উত্তর: সন্ধিপদ প্রাণীদের দেহে কাইটিন নির্মিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল থাকে যা তাদের প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে সাহায্য করে। এদের সন্ধিল উপাঙ্গ (জোড়া লাগানো পা) থাকায় এরা খুব দ্রুত চলাফেরা করতে পারে। এছাড়া এদের বিভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ, তাই এরা পৃথিবীর সর্বত্র এবং সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
৬৭.? প্রশ্ন: মোলাস্কা বা কম্বোজ পর্বের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. এদের দেহ অত্যন্ত নরম এবং সাধারণত খণ্ডকহীন।
২.দেহের বাইরে চুন বা ক্যালসিয়াম নির্মিত শক্ত খোলক থাকে।
৩. এদের দেহ একটি পাতলা পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে যাকে ম্যান্টল বলে।
উদাহরণ: শামুক, অক্টোপাস।
৬৮.? প্রশ্ন: কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: ১. জীবনের যেকোনো পর্যায়ে বা আজীবন দেহের অক্ষ বরাবর নমনীয় নটোকর্ড থাকে।
২. নটোকর্ডের ঠিক ওপরে একটি ফাঁপা স্নায়ুরজু থাকে।
৩. গলবিলের দু-পাশে ফুলকা ছিদ্র বর্তমান থাকে।
৬৯. প্রশ্ন: মাছ বা মৎস্য (Pisces) শ্রেণির প্রাণীদের জলজ অভিযোজনগুলি কী কী?
উত্তর: ১. এদের দেহ মাকু আকৃতির হওয়ায় জলে দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। ২. এদের দেহে যুগ্ম ও অযুগ্ম পাথনা থাকে যা জলে ভারসাম্য রক্ষা ও দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।
৩. এরা ফুলকার সাহায্যে জলের দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং শরীরে জলভেদ্য আঁশ থাকে।
৭০.? প্রশ্ন: উভচর (Amphibia) শ্রেণির শ্রেণি প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ১. এরা জীবনের প্রথম দশা (ব্যাঙাচি) জলে এবং পূর্ণবয়স্ক দশা
ডাঙ্গায় কাটায়।
২. এদের ত্বক সিক্ত, নগ্ন এবং গ্রন্থিময় হয়।
৩. এদের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠযুক্ত (দুটি অলিন্দ ও
একটি নিলয়)। উদাহরণ: ব্যাঙ।
৭১. প্রশ্ন: সরীসৃপ (Reptilia) শ্রেণির তিনটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. এদের ত্বক শুষ্ক এবং এপিডার্মাল আঁশ বা পাতলা পাত দিয়ে ঢাকা থাকে।
২. এরা সাধারণত বুকে ভর দিয়ে চলে।
৩. এদের আঙুলে নখর থাকে এবং এরা সাধারণত ডাঙ্গায় শক্ত খোলসযুক্ত ডিম পাড়ে। উদাহরণ: সাপ, টিকটিকি।
৭২.? প্রশ্ন: পক্ষী বা পাখি (Aves) শ্রেণির ওডার জন্য কী কী বৈশিষ্ট্য
থাকে?
উত্তর: ১. এদের অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।
২. এদের হাড়গুলো বায়ুপূর্ণ ও হালকা(নিউম্যাটিক বোন)।
৩. এদের ফুসফুসের সাথে অতিরিক্ত বায়ুখলি (Air sac) থাকে যা ওড়ার সময়
অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখে।
৭৩.? প্রশ্ন: স্তন্যপায়ী (Mammalia) শ্রেণির প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি
কী কী?
উত্তর: ১. এদের দেহে লোম থাকে এবং ত্বকে ঘামগ্রন্থি ও সিব্যাসিয়াস গ্রন্থি থাকে।
২. মায়েরাস্তন্যদুগ্ধের সাহায্যে সন্তানদের লালন-পালন করেন।
৩. এদের কর্ণছত্র বা পিনা (বাইরের কান) থাকে এবং এদের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠযুক্ত।
৭৪.? প্রশ্ন: দ্বিপদ নামকরণ কাকে বলে? এর নিয়মগুলি কী কী?
উত্তর: গণ ও প্রজাতি-এই দুটি পদের সাহায্যে কোনো জীবের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নামকরণকে দ্বিপদ
নামকরণ বলে।
নিয়ম: ১. প্রথম পদটি হবে গণের নাম এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতির নাম।
২. ল্যাটিন ভাষায় নাম লিখতে হবে।
৩. ছাপার সময় নামগুলো বাঁকা অক্ষরে (Italics) লিখতে হবে।
২. খাদ্য ও ওষুধ: আমরা খাদ্য, বস্ত্র এবং জীবনদায়ী ওষুধের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করি।
৩. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: গাছপালা বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে।
৭৬. প্রশ্ন: শৈবাল ও মসের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. শৈবাল মূলত জলজ, কিন্তু মস ভিজে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে জন্মায়। ২. শৈবালের দেহ এককোষী বা বহুকোষী সূত্রাকার হতে পারে, কিন্তু মসের
দেহ চ্যাপ্টা খ্যালাসের মতো বা পাতাযুক্ত কান্ডের মতো হয়।
৩. শৈবালের দেহে রাইজয়েড থাকে না, কিন্তু
মসের দেহে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।
৭৭.? প্রশ্ন: তরুণাস্থিযুক্ত মাছ ও অস্থিযুক্ত মাছের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: তরুণাস্থিযুক্ত মাছ: এদের কঙ্কাল নরম তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি এবং এদের পটকা থাকে না (যেমন- হাঙ্গর)।
অস্থিযুক্ত মাছ: এদের কঙ্কাল শক্ত হাড় দিয়ে তৈরি এবং এদের দেহে পটকা থাকে যা এদের জলে ভাসতে সাহায্য করে (যেমন- রুই, কাতলা)।
৭৮.? প্রশ্ন: অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো। উত্তর: ১. অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের নটোকর্ড বা মেরুদণ্ড থাকে না, কিন্তু মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণ অবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও বড় হলে তা মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।
২. অমেরুদণ্ডীদের স্নায়ুরজ্জু দেহের অংকীয় দেশে (পেটের দিকে) থাকে, মেরুদণ্ডীদের পৃষ্ঠদেশে থাকে।
৩. অমেরুদণ্ডীদের হৃদপিণ্ড থাকলে তা পৃষ্ঠদেশে থাকে, মেরুদণ্ডীদের হৃদপিণ্ড দেহের অংকীয় দেশে থাকে।
৭৯. প্রশ্ন: টেক্সোনমি বা বিন্যাসবিধির ধাপগুলি কী কী?
উত্তর: লিনিয়াসের হায়ারার্কি অনুযায়ী ধাপগুলো হলো: রাজ্য (Kingdom), পর্ব(Phylum), শ্রেণি (Class), বর্গ (Order), গোত্র (Family), গণ (Genus), প্রজাতি (Species)।
৮০.প্রশ্ন: ব্যক্তজীবী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: ১. এদের ফল গঠিত হয় না, তাই বীজগুলো অনাবৃত বা ব্যক্ত থাকে।
২. এদের কান্ডে সাধারণত কাষ্ঠল অংশ থাকে কিন্তু জাইলেম কলায় ‘ভেসেল’ থাকে না।
৩. এদের সাধারণত শঙ্করু আকৃতির শঙ্কু বা কোন (Cone) তৈরি হয়। উদাহরণ: পাইন।
৮১.? প্রশ্ন: নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. এদের দেহে দেহগহ্বর থাকে যাকে সিলেন্টেরন বলে।
২. এদের মুখছিদ্রকে ঘিরে কোষিকা থাকে যাতে বিষাক্ত নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে।
৩. এদের দেহে দু-রকম গঠন দেখা যায়- পলিপ ও মেডুসা। উদাহরণ: জেলিফিশ, হাইড্রা।
৮২.? প্রশ্ন: প্লাটিহেলমিনথিস বা চ্যাপ্টা কৃমির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। উত্তর: ১. এদের দেহ ফিতের মতো চ্যাপ্টা এবং এরা সাধারণত পরজীবী।
২. এদের দেহে কোনো প্রকৃত দেহগহ্বর (Coelom) থাকে না। ৩. এদের রেচন অঙ্গ হলো ফ্লেম কোষ। উদাহরণ: ফিতা কৃমি।
৮৩.? প্রশ্ন: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।
উত্তর: ১. ইন-সিটু সংরক্ষণ: জীবের প্রাকৃতিক বাসভূমিতেই তাকে রক্ষা করা (যেমন- অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান)।
২. এক্স-সিটু সংরক্ষণ: জীবের প্রাকৃতিক বাসভূমির বাইরে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ করা (যেমন- চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন)।
৮৪.? প্রশ্ন: ফানজি বা ছত্রাক জগতের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. এরা ক্লোরোফিলবিহীন অপুষ্পক উদ্ভিদ, তাই এরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না।
২. এদের দেহ সাধারণত সরু সুতোর মতো হাইফি নিয়ে গঠিত।
৩. এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন নামক শর্করা দিয়ে তৈরি। উদাহরণ: মাশরুম, পেনিসিলিয়াম।
৮৫.? প্রশ্ন: মনেরা ও প্রোটিস্টা রাজ্যের মধ্যে প্রধান তফাত কী?
উত্তর: মনেরা রাজ্যের জীবরা প্রোক্যারিওটিক (যেমন- ব্যাকটেরিয়া), এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। অন্যদিকে, প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবরা
এককোষী হলেও তারা ইউক্যারিওটিক (যেমন- অ্যামিবা), অর্থাৎ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
৮৬.? প্রশ্ন: হার্বেরিয়াম (Herbarium) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: এটি এমন একটি সংগ্রহশালা যেখানে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ বা নমুনাকে শুকিয়ে, বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত করে কাগজের শিটে আটকে রাখা হয়। এটি গবেষণার কাজে এবং শ্রেণিবিন্যাস শিখতে ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করে।
৮৭.? প্রশ্ন: একাইনোডার্মাটা বা কণ্টকত্বকী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
৩. এদের দেহে সুগঠিত সংবহন কলা (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) থাকে।
উদাহরণ: ঢেকিশাক।
৮৯. প্রশ্ন: ভাইরাসের গঠনকে কেন জীবনের সাধারণ কোশের থেকে আলাদা বলা হয়?
উত্তর: ভাইরাস কোনো পূর্ণাঙ্গ কোশ নয়। এদের নিজস্ব কোনো সাইটোপ্লাজম বা বিপাকীয় ক্ষমতা নেই। এরা প্রোটিন আবরণী দিয়ে ঢাকা নিউক্লিক অ্যাসিড মাত্র। পোষক দেহের বাইরে এরা জড় পদার্থের মতো
আচরণ করে, কেবল পোষক কোশে ঢুকলে জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে। ৯০.? প্রশ্ন: বায়োম বা জীবমণ্ডল কী?
উত্তর: একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল যেখানে জলবায়ুর মিল থাকে এবং সেখানে এক ধরণের বিশেষ উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল বসবাস করে, তাকে বায়োম বলে। যেমন- মরুভূমি বায়োম বা তুন্দ্রা বায়োম।
৯১.? প্রশ্ন: লাইকেনকে কেন মিথোজীবিতার উদাহরণ বলা হয়?
উত্তর: লাইকেনে একটি শৈবাল ও একটি ছত্রাক একসাথে থাকে। শৈবাল সালোকসংশ্লেষ করে খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয়, আর ছত্রাক শৈবালকে জল, খনিজ ও আশ্রয় দেয়। উভয়েই একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয় বলে একে মিথোজীবিতা বলে।
৯২.? প্রশ্ন: গুপ্তজীবী উদ্ভিদের জীবনচক্রে ফুলের ভূমিকা কী?
উত্তর: ফুল হলো গুপ্তজীবী উদ্ভিদের জনন অঙ্গ। ফুলের মাধ্যমেই পরাগযোগ ও নিষেকের ফলে ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়। এই বীজ থেকেই নতুন চারাগাছ জন্ম নেয় এবং বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৯৩.? প্রশ্ন: কর্ডাটা ও ভার্টিব্রাটার মধ্যে সম্পর্ক বুঝিয়ে বলো।
উত্তর: সব কর্ডাটাই ভার্টিব্রাটা নয়, কিন্তু সব ভার্টিব্রাটাই কর্ডাটা। কর্ডাটা পর্বের যেসব প্রাণীর নটোকর্ড ভ্রূণবস্থার পর হাড় বা তরুণাস্থি নির্মিত মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়, তাদেরই ভার্টিব্রাটা বলা হয়।
৯৪.? প্রশ্নঃ তিমি ও হাঙ্গরের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: তিমি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী (বাচ্চা দেয় ও ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়), কিন্তু হাঙ্গর একটি তরুণাস্থিযুক্ত মাছ (ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়)। এদের দৈহিক আকৃতি একই রকম হলেও শ্রেণি সম্পূর্ণ আলাদা।
৯৫.? প্রশ্ন: প্রজাতি (Species) কাকে বলে?
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষুদ্রতম একক হলো প্রজাতি। একদল জীব যারা গঠনগতভাবে একই রকম এবং নিজেদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম, তাদের প্রজাতি বলে।
৯৬.? প্রশ্ন: শৈবাল বা অ্যালগির গুরুত্ব কী?
উত্তর: শৈবাল বায়ুমণ্ডলে প্রচুর অক্সিজেন যোগ করে। অনেক সামুদ্রিক শৈবাল মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং বিভিন্ন শিল্পে (আগার তৈরিতে) ব্যবহৃত হয়।
৯৭. প্রশ্ন: পতঙ্গ বা ইনসেক্টদের দেহে কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে?
উত্তর: এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত (মস্তক, বক্ষ, উদর) এবং এদের তিন জোড়া সন্ধিল পা থাকে। এদের অধিকাংশেরই ডানা থাকে।
৯৮. প্রশ্ন: মসের রাইজয়েডের কাজ কী?
উত্তর: মসের প্রকৃত মূল নেই। রাইজয়েড উদ্ভিদকে মাটির সাথে আটকে রাখতে সাহায্য করে এবং মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
উত্তর: প্রতিটি জীব খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। তাই পরিবেশকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে এবং মানুষের টিকে থাকার জন্যই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য।