Govt Sponsored স্কুলের টিচিং এবং নন টিচিং স্টাফদের সাসপেনশন (Suspension ) এর নিয়মাবলী। অনেক দিন আগে একটি পোস্টে আলোচনা করেছিলাম স্কুলের স্টাফদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশান নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে। সেই পদ্ধতির একটা অংশ হলো সাসপেনশন। আজকে আলোচনা হল সাসপেনশন এর নিয়মাবলী নিয়ে —
—————————————————————————————
১) প্রশ্ন – স্কুলের কোনও স্টাফকে সাসপেন্ড করার অথরিটি কে ?
উত্তর — WBBSE বা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা বোর্ড হলো সাসপেনশন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অথরিটি।
২) প্রশ্ন – কী কী কারনে একজন টিচিং বা নন টিচিং স্টাফ সাসপেন্ড হতে পারেন ?
উত্তর – নিম্নলিখিত কারন গুলিতে একজন টিচিং বা নন টিচিং স্টাফ সাসপেন্ড হতে পারেন —
ক ) অসদাচরণের অভিযোগে।
খ) যদি বোর্ড মনে করে অভিযুক্ত স্টাফ স্কুলে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন বা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন তাহলে।
গ) পুলিশ বা জেল কাস্টডিতে 48 ঘণ্টার বেশি আটকে থাকলে।
৩) প্রশ্ন – সাসপেনশনে থাকাকালীন কী রকম বেতন পাওয়া যায় ?
উত্তর – সাসপেনশনের দিনগুলির জন্য পূর্ণ বেতন পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় Subsistence Allowance। Subsistence Allowance বলতে বোঝায় 90 দিন পর্যন্ত সাসপেন্ড হওয়ার ক্ষেত্রে ঐ দিনগুলির জন্য একজন স্টাফ পাবেন তাঁর বর্তমান বেসিকের (সাসপেনশন এর ঠিক আগের দিনের) অর্ধেক + অর্ধেক বেসিকের উপর DA + Full HRA+ Full MA। আর যদি সাসপেনশন এর দিনসংখ্যা 90 দিন পেরিয়ে যায় তাহলে 90 দিনের পর থেকে ঐ সাসপেন্ডেড স্টাফ পাবেন উক্ত বেসিকের 75% + ঐ 75% বেসিকের উপর DA + Full HRA + Full MA। এখানে মনে রাখতে হবে কোর্ট অর্ডারের বলে এই Subsistence Allowance এর পরিমাণের কম বা বেশি হতে পারে। এখানে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে সাসপেন্ডেড স্টাফ যদি সাসপেনশন এর সময়টাতে অন্য কোনো অর্থ উপার্জন মূলক কাজ করেন তাহলে কিন্তু Subsistence Allowance পাবেন না।
৪) প্রশ্ন – সাসপেনশনে থাকাকালীন কোন কোন বেনিফিট পাওয়া যায় না ?
উত্তর – সাসপেন্ড হয়ে থাকাকালীন পাওয়া যায় না অ্যানুয়াল ইনক্রিমেন্ট, 10/ 18/20 বছরের বেনিফিট, এই সময়ের মধ্যে কোনও ROPA লাগু হলে তার সুবিধা, নতুন ঘোষিত DA সহ অন্যান্য সুবিধা , ফাইন্যাল পেনশন, গ্রাচুইটি ইত্যাদি।
৫) প্রশ্ন – সাসপেন্ড থাকা অবস্থায় PF কাটা যায় ? এমসি গঠনের ইলেকশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ভোট দান করা যায় ?
উত্তর – হ্যাঁ। যায়।
৬) প্রশ্ন – উপরের ১ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হলো সাসপেন্ড করার অথরিটি হলেন WBBSE। আবার ২ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে যে কী কী কারনে একজন স্টাফ সাসপেন্ড হবেন। তাহলে কোনো স্টাফ ঐ সমস্ত অভিযোগে অভিযুক্ত হলে হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ কী করবে ?
উত্তর – কোনও স্টাফ যদি গেজেট নোটিফিকেশন মেমো নং 214 SE, তারিখ 08/03/2018 তে উল্লেখিত কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গ করেন তাহলে স্কুল কর্তৃপক্ষ এমসি রেজোলিউশন , অভিযোগের প্রমাণ এবং HOI Forwarding Letter দিয়ে বোর্ডের কাছে সরাসরি আবেদন করবেন তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশান নেওয়ার জন্য। এই চিঠির একটা forwarded copy কপি দেবেন ডি আই কে। আর একটা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে। এরপর চুপচাপ থাকবেন। যেমন সব কিছু চলছে তেমনই চলতে দেবেন। প্রয়োজনে বোর্ডকে রিমাইন্ডার দেবেন। এরপর বোর্ড ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিংস শুরু করবে। তারাই সব কিছু করবে। প্রয়োজনে তারাই সাসপেনশন অর্ডার জারি করবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কিছু করণীয় নাই। ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিংস কীভাবে নেওয়া হয় সেটা নিয়ে আমার ডিটেইলস পোস্ট আছে। দেখতে পারেন।
৭) প্রশ্ন – উপরে বলা হয়েছে কোনো স্টাফ যদি অ্যারেস্ট হওয়ার পর 48 ঘণ্টার বেশি পুলিশ বা জেল কাস্টডিতে থাকেন তাহলে তিনি সাসপেন্ড হবেন। তাহলে এরকম খবর স্কুল কী ভাবে পাবে ? এরকম খবর পেলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কী করণীয় ?
উত্তর – কোনও স্টাফ অ্যারেস্ট হলে সাধারনত পুলিশ থেকেই স্কুলকে লিখিতভাবে ইন্টিমেশান দিয়ে দেয়। যদি অ্যারেস্ট হওয়ার পর পুলিশ বা কোনো Govt Officer এর কাছ থেকে লিখিত intimation পান তবেই স্কুল কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করবেন। নাহলে কিছু করার দরকার নেই। এরকম intimation পেলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটা 24 ঘন্টার নোটিশে ইমার্জেন্সী মিটিং ডেকে রেজোলিউশন করবেন। সেই রেজোলিউশনেই HOI কে দায়িত্ব দেওয়া হবে ব্যাপারটা বোর্ডকে দ্রুত জানাতে যাতে বোর্ড স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর গেজেট নোটিফিকেশান মেমো নং 214 SE, তারিখ – 08/03/2018 অনুযায়ী সাসপেনশন অর্ডার জারি করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়। বোর্ড থেকে সাসপেনশন অর্ডার আসতে দেরি হতে পারে। তাই ঐ অ্যারেস্ট হওয়ার দিনগুলিতে অ্যাটেনডেন্স খাতায় ঐ স্টাফের অ্যাটেনডেন্স এর জায়গায় “In Custody” লিখে রাখবেন HOI। পরে যখন বোর্ড থেকে সাসপেনশন অর্ডার আসবে তখন তার পাশে “Suspended” লিখে দেবেন। যদি সেই মাসের স্যালারি রিকুইজিশন ইতিমধ্যেই করা হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে ঠিক আছে। কিছু করার দরকার নেই। পরে যখন বোর্ড থেকে সাসপেনশন অর্ডার আসবে তখন ঐ দিনগুলির জন্য Subsistence Allowance বাদ দিয়ে বাকি টাকা TR 7 এ ফেরত দিতে বলতে হবে সংশ্লিষ্ট স্টাফকে। আর যদি তখনও রিকুইজিশন না করা হয় তাহলে ঐ দিনগুলির জন্য উইদাউট পে করে বেতন সাবমিট করাই ভালো। পরে সাসপেনশন উইথড্র হয়ে গেলে বা অভিযুক্ত স্টাফ আদালতের রায়ে খালাস হয়ে গেলে এবং তারপর বোর্ড বা অন্য কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পেলে ঐ দিনগুলির জন্য প্রাপ্য বেতন Arrear হিসাবে পেয়ে যাবেন ঐ স্টাফ।
৮) প্রশ্ন – একজন সাসপেন্ডেড কর্মীর সাসপেনশন কখন উঠে যাবে ?
উত্তর – উপরে দুই নং প্রশ্নের উত্তরে (ক) এবং (খ) পয়েন্টের কারনে যদি কোনো স্টাফ সাসপেন্ড হন এবং প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পর 90 দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যদি ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিংস শুরু না হয় তাহলে Suspension উঠে যাবে। আবার যদি (গ) এর কারনে সাসপেন্ড হওয়ার পর ঐ স্টাফ জামিনে মুক্ত হন তাহলে কাস্টডিতে থাকার জন্য তাঁর যে সাসপেনশন হয়েছিল সেটা উঠে যাবে। অর্থাৎ জামিনের সঙ্গে সঙ্গে সাসপেনশন উঠে যাবে। তবে এই ব্যাপারে বোর্ড থেকে অর্ডার আসতে হবে।
৯) প্রশ্ন – উপরের কারনে কোনো স্টাফের সাসপেনশন উঠে যাওয়ার অর্ডার কে জারি করবেন ? এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ?
উত্তর – সাসপেনশন এর অর্ডার যেমন বোর্ড জারি করবে। সাসপেনশন উঠে যাওয়ার নির্দেশও বোর্ড থেকেই আসতে হবে। উপরে উল্লেখিত কারনে কোনো সাসপেন্ডেড কর্মীর সাসপেনশন উঠে যাওয়ার অধিকার জন্মালে স্কুল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে তাকে জয়েন না করালেই ভালো করবেন। এরকম পরিস্থিতিতে একটা এমসি Resolution করে জামিন পাওয়ার কোর্ট অর্ডার বা অন্যান্য প্রমাণ দিয়ে বোর্ডে Intimation পাঠাবেন এবং সাসপেনশন তুলে নেওয়ার অর্ডার জারি করতে অনুরোধ করবেন বোর্ডকে। সেই সঙ্গে বোর্ডের কাছে জানতে চাইবেন এমতাবস্থায় ঐ স্টাফকে স্কুলের ডিউটিতে যোগদান করানো যাবে কি না। এর একটা কপি দেবেন ডি আই কে। বোর্ড যতদিন না কোনো নির্দেশ দিচ্ছে ততদিন ঐ স্টাফকে যোগদান করানোর দরকার নেই। বোর্ডের পারমিশন পেলে যোগদান করাবেন। যোগদান করাতে দেরী হওয়ার কারনে প্রয়োজনে Arrear Claim করবেন। অবশ্য যদি কোর্ট অর্ডারে বলা থাকে যে ঐ স্টাফ স্কুলে যেতে পারবেন না তাহলে ততদিন কোনও ভাবেই তাঁকে জয়েন করানো যাবে না। আবার যদি ঐ স্টাফ কোর্ট থেকে অর্ডার নিয়ে আসেন যে তাঁকে অবিলম্বে জয়েন করাতে হবে তাহলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে জয়েন করিয়ে নেবেন এবং সেই কোর্ট অর্ডার দিয়ে সেই ব্যাপারে বোর্ডকে একটা Intimation দেবেন। কপি দেবেন ডি আই কে।
১০) প্রশ্ন – কোর্টের অর্ডারে বেকসুর খালাস হয়ে যাওয়ার পর ঐ স্টাফের চাকরিতে পুনর্বহাল (Reinstatement) কী ভাবে হবে? সাসপেনশন এর সময়টা কি সার্ভিসের অংশ হিসাবে ধরা হবে ? এই অনুযায়ী কি Arrear Claim এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে কি নতুনভাবে Pay Fixation করতে হবে ?
উত্তর – স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর নির্দেশ মতো বোর্ড মনে করলে সাসপেনশন এর সময়টাকে ডিউটির মধ্যে ধরার জন্য অর্ডার জারি করতে পারে। সেক্ষেত্রে সাসপেনশন এর সময়টাও যোগ্য সার্ভিসের (Qualifying Service) মধ্যে ধরে ঐ সময়টার জন্য সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। আবার যদি ডিপার্টমেন্টের নির্দেশে বোর্ড অর্ডার দেয় যে সাসপেনশন এর সময়টা ডিউটির মধ্যে ধরা হবে না তাহলে কিন্তু সাসপেনশন এর সময়টাকে উইদাউট পে লিভ হিসাবে গন্য করতে হবে এবং ঐ সময়টা যোগ্য সার্ভিসের ( কোয়ালিফাইং সার্ভিস) সময় থেকে বাদ যাবে । এবং সেই অনুযায়ী বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য বেনিফিট নির্ধারিত হবে। এই ব্যাপারে Appellate Authority অর্থাৎ কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন এর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। বোর্ড সেটাকেই মান্যতা দেবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। উক্ত উচ্চতর কর্তৃপক্ষদের নিকট থেকে এই ব্যাপারে যেমন নির্দেশ আসবে স্কুল কর্তৃপক্ষ সেটাই করবেন।
১১) প্রশ্ন – উপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেল যে একজন কর্মী জামিনে থাকলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অর্ডারের বলে চাকরিতে পুনর্বহাল হয়ে স্বাভাবিক ডিউটি করতে পারবেন। তিনি যদি অভিযোগ মুক্ত হয়ে যান তাহলে তো সবই ফিরে পাবেন। কিন্তু তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত ( Convicted) হয়ে যান তাহলে কী হবে ? এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের কী করণীয় ?
উত্তর – কোনও স্টাফ যদি কোর্টের রায়ে Convicted বা দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাঁর জেল হয়ে যায় তাহলে কিন্তু তাঁর চাকরি যাবে। এরকম খবর পেলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ঐ স্টাফের স্কুলে আসা বন্ধ করে দেবেন। এমসি রেজোলিউশন এবং ঐ কোর্ট অর্ডারের কপি দিয়ে HOI ব্যাপারটা বোর্ডকে দ্রুত জানিয়ে দেবেন। কপি দেবেন ডি আই কে। বোর্ড স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর অনুমোদন সাপেক্ষে ঐ স্টাফের সার্ভিস terminate করে দেবে বা অন্য কোনো নির্দেশ জারি করবে। বোর্ড থেকে যেমন অর্ডার পাবেন স্কুল কর্তৃপক্ষ সেটাই ফলো করবেন।
১২) প্রশ্ন – সাসপেন্ডেড টিচার তাঁর প্রতি অবিচার হয়েছে মনে করলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন ?
উত্তর – তিনি অভিযোগ জানাতে পারেন Appellate Authority এর কাছে। Appellate Authority হলেন কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন।
SOURCE-SMR



