
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল
(আমাদের পৃথিবী)
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
ষষ্ঠ অধ্যায়
‘জলবায়ু অঞ্চল’
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:
অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. প্রশ্ন: জলবায়ু অঞ্চল বলতে কী বোঝো?
উত্তর: একই জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিস্তৃত অঞ্চল।
২. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কত?
উত্তর: প্রায় ২৭° সেলসিয়াস।
৩. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অঞ্চলের বনভূমিকে কী বলা হয়?
উত্তর: সেলভা (Selva) |
৪.প্রশ্ন: ‘নিরক্ষীয় শান্তবলয়’ কোন্ অক্ষাংশে অবস্থিত?
উত্তর: ০° থেকে ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ।
৫. প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে দৈনিক তাপমাত্রা বেশি?
উত্তর: উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে।
৬..প্রশ্ন: কোন্ অক্ষাংশে সাবানা জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত?
উত্তর: ১০০ থেকে ২০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ।
৭.প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে কোন্ ঋতুতে বৃষ্টি হয়?
উত্তর: শীতকালে।
৮.প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চল ফলের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল।
৯.প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে সরলবর্গীয় অরণ্য দেখা যায়?
উত্তর: তৈগা জলবায়ু অঞ্চলে।
১০.প্রশ্ন: ‘তুন্দ্রা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বৃক্ষহীন শ্যাওলাচ্ছন্ন ভূমি।
১১.প্রশ্ন: সাবানা জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান প্রাণী কী?
উত্তর: জিরাফ, জেব্রা, হাতি।
১২.প্রশ্ন: তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে কোন্ ধরনের অরণ্য দেখা যায়?
উত্তর: কোনো অরণ্য থাকে না, কেবল শ্যাওলা ও লাইকেন জন্মে।
১৩. প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলকে ‘রুটির ঝুড়ি’ বলা হয়?
উত্তর: নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি (যেমন- প্রেইরি)।
১৪.প্রশ্ন: ইনুইটদের (এস্কিমো) বাসস্থানকে কী বলে?
উত্তর: ইগলু (বরফের ঘর)।
১৫. প্রশ্ন: মরুভূমির প্রধান উদ্ভিদ কী?
উত্তর: ক্যাকটাস বা কাঁটাঝোপ।
১৬. প্রশ্ন: জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান নির্ধারক কী?
উত্তর: অক্ষাংশ।
১৭. প্রশ্ন: জলবায়ু ও আবহাওয়ার পার্থক্যের প্রধান ভিত্তি কী?
উত্তর: সময় (দীর্ঘমেয়াদী ও ক্ষণস্থায়ী)।
১৮. প্রশ্ন: তৈগা অরণ্যের একটি বৃক্ষের নাম লেখো।
উত্তর: পাইন বা ফার।
১৯.প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে কোরিওলিস বল বেশি কার্যকর? ১৯.
উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশীয় জলবায়ু অঞ্চলে।
২০.প্রশ্ন: কিরঘিজদের বাসস্থানকে কী বলে? ২০.
উত্তর: ইউর্ট (Yurt) |
২১. প্রশ্ন: আরব মরুভূমির প্রধান উদ্ভিদ কী?
উত্তর: খেজুর গাছ।
২২. প্রশ্ন: পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কোন্ জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল।
২৩. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর দিনের দৈর্ঘ্য কেমন থাকে?
উত্তর: সমান (১২ ঘণ্টা)।
২৪. প্রশ্ন: স্টেপ তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: ইউরেশিয়া বা মধ্য এশিয়ায়।
২৫. প্রশ্ন: তুন্দ্রা অঞ্চলের শীতকাল কতদিন স্থায়ী হয়?
উত্তর: প্রায় ৮-৯ মাস।
২৬. প্রশ্ন: সাবানা অঞ্চলের প্রধান কৃষিজ ফসল কী?
উত্তর: তামাক ও চীনাবাদাম।
২৭. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় জলবায়ুর একটি অঞ্চলের নাম লেখো।
উত্তর: আমাজন অববাহিকা।
২৮. প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে সারাবছর বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে।
২৯. প্রশ্ন: দক্ষিণ গোলার্ধে কোন্ জলবায়ু অঞ্চল কম দেখা যায়?
উত্তর: তৈগা ও তুন্দ্রা (স্থলভাগের অভাবে)।
৩০. প্রশ্ন: পার্বত্য জলবায়ু কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: উচ্চতার ওপর।
৩১. প্রশ্ন: মরুভূমির জাহাজ কাকে বলা হয়?
উত্তর: উট।
৩২. প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে কোন্ ধরনের আঙ্গুর উৎপাদন হয়?
উত্তর: কিসমিস তৈরির উপযোগী আঙ্গুর।
৩৩. প্রশ্ন: তৈগা অঞ্চলের প্রধান শিল্প কী?
উত্তর: কাগজ শিল্প (কাষ্ঠ শিল্প)।
৩৪. প্রশ্ন: তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান খাদ্য কী?
উত্তর: শিল মাছ ও বল্লা হরিণের মাংস।
৩৫. প্রশ্ন: প্রেইরি তৃণভূমি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: উত্তর আমেরিকায়।
৩৬. প্রশ্ন: জলবায়ু অঞ্চল নির্ধারণে সমুদ্র থেকে দূরত্বের প্রভাব কী?
উত্তর: সমুদ্রের কাছে জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়।
৩৭. প্রশ্ন: সেলভা অরণ্যে কী ধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়?
উত্তর: মেহগনি, আবলুস, রবার।
৩৮. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে কি কোনো ঋতু পরিবর্তন হয়?
উত্তর: না।
৩৯. প্রশ্ন: সাহারা মরুভূমি কোন্ মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তর: আফ্রিকা।
৪০. প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে কোন্ বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়?
উত্তর: পশ্চিমা বায়ু।
৪১. প্রশ্ন: তৈগা অঞ্চলে কী ধরনের মাটি দেখা যায়?
উত্তর: পডজল (Podzol) মাটি।
৪২. প্রশ্ন: বল্লা হরিণ (Reindeer) কোন্ জলবায়ু অঞ্চলের প্রাণী?
উত্তর: তুন্দ্রা অঞ্চলের।
৪৩. প্রশ্ন: পম্পাস তৃণভূমি কোন্ মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তর: দক্ষিণ আমেরিকা।
৪৪. প্রশ্ন: জলবায়ু অঞ্চল কয়টি প্রধান ভাগে বিভক্ত?
উত্তর: ৩টি (উষ্ণ, নাতিশীতোষ্ণ ও শীতল)।
৪৫.প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রাকৃতিক কারণ লেখো।
উত্তর: আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত।
৪৬. প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলটি প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র ছিল?
উত্তর: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল।
৪৭. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে দিনের বেলা তাপমাত্রা কত থাকে?
উত্তর: প্রায় ৩০০-৩৫° সেলসিয়াস।
৪৮. প্রশ্ন: সাবানা জলবায়ু অঞ্চলে কোন্ ঋতুতে তৃণভূমি সবুজ থাকে?
উত্তর: বর্ষাকালে তুষারপাত।
৪৯. প্রশ্ন: কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে তুষারপাত হয়?
উত্তর: তুন্দ্রা ও পার্বত্য অঞ্চলে।
৫০. প্রশ্ন: পৃথিবীতে কয়টি তাপবলয় আছে?
উত্তর: ৩টি (উষ্ণ, নাতিশীতোষ্ণ ও হিমবলয়)।

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
================================================================================
১. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: (১) উষ্ণতা: সারাবছর তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে (গড় ২৭° সেলসিয়াস), কোনো ঋতু পরিবর্তন হয় না।
(২) বৃষ্টিপাত: প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টি হয়, বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০-২৫০ সেমি।
(৩) উদ্ভিদ: ঘন চিরসবুজ অরণ্য বা ‘সেলভা’ দেখা যায়।
(৪) দৈনিক পার্থক্য: বার্ষিক তাপমাত্রার পার্থক্যের চেয়ে দৈনিক তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি।
২. প্রশ্ন: উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: (১)উষ্ণতা: গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম (৫০° সেলসিয়াসের বেশি) এবং শীতকালে রাতে বেশ ঠান্ডা। দৈনিক তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি।
(২) বৃষ্টিপাত: খুবই কম, বার্ষিক ২৫ সেমির কম।
(৩) উদ্ভিদ: কাঁটাঝোপ, ক্যাকটাস এবং মরূদ্যান এলাকায় খেজুর গাছ দেখা যায়।
(৪) প্রাণী: উট হলো প্রধান প্রাণী।
৩. প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে কেন শীতকালে বৃষ্টি হয়?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলে উচ্চচাপ বিরাজ করে এবং বায়ু শুষ্ক থাকে, তাই বৃষ্টি হয় না। কিন্তু শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় বায়ুচাপ বলয়গুলি সরে যায়। ফলে পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে এখানকার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়।
৪. প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে কেন ‘পৃথিবীর ফলের বাগান’ বলা হয়?
উত্তর: এই জলবায়ুর বিশেষত্ব হলো শুষ্ক গ্রীষ্মকাল যা ফল পাকার জন্য আদর্শ। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি আঙ্গুর, লেবু, জলপাই, আপেল, নাসপাতি ইত্যাদি ফলের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে প্রচুর পরিমাণে ফল উৎপাদন হয় এবং তা বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
৫. প্রশ্ন: তৈগা জলবায়ু অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত কেমন?
উত্তর:-উদ্ভিদ: এই অঞ্চলের মাটি কম উর্বর হওয়ায় সরলবর্গীয় অরণ্য বা ‘তৈগা’ দেখা যায়, যেমন- পাইন, ফার, স্পস। এদের পাতা সূঁচালো ও গাছ কোণাকার হয়।
প্রাণী: এখানকার প্রাণীদের চামড়া খুব পুরু হয়, যেমন- মিনোক, ফক্স, সেবল
এবং বল্লা হরিণ।
৬.প্রশ্ন: তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে?
উত্তর:তুন্দ্রা অঞ্চলের মানুষ (যেমন- এস্কিমো বা ইনুইট) অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে বাস করে। শীতকালে তারা বরফের তৈরি ঘর ‘ইগলু’-তে থাকে। তারা শিকার ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। তারা চামড়ার পোশাক পরে এবং যাতায়াতের জন্য বল্লা হরিণ বা কুকুরের টানা স্লেজ গাড়ি ব্যবহার করে।
৭. প্রশ্ন: নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে কেন কৃষি ও পশুপালন উন্নত?
উত্তর: নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে (যেমন- প্রেইরি, স্টেপ) আবহাওয়া খুব চরম নয়, মাঝারি বৃষ্টিপাত হয় এবং এখানকার মাটি খুব উর্বর হয়। ফলে এখানে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে গম, ভুট্টা প্রভৃতি শস্যের চাষ করা হয়। এছাড়া বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে উন্নত মানের পশুচারণ ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।
উত্তর: ৮. প্রশ্ন: সাবানা জলবায়ু অঞ্চলে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব কী?
উত্তর: সাবানা অঞ্চলে প্রধানত দুটি ঋতু- শুষ্ক গ্রীষ্ম ও আর্দ্র শীত। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে এখানকার তৃণভূমি সবুজ হয়ে ওঠে এবং নানা ধরনের তৃণভোজী প্রাণী সেখানে ভিড় করে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি ফেটে যায়, তৃণভূমি শুকিয়ে যায় এবং প্রাণীরা জল ও খাদ্যের সন্ধানে অন্যত্র চলে যায়।
৯. প্রশ্ন: অক্ষাংশ কীভাবে জলবায়ু অঞ্চল নির্ধারণ করে?
উত্তর: অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে সূর্যরশ্মির পতন কোণের পার্থক্য হয়। নিরক্ষরেখা বা ০০ অক্ষাংশে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে উষ্ণতা বেশি হয়। মেরু বা উচ্চ অক্ষাংশের দিকে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ায় উষ্ণতা কমে যায়। এই উষ্ণতার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রধান জলবায়ু অঞ্চলগুলি (উষ্ণ, নাতিশীতোষ্ণ ও শীতল) ভাগ করা হয়েছে।
১০. প্রশ্ন: সমুদ্র থেকে দূরত্বের প্রভাব কীভাবে সমভাবাপন্ন ও চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর সৃষ্টি করে?
উত্তর: সমুদ্রের জলভাগ ধীরে উত্তপ্ত ও শীতল হয়, তাই সমুদ্রের কাছে অবস্থিত অঞ্চলের আবহাওয়া সারা বছর প্রায় একই রকম থাকে, একে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। অন্যদিকে, সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চল দ্রুত উত্তপ্ত ও শীতল হয়, তাই সেখানে গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম ও শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে, একে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
১১. প্রশ্ন: উচ্চতা কীভাবে পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর:ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত হলেও উঁচু পর্বতশৃঙ্গ (যেমন- কিলিমাঞ্জারো) বরফে ঢাকা থাকতে পারে। উচ্চতার ওপর নির্ভর করে উদ্ভিদেরও পরিবর্তন ঘটে।
১২. প্রশ্ন: মরুভূমির উদ্ভিদ কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকে?
উত্তর:মরুভূমির উদ্ভিদগুলির পাতা ছোট বা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় যাতে বাষ্পমোচন কম হয়। তাদের কাণ্ড মোটা ও রসালো হয় যা জল সঞ্চয় করে রাখে। এছাড়া এই উদ্ভিদগুলির শিকড় মাটির অনেক গভীরে গিয়ে জল খুঁজে নেয়।
১৩.প্রশ্ন: সরলবর্গীয় অরণ্যের কাঠ কাগজ শিল্পের জন্য কেন উপযোগী?
উত্তর: সরলবর্গীয় অরণ্যের গাছ (পাইন, ফার) খুব লম্বা ও সোজা হয়। এদের কাঠ নরম হয় এবং এতে আঠালো পদার্থ কম থাকে। এই কাঠ থেকে সহজে মণ্ড তৈরি করা যায় যা কাগজ তৈরির জন্য সেরা কাঁচামাল।
১৪. প্রশ্ন: দক্ষিণ গোলার্ধে কেন তৈগা ও তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল দেখা যায় না?
উত্তর: তৈগা ও তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলগুলি উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত। এই অক্ষাংশগুলিতে দক্ষিণ গোলার্ধে কোনো বড় স্থলভাগ নেই, বেশিরভাগই সমুদ্র। তাই এই জলবায়ু অঞ্চলগুলি দক্ষিণ গোলার্ধে প্রায় দেখা যায় না।
১৫. প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাবে, ফলে উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল ডুবে যেতে পারে। তাপমাত্রা বাড়লে মরুভূমি অঞ্চল আরও বড় হবে, চাষের জমি নষ্ট হবে এবং অনেক প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
১৬. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অরণ্যের গাছগুলির বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: (১) গাছগুলো খুব লম্বা এবং গুঁড়ি খুব মোটা হয়।
(২) সারাবছর বৃষ্টি হওয়ায় গাছগুলো চিরসবুজ থাকে।
(৩) বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এত ঠাসাঠাসি করে থাকে যে ওপরের দিকে পাতার একটি চাঁদোয়া (Canopy) তৈরি হয়।
(৪) অরণ্যের ভেতরে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না বলে নিচটা অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে থাকে।
১৭. প্রশ্ন: সাবানা (Savanna) তৃণভূমিকে ‘পৃথিবীর চিড়িয়াখানা’ বলা হয়
কেন?
উত্তর: সাবানা তৃণভূমিতে প্রচুর পরিমাণে ঘাস জন্মানোর ফলে এখানে অসংখ্য তৃণভোজী প্রাণী (যেমন- জিরাফ, জেব্রা, হাতি, হরিণ) বাস করে। আবার এই প্রাণীদের শিকার করার জন্য বাঘ, সিংহ, চিতার মতো মাংসাশী প্রাণীরাও এখানে ঘুরে বেড়ায়। বন্যপ্রাণীর এমন বৈচিত্র্য ও সংখ্যাধিক্যের কারণে একে ‘পৃথিবীর চিড়িয়াখানা’ বলা হয়।
১৮. প্রশ্ন: মরুভূমি অঞ্চলে কেন উষ্ণতার চরমভাব লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: মরুভূমিতে মেঘমুক্ত আকাশ থাকে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্প খুব কম থাকে। এর ফলে দিনের বেলা সূর্যরশ্মি সরাসরি বালি ও শিলাকে দ্রুত উত্তপ্ত করে ফেলে। আবার রাতের বেলা মেঘ না থাকায় মাটি খুব দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে যায়। তাই এখানে দিনে প্রচণ্ড গরম এবং রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে।
১৯.প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে জনবসতি ঘন হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: এখানকার মনোরম ও স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া মানুষের বসবাসের জন্য খুব আরামদায়ক। এছাড়া শীতকালীন বৃষ্টিপাত কৃষিকাজের জন্য সহায়ক, প্রচুর ফলের চাষ হয় এবং মনোরম পরিবেশের কারণে পর্যটন শিল্প উন্নত। এই সুবিধাগুলোর জন্যই এখানে জনবসতি অত্যন্ত ঘন।
২০. প্রশ্ন: তুন্দ্রা অঞ্চলের এস্কিমোদের যাতায়াত ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: তুন্দ্রা অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতের জন্য বরফের ওপর দিয়ে স্লেজ গাড়ি ব্যবহার করে, যা কুকুরে বা বল্লা হরিণে টানে। গ্রীষ্মকালে তারা ‘কায়াক’ নামক চামড়ার নৌকা ব্যবহার করে। তাদের প্রধান খাদ্য হলো শিকার করা সিল মাছ, বল্লা হরিণ ও মেরু ভাল্লুকের মাংস এবং চর্বি।
২১. প্রশ্ন: তৈগা অরণ্যের বাণিজ্যিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: তৈগা অরণ্যের সরলবর্গীয় গাছগুলি থেকে নরম কাঠ পাওয়া যায়। এই কাঠ সহজে কাটা ও বহন করা যায়। এই কাঠ কাগজ ও মণ্ড শিল্প, দিয়াশলাই শিল্প এবং আসবাবপত্র তৈরির জন্য খুব উপযোগী। শীতকালে বরফের ওপর দিয়ে কাঠ গড়িয়ে আনা সহজ বলে এখানে কাষ্ঠ আহরণ শিল্প খুব উন্নত।
২২. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে কেন ঋতু পরিবর্তন হয় না?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারাবছরই প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে বছরের প্রতিটি মাসেই তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকে (গড় ২৭° সেলসিয়াস)। বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনেও তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটে না। গ্রীষ্ম ও শীতের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য খুব কম হওয়ায় এখানে ঋতু পরিবর্তন বোঝা যায় না।
২৩. প্রশ্ন: মরূদ্যান (Oasis) কী? এখানে জনবসতি কেন গড়ে ওঠে?
উত্তর: মরুভূমির কোনো কোনো স্থানে বায়ুর কার্যের ফলে বালি সরে গিয়ে নিচের জলস্তর বেরিয়ে আসে এবং জলাশয় তৈরি হয়। এর চারপাশে গাছপালা ও ঘাস জন্মায়, একে মরূদ্যান বলে। মরুভূমিতে জলের উৎস কেবল এখানেই পাওয়া যায় বলে মানুষ এখানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে ও পশুপালন করে।
২৪. প্রশ্ন: তুন্দ্রা অঞ্চলে শীতকালে কেন ‘মেরুজ্যোতি’ (Aurora) দেখা যায়?
উত্তর: তুন্দ্রা অঞ্চলে শীতকালে প্রায় ৬ মাস রাত থাকে। এই দীর্ঘ অন্ধকারের সময় আকাশ মাঝে মাঝে রামধনুর মতো রঙিন আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে মহাজাগতিক কণার সংঘর্ষের ফলে এই আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে, যাকে মেরুজ্যোতি বলা হয়।
২৫. প্রশ্ন: প্রেইরি অঞ্চলের দুগ্ধ শিল্প উন্নত কেন?
উত্তর: উত্তর আমেরিকার প্রেইরি তৃণভূমি অঞ্চলে পশুপালনের জন্য পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায়। এখানকার পশুদের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আবহাওয়া অনুকূল। উন্নত মানের ঘাস ও শস্য (যেমন- ভুট্টা) পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া হিমঘর ও উন্নত পরিবহনের কারণে এখানে দুগ্ধজাত দ্রব্যের বিশাল শিল্প গড়ে উঠেছে।
২৬. প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদের পাতা কেন মোমের মতো প্রলেপযুক্ত হয়?
উত্তর: এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত শুষ্ক এবং প্রখর রৌদ্র থাকে। গাছের পাতা থেকে যাতে অতিরিক্ত জল বাষ্পীভূত (Transpiration) হয়ে বেরিয়ে না যায়, সেজন্য পাতার ওপর মোমের মতো একপ্রকার তৈলাক্ত আবরণ থাকে। এটি গাছকে জলের অভাব থেকে রক্ষা করে।
২৭. প্রশ্ন: সরলবর্গীয় গাছের পাতা কেন সূঁচালো এবং আকৃতি কেন মোচাকার হয়?
উত্তর: শীতকালে এই অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়। গাছের আকৃতি মোচাকার বা কোণাকার হওয়ায় তুষারগুলো ডালপালায় আটকে না থেকে সহজেই মাটিতে পড়ে যায়। আর সূঁচালো পাতা তুষার ও প্রবল শীত সহ্য করতে সাহায্য করে।
২৮. প্রশ্ন: ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বিশ্ব উষ্ণায়ন জলবায়ু অঞ্চলগুলোর ওপর কী প্রভাব ফেলছে?
উত্তর: উষ্ণায়ন বাড়ার ফলে বরফ গলছে, যা তুন্দ্রা ও তৈগা অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করছে। মরুভূমি অঞ্চলের সীমানা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে নিচু জলবায়ু অঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
২৯. প্রশ্ন: সাবানা তৃণভূমিতে বড় বড় চওড়া পাতাযুক্ত গাছ দেখা যায় না কেন?
উত্তর: সাবানা অঞ্চলে বছরের একটি দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন বা শুষ্ক থাকে। চওড়া পাতা থাকলে গাছ থেকে বেশি জল বাষ্পীভূত হয়ে যেত, যা শুষ্ক ঋতুতে গাছের টিকে থাকাকে কঠিন করে তুলত। তাই এখানে লম্বা ঘাস বেশি দেখা যায় এবং গাছগুলো বিক্ষিপ্ত ও ছোট পাতার হয়।
৩০. প্রশ্ন: জলবায়ু অঞ্চলের জ্ঞান আমাদের কেন প্রয়োজন?
উত্তর: জলবায়ু অঞ্চলের জ্ঞান থাকলে আমরা জানতে পারি পৃথিবীর কোথায় কেমন আবহাওয়া থাকবে, সেখানে কী ধরনের ফসল জন্মাবে এবং মানুষের জীবনযাত্রা কেমন হবে। এটি আমাদের কৃষিকাজ, শিল্প স্থাপন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।


©kamaleshforeducation.in(2023)



