দশম অধ্যায় ‘জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিন্যাস’ 

(পৃষ্ঠা ১৬১-১৮২) থেকে গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন ও উত্তর  

[অতিসংক্ষিপ্ত।নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ১ বা ২)]

 

১. প্রশ্ন: জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি কাকে বলে?

উত্তর: কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রকার জীবের সমাহারকে জীববৈচিত্র্য বলে।

২. প্রশ্ন: পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর: রবার্ট হুইটেকার (Robert Whittaker)|

৩. প্রশ্ন: পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের রাজ্যগুলি কী কী?

উত্তর: মনেরা, প্রোটিস্টা, ফানজি (ছত্রাক), প্লান্টি (উদ্ভিদ) এবং অ্যানিমেলিয়া (প্রাণী)।

৪. প্রশ্ন: ব্যাকটেরিয়া কোন রাজ্যের অন্তর্গত?

উত্তর: মনেরা (Monera)।

৫. প্রশ্ন: মনেরা রাজ্যের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: এরা এককোষী এবং প্রোক্যারিওটিক (সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই)।

৬. প্রশ্ন: প্রোটিস্টা রাজ্যের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: অ্যামিবা বা প্যারামেসিয়াম।

৭. প্রশ্ন: ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: কাইটিন (Chitin)।

৮. প্রশ্ন: উদ্ভিদ রাজ্যের দুটি প্রধান ভাগ কী কী?

উত্তর: অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদ।

৯. প্রশ্ন: শৈবাল বা অ্যালগি-র একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত নয় এবং এরা ক্লোরোফিলযুক্ত

১০. প্রশ্ন: কোন উদ্ভিদকে ‘উদ্ভিদরাজ্যের উভচর’ বলা হয়?

উত্তর: মস (Bryophyta)|

১১. প্রশ্ন: ফার্ন কোন জাতীয় উদ্ভিদ?

উত্তর: টেরিডোফাইটা বা ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ।

১২. প্রশ্ন: ব্যক্তজীবী উদ্ভিদের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: পাইন বা সাইকাস।

১৩. প্রশ্ন: গুপ্তজীবী উদ্ভিদ কাকে বলে?

উত্তর: যাদের বীজ ফলের ভেতরে ঢাকা থাকে। যেমন- আম, জাম।

১৪. প্রশ্ন: একবীজপত্রী উদ্ভিদের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: ধান বা গম।

১৫. প্রশ্ন: দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতার শিরাবিন্যাস কেমন হয়?

উত্তর: জালিকাভাকৃতি (Reticulate)।

১৬. প্রশ্ন: পরিফেরা পর্বের একটি প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: সাইকন বা স্পঞ্জ।

১৭. প্রশ্ন: নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহে কী ধরণের বিশেষ কোশ থাকে?

উত্তর: নিডোব্লাস্ট কোশ।

১৮. প্রশ্ন: চ্যাপ্টা কৃমি কোন পর্বের অন্তর্গত?

উত্তর: প্লাটিহেলমিনথিস।

১৯. প্রশ্ন: গোল কৃমি কোন পর্বের প্রাণী?

উত্তর: নেমাটোডা (বা অ্যাশহেলমিনথিস)।

২০. প্রশ্ন: কেঁচো ও জোঁক কোন পর্বের অন্তর্গত?

উত্তর: অ্যানেলিডা (Annelida)।

২১. প্রশ্ন: সন্ধিপদ বা আর্থ্রোপোডা পর্বের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: এদের পাগুলো খণ্ড খণ্ড এবং জোড়া লাগানো থাকে।

২২. প্রশ্ন: প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব কোনটি?

উত্তর: আর্থ্রোপোডা (Arthropoda)।

২৩. প্রশ্ন: শামুক ও ঝিনুক কোন পর্বের প্রাণী?

উত্তর: মোলাস্কা (Mollusca)।

২৪. প্রশ্ন: একাইনোডার্মাটা পর্বের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: তারা মাছ (Starfish)।

২৫. প্রশ্ন: কর্ডাটা পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে নটোকর্ড থাকে।

২৬. প্রশ্ন: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?

উত্তর: পাঁচটি (মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী)।

২৭. প্রশ্ন: হাঙ্গর কোন জাতীয় মাছ?

উত্তর: তরুণাস্থিযুক্ত মাছ (Cartilaginous fish)|

২৮. প্রশ্ন: উভচর প্রাণীর একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: ব্যাঙ।

২৯. প্রশ্ন: সরীসৃপ প্রাণীর ত্বক কেমন হয়?

উত্তর: শুকনো এবং আঁশযুক্ত।

৩০.  প্রশ্ন: পাখিদের হাড় কেমন হয়?

উত্তর: হালকা এবং ভেতরটা ফাঁকা (বাতাস ভরা থাকে)।

৩১.প্রশ্ন: স্তন্যপায়ী প্রাণীর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: এদের দেহে লোম থাকে এবং বাচ্চারা মাতৃদুগ্ধ পান করে।

৩২. প্রশ্ন: দ্বিপদ নামকরণ কে চালু করেন?

উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস।

৩৩.? প্রশ্ন: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: Homo sapiens (হোমো স্যাপিয়েন্স)।

৩৪. প্রশ্ন: ফানজি বা ছত্রাক সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না কেন?

উত্তর: কারণ এদের কোষে ক্লোরোফিল থাকে না।

৩৫. প্রশ্ন: কর্ডাটা পর্বের উপপর্ব কোনটি যাতে নটোকর্ড মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়?

উত্তর: ভার্টিব্রাটা (Vertebrata)।

৩৬. প্রশ্ন: কুনো ব্যাঙের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: Duttaphrynus melanostictus

৩৭. প্রশ্ন: ব্যক্তজীবী উদ্ভিদের কাঠকে কী বলা হয়?

উত্তর: সফট উড (Soft wood)।

৩৮. প্রশ্ন: কোরাল বা প্রবাল কোন পর্বের প্রাণী?

উত্তর: নিডারিয়া।

৩৯. প্রশ্ন: ফিতা কৃমির রেচন অঙ্গের নাম কী?

উত্তর: ফ্লেম কোশ।

৪০. প্রশ্ন: অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের রেচন অঙ্গের নাম কী?

উত্তর: নেফ্রিডিয়া।

৪১. প্রশ্ন: চিংড়ি কি মাছ?

উত্তর: না, চিংড়ি একটি সন্ধিপদ (আর্থ্রোপোডা) পর্বের প্রাণী।

৪২. প্রশ্ন: শামুকের খোলক কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: ক্যালসিয়াম কার্বনেট।

৪৩. প্রশ্ন: তারা মাছের গমনে সাহায্য করে কোন অঙ্গ?

উত্তর: নালিকা পদ (Tube feet)।

৪৪. প্রশ্ন: তিমি কোন শ্রেণির প্রাণী?

উত্তর: স্তন্যপায়ী।

৪৫. প্রশ্ন: একটি অমেরুদণ্ডী কর্ডাটা প্রাণীর নাম বলো।

উত্তর: অ্যাসিডিয়া।

৪৬. প্রশ্ন: দ্বিপদ নামকরণের দুটি পদ কী কী?

উত্তর: গণ (Genus) এবং প্রজাতি (Species)|

৪৭. প্রশ্ন: জীববিদ্যার জনক কাকে বলা হয়?

উত্তর: অ্যারিস্টটল।

৪৮.  প্রশ্ন: ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: Oryza sativa

৪৯.  প্রশ্ন: লাইকেন কী?

উত্তর: শৈবাল ও ছত্রাকের মিথোজীবী সহাবস্থান।

৫০. প্রশ্ন: টেক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি কাকে বলে?

উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়।

৫১. প্রশ্ন: মসের দেহে সংবহন কলা থাকে কি?

উত্তর: না, মসে কোনো জাইলেম ও ফ্লোয়েম থাকে না।

৫২.? প্রশ্ন: পক্ষী শ্রেণির হৃতপিও কয় প্রকোষ্ঠযুক্ত?

উত্তর: চার প্রকোষ্ঠযুক্ত।

৫৩. প্রশ্ন: প্লাটিপাস বা হংসচঞ্চু কেন ব্যতিক্রমী স্তন্যপায়ী?

উত্তর: কারণ এটি স্তন্যপায়ী হওয়া সত্ত্বেও ডিম পাড়ে।

৫৪. প্রশ্ন: গোল কৃমি কোন অঙ্গে বাস করে?

উত্তর: মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে।

৫৫. প্রশ্ন: আরশোলার কঙ্কালটি কেমন?

উত্তর: কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল।

৫৬. প্রশ্ন: আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: Mangifera indica

৫৭. প্রশ্ন: কোন উদ্ভিদে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়?

উত্তর: একবীজপত্রী উদ্ভিদ (যেমন- কলা বা বাঁশ)।

৫৮. প্রশ্ন: মাকড়সা কোন শ্রেণির প্রাণী?

উত্তর: অ্যারাকনিডা (আর্থ্রোপোডা পর্ব)।

৫৯. প্রশ্ন: পেনিসিলিয়াম কী?

উত্তর: এক ধরণের ছত্রাক।

৬০. প্রশ্ন: জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর: অরণ্য ধ্বংস বা প্রাকৃতিক বাসভূমি নষ্ট হওয়া।

৬১. প্রশ্ন: পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিগুলি কী কী?

উত্তর: বিজ্ঞানী আর. এইচ. হুইটেকার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে জীবজগৎকে ভাগ করেছেন:

১. কোষের গঠন: কোষটি প্রোক্যারিওটিক না কি

ইউক্যারিওটিক।

২. দেহের গঠন: জীবটি এককোষী না কি বহুকোষী।

৩. পুষ্টির পদ্ধতি: জীবটি স্বভোজী

(নিজের খাবার নিজে তৈরি করে) না কি পরভোজী (অন্যের ওপর নির্ভরশীল)।

৪. জীবনশৈলী: জীবটি

উৎপাদক, খাদক না কি বিয়োজক।

৬২. প্রশ্ন: সপুষ্পক উদ্ভিদকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?

সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: সপুষ্পক উদ্ভিদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. ব্যক্তজীবী

(Gymnosperm): এদের ফুল হলেও ফল হয় না, তাই বীজগুলো নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। যেমন-

পাইন।

২. গুপ্তজীবী (Angiosperm): এদের বীজ ফলের ভেতরে ঢাকা থাকে। যেমন- আম, মটর। এদের আবার একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী-এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

৬৩. প্রশ্ন: একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. বীজপত্র: একবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজে একটি বীজপত্র

থাকে, কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজ বীজপত্র থাকে।

২. শিরাবিন্যাস: একবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায়

সমান্তরাল শিরাবিন্যাস থাকে, আর দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকাভাকৃতি শিরাবিন্যাস দেখা যায়।

৩.মূল: একবীজপত্রীদের অস্থানিক বা গুচ্ছমূল থাকে, কিন্তু দ্বিবীজপত্রীদের প্রধান মূল বা স্থানিক মূল থাকে।

৬৪. প্রশ্ন: পরিফেরা বা স্পঞ্জ পর্বের তিনটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো। উত্তর: ১. এদের সারা দেহে অসংখ্যছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যাদের অস্টিয়া বলে।

২. দেহের ওপরে একটি বড় ছিদ্র থাকে, যাকে অসকুলাম বলে।

৩. এদের দেহে জল সংবহনকারী নালীতন্ত্র দেখা যায় এবং এরা সাধারণত স্থিরভাবে কোনো কিছুর সাথে আটকে

থাকে।

৬৫.? প্রশ্ন: অ্যানেলিডা বা অঙ্গুরীমাল পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর: ১. এদের দেহ লম্বা এবং আংটির মতো অসংখ্য খণ্ডক নিয়ে গঠিত।

২. এদের দেহে রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির।

৩. এদের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো নেফ্রিডিয়া। উদাহরণ: কেঁচো, জোঁক।

৬৬. প্রশ্ন: আর্থ্রোপোডা বা সন্ধিপদ পর্বের প্রাণীরা কেন সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: সন্ধিপদ প্রাণীদের দেহে কাইটিন নির্মিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল থাকে যা তাদের প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে সাহায্য করে। এদের সন্ধিল উপাঙ্গ (জোড়া লাগানো পা) থাকায় এরা খুব দ্রুত চলাফেরা করতে পারে। এছাড়া এদের বিভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ, তাই এরা পৃথিবীর সর্বত্র এবং সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

৬৭.? প্রশ্ন: মোলাস্কা বা কম্বোজ পর্বের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. এদের দেহ অত্যন্ত নরম এবং সাধারণত খণ্ডকহীন।

২.দেহের বাইরে চুন বা ক্যালসিয়াম নির্মিত শক্ত খোলক থাকে।

৩. এদের দেহ একটি পাতলা পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে যাকে ম্যান্টল বলে।

উদাহরণ: শামুক, অক্টোপাস।

৬৮.? প্রশ্ন: কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: ১. জীবনের যেকোনো পর্যায়ে বা আজীবন দেহের অক্ষ বরাবর নমনীয় নটোকর্ড থাকে।

২. নটোকর্ডের ঠিক ওপরে একটি ফাঁপা স্নায়ুরজু থাকে।

৩. গলবিলের দু-পাশে ফুলকা ছিদ্র বর্তমান থাকে।

৬৯. প্রশ্ন: মাছ বা মৎস্য (Pisces) শ্রেণির প্রাণীদের জলজ অভিযোজনগুলি কী কী?

উত্তর: ১. এদের দেহ মাকু আকৃতির হওয়ায় জলে দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। ২. এদের দেহে যুগ্ম ও অযুগ্ম পাথনা থাকে যা জলে ভারসাম্য রক্ষা ও দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।

৩. এরা ফুলকার সাহায্যে জলের দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং শরীরে জলভেদ্য আঁশ থাকে।

৭০.? প্রশ্ন: উভচর (Amphibia) শ্রেণির শ্রেণি প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: ১. এরা জীবনের প্রথম দশা (ব্যাঙাচি) জলে এবং পূর্ণবয়স্ক দশা

ডাঙ্গায় কাটায়।

২. এদের ত্বক সিক্ত, নগ্ন এবং গ্রন্থিময় হয়।

৩. এদের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠযুক্ত (দুটি অলিন্দ ও

একটি নিলয়)। উদাহরণ: ব্যাঙ।

৭১. প্রশ্ন: সরীসৃপ (Reptilia) শ্রেণির তিনটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. এদের ত্বক শুষ্ক এবং এপিডার্মাল আঁশ বা পাতলা পাত দিয়ে ঢাকা থাকে।

২. এরা সাধারণত বুকে ভর দিয়ে চলে।

৩. এদের আঙুলে নখর থাকে এবং এরা সাধারণত ডাঙ্গায় শক্ত খোলসযুক্ত ডিম পাড়ে। উদাহরণ: সাপ, টিকটিকি।

৭২.? প্রশ্ন: পক্ষী বা পাখি (Aves) শ্রেণির ওডার জন্য কী কী বৈশিষ্ট্য

থাকে?

উত্তর: ১. এদের অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।

২. এদের হাড়গুলো বায়ুপূর্ণ ও হালকা(নিউম্যাটিক বোন)।

৩. এদের ফুসফুসের সাথে অতিরিক্ত বায়ুখলি (Air sac) থাকে যা ওড়ার সময়

অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখে।

৭৩.? প্রশ্ন: স্তন্যপায়ী (Mammalia) শ্রেণির প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি

কী কী?

উত্তর: ১. এদের দেহে লোম থাকে এবং ত্বকে ঘামগ্রন্থি ও সিব্যাসিয়াস গ্রন্থি থাকে।

২. মায়েরাস্তন্যদুগ্ধের সাহায্যে সন্তানদের লালন-পালন করেন।

৩. এদের কর্ণছত্র বা পিনা (বাইরের কান) থাকে এবং এদের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠযুক্ত।

৭৪.? প্রশ্ন: দ্বিপদ নামকরণ কাকে বলে? এর নিয়মগুলি কী কী?

উত্তর: গণ ও প্রজাতি-এই দুটি পদের সাহায্যে কোনো জীবের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নামকরণকে দ্বিপদ

নামকরণ বলে।

নিয়ম: ১. প্রথম পদটি হবে গণের নাম এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতির নাম।

২. ল্যাটিন ভাষায় নাম লিখতে হবে।

৩. ছাপার সময় নামগুলো বাঁকা অক্ষরে (Italics) লিখতে হবে।

৭৫. প্রশ্ন: জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: ১. বাস্তুতন্ত্র রক্ষা: জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।

২. খাদ্য ও ওষুধ: আমরা খাদ্য, বস্ত্র এবং জীবনদায়ী ওষুধের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করি।

৩. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: গাছপালা বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে।

৭৬. প্রশ্ন: শৈবাল ও মসের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. শৈবাল মূলত জলজ, কিন্তু মস ভিজে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে জন্মায়। ২. শৈবালের দেহ এককোষী বা বহুকোষী সূত্রাকার হতে পারে, কিন্তু মসের

দেহ চ্যাপ্টা খ্যালাসের মতো বা পাতাযুক্ত কান্ডের মতো হয়।

৩. শৈবালের দেহে রাইজয়েড থাকে না, কিন্তু

মসের দেহে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।

৭৭.? প্রশ্ন: তরুণাস্থিযুক্ত মাছ ও অস্থিযুক্ত মাছের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: তরুণাস্থিযুক্ত মাছ: এদের কঙ্কাল নরম তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি এবং এদের পটকা থাকে না (যেমন- হাঙ্গর)।

অস্থিযুক্ত মাছ: এদের কঙ্কাল শক্ত হাড় দিয়ে তৈরি এবং এদের দেহে পটকা থাকে যা এদের জলে ভাসতে সাহায্য করে (যেমন- রুই, কাতলা)।

৭৮.? প্রশ্ন: অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো। উত্তর: ১. অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের নটোকর্ড বা মেরুদণ্ড থাকে না, কিন্তু মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণ অবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও বড় হলে তা মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।

২. অমেরুদণ্ডীদের স্নায়ুরজ্জু দেহের অংকীয় দেশে (পেটের দিকে) থাকে, মেরুদণ্ডীদের পৃষ্ঠদেশে থাকে।

৩. অমেরুদণ্ডীদের হৃদপিণ্ড থাকলে তা পৃষ্ঠদেশে থাকে, মেরুদণ্ডীদের হৃদপিণ্ড দেহের অংকীয় দেশে থাকে।

৭৯. প্রশ্ন: টেক্সোনমি বা বিন্যাসবিধির ধাপগুলি কী কী?

উত্তর: লিনিয়াসের হায়ারার্কি অনুযায়ী ধাপগুলো হলো: রাজ্য (Kingdom), পর্ব(Phylum), শ্রেণি (Class), বর্গ (Order), গোত্র (Family), গণ (Genus), প্রজাতি (Species)। 

৮০.প্রশ্ন: ব্যক্তজীবী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: ১. এদের ফল গঠিত হয় না, তাই বীজগুলো অনাবৃত বা ব্যক্ত থাকে।

২. এদের কান্ডে সাধারণত কাষ্ঠল অংশ থাকে কিন্তু জাইলেম কলায় ‘ভেসেল’ থাকে না।

৩. এদের সাধারণত শঙ্করু আকৃতির শঙ্কু বা কোন (Cone) তৈরি হয়। উদাহরণ: পাইন।

৮১.? প্রশ্ন: নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. এদের দেহে দেহগহ্বর থাকে যাকে সিলেন্টেরন বলে।

২. এদের মুখছিদ্রকে ঘিরে কোষিকা থাকে যাতে বিষাক্ত নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে।

৩. এদের দেহে দু-রকম গঠন দেখা যায়- পলিপ ও মেডুসা। উদাহরণ: জেলিফিশ, হাইড্রা।

৮২.? প্রশ্ন: প্লাটিহেলমিনথিস বা চ্যাপ্টা কৃমির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। উত্তর: ১. এদের দেহ ফিতের মতো চ্যাপ্টা এবং এরা সাধারণত পরজীবী।

২. এদের দেহে কোনো প্রকৃত দেহগহ্বর (Coelom) থাকে না। ৩. এদের রেচন অঙ্গ হলো ফ্লেম কোষ। উদাহরণ: ফিতা কৃমি।

৮৩.? প্রশ্ন: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর: ১. ইন-সিটু সংরক্ষণ: জীবের প্রাকৃতিক বাসভূমিতেই তাকে রক্ষা করা (যেমন- অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান)।

২. এক্স-সিটু সংরক্ষণ: জীবের প্রাকৃতিক বাসভূমির বাইরে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ করা (যেমন- চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন)।

৮৪.? প্রশ্ন: ফানজি বা ছত্রাক জগতের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. এরা ক্লোরোফিলবিহীন অপুষ্পক উদ্ভিদ, তাই এরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না।

২. এদের দেহ সাধারণত সরু সুতোর মতো হাইফি নিয়ে গঠিত।

৩. এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন নামক শর্করা দিয়ে তৈরি। উদাহরণ: মাশরুম, পেনিসিলিয়াম।

৮৫.? প্রশ্ন: মনেরা ও প্রোটিস্টা রাজ্যের মধ্যে প্রধান তফাত কী?

উত্তর: মনেরা রাজ্যের জীবরা প্রোক্যারিওটিক (যেমন- ব্যাকটেরিয়া), এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। অন্যদিকে, প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবরা

এককোষী হলেও তারা ইউক্যারিওটিক (যেমন- অ্যামিবা), অর্থাৎ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।

৮৬.? প্রশ্ন: হার্বেরিয়াম (Herbarium) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: এটি এমন একটি সংগ্রহশালা যেখানে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ বা নমুনাকে শুকিয়ে, বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত করে কাগজের শিটে আটকে রাখা হয়। এটি গবেষণার কাজে এবং শ্রেণিবিন্যাস শিখতে ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করে।

৮৭.? প্রশ্ন: একাইনোডার্মাটা বা কণ্টকত্বকী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. এদের দেহত্বকে চুন জাতীয় কাঁটা

থাকে। ২. এদের গমন অঙ্গ হলো নালিকা পদ (Tube feet)।

৩. এদের দেহে জল সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।

উদাহরণ: তারা মাছ, সমুদ্র শশা।

৮৮. ? প্রশ্ন: ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: ১. এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।

২. এদের পাতাকে ‘ফ্রন্ড’ (Frond) বলা হয় এবং কচি

পাতাগুলো কুণ্ডলীর মতো পেঁচানো থাকে।

৩. এদের দেহে সুগঠিত সংবহন কলা (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) থাকে।

উদাহরণ: ঢেকিশাক।

৮৯. প্রশ্ন: ভাইরাসের গঠনকে কেন জীবনের সাধারণ কোশের থেকে আলাদা বলা হয়?

উত্তর: ভাইরাস কোনো পূর্ণাঙ্গ কোশ নয়। এদের নিজস্ব কোনো সাইটোপ্লাজম বা বিপাকীয় ক্ষমতা নেই। এরা প্রোটিন আবরণী দিয়ে ঢাকা নিউক্লিক অ্যাসিড মাত্র। পোষক দেহের বাইরে এরা জড় পদার্থের মতো

আচরণ করে, কেবল পোষক কোশে ঢুকলে জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে। ৯০.? প্রশ্ন: বায়োম বা জীবমণ্ডল কী?

উত্তর: একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল যেখানে জলবায়ুর মিল থাকে এবং সেখানে এক ধরণের বিশেষ উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল বসবাস করে, তাকে বায়োম বলে। যেমন- মরুভূমি বায়োম বা তুন্দ্রা বায়োম।

 ৯১.? প্রশ্ন: লাইকেনকে কেন মিথোজীবিতার উদাহরণ বলা হয়?

উত্তর: লাইকেনে একটি শৈবাল ও একটি ছত্রাক একসাথে থাকে। শৈবাল সালোকসংশ্লেষ করে খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয়, আর ছত্রাক শৈবালকে জল, খনিজ ও আশ্রয় দেয়। উভয়েই একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয় বলে একে মিথোজীবিতা বলে।

৯২.? প্রশ্ন: গুপ্তজীবী উদ্ভিদের জীবনচক্রে ফুলের ভূমিকা কী?

উত্তর: ফুল হলো গুপ্তজীবী উদ্ভিদের জনন অঙ্গ। ফুলের মাধ্যমেই পরাগযোগ ও নিষেকের ফলে ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়। এই বীজ থেকেই নতুন চারাগাছ জন্ম নেয় এবং বংশবৃদ্ধি ঘটে।

৯৩.? প্রশ্ন: কর্ডাটা ও ভার্টিব্রাটার মধ্যে সম্পর্ক বুঝিয়ে বলো।

উত্তর: সব কর্ডাটাই ভার্টিব্রাটা নয়, কিন্তু সব ভার্টিব্রাটাই কর্ডাটা। কর্ডাটা পর্বের যেসব প্রাণীর নটোকর্ড ভ্রূণবস্থার পর হাড় বা তরুণাস্থি নির্মিত মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়, তাদেরই ভার্টিব্রাটা বলা হয়।

৯৪.? প্রশ্নঃ তিমি ও হাঙ্গরের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: তিমি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী (বাচ্চা দেয় ও ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়), কিন্তু হাঙ্গর একটি তরুণাস্থিযুক্ত মাছ (ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়)। এদের দৈহিক আকৃতি একই রকম হলেও শ্রেণি সম্পূর্ণ আলাদা।

৯৫.? প্রশ্ন: প্রজাতি (Species) কাকে বলে?

উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষুদ্রতম একক হলো প্রজাতি। একদল জীব যারা গঠনগতভাবে একই রকম এবং নিজেদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম, তাদের প্রজাতি বলে।

৯৬.? প্রশ্ন: শৈবাল বা অ্যালগির গুরুত্ব কী?

উত্তর: শৈবাল বায়ুমণ্ডলে প্রচুর অক্সিজেন যোগ করে। অনেক সামুদ্রিক শৈবাল মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং বিভিন্ন শিল্পে (আগার তৈরিতে) ব্যবহৃত হয়।

৯৭.  প্রশ্ন: পতঙ্গ বা ইনসেক্টদের দেহে কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে?

উত্তর: এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত (মস্তক, বক্ষ, উদর) এবং এদের তিন জোড়া সন্ধিল পা থাকে। এদের অধিকাংশেরই ডানা থাকে।

৯৮. প্রশ্ন: মসের রাইজয়েডের কাজ কী?

উত্তর: মসের প্রকৃত মূল নেই। রাইজয়েড উদ্ভিদকে মাটির সাথে আটকে রাখতে সাহায্য করে এবং মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

৯৯. প্রশ্ন: মানুষের শ্রেণিবিন্যাস লেখো।

উত্তর: রাজ্য: অ্যানিমেলিয়া,

পর্ব: কর্ডাটা,

উপপর্ব: ভার্টিব্রাটা,

শ্রেণি: ম্যামেলিয়া (স্তন্যপায়ী),

বর্গ: প্রাইমেট,

গণ: হোমো,

প্রজাতি: স্যাপিয়েন্স।

১০০. প্রশ্ন: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য কেন অপরিহার্য?

উত্তর: প্রতিটি জীব খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। তাই পরিবেশকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে এবং মানুষের টিকে থাকার জন্যই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top