ষষ্ঠ শ্রেণীর তৃতীয় ইউনিট টেস্ট

ইতিহাস বিষয়ের প্রশ্নপত্র

  এখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য ইতিহাস বিষয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হল। সেইসাথে একটি নমুনা মডেল প্রশ্নপত্রও দেওয়া হয়েছে।

শ্রেণী (Class)

পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ শ্রেণী (West Bengal Class 6th)

পরীক্ষা (Exam)

তৃতীয় ইউনিট টেস্ট (Third / 3rd Unit Test Model Questions) 

বিষয় (Subject)

ইতিহাস (History)

পূর্ণমান (Marks)

৭০ নম্বর (70 Marks)

সময় (Time)

২ ঘন্টা ৩০ মিনিট (2 Hours 30 Minute)

[A] সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো । 1×14=14  

  1. তাম্রলিপ্ত বন্দর অবস্থিত 

(A) উত্তরের কোঙ্কন উপকূলে 

(B) মালবার উপকূলে 

(C) কাবেরী বদ্বীপ এলাকায় 

(D) পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে 

Ans: (D) পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে 

  1. সেলিউকাসের দূত হয়ে মৌর্য দরবারে এসেছিলেন— 

(A) মেগাস্থিনিস 

(B) ডায়ামাকাস 

(C) ফাসিয়ান 

(D) প্রথম অ্যান্টিয়োকস 

Ans: (A) মেগাস্থিনিস

  1. উপবেদ বলা হত 

(A) রামায়ণকে 

(B) মহাভারতকে 

(C) চিকিৎসাশাস্ত্রকে 

(D) সংগম সাহিত্যকে 

Ans: (C) চিকিৎসাশাস্ত্রকে 

  1. দশাবতার মন্দির অবস্থিত 

(A) দেওঘরে 

(B) মহাবলিপুরমে 

(C) ইলোরায় 

(D) চন্দ্রকেতুগড়ে 

Ans: (A) দেওঘরে 

  1. কম্বনের রামায়ণে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হল  

(A) রাম 

(B) রাবণ 

(C) লক্ষ্মণ 

(D) সীতা 

Ans: (B) রাবণ

  1. কোন্ অঞ্চলে শালি ধানের চাষ বেশি হয় ? 

(A) বারাণসী 

(B) বঙ্গ 

(C) মগধ 

(D) তামিলনাড়ু 

Ans: (C) মগধ 

  1. ইন – তু হলো 

(A) ভারতবর্ষ

(B) চিনা দেবতা 

(C) মগধ 

(D) চিনা নদী 

Ans: (A) ভারতবর্ষ

  1. হাতিগুম্ফা শিলালেখ থেকে কার বিষয়ে জানা যায় ? 

(A) অশোক 

(B) সমুদ্রগুপ্ত 

(C) খারবেল 

(D) কনিষ্ক

Ans: (C) খারবেল

  1. অর্থশাস্ত্র – র লেখক হলেন 

(A) বাণভট্ট 

(B) কলহন 

(C) কৌটিল্য 

(D) হরিষেণ 

Ans: (C) কৌটিল্য 

  1. বজ্জিদের রাজধানী কোথায় ছিল ?

(A) অবন্তি 

(B) পাবা 

(C) কোশল 

(D) বৈশালি 

Ans: (D) বৈশালি

  1. ‘ মার্গ ’ কথার অর্থ— 

(A) পথ 

(B) সম্মান 

(C) সূত্র 

(D) নীতি 

Ans: (A) পথ

  1. দশ রাজার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন— 

(A) ভরত 

(B) সুদাস 

(C) বিক্রমাদিত্য 

(D) অশোক 

Ans: (B) সুদাস 

  1. একলব্যের গুরু ছিলেন 

(A) আয়োদধৌম্য 

(B) গৌতম 

(C) আত্রেয় 

(D) দ্রোণাচার্য 

Ans: (D) দ্রোণাচার্য 

  1. ইন্দো – আর্য ভাষার সব থেকে পুরানো সাহিত্য হল— 

(A) ঋগবেদ 

(B) ব্রাক্ষ্মণ 

(C) মহাভারত 

(D) বেদান্ত 

Ans: (A) ঋগবেদ 

[B] শূন্যস্থান পূরণ করো : 1×5=5  

  1. হেরোডোটাসের মতে ইন্দুস ছিল পারসিক সাম্রাজ্যের একটি _________ ।

Ans: হেরোডোটাসের মতে ইন্দুস ছিল পারসিক সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ।

  1. জীবক ছিলেন রাজ ______ ।

Ans: জীবক ছিলেন রাজ বৈদ্য । 

  1. গাথা সপ্তশতী গ্রন্থটি সংকলন করেন ________ ।

Ans: গাথা সপ্তশতী গ্রন্থটি সংকলন করেন সাতবাহন রাজা হাল । 

  1. কনিষ্ক _________ খ্রিস্টাব্দে কুষাণদের শাসক হন ।

Ans: কনিষ্ক 78 খ্রিস্টাব্দে কুষাণদের শাসক হন । 

  1. দিগম্বরদের নেতা ছিলেন _______ ।

Ans: দিগম্বরদের নেতা ছিলেন ভদ্রবাহু ।

[C] এককথায় উত্তর দাও : ( যে – কোনো ন – টি ) 1×9=9 

  1. সেতু কী ? 

Ans: প্রাচীন ভারতে জলসেচ প্রকল্পগুলিকে সেতু বলে । 

  1. শুশ্রুত কে ছিলেন ? 

Ans: শুশ্রুত একজন শল্য চিকিৎসক ছিলেন । 

  1. পুরাণ সাহিত্যে যবন কাদের বলা হত ? 

Ans: পুরাণ সাহিত্যে যবন বলা হত ব্যাকট্রিয়ার গ্রিকরাজাদের । 

  1. দেবকুল কী ? 

Ans: কুষাণ যুগের সম্রাট ও দেবতাদের একই বোঝানোর জন্য শাসকরা যে সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তা দেবকুল নামে পরিচিত । 

  1. ফাসিয়ানের মতে , দেশের সেরা নগর কোনটি ? 

Ans: ফাসিয়ানের মতে , দেশের সেরা নগর পাটলিপুত্র ।

  1. বৈদিক যুগের ক – টি ভাগ ও কী কী ? 

Ans: বৈদিক যুগের দুটি ভাগ । আদি বৈদিক যুগ ও পরবর্তী বৈদিক যুগ । 

  1. ‘ রাজা ’ কথার আক্ষরিক অর্থ কী ?

Ans: ‘ রাজা ’ কথার আক্ষরিক অর্থ নেতা । 

  1. মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত ? 

Ans: মহাস্থানগড় বাংলাদেশের বাগুড়া জেলায় অবস্থিত ।

  1. ত্রিপিটক কোন্ ভাষায় লেখা হয়েছে ? 

Ans: ত্রিপিটক পালি ভাষায় লেখা হয়েছে । 

  1. গৌতম বুদ্ধ কোন্ নগরে মারা যান ? 

Ans: গৌতম বুদ্ধ কুশি নগরে মারা যান ।

[D] নীচের প্রশ্নগুলি দু – তিনটি বাক্যে উত্তর দাও । 2×6=12 

  1. ঋগ্‌বৈদিক যুগের চতুর্বর্ণের পরিচয় দাও ৷ 

Ans: ঋগবেদ অনুযায়ী সমাজে প্রথম দিকে চতুর্বর্ণপ্রথা বিশেষভাবে প্রচলিত ছিল এমনটা বলা যায় না । সম্ভবত , ঋগবেদে বর্ণ বলতে মানুষের গায়ের রংকেই বোঝানো হত । চতুর্বর্ণপ্রথা : ঋগবেদের শেষের দিকে সমাজে ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির অস্তিত্বের কথা বলা হয় । ব্রাহ্মণরা যাগযজ্ঞ , পড়াশোনা ও শিক্ষাদানের কাজ করত । ক্ষত্রিয়রা রাজ্যশাসন এবং প্রজাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিত । বৈশ্যরা কৃষিকাজ , পশুপালন ও ব্যাবসাবাণিজ্যের কাজে যুক্ত থাকত এবং শূদ্ররা ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের সেবায় নিযুক্ত থাকত ।

  1. আর্যসত্যের পরিচয় দাও । 

Ans: বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের দুঃখের কারণ কী , কীভাবে সেই দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় — এই প্রশ্নগুলির উত্তরে চারটি উপদেশ দেন । প্রতিটি উপদেশকে বলা হয় আর্যসত্য । তাই এই চারটি উপদেশ একসঙ্গে চতুরার্যসত্য নামে অভিহিত হয় ।

  1. ‘ ত্রিরত্ন ’ কী ? 

Ans: সৎ বিশ্বাস , সৎ জ্ঞান ও সৎ আচরণের উপরে জৈনরা জোর দিতেন । এই তিনটিকে একসঙ্গে জৈন ধর্মের ত্রিরত্ন বলা হত । বৌদ্ধ ধর্মে গৌতম বুদ্ধ প্রধান ব্যক্তি । তাঁর প্রচার করা ধর্মই বৌদ্ধ ধর্ম । বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব বৌদ্ধ সংঘের । এই তিন মিলে হয় বুদ্ধ – ধৰ্ম্ম – সংঘ । এই তিনটি বৌদ্ধ ধর্মের ত্রিরত্ন ।

  1. ‘ অগ্রহার ব্যবস্থা ’ কী ? 

Ans: গুপ্ত ও গুপ্তোত্তরকালে বৌদ্ধ বিহার বা অন্যান্য মন্দির বা ব্রাহ্মণকে যে নিষ্কর জমিদান করা হত , তা অগ্রহার ব্যবস্থা নামে পরিচিত । এই ব্যবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জমি অর্থের বিনিময়ে কেনা হত এবং পরে তা দান করা হত । এই ধরনের জমি হস্তান্তর করা যেত না , কিন্তু বংশপরম্পরায় ভোগ করা যেত ।

  1. মিশরকে ‘ নীলনদের দান ’ বলা হয় কেন ? 

Ans: মিশর নীলনদের নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত একটি দেশ । মরু প্রকৃতির জলবায়ুর প্রভাবে এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই অল্প । মিশরের পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি । কিন্তু দেশের মধ্য দিয়ে নীলনদ প্রবাহিত হওয়ায় মিশর সম্পূর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হতে পারেনি । তাই মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় । 

  1. গুরুকুল ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো ?

Ans: বৈদিক যুগের শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রদের গুরুগৃহে থেকে পড়াশোনা করতে হত । তাই এই শিক্ষাব্যবস্থাকে বলা হয় গুরুকুল শিক্ষাব্যবস্থা । 

  1. সংখ্যায়ন কী ? 

Ans: ভারতীয় উপমহাদেশে গণিতচর্চার ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং জৈন ও বৌদ্ধ পণ্ডিতরাও গণিতচর্চা করতেন । বৌদ্ধদের গণিতবিজ্ঞান বিষয়টি তৈরি হয়েছিল পাটিগণিত , বীজগণিত ও জ্যামিতি নিয়ে । জৈনরা এই গণিতবিদ্যাকে বলতেন সংখ্যায়ন বা সাংখ্যায়ন ।

[E] নীচের প্রশ্নগুলির চার – পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও । 3×5 = 15 

  1. স্যাট্রাপি বা প্রদেশে শাসনব্যবস্থা কীরূপ ছিল ? অথবা , টীকা লেখ : ইন্ডিকা । 

Ans: ইন্ডিকাঃ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের আমলে গ্রিক শাসক সেলিউকাসের রাষ্ট্রদূতরূপে মেগাস্থিনিস পাটলিপুত্রে আসেন । এই সময় ভারত সম্পর্কে তিনি তাঁর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন ‘ ইন্ডিকা নামক গ্রন্থে । যদিও মূল গ্রন্থটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি , তবে গ্রন্থটির নানা অংশ পাওয়া গেছে পরবর্তী গ্রিক ও রোমান লেখকদের বিবরণে । এগুলি থেকে ভারতীয় ইতিহাসের নানা তথ্য পাওয়া যায় । এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল পাটলিপুত্র নগর সম্পর্কিত তথ্য ।

  1. গুপ্ত আমলে বাণিজ্যের পরিচয় দাও । অথবা , গুহাবাস কী ? 

Ans: গুহাবাসঃ মৌর্য সম্রাট অশোক ও তাঁর পরবর্তী মৌর্য সম্রাটরা আজীবিকদের জন্য পাহাড় কেটে কৃত্রিম গুহা বানাতেন ৷ এগুলি গুহাবাস নামে পরিচিত । এইসব গুহায় সন্ন্যাসীরা বসবাস করতেন ।

  1. ষোড়শ মহাজনপদের আমলে অর্থনীতি কীরূপ ছিল ? অথবা , ষোড়শ মহাজনপদের আমলে নগরগুলির অবস্থা কেমন ছিল ? 

Ans: ষোড়শ মহাজনপদের আমলে নগরগুলি আকারে গ্রামীণ বসতির তুলনায় বড়ো ছিল । প্রধানত শাসন ও ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা নগরে বাস করতেন । তবে এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারতেন না । তাই খাদ্যের জন্য তাঁদের গ্রামের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হত ।

 

  1. টীকা লেখো : দশরাজার যুদ্ধ অথবা , জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের কী কী মিল তোমার চোখে পড়ে ? 

Ans: দশ রাজার যুদ্ধঃ যুদ্ধের কথা ঋকবেদে অনেক আছে । তার মধ্যে বিখ্যাত হলো দশ রাজার যুদ্ধ । ভরত গোষ্ঠীর রাজা ছিলেন সুদাস । তাঁর সঙ্গে অন্যান্য দশটি গোষ্ঠীর রাজাদের যুদ্ধ হয়েছিল । সুদাস দশ রাজার জোটকে হারিয়ে দিয়েছিলেন । এর ফলে ভারত গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতা বেড়েছিল । নদীর ওপর একটি বাঁধ ভেঙে দিয়েছিলেন সুদাস । হয়তো নদীর জলের উপর অধিকার বজায় রাখার জন্যই এমনটা করা হয়েছিল । এই যুদ্ধের সঙ্গে পরবর্তীকালে মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কিছুটা মিল রয়েছে ।

 

  1. অশোকের জীবনে কলিঙ্গ যুদ্ধের প্রভাব লেখো । অথবা , অশোকের ‘ ধর্ম্ম ’ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

Ans: কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতার ফলে অশোকের মনের পরিবর্তন ঘটে । এরপর থেকেই তিনি প্রজাদের ঐক্যবদ্ধ করতে থাকেন । এই যুদ্ধের পর অশোক অন্য কোনো যুদ্ধ করেননি , বরং বৌদ্ধধর্মের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন । অশোকের ‘ ধম্ম ’ : অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পর প্রজাদের মধ্যে ‘ ধৰ্ম্ম ’ নীতি প্রচার করেন । অশোকের ধম্ম ও বৌদ্ধধর্মে বেশকিছু মিল থাকলেও এটি কোনো বিশেষ ধর্ম ছিল না । 

 

ধম্মের মূলকথা : অশোকের ধম্মে কতকগুলি সামাজিক আচরণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় । এর মূলে ছিল অহিংসা , প্ৰাণীহত্যা বন্ধ , দয়া , দান , সত্যকথা বলা , গুরুজনদের মেনে চলা প্রভৃতি । এর মাধ্যমে অশোক প্রজাদের সন্তানতুল্য মনে করতেন । 

 

উদ্দেশ্য : অশোকের ধম্মের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল মানুষের পারিবারিক ও সমাজজীবনের উন্নতি সাধন ।

 

[F] নীচের প্রশ্নগুলির আট – দশটি বাক্যে উত্তর দাও । 5×3=15

1. সমুদ্রগুপ্তের কৃতিত্ব বর্ণনা করো । অথবা , মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণগুলি লেখো ।

Ans: মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণঃ মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারণগুলি হলো— 

১. ব্রাহ্মণ শ্রেণির ক্ষোভঃ ‘ ধম্ম ’ নীতির প্রয়োগ দ্বারা পশুবলি নিষিদ্ধকরণ , সকলের ক্ষেত্রে দণ্ডসমতা ও ব্যবহারসমতা নীতির প্রয়োগ এবং ধর্মমহামাত্র নামক কর্মচারী নিয়োগ – সম্রাট অশোক গৃহীত এইসব ব্যবস্থাদি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সম্মান ও মর্যাদা এবং বৃত্তিগত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছিল । এতে ব্রাহ্মণরা ক্ষুদ্ধ হয় ।

 

২. অশোক অনুসৃত অহিংস নীতিঃ অশোক তাঁর অহিংস নীতির কারণে যুদ্ধ ত্যাগ করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে তোলেন , ফলে তাঁর সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিদেশি শত্রুর আক্রমণ রোধে ব্যর্থ হয় । 

 

৩. সাম্রাজ্যের বিশালতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতাঃ বিশাল সাম্রাজ্যকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ঠিকমতোa নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না । ফলে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পায় । আমলাতন্ত্র ছিল কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে । তাদের আনুগত্য ছিল রাজার প্রতি । রাজার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমলাদেরও পরিবর্তন ঘটত । ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল ।

 

৪. অর্থনৈতিক সংকটঃ অশোকের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে , স্তম্ভ নির্মাণে এবং মৌর্য সামরিক বাহিনী ও কর্মচারীদের বেতনখাতে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয় হয় । ব্যয়ের অনুপাতে রাজকোশে পর্যাপ্ত রাজস্ব জমা না হওয়ায় অশোকের পরবর্তী মৌর্য রাজাদের আমলে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় , যা মৌর্য সাম্রাজ্যের সুস্থিতিকে বিপন্ন করে । 

 

৫. অশোকের উত্তরাধিকারীদের দুর্বলতাঃ উত্তরাধিকারীদের দুর্বলতা মৌর্য সাম্রাজ্যকে হীনবল করে তোলে । মৌর্য সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ব্যাকট্রিয় গ্রিক জাতি উত্তর – পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং রাজধানী পাটলিপুত্র পর্যন্ত অগ্রসর হয় । এই বিদেশি আক্রমণের সুযোগ নিয়ে সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ তাঁর প্রভু শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করলে মৌর্য বংশ তথা মৌর্য সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে ।

 

2. গুপ্ত আমলে বাণিজ্যের পরিচয় দাও । অথবা , প্রাচীন ভারতে পরিবেশ – চিন্তা কেমন ছিল ? 

 

Ans: প্রাচীন ভারতে পরিবেশ – চিন্তাঃ 

 

১. বিষয়বস্তু : প্রাচীন ভারতে পরিবেশ – চিন্তার মূল বিষয় ছিল বন ও বনের পরিবেশ , পশুপাখি এবং গাছপালা । 

 

২. বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ : প্রাচীন ভারতে বনাঞ্চলের ক্ষতি করলে কড়া শাস্তির বিধান দেওয়া হত । তা ছাড়া বনজঙ্গল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হত ।

 

৩. বৃক্ষচ্ছেদন রোধ : খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে কৃষিকাজের পাশাপাশি নগরের উন্নতি ঘটলে জঙ্গল বা অরণ্য কাটা শুরু হয় । তাই বিভিন্ন সময়ে গাছ বাঁচানোর নানা উপায় হিসেবে বৃক্ষপূজার প্রচলন হয় এবং বৃক্ষচ্ছেদন রোধ করা হয় ।

 

3. গুপ্তযুগে শিক্ষাব্যবস্থার পরিচয় দাও । অথবা , প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো । 

 

Ans: প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রঃ প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কিত গ্রন্থ রচিত হতে থাকে ।

 

  1. ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধদের ভূমিকা : ব্রাক্ষ্মণ ও বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা তাঁদের নানা লেখায় ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের উল্লেখ করেছেন । চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই হল ‘ চরক সংহিতা ’ ও ‘ শুশ্রুত সংহিতা ’ । চিকিৎসার গুরুত্বের কারণেই প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রকে বলা হত ‘ উপবেদ ” ।

  2. গুপ্তযুগের চিকিৎসাশাস্ত্র : গুপ্ত আমলেও চিকিৎসা বিষয়ক বই লেখা হত । এইসব বইয়ের অন্যতম লেখক ছিলেন বাগভট । 

  3. পশুচিকিৎসা : গুপ্ত ও গুপ্তোত্তরকালে পশুচিকিৎসা সম্পর্কিত বইও লেখা হতে থাকে । 

  4. চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চায় সমস্যা : সমাজে জাতিভেদ প্রথার কঠোরতার ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল । প্রচলিত বর্ণাশ্রম প্রথার সঙ্গে চিকিৎসাবিদ্যার বিরোধিতা তৈরি হয় ।

 

SOURCE-BHUS

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top