অষ্টম শ্রেণি বাংলা 

সাহিত্য মেলা

জেলখানার চিঠি প্রশ্ন উত্তর

 

Jelkhanar Chithi Question Answer

Class 8 Bengali West Bengal Board
জেলখানার চিঠি
—সুভাষচন্দ্র বসু

 

সাহিত্য মেলা
অষ্টম শ্রেণির বাংলা

সূচিপত্র:

ক)লেখক পরিচিতি 

খ) উৎস

গ) বিষয়সংক্ষেপ 

ঘ) নামকরন

ঙ) হাতেকলমে সমাধান 

চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) 

 

ক)লেখক পরিচিতি:

 সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জানকীনাথ বসু এবং মাতা প্রভাবতী দেবীর চোদ্দো সন্তানের মধ্যে নবম সন্তান হলেন সুভাষচন্দ্র। সুভাষচন্দ্র কটকের একটি ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করার পর র‍্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে ভরতি হন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতা থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাস করেন। এই পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে বি.এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আই.সি.এস পরীক্ষার জন্য মাত্র ছয় মাস পড়াশোনা করেই সুভাষচন্দ্র এই পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।ছোটোবেলা থেকেই দেশের প্রতি সুভাষের গভীর শ্রদ্ধা ছিল। অত্যাচারী ইংরেজ শাসনের অধীনে চাকরি গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতার মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। চিত্তরঞ্জন দাশ মেয়র থাকাকালীন তাঁর অধীনেও কাজ করেছেন তিনি। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই সুভাষচন্দ্র রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, মিটিং-মিছিলে যোগদান করেন এবং ‘স্বরাজ পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। দেশদ্রোহের অভিযোগে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে বার্মার মান্দালয় জেলে পাঠানো হয়।১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে দেশ ছাড়ার আগে রাজনীতি করার অপরাধে তাকে মোট ১১ বার গ্রেফতার করা হয়। দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে দেশত্যাগ করে তিনি জার্মানি চলে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের ‘নেতাজি’ হয়ে ওঠেন। দেশের বাইরে থেকেও নানান বিদেশি শক্তির সাহায্যে দেশকে স্বাধীন করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করেন সুভাষচন্দ্র।

দেশকে স্বাধীন করতে না পারলেও সুভাষের আক্রমণাত্মক এবং সাংগঠনিক শক্তির জোরেই টলে ওঠে ব্রিটিশ শাসন। এই মহান মানুষটির শেষজীবন সম্বন্ধে আজও আমরা বিশেষ কিছু জানতে পারি না। দেশবাসীর কাছে তাই তিনি চির-অমর। সুভাষচন্দ্র রচিত একটি বাংলা গ্রন্থ হল- ‘তরুণের স্বপ্ন’। ইংরেজি ভাষায় লেখা তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীটির নাম ‘An Indian Pilgrim’।

খ) উৎস:

সুভাষচন্দ্র বসুর রচিত ‘জেলখানা চিঠি’ রচনাংশটি ‘তরুণের স্বপ্ন’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

গ)বিষয়সংক্ষেপ:

 রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে মান্দালয় জেলে থাকার সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু শ্রীদিলীপকুমার রায়কে ‘জেলখানার চিঠি’ শিরোনামে পাঠ্যাংশে প্রদত্ত এই পত্রটি লিখেছিলেন। পত্রের প্রথমেই তিনি দিলীপকুমার রায় মহাশয়ের একই বছরের ২৪ মার্চ তাঁকে লেখা চিঠির কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে,এবার তিনি খুশি।চিঠিতে কথা প্রসঙ্গেই তিনি পরাধীন ভারতবর্ষের কারা শাসন প্রণালীর তুমুল সমালোচনা করে তার দ্রুত সংস্কার দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন,’ভবিষ্যতে কারা সংস্কার আমার একটা কর্তব্য হবে।’ অবিলম্বে ভারতের উচিত ইউনাইটেড স্টেটসের মতো উন্নত দেশগুলির কারা শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করা। সংস্কারমূলক নতুন দণ্ডবিধিকে নেতাজিএই চিঠিতে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,কারাবাসের অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্য অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তুলেছে।

চিঠিতে সুভাষচন্দ্র জানিয়েছেন যে, বন্দিদশা মানুষের মনে একপ্রকার দার্শনিক ভাব শক্তির সঞ্চার করলেও, জেলের পরিবেশ এবং কুশাসন সেই মানসিক উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। লোকমান্য তিলক কারাবাসকালে গীতার আলোচনা লিখতে পেরেছিলেন। আবার এ কথাও সত্যি যে, মান্দালয় জেলে ছ-বছর ধরে বন্দি হয়ে থাকাটাই তাঁর অকালমৃত্যুর কারণ। তা সত্ত্বেও চিঠিতে নেতাজি লিখেছেন যে, জেলের নির্জনতায় মানুষ তার জীবনের চরম সমস্যাগুলি নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখার সুযোগ পায়। তিনিও এভাবেই কারাবাসকালে তাঁর জীবনের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান নিজেই খুঁজে পেয়েছিলেন। নেতাজি জেলজীবনে অপরাধীদের অকালবার্ধক্য রুখতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন,কয়েদিদের শরীর-মন সচল রাখা বিশেষভাবে প্রয়োজন। জেলে বন্দি কয়েদিদের অকালবার্ধক্য ও শরীরের দুর্বলতার জন্য জেলের খারাপ খাদ্য, কয়েদিদের ব্যায়ামের অভাব, প্রকৃত বন্ধুর অভাব প্রভৃতিকেই তিনি দায়ী করেছেন। এজন্য জেলের ভেতরেই পিকনিকের আয়োজন, সংগীতচর্চার ব্যবস্থা, খোলা জায়গায় খেলাধুলার সুযোগ রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হলেই কয়েদিদের সংস্কারসাধন সম্ভব বলে সুভাষচন্দ্র মত প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত তিনি আলিপুর জেলে ইউরোপীয় বন্দিদের জন্য সাপ্তাহিক সংগীতচর্চার বন্দোবস্তের কথাও স্মরণ করেছেন।চিঠিতে নেতাজি সাধারণ অপরাধী ও রাজনৈতিক অপরাধীদের প্রতি জেলের বাইরের সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, অপরাধীদের প্রতি সমাজের আরও সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

চিঠির শেষ অংশে নেতাজি বলেছেন,জেলজীবনে শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক যন্ত্রণাই বেশি। তাঁর মতে, আনন্দস্রোতে পৌঁছোনোর সম্ভাবনা থাকলে দুঃখকষ্টের ছোটো ছোটো স্রোতকে অতিক্রম করে যাওয়ার শক্তি মানুষ যেন কখনোই হারিয়ে না ফেলে। দুঃখযন্ত্রণাই মানুষকে আরও ভালো কাজ করতে এবং সাফল্য লাভে উৎসাহ দেয়। বিনা দুঃখকষ্টে যা লাভ করা যায় তার কোনো মূল্য নেই বলেই মনে করেন তিনি।

পরিশেষে শ্রীদিলীপকুমার রায়ের পাঠানো বইগুলির প্রশংসা করে নেতাজি জানিয়েছেন যে, সেই বইগুলি বন্দিদের অনেকেই নিয়ে পড়ছেন। তাই সেগুলি তখনই তিনি ফেরত পাঠাতে পারছেন না।এমনকি এরকম সুন্দর বই আরও কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি তাঁর চিঠিটি শেষ করেছেন।

ঘ)নামকরণ:

নামকরণের মাধ্যমেই পাঠক ওই সাহিত্যের বিষয় সম্পর্কে আগাম ধারণা পায়। আলোচ্য পত্রটি মান্দালয় জেলে রাজনৈতিক বন্দি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে লিখেছিলেন। এতে রাজনৈতিক বন্দিদের ঘিরে জেলের ভিতরে সতর্কতা ও সাবধানতার কথা,পরাধীন ভারতবর্ষে জেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা, কারা-শাসন প্রণালীর ত্রুটির কথা এবং জীবনে বন্দিদশার নানান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা পত্রলেখক আলোচনা করেছেন। সুভাষচন্দ্র জানিয়েছেন, জেলের অভিজ্ঞতা থেকে নানারকম চিন্তা তাঁর মনে আসে। তিনি লিখেছেন-‘সে সম্বন্ধে পাতার পর পাতা লিখে যেতে পারি কিন্তু একটা চিঠির তো শেষ আছে।’ কারা শাসনপ্রণালী এবং কারাজীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে জেলখানা থেকে লেখা এই চিঠিটির নামকরণ ‘জেলখানার চিঠি’ সার্থক ও যথার্থ হয়েছে।

ঙ) হাতেকলমে সমাধান: 

১)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

১.১)সুভাষচন্দ্র বসু প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন কেন?

উত্তর: ভারতবিদ্বেষী ইংরেজ অধ্যাপক ওটেনকে প্রহারের অভিযোগে সুভাষচন্দ্র বসু প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন

১.২) রাসবিহারী বসুর কাছথেকে তিনি কোন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন ?

উত্তর:রাসবিহারী বসুর কাছ থেকে সুভাষচন্দ্র বসু ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

 

 

২)অনধিক তিনটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

২.১)তোমার পাঠ্য পত্রখানি কে,কোথা থেকে,কাকে লিখেছিলেন?

 উত্তর:আমাদের পাঠ্য পত্রখানির লেখক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনি মান্দালয় জেল থেকে তাঁর বিশেষ অন্তরঙ্গ বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে আলোচ্য পত্রখানি লিখেছিলেন।

২.২) কোন ব্যাপারটিকে পত্রলেখক আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখার কথা বলেছেন ?

উত্তর: সুভাষচন্দ্র বসু মান্দালয় জেলে বন্দি থাকার সময় তাঁকে পাঠানো বন্ধু দিলীপকুমার রায়ের চিঠির উত্তরে আলোচ্য চিঠিটি লিখেছেন। নেতাজির জেলে থাকাটা বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে যে খুবই আঘাত করছে এটা নেতাজি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাঁর কারাবাসের কষ্টটা বড়ো করে না দেখে এই পরিবেশ কোনো মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনা জাগাতেও যে সাহায্য করে, সেই দিকটি দেখার জন্য বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে পরামর্শ দিয়েছেন।

২.৩)বন্দিদশায় মানুষের মনে শক্তি সঞ্চারিত হয় কীভাবে?

উত্তর:মান্দালয় জেল থেকে দিলীপকুমার রায়কে লেখা চিঠিতে সুভাষচন্দ্র জানিয়েছেন যে,বন্দিদশায় সাধারণত একটা দার্শনিক ভাব মানুষের মনে শক্তির সঞ্চার করে।দর্শনশাস্ত্র পাঠের ফলে এই জ্ঞান ও শক্তি সঞ্চারিত হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, ‘মানুষ যদি তার নিজের অন্তরে ভেবে দেখবার যথেষ্ট বিষয় খুঁজে পায়, তাহলে বন্দি হলেও তার কষ্ট নেই।’

২.৪)মান্দালয় জেল কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:মান্দালয় জেল বার্মায় অর্থাৎ বর্তমান মায়ানমারে অবস্থিত। ব্রিটিশ শাসনকালে অনেক ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই জেলে বন্দি করে রাখা হত। সুভাষচন্দ্র বসু, বালগঙ্গাধর তিলকের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এখানে দীর্ঘদিন বন্দি ছিলেন।

২.৫)ভারতীয় জেল বিষয়েএকটি পুস্তক সুভাষচন্দ্রের লেখা হয়ে ওঠেনি কেন ?

উত্তর:ভারতীয় জেলে বন্দি থাকার অভিজ্ঞতা থেকে যেসমস্ত চিন্তা স্বাভাবিকভাবেই সুভাষচন্দ্রের মনে এসেছিল,সে সম্পর্কে তিনি পাতার পর পাতা অনায়াসে লিখে যেতে পারতেন।কিন্তু এত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে চিঠিতে লিখে ওঠা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বই লেখার জন্য যে উদ্যম ও শক্তির প্রয়োজন,তা তাঁর তখন ছিল না। বলেই ভারতীয় জেল বিষয়ে একটি পুস্তক সুভাষচন্দ্রের লেখা হয়ে ওঠেনি।

২.৬)সুভাষচন্দ্র কেন দিলীপ রায়ের প্রেরিত বইগুলি ফেরত পাঠাতে পারেননি?

উত্তর:নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যখন মান্দালয় জেলে বন্দি ছিলেন, সেসময়ে বন্ধু দিলীপকুমার রায় তাঁকে কিছু বই পড়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন।বইগুলির প্রাপ্তি স্বীকার করে নেতাজি তাঁকে জানান যে,মান্দালয় জেলে বইগুলির অনেক পাঠক তৈরি হওয়ায় তিনি সেগুলি তখনই ফেরত পাঠাতে পারছেন না। তিনি এ কথাও বলেন দিলীপকুমারের কাছ থেকে আরও এরকম বই পেলে সেগুলিও সাদরে গৃহীত হবে।

৩)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর কয়েকটি বাক্যে লেখো।

৩.১)নেতাজি ভবিষ্যতের কোন্ কর্তব্যের কথা এই চিঠিতে বলেছেন?কেন এই কর্তব্য স্থির করেছেন?

কারা-শাসনপ্রণালী বিষয়ে কাদের পরিবর্তে কাদের প্রণালীকে তিনি অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেছেন?

উত্তর:শ্রদ্ধেয় গীতিকার ও সুরকার দিলীপকুমার রায়কে মান্দালয় জেল থেকে ২ মে, ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে লেখা একটি চিঠিতে নেতাজি ভারতবর্ষের কারা শাসন পদ্ধতির সংস্কার ঘটানোকেই তাঁর ভবিষ্যতের অন্যতম কর্তব্যরূপে চিহ্নিত করেছেন।

* স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কারণে ইংরেজ শাসনাধীন ভারতবর্ষে নেতাজিকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

*সেই অভিজ্ঞতা থেকে নেতাজি দেখেছেন,জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোনো কারণে কোনো মানুষকে যদি জেলে থাকতে হয়, তবে তার মানসিকতা জেলের পরিবেশের কারণেই বিকৃত হয়ে পড়ে। অপরাধীর নৈতিক অবনতি: বন্ধুকে সে-কথা লেখার পাশাপাশি তিনি এ-ও লিখেছেন যে, অপরাধীদের অধিকাংশেরই কারাবাসকালে কোনো নৈতিক উন্নতি হয় না, বরং তারা আরও হীন মানসিকতাসম্পন্ন হয়ে পড়ে। দেশের কারা শাসনপ্রণালীর আমূল সংস্কার ঘটালে তবেই সেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তাই তিনি সেই কাজকেই নিজের ভবিষ্যতের কর্তব্য হিসেবে স্থির করেছেন।

*ভারতীয় কারা শাসনপ্রণালী বিষয়ে তিনি কুৎসিত ব্রিটিশ আদর্শের বদলে আমেরিকার ইউনাইটেড স্টেটসের মতো উন্নত দেশগুলির ব্যবস্থা অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেছেন।

৩.২)’সেজন্য খুবই খুশি হয়েছি।’-বক্তা কে?তিনি কীজন্য খুশি হয়েছেন?

উত্তর:প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশের বক্তা মান্দালয় কারাগারে বন্দি সুভাষচন্দ্র বসু।

*বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে সুভাষচন্দ্র চিঠিতে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কারাগারে থাকা মানুষজনের কাছে কোনো চিঠিপত্র পৌঁছোনোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘double distillation’ বা দু-বার পরীক্ষা করে নেন। পরীক্ষায় ব্রিটিশের পক্ষে আপত্তিকর কিছু পাওয়া গেলে তা আর চিঠির প্রাপকের হাতে পৌঁছোয় না। এক্ষেত্রে সুভাষচন্দ্র খুশি এই কারণেই যে, এবারে তেমন কিছু ঘটেনি। তাঁকে লেখা দিলীপকুমার রায়ের ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মার্চ তারিখের চিঠিটি বিনা বাধাতেই তাঁর হাতে এসে পৌঁছেছে।

৩.৩) আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন। – কে, কাকে একথা বলেছেন ?কীসের উত্তর দেবার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: সুভাষচন্দ্র বসুর রচিত’জেলখানার চিঠি’ রচনাংশটি, মান্দালয় কারাগারে বন্দি সুভাষচন্দ্র তাঁর বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে লেখা চিঠিতে এইকথাটি বলেছেন ।

*সুভাষচন্দ্র লিখেছেন যে, বন্ধুর লেখা চিঠিটি তাঁর হৃদয়কে এমন কোমলভাবে স্পর্শ করেছে এবং তাঁর চিন্তা ও অনুভূতিকে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে যে, সেই চিঠির উত্তর দেওয়া তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া চিঠিটিকে Censor-এর বাধা অতিক্রম করতে হবে বলে তা সুভাষচন্দ্রের মনের গভীর আবেগ ও চিন্তাকে অনেকের সামনে প্রকাশ করে দেবে এ কথাও তাঁর মনে হয়েছিল।

৩.৪) ‘পরের বেদনা সেই বুঝে শুধু যেজন ভুক্তভোগী’-উদ্ধৃতিটির সমার্থক বাক্য পত্রটি থেকে খুঁজে নিয়ে লেখ। সেই বাক্যটি থেকে লেখকের কোন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়? 

উত্তর: যে সমর্থক বাক্যটি সুভাষচন্দ্র লিখিত পাঠ্যপত্র থেকে উদ্ধার করা যায় তা হল- আমার মনে হয় না, আমি যদি স্বয়ং কারাবাস না করতাম তাহলে একজন কারাবাসী বা অপরাধীকে ঠিক সহানুভূতির চোখে দেখতে পারতাম’

আলোচ্য অংশে জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোন কারনে কারাবন্দি মানুষদের প্রতি লেখক এর সহানুভূতি বাক্যটিতে ফুটে উঠেছে।শাসনপ্রণালী সংস্কারের যে সুদৃঢ় সংকল্প নেতাজী নিয়েছিলেন তার মধ্যেও অপরাধীদের প্রতি তার সেই সহানুভূতিরই প্রকাশ দেখা যায়।

৩.৫)’আমার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে,অনেকখানি লাভবান হতে পারব।”-কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি? জেল জীবনে তিনি আধ্যাত্মিক দিকদিয়ে কীভাবে লাভবান হবার কথা বলেছেন ?

ত্তর: জেলে বন্দি থাকার সময়, মানুষ নির্জনে অনেক জটিল চিন্তা করার সুযোগ পায়। তখন তার মধ্যে আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক শক্তির সঞ্চার ঘটে। সেই কথা বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে জানাতে গিয়ে সুভাষচন্দ্র আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

* সুভাষচন্দ্রের জেলবন্দি জীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দিলীপকুমার রায়কে লেখা এই পত্রটিতে প্রকাশ পেয়েছে। পত্রলেখক সুভাষচন্দ্র নির্দ্বিধায় এ কথা স্বীকার করেছেন, জেলের বন্দিজীবনে যে নির্জনতার মধ্যে মানুষকে বাধা হয়ে দিন কাটাতে হয়, সেই নির্জনতাই তাকে জীবনের চরম সমস্যাগুলি গভীরভাবে বোঝার সুযোগ দেয়।

** জেলের নির্জনতায় নিজের সম্পর্কে ভাবতে গিয়ে লেখক দেখেছেন, কীভাবে বছরখানেক আগেকার জটিল সমস্যাগুলির অনেক সুষ্ঠু সমাধান তিনি নিজেই খুঁজে পাচ্ছেন।

*তাঁর যেসমস্ত মতামত আগে নেহাতই দুর্বল ও অস্পষ্ট ছিল, সেগুলি এই বন্দিজীবনেই তাঁর মনের মধ্যে স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই লেখক জানিয়েছেন যে, তাঁর কারাবাসের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে তিনি অনেকখানি লাভবান হতে পারবেন।

৩.৬) ‘Martyrdom’ শব্দটির অর্থ কী? এই শব্দটি উল্লেখ করে বক্তা কী বক্তব্য রেখেছেন?

উত্তর:’Martyrdom’ কথার অর্থ: ‘Martyrdom’ শব্দটির অর্থ ‘আত্মবলিদান’, ‘রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য বা মহৎ কারণে প্রবল কষ্টভোগ’।

*নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কারাবাসের বিষয়টিকে তাঁর বন্ধু দিলীপকুমার রায় ‘Martyrdom’ বা ‘শহীদত্ব’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

*সুভাষচন্দ্র বিষয়টিকে বন্ধুর গভীর অনুভূতি ও মহত্ত্বেরই পরিচায়ক বলে মনে করেছেন। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে নেতাজি তাঁকে এও জানিয়েছেন যে, তিনি আশা করেন সামান্য কিছু  রসবোধ বা মাত্রা-এ দুটির বোধ তাঁর আছে।

*সেই কারণেই নিজেকে Martyr মনে করার মতো স্পর্ধা তাঁর নেই। স্পর্ধা বা আত্ম-অহংকার জিনিসটাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে চান বলেই নেতাজি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে তিনি সফল হয়েছেন কিনা, তা তাঁর বন্ধুরাই বলতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

*তাঁর কথায় Martyrdom জিনিসটা তাঁর কাছে বড়োজোর একটা আদর্শই হতে পারে,এর বেশি কিছু নয়।

৩.৭) যখন আমাদিগকে জোর করে বন্দি করে রাখা হয় তখনই তাদের মূল্য বুঝতে পারা যায়।- কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে ? ‘তাদের মূল্য’ বিষয়ে লেখকের বক্তব্য আলোচনা করো।

উত্তর:বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে লেখা ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ২ মে তারিখের পত্রে নেতাজি আলোচ্য উদ্ধৃতিটির উল্লেখ করেছেন। কারাবাসের কুফল প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে নেতাজি বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি কারাবাসের ফলে মানুষ দেহ ও মনের দিক দিয়ে ধীরে ধীরে অকালবৃদ্ধ হয়ে পড়ে। কারাগারের খারাপ খাবার, ব্যায়াম বা আনন্দের অভাব, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা প্রভৃতি বিষয় এজন্য দায়ী বলেই তিনি মনে করেছেন।

*জীবনের স্বাভাবিক ছন্দের মধ্যে থাকায় আমরা অনেকেই পিকনিক, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা, সংগীতচর্চা, সাধারণ বক্তৃতা, খেলাধুলা করা কিন্তু যখন জীবন থেকে এসব হারিয়ে যায়, জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাদের বন্দি করে রাখা হয়, তখন এইসমস্ত সৃজনশীল কাজ ও বিনোদনের প্রকৃত মূল্য বোঝা যায়। জেলের শাসনপদ্ধতির আমূল সংস্কারের মাধ্যমেই একমাত্র সেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে সুন্দর করে তোলা সম্ভব বলে লেখক মনে করেন।

৩.৮)মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা কী কঠোর নিরানন্দময়।’- যে ঘটনায় লেখকের মনে এই উপলব্ধি ঘটে তার পরিচয় দাও।

উত্তর: ঘনিষ্ঠ বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে মান্দালয় জেল থেকে ২ মে, ১৯২৫ তারিখে লেখা পত্রটিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কারারুদ্ধ মানুষের শোচনীয় অবস্থা ব্যক্ত করেছেন।

*বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কাটানোর ফলে নেতাজি দেখেছেন,এই দেশের কারাগারগুলিতে দৈহিক কষ্টের তুলনায় অপরাধীদের মানসিক কষ্টই হয় বেশি।যে বন্দিজীবনে অত্যাচার আর অপমানের আঘাত কম, তা অপেক্ষাকৃত কম যন্ত্রণাদায়কও হয়।

* আঘাত বা নির্যাতন আঘাতকারীর প্রতি মানুষের মনকে আরও বিরূপ করে দেয়। ফলে আঘাতের যে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন, তা তো হয়ই না, বরং নানারকম মানসিক বিকৃতি ঘটে বন্দির। ব্যক্তির নৈতিক উন্নতির বদলে অবনতিই ঘটে। সেদিক থেকে দেখলে এই আঘাতের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ বলে মনে হতে পারে। বন্দিজীবনের দার্শনিক দিক থেকে ভাবলে এই আঘাতেরও ভালো দিক আছে। কারণ জেলের পরিবেশে কয়েদিরা স্বাভাবিক জীবন থেকে একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই একাকিত্বের মধ্যে তারা নিজেদের বিচার বিশ্লেষণের সুযোগ পায়। এর ফলে তাদের নৈতিক উন্নতি ঘটে। এরকম পরিস্থিতিতে জেলের জীবনকে আর অসহ্য বলে মনে হয় না। প্রচলিত কারা শাসনপ্রণালীর উদ্দেশ্য হল বন্দিকে সবসময় ভাবতে বাধ্য করা যে, তার চারপাশের অবস্থা কঠোর ও আনন্দহীন,তাই এই ধরনের অত্যাচার চালানো হয়।

*এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সুভাষচন্দ্র জেলবন্দিদের ওপর হওয়া মানসিক নির্যাতনের স্বরূপটি তুলে ধরেছেন।

৩.৯)এই চিঠিতে কারাবন্দি অবস্থাতেও দুঃখকাতর, হতাশাগ্রস্ত নয়,বরং আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী নেতাজির পরিচয়ই ফুটে উঠেছে।-পত্রটি অবলম্বনে নিজের ভাষায় মন্তব্যটির যাথার্থ্য পরিস্ফুট করো।

উত্তর:সুদুর মান্দালয় জেলে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কারাবাস করার সময়কালে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ২ মে তারিখে নেতাজি তাঁর বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে একটি পত্র লিখেছিলেন। ওই পত্রে নেতাজি ভারতে ব্রিটিশ কারা শাসনপ্রণালীকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার বিষয়টিকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। নেতাজির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি: কারা শাসনপ্রণালীর সংস্কারসাধনকেই তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মসূচির মধ্যে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারাজীবনের মধ্যেও বন্ধুর পাঠানো বইগুলো তিনি যত্ন নিয়ে পড়েছেন এবং জেলের মধ্যেই আরও অনেক পাঠক তৈরি করেছেন। অপরাধীদের জন্য পদক্ষেপ; অপরাধীদের প্রতি সমাজের মানুষের মধ্যে সহানুভূতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও নেতাজি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে চান বলে জানিয়েছেন। “আমাদের সমস্ত দুঃখকষ্টের অন্তরে একটা মহত্তর উদ্দেশ্য কাজ করছে”– নেতাজির এমন উক্তিতে দার্শনিকতার সঙ্গে গভীর আশাবাদই ধ্বনিত হয়েছে। গভীর ভাবনার ফসল: জেলের নির্জনতায় তিনি বহু সমস্যার কথা গভীরভাবে ভাবার অবকাশ পেয়ে সমাধানের অনেক পথও খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সকলের শুভেচ্ছা ও সহানুভূতি থাকলে দুঃখকষ্টের ছোটোখাটো অগভীর ঢেউ পেরিয়েও আনন্দতীর্থে পৌঁছোনো সহজতর হবে। সেক্ষেত্রে দুঃখযন্ত্রণাকেই তিনি উন্নততর কর্ম আর উচ্চতর সফলতার প্রেরণাদায়ী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শেষের কথা: তাঁর মতে, বিনা দুঃখকষ্টে যা লাভ করা যায়, তার কোনো মূল্য নেই। এভাবেই দুঃখজয়ের আহ্বান তাঁর লেখা চিঠিটিতে ফুটে উঠেছে।

৩.১০)কারাগারে বসে নেতাজির যে ভাবনা, যে অনুভব, তার অনেকখানি কেন অকথিত রাখতে হবে?

উত্তর:নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মান্দালয় কারাগারে বন্দি হয়ে যে বিচিত্র ভাবনায় মগ্ন হয়েছেন, তার অনেকখানিই কোনো-এক ভবিষ্যৎ কাল পর্যন্ত অকথিতই রাখতে হবে বলে জানিয়ে বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে এই চিঠিটি লিখেছিলেন।

সুলেখক দিলীপকুমার রায়ের চিঠি নেতাজির মনে যে চিন্তা ও অনুভূতির সৃষ্টি করে তাকে ভাষার মাধ্যমে যথাযথ রূপ দেওয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর উপরে আবার রয়েছে ‘Censor’-এর হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা। মনের গভীরে সৃষ্ট কোনো অনুভব চিঠিতে উল্লেখিত হলে আইনরক্ষকদের কবলে পড়ে তা দিনের আলোর মতো প্রকাশিত হয়ে পড়বে, যা লেখক একেবারেই চান না । সেই কারণেই যতদিন তিনি কারাগারের আড়ালে থাকবেন, ততদিন তাঁর মনের অনেক কথাই অপ্রকাশিত থাকবে বলে জানিয়েছেন।

 

 

চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

১)সুভাষচন্দ্র বসুর বাবার নাম কী-

ক) জানকীনাথ বসু

খ)জগদানন্দ বসু

গ) জগৎবিহারী বসু

ঘ)জনার্দন বসু

উত্তর:(ক) জানকীনাথ বসু

২)’জেলখানার চিঠি’ সুভাষচন্দ্র বসু কোথা থেকে লেখেন?-

ক) সিমলা থেকে 

খ) লাহোর থেকে

গ) আন্দামান থেকে

ঘ) মান্দালয় জেল থেকে

উত্তর:(ঘ) মান্দালয় জেল থেকে

৩)জেলখানার চিঠি’ পাঠ্যাংশে কোন্ জেলের উল্লেখ শুরুতে পাই?

ক) তিহার

খ)আন্দামান

গ) মান্দালয়

উত্তর:মান্দালয়

 

৪) সুভাষচন্দ্র দিলীপবাবুর চিঠি পেয়েছিলেন-

ক) 28/3/25

খ) 24/4/25

গ) 25/3/25

ঘ)24/3/25

উত্তর:(ঘ)24/3/25

৫)লোকমান্য তিলক কারাবাসকালে আলোচনা লেখেন-

ক) গীতার

খ) রামায়ণের

গ) মহাভারতের

ঘ) ওডিসির

উত্তর:(ক) গীতার

৭)লোকমান্য তিলক মান্দালয় জেলে কত বছর বন্দি ছিলেন?

ক) ছ-বছর

খ) পাঁচ বছর

গ) সাত বছর

ঘ) আট বছর

উত্তর(ক) ছ-বছর

৮)জেলখানার চিঠি কোন মূল ভাষা থেকে মুদ্রিত-

ক) হিন্দি ভাষা

খ)আরবি ভাষা 

গ) ইংরেজি ভাষা 

ঘ) উড়িয়া ভাষা

উত্তর:(গ) ইংরেজি ভাষা 

৯)’Martyrdom’-শব্দটির অর্থ হলো-

ক) শহীদত্ব

খ)রাজবন্দী 

গ) কয়েদি 

ঘ) পাপী 

উত্তর:(ক) শহীদত্ব

 

 

ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) 

১)নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম কোথায় হয়েছিল?

উত্তর:নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম হয়েছিল উড়িষ্যার (বর্তনাম ওড়িশা) কটকে।

২)‘জেলখানার চিঠি’-র রচয়িতা কে?

উত্তর:জেলখানার চিঠি’ পাঠ্যাংশের রচয়িতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

৩)মান্দালয় জেল কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:বর্তমানে মায়ানমার দেশে মান্দালয় জেল অবস্থিত।

৪)বন্ধু দিলীপ রায়ের চিঠিটি নেতাজি কবে পেয়েছিলেন?

উত্তর:বন্ধু দিলীপ রায়ের ২৪/৩/২৫ তারিখের চিঠিটির প্রাপ্তিদিবস প্রবন্ধে উল্লিখিত না থাকলেও নেতাজি তাঁর চিঠির উত্তর লিখেছিলেন ২/৫/২৫ তারিখে। সুতরাং, বলা যেতে পারে, এর মাঝের কোনো এক সময় নেতাজি চিঠিটি পেয়েছিলেন।

৫)তৎকালের কোন্ বিখ্যাত দেশনেতার নাম ‘জেলখানার চিঠি’-তে আছে?

উত্তর:নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রচিত ‘জেলখানার চিঠি’ নামক গদ্যাংশে তৎকালের বিখ্যাত দেশনেতা বালগঙ্গাধর তিলকের নাম উল্লিখিত আছে।

৬)জেলখানার আবহাওয়াটা কীসের উপযোগী?

উত্তর:সুভাষচন্দ্রের মতে, জেলখানার সমস্ত আবহাওয়াটা মানুষকে যেন বিকৃত অমানুষ করে তোলার উপযোগী।

৭)নেতাজি কারাসংস্কার বিষয়ে কোন্ দেশের ব্যবস্থা অনুসরণ করার পক্ষপাতী?

উত্তর:নেতাজি কারাসংস্কার বিষয়ে আমেরিকার মতো উন্নত দেশের ব্যবস্থা অনুসরণ করার পক্ষপাতী।

৮)সুভাষচন্দ্রের পত্রে কোন কবির নাম উল্লিখিত হয়েছে?

উত্তর:সুভাষচন্দ্রের ‘জেলখানার চিঠিতে কবি নজরুল ইসলামের নাম উল্লিখিত হয়েছে।

৯)লোকমান্য তিলক কারাবাসের সময় কী লিখেছিলেন?

উত্তর:লোকমান্য তিলক কারাবাসের সময় গীতার আলোচনা লিখেছিলেন।

১০)বন্ধু দিলীপ রায়ের কোন্ চিঠিটি নেতাজি পেয়ে এ চিঠি লেখেন?

উত্তর:বন্ধু দিলীপ রায়ের ২৪/০৩/১৯২৫ তারিখের চিঠিটি পেয়ে উত্তরে নেতাজি এ চিঠি লেখেন।

১১)বন্দিদশায় একটা মানুষের অন্তরে সাধারণত কোন্ শক্তি সঞ্চারিত হয়?

উত্তর:বন্দিদশায় একটা মানুষের অন্তরে সাধারণত দার্শনিক ভাবশক্তি সারিত হয়।

 

SOURCE-EBAP

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top