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করা হবে এবং ছাত্রছাত্রীদের এয়ার বাস বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষা কর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং প্রশাসনিক কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক আদান-প্রদান হবে। প্রতিভাধর এবং দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।

ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি (আইআইসিটি)

ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি (আইআইসিটি), মুম্বাইয়ে স্থাপিত একটি ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, চক্রাকার অর্থনীতির জন্য সক্ষমতা বর্ধনে একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে চলেছে। শুধুমাত্র এভিজিসি – এক্সআর ক্ষেত্রের জন্য স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে ওয়েভস ২০২৫ – এর তৃতীয় দিনে। ওয়েভেস – এ দেখা গেছে, এমই ক্ষেত্রে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইআইসিটি-কে রূপান্তর করতে শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে কৌশলগত মউ স্বাক্ষর। যেসব কোম্পানী দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, সেগুলি হ’ল – জিও স্টার, অ্যাডোব, গুগল, ইউটিউব, মেটা, ওয়াকম, মাইক্রোসফট্‌ এবং এনভিডিয়া।

ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি

এক সময়ের গুজরাট ফরেন্সিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (জিএফএসইউ), যা বর্তমানে ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, (এনএফএসইউ) সেটি হ’ল বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ফরেন্সিক সায়েন্স এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ানো হয়। দেশের সব জায়গায় গুণমানসম্পন্ন ফরেন্সিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত কর্মী পেতে ২০২০’তে সংসদে আইনের মাধ্যমে এটি স্থাপিত হয়েছিল। এনএফএসইউ – এর সদর দপ্তর গুজরাটের গান্ধীনগরে। এটি কাজ করে অফ ক্যাম্পাস এবং বিভিন্ন নথিভুক্ত কলেজের মাধ্যমে, যেগুলি স্থাপিত হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা, সুগম স্থান এবং রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের আগ্রহ ইত্যাদির মতো বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে।

নালন্দার পুনর্জন্ম: পুনরায় শিক্ষায় উৎকর্ষ লাভের  উদ্দেশে ভারতের যাত্রা

           

ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্য বিহারে রাজগির শহরে অবস্থিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, একটি স্নাতকোত্তর গবেষণা – নিবিড় আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিল ২০১০ – এর ২৫ নভেম্বর। এর লক্ষ্য ছিল – প্রাচীন নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন, বিশ্বের প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা সচল ছিল পঞ্চম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত।

২০২৪ সালের জুন মাসে বিহারের রাজগিরে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছে ভারত ও ইস্ট এশিয়া সামিট (ইএএস) দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে।

ক্যাম্পাসটি ‘নেট জিরো’ সবুজ ক্যাম্পাস। এটি স্বনির্ভর – নিজেরই আছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পানীয় জল পরিশোধন কেন্দ্র, বর্জ্য জল পুনর্ব্যবহার করার জন্য রিসাইক্লিং কেন্দ্র, ১০০ একর জুড়ে জলা জায়গা এবং আরও অন্য পরিবেশ-বান্ধব সুযোগ-সুবিধা।

ইতিহাসের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গভীর সম্পর্ক আছে। আসল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল, মনে করা হয় এটি বিশ্বের অন্যতম প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনি কি জানতেন?

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষকে ২০১৬ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যশালী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো।

অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এএনআরএফ)

এএনআরএফ – এর লক্ষ্য, গবেষণা ও উন্নয়নে উৎসাহদান, ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আর অ্যান্ড ডি ল্যাবরেটরিগুলি জুড়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ গড়ে তোলা। জাতীয় শিক্ষা নীতির সুপারিশ অনুযায়ী, দেশে বিজ্ঞান গবেষণায় উচ্চ স্তরে কৌশলগত দিক-নির্দেশ করতে একটি সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে এটিই কাজ করে। শিল্প মহল, শিক্ষা জগৎ এবং সরকারি দপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা এবং বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অতিরিক্ত শিল্প মহল ও রাজ্য সরকারগুলির অংশগ্রহণ ও অবদানের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা তৈরি করাই এর লক্ষ্য।

নতুন সরকারি উদ্যোগ

১. পিএম শ্রী : ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সূচিত পিএম শ্রী কর্মসূচিটি কেন্দ্রীয় উদ্যোগের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৫ বছরের জন্য (২০২২-২৩ থেকে ২০২৬-২৭) ২৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা (কেন্দ্রের অংশ ১৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকা)। এই কর্মসূচির লক্ষ্য – নির্দিষ্ট কয়েকটি স্কুলকে মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০’র সবকটি উপাদান। এই ধরনের স্কুলগুলিতে জোর দেওয়া হবে গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান, সার্বিক উন্নতি এবং একবিংশ শতাব্দীর দক্ষতার উপর পাশাপাশি আশেপাশের স্কুলগুলির জন মেন্টর প্রতিষ্ঠান হিসেবেও কাজ করবে।

২. পিএম বিদ্যালক্ষ্মী : সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, এটা নিশ্চিত করা যে, যেন কোনও ছাত্রছাত্রী আর্থিক সঙ্গতির অভাবে উচ্চ শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। চালু কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া যুবাদের জন্য ২০২৪-২৫ – এর কেন্দ্রীয় বাজেটে উচ্চ শিক্ষায় ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ – এর নভেম্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা “প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালক্ষ্মী” (পিএম বিদ্যালক্ষ্মী) কর্মসূচি অনুমোদন করে। অভাবী মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের গুণমানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ প্রদান নিশ্চিত

করতে 

 

                 

৩. সেন্ট্রাল সেক্টর ইন্টারেস্ট সাবসিডি স্কিম (সিএসআইএস) এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড স্কিম ফর এডুকেশন লোন (সিজিএফএসইএল) : এই কর্মসূচিতে সুদে ভর্তুকি দেওয়া হয় পাঠ্যক্রমের মেয়াদ এবং আরও এক বছরের জন্য ভারতীয় ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশনের মডেল এডুকেশন লোন কর্মসূচিতে তপশিলভুক্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে নেওয়া শিক্ষা ঋণের উপর। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রী, যাদের অভিভাবকের আয় সবমিলিয়ে বার্ষিক ৪.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, তারাই এই ঋণ পেতে পারে।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা : ভারত ৫১টি দেশের সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত আদান-প্রদান/মউ স্বাক্ষর করেছে এবং ইউনেস্কো, ব্রিকস্‌, সার্ক, আসিয়ান ইত্যাদির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে একযোগে কাজ করছে শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা, ছাত্রছাত্রী আদান-প্রদান, শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি প্রসারে। শিক্ষা মন্ত্রক স্টাডি ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচি চালাচ্ছে বিদেশি ছাত্রদের এদেশে এসে ভারতীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়াশোনায় আকর্ষণ বাড়াতে। ভারতীয় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে যৌথ গবেষণাকে উৎসাহ দিতে আরও একটি কর্মসূচি চালাচ্ছে মন্ত্রক। জাতীয় শিক্ষা নীতির সুপারিশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একাধিক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপন করছে।

উপসংহার

একটি জ্ঞান-নির্ভর অর্থনীতি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ভারতের যাত্রাপথে ধারাবাহিকভাবে শক্তি যোগাচ্ছে জোরদার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও দূরদর্শী নীতি সংস্কার। নালন্দার মতো প্রাচীন শিক্ষা কেন্দ্রের পুনর্গঠন থেকে সামনের সারির অত্যাধুনিক উদ্যোগ, দেশ শুধুমাত্র যে তার শিক্ষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করছে তাই নয় – বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন পথও বের করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি জড়িত শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, সৃষ্টিশীল শিল্প, মহাকাশ এবং আদিবাসী উন্নয়নের সঙ্গে। এগুলি শুধুমাত্র একটি কাঠামো নয়, এগুলি প্রগতি, ক্ষমতায়ন এবং সুযোগদানকারী সংস্থা। যেখানে ভারত আগামী দিনের প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, সেটি আত্মনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ভারতের শিলান্যাসও করছে।

SC/AP/SB….

(Backgrounder ID: 154727)  

SOURCE-PIB

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top