১) ‘তিমিরহননের গান’ কবিতায় কবি কেন ‘তিমিরবিলাসী’ নয়, ‘তিমিরবিনাশী’ হতে চেয়েছেন? ৫
উৎসঃ
প্রকৃতিপ্রেমী কবি ‘জীবনানন্দ দাশ’ রচিত ‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘তিমির হননের গান’ কবিতাটি আমাদের পাঠ্যরূপে গৃহীত হয়েছে।
কবির ‘তিমিরবিনাশী’ হতে চাওয়ার কারণঃ
সমগ্র কবিতা জুড়ে মনুষ্যত্বের কালো অধ্যায়কে কবি তাঁর নিপুণ তুলির টানে অঙ্কন করেছেন। কবি বলেছেন মানুষ ‘আকাশের মতো’ চোখ নিয়ে একদিন –
‘আমরা হেসেছি, আমরা খেলেছি; স্মরণীয় উত্তরাধিকারে কোনো গ্লানি নেই ভেবে একদিন ভালোবেসে গেছি।’
কিন্তু মানুষ বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন হয়েছে। এই মানুষেরাই যে উচ্চ প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানে বলীয়ান, শিল্প-সাহিত্য ললিতকলায় সমৃদ্ধ-এ তো অন্ধকার থেকে ধারাবাহিকভাবে আলোয় ফেরার ইতিবৃত্ত। তাই কবির সংশয় –
‘আমরা কি তিমিরবিলাসী?’
পরক্ষণেই কবিমনে আশাবাদের জাগরণ ঘটেছে। তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের চলার পথ কোথাও হয়তো ব্যাহত হয়েছে, বিপন্ন হয়েছে তার গতি; কিন্তু সে কখনোই থেমে থাকেনি। এই মানবতার জয়গাথাকে মান্যতা দিয়েই কবি কন্ঠে তাই ধ্বনিত হয়েছে –
‘আমরা তো তিমিরবিনাশী হ’তে চাই। আমরা তো তিমিরবিনাশী।’
২) “নক্ষত্রের জ্যোৎস্নায় ঘুমাতে বা মরে যেতে জানে।” – কাদের সম্পর্কে এই উক্তিটি করা হয়েছে? তাদের এরূপ হওয়ার কারণ কী? ২+৩=৫
উৎসঃ
প্রকৃতিপ্রেমী কবি ‘জীবনানন্দ দাশ’ রচিত ‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘তিমির হননের গান’ কবিতাটি থেকে প্রশ্নোক্ত অংশটি চয়ন করা হয়েছে।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তিগণঃ
আলোচ্য কবিতায় কবি পঞ্চাশের আকালে নিরন্ন মানুষদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন। এই নিরন্ন মানুষেরা দুমুঠো খাদ্যের আশায় শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। কিন্তু শহরের নির্মমতায় তারা বাঁচতে পারেনি।
উক্ত আচরণের কারণঃ
দেশীয় অর্থনীতির করুণ দশা, তথাকথিত দেশীয় শাসকদের ব্রিটিশদের পদানত থাকা, এদেশের মানুষের মাথায় অনৈতিক করের বোঝা চাপানো, রেঙ্গুন থেকে চাল আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, বাজারের পণ্যের অধিকাংশি সরকারি সেনার জন্য সংরক্ষণ প্রভৃতি ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর উপরে কালোবাজারি ও মজুতদারির ফলে নিত্যনৈমিত্তিক দ্রব্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। গ্রামের প্রান্তিক মানুষের জীবনে যে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তারা আর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারে নি। তারা অনেকে গ্রামেই জীবন জলাঞ্জলি দেয়, বাকিরা দলে দলে ভিড় করে শহরের ফুটপাথে হয়তো একটু ফ্যানের আশায়। আর এই নির্মম বাস্তবতাই কবির লেখনীতে আমাদের হৃদয়কে বিদ্ধ করে –
‘নর্দমার থেকে শূন্য ওভারব্রিজে উঠে নর্দমায় নেমে— ফুটপাত থেকে দূর নিরুত্তর ফুটপাতে গিয়ে নক্ষত্রের জ্যোৎস্নায় ঘুমাতে বা ম’রে যেতে জানে।’