

পঞ্চম শ্রেণির ভাষাপাঠ
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
অষ্টম অধ্যায় ‘অনুচ্ছেদ রচনা’ (১৫৩ – ১৬৪ পৃষ্ঠা)
(১) বাংলার উৎসব
(২) বিদ্যালয় গ্রন্থাগার
(৩)গাছ আমাদের বন্ধু
(৪)আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু
(৫)আমার দেখা একটি মেলা
(৬) একটি বৃষ্টির দিন
(৭) ছুটির দিনে বনভোজন
(৮) আমার প্রিয় বই
(৯)বিদ্যালয় জীবনে খেলাধুলার ভূমিকা
(১০)একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (দীঘা)
(১) বাংলার উৎসব
-
ভূমিকা: বাঙালি র বারো মাসে তেরো পার্বণ। উৎসবপ্রিয় বাঙালি জাতি সারা বছর কোন না কোনো উৎসবে মেতে থাকে । এই উৎসবগুলো বাংলার সংস্কৃতি কে সমৃদ্ধ করেছে এবং মানুষের মনে আনন্দ জোগায়।
-
ধর্মীয় উৎসব: বাংলায় হিন্দু মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষেরই নিজস্ব উৎসব রয়েছে । হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গাপূজা। এছাড়াও অনান্য ধর্মের বিভিন্ন উৎসব যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, বড়দিন এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়।
-
ঋতুভিত্তিক ও লোকজ উৎসব: ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় নানা উৎসব পালিত হয়। অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান কাটার পর হয় নবান্ন উৎসব এবং পৌষ মাসে হয় পিঠে -পুলির উৎসব বা পৌষ পার্বণ। বসন্তে র শুরুতে দোলযাত্রা প্রকৃতির রঙে মনকে রাঙিয়ে দেয়।
-
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব: বাঙালি র প্রাণের সামাজিক উৎসব হল পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ। এছাড়া রাখি বন্ধন ও ভাইফোঁটা পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনকে আরও মজবতু করে তোলে ।
-
জাতীয় উৎসব: দেশপ্রেমে র চেতনায় বাঙালি পালন করে জাতীয় উৎসবগুলো। ২৩ শে জানুয়ারী নেতাজির জন্মদিন,২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস,১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস দিবস সারা বাংলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।
-
উপসংহার: বাংলার উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের সাথে মানুষের মিলন। জাতি -ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে এই উৎসবগুল বাঙালির মনে একতা ও সম্প্রীতি র বন্ধন তৈরি করে , যা বাংলার শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য।
-

(২) বিদ্যালয় গ্রন্থাগার
-
ভূমিকা: গ্রন্থাগার হল জ্ঞানে র ভাণ্ডার। একটি বিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হল তার গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি । পাঠ্যবইয়ের বাইরে জগতের নানা খবরাখবর এবং জ্ঞানে র আলো পাওয়ার জন্য বিদ্যালয় গ্রন্থাগারে র গুরুত্ব অপরিসীম।
-
● গ্রন্থাগারের বর্ণনা: আমাদে র বিদ্যালয়ে একটি বড় এবং সুন্দর গ্রন্থাগার আছে । সেখানে সারিবদ্ধ আলমারিতে সাজানো থাকে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান লেখকদের গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, জীবনী এবং বিজ্ঞানের বই। এ ছাড়া সেখানে বিভিন্ন ভাষার অভিধান ও মানচিত্রও রাখা থাকে ।
-
ব্যবহারের নিয়ম: প্রতিটি ক্লাসের জন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি ‘লাইব্রেরি পিরিয়ড’ থাকে । গ্রন্থাগারে বসে পড়ার জন্য টেবিল-চেয়ারের ব্যবস্থা থাকে । সেখানে শান্তভাবে বসে বই পড়তে হয়। প্রয়োজনে ছাত্ররা কার্ডের মাধ্যমে বাড়িতে ও বই নিয়ে যেতে পারে , তবে নির্দিষ্ট সময় পরে তা ফেরত দিতে হয়।
-
উপকারিতা: গ্রন্থাগার আমাদে র পড়ার অভ্যাস তৈ রি করে । ক্লাসে র ধরাবাঁধা পড়া বাদ দি য়ে নি জে র পছন্দে র বি ষয় নি য়ে জানার সুযোগ এখানেই পাওয়া যায়। এটি ছাত্রদের মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।
-
উপসংহার: গ্রন্থাগার হল নিঃশব্দ শিক্ষক। বিদ্যালয়ে র এই অমূল্য সম্পদকে আমাদের যত্ন করা উচিত। বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব করলেই আমরা প্রকৃত মানষু হিসেবে গড়ে উঠতে পারব।
-

(৩)গাছ আমাদের বন্ধু
-
ভূমিকা: আদিমকাল থেকে ই মানুষের সঙ্গে গাছের নিবিড় সম্পর্ক। মানুষ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিসীম। গাছ ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণে র অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তাই গাছ আমাদের পরম বন্ধু।
-
অক্সিজেন ও জীবনদান: গাছে র সবচেয়ে বড় অবদান হলো অক্সিজেন। গাছ বাতাস থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং আমাদের বেচেঁ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে । এভাবে গাছ বাতাসকে নির্মল ও দূষণমুক্ত রাখে ।
-
খাদ্য ও উপকারের উৎস: আমাদের বেচেঁ থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার অধিকাংশই আমরা গাছ থেকে পাই। গাছ আমাদের নানা রকম পুষ্টিকর ফল, ফুল, বীজ এবং সবজি দেয়। এছাড়াও অনেক গাছ থেকে আমরা মূল্যবান ওষধি উপাদান পাই, যা রোগ সারাতে সাহায্য করে ।
-
আশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষা: গাছ আমাদের প্রখর রোদ থেকে ছায়া দেয় এবং ক্লান্ত পথিককে আশ্রয় দেয়। গাছের পাতা, ডালপালা ও কাঠ থেকে আমরা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরি করি । এছাড়া গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ।
-
উপসংহার: গাছ আমাদের নিঃস্বার্থ বন্ধু। কিন্তু বর্তমানে মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলছে , যার ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে । তাই আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই বেশি করে গাছ লাগানো এবং বনভূমি রক্ষা করা উচিত। মনে রাখা দরকার— “একটি গাছ, একটি প্রাণ”।
-

(৪)আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু
-
ভূমিকা: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একাধারে প্রখ্যাত পদার্থবিদ ও উদ্ভিদবিদ ছিলেন। ১৮৫৮ সালে র ৩০শে নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশে র ময়মনসিংহ জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-
শিক্ষাজীবন: তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের পাঠশালায়। এরপর তি নি কলকাতার সে ন্ট জে ভি য়ার্স স্কুল ও কলে জ থে কে উচ্চশি ক্ষা লাভ করে ন। পরবর্তী কালে তি নি ইংল্যান্ডে র কে মব্রি জ বি শ্ববি দ্যালয় থে কে উচ্চতর ডি গ্রি অর্জন করেন এবং দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন।
-
বিজ্ঞানসাধনা ও আবিষ্কার: জগদীশচন্দ্র বসু বিজ্ঞানের বহু কঠিন রহস্য উন্মোচন করেছে ন। তিনি বিনা তারে খবর পাঠানোর যন্ত্র (বেতার তরঙ্গ) আবিষ্কার করেছিলেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হল উদ্ভিদ বিজ্ঞান শাখায়। তিনি ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ নামক যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে । গাছও মানুষের মতো উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং আঘাত পেলে কষ্ট পায়।
-
দেশপ্রেম ও প্রতিষ্ঠান: তিনি বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞান কেবল পড়ার বিষয় নয়, তা গবেষণার বিষয়। তাঁর আজীবনে র সঞ্চিত অর্থে তিনি কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দি র’ বা ‘Bose Institute’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও বিজ্ঞানের প্রসারে কাজ করে চলেছে ।
-
উপসংহার: এই মহান বি জ্ঞানী ১৯৩৭ সালে প্রয়াত হন। তিনি কেবল নতুন কিছু আবিষ্কার করেন নি , বরং বিশ্ব দরবারে ভারতীয় মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। তাঁর দেখানো পথ আজও তরুণ বিজ্ঞানীদে র অনুপ্রেরনা জোগায়।
-

(৫)আমার দেখা একটি মেলা
-
ভূমিকা: মেলা বাঙালির অতি প্রিয় এক মিলন উৎসব। মেলা মানেই অনেক মানুষের সমাবেশ এবং অনেক আনন্দ। গত বছর শীতকালে আমাদের গ্রামে র পাশেই আয়োজিত একটি পৌষ মেলা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়ে ছিল।
-
মেলার দৃশ্য: মেলাটি বসেছিল একটি বিশাল মাঠের মধ্যে । দূর থেকে মেলার রঙিন নিশান আর আলো চোখে পড়ছিল। মেলায় ঢুকে দেখলাম চারিদিকে প্রচুর মানুষের ভিড়। চারিদিকে হরেকরকমের দোকান বসেছে — মাটির পুতুল, প্লাস্টিকের খেলনা, কাঁচের চুড়ি এবং ঘরকন্নার নানা জিনিসে র পসরা।
-
খাবারে র দোকান: মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল জিভে জল আনা খাবারে র দোকান। সেখানে বড় বড় কড়াইয়ে গরম জিলিপি ভাজা হচ্ছিল। এছাড়াও পাঁপড় ভাজা, ঘুগনি , আলুকাবলি এবং নানারকম মিষ্টি র গন্ধে মেলার বাতাস ছিল ভরপুর। আমি বন্ধুদে র সাথে মিলে পাঁপড় ভাজা আর জিলিপি খেয়েছিলাম।
-
আমোদ-প্রমোদ: মেলার এক কোণে ছিল নাগরদোলা, সার্কাস এবং জাদুর খেলা। নাগরদোলায় চড়ার সময় উপর থেকে নিচে নামার যে রোমাঞ্চ, তা আমি কোনদিন ভুলব না। এছাড়া ছোটদে র জন্য বায়োস্কোপ এবং পুতুল নাচের ব্যবস্থাও ছিল।
-
কেনাকাটা: মেলা থেকে আমি আমার ছোট বোনের জন্য একটি সুন্দর পুতুল এবং মায়ের জন্য একটি মাটির ফুলদানি কিনেছিলাম। এছাড়াও আমি নিজে র জন্য একটি রঙিন বাঁশি কিনেছি লাম।
-
উপসংহার: মেলা কেবল কেনাকাটার জায়গা নয়, এটি মানুষের সাথে মানুষের পরিচয়ের জায়গা। মেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় মনটা কিছুটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু মেলার সেই আনন্দময় স্মৃতি আজও আমার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে । আবার কবে মেলা বসবে , আমি সেই অপেক্ষায় থাকি ।
(৬) একটি বৃষ্টির দিন
-
ভূমিকা: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দহন আর খরতাপের পর বৃষ্টির দিন আমাদে র জীবনে পরম শান্তি নিয়ে আসে । আকাশভরা কালো মেঘ আর বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ এক অপরূপ পরিবেশ তৈরি করে । দিনটি অন্য সব সাধারণ দিনে র চেয়ে একদম আলাদা হয়।
-
প্রকৃতির রূপ: বৃষ্টির দিনে সকাল থেকেই আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা থাকে । কখনও ঝিরঝিরে আবার কখনও মষুলধারে বষ্টিৃ পড়ে । বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছপালাগুলো সজীব ও সবুজ হয়ে ওঠে । ধুলোবালি ধুয়ে গিয়ে প্রকৃতি যেন স্নান সেরে নতুন রূপ ধারণ করে । মাঠ-ঘাট জলে ভরে যায় এবং ব্যাঙে র ডাক শোনা যায়।
-
জনজীবন ও ব্যস্ততা: বৃষ্টির দিনে সাধারণ মানুষের কাজকর্মে কিছুটা বি ঘ্ন ঘটে । রাস্তায় লোক চলাচল কমে যায়। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হন, তাদে র হাতে থাকে রঙিন ছাতা কিংবা গায়ে রেইনকোট। কর্দমাক্ত রাস্তায় যানবাহন সাবধানে চলাচল করে । স্কুলের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা অনেক সময় বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ পায় এবং জমা জলে কাগজের নৌকা ভাসায়।
-
ঘরের পরিবেশ: বৃষ্টির দিন ঘরে বসে উপভোগ করার মজাই আলাদা। বাইরে যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ে , তখন জানালার পাশে বসে তা দেখতে খুব ভালো লাগে । খিচুড়ি , ইলিশ মাছ ভাজা বা গরম গরম তেলে ভাজা এই দিনের প্রিয় খাবার। মা-কাকিমারা ঘরে বসে গল্প করেন আর ছাত্ররা পড়ার ফাঁকে বৃষ্টির রূপ দেখে ।
-
উপসংহার: বৃষ্টির দিন যেমন আনন্দের, তেমনই কখনও কখনও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জল জমে যায় এবং গরিব মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয়। তবুও গরমে র কষ্টের পর বৃষ্টির শীতল ছোঁয়া আমাদের মনকে সতেজ ও আনন্দিত করে তোলে ।
-

(৭) ছুটির দিনে বনভোজন
-
ভূমিকা: যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে বনভোজন বা পিকনিকের আনন্দ অতুলনীয়। বিশেষ করে শীতকালের কোনো এক ছুটির দিনে বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়স্বজনদে র সাথে বনভোজনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে রাখার মতো।
-
যাত্রার প্রস্তুতি : গত মাসে এক রবিবারের ছুটির দিনে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি বনভোজনের আয়োজন করেছি লাম। শহর থেকে কিছুটা দূরে গঙ্গার ধারের একটি সুন্দর বাগানবাড়ি আমরা বেছে নিয়েছিলাম। সকালে প্রয়োজনীয় রান্নার সরঞ্জাম, ফুটবল এবং গান শোনার বক্স নিয়ে আমরা হাসি খুশি মনে রওনা দিলাম।
-
প্রকৃতির সান্নিধ্যে : গন্তব্যে পৌঁছে আমরা দেখলাম চারপাশটা ঘন সবুজ গাছে ঘেরা। পাখিদের কিচিরমিচির আর গঙ্গার স্নিগ্ধ হাওয়া আমাদের মন ভরিয়ে দিল। ছুটির দিন হওয়ায় আশেপাশে আরও কয়েকটি দল বনভোজন করতে এসেছি ল, যার ফলে চারপাশটা বেশ উৎসব মুখর হয়ে উঠেছিল।
-
রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া: বনভোজনের আসল মজা হল হাতে নাতে রান্নায় সাহায্য করা। বড়দে র নির্দেশ অনযায়ী আমরা কেউ সবজি কাটলাম, কেউবা জলের ব্যবস্থা করলাম। রান্নার সেই সুগন্ধে খিদে যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল। দপুুরের মেনুতে ছিল গরম গরম ভাত, ডাল, আলুর দম এবং মুরগির মাংস। খোলা আকাশের নিচে কলাপাতায় খাওয়ার স্বাদই ছিল আলাদা।
-
আনন্দ ও বিনোদন: খাওয়ার আগে ও পরে আমরা চুটিয়ে আনন্দ করলাম। কেউ গঙ্গার ধারে বসে গল্প করল, কেউবা মেতে উঠল ফুটবল খেলায়। মিউজিক সিস্টেমে গান চালিয়ে নাচের আসরও বসেছিল। আমরা সবাই মিলে অন্তাক্ষরী খেললাম। কাজের বা পড়ার কোনো চাপ না থাকায় দিনটি ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীনতার।
-
উপসংহার: সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ল, তখন আমাদে র ফেরার সময় হল । ফেরার পথে সবার মন কিছুটা ভারাক্রান্ত হলে ও সারাদিনে র সেই সোনালি স্মৃতি ছিল আমাদে র পাথেয়। এই ধরণে র বনভোজন কেবল আনন্দ দেয় না, মানুষের মধ্যে একতা ও ভালবাসার বন্ধনকে ও আরও মজবুত করে ।
-

(৮) আমার প্রিয় বই
-
ভূমিকা: বই হল মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বই আমাদের অজানাকে জানতে এবং অচেনাকে চিনতে সাহায্য করে । অবসরের সঙ্গী হিসেবে বইয়ের কোনো তুলনা হয় না। আমার সংগ্রহে অনেক বই থাকলে ও দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজমুদারের সংকলিত ‘ঠাকুরমার ঝুলি ‘ আমার সবচেয়ে প্রিয় বই।
-
বইটির পরিচয়: ‘ঠাকুরমার ঝুলি ‘ মলূত বাংলার প্রচলিত রূপকথার গল্পের একটি সংকলন। বইটির প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ভেতরের ছবি গুলো খুবই চমৎকার। এই বইটিতে ডালিমকুমার, সাত ভাই চম্পা, সুখু আর দুখুু এবং বুদ্ধ-ভুতুমে র মতো অনে ক মজার মজার সব গল্প আছে ।
-
প্রিয় হওয়ার কারণ: এই বইটি আমার প্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হল এর জাদুকরী গল্পগুলো। যখনই আমি এই বইয়ের পাতা উল্টাই, মনে হয় আমি এক স্বপ্নিল রাজ্যে পৌঁছে গেছি । রাক্ষস-খোক্কস, পক্ষিরাজ ঘোড়া আর বন্দিনী রাজকন্যার গল্পগুলো আমার মনে অদ্ভুত এক রোমাঞ্চ তৈরি করে । বইটির ভাষা এত সহজ ও সুন্দর যে পড়তে পড়তে এক নিমেষেই শেষ করে ফেলা যায়।
-
শিক্ষা ও আনন্দ: এই বইয়ে র প্রতিটি গল্পের শেষে একটি নৈতিক শিক্ষা থাকে — যে মন সৎ মানুষের জয় এবং মন্দ মানুষের পরাজয়। গল্পগুলো কেবল আনন্দই দেয় না, বরং কল্পনাশক্তি বাড়াতে এবং সাহসী হতে সাহায্য করে । ছোটবেলায় দাদ-ুদিদি মার কাছে শোনা গল্পগুলো বইয়ের পাতায় ফিরে পেয়ে এক অন্যরকম আনন্দ পাওয়া যায়।
● উপসংহার: যান্ত্রিক যুগে মোবাইল বা গেমের চেয়ে ও প্রিয় বইয়ের সান্নিধ্য অনেক বেশি শান্তিময়। আমার প্রিয় এই বইটি আমি অনেকবার পড়েছি এবং প্রতি বারই নতুন আনন্দ খুজেঁ পেয়েছি । আমার কাছে এটি কে বল একটি বই নয়, এটি এক জাদুকরী জগতের চাবি কাঠি।
(৯)বিদ্যালয় জীবনে খেলাধুলার ভূমিকা
-
ভূমিকা: শরীর ও মনের সুষমবিকাশের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে খেলাধুলাকে গণ্য করা হয়। একটি ছাত্রের গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কেবল পুথিঁগত বিদ্যাই যথেষ্ট নয়, তার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মি ত খেলাধুলা।
-
শারীরিক গঠন ও সুস্থতা: বি দ্যালয়ে নি য়মি ত খে লাধুলা করলে ছাত্রদে র শরীর সতে জ ও সবল থাকে । ফুটবল, ক্রিকেট, কবাডি বা দৌড়ঝাঁপের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে । “সুস্থ দেহে সুস্থ মন”—এই প্রবাদটি তখনই সফল হয় যখন শরীর চর্চার মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলা বজায় থাকে ।
-
মানসিক বিকাশ: সারাদিন ক্লাসে র একঘেয়েমি পড়াশোনা থেকে মুক্তি পেতে খেলাধুলা সাহায্য করে । এটি ছাত্রদের মানসিক চাপ কমায় এবং মনে প্রফুল্লতা আনে । ফলে ছাত্ররা আরও বেশি মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে ।
-
চরিত্র গঠন ও নিয়মানবর্তিতা: খে লাধুলার মাধ্যমে ছাত্ররা নি য়ম মে নে চলতে শে খে । মাঠের নিয়ম শৃঙ্খ লা তাদের বাস্তব জীবনে ও নিয়মানুবর্তীতা হতে শেখায়। এছাড়া হার-জিত মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়, যা ধৈর্য ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে ।
-
একতা ও দলগত মনোভাব: দলগত খেলা (যেমন— ফুটবল বা ভলিবল) ছাত্রদের মধ্যে মিলেমিশে কাজ করার শিক্ষা দেয়। একে অপরকে সাহায্য করা এবং দলের হয়ে লড়ার যে মানসিকতা তৈরি হয়, তা পরবর্তী জীবনে সামাজিক মানষু হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে ।
-
উপসংহার: আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলাকে বল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জীবন গড়ার অন্যতম কারিগর। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার উপযুক্ত সুযোগ থাকা উচিত। পড়াশোনা আর খেলাধুলার সঠিক ভারসাম্যই একজন ছাত্রকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে ।
-

(১০)একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (দীঘা)
-
ভূমিকা: মানুষের চিরকালই অজানাকে জানার কৌতূহল থাকে । ভ্রমণ সেই জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি মনে আনন্দ জোগায়। গত বছর শীতে বাবা-মায়ে র সঙ্গে আমার দীঘা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিল অবিস্মরণীয়।
-
যাত্রা ও পৌঁছানো: আমরা সকালে ট্রেনে করে রওনা দিয়েছিলাম। দপুুরের দিকে দীঘায় পৌঁছে যখন সমদ্রের নোনা হাওয়া গায়ে লাগল, তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল।
-
● সমুদ্রের দৃশ্যতা: সমদ্রেুদ্রের বি শাল জলরাশি আর বিশাল বিশাল ঢেউ দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। বালকুবে লায় আছড়ে পড়া ঢেউয়ে র শব্দ এক অদ্ভুত ভালো লাগা তৈরি করেছিল। আমরা সবাই মিলে সমদ্রের নোনা জলে স্নান করে খুব আনন্দ করলাম।
-
অন্যান্য আনন্দ: বিকেলে আমরা সমদ্রের তীরে ঝাউবনের ছায়ায় ঘুরে বেড়ালাম। মেরিন একোয়ারিয়ামে হরেকরকমে র সামুদ্রিক মাছ দেখলাম। সন্ধ্যায় বিচের দোকান থেকে ঝিনুকের তৈরি কিছু সুন্দর জিনিস কিনলাম।
-
উপসংহার: মাত্র দ-ুদিনে র এই সফর শেষে যখন বাড়ি ফিরলাম, মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সমদ্রেুদ্রের সেই বিশালতা আর নীল জলরাশির স্মৃতি আজও আমার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে ।


