প্রথম অধ্যায় ভৌত পরিবেশ:

জীবের ওপর পরিবেশের প্রভাব

(পৃষ্ঠা ১২০) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর:

 

[অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর(মান ১ বা ২)]

 

. প্রশ্ন: পরাগমিলন কী?

উত্তর: ফুলের পরাগরেণু যখন অন্য কোনো ফুলে বা ওই একই ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তাকে পরাগমিলন বলে।

. প্রশ্ন: পরাগযোগে সাহায্য করে এমন একটি পতঙ্গের নাম লেখো।

উত্তর: মৌমাছি।

. প্রশ্ন: মধু আমরা কোথা থেকেপাই?

উত্তর: মৌচাক থেকে।

. প্রশ্ন: একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।

উত্তর: ল্যাকটোব্যাসিলাস

. প্রশ্ন: দই তৈরি করতে কোন অণুজীব সাহায্য করে?

উত্তর: ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক ব্যাকটেরিয়া।

. প্রশ্ন: পাউরুটি তৈরির জন্য কোন অণুজীব ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ইস্ট (Yeast) নামক ছত্রাক।

. প্রশ্ন: পাউরুটি তৈরির সময় আটার মণ্ড ফুলেওঠেকেন?

উত্তর: ইস্ট শর্করা ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে, যা মণ্ডটিকে ফুলিয়ে দেয়।

. প্রশ্ন: কুইনাইন কোন রোগের ওষুধ?

উত্তর: ম্যালেরিয়া।

. প্রশ্ন: কুইনাইন কোন গাছের ছাল থেকেপাওয়া যায়?

উত্তর: সিঙ্কোনা গাছ।

১০. প্রশ্ন: সিল্ক বা রেশম কোথা থেকেপাওয়া যায়?

উত্তর: রেশম মথের গুটি বা কোকুন থেকে।

১১. প্রশ্ন: ভেড়ার লোম থেকেকী তৈরিহয়?

উত্তর: উল বা পশম।

১২. প্রশ্ন: রজন বা রেজিন কোন গাছ থেকেপাওয়া যায়?

উত্তর: পাইন গাছ।

১৩. প্রশ্ন: গঁদ বা আঠা পাওয়া যায় এমন একটি গাছের নাম লেখো।

উত্তর: সজিনা বা বাবলা।

১৪. প্রশ্ন: একটি পরজীবী উদ্ভিদের উদাহরণ দাও।

উত্তর: স্বর্ণলতা।

১৫. প্রশ্ন: মিথোজীবিতা কী?

উত্তর: যখন দুটি আলাদা জীব একে অপরের সাহায্য নিয়ে বা নির্ভর করে বেঁচে থাকে।

১৬. প্রশ্ন: সাগরকুসুমের সঙ্গে কোন মাছের মিথোজীবিতা দেখা যায়?

উত্তর: জোকার মাছ (Clownfish)

১৭. প্রশ্ন: লাইকেন কীসের সমষ্টি?

উত্তর: শৈবাল ও ছত্রাকের।

১৮. প্রশ্ন: পরিযায়ী পাখি কাদের বলে?

উত্তর: যে পাখিরা শীতের হাত থেকে বাঁচতে দূর দেশ থেকে উড়ে আসে।

১৯. প্রশ্ন: পিঁপড়েরা কেন জাব পোকাদের লালনপালন করে?

উত্তর: জাব পোকার দেহ থেকে নিঃসৃত মিষ্টিরস খাওয়ার জন্য।

২০. প্রশ্ন: উইপোকা কাঠ হজম করতে পারে কেন?

উত্তর: তাদের অন্ত্রে থাকা বিশেষ আদ্যপ্রাণীর সাহায্যে।

২১. প্রশ্ন: চামড়া পাওয়া যায় এমন একটি প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: গরু।

২২. প্রশ্ন: বাঁশ গাছ আমাদের কী কাজে লাগে?

উত্তর: ঘর তৈরির খুঁটি বা ঝুড়ি তৈরিতে।

২৩. প্রশ্ন: একটি তন্তুজাত উদ্ভিদের নাম লেখো।

উত্তর: কার্পাস বা তুলো।

২৪. প্রশ্ন: পাটের তন্তু থেকে কী কী তৈরিহয়?

উত্তর: দড়ি, বস্তা বা চট।

২৫. প্রশ্ন: গাছ সালোকসংশ্লেষের সময় কোন গ্যাস ত্যাগ করে?

উত্তর: অক্সিজেন।

২৬. প্রশ্ন: গাছ সালোকসংশ্লেষের সময় কোন গ্যাস গ্রহণ করে?

উত্তর: কার্বন ডাইঅক্সাইড।

২৭. প্রশ্ন: পেনিসিলিন কেআবিষ্কার করেন?

উত্তর: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।

২৮. প্রশ্ন: পেনিসিলিন কী ধরণের অণুজীব থেকেপাওয়া যায়?

উত্তর: ছত্রাক।

২৯. প্রশ্ন: অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতেব্যবহৃত হয় এমন একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।

উত্তর: স্ট্রেপটোমাইসেস।

৩০. প্রশ্ন: মানুষের অন্ত্রেথাকা কোন ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন বি১২ তৈরি করে?

উত্তর: . কোলাই (E. coli)

৩১. প্রশ্ন: রবার গাছ থেকে প্রাপ্ত কষকে কী বলে?

উত্তর: ল্যাটেক্স।

৩২. প্রশ্ন: সিন্থেটিক উল বা ক্যাশমিলন কী?

উত্তর: খনিজ তেল থেকে তৈরি কৃত্রিম তন্তু।

৩৩. প্রশ্ন: গরুর সাথেগোবকের সম্পর্ককী?

উত্তর: মিথোজীবিতা।

৩৪. প্রশ্ন: ইস্ট কী ধরণের অণুজীব?

উত্তর: এককোষী ছত্রাক।

৩৫. প্রশ্ন: সাগরকুসুম আসলে উদ্ভিদ না প্রাণী?

উত্তর: এটি একটি সামুদ্রিক প্রাণী।

৩৬. প্রশ্ন: জাব পোকা উদ্ভিদের কী ক্ষতি করে?

উত্তর: উদ্ভিদের কচি অংশের রস শোষণ করে খেয়ে ফেলে।

৩৭. প্রশ্ন: বটের ফল খেয়ে বীজ ছড়ায় কোন পাখি?

উত্তর: বুলবুলি বা শালিক।

৩৮. প্রশ্ন: কার্পাস তুলো উদ্ভিদের কোন অংশ থেকে পাওয়া যায়?

উত্তর: ফল বা বীজের লোম থেকে।

৩৯. প্রশ্ন: রেশম পোকা চাষের পদ্ধতিকেকী বলে?

উত্তর: সেরিকালচার।

৪০. প্রশ্ন: পরজীবী প্রাণী হিসেবে উকুন কীভাবে পুষ্টি পায়?

উত্তর: মানুষের মাথার ত্বকে বাস করে রক্ত শোষণ করে।

৪১. প্রশ্ন: অণুজীব দেখতে কোন যন্ত্র লাগে?

উত্তর: মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র।

৪২. প্রশ্ন: ধানের খোসা বা তুষ কী কাজে লাগে?

উত্তর: জ্বালানি হিসেবে বা পশুখাদ্য হিসেবে।

৪৩. প্রশ্ন: ছত্রাক সাধারণত কোথায় জন্মায়?

উত্তর: অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতেএবং পচা জৈব পদার্থ আছেএমন জায়গায়।

৪৪. প্রশ্ন: মকরন্দ বা ফুলের মধু আসলে কী?

উত্তর: ফুলের গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক ধরণের মিষ্টি ও সুগন্ধি রস।

৪৫. প্রশ্ন: ইস্ট শর্করা কে ভেঙে কী উৎপন্ন করে?

উত্তর: কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অ্যালকোহল।

৪৬. প্রশ্ন: ল্যাকটো মানে কী?

উত্তর: ল্যাকটো মানে হলো দুধ।

৪৭. প্রশ্ন: মৌমাছিরা কেন সমাজবদ্ধ জীব?

উত্তর: তারা একত্রে বড় মৌচাকে বাস করে এবং তাদের মধ্যে শ্রম বিভাজন থাকে।

৪৮. প্রশ্ন: কাঠের আসবাবপত্র দীর্ঘস্থায়ী করতে কী মাখানো হয়?

উত্তর: রজন বা বার্নিশ।

৪৯. প্রশ্ন: পাটের বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?

উত্তর: করকোরাস (Corchorus)

৫০. প্রশ্ন: বিয়োজক কাকে বলে?

উত্তর: যারা মৃত জীবদেহ পচিয়ে সরল উপাদানে পরিণত করে।

৫১. প্রশ্ন: কুইনাইন স্বাদেকেমন?

উত্তর: অত্যন্ত তিতকুটে।

৫২. প্রশ্ন: চকোলেট তৈরিতে উদ্ভিদের কোন অংশ লাগে?

উত্তর: কোকো গাছের ফল বা বীজ।

৫৩. প্রশ্ন: আম গাছে কোন পরজীবী উদ্ভিদ দেখা যায়?

উত্তর: বান্দা।

৫৪. প্রশ্ন: সাগরকুসুমের শুঁড়গুলি কেমন হয়?

উত্তর: বিষাক্ত এবং আঠালো।

৫৫. প্রশ্ন: ফিতা কৃমি মানুষের দেহের কোথায় থাকে?

উত্তর: ক্ষুদ্রান্ত্রে।

৫৬. প্রশ্ন: স্বর্ণলতার রঙ কেমন হয়?

উত্তর: উজ্জ্বল সোনালী বা হলুদ বর্ণের।

৫৭. প্রশ্ন: বাঁশ আসলে কোন জাতীয় উদ্ভিদ?

উত্তর: ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ।

৫৮. প্রশ্ন: দইয়ের স্বাদ টক হয় কেন?

উত্তর: ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হওয়ার কারণে।

৫৯. প্রশ্ন: সাপের বিষ থেকেতৈরিওষুধের নাম কী?

উত্তর: অ্যান্টিভেনম

৬০. প্রশ্ন: কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস চেনার উপায় কী?

উত্তর: এটি স্বচ্ছ চুনজলকে ঘোলা করে দেয়।

[রচনামূলক / বর্ণ র্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর( মান /)]

 

৬১. প্রশ্ন: মানুষ খাবারের জন্য কীভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে তা বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: মানুষ তার বেচেঁ থাকার প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাবারের জন্যই উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। দানাশস্য (ধান, গম), ডাল, তেল (সর্ষে , সূর্যমুখী), শাকসবজি এবং ফলমূল আমরা উদ্ভিদ থেকেই পাই। এমনকি আমরা যে প্রাণিজ খাবার (যেমন মাছ, মাংস) খাই, সেই প্রাণীরাও খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপরই নির্ভর করে ।

৬২. প্রশ্ন: গাছ ও প্রাণীরা শ্বাসকার্যের জন্য একে অপরের ওপর কীভাবে নির্ভরশীল?

উত্তর: প্রাণীরা শ্বাসনেওয়ার সময় বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে । অন্যদিকে , সবুজ উদ্ভিদরা দিনের বেলা সালোকসংশ্লেষের সময় বাতাস থেকে সেই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে । এভাবে পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে ।

৬৩. প্রশ্ন: পরাগমিলনে প্রাণীদে র ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: মৌমাছি , প্রজাপতি , পাখি ও চামচিকার মতো প্রাণীরা যখন মকরন্দ বা মধুর খোঁজে ফুলে বসে , তখন তাদের ডানা, পা বা মুখে পরাগরেণু লেগে যায়। ওই প্রাণীটি যখন অন্য কোনো ফুলে গিয়ে বসে , তখন পরাগরেণু সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে পরাগযোগ ঘটায়। এর ফলেই গাছ ফল ও বীজ তৈরি করতে পারে ।

৬৪. প্রশ্ন: বীজের বিস্তারে প্রাণীরা কীভাবে সাহায্য করে ?

উত্তর: অনেক পাখি ও প্রাণী ফল খাওয়ার পর সেই ফলের বীজ দূরে কোথাও মলত্যাগে র মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আবার কিছু ফলের গায়ে কাঁটা বা হুক থাকে যা প্রাণীদের গায়ে আটকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। এভাবে নতুন নতুন স্থানে গাছ জন্মায়।

৬৫. প্রশ্ন: জামাকাপড় তৈরি র উপাদানের জন্য আমরা কীভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল?

উত্তর: উদ্ভি দ থেকে আমরা কার্পাস বা তুলো পাই যা দিয়ে সুতি বস্ত্র তৈরি হয়। আবার রেশম মথ থেকে সিল্ক বা রেশম পাওয়া যায়। এছাড়া ভেড়া বা ছাগলে র লোম থেকে উল পাওয়া যায়, যা দিয়ে শীতে র পোশাক তৈরি হয়।

৬৬. প্রশ্ন: ঘর তৈরিতে কী কী উদ্ভিজ্জ উপাদান ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ঘর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান উপকরণ যেমনবাঁশ, কাঠ, খড়, গোলপাতা, তালপাতা ইত্যাদি আমরা উদ্ভি দ থেকে ই পাই। জানলাদরজা ও আসবাবপত্রের জন্য আমরা কাঠের ওপর সম্পূর্ণ  নির্ভরশীল।

৬৭. প্রশ্ন: কুইনাইন কী? এর গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: কুইনাইন হলো সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকেপাওয়া একটি উপাদান। এটি ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসার জন্য প্রধান ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতেএই প্রাকৃতিক ওষুধের ভূমিকা অপরিসীম।

৬৮. প্রশ্ন: রজন বা রেজিন কী? এটি কী কাজেলাগে?

উত্তর: রজন হলোপাইন জাতীয় উদ্ভিদের এক ধরণের বর্জ্য পদার্থ। এটি প্রধানত কাঠের পালিশ তৈরির কাজে, সাবান তৈরিতে এবং কিছু বিশেষ ধরণের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

৬৯. প্রশ্ন: ল্যাকটোব্যাসিলাস কীভাবে দুধকে দইয়ে পরিণত করে?

উত্তর: ল্যাকটোব্যাসিলাস হলোএক ধরণের উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এটি দুধের মধ্যেথাকা শর্করাকেল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে। এই অ্যাসিডের প্রভাবেই দুধ জমে গিয়ে দইয়ে পরিণত হয়।

৭০. প্রশ্ন: পাউরুটি তৈরিতে ইস্টের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: পাউরুটি তৈরির মণ্ড বা ময়দার সাথেইস্ট মেশালেসেটি ময়দার শর্করাকে ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরিকরে। এই গ্যাস ময়দাকে ফুলিয়ে দেয় এবং পাউরুটি ছিদ্রযুক্ত ও নরম হয়।

৭১. প্রশ্ন: পেনিসিলিন কে আবিষ্কার করেন? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। এটি পেনিসিলিয়ামনামক ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়। এটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৭২. প্রশ্ন: মিথোজীবিতা বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যখন দুটি আলাদা প্রজাতির জীব একে অপরের ওপর নির্ভর করে বা একে অপরকে সাহায্য করে বেঁচে থাকে, তাকে মিথোজীবিতা বলে। যেমনগরু ও গোবক। গোবক গরুর গায়ের পোকা খেয়ে গোরুর উপকার করে এবং নিজে খাবার পায়।

৭৩. প্রশ্ন: পরজীবী জীব কাদের বলা হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যেসব জীব অন্য কোনো সজীব প্রাণীর দেহে বাস করে তার থেকেই পুষ্টিসংগ্রহ করেএবং অনেক সময় সেই প্রাণীর ক্ষতিকরে, তাদের পরজীবী বলে। যেমনমাথার উকুন বা স্বর্ণলতা গাছ।

৭৪. প্রশ্ন: উইপোকা কীভাবে কাঠ হজম করতে পারে?

উত্তর: উইপোকা সরাসরি কাঠ হজম করতে পারেনা। তাদের অন্ত্রে এক ধরণের বিশেষ আদ্যপ্রাণী বাস করে। এই আদ্যপ্রাণীরা উইপোকাকে কাঠ বা সেলুলোজ হজম করতে সাহায্য করে।

৭৫. প্রশ্ন: সাগরকুসুম ও জোকার মাছের মধ্যে মিথোজীবী সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: জোকার মাছ সাগরকুসুমের বিষাক্ত শুঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে থেকে শত্রুর হাত থেকে বাঁচে। বদলে জোকার মাছ সাগরকুসুমের গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে দেয় এবং সাগরকুসুমকে শত্রু মাছের হাত থেকে রক্ষা করে।

৭৬. প্রশ্ন: লাইকেন কী? এটি কীভাবে বেঁচে থাকে?

উত্তর: লাইকেন হলো শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থান। শৈবাল খাবার তৈরি করে ছত্রাককে দেয় এবং ছত্রাক পরিবেশ থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে আশ্রয় দেয়।

৭৭. প্রশ্ন: পরিযায়ী পাখি কাদের বলে? তারা কেন দেশান্তর করে?

উত্তর: যেসব পাখি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রচণ্ড শীত বা খাবারের অভাব থেকে বাঁচতে অনেক দূর উড়ে অন্য দেশে চলে আসে, তাদের পরিযায়ী পাখি বলে। অনুকূল আবহাওয়া ও প্রজননের খোঁজে তারা দেশান্তর করে।

৭৮. প্রশ্ন: অণুজীবরা কীভাবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে?

উত্তর: ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো অণুজীবরা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষকে পচিয়ে সরল উপাদানে ভেঙে দেয়। এই উপাদানগুলো মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং পরিবেশকে আবর্জনা মুক্ত রাখে।

৭৯. প্রশ্ন: রেশম মথ থেকে কীভাবে রেশম বা সিল্ক পাওয়া যায়?

উত্তর: রেশম মথের লার্ভা তার চারপাশে লালা দিয়ে একটি গুটি বা কোকুন তৈরি করে। এই কোকুনগুলিকে বিশেষ পদ্ধতিতে গরম জলে ফুটিয়ে তার থেকে রেশম সুতোবের করে আনা হয়।

৮০. প্রশ্ন: গঁদ বা আঠা আমাদের কী কী কাজে লাগে?

উত্তর: গঁদ সাধারণত বই বাঁধাইয়ের কাজেএবং আঠা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কিছু খাবার তৈরিতে এবং বিভিন্ন শিল্পেএর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

৮১. প্রশ্ন: কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদের ভূমিকা কী?

উত্তর: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের সময় ক্ষতিকর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করেএবং প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ত্যাগ করেবায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করে।

৮২. প্রশ্ন: জাব পোকা ও পিঁপড়ের সম্পর্কটি বুঝিয়ে বলো।

উত্তর: জাব পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত মিষ্টিরস খাওয়ার জন্য পিঁপড়েরা তাদের পাহারা দেয় এবং পালন করে। বিনিময়ে পিঁপড়েরা জাব পোকাদের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে। এটি একটি মিথোজীবী সম্পর্ক।

৮৩. প্রশ্ন: অ্যান্টিবায়োটিক কী? এটি কেন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: অণুজীব থেকে তৈরি যেসব ওষুধ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে, তাদের অ্যান্টিবায়োটিক বলে। স্ট্রেপটোমাইসিন বা পেনিসিলিন হলোএর উদাহরণ যা সংক্রামক রোগ সারাতে ব্যবহৃত হয়।

৮৪. প্রশ্ন: চামড়ার ব্যবহার বর্তমানে কেন কমানো উচিত বলে মনে করো?

উত্তর: চামড়া পাওয়ার জন্য বন্যপ্রাণী হত্যা করা হয় যা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। এছাড়া চামড়া তৈরির কারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জল মারাত্মক ভাবে দূষিত করে।

৮৫. প্রশ্ন: অণুজীবের সাহায্যে সার তৈরির প্রক্রিয়াটি আলোচনা করো।

উত্তর: ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জৈব বর্জ্যকে বিয়োজিত করে পচা সারে পরিণত করে। এই প্রাকৃতিক সার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং পরিবেশ বান্ধব।

৮৬. প্রশ্ন: কেন সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয় তা উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: অনেক ব্যাকটেরিয়া আমাদের উপকারেআসে। যেমনল্যাকটোব্যাসিলাস দই তৈরিতে লাগে, আবার ই. কোলাই আমাদের অন্ত্রে ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে।

৮৭. প্রশ্ন: পাউরুটি ছিদ্রযুক্ত ও নরম হয় কেন?

উত্তর: ইস্ট শর্করা ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি করে। মণ্ড থেকে এই গ্যাস বুদবুদ আকারে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পাউরুটিতে ছিদ্র তৈরি হয় এবং এটি নরম হয়।

৮৮. প্রশ্ন: সিল্ক ও উলের পোশাকের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: সিল্ক পাওয়া যায় রেশম মথ থেকেএবং এটি খুব চকচকেও হালকা হয়। উল পাওয়া যায় প্রাণীর লোম থেকেএবং এটি শরীর গরম রাখতে শীতকালে ব্যবহৃত হয়।

৮৯. প্রশ্ন: রবার সংগ্রহের পদ্ধতিটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: রবার গাছের কাণ্ডেখাঁজ কেটে সাদা সাদা কষ বা ল্যাটেক্স সংগ্রহ করা হয়। পরে এই ল্যাটেক্সকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমাট বাঁধিয়ে রবার তৈরি করা হয়।

৯০. প্রশ্ন: স্বর্ণলতা কীভাবে পুষ্টি সংগ্রহ করে? __

উত্তর: স্বর্ণলতা ক্লোরোফিলহীন হওয়ায় নিজের খাবার তৈরি করতে পারেনা। এটি অন্য আশ্রয়দাতা গাছের দেহে বিশেষ মূল ঢুকিয়ে দিয়ে সেই গাছ থেকে সরাসরি পুষ্টিরস শোষণ করে।

৯১. প্রশ্ন: মৌমাছিদের কেন সমাজবদ্ধ জীব বলা হয়?

উত্তর: মৌমাছিরা একটি চাকে রাণী, পুরুষ ও কর্মী এই তিন ভাগে ভাগ হয়ে একে অপরের ওপর নির্ভর করে সুশৃঙ্খলভাবে বাস করে বলে তাদের সমাজবদ্ধ জীব বলা হয়।

৯২. প্রশ্ন: অণুজীবরা কীভাবে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে?

উত্তর: অন্ত্রে থাকা কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৯৩. প্রশ্ন: কেন বাঁশকে ঘর তৈরির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপকরণ বলা হয়?

উত্তর: বাঁশ সস্তা, মজবুত এবং খুব নমনীয়। এটি দিয়ে ঘরের খুঁটি, বেড়া, এমনকি আসবাবপত্রও সহজে তৈরি করা যায়।

৯৪. প্রশ্ন: সাপের বিষ থেকেকীভাবেওষুধ তৈরিহয়?

উত্তর: সাপের বিষকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিশোধন করে ল্যাবরেটরিতে সাপে কাটার প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়।

৯৫. প্রশ্ন: পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ব্যবহারের কুপ্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর: প্লাস্টিক সহজে পচে না বা অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয় না। এটি ড্রেনে আটকে জল নিকাশিতে বাধা দেয় এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট করে।

৯৬. প্রশ্ন: ক্যাশমিলন বা সিন্থেটিক উল কেন উলের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়?

উত্তর: ক্যাশমিলন সস্তা, টেকসই এবং এটি পোকামাকড় দ্বারা সহজে নষ্ট হয় না। এছাড়া এটি ধোয়ার পর খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়।

৯৭. প্রশ্ন: সাগরকুসুম ও সন্ন্যাসী কাঁকড়া একে অপরের কী উপকার করে?

উত্তর: সাগরকুসুম কাঁকড়াকে বিষাক্ত শুঁড় দিয়ে রক্ষা করে, আর কাঁকড়ার ফেলে দেওয়া খাবারের অংশ সাগরকুসুম পায়। এভাবে তারা একে অপরের সাহায্যে বেঁচে থাকে।

৯৮. প্রশ্ন: মানুষের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কাজ কী?

 উত্তর: এই ব্যাকটেরিয়া খাবার হজম করতে সাহায্য করেএবং আমাদের শরীরে ভিটামিন বি১২ তৈরি করেআমাদের পুষ্টি জোগায়।

৯৯. প্রশ্ন: কেন আমাদের অকারণে গাছ কাটা উচিত নয়?

উত্তর: গাছ কাটলে পরিবেশে অক্সিজেনের অভাব ঘটবে, বৃষ্টিপাত কমবে এবং অনেক প্রাণী তাদের বাসস্থান হারাবে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

১০০. প্রশ্ন: পরিবেশ ও বিজ্ঞানের এই অধ্যায় থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

উত্তর: আমরা শিখি যে পরিবেশে প্রতিটি জীবসে অণুজীব হোক বা বিশাল গাছএকে অপরের ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতিকে রক্ষা করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top