
ষষ্ঠ শ্রেণীর তৃতীয় ইউনিট টেস্ট
ইতিহাস বিষয়ের প্রশ্নপত্র
এখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য ইতিহাস বিষয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হল। সেইসাথে একটি নমুনা মডেল প্রশ্নপত্রও দেওয়া হয়েছে।
শ্রেণী (Class) |
পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ শ্রেণী (West Bengal Class 6th) |
পরীক্ষা (Exam) |
তৃতীয় ইউনিট টেস্ট (Third / 3rd Unit Test Model Questions) |
বিষয় (Subject) |
ইতিহাস (History) |
পূর্ণমান (Marks) |
৭০ নম্বর (70 Marks) |
সময় (Time) |
২ ঘন্টা ৩০ মিনিট (2 Hours 30 Minute) |
[A] সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো । 1×14=14
-
তাম্রলিপ্ত বন্দর অবস্থিত
(A) উত্তরের কোঙ্কন উপকূলে
(B) মালবার উপকূলে
(C) কাবেরী বদ্বীপ এলাকায়
(D) পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে
Ans: (D) পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে
-
সেলিউকাসের দূত হয়ে মৌর্য দরবারে এসেছিলেন—
(A) মেগাস্থিনিস
(B) ডায়ামাকাস
(C) ফাসিয়ান
(D) প্রথম অ্যান্টিয়োকস
Ans: (A) মেগাস্থিনিস
-
উপবেদ বলা হত
(A) রামায়ণকে
(B) মহাভারতকে
(C) চিকিৎসাশাস্ত্রকে
(D) সংগম সাহিত্যকে
Ans: (C) চিকিৎসাশাস্ত্রকে
-
দশাবতার মন্দির অবস্থিত
(A) দেওঘরে
(B) মহাবলিপুরমে
(C) ইলোরায়
(D) চন্দ্রকেতুগড়ে
Ans: (A) দেওঘরে
-
কম্বনের রামায়ণে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হল
(A) রাম
(B) রাবণ
(C) লক্ষ্মণ
(D) সীতা
Ans: (B) রাবণ
-
কোন্ অঞ্চলে শালি ধানের চাষ বেশি হয় ?
(A) বারাণসী
(B) বঙ্গ
(C) মগধ
(D) তামিলনাড়ু
Ans: (C) মগধ
-
ইন – তু হলো
(A) ভারতবর্ষ
(B) চিনা দেবতা
(C) মগধ
(D) চিনা নদী
Ans: (A) ভারতবর্ষ
-
হাতিগুম্ফা শিলালেখ থেকে কার বিষয়ে জানা যায় ?
(A) অশোক
(B) সমুদ্রগুপ্ত
(C) খারবেল
(D) কনিষ্ক
Ans: (C) খারবেল
-
অর্থশাস্ত্র – র লেখক হলেন
(A) বাণভট্ট
(B) কলহন
(C) কৌটিল্য
(D) হরিষেণ
Ans: (C) কৌটিল্য
-
বজ্জিদের রাজধানী কোথায় ছিল ?
(A) অবন্তি
(B) পাবা
(C) কোশল
(D) বৈশালি
Ans: (D) বৈশালি
-
‘ মার্গ ’ কথার অর্থ—
(A) পথ
(B) সম্মান
(C) সূত্র
(D) নীতি
Ans: (A) পথ
-
দশ রাজার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন—
(A) ভরত
(B) সুদাস
(C) বিক্রমাদিত্য
(D) অশোক
Ans: (B) সুদাস
-
একলব্যের গুরু ছিলেন
(A) আয়োদধৌম্য
(B) গৌতম
(C) আত্রেয়
(D) দ্রোণাচার্য
Ans: (D) দ্রোণাচার্য
-
ইন্দো – আর্য ভাষার সব থেকে পুরানো সাহিত্য হল—
(A) ঋগবেদ
(B) ব্রাক্ষ্মণ
(C) মহাভারত
(D) বেদান্ত
Ans: (A) ঋগবেদ
[B] শূন্যস্থান পূরণ করো : 1×5=5
-
হেরোডোটাসের মতে ইন্দুস ছিল পারসিক সাম্রাজ্যের একটি _________ ।
Ans: হেরোডোটাসের মতে ইন্দুস ছিল পারসিক সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ।
-
জীবক ছিলেন রাজ ______ ।
Ans: জীবক ছিলেন রাজ বৈদ্য ।
-
গাথা সপ্তশতী গ্রন্থটি সংকলন করেন ________ ।
Ans: গাথা সপ্তশতী গ্রন্থটি সংকলন করেন সাতবাহন রাজা হাল ।
-
কনিষ্ক _________ খ্রিস্টাব্দে কুষাণদের শাসক হন ।
Ans: কনিষ্ক 78 খ্রিস্টাব্দে কুষাণদের শাসক হন ।
-
দিগম্বরদের নেতা ছিলেন _______ ।
Ans: দিগম্বরদের নেতা ছিলেন ভদ্রবাহু ।
[C] এককথায় উত্তর দাও : ( যে – কোনো ন – টি ) 1×9=9
-
সেতু কী ?
Ans: প্রাচীন ভারতে জলসেচ প্রকল্পগুলিকে সেতু বলে ।
-
শুশ্রুত কে ছিলেন ?
Ans: শুশ্রুত একজন শল্য চিকিৎসক ছিলেন ।
-
পুরাণ সাহিত্যে যবন কাদের বলা হত ?
Ans: পুরাণ সাহিত্যে যবন বলা হত ব্যাকট্রিয়ার গ্রিকরাজাদের ।
-
দেবকুল কী ?
Ans: কুষাণ যুগের সম্রাট ও দেবতাদের একই বোঝানোর জন্য শাসকরা যে সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তা দেবকুল নামে পরিচিত ।
-
ফাসিয়ানের মতে , দেশের সেরা নগর কোনটি ?
Ans: ফাসিয়ানের মতে , দেশের সেরা নগর পাটলিপুত্র ।
-
বৈদিক যুগের ক – টি ভাগ ও কী কী ?
Ans: বৈদিক যুগের দুটি ভাগ । আদি বৈদিক যুগ ও পরবর্তী বৈদিক যুগ ।
-
‘ রাজা ’ কথার আক্ষরিক অর্থ কী ?
Ans: ‘ রাজা ’ কথার আক্ষরিক অর্থ নেতা ।
-
মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত ?
Ans: মহাস্থানগড় বাংলাদেশের বাগুড়া জেলায় অবস্থিত ।
-
ত্রিপিটক কোন্ ভাষায় লেখা হয়েছে ?
Ans: ত্রিপিটক পালি ভাষায় লেখা হয়েছে ।
-
গৌতম বুদ্ধ কোন্ নগরে মারা যান ?
Ans: গৌতম বুদ্ধ কুশি নগরে মারা যান ।
[D] নীচের প্রশ্নগুলি দু – তিনটি বাক্যে উত্তর দাও । 2×6=12
-
ঋগ্বৈদিক যুগের চতুর্বর্ণের পরিচয় দাও ৷
Ans: ঋগবেদ অনুযায়ী সমাজে প্রথম দিকে চতুর্বর্ণপ্রথা বিশেষভাবে প্রচলিত ছিল এমনটা বলা যায় না । সম্ভবত , ঋগবেদে বর্ণ বলতে মানুষের গায়ের রংকেই বোঝানো হত । চতুর্বর্ণপ্রথা : ঋগবেদের শেষের দিকে সমাজে ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির অস্তিত্বের কথা বলা হয় । ব্রাহ্মণরা যাগযজ্ঞ , পড়াশোনা ও শিক্ষাদানের কাজ করত । ক্ষত্রিয়রা রাজ্যশাসন এবং প্রজাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিত । বৈশ্যরা কৃষিকাজ , পশুপালন ও ব্যাবসাবাণিজ্যের কাজে যুক্ত থাকত এবং শূদ্ররা ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের সেবায় নিযুক্ত থাকত ।
-
আর্যসত্যের পরিচয় দাও ।
Ans: বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের দুঃখের কারণ কী , কীভাবে সেই দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় — এই প্রশ্নগুলির উত্তরে চারটি উপদেশ দেন । প্রতিটি উপদেশকে বলা হয় আর্যসত্য । তাই এই চারটি উপদেশ একসঙ্গে চতুরার্যসত্য নামে অভিহিত হয় ।
-
‘ ত্রিরত্ন ’ কী ?
Ans: সৎ বিশ্বাস , সৎ জ্ঞান ও সৎ আচরণের উপরে জৈনরা জোর দিতেন । এই তিনটিকে একসঙ্গে জৈন ধর্মের ত্রিরত্ন বলা হত । বৌদ্ধ ধর্মে গৌতম বুদ্ধ প্রধান ব্যক্তি । তাঁর প্রচার করা ধর্মই বৌদ্ধ ধর্ম । বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব বৌদ্ধ সংঘের । এই তিন মিলে হয় বুদ্ধ – ধৰ্ম্ম – সংঘ । এই তিনটি বৌদ্ধ ধর্মের ত্রিরত্ন ।
-
‘ অগ্রহার ব্যবস্থা ’ কী ?
Ans: গুপ্ত ও গুপ্তোত্তরকালে বৌদ্ধ বিহার বা অন্যান্য মন্দির বা ব্রাহ্মণকে যে নিষ্কর জমিদান করা হত , তা অগ্রহার ব্যবস্থা নামে পরিচিত । এই ব্যবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জমি অর্থের বিনিময়ে কেনা হত এবং পরে তা দান করা হত । এই ধরনের জমি হস্তান্তর করা যেত না , কিন্তু বংশপরম্পরায় ভোগ করা যেত ।
-
মিশরকে ‘ নীলনদের দান ’ বলা হয় কেন ?
Ans: মিশর নীলনদের নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত একটি দেশ । মরু প্রকৃতির জলবায়ুর প্রভাবে এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই অল্প । মিশরের পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি । কিন্তু দেশের মধ্য দিয়ে নীলনদ প্রবাহিত হওয়ায় মিশর সম্পূর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হতে পারেনি । তাই মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় ।
-
গুরুকুল ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো ?
Ans: বৈদিক যুগের শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রদের গুরুগৃহে থেকে পড়াশোনা করতে হত । তাই এই শিক্ষাব্যবস্থাকে বলা হয় গুরুকুল শিক্ষাব্যবস্থা ।
-
সংখ্যায়ন কী ?
Ans: ভারতীয় উপমহাদেশে গণিতচর্চার ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং জৈন ও বৌদ্ধ পণ্ডিতরাও গণিতচর্চা করতেন । বৌদ্ধদের গণিতবিজ্ঞান বিষয়টি তৈরি হয়েছিল পাটিগণিত , বীজগণিত ও জ্যামিতি নিয়ে । জৈনরা এই গণিতবিদ্যাকে বলতেন সংখ্যায়ন বা সাংখ্যায়ন ।
[E] নীচের প্রশ্নগুলির চার – পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও । 3×5 = 15
-
স্যাট্রাপি বা প্রদেশে শাসনব্যবস্থা কীরূপ ছিল ? অথবা , টীকা লেখ : ইন্ডিকা ।
Ans: ইন্ডিকাঃ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের আমলে গ্রিক শাসক সেলিউকাসের রাষ্ট্রদূতরূপে মেগাস্থিনিস পাটলিপুত্রে আসেন । এই সময় ভারত সম্পর্কে তিনি তাঁর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন ‘ ইন্ডিকা নামক গ্রন্থে । যদিও মূল গ্রন্থটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি , তবে গ্রন্থটির নানা অংশ পাওয়া গেছে পরবর্তী গ্রিক ও রোমান লেখকদের বিবরণে । এগুলি থেকে ভারতীয় ইতিহাসের নানা তথ্য পাওয়া যায় । এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল পাটলিপুত্র নগর সম্পর্কিত তথ্য ।
-
গুপ্ত আমলে বাণিজ্যের পরিচয় দাও । অথবা , গুহাবাস কী ?
Ans: গুহাবাসঃ মৌর্য সম্রাট অশোক ও তাঁর পরবর্তী মৌর্য সম্রাটরা আজীবিকদের জন্য পাহাড় কেটে কৃত্রিম গুহা বানাতেন ৷ এগুলি গুহাবাস নামে পরিচিত । এইসব গুহায় সন্ন্যাসীরা বসবাস করতেন ।
-
ষোড়শ মহাজনপদের আমলে অর্থনীতি কীরূপ ছিল ? অথবা , ষোড়শ মহাজনপদের আমলে নগরগুলির অবস্থা কেমন ছিল ?
Ans: ষোড়শ মহাজনপদের আমলে নগরগুলি আকারে গ্রামীণ বসতির তুলনায় বড়ো ছিল । প্রধানত শাসন ও ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা নগরে বাস করতেন । তবে এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারতেন না । তাই খাদ্যের জন্য তাঁদের গ্রামের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হত ।
-
টীকা লেখো : দশরাজার যুদ্ধ অথবা , জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের কী কী মিল তোমার চোখে পড়ে ?
Ans: দশ রাজার যুদ্ধঃ যুদ্ধের কথা ঋকবেদে অনেক আছে । তার মধ্যে বিখ্যাত হলো দশ রাজার যুদ্ধ । ভরত গোষ্ঠীর রাজা ছিলেন সুদাস । তাঁর সঙ্গে অন্যান্য দশটি গোষ্ঠীর রাজাদের যুদ্ধ হয়েছিল । সুদাস দশ রাজার জোটকে হারিয়ে দিয়েছিলেন । এর ফলে ভারত গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতা বেড়েছিল । নদীর ওপর একটি বাঁধ ভেঙে দিয়েছিলেন সুদাস । হয়তো নদীর জলের উপর অধিকার বজায় রাখার জন্যই এমনটা করা হয়েছিল । এই যুদ্ধের সঙ্গে পরবর্তীকালে মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কিছুটা মিল রয়েছে ।
-
অশোকের জীবনে কলিঙ্গ যুদ্ধের প্রভাব লেখো । অথবা , অশোকের ‘ ধর্ম্ম ’ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
Ans: কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতার ফলে অশোকের মনের পরিবর্তন ঘটে । এরপর থেকেই তিনি প্রজাদের ঐক্যবদ্ধ করতে থাকেন । এই যুদ্ধের পর অশোক অন্য কোনো যুদ্ধ করেননি , বরং বৌদ্ধধর্মের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন । অশোকের ‘ ধম্ম ’ : অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পর প্রজাদের মধ্যে ‘ ধৰ্ম্ম ’ নীতি প্রচার করেন । অশোকের ধম্ম ও বৌদ্ধধর্মে বেশকিছু মিল থাকলেও এটি কোনো বিশেষ ধর্ম ছিল না ।
ধম্মের মূলকথা : অশোকের ধম্মে কতকগুলি সামাজিক আচরণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় । এর মূলে ছিল অহিংসা , প্ৰাণীহত্যা বন্ধ , দয়া , দান , সত্যকথা বলা , গুরুজনদের মেনে চলা প্রভৃতি । এর মাধ্যমে অশোক প্রজাদের সন্তানতুল্য মনে করতেন ।
উদ্দেশ্য : অশোকের ধম্মের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল মানুষের পারিবারিক ও সমাজজীবনের উন্নতি সাধন ।
[F] নীচের প্রশ্নগুলির আট – দশটি বাক্যে উত্তর দাও । 5×3=15
1. সমুদ্রগুপ্তের কৃতিত্ব বর্ণনা করো । অথবা , মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণগুলি লেখো ।
Ans: মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণঃ মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারণগুলি হলো—
১. ব্রাহ্মণ শ্রেণির ক্ষোভঃ ‘ ধম্ম ’ নীতির প্রয়োগ দ্বারা পশুবলি নিষিদ্ধকরণ , সকলের ক্ষেত্রে দণ্ডসমতা ও ব্যবহারসমতা নীতির প্রয়োগ এবং ধর্মমহামাত্র নামক কর্মচারী নিয়োগ – সম্রাট অশোক গৃহীত এইসব ব্যবস্থাদি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সম্মান ও মর্যাদা এবং বৃত্তিগত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছিল । এতে ব্রাহ্মণরা ক্ষুদ্ধ হয় ।
২. অশোক অনুসৃত অহিংস নীতিঃ অশোক তাঁর অহিংস নীতির কারণে যুদ্ধ ত্যাগ করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে তোলেন , ফলে তাঁর সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিদেশি শত্রুর আক্রমণ রোধে ব্যর্থ হয় ।
৩. সাম্রাজ্যের বিশালতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতাঃ বিশাল সাম্রাজ্যকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ঠিকমতোa নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না । ফলে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পায় । আমলাতন্ত্র ছিল কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে । তাদের আনুগত্য ছিল রাজার প্রতি । রাজার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমলাদেরও পরিবর্তন ঘটত । ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল ।
৪. অর্থনৈতিক সংকটঃ অশোকের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে , স্তম্ভ নির্মাণে এবং মৌর্য সামরিক বাহিনী ও কর্মচারীদের বেতনখাতে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয় হয় । ব্যয়ের অনুপাতে রাজকোশে পর্যাপ্ত রাজস্ব জমা না হওয়ায় অশোকের পরবর্তী মৌর্য রাজাদের আমলে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় , যা মৌর্য সাম্রাজ্যের সুস্থিতিকে বিপন্ন করে ।
৫. অশোকের উত্তরাধিকারীদের দুর্বলতাঃ উত্তরাধিকারীদের দুর্বলতা মৌর্য সাম্রাজ্যকে হীনবল করে তোলে । মৌর্য সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ব্যাকট্রিয় গ্রিক জাতি উত্তর – পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং রাজধানী পাটলিপুত্র পর্যন্ত অগ্রসর হয় । এই বিদেশি আক্রমণের সুযোগ নিয়ে সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ তাঁর প্রভু শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করলে মৌর্য বংশ তথা মৌর্য সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে ।
2. গুপ্ত আমলে বাণিজ্যের পরিচয় দাও । অথবা , প্রাচীন ভারতে পরিবেশ – চিন্তা কেমন ছিল ?
Ans: প্রাচীন ভারতে পরিবেশ – চিন্তাঃ
১. বিষয়বস্তু : প্রাচীন ভারতে পরিবেশ – চিন্তার মূল বিষয় ছিল বন ও বনের পরিবেশ , পশুপাখি এবং গাছপালা ।
২. বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ : প্রাচীন ভারতে বনাঞ্চলের ক্ষতি করলে কড়া শাস্তির বিধান দেওয়া হত । তা ছাড়া বনজঙ্গল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হত ।
৩. বৃক্ষচ্ছেদন রোধ : খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে কৃষিকাজের পাশাপাশি নগরের উন্নতি ঘটলে জঙ্গল বা অরণ্য কাটা শুরু হয় । তাই বিভিন্ন সময়ে গাছ বাঁচানোর নানা উপায় হিসেবে বৃক্ষপূজার প্রচলন হয় এবং বৃক্ষচ্ছেদন রোধ করা হয় ।
3. গুপ্তযুগে শিক্ষাব্যবস্থার পরিচয় দাও । অথবা , প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো ।
Ans: প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রঃ প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কিত গ্রন্থ রচিত হতে থাকে ।
-
ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধদের ভূমিকা : ব্রাক্ষ্মণ ও বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা তাঁদের নানা লেখায় ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের উল্লেখ করেছেন । চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই হল ‘ চরক সংহিতা ’ ও ‘ শুশ্রুত সংহিতা ’ । চিকিৎসার গুরুত্বের কারণেই প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রকে বলা হত ‘ উপবেদ ” ।
-
গুপ্তযুগের চিকিৎসাশাস্ত্র : গুপ্ত আমলেও চিকিৎসা বিষয়ক বই লেখা হত । এইসব বইয়ের অন্যতম লেখক ছিলেন বাগভট ।
-
পশুচিকিৎসা : গুপ্ত ও গুপ্তোত্তরকালে পশুচিকিৎসা সম্পর্কিত বইও লেখা হতে থাকে ।
-
চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চায় সমস্যা : সমাজে জাতিভেদ প্রথার কঠোরতার ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল । প্রচলিত বর্ণাশ্রম প্রথার সঙ্গে চিকিৎসাবিদ্যার বিরোধিতা তৈরি হয় ।
©kamaleshforeducation.in(2023)



