৬২. প্রশ্ন: জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: জৈব ভঙ্গুর: এরা অণুজীবের সাহায্যে দ্রুত পচে মাটিতে মিশে যায়।এদের থেকে সার তৈরি করা যায়। যেমন- কাগজ, খাবারের অবশিষ্টাংশ। জৈব অভঙ্গুর: এরা পচে না এবং দীর্ঘকাল প্রকৃতিতে অবিকৃত থাকে। এরা মাটি ও জল দূষণ ঘটায়। যেমন- পলিথিন, কাচ, থার্মোকল।
৬৩. প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ফোর-আর (4R) পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পরিবেশকে রক্ষা করতে ৪টি নীতি অনুসরণ করা হয়:
১. Reduce (হ্রাস): বর্জ্যের পরিমাণ কমানো।
২. Reuse (পুনর্ব্যবহার): কোনো জিনিস ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহার করা।
৩. Recycle (পুনশ্চক্রীকরণ): বর্জ্য থেকে নতুন ব্যবহারযোগ্য জিনিস তৈরি।
৪. Refuse (প্রত্যাখ্যান): ক্ষতিকর জিনিস (যেমন প্লাস্টিক) ব্যবহারে না বলা।
৬৪. প্রশ্ন: প্লাস্টিক বর্জ্য কেন পরিবেশের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ?
উত্তর: ১. প্লাস্টিক হাজার বছরেও পচে না, ফলে মাটির ভেতরে জল ও বায়ু চলাচলে বাধা দেয়।
২. ড্রেনে জমে থেকে নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় এবং কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করে।
উত্তর: যখন কৃষিক্ষেত্রের সার বা নর্দমার বর্জ্য জলাশয়ে মেশে, তখন জলজ উদ্ভিদের (বিশেষ করে শৈবাল) অত্যাধিক বৃদ্ধি ঘটে। একে ‘অ্যালগাল রুম’ বলে। এই শৈবালগুলো পচে যাওয়ার সময় জলের সমস্ত দ্রবীভূত অক্সিজেন শুষে নেয়। ফলে অক্সিজেনের অভাবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা মারা যায়।
৬৬. প্রশ্ন: ই-বর্জ্য (Electronic Waste) কী? এর কুপ্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: পুরনো মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশকে যন্ত্রাং ই-বর্জ্য বলে। এগুলোতে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু থাকে। যত্রতত্র এই বর্জ্য ফেললে ওই ধাতুগুলো বৃষ্টির জলে ধুয়ে মাটি ও জলে মেশে, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও বৃক্কের (কিডনি) ক্ষতি করে।
৬৭. প্রশ্ন: ল্যান্ডফিল (Landfill) পদ্ধতিতে কীভাবে বর্জ্য অপসারণ করা হয়?
উত্তর: শহরের জনবসতি থেকে দূরে নিচু জমিতে বর্জ্য ফেলে ভরাট করা হয়। একে কয়েক স্তরে সাজানো হয় এবং ওপর থেকে মাটি ও কাদা দিয়ে চাপা দেওয়া হয়। বিজ্ঞানসম্মত ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
৬৮. প্রশ্ন: কম্পোস্টিং (Composting) বা জৈব সার তৈরির পদ্ধতিটি লেখো।
উত্তর: একটি বড় গর্তে রান্নাঘরের আনাজের খোসা, পচা ফল, কাগজ এবং গাছের শুকনো পাতা জমা করা হয়। এর ওপর সামান্য জল ও মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। কয়েক সপ্তাহ পর অণুজীবের ক্রিয়ায় এই বর্জ্য পচে কালো সারে পরিণত হয়, যা চাষের কাজে ব্যবহার করা যায়।
৬৯. প্রশ্ন: চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য বা মেডিকেল বর্জ্যের বিপজ্জনক দিকগুলো কী কী?
উত্তর: হাসপাতালের ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন, সিরিঞ্জ, রক্তমাখা তুলা, ব্যান্ডেজ এবং ওষুধের অবশিষ্টাংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এগুলোর মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি, এইডস এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এগুলোকে ইনসিনারেটরে পুড়িয়ে বা। বা বৈজ্ঞানিকভাবে ধ্বংস করা জরুরি।
৭০. প্রশ্ন: বর্জ্য পৃথকীকরণ কেন প্রয়োজন?
উত্তর: বর্জ্য যদি শুরুতেই আলাদা করা হয় (যেমন- পচনশীল ও অপচনশীল), তবে তা ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। পচনশীল অংশ থেকে দ্রুত সার তৈরি করা যায় এবং অপচনশীল অংশ (কাচ, ধাতু) রিসাইকেল কারখানায় পাঠানো যায়। এতে আবর্জনার স্তূপ কমে এবং পরিবেশ পরিষ্কার থাকে।
৭১.?প্রশ্ন: তরল বর্জ্য কীভাবে শোধন করা হয়?
উত্তর: তরল বর্জ্য বা নর্দমার জলকে সরাসরি নদীতে না ফেলে শোধন কেন্দ্রে (Sewage Treatment Plant) পাঠানো হয়। সেখানে জলকে ছাঁকা হয় এবং অণুজীবের সাহায্যে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা হয়। এরপর ক্লোরিন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে পরিশুদ্ধ জল জলাশয়ে ফেলা হয়।
৭২. প্রশ্ন: গৃহস্থালির বর্জ্য হ্রাসে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা কী হতে পারে?
উত্তর: ১. প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা।
২. খাতা বা কাগজের উভয় পিঠ ব্যবহার করা।
৩. চকোলেটের প্যাকেট বা ছেঁড়া কাগজ ডাস্টবিনে ফেলা।
৪. ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল দিয়ে পেনদানি বা গাছের টব বানিয়ে পুনর্ব্যবহার করা।
৭৩. প্রশ্ন: শিল্পজাত বর্জ্য কীভাবে জল দূষণ ঘটায়?
উত্তর: কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য জলে সায়ানাইড, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম এবং তেলের মতো বিষাক্ত পদার্থ থাকে। এই জল নদীতে মিশলে জল বিষাক্ত হয়ে যায়। এর ফলে মাছ ও জলজ উদ্ভিদ মারা যায় এবং ওই জল পান করলে মানুষ ও গবাদি পশুর রোগ হয়।
৭৪. প্রশ্ন: গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে ‘স্ক্রাবার’ (Scrubber) যন্ত্রের কাজ কী?
উত্তর: কারখানার চিমনিতে স্ক্রাবার লাগানো হয়। যখন ধোঁয়া এই যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যায়, তখন জলের ধারা বা বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে ধোঁয়ায় থাকা ধূলিকণা এবং ক্ষতিকর গ্যাস (যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড) শুষে নেওয়া হয়। ফলে বায়ুমণ্ডলে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার বাতাস নির্গত হয়।
উত্তর: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য থেকে অদৃশ্য ক্ষতিকর রশ্মি নির্গত হয় যা জীবদেহের কোষ ও জিনের গঠন বদলে দিতে পারে। এর ফলে ক্যান্সার এবং জন্মগত ফলে বিকলাঙ্গতা দেখা দিতে পারে। এই বর্জ্যের তেজস্ক্রিয়তা হাজার হাজার বছর পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
৭৬. প্রশ্ন: রিসাইক্লিং বা পুনশ্চক্রীকরণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে পদ্ধতিতে ব্যবহৃত পুরনো বর্জ্য পদার্থকে প্রক্রিয়া করে নতুন ব্যবহারযোগ্য বস্তুতে রূপান্তর করা হয়, তাকে রিসাইক্লিং বলে।
উদাহরণ: পুরনো খবরের কাগজ থেকে মন্ড তৈরি করে নতুন কাগজ তৈরি করা বা ভাঙা প্লাস্টিক গলিয়ে নতুন বালতি তৈরি করা।
উত্তর: আবর্জনা পোড়ালে প্রচুর ধোঁয়া ও কণা তৈরি হয় যা শ্বাসকষ্ট ঘটায়। প্লাস্টিক বা রবার পুড়লে ডাইঅক্সিন ও ফিউরানের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। এছাড়া কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি করে।
৭৮. প্রশ্ন: সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব কী?
উত্তর: সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহামারীর আশঙ্কা কমানো যায়। এটি নর্দমা জ্যাম হওয়া আটকায় এবং ভূগর্ভস্থ জলকে দূষণমুক্ত রাখে। এছাড়া বর্জ্য থেকে শক্তি (Biogas) ও সার উৎপাদন করে আর্থিক লাভও করা সম্ভব।
৭৯. প্রশ্ন: ‘বর্জ্য থেকে শক্তি’ (Waste to Energy) উৎপাদন বলতে কী বোঝো?
উত্তর :পচনশীল বর্জ্যকে বিশেষ চেম্বারে রেখে বাতাস ছাড়া পচানো হলে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা বায়োগ্যাস হিসেবে রান্না বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগে। আবার কিছু বর্জ্যকে উচ্চ তাপে পুড়িয়ে সেই উত্তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।
উত্তর: সমুদ্রে ফেলা প্লাস্টিক কণা মাছ ও কচ্ছপের পেটে চলে যায়, যা তাদের খাদ্যনালী বন্ধ করে দেয়। বহু সামুদ্রিক পাখি ও মাছ প্লাস্টিক জালে আটকে মারা যায়। প্লাস্টিকের রাসায়নিক সাগরের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে শেষে মানুষের শরীরেও পৌঁছে যাচ্ছে।
৮১. প্রশ্ন: বাজার থেকে কেনা প্লাস্টিকের প্যাকেট আমরা কীভাবে ‘Reuse’ করতে পারি?
উত্তর: প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলে না দিয়ে তা ধুয়ে আবার বাজার করতে যাওয়ার সময় ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ঘরের ছোট ডাস্টবিনে লাইনার হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য কেটে নিয়ে ক্রাফট বা হাতের কাজের সরঞ্জাম হিসেবেও ব্যবহার সম্ভব।
৮২. প্রশ্ন: ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) কী? এর ব্যবহার লেখো।
উত্তর:তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর পর যে সূক্ষন ছাই উৎপন্ন হয় তাকে ফ্লাই অ্যাশ বলে। এটি বায়ু দূষণ ঘটায়। তবে বর্তমানে এই ছাই দিয়ে রাস্তা তৈরি, ইট তৈরি এবং সিমেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করে বর্জ্য কমানো হচ্ছে।
৮৩.? প্রশ্ন: স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও সাধারণ ল্যান্ডফিলের তফাত কী?
উত্তর: সাধারণ ল্যান্ডফিলে খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হয়, যা দুর্গন্ধ ও রোগ ছড়ায়। স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে মাটির নিচে প্লাস্টিকের আস্তরণ দেওয়া হয় যাতে দূষিত জল মাটির তলায় না যায় এবং প্রতিদিনের বর্জ্য মার্টি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
৮৪.? প্রশ্ন: বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর পদ্ধতি বর্ণনা করো।
উত্তর: স্তূপীকৃত নোংরা আবর্জনা মশা, মাছি ও ইঁদুরের বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মাছি আবর্জনা থেকে জীবাণু বহন করে খাবারে বসলে কলেরা বা টাইফয়েড হয়। নোংরা জল থেকে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া বায়ু বাহিত বর্জ্য থেকে যক্ষ্মা ও হাঁপানি হতে পারে।
উত্তর: খড় বা নাড়া না পুড়িয়ে সেগুলো দিয়ে মাশরুম চাষ করা যেতে পারে অথবা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া যন্ত্রের সাহায্যে খড় কেটে মাটিতে মিশিয়ে দিলে তা সার হিসেবে কাজ করে। সরকার এই বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করছে।
৮৬.? প্রশ্ন: ‘Refuse’ বা প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা কেন গড়ে তোলা দরকার?
উত্তর: বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো বর্জ্য উৎপন্ন না হতে দেওয়া। আমরা যদি বাজার থেকে প্লাস্টিক নিতে অস্বীকার করি বা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক গ্লাস ব্যবহার না করি, তবে কোম্পানিগুলো এগুলোর উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমবে।
৮৭. ? প্রশ্ন: বর্জ্য জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটিতে কী কী সমস্যা হয়?
উত্তর: নর্দমা ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে জল জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বর্ষাকালে নর্দমার নোংরা জল উপচে রাস্তায় আসে এবং পানীয় জলের পাইপের সাথে মিশে যেতে পারে। এতে আন্ত্রিক ও হেপাটাইটিস এর মতো জলবাহিত রোগ মহামারী আকার নিতে পারে।
৮৮.? প্রশ্ন: সীসা (Lead) যুক্ত বর্জ্যের উৎস ও ক্ষতি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: উৎস হলো পুরনো ব্যাটারি, রঙ এবং ই-বর্জ্য। সিসা শরীরে প্রবেশ করলে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় এবং গর্ভবর্তী মহিলাদের স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি হয়।
৮৯.? প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি আইনের গুরুত্ব আলোচনা করো। উত্তর: আইন থাকলে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা কমে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং কারখানার বর্জ্য শোধনের বাধ্যবাধকতা থাকলে পরিবেশ রক্ষা পায়। যারা নিয়ম মানে না, তাদের জরিমানার ব্যবস্থা থাকলে বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নতি হয়।
৯০. প্রশ্ন: শহরের তুলনায় গ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন সহজ?
উত্তর: গ্রামের বর্জ্য মূলত জৈব বা পচনশীল (কৃষিজাত বর্জ্য, গোবর)। এগুলো সহজেই সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গ্রামে প্লাস্টিক বা ই-বর্জ্যের পরিমাণ শহরের তুলনায় কম এবং ফাঁকা জায়গা বেশি থাকায় প্রাকৃতিকভাবে বর্জ্য শোধন হওয়া সহজ।
৯১.? প্রশ্ন: ‘লিডেট’ (Leachate) কী? এটি কেন বিপজ্জনক?
উত্তর: ল্যান্ডফিলের বর্জ্যের স্তূপের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল চুইয়ে যে কালচে বিষাক্ত তরল বের হয়, তাকে লিচেট বলে। এটি ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের সাথে মিশলে জলকে চরম বিষাক্ত করে তোলে এবং মাটির ক্ষতি করে।
৯২.? প্রশ্ন: ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জল জলাশয়ে কী প্রভাব ফেলে?
উত্তর: ডিটারজেন্টে ফসফেট থাকে যা শৈবালের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ইউট্রোফিকেশন ঘটায়। এছাড়া ডিটারজেন্টের ফেনা জলের ওপর স্তরের অক্সিজেনের আদান-প্রদান কমিয়ে দেয়, ফলে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
৯৩.? প্রশ্ন: পুরনো টায়ার ও রবার বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উপায় কী?
উত্তর: পুরনো টায়ার দিয়ে রাস্তার পিচ তৈরি করা যায় (Rubberized Asphalt)। এছাড়া খেলার মাঠের মেঝে তৈরি বা জুতো ও কার্পেট তৈরিতেও রবার বর্জ্য ব্যবহৃত হয়। এগুলো সরাসরি পোড়ানো উচিত নয়।
৯৪.? প্রশ্ন: একটি আদর্শ ডাস্টবিনের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: ডাস্টবিনটি অবশ্যই ঢাকনাযুক্ত হতে হবে যাতে মাছি বা বিড়াল উপদ্রব না করে। এতে দুটি আলাদা ভাগ থাকতে হবে (পচনশীল ও অপচনশীলের জন্য)। ডাস্টবিনটি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং জনবসতি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা উচিত।
৯৫.? প্রশ্ন: কাগজ রিসাইকেল করলে কতখানি পরিবেশ রক্ষা হয়?
উত্তর: ১ টন কাগজ রিসাইকেল করলে প্রায় ১৭টি বড় গাছ কাটা বাঁচে এবং প্রায় ৩০০০ লিটার জল সাশ্রয় হয়। এছাড়া এতে শক্তির ব্যবহার অনেক কম হয় এবং বায়ু দূষণও হ্রাস পায়।
৯৬.? প্রশ্ন: ‘সবুজ অর্থনীতি’ (Green Economy) ও বর্জ্যের সম্পর্ক কী?
উত্তর: সবুজ অর্থনীতির মূল কথা হলো সম্পদের অপচয় কমানো। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা (যেমন- বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বা সার) এই অর্থনীতির অংশ। এটি পরিবেশ দূষণ কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
৯৭.? প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানের প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: এই অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। রাস্তাঘাট ও জনসমাগমের জায়গায় ডাস্টবিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ডোর-টু-ডোর কালেকশন ব্যবস্থা অনেক কার্যকর হয়েছে।
৯৮.? প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য কীভাবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়?
উত্তর: এগুলোকে প্রথমে সিসার পাত্রে ভরা হয় এবং পরে কংক্রিটের ব্লকে সিল করা হয়। এরপর জনশূন্য মরুভূমি বা সমুদ্রের তলদেশে অনেক গভীরে খনির ভেতর রেখে দেওয়া হয় যাতে তেজস্ক্রিয়তা বাইরে না আসে।
উত্তর: কেঁচো ব্যবহার করে পচনশীল জৈব বর্জ্য থেকে দ্রুত উন্নত মানের সার তৈরির পদ্ধতিকে ভার্মিকম্পোস্টিং বলে। এই পদ্ধতিতে তৈরি সার সাধারণ সারের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিকর এবং পরিবেশবান্ধব।
১০০.? প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্জ্যমুক্ত পৃথিবী কেন প্রয়োজন?
উত্তর: বর্তমান হারে বর্জ্য বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে চাষযোগ্য জমি ও পানীয় জলের হাহাকার দেখা দেবে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। তাই আজই বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি আবর্জনার স্তূপের পৃথিবীতে জন্মাবে।