

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
দশম শ্রেণি
বিষয় : ভূগোল ও পরিবেশ
প্রথম ইউনিট টেস্ট-সেট-২
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পূর্ণমান : ৪০
বিভাগ- ‘ক’
১। বিকল্পগুলো থেকে ঠিক উত্তর নির্বাচন করে লেখো : ১×৮=৮
১.১ মরুভূমি ও মরুপ্রায় অঞ্চলে ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী প্রধান বহির্জাত শক্তি হলো—
(ক) নদী (খ) হিমবাহ (গ) বায়ু (ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ (গ) বায়ু
১.২ ক্যানিয়ন ‘I’ আকৃতি হবার প্রধান কারণ হলো—
(ক) নদীর নিম্নক্ষয়
(খ) ভূমির খাড়াঢাল
(গ) বৃষ্টিহীন শুষ্ক মরু অঞ্চল
(ঘ) নদীর পার্শ্বক্ষয়
উত্তরঃ (খ) ভূমির খাড়াঢাল
১.৩ পর্বতারোহণে সমস্যার সৃষ্টি হয়—
(ক) পিরামিড চূড়ার উপস্থিতিতে
(খ) ক্রিভাসের উপস্থিতিতে
(গ) রসেমতানের উপস্থিতিতে
(ঘ) এসকারের উপস্থিতিতে
উত্তরঃ (খ) ক্রিভাসের উপস্থিতিতে
১.৪ বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের উদাহরণ হলো—
(ক) ওয়াদি (খ) বালিয়াড়ি (গ) গারা (ঘ) ইনসেলবার্জ
উত্তরঃ (গ) গারা
১.৫ অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব দিকে অবস্থিত—
(ক) তেলেঙ্গানা (খ) কর্ণাটক
(গ) বঙ্গোপসাগর (ঘ) তামিলনাড়ু
উত্তরঃ (গ) বঙ্গোপসাগর
১.৬ পশ্চিম উপকূলে স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দরের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হলো—
(ক) অভগ্ন উপকূল
(খ) ভগ্ন উপকূল
(গ) অনুর্বর মৃত্তিকার উপস্থিতি
(ঘ) হ্রদ ও উপহ্রদের আধিক্য
উত্তরঃ (খ) ভগ্ন উপকূল
১.৭ উত্তর ভারতের নদনদী নিত্যবহ হবার কারণ হলো—
(ক) নদীগুলি দৈর্ঘ্যে বড়ো
(খ) নদীগুলির মোহনায় বদ্বীপ-এর সৃষ্টি
(গ) নদীগুলি বরফগলা জলে ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট
(ঘ) নদী অববাহিকায় পলি গঠিত সমভূমির উপস্থিতি
উত্তরঃ (গ) নদীগুলি বরফগলা জলে ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট
১.৮ একটি পর্ণমোচী বৃক্ষের উদাহরণ হলো—
(ক) বাবলা (খ) তুঁত (গ) মেহগনি (ঘ) সুন্দরী
বিভাগ – ‘খ’
২। নীচের প্রশ্নগুলির নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও : ১x৮=৮
২.১ বাক্যটি ‘সত্য’ হলে পাশে ‘ঠিক’ এবং ‘অসত্য’ হলে পাশে ‘ভূল’ লেখো : ১×২=২
২.১.১ নদীর মোহনায় জোয়ারভাটার প্রকোপ বদ্বীপ সৃষ্টির সহায়ক।
উত্তরঃ ভুল।
২.১.২ একটি প্রাণীজ কাঁচামালভিত্তিক শিল্প হলো মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প।
উত্তরঃ ঠিক।
২.২ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো : ১×২=২
২.২.১ ইয়ার্দাং সৃষ্টির ক্ষেত্রে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পরস্পরের সাথে ______________ অবস্থান করে।
উত্তরঃ সমান্তরাল।
২.২.২ হিমসিঁড়িতে ______________ হ্রদ সৃষ্টি হয়।
উত্তরঃ টার্ন।
২.৩ স্তম্ভ মেলাও : ১×৩ = ৩
স্তম্ভ-‘ক’ স্তম্ভ-‘খ’
২.৩.১ গারা (ক) হিমবাহের সঞ্চয়কার্য
২.৩.২ গ্রাবরেখা (খ) বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়া
২.৩.৩ বিশাখাপত্তনম (গ) বন্দর শহর
উত্তরঃ
২.৩.১ গারা (খ) বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়া
২.৩.২ গ্রাবরেখা (ক) হিমবাহের সঞ্চয়কার্য
২.৩.৩ বিশাখাপত্তনম (গ) বন্দর শহর
২.৪ দু-এক কথায় উত্তর দাও : ১×১=১
২.৪.১ ভাগীরথী-হুগলি নদীর সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ প্রধানত কী প্রকৃতির ?
উত্তরঃ ম্যানগ্রোভ প্রকৃতির।

বিভাগ – ‘গ’
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর সংক্ষেপে লেখো : ২x৪=৮
৩.১ হিমরেখার উচ্চতা কোন কোন বিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ?
উত্তরঃ হিমরেখার উচ্চতা কয়েকটি বিষয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অক্ষাংশ, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব, ঢালের অভিমুখ প্রভৃতি।
৩.২ মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের প্রাধান্যের দুটি শর্ত উল্লেখ করো।
উত্তরঃ (১) বৃষ্টিপাতের অভাব ও শুষ্ক জলবায়ু (২) উদ্ভিদের স্বল্পতা
৩.৩ ঝুমচাষ কীভাবে মৃত্তিকা ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে ?
উত্তরঃ ঝুমচাষে বনভূমি পুড়িয়ে ফেলা হয়। ফলে মাটির উপরিভাগ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং বৃষ্টি ও বায়ুর প্রভাবে দ্রুত মাটিক্ষয় ঘটে।
৩.৪ ধারণযোগ্য উন্নয়ন (Sustainable development) বলতে কী বোঝো ?
উত্তরঃ বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মিটিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন পূরণের ক্ষমতা নষ্ট না করে যে উন্নয়ন করা হয় তাকে ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলে।

বিভাগ – ‘ঘ’
৪। সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো : ৩×২= ৬
৪.১ নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নদীর প্রবাহ ও ক্ষয়কার্যের ফলে যে উপত্যকার সৃষ্টি হয় তাকে নদী উপত্যকা বলে। এটি সাধারণত ইংরেজি V আকৃতির হয়, কারণ নদীর জল নিচের দিকে গভীরভাবে ক্ষয় করে এবং পার্শ্ব ঢাল খাড়া ও তীক্ষ্ণ হয়। নদী উপত্যকার তলদেশ সরু ও গভীর এবং উপনদীগুলি প্রধান নদীর সঙ্গে একই সমতলে মিলিত হয়। এই ধরনের উপত্যকা সমভূমি ও পার্বত্য উভয় অঞ্চলে দেখা যায়।
অন্যদিকে,হিমবাহের বরফস্রোতের ক্ষয়কার্যের ফলে যে উপত্যকার সৃষ্টি হয় তাকে হিমবাহ উপত্যকা বলে। এটি সাধারণত ইংরেজি U আকৃতির হয়, কারণ হিমবাহ চারদিকে সমানভাবে ক্ষয় করে উপত্যকাকে প্রশস্ত ও চওড়া করে তোলে। এর তলদেশ সমতল ও বিস্তৃত এবং পার্শ্ব ঢাল তুলনামূলকভাবে কম খাড়া। হিমবাহ উপত্যকায় প্রায়ই ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging valley) দেখা যায়। এই উপত্যকা প্রধানত উচ্চ পার্বত্য ও শীতল অঞ্চলে গঠিত হয়।
৪.২ ভৌমজলের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে।— যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দাও।
উত্তরঃ ভূমিজলের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের জীবনে নানা ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে।
প্রথমত,অতিরিক্ত জল তোলার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নেমে যায়। এর ফলে নলকূপ ও কুয়ো শুকিয়ে যায় এবং পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। কৃষিকাজেও সেচের জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায় না, ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়।
দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের ফলে মাটির নিচে ফাঁপা স্থান তৈরি হয় এবং ভূমিধস বা ভূমি ধস (Land Subsidence) ঘটতে পারে। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়।
তৃতীয়ত,উপকূলীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল তুললে সমুদ্রের লবণাক্ত জল ভেতরে ঢুকে পড়ে, ফলে মিষ্টি জল লবণাক্ত হয়ে যায়। এতে পানীয় জল ও কৃষিজমি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অতএব, ভূমিজলের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের জীবন, কৃষি ও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বিভাগ – ‘ঙ’
৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৫x২ = ১০
৫.১ পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে সুন্দরবনকে প্রভাবিত করছে তা উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তরঃ পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রথমত, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের বহু নিচু দ্বীপ ও চর ধীরে ধীরে জলমগ্ন হয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, লোহাচরা দ্বীপ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে এবং গোরামারা দ্বীপের বড় অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত,ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন— Cyclone Aila, Cyclone Amphan এবং Cyclone Yaas-এর মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনের বনভূমি, বন্যপ্রাণী ও মানুষের বসতি ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে।
তৃতীয়ত, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের জল ভেতরে প্রবেশ করায় মিঠা জলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, ফলে সুন্দরীসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
চতুর্থত,তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে।
পঞ্চমত,নদীর গতিপথ ও পলি সঞ্চয়ে পরিবর্তন ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যাচ্ছে এবং উজান থেকে পলি পরিবহণের তারতম্য হচ্ছে। এর ফলে নদীভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে ও নতুন চর গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে, যা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
অতএব,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মাধ্যমে সুন্দরবন গভীরভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।



