সপ্তম শ্রেণির ভূগোল

দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-১

Class 7 Geography

2nd Unit Test Question Paper Set-1 wbbse

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 7 (VII) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER

Set-1

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
সপ্তম শ্রেণি
বিষয় : ভূগোল

পূর্ণমান-৫০                 সময় : ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১x১০=১০

১.১ নীলনদের দৈর্ঘ্য—
(ক) ৬৫৬০ কিমি. (খ) ৬৬০০ কিমি.
(গ) ৬৬৫০ কিমি. (ঘ) ৬৭০০ কিমি.

উত্তরঃ (গ) ৬৬৫০ কিমি।

১.২ নিম্নপ্রবাহে নদীর মূল কাজ—
(ক) ক্ষয় (খ) বহন (গ) সঞ্চয় (ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (গ) সঞ্চয়।

১.৩ মরুভূমির উটের দলকে বলে—
(ক) মরূদ্যান (খ) তুয়ারেগ (গ) ক্যারাভান (ঘ) মরুভ্যান

উত্তর (গ) ক্যারাভান।

১.৪ যেসব অঞ্চল শক্ত পাথরে ভর্তি, বালির অস্তিত্ব চোখেই পড়ে না, তাহল—
(ক) হামাদা (খ) আর্গ (গ) ওয়াদি (ঘ) রেগ

উত্তরঃ (ক) হামাদা।

১.৫ আগ্নেয় শিলার উদাহরণ—
(ক) চুনাপাথর (খ) মারবেল (গ) ব্যাসল্ট
(ঘ) বেলেপাথরের

উত্তরঃ (গ) ব্যাসল্ট।

১.৬ হিমালয় একটি—
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (খ) স্তূপ পর্বত
(গ) আগ্নেয় পর্বত (ঘ) ক্ষয়জাত পর্বত

উত্তর (ক) ভঙ্গিল পর্বত

১.৭ পৃথিবীবিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতটি সৃষ্টি হয়েছে __________ নদীর গতিপথে।
(ক) নীলনদে (খ) নাইজারে
(গ) নাইজার (ঘ) জাম্বেসি

উত্তর (ঘ) জাম্বেসি।

১.৮ নিরক্ষীয় অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে—
(ক) নিম্নচাপ বলয় (খ) উচ্চচাপ বলয়
(গ) ঊর্ধ্বচাপ বলয় (ঘ) সমচাপ বলয়

উত্তর (ক) নিম্নচাপ বলয়।

১.৯ ভূ-পৃষ্ঠে বায়ুর চাপ পরিলক্ষিত হয়—
(ক) একমুখী (খ) উভমুখী (গ) সর্বমুখী
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর (গ) সর্বমুখী।

১.১০ আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে–
(ক) সাহারা মরুভূমি অবস্থিত
(খ) নামিব মরুভূমি অবস্থিত
(গ) নুবিয়ান মরুভূমি অবস্থিত
(ঘ) সোনেরান মরুভূমি অবস্থিত

উত্তর(খ) নামিব মরুভূমি অবস্থিত

২। একটি বা দুটি কথায় উত্তর দাও: ১x১০=১০

২.১ পৃথিবীর সবথেকে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ কী ?

উত্তরঃ মাউন্ট এভারেস্ট।

২.২ ‘পৃথিবীর ছাদ’ কাকে বলা হয় ?

উত্তরঃ পামির মালভূমি।

২.৩ ভারতে অবস্থিত একটি স্তূপ পর্বতের নাম লেখো।

উত্তরঃ সাতপুরা।

২.৪ নীলনদের তীরে কোন্ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ?

উত্তরঃ মিশরীয় সভ্যতা।

২.৫ দুটি আগ্নেয় পর্বতের নাম লেখো।

উত্তরঃ ভারতের ব্যারেন, জাপানের ফুজিয়ামা।

২.৬ কোন্ শিলায় একমাত্র জীবাশ্ম দেখা যায় ?

উত্তরঃ পাললিক।

২.৭ ইস্পাত কারখানায় কোন্ পাথর ব্যবহার করা হয় ?

উত্তরঃ চুনাপাথর।

২.৮ দাক্ষিণাত্যের মালভূমি কী ধরনের মালভূমির উদাহরণ ?

উত্তরঃ লাভা মালভূমি।

২.৯ তাজমহল কোন্ শিলা দিয়ে তৈরি হয়েছে ?

উত্তরঃ রূপান্তরিত শিলা (মার্বেল)।

২.১০ মাউন্ট তৌবকল কোন্ পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ?

উত্তরঃ এটলাস।

২.১১ কাকে ‘নীলনদের দান’ বলা হয় ?

উত্তরঃ মিশর।

৩. সংক্ষেপে উত্তর দাও : ২x৪=৮

(ক) ‘টেবিলল্যান্ড’ কাকে ও কেন বলে ?

উত্তরঃ মালভূমির উপরিভাগ টেবিলের মতো সমতল হয় ও চারপাশটা টেবিলের পায়ার মতো ঢালু এবং খাড়া থাকে। সেজন্যই মালভূমিকে টেবিলল্যান্ড বলা হয়।

অথবা, জলপ্রপাত কাকে বলে ?

উত্তরঃ নদীর গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা আনুভূমিকভাবে অবস্থান করলে নদী নরম পাথরকে বেশি ক্ষয় করে, তাই শক্ত ও নরম পাথরের মধ্যে ধাপের সৃষ্টি হয়। তখন নদী শক্ত পাথরের উপর থেকে নীচে নরম পাথরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একে জলপ্রপাত বলে।

(খ) আর্গ কাকে বলে ?

উত্তরঃ সাহারা মরুভূমি অঞ্চলে বালির স্তূপ জমা হয়ে ছোটো পাহাড়ের মতো তৈরি করে একে আর্গ বলে।

অথবা, ক্যারাভান কাকে বলে ?

উত্তরঃ উট সাহারার অধিবাসীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। মরুভূমিতে দল বেঁধে যখন উট চলে তখন সেই উটের দলকে ক্যারাভ্যান বলে।

(গ) লাভাগঠিত মালভূমি কাকে বলে ?

উত্তরঃ অনেক সময় ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ভূত্বকের কোন ফাটল বা দুর্বল অংশের মধ্যে দিয়ে নির্গত হয়ে ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে সঞ্চিত হয় এবং ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা ও কঠিন হয়ে মালভূমি সৃষ্টি করে। একে লাভাগঠিত মালভূমি বলে।

অথবা, ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে ?

উত্তরঃ বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে প্রাচীন মালভূমি ও উচ্চভূমির কোমল শিলাস্তর ক্ষয় পায় এবং অপসারিত হয়, ফলে মালভূমির মাঝের কঠিন শিলাস্তর পাহাড় রূপে অবস্থান করে। এই মালভূমির মধ্যে দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে পাহাড়গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এইভাবে বিভিন্ন নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন মালভূমিকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে। যেমন : ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি।

(ঘ) ধারণ অববাহিকা কাকে বলে ?

উত্তরঃ ছোট ছোট অসংখ্য জলধারার মিলনের ফলে একটি বড়ো নদীর সৃষ্টি হয়। মূলত পার্বত্য অঞ্চলের যে অংশে বরফ গলা বা বৃষ্টির জল দ্বারা সৃষ্ট ছোট ছোট নদী গুলি প্রবাহিত হয়ে পর্বতের পাদদেশে এসে একত্রে মিলিত হয়, সেই পার্বত্য অংশকে নদীর ধারণ অববাহিকা বলে।

অথবা,জলবিভাজিকা বলতে কী বোঝ‌ ?

উত্তরঃ পার্বত্য অঞ্চলের যে উঁচু ভূভাগ বা পর্বতের চূড়া দুটি ধারণ অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে।

৪। টীকা লেখো (যে-কোনো চারটি) : ৩×৪=১২

(ক) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ

ANS-অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Oxbow Lake) হলো নদীর একটি বিশেষ ধরনের বাঁক যা মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো আকৃতির হ্রদ তৈরি করে।এটি নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের ফলে সৃষ্টি হয়।

অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Oxbow Lake) কিভাবে গঠিত হয় তার একটি বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. নদীর বাঁক: নদী যখন সমতল ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার গতিপথে বাঁক তৈরি হয়। এই বাঁকগুলি সময়ের সাথে সাথে আরো বেশি W আকৃতির হতে থাকে।

২. নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয়: নদীর স্রোত বাইরের দিকে বেশি ক্ষয় করে এবং ভেতরের দিকে সঞ্চয় করে। এই কারণে নদীর বাঁকগুলি আরো বেশি W আকৃতির হতে থাকে।

৩. বাঁকগুলির মিলন: যখন দুটি W আকৃতির বাঁক পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসে, তখন নদীর মূল স্রোত সোজা পথ ধরে প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং দুটি W আকৃতির বাঁক মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

৪. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ গঠন: মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বাঁকগুলি ঘোড়ার ক্ষুরের মতো দেখতে একটি হ্রদ তৈরি করে, যা অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নামে পরিচিত।

উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী নদীর প্রবাহপথে এরকম অনেক অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়, উইকিপিডিয়া অনুসারে।

(খ) পাললিক শিলা

ANS-পাললিক শিলা হল এক প্রকারের শিলা যা পৃথিবীর পৃষ্ঠে বা কাছাকাছি পলি জমা হয়ে এবং পরবর্তীতে সিমেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। 

এই পলিগুলি মূলত খনিজ পদার্থ বা জৈব পদার্থের কণা দিয়ে তৈরি হয় যা নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়। 

পাললিক শিলার প্রকারভেদ: 

ক্ল্যাস্টিক পাললিক শিলা:
এই শিলাগুলি অন্যান্য শিলার টুকরো, যেমন বালি, নুড়ি ইত্যাদি একসাথে জমা হয়ে গঠিত হয়।
জৈব পাললিক শিলা:
এই শিলাগুলি উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয়, যেমন কয়লা ও চুনাপাথর।
সাধারণ পাললিক শিলার উদাহরণ: বেলেপাথর, চুনাপাথর, শেল, কয়লা, সমষ্টি. 

পাললিক শিলা গঠনের প্রক্রিয়া:
বৃষ্টি, বাতাস, বা বরফের মাধ্যমে শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোট ছোট কণা তৈরি করে। 

এই কণাগুলি নদী বা বাতাসের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে হ্রদ বা সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়। 

জমা হওয়া পলিগুলি ধীরে ধীরে সংকুচিত ও সিমেন্টযুক্ত হয়ে পাললিক শিলা গঠন করে। 

পাললিক শিলা পৃথিবীর ভূত্বকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি পৃথিবীর ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধারণ করে, যেমন জীবাশ্ম। 

(গ) ওয়াদি ও হামাদা

ANS-মরু অঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের ফলে সাময়িক জলধারার সৃষ্টি হয়। এই জলধারার সাথে বালি, কাঁকর, কাদা প্রভৃতি কর্দমধারা রূপে প্রবাহিত হয়; কিন্তু খুব দ্রুত এই কর্দমধারার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় ও নদীখাত শুষ্ক অবস্থায় পড়ে থাকে । মরু অঞ্চলে অবস্থিত এরকম শুষ্ক নদীখাতগুলি ওয়াদি নামে পরিচিত ।

হামাদা হল এক ধরনের মরুভূমির ল্যান্ডস্কেপ, যা পাথুরে মালভূমি দ্বারা গঠিত ।এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ক্ষয়কার্যের ফলে বালি অপসারণের মাধ্যমে তৈরি হয় এবং সাহারা মরুভূমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে বিস্তৃত। উইকিপিডিয়াতে এটিকে পাথুরে মরুভূমিও বলা হয়।

(ঘ) স্তূপ পর্বত

ANS- স্তূপ পর্বত (Block Mountains)হল সেই পর্বত যা ভূ-আলোড়ন (tectonic activity) এর ফলে সৃষ্ট ফাটল বা চ্যুতির কারণে গঠিত হয়। যখন দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী ভূমি উপরে উঠে আসে এবং পার্শ্ববর্তী ভূমি নিচে বসে যায়, তখন স্তূপ পর্বত গঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের সাতপুরা পর্বত, ফ্রান্সের ভোজ পর্বত এবং জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট স্তূপ পর্বত এর উদাহরণ। উইকিপিডিয়া অনুসারে আরও বিস্তারিতভাবে, স্তূপ পর্বতগুলি সাধারণত দুটি চ্যুতির (faults) মধ্যে থাকা ভূমি যখন উপরে উঠে আসে তখন গঠিত হয়। এই ধরনের পর্বতগুলি তাদের বৈশিষ্ট্যগতভাবে খাড়া ঢাল এবং মসৃণ চূড়া দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

(ঙ) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি

 

ANS-পর্বতবেষ্টিত মালভূমি হল এমন একটি মালভূমি যা চারপাশে পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত।
এই ধরনের মালভূমি সাধারণত দুটি পর্বতশ্রেণী বা পর্বত ব্যবস্থার মাঝে অবস্থিত থাকে এবং ভূমি আলোড়নের কারণে গঠিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, তিব্বতের মালভূমি এবং ইরানের মালভূমি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির ভালো উদাহরণ। এই মালভূমিগুলি চারদিক থেকে পর্বত দ্বারা ঘেরা থাকার কারণে এদের এমন নামকরণ করা হয়েছে।

৫। নীচের প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : ৫×২=১০

(ক) নদীর উচ্চ প্রবাহ এবং নদীর কার্যের ফলে সৃষ্ট যে-কোনো একটি ভূমিরূপের পরিচয় দাও। (ছবিসহ) ৫

উত্তরঃ ভূগোল বই ৫৪ পৃষ্ঠা।

(খ) মাটির সৃষ্টি নিয়ন্ত্রক সম্পর্কে লেখ। ৫

উত্তরঃ ভূগোল বই ৬৩ পৃষ্ঠা।

অথবা, নীল নদের গতিপথ বর্ণনা বর্ণনা কর।

উত্তরঃ ভূগোল বই ১০৬ পৃষ্ঠা।

SOURCE-HZN

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top