অবশেষে বহুচর্চিত SLST এর XI -XII এর ইন্টারভিউ লিস্ট বেরোলো। কী করবেন এখন ?  

——————————————————————–

১) ভালোই হয়েছে। আপনাদের বেশিরভাগেরই ইন্টারভিউ লিস্টে নাম এসেছে। প্রবল হতাশামূলক প্রচারের ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে আগেই বলেছিলাম বেশিরভাগ জন সফল হবেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রচার চালানো হচ্ছিল। লক্ষ্য ছিল আপনাদের হতোদ্যম করে দিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে দেওয়া। তাঁদেরকেই আপনারা হতাশ করে দিয়েছেন। অভিনন্দন আপনাদের। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে দুঃখজনকভাবে আপনাদের কিছু জনের হলেও XI-XII এর ইন্টারভিউ লিস্টে নাম আসেনি। আবার আমি তাঁদের বলবো এখনও IX-X লেভেলের ফল প্রকাশ বাকি আছে। ওটাতে অবশ্যই আপনারা প্রায় সবাই থাকবেন। চিন্তা করবেন না। যাঁরা তার পরেও থাকবেন না তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

২) শেষ পর্যন্ত কিছু জনের নাম যদি ফাইনালি না আসে তাদের কথা ভুলে যাবেন না। তাঁদের পাশে থাকতে হবে সকলকেই। শেষ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চাপ বজায় রাখতে হবে। তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে এই দাবীতে লড়াই জারি রাখতে হবে। আইনি পথে। আন্দোলনের পথে।

৩) সিলেকশন প্রসেসের পরবর্তী ধাপের জন্য নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে যান। কোনো রকম আত্মসন্তুষ্টি নয়।

৪) প্রত্যাশা মতোই এই ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ নীতিবাগীশরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। যথারীতি তাঁদের সমস্ত ব্যথা বেদনা বেকারদের জন্য। বেকাররা চাকরি পেলেন না, এই দুঃখে তাঁরা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর পাশের চেয়ারে বসা মানুষটির যে বিনা দোষে চাকরি চলে যেতে বসেছে সেটা নিয়ে তাঁদের কোনো উদ্বেগ নেই। যাঁদের সহকর্মীদের প্রতি মায়া দয়া নেই তাঁদের বেকারদের প্রতি এত দরদ খুব আশ্চর্যজনক। তাঁদের এত উদ্বেগ কুমিরের কান্না কি না সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। সম্ভবত বেকারদের চাকরি না পাওয়ার চেয়ে আপনাদের চাকরিতে ফিরে আসার কারনে তাঁদের এই দুঃখের আর্তনাদ। রাজনীতির সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আফসোস। ওনাদের কথাতে রিয়াক্ট করবেন না। ইগনোর করুন।

৫) সবে মাত্র XI -XII এর লিস্ট বেরিয়েছে। এতে তো বেকার ভাই বোনেরা, অন্যায়ভাবে চাকরিহারা আপনারা এবং অন্য ইন সার্ভিসরা সকলেই কম্পিট করেছেন। স্বভাবতই এখানে কম্পিটিশন হয়েছে মারাত্মক। ফলে এক্সপেরিয়েন্সড টিচাররা তাঁদের এক্সপেরিয়েন্স এর মার্কসের কারনে এনলিস্টেড হয়েছেন বেশি। কাট অফ অস্বাভাবিক হাই হয়েছে।খুব স্বাভাবিক। এটা কেন হয়েছে বোঝার জন্য বিশাল বোদ্ধা হওয়ার দরকার নেই। আপনারা দাবি করুন দ্রুত IX -X এর রেজাল্ট আউট করতে। সেটাতে বেকার ভাই বোনেদের অনেকের নাম আসবে। আপনাদের বাকিদেরও প্রায় সবার নাম আসবে। মোট ভ্যাকেন্সির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাকরি বেকাররা পাবে। ঠিক যেমন সংখ্যায় এসএসসি থেকে সাধারণত একবারে চাকরি হয়ে থাকে সেই সংখ্যাতেই পাবে। 2016 এর নির্দোষদের চাকরি খেয়ে সেই চাকরি বেকারদের দিলে তবেই সুবিচার হবে, এটা একটা শয়তানী মনোবাসনা। এটাকে রিজেক্ট করুন।

৬) এমন অনেকে এক্সপিরিয়েন্স এর মার্কস নিয়ে এই লিস্টে আছেন যাঁদের এই মার্কস পাওয়ার যোগ্যতা নেই। ভেরিফিকেশন ঠিক মতো করার দাবি তুলুন। অনেক নির্মেদ হবে এই লিস্ট।

৭) আপনাদের সঙ্গে ঘোর অন্যায় হয়েছে। আপনাদের প্রায় সবারই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। তবুও খুব অল্প হলেও কিছু জনের নাম শেষ পর্যন্ত কোনো লিস্টেই না আসতে পারে। তাঁদের কথা ভুলে যাবেন না। তাঁদের পাশে থাকুন শেষ পর্যন্ত। তাঁদের লড়াইটাকেও নিজেদের লড়াই বলেই গণ্য করুন। তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের উপর চাপ বজায় রাখুন। সরকার চাইলে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতেই পারে। আইনত কোনো বাধা নেই।

৮) নিজেদের কথা অবশ্যই ভাবুন। আপনাদের অন্যায় বঞ্চনার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করুন। আপনাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার করে নিজের অধিকার ছিনিয়ে নিন। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখুন বেকার ভাই বোনেদের কথাও। তাঁদের সমব্যথী হন। তাঁরা আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নন। দীর্ঘদিন চাকরির সুযোগ না থাকায় ওনারাও মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। ওনাদের চাকরি পাওয়া দরকার। তার জন্য দ্রুত আবার পরীক্ষা নিতে হবে। ভ্যাক্যান্সি অনেক বাড়ানোর সুযোগ আছে। XI-XII এ ভিড় বেশি হবে। আর IX -X ফাঁকা হবে। সেই ফাঁকা জায়গায় এই SLST প্রসেসের মধ্যে থেকেই নিয়োগ করতে হবে। সঙ্গে যোগ করতে হবে আপডেটেড ভ্যাকেন্সি। এই দাবী আপনাদেরও জানানো উচিত। এতে যেমন আপনাদের সবার চাকরিতে ফিরে আসা নিশ্চিত হবে, তেমনি বেকার ভাই বোনেদেরও বেশি বেশি করে চাকরির সম্ভাবনা বাড়বে।

৯) 2016 ছাড়া অন্য ইন সার্ভিস যাঁরা লিস্টে এসেছেন বা পরেরটাতে আসতে চলেছেন তাঁদের অনুরোধ করুন এই চাকরিতে জয়েন না করতে।

১০) কাল থেকে যে চিল চিৎকার শুরু হয়েছে সেটা চলতে থাকবে কয়েকদিন। আপনাদের এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য এক্সট্রা মার্কস দিয়ে কী ভীষণ অনাচার করা হয়েছে তা নিয়ে খুব চিল্লাবে ওরা। চ্যাঁচাক। ওসবে কান দেওয়ার দরকার নেই। এই শব্দদূষণ থেকে দূরে থাকুন। আর সম্ভব হলে মাঝে মধ্যে ওদের বিনীতভাবে জানিয়ে দিন যে পৃথিবীর বেশিরভাগ সরকারি বেসরকারি চাকরিতে এক্সপেরিয়েন্স এর একটা মূল্য দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। অন্যায় কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। যা হয়েছে Recruitment Rules মেনেই হয়েছে। কোনও ক্যান্ডিডেট 60 এ 60 পেয়েও শুধুমাত্র এক্সপিরিয়েন্স না থাকার কারনে কয়েকটি সাবজেক্টে এনলিস্টেড না হতেই পারে সেটা গেজেট নোটিফিকেশন দেখলেই বোঝা যেত। সেটা দেখেই সবাই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেই নোটিফিকেশন আইনত অবৈধ নয়। সেটা তো সুপ্রীমকোর্ট বলেই দিয়েছে। 60 নম্বর পাওয়াটা যেমন Achievement তেমনি 6-7 বছর পড়ানোর অভিজ্ঞতাও একটা বড় Achievement। শুধু 60 দেখবেন কিন্তু অভিজ্ঞতাটা দেখবেন না এ কেমন আবদার ? সুতরাং, কোনো পাপ হয়নি। পাপ হয়েছিল যখন বিনা দোষে আপনাদের চাকরিটা খেয়ে নেওয়া হয়েছিল। এটাকে বড় জোর পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলা চলে।

১১) এরপর আসবে মামলাবাজরা। প্রচুর মামলা করবে। আগেও করেছে। আবার করবে। শেষ পর্যন্ত কিছুই করতে পারবে না। সুতরাং ওদের পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই। তবে আইনি প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। এখন থেকেই।

১২) সামনের কয়েকদিন অনেক কিছু ঘটবে। দেখুন। শুনুন। সেসব দেখে ঘাবড়াবেন না। উত্তেজিত হবেন না। শান্ত থাকুন। যুক্তি দিয়ে কথা বলুন। তবে কেউ খারাপ কথা বললে মাননীয় রোদ্দুর স্যারের কাছে বাহাত্তর ঘণ্টার একটা ক্র্যাশ কোর্স করে নিয়ে তারপর ওদের সঙ্গে কথা বলুন। 

SOURCE-SMR

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top