অষ্টম অধ্যায় ‘মানুষের শরীর’

(পৃষ্ঠা ১২৭-১৪৬) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর:  

[অতিসংক্ষিপ্ত।নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ১ বা ২)]

 

১. প্রশ্ন: মানুষের শরীরের প্রধান কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অঙ্গ কোনটি?

উত্তর: মস্তিষ্ক।

২. প্রশ্ন: রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান পাম্পিং অঙ্গ কোনটি?

উত্তর: হৃৎপিণ্ড।

৩. প্রশ্ন: ফুসফুসের কাজ কী?

উত্তর: বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করা এবং শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়া

৪.? প্রশ্ন: লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কোন উৎসেচক শ্বেতসার পরিপাকে সাহায্য করে?

উত্তর: টায়ালিন।

৫. প্রশ্ন: রক্ত কেন লাল দেখায়?

উত্তর: লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে হিমোগ্লোবিন নামক রজক থাকার কারণে।

৬. প্রশ্ন: অস্থি বা হাড়ের প্রধান উপাদান কী কী?

উত্তর: ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস।

৭. প্রশ্ন: দুটি হাড় যেখানে যুক্ত হয় তাকে কী বলে?

উত্তর: অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট।

৮. প্রশ্ন: অস্ত্র (Intestine) প্রধানত কয় প্রকার?

উত্তর: দুই প্রকার- ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র।

৯.? প্রশ্ন: শরীরের বর্জ্য পদার্থ তরল আকারে বের করে দেয় কোন অঙ্গ?

উত্তর: বৃক্ক বা কিডনি।

১০.? প্রশ্ন: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে হাড়ের সংখ্যা কত?

উত্তর: ২০৬টি।

১১.? প্রশ্ন: লিগামেন্ট কী?

উত্তর: যা দুটি হাড়কে একে অপরের সাথে যুক্ত করে রাখে।

১২. প্রশ্ন: টেনডন কী?

উত্তর: যা হাড়ের সাথে পেশিকে যুক্ত করে।

১৩. প্রশ্ন: পিত্তরস কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?

উত্তর: যকৃৎ (Liver) থেকে।

১৪. প্রশ্ন: আমাদের হৃদস্পন্দন মাপার যন্ত্রের নাম কী?

উত্তর: স্টেথোস্কোপ।

১৫. প্রশ্ন: পাকস্থলীতে কোন অ্যাসিড খাবার হজমে ও জীবাণু মারতে সাহায্য করে?

উত্তর: হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCI)|

১৬.? প্রশ্ন: লোহিত রক্তকণিকার আয়ু কতদিন?

উত্তর: প্রায় ১২০ দিন।

১৭.? প্রশ্ন: শ্বেত রক্তকণিকার প্রধান কাজ কী?

উত্তর: শরীরের রোগ প্রতিরোধ করা বা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করা।

১৮.? প্রশ্ন: রক্ত তঞ্চন বা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে কোন কণা?

উত্তর: অণুচক্রিকা (Platelets)।

১৯.? প্রশ্ন: শিরার কাজ কী?

উত্তর: শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে দূষিত রক্ত (CO: যুক্ত) হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনা।

২০.  প্রশ্ন: ধমনীর কাজ কী?

উত্তর: হৃৎপিণ্ড থেকে বিশুদ্ধ রক্ত (O: যুক্ত) সারা শরীরে ছড়িয়ে দেওয়া।

২১. প্রশ্ন: মানুষের সুষুন্নাকাও কোথায় সুরক্ষিত থাকে?

উত্তর: মেরুদণ্ডের ভেতরে।

২২. প্রশ্ন: কোন অঙ্গটি আমাদের শরীরে রক্ত ছাঁকনির মতো কাজ করে?

উত্তর: বৃদ্ধ বা কিডনি।

২৩. প্রশ্ন: হাড়ের ভেতরে যে নরম পদার্থ থাকে তাকে কী বলে?

উত্তর: অস্থিমজ্জা (Bone Marrow)।

২৪. প্রশ্ন: দাঁতের ওপরের শক্ত সাদা স্তরটিকে কী বলে?

উত্তর: এনামেল।

২৫. প্রশ্ন: কঙ্কালতন্ত্রের কাজ কী?

উত্তর: শরীরের নির্দিষ্ট কাঠামো দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করা।

২৬. প্রশ্ন: অক্সিজেনযুক্ত রক্তকে কী বলা হয়?

উত্তর: বিশুদ্ধ রক্ত।

২৭. প্রশ্ন: হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা কয়টি?

উত্তর: চারটি (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।

২৮. প্রশ্ন: কোন পেশি আমাদের ইচ্ছামতো কাজ করে না?

উত্তর: অনৈচ্ছিক পেশি (যেমন- হৃৎপেশি)।

২৯. প্রশ্ন: আমাদের কনুই বা হাঁটুতে কোন ধরণের অস্থিসন্ধি থাকে?

উত্তর: কব্জা সন্ধি (Hinge Joint)।

৩০.? প্রশ্ন: মানুষের পাচনতন্ত্রের শুরু ও শেষ কোথায়?

উত্তর: মুখগহ্বর থেকে শুরু এবং পায়ুছিদ্রে শেষ।

৩১.? প্রশ্ন: মেরুদণ্ডের ছোট ছোট হাড়গুলোকে কী বলে?

উত্তর: কশেরুকা (Vertebrae)।

৩২.? প্রশ্ন: কোন হাড়টি মানুষের শরীরের সবচেয়ে লম্বা হাড়?

উত্তর: ফিমার (পায়ের হাড়)।

৩৩.? প্রশ্ন: ফুসফুস কোন আবরণের মাধ্যমে ঢাকা থাকে?

উত্তর: প্লুরা।

৩৪.? প্রশ্ন: মানুষের হৃৎপিণ্ডের আবরণীকে কী বলে?

উত্তর: পেরিকার্ডিয়াম।

৩৫.? প্রশ্ন: শরীরের কোন অঙ্গটি কথা বলতে সাহায্য করে?

উত্তর: স্বরযন্ত্র বা ল্যারিঙ্কস।

৩৬.? প্রশ্ন: বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে কোন কপাটিকা থাকে?

উত্তর: দ্বিপত্র কপাটিকা (Mitral Valve)।

৩৭.? প্রশ্ন: মূত্রনালির মাধ্যমে শরীর থেকে কী নির্গত হয়?

উত্তর: মূত্র বা ইউরিন।

৩৮.? প্রশ্ন: স্নায়ুতন্ত্রের একক কী?

উত্তর: নিউরন।

৩৯.? প্রশ্ন: আমাদের ঘাড় নাড়াতে কোন অস্থিসন্ধি সাহায্য করে?

উত্তর: পিভট সন্ধি।

৪০. প্রশ্ন: গ্লকোজ জারিত হয়ে কোন শক্তি উৎপন্ন করে?

উত্তর: স্থৈতিক শক্তি থেকে তাপ ও যান্ত্রিক শক্তি (এটি মূলত শ্বসন প্রক্রিয়া)।

৪১.? প্রশ্ন: শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে মস্তিষ্কের কোন অংশ?

উত্তর: লঘুমস্তিষ্ক।

৪২.? প্রশ্ন: মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কয়টি?

উত্তর: ৩২টি।

৪৩.? প্রশ্ন: ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা কোন কাজে সাহায্য করে?

উত্তর: শ্বাসক্রিয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে।

৪৪. প্রশ্ন: পৌষ্টিকনালীর কোন অংশে খাবারের শোষণ ঘটে?

উত্তর: ক্ষুদ্রান্ত্র।

৪৫. প্রশ্ন: রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?

উত্তর: স্ফিগমোম্যানোমিটার।

৪৬.প্রশ্ন: মানুষের লালাগ্রন্থির সংখ্যা কয়টি?

উত্তর: ৩ জোড়া।

৪৭. প্রশ্ন: যকৃৎ থেকে নিঃসৃত রস কোথায় জমা থাকে?

উত্তর: পিত্তাশয়ে।

৪৮.  প্রশ্ন: আমাদের শরীরের বর্ম বা রক্ষাকারী আবরণ কোনটি?

উত্তর: চামড়া বা ত্বক।

৪৯. প্রশ্ন: মেলানিন কোথায় থাকে?

উত্তর: ত্বকে (চামড়ার রঙ নির্ধারণ করে)।

৫০.? প্রশ্ন: কোন পেশি ক্লান্ত হয় না?

উত্তর: হৃৎপেশি।

৫১.? প্রশ্ন: ইনসুলিন হরমোন কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?

উত্তর: অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে।

৫২. প্রশ্ন: আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি কোনটি?

উত্তর: যকৃৎ।

৫৩. প্রশ্ন: মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনের পথ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: উইলিয়াম হার্ভে।

৫৪. প্রশ্ন: চোখের কোন অংশ আলোতে সাড়া দেয়?

উত্তর: রেটিনা।

৫৫. প্রশ্ন: কানের ভেতরে কোন হাড়টি শরীরের সবচেয়ে ছোট হাড়?

উত্তর: স্টেপিস।

৫৬. প্রশ্ন: ফুসফুসের বায়ুখলিকে কী বলে?

উত্তর: অ্যালভিওলাই।

৫৭. প্রশ্ন: খাদ্যনালীর সংকোচন-প্রসারণকে কী বলে?

উত্তর: পেরিস্টালসিস।

৫৮. প্রশ্ন: হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ কী?

উত্তর: অক্সিজেন পরিবহণ করা।

৫৯. প্রশ্ন: মূত্রাশয়ের কাজ কী?

উত্তর: সাময়িকভাবে মূত্র সঞ্চয় করে রাখা।

৬০. প্রশ্ন: একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নাড়ির স্পন্দন মিনিটে গড়ে কতবার?

উত্তর: ৭২-৮০ বার।

[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর মান ৩/৪)]

 

৬১. প্রশ্ন: মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলি কী কী? সংক্ষেপে এদের কাজ লেখো।

উত্তর: মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:

১. হৃৎপিণ্ড: এটি পাম্পের মতো কাজ করে রক্তকে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়।

২. রক্তবাহ (ধমনী, শিরা ও জালক): এদের মাধ্যমে রক্ত শরীরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করে।

৩. রক্ত: এটি পুষ্টি, অক্সিজেন ও হরমোন বহন করে এবং বর্জ্য পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে।

৬২. প্রশ্ন: পৌষ্টিকতন্ত্র বা পাচনতন্ত্র বলতে কী বোঝো? এর প্রধান অঙ্গগুলির নাম লেখো।

উত্তর: যে তন্ত্রের মাধ্যমে খাবার গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য অংশের বহিষ্করণ ঘটে, তাকে পৌষ্টিকতন্ত্র বলে।

এর প্রধান অঙ্গগুলি হলো- মুখগহ্বর, গ্রাসনালী, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র এবং পায়ু। এছাড়া যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয় পাচক রস নিঃসরণ করে সাহায্য করে।

৬৩. প্রশ্ন: লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে তাই এটি লাল, কিন্তু শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে না তাই এটি বর্ণহীন।

২. লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহণ করে, আর শ্বেত রক্তকণিকা রোগ জীবাণু ধ্বংস করে শরীরকে রক্ষা করে।

৩. লোহিত রক্তকণিকার আয়ু ১২০ দিন, কিন্তু শ্বেত রক্তকণিকার আয়ু মাত্র ১-১৫ দিন

৬৪. প্রশ্ন: বল ও সকেট সন্ধি এবং কব্জা সন্ধির মধ্যে তফাত কী? উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: বল ও সকেট সন্ধি: এই সন্ধিতে হাড়কে সব দিকে ঘোরানো যায়। যেমন- কাঁধের সন্ধি বা কোমরের সন্ধি।

কব্জা সন্ধি: এই সন্ধিতে হাড়কে কেবল এক দিকে (দরজার কব্জার মতো) বাঁকানো যায়। যেমন- কনুই বা হাঁটুর সন্ধি।

৬৫. প্রশ্ন: ফুসফুসের বায়ুখলি বা অ্যালভিওলাই-এর কাজ কী?

উত্তর: ফুসফুসের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই গ্যাসীয় আদান-প্রদানে সাহায্য করে।

আমরা যখন শ্বাস নিই, তখন বায়ুখলির চারপাশের রক্তজালক বাতাস থেকে অক্সিজেন শুষে নেয় এবং রক্তে থাকা ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুখলিতে ছেড়ে দেয়, যা পরে প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

৬৬.? প্রশ্ন: হৃদপিণ্ডের কপাটিকাগুলির গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠের মুখে কপাটিকা বা ভালভ থাকে। এদের প্রধান কাজ হলো রক্তের প্রবাহকে একদিকে নিয়ন্ত্রণ করা। কপাটিকাগুলি রক্তকে সামনের দিকে যেতে দেয় কিন্তুক্ত উল্টো পথে বা পেছল দিকে ফিরে আসতে বাধা দেয়। এর ফলে হৃদপিণ্ডে বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত মিশে যায় না।

৬৭.? প্রশ্ন: অস্থি বা হাড় মজবুত রাখতে আমাদের কী কী খাবার খাওয়া উচিত এবং কেন?

উত্তর: হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শাকসবজি) খাওয়া উচিত। এছাড়া ভিটামিন-ডি হাড়ের গঠনে অত্যন্ত জরুরি, যা সূর্যালোক ও মাছের তেল থেকে পাওয়া যায়। এই পুষ্টি উপাদানগুলো হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখে এবং হাড় ভেঙে যাওয়া বা ক্ষয় হওয়া রোধ করে।

৬৮. প্রশ্ন: বৃক্ক বা কিডনিকে কেন শরীরের ‘ছাঁকনি’ বলা হয়?

উত্তর: কিডনি রক্ত থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (যেমন- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া) এবং অতিরিক্ত জল ও লবণ ছেঁকে আলাদা করে। এই বর্জ্য পদার্থগুলো পরে মুত্র আকারে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। রক্তকে বিশুদ্ধ রাখা এবং শরীরের জলের ভারসাম্য বজায় রাখার এই কাজ ছাঁকনির মতো হওয়ায় একে শরীরের ছাঁকনি বলে।

৬৯.? প্রশ্ন: ঐচ্ছিক পেশি ও অনৈচ্ছিক পেশির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ঐচ্ছিক পেশি: যেসব পেশিকে আমরা আমাদের ইচ্ছামতো নাড়াচাড়া করতে পারি। যেমন- হাত ও পায়ের পেশি।

অনৈচ্ছিক পেশি: যেসব পেশি আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে নিজে থেকেই কাজ করে। যেমন- পাকস্থলী বা হৃদপিণ্ডের পেশি।

৭০. ? প্রশ্ন: মস্তিষ্ক কীভাবে আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: মস্তিষ্ক হলো শরীরের ‘সিপিইউ’ (CPU)। এটি শরীরের সমস্ত অঙ্গ থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে খবর সংগ্রহ করে এবং সেই অনুযায়ী নির্দেশ পাঠায়। আমরা কী দেখব, কী বলব, কীভাবে চলব-সবই মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আমাদের স্মৃতি, বুদ্ধি এবং আবেগও মস্তিষ্ক পরিচালনা করে।

৭১. প্রশ্ন: ধমনী ও শিরার মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. ধমনী সাধারণত বিশুদ্ধ রক্ত (অক্সিজেন যুক্ত) বহন করে, আর শিরা দূষিত রক্ত (কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত) বহন করে।

২. ধমনীর দেওয়াল পুরু ও স্থিতিস্থাপক হয়, শিরার দেওয়াল পাতলা হয়।

৩. ধমনীতে কপাটিকা থাকে না, কিন্তু শিরার ভেতরে রক্ত একদিকে চালনা করার জন্য কপাটিকা থাকে।

৭২.? প্রশ্ন: পাকস্থলীতে হজম প্রক্রিয়া কীভাবে ঘটে?

উত্তর: আমরা যখন খাবার খাই, তা গ্রাসনালী দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায়। পাকস্থলীর দেওয়াল থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এবং পেপসিন নামক উৎসেচক ক্ষরিত হয়। অ্যাসিড খাবারের জীবাণু মারে এবং উৎসেচক প্রোটিন জাতীয় খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এখানে খাবার ম মন্ডে পরিণত হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে যায়।

৭৩. প্রশ্ন: অণুচক্রিকা যদি রক্তে না থাকত, তবে কী সমস্যা হতো?

উত্তর: অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা। শরীরে কোথাও কেটে গেলে অণুচক্রিকা সেখানে জালিকা তৈরি করে রক্ত পড়া বন্ধ করে। অণুচক্রিকা না থাকলে সামান্য আঘাতেও শরীর থেকে প্রচুর রক্তপাত হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।

৭৪. প্রশ্ন: কঙ্কালতন্ত্রের কাজগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: ১. এটি শরীরের নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করে আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

২. এটি হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের মতো নরম অঙ্গগুলিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

৩. হাড়ের সাথে পেশি যুক্ত থেকে আমাদের চলাফেরায় সাহায্য করে।

৪. হাড়ের মজ্জা থেকে রক্তকণিকা তৈরি হয়।

৭৫. প্রশ্ন: মেরুদণ্ডও বা শিরদাঁড়া আমাদের কেন প্রয়োজন?

উত্তর: মেরুদণ্ড আমাদের শরীরের প্রধান ভার বহনকারী স্তম্ভ। এটি আমাদের সোজা হয়ে বসতে বা দাঁড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া মেরুদণ্ডের ভেতরের ফাঁকা জায়গায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুষুম্নাকাণ্ড’ (Spinal Cord) সুরক্ষিত থাকে, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অংশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

৭৬. প্রশ্ন: যকৃৎ বা লিভারের গুরুত্ব আমাদের শরীরে কতখানি?

উত্তর: যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এটি পিত্তরস তৈরি করে চর্বি জাতীয় খাবার হজমে সাহায্য করে। এছাড়া এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, ফ্লকোজ সঞ্চয় করে রাখে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে। যকৃৎ বিকল হলে হজম শক্তি নষ্ট হয় এবং শরীর বিষাক্ত হয়ে পড়ে।

৭৭. প্রশ্ন: হৃদস্পন্দন ও নাড়ির স্পন্দনের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয়ে রক্তকে ধমনীতে পাঠায়, তখন ধমনীর দেওয়ালে যে ঢেউ বা ধাক্কা অনুভূত হয় তাকেই নাড়ির স্পন্দন বলে। হৃদপিণ্ড যতবার পাম্প করে (স্পন্দিত হয়), নাড়ির স্পন্দনও ঠিক ততবারই পাওয়া যায়। একারণেই নাড়ির গতি দেখে চিকিৎসকরা হৃদপিণ্ডের অবস্থা বুঝতে পারেন।

৭৮. প্রশ্ন: শ্বসন প্রক্রিয়া ও শ্বাসক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: শ্বাসক্রিয়া হলো একটি ভৌত প্রক্রিয়া যেখানে আমরা কেবল বাতাস গ্রহণ করি ও ত্যাগ করি। কিন্তু শ্বসন হলো একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা কোষের ভেতরে ঘটে। শ্বসনের মাধ্যমে গ্রহণ করা অক্সিজেন খাবারের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।

৭৯. প্রশ্ন: স্নায়ুতন্ত্রের কাজগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর: স্নায়ুতন্ত্র শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে। এটি বাইরের উদ্দীপনা (যেমন- গরম বা ঠান্ডা) গ্রহণ করে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং মস্তিষ্ক থেকে আসা নির্দেশ পেশিতে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের কারণেই আমরা ব্যথা অনুভব করি এবং দ্রুত কোনো বিপদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারি।

৮০. প্রশ্ন: ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের কাজের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম হওয়া খাবারের পুষ্টি উপাদানগুলি রক্তে শোষিত হয়। এটি হজমের প্রধান কেন্দ্র। অন্যদিকে, বৃহদন্ত্রে খাবারের কোনো পরিপাক হয় না। এর কাজ হলো অপাচ্য অংশ থেকে জল ও খনিজ লবণ শুষে নেওয়া এবং বর্জ্য পদার্থকে মলে পরিণত করে জমা রাখা।

৮১. প্রশ্ন: আমাদের শরীরের চামড়া বা ত্বককে কেন ‘সংবেদনশীল অঙ্গ’ বলা হয়?

উত্তর: ত্বকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে স্নায়ুপ্রান্ত থাকে। এর ফলে আমরা স্পর্শ, চাপ, গরম, ঠান্ডা বা ব্যথার অনুভূতি পাই। ত্বক আমাদের বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে এবং কোনো ক্ষতিকর বস্তু শরীরে স্পর্শ করলে মস্তিষ্ককে সতর্ক করে দেয়।

৮২. প্রশ্ন: দাঁতের যত্ন না নিলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: দাঁতের যত্ন না নিলে থাবারের কণা জমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা দাঁতের ওপরের এনামেল স্তর ক্ষয় করে গর্ত বা ‘ক্যাভিটি’ তৈরি করে। এর ফলে দাঁতে যন্ত্রণা হয়, মাড়ি ফুলে যায় এবং মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। অবহেলা করলে অল্প বয়সেই দাঁত পড়ে যেতে পারে।

৮৩. প্রশ্ন: ইনসুলিন হরমোনের কাজ কী? এর অভাবে কী রোগ হয়?

উত্তর: ইনসুলিন হরমোন রক্তে শর্করার বা গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোষকে রক্ত থেকে ফ্লকোজ গ্রহণ করতে সাহায্য করে যাতে শক্তি উৎপন্ন হয়। ইনসুলিন হরমোন কম নিঃসরণ হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, যাকে ‘ডায়াবেটিস’ বা বহুমূত্র রোগ বলা হয়।

৮৪. প্রশ্ন: হাঁটু বা কনুইয়ের হাড় কেবল এক দিকেই ঘোরে কেন?

উত্তর: হাঁটু বা কনুইয়ের সন্ধিগুলি কব্জা সন্ধি বা ‘হিঞ্জ জয়েন্ট’ দিয়ে তৈরি। এই সন্ধির গঠন দরজার কব্জার মতো, যা হাড়কে ১৮০ ডিগ্রির বেশি বা বিপরীত দিকে ঘুরতে বাধা দেয়। এই বিশেষ গঠনের কারণেই হাড়গুলো কেবল এক দিকেই ভাজ করা সম্ভব হয়।

৮৫. প্রশ্ন: শরীর থেকে ঘাম বের হওয়া ভালো কেন?

উত্তর: ঘাম হওয়ার মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপ বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া ঘামের সাথে শরীরের কিছু অপ্রয়োজনীয় নুন ও বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। সুতরাং, ঘাম শরীরকে শীতল ও বিষমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

৮৬. প্রশ্ন: ফুসফুসকে সুস্থ রাখার দুটি উপায় লেখো।

উত্তর: ১. নিয়মিত প্রাণায়াম বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা উচিত যাতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে।

২. ধোঁয়া ও ধুলোবালি থেকে দূরে থাকা এবং ধূমপান বর্জন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এগুলো ফুসফুসে ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট তৈরি করে।

৮৭. প্রশ্ন: হৃদপিণ্ডের বাম নিলয়ের দেওয়াল অন্য প্রকোষ্ঠের চেয়ে পুরু হয় কেন?

উত্তর: হৃদপিণ্ডের বাম নিলয়কে অনেক বেশি চাপে রক্ত পাম্প করে সারা শরীরে (মাথা থেকে পা পর্যন্ত) পাঠাতে হয়। এই উচ্চচাপ সহ্য করার জন্য এবং শক্তিশালী পাম্পিং করার জন্য বাম নিলয়ের পেশিবহুল দেওয়াল অন্য সব প্রকোষ্ঠের তুলনায় অনেক বেশি পুরু ও মজবুত হয়।

৮৮. প্রশ্ন: লালা রসের দুটি কাজ লেখো।

উত্তর: ১. লালা রস শুকনো খাবারকে নরম ও পিচ্ছিল করে গিলতে সাহায্য করে।

২. লালা রসে থাকা টায়ালিন নামক উৎসেচক শ্বেতসার জাতীয় খাবারকে আংশিক হজম করতে শুরু করে এবং লাইসোজাইম নামক উপাদান খাবারের জীবাণু ধ্বংস করে।

৮৯. প্রশ্ন: ‘হৃদপেশি’ কেন ক্লান্ত হয় না?

উত্তর: হৃদপেশি একটি বিশেষ ধরণের অনৈচ্ছিক পেশি যা জন্মের আগে থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ছন্দবদ্ধভাবে কাজ করে। এই পেশির গঠন এমন যে এটি অত্যন্ত দ্রুত নিজেকে রিচার্জ করতে পারে এবং এর কোষে প্রচুর পরিমাণে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে যা অনবরত শক্তি সরবরাহ করে। ফলে এটি কখনো ক্লান্ত হয় না।

৯০. ? প্রশ্ন: রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া কেন হয়? এর লক্ষণ কী?

উত্তর: রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে রক্তাল্পতা হয়। সাধারণত আয়রনের অভাবে এটি হয়। এর লক্ষণ হলো- শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা অনুভব করা, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা এবং বুক ধড়ফড় করা।

৯১.? প্রশ্ন: লিম্ফ বা লসিকা বলতে কী বোঝো? এর কাজ কী?

উত্তর: রক্ত থেকে চুইয়ে আসা এক ধরণের হালকা হলুদ রঙের তরল যা শরীরের টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে থাকে, তাকে লসিকা বলে। এর প্রধান কাজ হলো রক্তে পুষ্টি উপাদান ফিরিয়ে আনা এবং লসিকা গ্রন্থির মাধ্যমে ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস করা।

৯২.? প্রশ্ন: শ্রবণ প্রক্রিয়া কীভাবে ঘটে?

উত্তর: বাইরের শব্দ কানের ছিদ্র দিয়ে ঢুকে কর্ণপটহে (ইয়ার ড্রাম) কম্পন সৃষ্টি করে। এই কম্পন কানের মধ্যভাগের তিনটি ছোট হাড়ের মাধ্যমে অন্তকর্ণে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে সংকেত মস্তিষ্কে যায় এবং আমরা শব্দ শুনতে পাই।

৯৩. প্রশ্ন: খাদ্যনালীর ভেতরে খাবার কীভাবে নিচের দিকে নামে?

উত্তর: খাদ্যনালীর দেওয়ালের পেশিগুলি ধারাবাহিকভাবে একবার সংকুচিত ও একবার প্রসারিত হয়। পেশির এই বিশেষ ধরণের ঢেউখেলানো গতিকে ‘পেরিস্টালসিস’ বলে। এই গতির মাধ্যমেই খাবার অভিকর্ষের সাহায্য ছাড়াই পাকস্থলীর দিকে এগিয়ে যায়।

১৪. প্রশ্ন: কেন শিশুদের হাড় বড়দের চেয়ে বেশি থাকে?

উত্তর: শিশুদের কঙ্কালে প্রায় ৩০০টির মতো হাড় থাকে। শিশু যখন বড় হতে থাকে, তখন কিছু ছোট ছোট হাড় একে অপরের সাথে জোড়া লেগে বা ফিউজড হয়ে যায়। পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর এই সংখ্যা কমে ২০৬টিতে দাঁড়ায়।

৯৫. প্রশ্ন: চোখের যত্নে আমাদের কী কী করা উচিত?

উত্তর: ১. ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- গাজর, পালং শাক) বেশি করে খাওয়া উচিত।

২. খুব কম আলোতে বা খুব কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকা উচিত নয়।

৩. ডিজিটাল স্ক্রিন (মোবাইল/টিভি) ব্যবহারের সময় মাঝে মাঝে চোখের বিশ্রাম দেওয়া এবং জলের ঝাপটা দেওয়া প্রয়োজন।

৯৬. প্রশ্ন: অ্যান্টিবডি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যখন কোনো রোগ জীবাণু (অ্যান্টিজেন) শরীরে প্রবেশ করে, তখন শ্বেত রক্তকণিকা তাকে মারার জন্য এক ধরণের বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে, একেই অ্যান্টিবডি বলে। এই অ্যান্টিবডি জীবাণুকে চিনে নিয়ে তাকে ধ্বংস করে এবং ভবিষ্যতে ওই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

৯৭. প্রশ্ন: মানুষের সুষুন্নাকাণ্ডের গুরুত্ব কী?

উত্তর: সুষুম্নাকাণ্ড আমাদের শরীরের ‘প্রতিবর্ত ক্রিয়া’ (Reflex Action) নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- হঠাৎ হাতে গরম লাগলে হাত সরিয়ে নেওয়া। মস্তিষ্ক ছাড়াও সুষুম্নাকাণ্ড সরাসরি অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা আমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করে।

৯৮.? প্রশ্ন: পরিপাক গ্রন্থি ও পরিপাক নালীর মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: পরিপাক নালী হলো সেই পথ যার ভেতর দিয়ে খাবার যায়। আর পরিপাক গ্রন্থি (যেমন- যকৃৎ, লালাগ্রন্থি) সেই নালীর ভেতরে প্রয়োজনীয় পাচক রস ও উৎসেচক ঢেলে দেয়। এই রসের প্রভাবে জটিল খাদ্য ভেঙে সরল পুষ্টিতে পরিণত হয়।

৯৯. প্রশ্ন: মানুষের শরীরের জল সংরক্ষণের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: মানুষের শরীরের প্রায় ৭০% জল। জল রক্ত সঞ্চালনে, খাবার হজমে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং বর্জ্য পদার্থ ত্যাগে প্রধান ভূমিকা পালন করে। শরীরে জলের অভাব হলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে, যা কিডনি ও মস্তিষ্কের বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে।

১০০. প্রশ্ন: বিজ্ঞানসম্মত জীবনযাত্রা কীভাবে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে?

উত্তর: সুষম খাবার খাওয়া, পর্যান্ত জল পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো- এই অভ্যাসগুলো শরীরের সমস্ত তন্ত্রকে সঠিকভাবে সচল রাখে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top