জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর

(মাধ্যমিক)

উৎস, সারাংশ ও নামকরণ

Gyanchakshu Question Answer

আজকে  আলোচনা করতে চলেছি আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি নিয়ে, যা  দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। এই গল্পের মাধ্যমে আমরা জানতে পারব এক কিশোরের সাহিত্য জগতে প্রবেশের অভিজ্ঞতা, আত্মসম্মানবোধ ও বাস্তব উপলব্ধির কাহিনি।

 

আজকের ক্লাসে: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের সারাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর – এই পোস্টে  গল্পের সারসংক্ষেপ, নামকরণের বিশ্লেষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পাওয়া যাবে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে।

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী (দশম শ্রেণির পাঠ্য – প্রথম অধ্যায়)

2 জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর (Gyanchakshu Ashapurna Devi) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ & VSAQ)

3 ‘জ্ঞানচক্ষু’ – বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ)

4 আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

5 জ্ঞানচক্ষু গল্পের রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (৫ নম্বর) – বড় প্রশ্ন

জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী (দশম শ্রেণির পাঠ্য – প্রথম অধ্যায়)

 

উৎস ও পটভূমি

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত  ‘কুমকুম’  গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে। আশাপূর্ণা দেবী বাংলা সাহিত্যের একজন  অন্যতম প্রধান লেখিকা, যিনি নারীজীবন, সামাজিক বাস্তবতা এবং শিশুদের মানসিক বিকাশের নানা দিক তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়। ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে শিশুমনের কৌতূহল, সাহিত্য সম্পর্কে উপলব্ধি এবং আত্মমর্যাদার বোধ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

জ্ঞানচক্ষুগল্পের সারাংশ

 

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন, যে ছোটো থেকেই মনে করত লেখকরা যেন এক বিশেষ জগতের মানুষ, সাধারণদের মতো তারা চলাফেরা  করেন না। কিন্তু তার এই ভুল ধারণা ভেঙে যায় যখন সে জানতে পারে তার সদ্যবিবাহিতা ছোটোমাসির স্বামী একজন লেখক।

তপন অবাক হয় দেখে, লেখক হওয়া সত্ত্বেও ছোটোমেসো সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন—ঘুমান, স্নান করেন, এমনকি দাড়ি কামান। মামাবাড়িতে আসার পর তপনও লেখালেখি শুরু করে এবং একটি গল্প লিখে ফেলে। ছোটোমাসি তার লেখা জোর করে ছোটোমেসোর হাতে তুলে দেয়, এবং তিনি গল্পটি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

 

তপন উচ্ছ্বসিত হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে, কিন্তু গল্পটি প্রকাশ হতে দেরি হয়। হঠাৎ একদিন ছোটোমাসি ও মেসো পত্রিকা হাতে বাড়িতে আসে, যেখানে দেখা যায় গল্পটি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু গল্পটি পড়ে তপন হতাশ হয়, কারণ সে বুঝতে পারে ছোটোমেসো সংশোধনের নামে পুরো গল্পই পাল্টে দিয়েছেন। নিজের লেখা গল্পকে অপরিচিত মনে হওয়ায় সে দুঃখ পায় এবং সংকল্প করে যে ভবিষ্যতে নিজেই তার লেখা পত্রিকায় জমা দেবে, যাতে তার নিজের কৃতিত্ব অন্য কেউ গ্রহণ করতে না পারে। এই উপলব্ধির মাধ্যমেই তপনের “জ্ঞানচক্ষুর” উন্মেষ ঘটে।

নামকরণের তাৎপর্য

 

গল্পের নাম “জ্ঞানচক্ষু” (অন্তর্দৃষ্টি) খুবই তাৎপর্যময়। শুরুতে তপন মনে করত লেখকরা সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা। পরবর্তীতে সে বুঝতে পারে লেখকরা সাধারণ মানুষের মতোই। কিন্তু আসল শিক্ষা সে পায় যখন তার নিজের গল্প প্রকাশিত হলেও নিজের লেখা বলে মনে হয় না। তখনই সে লেখক হিসেবে নিজের অধিকার ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব বুঝতে পারে, যা তার জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচন ঘটায়। তাই গল্পের নামকরণ যথাযথ এবং ব্যঞ্জনাধর্মী।

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর

(Gyanchakshu Ashapurna Devi)

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ & VSAQ)

 

১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘কুমকুম’ গল্পসংকলন থেকে।

২. তপন লেখকদের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করত?
উত্তর: তপন মনে করত লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এক বিশেষ জগতের (অন্য গ্রহের প্রাণী) মানুষ।

৩. তপনের ছোটমেসো কী কাজ করতেন?
উত্তর: তিনি একজন অধ্যাপক ও লেখক ছিলেন।

৪. তপন কখন গল্প লিখতে শুরু করে?
উত্তর: মামাবাড়িতে ছোটোমাসির বিয়ের সময় সে প্রথম গল্প লিখে।

৫. কোন পত্রিকায় তপনের গল্প প্রকাশিত হয়?
উত্তর: সন্ধ্যাতারা পত্রিকায়।

৬. তপন নিজের গল্প পড়ে হতাশ কেন হয়?
উত্তর: কারণ তার ছোটোমেসো সংশোধনের নামে পুরো গল্পটিই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন, যা তপনের নিজের লেখা বলে মনে হয়নি।

৭. গল্পের শেষের দিকে তপন কী সংকল্প করল?
উত্তর: ভবিষ্যতে সে নিজেই তার লেখা পত্রিকায় জমা দেবে, যাতে অন্য কেউ তার লেখা বদলে দিতে না পারে।

৮. ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের কারণ কী?
উত্তর: তপনের সাহিত্যিক জীবন ও আত্মমর্যাদার প্রতি তার উপলব্ধিই তার “জ্ঞানচক্ষু” খুলে দেয়, তাই গল্পের নাম যথার্থ।

‘জ্ঞানচক্ষু’ 

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ)

 

১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির রচয়িতা কে?

(ক) মহাশ্বেতা দেবী
(খ) আশাপূর্ণা দেবী
(গ) লীলা মজুমদার
(ঘ) সুফিয়া কামাল

উত্তর: (খ) আশাপূর্ণা দেবী

 

২. কথাটা শুনে কার চোখ মার্বেল হয়ে গেল?

(ক) ছোটোমাসির
(খ) তপনের
(গ) মেজোকাকুর
(ঘ) বাবার

উত্তর: (খ) তপনের

 

৩. তপনের নতুন মেসোমশাই পেশায় কী ছিলেন?

(ক) ডাক্তার
(খ) উকিল
(গ) অধ্যাপক (কলেজে পড়ান) 
(ঘ) স্কুলের শিক্ষক

উত্তর: (গ) অধ্যাপক (কলেজে পড়ান)

 

৪. নতুন মেসোমশাই কী করেন বলে তপন প্রথম জানতে পারে?

(ক) গান করেন
(খ) বই লেখেন
(গ) ছবি আঁকেন
(ঘ) নাটক করেন

উত্তর: (খ) বই লেখেন

 

৫. তপনের সন্দেহ ছিল – লেখকরা কাদের মতো মানুষ? তপনের সন্দেহ ভেঙেছিল –

(ক) মেজ কাকা, ছোটমামা, বাবাদের মতোই মানুষ
(খ) সাধারণ মানুষের মতো
(গ) আকাশ থেকে পড়া জীবের মতো
(ঘ) দেবতাদের মতো

উত্তর: (ক) মেজ কাকা, ছোটমামা, বাবাদের মতোই মানুষ

 

৬. নতুন মেসোকে দেখে তপনের কী খুলে গেল?

(ক) তৃতীয় নয়ন
(খ) দিব্যদৃষ্টি
(গ) জ্ঞানচক্ষু
(ঘ) মনের চোখ

উত্তর: (গ) জ্ঞানচক্ষু

 

৭. মেসোমশাই খবরের কাগজের কথা নিয়ে তর্ক করে শেষে কী বলে সিনেমা দেখতে চলে যান?

(ক) ‘এ দেশের কিছু হবে না’
(খ) ‘সব গোল্লায় গেছে’
(গ) ‘সব বাজে কথা’
(ঘ) ‘সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত’

উত্তর: (ক) ‘এ দেশের কিছু হবে না’

 

৮. কী উপলক্ষ্যে নতুন মেসো শ্বশুরবাড়িতে এসে রয়েছেন?

(ক) দুর্গাপুজো
(খ) বিয়ে
(গ) অন্নপ্রাশন
(ঘ) ভাইফোঁটা

উত্তর: (খ) বিয়ে

 

৯. মেসোমশাইয়ের কিসের ছুটি চলছিল?

(ক) পুজোর ছুটি
(খ) বড়োদিনের ছুটি
(গ) গরমের ছুটি
(ঘ) শীতের ছুটি

উত্তর: (গ) গরমের ছুটি

 

১০. তপন মামার বাড়িতে কেন রয়ে গেছে?

(ক) বেড়াতে এসেছে বলে
(খ) ছুটি আছে বলে
(গ) মেসোকে দেখবে বলে
(ঘ) গল্প লিখবে বলে

উত্তর: (খ) ছুটি আছে বলে

 

১১. ‘রত্নের মূল্য’ কার কাছে?

(ক) জহুরির কাছে
(খ) ব্যবসায়ীর কাছে
(গ) রাজার কাছে
(ঘ) প্রজার কাছে

উত্তর: (ক) জহুরির কাছে

 

১২. তপনের গল্প পড়ে মেসোমশাই কী বলেছিলেন?

(ক) খুব বাজে হয়েছে
(খ) একটু কারেকশান করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে
(গ) একদম ছাপার অযোগ্য
(ঘ) এখনই ছাপতে দেব

উত্তর: (খ) একটু কারেকশান করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে

 

১৩. কোন পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপানোর কথা মেসোমশাই বলেছিলেন?

(ক) শুকতারা
(খ) আনন্দমেলা
(গ) সন্ধ্যাতারা
(ঘ) দেশ

উত্তর: (গ) সন্ধ্যাতারা

 

১৪. তপনের বয়সি ছেলেমেয়েরা গল্প লিখতে গেলে সাধারণত কী নিয়ে লেখে?

(ক) রাজারানির গল্প
(খ) খুন জখম অ্যাকসিডেন্ট
(গ) না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া
(ঘ) উপরের সবকটি

উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি

 

১৫. তপন তার গল্পে কীসের বিষয় নিয়ে লিখেছিল?

(ক) রাজারানির গল্প
(খ) স্কুলে ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি
(গ) গোয়েন্দা কাহিনি
(ঘ) ভূতের গল্প

উত্তর: (খ) স্কুলে ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি

 

১৬. তপন কোথায় বসে তার আস্ত গল্পটি লিখেছিল?

(ক) ছাদে
(খ) তিনতলার সিঁড়িতে
(গ) নিজের ঘরে
(ঘ) বাগানে

উত্তর: (খ) তিনতলার সিঁড়িতে

 

১৭. গল্প লেখার জন্য তপন কোন খাতাটি নিয়েছিল?

(ক) ড্রয়িং খাতা
(খ) হোম টাস্কের খাতা
(গ) ডায়েরি
(ঘ) রাফ খাতা

উত্তর: (খ) হোম টাস্কের খাতা

 

১৮. তপন প্রথম গল্পটি কখন লিখেছিল?

(ক) সকালবেলা
(খ) দুপুরবেলা
(গ) বিকেলবেলা
(ঘ) রাত্রিবেলা

উত্তর: (খ) দুপুরবেলা

 

১৯. তপনের লেখা গল্পটি সর্বাগ্রে কে পড়েছিল বা কাকে সে দেখিয়েছিল?

(ক) মাকে
(খ) বাবাকে
(গ) ছোটোমাসিকে
(ঘ) নতুন মেসোকে

উত্তর: (গ) ছোটোমাসিকে

 

২০. ছোটোমাসি তপনের চেয়ে বয়সে কত বড়ো?

(ক) বছর পাঁচেকের
(খ) বছর আষ্টেকের
(গ) বছর দশেকের
(ঘ) বছর দুয়েকের

উত্তর: (খ) বছর আষ্টেকের

 

২১. গল্প পড়ে ছোটোমাসি তপনকে কী সন্দেহ করে বলেছিল?

(ক) গল্পটি মেসো লিখে দিয়েছে কি না
(খ) কোনোখান থেকে টুকলিফাই করেছে কি না
(গ) গল্পটি ভালো হয়নি
(ঘ) বানিয়ে বলেছে কি না

উত্তর: (খ) কোনোখান থেকে টুকলিফাই করেছে কি না

 

২২. গল্প লেখার পর বাড়িতে তপনের কী নাম হয়ে গিয়েছিল?

(ক) কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী
(খ) গল্পকার
(গ) নাট্যকার
(ঘ) প্রাবন্ধিক

উত্তর: (ক) কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী

 

২৩. তপনের মনে কখন বুকের রক্ত ছলকে ওঠে?

(ক) মেসোকে দেখে
(খ) ছোটোমাসি আর মেসোর হাতে এক সংখ্যা ‘সন্ধ্যাতারা’ দেখে
(গ) গল্প লেখার পর
(ঘ) পত্রিকায় নাম দেখে

উত্তর: (খ) ছোটোমাসি আর মেসোর হাতে এক সংখ্যা ‘সন্ধ্যাতারা’ দেখে

 

২৪. পত্রিকায় ছাপা হওয়া তপনের গল্পটির নাম কী ছিল?

(ক) প্রথম দিন
(খ) শেষ দিন
(গ) ছুটির দিন
(ঘ) জ্ঞানচক্ষু

উত্তর: (ক) প্রথম দিন

 

২৫. সূচিপত্রে লেখকের নাম কী দেওয়া ছিল?

(ক) তপন কুমার
(খ) শ্রীতপন কুমার রায়
(গ) তপন রায়
(ঘ) শ্রীতপন

উত্তর: (খ) শ্রীতপন কুমার রায়

 

২৬. ছোটোমাসি আত্মপ্রসাদের প্রসন্নতা নিয়ে কী খাচ্ছিল?

(ক) চা আর বিস্কুট
(খ) কফি আর চপ
(গ) ডিম ভাজা আর চা
(ঘ) মুড়ি আর চা

উত্তর: (গ) ডিম ভাজা আর চা

 

২৭. চায়ের টেবিলে মেসো কী খাচ্ছিলেন?

(ক) চা
(খ) শুধু কফি
(গ) শরবত
(ঘ) দুধ

উত্তর: (খ) শুধু কফি

 

২৮. কে তপনের গল্পের আগাগোড়াই কারেকশান করেছিলেন?

(ক) ছোটোমাসি
(খ) নতুন মেসো
(গ) সন্ধ্যাতারার সম্পাদক
(ঘ) বাবা

উত্তর: (খ) নতুন মেসো

 

২৯. নিজের ছাপা গল্প পড়তে গিয়ে তপনের কী প্রতিক্রিয়া হয়?

(ক) সে খুব আনন্দ পায়
(খ) সে বোবার মতো বসে থাকে এবং কী পড়ছে তা তার মাথায় ঢোকে না
(গ) সে গর্ববোধ করে
(ঘ) সে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে

উত্তর: (খ) সে বোবার মতো বসে থাকে এবং কী পড়ছে তা তার মাথায় ঢোকে না

 

৩০. গভীরভাবে দুঃখের মুহূর্তে তপন কী সংকল্প করেছিল?

(ক) আর কখনো গল্প লিখবে না
(খ) নিজে গিয়ে নিজের কাঁচা লেখা ছাপতে দেবে
(গ) মেসোর কাছে আর যাবে না
(ঘ) ছোটোমাসিকে আর গল্প দেখাবে না
উত্তর: (খ) নিজে গিয়ে নিজের কাঁচা লেখা ছাপতে দেবে

    জ্ঞানচক্ষু গল্প

আশাপূর্ণা দেবী 

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

 

১. “তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।” – তপনের চোখ মার্বেল হয়ে যাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন জানতে পারে যে, তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক এবং তাঁর লেখা বই ছাপাও হয় । তপনের ধারণা ছিল লেখকরা তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতো সাধারণ মানুষ হন না । কিন্তু সে যখন শোনে তার মেসোমশাইয়ের অনেক বই ছাপা হয়েছে, তখন বিস্ময়ে তার চোখ মার্বেলের মতো গোল হয়ে যায় । কারণ একজন ‘জলজ্যান্ত’ লেখককে সে এর আগে কখনো এত কাছ থেকে দেখেনি ।

 

২. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।” – কথাটির তাৎপর্য ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: ‘জহুরি’ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আসল রত্ন বা মণিমাণিক্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। আলোচ্য অংশে ‘রত্ন’ বলতে তপনের লেখা গল্পটিকে এবং ‘জহুরি’ বলতে তার লেখক মেসোমশাইকে বোঝানো হয়েছে ।

ছোটোমাসি যখন তপনের লেখা গল্পটি জোর করে ছোটোমেসোর হাতে তুলে দেয়, তখন তপন মুখে আপত্তি জানালেও মনে মনে বেশ পুলকিত হয়েছিল । কারণ তার মেসোমশাই নিজে একজন সত্যিকার লেখক । তপনের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, একজন সাধারণ মানুষ নয়, বরং একজন প্রকৃত লেখকই তার লেখার আসল কদর বা মূল্যায়ন করতে পারবেন, ঠিক যেমন একজন জহুরি আসল রত্ন চিনতে পারেন ।

 

৩. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?” – কোন্ ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে এবং কেন?

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন কুমার রায়ের লেখা ‘প্রথম দিন’ নামক গল্পটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনাটিকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে।

কেন বলা হয়েছে: তপনের কাছে নিজের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে দেখাটা ছিল এক কল্পনাতীত ব্যাপার। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে তার মতো একটা সাধারণ ছেলের লেখা গল্প সত্যি সত্যি ছাপা হতে পারে এবং তা হাজার হাজার ছেলের হাতে হাতে ঘুরবে । এই বিষয়টি তার কাছে এতটাই অভাবনীয় এবং অবিশ্বাস্য ছিল যে, পত্রিকায় নিজের লেখা গল্প ছাপা হওয়ার বাস্তব ঘটনাটিকেও তার একটি ‘অলৌকিক’ ঘটনা বলে মনে হয়েছিল ।

জ্ঞানচক্ষু গল্প

রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

(৫ নম্বর) – বড় প্রশ্ন

 

১. “তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।” – কার, কোন্ দুঃখ ও অপমানের কথা বলা হয়েছে? এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চরিত্রের কোন্ উত্তরণ ঘটেছে তা আলোচনা করো।

 

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে উদ্ধৃত অংশে কিশোর চরিত্র তপনের দুঃখ ও অপমানের কথা বলা হয়েছে ।

দুঃখ ও অপমানের কারণ: তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’ গল্পটি তার নতুন মেসোমশাইয়ের হাত ধরে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হয়ে আসে । তপন যখন প্রবল উৎসাহে সেই গল্পটি বাড়ির সকলের সামনে পড়তে যায়, তখন সে আবিষ্কার করে যে গল্পের প্রতিটি লাইন তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং আনকোরা । নতুন মেসোমশাই কারেকশানের নামে তপনের গল্পটি আগাগোড়াই নিজের পাকা হাতে নতুন করে লিখেছেন । নিজের সৃজনশীলতার এই অপমৃত্যু এবং অন্যের লেখা গল্প নিজের নামে ছাপা হওয়ার গ্লানি তপনকে গভীরভাবে আহত করে। নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়ার মতো বড়ো দুঃখ ও অপমান তার কাছে আর কিছু ছিল না ।

চরিত্রের উত্তরণ: এই নিদারুণ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তপনের আত্মমর্যাদাবোধের জাগরণ ঘটে। খ্যাতির মোহ থেকে বেরিয়ে এসে সে বাস্তবের কঠিন রূপটি চিনতে পারে। সে গভীরভাবে সংকল্প করে যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো সে তার লেখা ছাপতে দেয়, তবে সে নিজে গিয়ে দিয়ে আসবে । নিজের লেখা কাঁচা হোক, তাতে ক্ষতি নেই, ছাপা হোক বা না হোক, অন্যের দয়া নিয়ে সে আর কখনো নিজের নামে গল্প ছাপাবে না । এই আত্মনির্ভরশীলতা এবং স্বাভিমানের প্রতিষ্ঠাই হলো তপন চরিত্রের মানসিক উত্তরণ।

২. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: সাহিত্যে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মাধ্যমে রচনার মূল সুর বা কেন্দ্রীয় ভাবটি ফুটে ওঠে। ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো অন্তর্দৃষ্টি বা প্রকৃত জ্ঞান লাভ। আশাপূর্ণা দেবীর এই গল্পে প্রধান চরিত্র তপনের দু-বার জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের কথা বলা হয়েছে।

প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন: কিশোর তপনের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, লেখকরা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরের কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব । কিন্তু তার নতুন মেসোমশাই, যিনি পেশায় একজন কলেজের প্রফেসর এবং সত্যিকার লেখক, তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখে তপনের প্রথমবার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায় । সে বুঝতে পারে লেখকরাও তার বাবা বা কাকাদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, এবং সাধারণ জীবনযাপন করেন

দ্বিতীয় ও প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন: তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খোলে গল্পের একেবারে শেষে। তার লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সে জানতে পারে যে, মেসোমশাই কারেকশানের নামে গল্পটি আগাগোড়াই পরিবর্তন করে দিয়েছেন । অর্থাৎ, তার নিজের কৃতিত্ব সেখানে কিছুই নেই । এই ঘটনায় তার শিশুসুলভ রোমান্টিক কল্পনার মোহভঙ্গ হয়। সে বুঝতে পারে, অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া প্রতিষ্ঠা আসলে চূড়ান্ত অপমানের । এরপর সে সংকল্প করে যে, নিজের কাঁচা লেখা সে নিজেই ছাপতে দেবে ।

সার্থকতা: তপনের এই আত্মমর্যাদাবোধের জাগরণ ও বাস্তববোধের উন্মেষই হলো প্রকৃত জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন। তাই গল্পের বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত ভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক ও যথাযথ।

 

৩. “আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।” – দিনটি কার কাছে, কেন সবচেয়ে দুঃখের দিন ছিল? সেই গভীর দুঃখের মুহূর্তে সে কী সংকল্প করেছিল?

উত্তর: আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে কিশোর তপনের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনের কথা বলা হয়েছে ।

সবচেয়ে দুঃখের দিন হওয়ার কারণ: তপনের জীবনে যেদিন সবচেয়ে আনন্দের দিন হওয়ার কথা ছিল, সেদিনটিই তার কাছে চরম দুঃখের হয়ে ওঠে। ছোটোমাসি ও নতুন মেসোমশাই যেদিন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার একটি সংখ্যা নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন, তখন সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায় যে তপনের গল্প ছাপা হয়েছে । কিন্তু পত্রিকাটি হাতে নিয়ে মায়ের কথায় তপন যখন গল্পটি পড়তে শুরু করে, তখন সে বিস্ময়ে ও বেদনায় হতবাক হয়ে যায় । সে দেখে, গল্পের প্রত্যেকটি লাইন তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত । মেসোমশাই কারেকশানের অজুহাতে তার লেখা গল্পটি আগাগোড়াই বদলে নিজের পাকা হাতে লিখে দিয়েছেন । এর ফলে বাড়ির সবাই মেসোর মহত্ত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়, আর তপনের নিজের সৃজনশীলতা চরমভাবে উপেক্ষিত হয় । নিজের নামে অন্যের লেখা গল্প পড়ার এই নিদারুণ গ্লানি ও অপমানবোধের কারণেই দিনটি তপনের কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়েছিল ।

তপনের সংকল্প: এই গভীর দুঃখ ও অপমানের মুহূর্তে ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে চোখ মুছতে মুছতে তপন একটি দৃঢ় সংকল্প করে । সে ঠিক করে যে, যদি ভবিষ্যতে কখনো তাকে লেখা ছাপতে দিতে হয়, তবে সে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজে গিয়ে লেখা জমা দিয়ে আসবে । তার নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হোক বা না হোক, তাতে তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।

এই নোটস শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও তথ্যবহুল করে তৈরি করা হয়েছে, যা তাদের বোঝার সুবিধা দেবে। আজকে  ছোট করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিষয়বস্তু এবং সারাংশ শেয়ার করা হলো। অন্য আরেকটি পোস্টে বিস্তারিত প্রশ্ন উত্তর বড় প্রশ্ন সহ আলোচনা করা হবে।

 

SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top