


একাদশ শ্রেণীর বাংলা
লালন শাহ ফকিরের গান (কবিতা)
West Bengal WBCHSE Class 11th Bengali
Lalon Shah Fokirer Gan Question and Answer
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
লালন শাহ ফকিরের গান (কবিতা)
একাদশ শ্রেণীর বাংলা
WB Class 11 Bengali
Lalon Shah Fokirer Gan
SAQ Question and Answer :
-
“মানুষ-গুরু কৃপা হ’লে/জানতে পাবি।।”-কী জানতে পারার কথা বলা হয়েছে?
Ans: মানুষকে ভজনা করলে সোনার মানুষ হওয়া যায় এবং দ্বি-দলের মৃণালে সোনার মানুষ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। গুরুর কৃপায় এই সত্যই বাউল সাধক জানতে পারেন।
-
“দেখনা যেমন আলেক লতা…”-যে প্রসঙ্গে কবি এ কথা বলেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
Ans: গাছের মধ্যে অলক্ষে অবস্থান করে লতা। সেরকমই মানুষের মনের মধ্যে থাকে আর-এক মানুষ-‘মনের মানুষ’। তার অবস্থান দৃশ্যমানতার আড়ালে। সাধনার মধ্য দিয়ে তার স্বরূপকে উপলব্ধি করতে হয়। এই প্রসঙ্গেই মন্তব্যটি করা হয়েছে।
-
“মানুষ ছাড়া মন আমার”-‘মানুষ ছাড়া মন’ বলতে কী বোঝ? এর পরিণতি কী?
Ans: ‘মানুষ ছাড়া মন’ বলতে বোঝায় মানুষের সান্নিধ্যহীন অবস্থা।
মন যদি মানবসর্বস্ব না হয় তাহলে ‘মনের মানুষ’-এর সন্ধান অর্থহীন হয়ে যায়। লালন এই অবস্থাকে বলেছেন ‘শুন্যকার’-এ পর্যবসিত হওয়া।
-
“পড়বি রে তুই শুন্যকার”-কবির এই মন্তব্যের কারণ কী?
Ans: মানুষের যদি মানবতত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা না থাকে তাহলে তার পক্ষে মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া বা ঈশ্বর সন্ধান অর্থহীন হয়ে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতেই লালন উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছেন।
-
“….স্ক্যাপারে তুই মূল হারাবি।।”-এখানে ‘মূল’ কী? কীভাবে তা হারিয়ে যাবে?
Ans: ‘লালন শাহ্ ফকিরের গান’-এর উল্লিখিত অংশে ‘মূল’ বলতে ‘মনের মানুষ’-কে বোঝানো হয়েছে, কারণ বাউল সাধকের চূড়ান্ত অন্বিষ্ট এই ‘মনের মানুষ’।
বাউল সাধকরা মানবতত্ত্বের সাধনা করেন। তাই লালনের মনে হয়েছে যে, এই মানবতত্ত্ব সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে বা মানুষকে উপেক্ষা করলে ‘মূল’ হারাতে হয় বা ‘মনের মানুষ’-এর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
-
“দ্বি-দলের মৃণালে/সোনার মানুষ উজ্জ্বলে”-মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
Ans: বাউল ধর্মসাধনায় ‘দ্বি-দল’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘দ্বি-দল’ অর্থাৎ দুই দল আসলে দুটি অক্ষর-‘হ’ এবং ‘ক্ষ’। ‘হ’ হৃদয়ের এবং ‘ক্ষ’ ক্ষণ বা মুহূর্তের প্রতীক। এই দুই দলের মিলনে যে মৃণাল, তা আসলে ‘আজ্ঞাচক্র’। এই আজ্ঞাচক্রের নির্দেশনাতেই বাউল সাধকের কাছে তাঁর ‘মনের মানুষ’ (সোনার মানুষ) উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

লালন শাহ ফকিরের গান (কবিতা)
একাদশ শ্রেণীর বাংলা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর
WB Class 11 Bengali Lalon Shah Fokirer Gan
-
“জেনে শুনে মুড়াও মাথা”-কাদের উদ্দেশে কবি এ কথা বলেছেন? এ কথা বলার কারণ কী?
Ans: প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মাচরণের প্রয়োজনে যারা মুণ্ডিতমস্তক হয়, তাদের উদ্দেশে লালন উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছেন।
প্রকৃত বাউল সাধকের মতোই লালন বিশ্বাস করতেন মানবতত্ত্বে। এই মানবতত্ত্ব আত্মদর্শনের কথা বলে, অর্থাৎ মানুষের নিজেকে নিজে জানার ওপরে গুরুত্ব দেয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে যারা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আচরণ করে এবং আচার-অনুষ্ঠানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়, তারা যে ঈশ্বর-সাধনা থেকে দূরে সরে যায় সে কথাই এখানে বলতে চাওয়া হয়েছে।
-
“এই মানুষে মানুষ গাথা”-এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বাউল দর্শনের যে বিশেষ দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
Ans: লালন তাঁর গানে মানুষকে ভজনার কথা বলেছেন। “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”-এই সর্বমানবতাবাদের সঙ্গেই যুক্ত আছে বাউলদের আত্মতত্ত্বের ধারণা। মনের ভিতরেই রয়েছে শুদ্ধতম মানুষ, বাউলরা যাকে বলে ‘মনের মানুষ’ বা ‘সহজ মানুষ’। বাউলদের মানবতত্ত্বের কেন্দ্রে রয়েছে এই ‘মনের মানুষ’। লালনের কথায়, যেমন গাছের মধ্যে থাকে ‘আলেক লতা’, সেরকমই মানুষের মধ্যে থাকে আর-এক মানুষ, যাকে লালন তাঁর অন্য গানে বলেছেন ‘আলেক মানুষ’। সে কারণেই কবি বলেছেন ‘মানুষে মানুষ গাথা’।
-
“লালন বলে…”-লালন কী বলেন? সেই বলার সার্থকতা কী?
Ans: ‘লালন শাহ্ ফকিরের গান’-এর ভণিতায় লালন বলেছেন যে, মানুষ- আকার ভজনা করলেই একমাত্র ত্রাণ পাওয়া যায়।
লালন তাঁর বিভিন্ন গানে বারে বারে মানবতার কথা উচ্চারণ করেছেন। এই গানেও লালন বলেছেন মানুষকে ভজনার কথা। শুধু তাই নয়, মানুষের মধ্যেই যে শুদ্ধতম মানুষ বা মনের মানুষ রয়েছে তার সন্ধান করার কথাও কবি বলেছেন। মানুষ ছাড়া মন নিরর্থক। সেকারণে লালন বলেছেন যে, প্রকৃত মুক্তি পেতে গেলে মানুষ- ভজনা করতেই হবে।
-
“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”-মন্তব্যটির তাৎপর্য সমগ্র কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
Ans: বাউল সাধনা মানবতাকে ভিত্তি করে। লালনও তাঁর গানে লিখেছেন-“সকলের মূল মানুষনিধি, তার উপরে নাই রে বিধি/ভজনপূজন জপমালা।” পঠিত গানেও সেই মানবতত্ত্বের কথাই রয়েছে। শুদ্ধ মানুষ হয়ে উঠতে গেলে মানুষকে ভজনা করতে হবে। এই মানবতত্ত্বের সঙ্গেই জুড়ে থাকে আত্মতত্ত্ব অর্থাৎ নিজের ভিতরে থাকা শুদ্ধতম মানুষ বা মনের মানুষের সন্ধান। ‘মানুষে মানুষ গাথা’ আছে। লালন মনে করেন, সেই মানুষকে খুঁজতে গেলে মানবতাই একমাত্র পথ এবং যে মন, মানুষ থেকে বিযুক্ত হয়ে আচার-আচরণের দ্বারা ঈশ্বর সন্ধান করে, তার সব প্রচেষ্টা শূন্যতায় পর্যবসিত হয়।
-
“সোনার মানুষ উজ্জ্বলে”-‘সোনার মানুষ’ কে? সে কীভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে?
Ans: ‘সোনার মানুষ’ বলতে বাউল সাধনার চূড়ান্ত অন্বিষ্ট ‘মনের মানুষ’-এর কথা বলা হয়েছে।
বাউল সাধনায় মানুষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে এবং মানব শরীর সেখানে সাধনার একমাত্র ভিত্তি। ব্যক্তি মানুষ তখনই ঈশ্বরস্বরূপ হয়ে ওঠে যখন সে মানুষকে ভজনা করে। মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ‘মূল’ হারাতে হয়। অর্থাৎ, ‘মনের মানুষ’-এর সান্নিধ্য পাওয়া যায় না। সোনার মানুষ ‘উজ্জ্বল’ হয়ে ওঠে বাউল সাধনায় আজ্ঞাচক্রের নির্দেশনায়। আজ্ঞাচক্র হল দুই দলের মিলনে গঠিত মৃণাল। সেই দুই দল হল ‘হ’ এবং ‘ক্ষ’। ‘হ’ হৃদয়ের প্রতীক, আর ‘ক্ষ’ ক্ষণ বা মুহূর্তের প্রতীক।
রচনাধর্মী | লালন শাহ ফকিরের গান (কবিতা) একাদশ শ্রেণীর বাংলা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 11 Bengali Lalon Shah Fokirer Gan Descriptive Question and Answer:
1. ‘লালন শাহ্ ফকিরের গান’-এ বাউল সাধনার মানবতত্ত্বের যে প্রকাশ ঘটেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
Ans: বাউল সাধনায় মনে করা হয়, মানবদেহ সব তত্ত্ব ও সত্যের ভিত্তি। লালন তাঁর অন্য গানে লিখেছেন-
“সহজমানুষ ভজে দেখ নারে মন দিব্যজ্ঞানে
পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে।”
পঠিত গানেও লালন মানুষ ভজনার কথা বলেছেন। এই মানুষ সহজ-মানুষ। এই সহজ-মানুষের সমাধান না পেলে ‘মূল’ হারাতে হয়। সমগ্র গানে বারে বারে এসেছে এই ‘সোনার মানুষ’-এর কথা। ‘মানুষ-গুরু’র কৃপাতেই তার সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে বলে লালন মনে করেছেন। লালনের মতে সেই সোনার মানুষ ছাড়া মানব জীবন অসম্পূর্ণ। এভাবেই পঠিত গানে বাউল সাধনার মানবতত্ত্বের প্রকাশ ঘটেছে।
2. লালন শাহ্ ফকিরের গান’-এ বাউল সাধনার বিভিন্ন দিক যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা আলোচনা করো।
Ans: ‘লালন শাহ্ ফকিরের গান’ লালন ফকিরের অন্যতম প্রতিনিধিস্থানীয় গান। স্বাভাবিকভাবেই বাউল সাধনার অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং অনুষঙ্গ এই গানে পাওয়া যায়।
প্রথমত, বাউল সাধকরা সর্বমানবতার ওপরে গুরুত্ব দেয়। এখানেও লালন ফকির বলেছেন, “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”।
দ্বিতীয়ত, বাউল দর্শনে আত্মতত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে থাকে। এই কবিতাতেও মনের ভিতরে ‘মনের মানুষ’-এর সন্ধান একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে,-“এই মানুষে মানুষ গাথা/দেখনা যেমন আলেক লতা”।
তৃতীয়ত, বাউল সাধনার অনেক পরিভাষা ও অনুষঙ্গ এই কবিতাতে পাওয়া যায়। যেমন-‘দ্বি-দলের মৃণাল’, ‘আলেক লতা’ ইত্যাদি। এইভাবে সাধনতত্ত্বের নিরিখে এবং জীবনবোধে ‘লালন শাহ্ ফকিরের গান’ বাউল সাধনার এক উজ্জ্বল উদ্ধার।
3. লালন শাহ্ কে ছিলেন? পাঠ্য লালনগীতিকা অবলম্বনে মূল বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
Ans: বাউল সম্রাট মহাসাধক সত্যসন্ধানী পরমপুরুষ লালন শাহ্ ছিলেন মানবপ্রেমের মূর্ত প্রতীক। তাঁর জন্মস্থান ও জন্মকাল নিয়ে বহু মতান্তর আছে। তবে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন, তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়ারা গ্রামে লালন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর মৃত্যু হয় ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর।
লালন শাহের গানগুলি মূলত আত্মতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব, দেহতত্ত্ব ও জাতিভেদ বিষয়ক। তিনি ছিলেন মানবধর্মের চিরন্তন প্রতীক। মানুষের মধ্যেই তিনি সন্ধান করেছিলেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব। তিনি মনে করতেন সৃষ্টি আর স্রষ্টা একে অপরের প্রতিরূপ। স্রষ্টা বিরাজ করেন মানুষের অন্তরেই। তাই লালন মানুষকে ভজতে বলেছেন, “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”। মানুষ ভজার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সিদ্ধিলাভ ও আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন। তবে সত্যের পথ অবলম্বন করে সাধন-ভজনে অগ্রসর হতে হবে। নইলে মূল হারিয়ে অমূলে কাঁদতে হবে। লালনের ‘সোনার মানুষ’ লুক্কায়িত দুই পাপড়ির পদ্মে। মানুষ-গুরুর কৃপা হলে তাঁর স্বরূপ উপলব্ধি করা সম্ভব হবে।
লালন মনে করতেন, মনুষ্যত্ববোধই একমাত্র মানবতা সৃষ্টি করতে পারে। মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে হবে। আলেক লতার মতো মানুষকে অবলম্বন করেই মানুষের স্বরূপ বুঝতে হবে। প্রচলিত কুসংস্কার ও জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে লালন সমুন্নত মানবতাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাঁর গানে। সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, মৈত্রি, প্রেম ও ভালোবাসার এক আকাশের নীচে মানুষকে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষের বিহনে মন শূন্যতার বোধ উপলব্ধি করে। এই তিক্ত শূন্যতা মানুষের সহ্যের অতীত। লালন তাই বলেন, “মানুষ ছাড়া মন আমার/পড়বি রে তুই শূন্যকার”।
4. ‘বাউল’ কাদের বলা হয়? জীবনদর্শন সম্পর্কে বাউলের মত কী?
Ans: বাউল হল বিশেষ একটি লোকাচার ও ধর্মমত। প্রচলিত ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সংস্কার থেকে মুক্ত সম্প্রদায়বিশেষকে বাউল নামে চিহ্নিত করা হয়। বাউল সংগীত মূলত মানুষের জীবনদর্শনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। বাউলরা সাদামাটা জীবনযাপন করেন এবং একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোই তাঁদের অভ্যাস। উদার ও অসাম্প্রদায়িক এই ধর্মসাধকেরা মানবতার বাণী প্রচার করেন।
বাউল সাধকের মূল প্রতিপাদ্য মানবদেহ। বাউলরা সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় আত্মাকে। তাঁদের মতে, আত্মাকে জানলেই পরমাত্মা বা সৃষ্টিকর্তার সন্ধান পাওয়া যায়। আত্মার বাস যেহেতু মানবদেহে, তাই দেহকে তাঁরা পবিত্র জ্ঞান করেন। দেহের মাঝেই তাঁরা খোঁজেন ‘অচিনপাখি’-র ঠিকানা। সাধারণত স্বল্প শিক্ষিত হলেও বাউলরা জীবনদর্শন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও তত্ত্বকথা বলেছেন তাঁদের গানে। তাঁদের দর্শন ও মতামত বাউল গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
5. চন্ডীদাস ও লালনের মধ্যে মিল কোথায়?
Ans: চন্ডীদাস ও লালন ফকির উভয়েই মধ্যযুগের বিশিষ্ট পদকর্তা। চৈতন্য- পূর্ববর্তী যুগের কবি চন্ডীদাস তাঁর গানে উচ্চারণ করেছিলেন, “শুনহ মানুষ ভাই/সবার উপরে মানুষ সত্য/তাহার উপরে নাই।” মানব ইতিহাসের সর্বশ্রষ্ঠ এই মানবিক বাণী উচ্চারণ করে চন্ডীদাস মানবতার জয়গান গেয়েছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর বাউল সাধক লালন তাঁর গানে বললেন, “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।” অর্থাৎ মানুষকে ভালোবাসার মধ্যেই প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচয়। মানবপ্রেমের এই অমোঘ সত্য মধ্যযুগের দুই কবি নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করে মানবতাবাদের বাণী প্রচার করেছিলেন।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার মনুষ্যত্বে। মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। যুগ যুগ ধরে চন্ডীদাস ও লালনের মতো মহামানবেরা এই মানবতার জয়গানে মুখর ছিলেন। উভয় কবি মূলত জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে মানবধর্মকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন।
©kamaleshforeducation.in(2023)


