
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল
(আমাদের পৃথিবী)
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
অষ্টম অধ্যায়
‘ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক’
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:
অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. প্রশ্ন: ভারতের বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশটির নাম কী?
উত্তর: চীন।
২. প্রশ্ন: ভারতের ক্ষুদ্রতম প্রতিবেশী দেশটির নাম কী?
উত্তর: মালদ্বীপ
৩. প্রশ্ন: ভারতের সঙ্গে কোন প্রতিবেশী দেশের সীমানা দীর্ঘতম?
উত্তর: বাংলাদেশ।
৪. প্রশ্ন:: ‘বজ্রপাতের দেশ’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: ভুটান।
৫.প্রশ্ন: নেপালের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর: মাউন্ট এভারেস্ট।
৬. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার প্রধান বাণিজ্যিক ফসল কী?
উত্তর: নারকেল ও মশলা।
৭. প্রশ্ন: পাকিস্তানের প্রধান নদীর নাম কী?
উত্তর: সিন্ধু নদ।
৮.প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রধান নদীর নাম কী?
উত্তর: পদ্মা।
৯. প্রশ্ন: মায়ানমারের জীবনরেখা বলা হয় কোন
উত্তর: ইরাবতী নদী।
১০. প্রশ্ন: ভুটানের রাজধানী কোনটি?
উত্তর: থিম্পু।
১১. প্রশ্ন: পাকিস্তানের রাজধানী কোনটি?
উত্তর: ইসলামাবাদ।
১২. প্রশ্ন: নেপালের রাজধানী কোনটি?
উত্তর: কাঠমান্ডু।
১৩. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার রাজধানীর নাম কী?
উত্তর: শ্রী জয়াবর্ধনপুরা কোট্টে।
১৪. প্রশ্ন: বাংলাদেশের রাজধানী কোনটি?
উত্তর: ঢাকা।
১৫. প্রশ্ন: মায়ানমারের রাজধানীর নাম কী?
উত্তর: নেপিডো।
১৬. প্রশ্ন: নেপালের প্রধান নদী কোনটি?
উত্তর: কালী গণ্ডকী।
১৭. প্রশ্ন: ভুটানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর: কুলা কাংরি।
১৮. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর: পিদুরুতালাগালা।
প্রশ্ন: হিমাচল প্রদেশের সঙ্গে কোন প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত আছে? ১৯.
উত্তর: চীন ও নেপাল।
২০. প্রশ্ন: সার্ক (SAARC) কত সালে গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৮৫ সালে।
২১. প্রশ্ন: সার্ক (SAARC)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত
উত্তর: নেপালের কাঠমান্ডুতে।
২২. প্রশ্ন: ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে কোন প্রণালী পৃথক করেছে?
উত্তর: পক প্রণালী।
২৩. প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রধান শিল্প কোনটি?
উত্তর: পাট শিল্প।
২৪. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার প্রধান কৃষিজ ফসল কোনটি?
উত্তর: ধান।
২৫. প্রশ্ন: রত্নদ্বীপ কোন দেশটিকে বলা হয়?
উত্তর: শ্রীলঙ্কা।
২৬. প্রশ্ন: পাকিস্তানের কোন প্রদেশে প্রচুর ফল চাষ হয়?
উত্তর: বেলুচিস্তান।
২৭. প্রশ্ন: মায়ানমারের বিখ্যাত প্যাগোডাটির নাম কী?
উত্তর: সোয়েডাগন প্যাগোডা।
২৮. প্রশ্ন: মায়ানমারের কোন অরণ্যজাত সম্পদ খুব বিখ্যাত?
উত্তর: সেগুন কাঠ।
২৯. প্রশ্ন: থর মরুভূমির কিছু অংশ কোন দিকে অবস্থিত?
উত্তর: পূর্ব দিকে।
৩০. প্রশ্ন: পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ‘কে-টু’ (K2) কোন দেশে অবস্থিত?
উত্তর: পাকিস্তান।
৩১. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার কোন পানীয় ফসল বিশ্ববিখ্যাত?
উত্তর: চা।
৩২. প্রশ্ন: ভারতের উত্তরে অবস্থিত একটি প্রতিবেশী দেশের নাম লেখো।
উত্তর: নেপাল বা ভুটান।
৩৩. প্রশ্ন: ভারতের দক্ষিণে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্রের নাম বলো।
উত্তর: শ্রীলঙ্কা বা মালদ্বীপ।
৩৪. প্রশ্ন: পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় কোন সেচ ব্যবস্থা প্রচলিত?
উত্তর: খাল সেচ।
৩৫. প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর কোনটি?
উত্তর: চট্টগ্রাম।
৩৬. প্রশ্ন: নেপালের তরাই অঞ্চলে কোন বনভূমি দেখা যায়?
উত্তর: সাল ও শিমুল বনভূমি।
৩৭. প্রশ্ন: সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সিংহভাগ কোন দেশে অবস্থিত?
উত্তর: বাংলাদেশ।
৩৮. প্রশ্ন: ভারতের কোন রাজ্যটি নেপাল ও ভুটানকে আলাদা করেছে?
উত্তর: সিকিম।
৩৯. প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন জেলা আমের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: রাজশাহী।
৪০.প্রশ্ন: পাকিস্তানের কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কেন্দ্র কোনটি? ৪০.
উত্তর: ফয়সালাবাদ।
৪১. প্রশ্ন: সার্ক (SAARC)-এর পূর্ণ নাম কী?
উত্তর: South Asian Association for Regional Cooperation.
৪২. প্রশ্ন: ভারতের পশ্চিম দিকে কোন প্রতিবেশী দেশ অবস্থিত?
উত্তর: পাকিস্তান।
৪৩. প্রশ্ন: মায়ানমারের প্রধান খনিজ সম্পদ কী?
উত্তর: খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস।
৪৪. প্রশ্ন: নেপালের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি কী?
উত্তর: পর্যটন শিল্প।
৪৫. প্রশ্ন: আপেল ও আঙুর চাষের জন্য কোন প্রতিবেশী দেশ বিখ্যাত?
উত্তর: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
৪৬. শা প্রশ্ন: নেপালের পশুচারণ ক্ষেত্রগুলিকে কী বলা হয়? কী বলা হ
উত্তর: মার্গ।
৪৭. প্রশ্ন: মশলা উৎপাদনে কোন প্রতিবেশী দেশ প্রসিদ্ধ?
উত্তর: শ্রীলঙ্কা।
৪৮. প্রশ্ন: মালদ্বীপ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
উত্তর: ভারত মহাসাগরে।
৪৯. প্রশ্ন: ভারতের মুদ্রার নাম কী?
উত্তর: রুপি।
৫০. প্রশ্ন: বাংলাদেশের মুদ্রার নাম কী?
উত্তর: টাকা।

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
==================================================
১. প্রশ্ন: সার্ক (SAARC) গঠনের উদ্দেশ্যগুলি কী কী?
উত্তর: ১৯৮৫ সালে ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলি মিলে সার্ক গঠন করে। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো-
(১) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
(২) সদস্য দেশগুলির মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
(৩) কৃষি, বিজ্ঞান ও কারিগরি ক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান করা এবং
(৪) পারস্পরিক বিবাদ মিটিয়ে শান্তি বজায় রাখা।
২. প্রশ্ন: বাংলাদেশের কৃষিজাত ফসলের বিবরণ দাও।
উত্তর: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এখানকার প্রধান ফসলগুলি হলো- (১) ধান: আউশ, আমন ও বোরো- এই তিন ধরনের ধান প্রচুর পরিমাণে চাষ হয়।
(২) পাট: বাংলাদেশ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উন্নত মানের পাট উৎপাদক দেশ।
(৩) অন্যান্য: এছাড়া চা (সিলেট অঞ্চলে), চিনি, তামাক, তৈলবীজ এবং আম ও লিচুর মতো ফল প্রচুর উৎপন্ন হয়।
৩. প্রশ্ন: নেপালের পর্যটন শিল্প উন্নত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: নেপাল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এক অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ।
(১) মাউন্ট এভারেস্টসহ বিশ্বের দশটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আটটিই এখানে অবস্থিত, যা পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে।
(২) পশুপতিনাথ মন্দির, লুম্বিনী ও বৌদ্ধস্তূপের মতো ধর্মীয় স্থান থাকায় তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন।
(৩) এখানকার মনোরম জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে, যা নেপালের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
৪. প্রশ্ন: পাকিস্তানের জলসেচ ব্যবস্থা ও ‘কারেজ’ প্রথা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: পাকিস্তান শুষ্ক দেশ হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে সেচের ওপর নির্ভরশীল। সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ দিয়ে বিশাল খাল ব্যবস্থার মাধ্যমে এখানে সেচ দেওয়া হয়। বেলুচিস্তান প্রদেশে মাটির নিচ দিয়ে সুরঙ্গ খুঁড়ে কৃষিক্ষেত্রে জল নিয়ে যাওয়ার এক বিশেষ পদ্ধতি প্রচলিত, একে ‘কারেজ’ (Karez) প্রথা বলে। এর ফলে বাষ্পীভবন রোধ করে জলের অপচয় কমানো যায়।
৫. প্রশ্ন: ভুটানকে ‘বজ্রপাতের দেশ’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ভুটান হিমালয় পর্বতের দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত। এখান দিয়ে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু পাহাড়ের ঢালে বাধা পেয়ে প্রবল মেঘের সৃষ্টি করে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে ঘন ঘন বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। এই কারণেই ভুটানকে ‘বজ্রপাতের দেশ’ বা ‘Land of the Thunder Dragon’ বলা হয়।
৬. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার প্রধান খনিজ ও কৃষিজ সম্পদগুলি কী কী?
উত্তর: খনিজ সম্পদ: শ্রীলঙ্কা নীলম, চুনী ও বৈদূর্যর মতো মূল্যবান রত্ন পাওয়ার জন্য বিখ্যাত, তাই একে ‘রত্নদ্বীপ’ বলে। এছাড়াও এখানে প্রচুর গ্রাফাইট পাওয়া যায়। কৃষিজ সম্পদ: শ্রীলঙ্কার প্রধান অর্থকরী ফসল হলো নারকেল, চা, রবার ও মশলা (দারুচিনি)। উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর ধান চাষ হয়।
৭. প্রশ্ন: মায়ানমারের বনজ ও খনিজ সম্পদের পরিচয় দাও।
উত্তর: বনজ সম্পদ: মায়ানমারের অরণ্যে প্রচুর সেগুন ও পিয়াসাল গাছ পাওয়া যায়। এখানকার সেগুন কাঠ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ। খনিজ সম্পদ: মায়ানমার খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, টিন, দস্তা ও টাংস্টেন উত্তোলনে উন্নত। এছাড়া মায়ানমারের চুনি ও নীলম পৃথিবী বিখ্যাত।
৮. প্রশ্ন: ভারতের সীমানা কোন্ কোন্ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুক্ত?
উত্তর:ভারতের উত্তর দিকে আছে চীন, নেপাল ও ভুটান। পশ্চিম দিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। পূর্ব দিকে বাংলাদেশ ও মায়ানমার। আর দক্ষিণ দিকে সমুদ্রের ওপারে আছে দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। মোট ৯টি প্রতিবেশী দেশের সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
৯. প্রশ্ন: বাংলাদেশের শিল্পোন্নতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের প্রধান শিল্প হলো পাট শিল্প। এখানকার নারায়ণগঞ্জে বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল অবস্থিত। এছাড়া কার্পাস বয়ন শিল্প, চিনি শিল্প, কাগজ শিল্প এবং চামডা শিল্প বেশ উন্নত। সাম্প্রতিককালে তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে বিশেষ স্থান অধিকার করেছে।
১০.প্রশ্ন: পাকিস্তানের ফল চাষের উন্নতি কেন হয়েছে?
উত্তর: পাকিস্তানের উত্তরে ও উত্তর-পশ্চিমে পার্বত্য অঞ্চলের শীতল ও শুষ্ক জলবায়ু ফল চাষের জন্য খুব উপযোগী। বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও সোয়াট উপত্যকায় প্রচুর আপেল, আঙুর, খোবানি, বেদানা ও আখরোট উৎপন্ন হয়। উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও হিমাগার সুবিধা এই উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
১১. প্রশ্ন: নেপাল ও ভারতের মধ্যেকার সুসম্পর্কের ভিত্তি কী?
উত্তর:ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই গভীর সম্পর্ক।
(১) দুই দেশের মানুষের মধ্যে অবাধ যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।
(২) ভারত নেপালকে সমুদ্র ব্যবহারের সুবিধা (ট্রানজিট) দেয়।
(৩) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পর্যটনে দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করে। (৪) ভারতের বহু নদীতে আসা বন্যার প্রকোপ কমাতে নেপালের সহযোগিতা প্রয়োজন।
১২. প্রশ্ন: ভুটানের জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা আলোচনা করো।
উত্তর: ভুটান একটি পাহাড়ি দেশ এবং এখানকার নদীগুলি খুব খরস্রোতা। তাই এখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় ভুটানে চুখখা, তলা ও কুরুছু-র মতো বড় বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠেছে। এই বিদ্যুৎ ভুটান ভারতে রপ্তানি করে অনেক অর্থ উপার্জন করে।
১৩. প্রশ্ন: ভারতের সাথে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে কাপড়, ওষুধ, গাড়ি ও চিনি শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা থেকে মশলা, নারকেল ও রত্ন ভারতে আসে। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও মৎস্য শিকারের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।
১৪. প্রশ্ন: তরাই (Terai) অঞ্চল নেপালের অর্থনীতিতে কী ভূমিকা রাখে? উত্তর: নেপালের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত সমতল ও আর্দ্র ভূমিকে তরাই বলে। এটি নেপালের সবচেয়ে উর্বর অঞ্চল। এখানে প্রচুর ধান, গম, আখ ও পাট চাষ হয়। এছাড়া এখানকার ঘন বনভূমি থেকে মূল্যবান কাঠ পাওয়া যায়। কৃষি ও বনজ সম্পদের জন্য তরাই অঞ্চলকে নেপালের ‘ভাণ্ডার’ বলা হয়।
১৫. প্রশ্ন: প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে ভারতের সুসম্পর্ক রাখা জরুরি কেন?
উত্তর: (১) সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য।
(২) অপরাধ ও সন্ত্রাস দমন করার জন্য।
(৩) জলবণ্টন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় একে অপরকে সাহায্য করার জন্য।
(৪) ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির মাধ্যমে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার জন্য।
১৬. প্রশ্ন: নেপালের প্রধান নদী ও ভূ-প্রকৃতির বর্ণনা দাও।
উত্তর: নেপাল মূলত একটি পাহাড়ি দেশ, যার উত্তরে হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী (মাউন্ট এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা) অবস্থিত। মধ্যভাগে পাহাড় ও উপত্যকা এবং দক্ষিণে সমতল তরাই অঞ্চল রয়েছে। নেপালের প্রধান নদীগুলি হলো- কোশী, গণ্ডকী ও কর্ণালী। এই নদীগুলি হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট এবং অত্যন্ত খরস্রোতা।
১৭. প্রশ্ন: বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় নদীপথের গুরুত্ব কী?
উত্তর:-বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এখানকার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীগুলি দেশের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। ভারী পণ্য পরিবহনে নদীপথ সবথেকে সস্তা এবং সহজলভ্য। বর্ষাকালে যখন সড়কপথ ডুবে যায়, তখন নৌকা ও স্টিমারই যাতায়াতের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে। এখানকার চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর নদীপথের মাধ্যমেই দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে।
১৮. প্রশ্ন: মায়ানমারের সেগুন কাঠ কেন পৃথিবী বিখ্যাত?
উত্তর: মায়ানমারের ক্রান্তীয় আর্দ্র অরণ্যে প্রচুর পরিমাণে সেগুন গাছ জন্মায়। এখানকার সেগুন কাঠ অত্যন্ত শক্ত, মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী। এই কাঠে ঘুণ ধরে না এবং জলে সহজে নষ্ট হয় না। জাহাজ নির্মাণ, দামী আসবাবপত্র ও ঘর সাজানোর কাজের জন্য মায়ানমারের সেগুন কাঠের চাহিদা বিশ্বজুড়ে রয়েছে।
১৯. প্রশ্ন: পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় কৃষিকাজ উন্নত কেন?
উত্তর: পাকিস্তানের সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলির (ঝিলাম, চেনাব, রাভি, বিয়াস, সাতদ্রু) ওপর বড় বড় বাঁধ তৈরি করে খাল কাটা হয়েছে। এই খালের মাধ্যমে মরুপ্রায় অঞ্চলেও পর্যাপ্ত জল সেচ দেওয়া হয়। উর্বর পলি মাটি এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার কারণেই এখানে গম, ধান ও কার্পাস চাষে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে।
২০. প্রশ্ন: ভুটানের ভূ-প্রকৃতি কীভাবে সেদেশের জনজীবনে প্রভাব ফেলে? উত্তর: ভুটান অত্যন্ত বন্ধুর ও খাড়া পাহাড়ের দেশ। এই বন্ধুর ভূ-প্রকৃতির কারণে এখানে বড় বড় শহর বা শিল্প গড়ে ওঠেনি। সমতল জায়গার অভাবে কৃষিকাজ খুব কম হয় (ধাপ চাষ প্রচলিত)। যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় মানুষ এখনও তাদের প্রাচীন সংস্কৃতি ও সরল জীবনযাত্রা বজায় রেখেছে।
২১. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কাকে কেন ‘রত্নদ্বীপ’ বলা হয়?
উত্তর: শ্রীলঙ্কার ভূগর্ভে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান রত্ন পাথর পাওয়া যায়। এখানকার নীলম (Sapphire), চুনি (Ruby), বৈদূর্য (Cat’s Eye) এবং পদ্মরাগমণি বিশ্বখ্যাত। রত্ন উত্তোলন ও পালিশ করা সেদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ। রত্ন সম্পদের এই প্রাচুর্যের কারণেই একে রত্নদ্বীপ বা ‘Island of Gems’ বলা হয়।
২২. প্রশ্ন: ভারতের সাথে বাংলাদেশের জলবন্টন সমস্যা (ফারাক্কা বাঁধ) সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মরসুমে বাংলাদেশে গঙ্গার জলপ্রবাহ কমে যায়। এটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছরের একটি জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল দুই দেশ ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২৩. প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার চা শিল্প কেন বিশ্ববিখ্যাত?
উত্তর: শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের ঢালু জমি এবং আর্দ্র জলবায়ু চা চাষের জন্য আদর্শ। এখানকার চায়ের স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়। সিলোন টি (Ceylon Tea) নামে পরিচিত এই চা বিশ্বের বহু দেশে রপ্তানি করা হয়। চা উৎপাদন ও রপ্তানি শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস।
২৪. প্রশ্ন: প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর ভারতের অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি। (১) ভারত প্রতিবেশী দেশগুলিকে (নেপাল, ভুটান) সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়। (২) বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সাথে বিশাল বাণিজ্যিক লেনদেন চলে। (৩) ভারত প্রতিবেশী দেশগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রচুর বিনিয়োগ করে।
২৫. প্রশ্ন: নেপালের তরাই অঞ্চলের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর:নেপালের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত সমতল ও উর্বর তরাই অঞ্চল হলো সেদেশের ‘শস্য ভাণ্ডার’। এখানে প্রচুর ধান, পাট ও আখ চাষ হয়। এছাড়াও তরাই অঞ্চলের ঘন অরণ্য থেকে প্রচুর কাঠ ও ভেষজ উদ্ভিদ পাওয়া যায়। নেপালের বেশিরভাগ শিল্পকেন্দ্র এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে।
২৬. প্রশ্ন: মায়ানমারের প্রধান খনিজ সম্পদগুলির ব্যবহার লেখো।
উত্তর:মায়ানমারে প্রচুর খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, যা জ্বালানি ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এখানকার টিন, দস্তা ও টাংস্টেন ধাতু শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মূল্যবান পাথর (চুনি, নীলম) অলঙ্কার শিল্পে এবং চুনাপাথর সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
২৭. প্রশ্ন: ভারত ও ভুটানের মধ্যে সুসম্পর্কের কারণগুলি কী কী?
উত্তর:(১) ভারত ভুটানের প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নের প্রধান সহযোগী।
(২) ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে ভারত আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য করে।
(৩) ভুটানের সাথে ভারতের কোনো সীমান্ত বিবাদ নেই।
(৪) দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান অত্যন্ত নিবিড।
২৮. প্রশ্ন: বাংলাদেশের পাট শিল্পের সমস্যা ও সমাধান লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের পাট শিল্পের প্রধান সমস্যা হলো কৃত্রিম তরুর সাথে প্রতিযোগিতা এবং পুরনো যন্ত্রপাতি। তবে বর্তমানে প্লাস্টিকের বদলে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ও বহুমুখী পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়ায় এই শিল্পের সম্ভাবনা আবার উজ্জ্বল হচ্ছে। সরকার জুট মিলগুলির আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।
২৯. প্রশ্ন: মালদ্বীপের পর্যটন শিল্প কেন এত উন্নত?
উত্তর: মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরের ওপর অবস্থিত অসংখ্য ছোট ছোট প্রবাল দ্বীপের সমষ্টি। এখানকার নীল জলরাশি, সাদা বালির সমুদ্র সৈকত এবং বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক জীবজগৎ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। উন্নত মানের রিসোর্ট ও জলজ ক্রীড়া (Scuba Diving) পর্যটন শিল্পকে মালদ্বীপের অর্থনীতির প্রধান মেরুদণ্ড করে তুলেছে।
৩০. প্রশ্ন: ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও। উত্তর: ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্গত। চীন ও পাকিস্তান বাদে বাকি দেশগুলি ভারতের সাথে সারাক (SAARC) এর সদস্য। এই অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গভীর মিল রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই দেশগুলি নিজেদের সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


©kamaleshforeducation.in(2023)



