আজকের পোস্টে “চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা” রচনাটি খুব সুন্দর এবং সেরা পয়েন্ট দিয়ে সহজ করে সঙ্গে শেয়ার করা হলো। নবম শ্রেণী থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সমস্ত ফাইনাল পরীক্ষাতে বিশেষ করে মাধ্যমিক ছাত্রছাত্রীদের এবছরের জন্য চরিত্র গঠনে খেলাধুলা এই রচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আধুনিক যুগে প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার ধরন বদলে গেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মোবাইল আরকম্পিউটার গেম এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে যে তারা বাড়ির বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করতে আর আগ্রহী নয়। কিন্তু এই পরিবর্তন আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য এবং চরিত্রের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। এই কারণেই ফাইনাল পরীক্ষাতে এই রচনাটি আসার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি রয়েছে।
বোর্ড: বিষয়বস্তু
1চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা / চরিত্র গঠনে শরীরচর্চা / মানুষের চরিত্রের উপর খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রভাব
1.1ভূমিকা :–
1.2সেকালের শরীরচর্চা :–
1.3খেলাধুলা ও শিক্ষা :–
1.4চরিত্র গঠনে খেলাধুলা :–
1.5প্রতিযোগী মনের সৃষ্টি :–
1.6খেলার ছলে শিক্ষা :–
1.7খেলার নানা দিকসমূহ :–
1.8সতকর্তা :–
1.9উপসংহার :–
চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা / চরিত্র গঠনে শরীরচর্চা / মানুষের চরিত্রের উপর খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রভাব
” সুস্থ শরীর গড়ে তোলে সুস্থ একটি মন খেলাধূলার ভুবন মাঝে লুকিয়ে আছে জীবন ধন “
ভূমিকা :–
মন ও মননের চর্চার পাশাপাশি শরীরের চর্চাও যে প্রয়োজন সে কথা মানুষ বহুযুগ আগেই উপলব্ধি করেছে। আর “Health is wealth”-এই সুবচনকে কার্যকরি করতে হলে খেলাধূলা অপরিহার্য। খেলাধুলারর মাধ্যমে নিজের চরিত্রের দুর্বল দিকগুলি কাটিয়ে ওঠা যায়। অর্থাৎ চরিত্র গঠনে খেলাধূলা বিশেষ সাহায্য করে।
সেকালের শরীরচর্চা :–
প্রাচীনকালের আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রদের অধ্যায়নই ছিল একমাত্র তপস্যা। তবে তাঁদের ব্যায়াম, প্রাণায়াম, ব্রাহ্মমুহুর্তে শয্যাত্যাগ, আশ্রমিক কার্যাবলী অনুসরন করতে হত কেবলমাত্র শরীরকে সুস্থ্য রাখার জন্য। তাঁরা বলতেন- “শরীরাং আদ্যং খলু ধর্মসাধনম্”।
খেলাধুলা ও শিক্ষা :–
শিক্ষা ও খেলাধুলা একে অন্যের পরিপূরক। তাই বিদ্যালয় জীবনে পড়াশুনার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চার বিশেষ প্রয়োজন। এতে যেমন দেহ সুস্থা থাকে তেমন মনও নির্মল থাকে। রুগ্ন ও অসুস্থ শরীর নিয়ে পড়াশুনা করা যায় না। তাই শরীর ঠিক রাখতে খেলার প্রয়োজন অর্থাৎ
“খেলাধুলা শিক্ষার অঙ্গ”।
চরিত্র গঠনে খেলাধুলা :–
চরিত্র গঠনে খেলাধূলার একটি বিশিষ্ট স্থান আছে। নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ, সময় সচেতনতা, সহযোগীতা বোধ, নীতিবোধ সততা প্রভৃতি মহৎ গুন গুলি খেলাধূলার মাধ্যমে অর্জিত হয়। তা শুধু ব্যক্তিত্ব উজ্জ্বল করে না, সমৃদ্ধ করে সমাজকেও।
প্রতিযোগী মনের সৃষ্টি :–
বিখ্যাত, শিক্ষাতাত্বিক হার্বার্ট স্পেন্সার খেলাধূলাকে বলেছেন- “অতিরিক্ত শক্তির প্রকাশ পথ” অর্থাৎ খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিযোগী মনের সৃষ্টি হয়। নেতৃত্বলাভের আশঙ্কা জাগ্রত হয়। যা ভবিষ্যতে নিজের ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে সাহায্য করে।
খেলার ছলে শিক্ষা :–
বর্তমানে শিক্ষা মনস্তাত্বিকগন শিশুশিক্ষায়“Playway in education” –পদ্ধতি চালু করার কথা বলছেন। এই ব্যবস্থায় কঠিন পাঠ্যপুস্তকাও শিক্ষার্থীর কাছে সহজ হয়ে ওঠে। তাছাড়া খেলাধূলার মাধ্যমে শিক্ষা প্রয়োগ করলে শিক্ষার্থির মনোযোগ আকর্ষন ঘটে। এমনকি ছোটদের জন্য বিভিন্ন ছড়া বা রাইমকে খেলা ও নাচের অঙ্গ-ভঙ্গীমার মাধ্যমে আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতি চালু হয়েছে।
খেলার নানা দিকসমূহ :–
“গীতা পাঠের চেয়ে ফুটবল খেললে স্বর্গের দ্বারস্থ হওয়া যায়”
‐বিবেকানন্দের এই উক্তি থেকে খেলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি। বর্তমানে ব্যারামচর্চা, লাঠিখেলা, তিরন্দাজি, ব্রতচারি, সাঁতার এমনকি বিভিন্ন দলগত খেলা যেমন- ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কবাডি, বাস্কেটবল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছে।
সতকর্তা :–
তবে একাথা ঠিক যে লেখাপড়া ত্যাগ করে খেশাধূলার কথা কেউ বলেনি। মনে রাখা দরকার, পড়াশোনার সঙ্গেই খেলাধূলা, পড়াশোনাকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে নয়। অতিরিক্ত খেলায় শরীর ক্লান্ত হয়ে গেছে। ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়ায় আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করা মুশকিল।
উপসংহার :–
মানুষকে চরিত্রবান ও ব্যক্তিসত্তা গড়ে তুলতে খেলার গুরুত্ব অপরিসীম। শৈশব ও কৈশরের সুকুমার প্রবিত্তিগুলি বজায় রাখতে খেলাধূলা একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে শুধু জাতীয় ঐক্য নয় বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা যায়। তাই বলা হয়,–
“The play with exersise, makes a man healthy, wealthy, and wise.”
সবশেষে, এটাই বলার যেকখনো একটি প্রবন্ধ রচনা মুখস্থ করে সেটিকে হুবহু পরীক্ষার খাতায় লেখার চেষ্টা না করা ভাল । এক্ষেত্রে নিজস্ব যোগ্য নম্বর পাওয়ার চান্স খুবই কম থাকে। কিন্তু যদি একটি রচনাকে উদাহরণ হিসেবে না দেখে যাওয়া যায়, তাহলে পরীক্ষার খাতাতে নিজেদের ভাষাতেও লেখা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে ।
তাই রচনাটি শেয়ার করা হলো । কোন পয়েন্টকে কেমন ভাবে লেখা রয়েছে এবং লেখার পয়েন্ট, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলিকে হাইলাইট করতে হবে , প্রয়োজনে ডাবল কোটেশন (“”) ব্যবহার করতে হবে।