তৃতীয় শ্রেণির বাংলা

(পাতাবাহার) বইয়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর:

*********************************************************  

চতুর্থ পাঠ:
সোনা

(গৌরী ধর্মপাল) 

********************************************************* 

 

 

চতুর্থ পাঠ:
সোনা
(গৌরী ধর্মপাল)

অধ্যায় ভিত্তিক অতিরিক্ত প্রশ্নােত্তর:

 ১. একটি বাক্যে উত্তর দাও:
১.১ সোনা কে? তার বাবা-মা কেন বাড়িতে বেড়া দিয়েছিলেন?
উত্তর: সোনা হল চাষির মেয়ে। সোনা হামাগুড়ি দিয়ে যাতে বাইরে বেরিয়ে না যায়, তাই তারা বাবা-মা বেড়া দিয়েছিলেন।
১.২ নদীমা কীভাবে সোনার সারা গায়ে গহনা পরিয়ে দিয়েছিলেন?
উত্তর: নদীতে স্নান করে উঠে আসার পর গা মুছিয়ে দেওয়ার সময় সোনার সারা গাযে সোনার রেণু লাগানো দেখেছিল তার বাবা-মা।
১.৩ চোরটি সোনাকে কখন চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: সোনার বাবা খেতে গিয়েছিল আর সোনার মা দুধ জ্বাল দিচ্ছিল, এমন একদিন সোনা যখন উঠোনে একা ছিল তখন চোর তাকে চুরি করে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল।
১.৪ কেন গ্রামটির নাম হল ‘সোনারগাঁ’?
উত্তর: সরকারের লোকেরা নদীতে সোনা খুঁজতে আসার পর থেকে ওই গ্রামের নাম হল ‘সোনারগাঁ’।
১.৫ সরকারের লোকেরা কী কাজ করবে বলে সোনাদের গ্রামে এসেছিল?
উত্তর: সরকারের লোকেরা নদী থেকে সোনা তোলার জন্য সোনাদের গ্রামে এসেছিল।
১.৬ কে সোনার নাম রেখেছিল নদীমাতৃকা? এই নামের অর্থ কী?
উত্তর: পাঠশালার সংস্কৃতের দিদিমণি সোনার নাম রেখেছিলেন নদীমাতৃকা। নদীমাতৃকা অর্থ নদী যার মায়ের মতো অর্থাৎ নদীজলের সাহায্যে চাষবাস হয়।
১.৭ কেউ নদীর জল নোংরা করলে সোনা কী করত?
উত্তর: কেউ নদীর জল নোংরা করলে সোনা বাঘিনীর মতো ছুটে আসত।
 ২. নদী আমাদের কী কী উপকার করে?
উত্তর: নদী আমাদের নানাভাবে উপকার করে। নদীর জল আমরা পান করি, নদীর জল চাষের কাজে লাগে, নদীতে মাছ চাষ করা হয়, নদীর জল কারখানার কাজে লাগে, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদীর জল লাগে। এ ছাড়া পূজাঅর্চনার কাজে ও জলপথ পরিবহণেও নদী সাহায্য করে। এখন তো নদীর জল জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহার করা হয়।
 ৩. এই গল্প থেকে এমন তিনটি বাক্য খুঁজে নিয়ে লেখো যেখানে ‘সোনা’ শব্দটি নানা অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
উত্তর: (১) চাষির মেয়ে সোনা। (সোনা ব্যক্তির নাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। (২) গায়ের সোনায় রোদ লেগে ঠিকরায়। (সোনা রং অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। (৩) নদীতে সোনা খুঁজতে। (সোনা ধাতু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
 ৪. ভারতবর্ষ নদীমাতৃক দেশ। এখানে অনেক নদী আছে। নদীকে মায়ের মতন কেন বলা হয়?
উত্তর: নদীর তীরেই সভ্যতা গড়ে ওঠে। মায়ের যেমন শিশুরা বেড়ে ওঠে তেমনি নদীর কাছ থেকে মানুষ নানাভাবে সাহায্য পেয়ে থাকে। যেমন মায়ের কাছ থেকে শিশু পেয়ে থাকে। আমাদের দেশে অনেক নদী থাকায় চাষবাস ভালো হয়। তাই নদীকে মায়ের মতো বলা হয়।
 ৫. তোমার জানা তিনটি নদীর নাম লেখো।
উত্তর: আমার জানা তিনটি নদী হল গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা।

  ৬. শব্দগুলি সাজিয়ে বাক্য গঠন করো:

৬.১ বড়ো হয়েছে একটু সোনা।
উত্তর: সোনা একটু বড়ো হয়েছে।
৬.২ ছাড়লেন নদীমা-ও হাঁপ।
উত্তর: নদীমা-ও হাঁপ ছাড়লেন।
৬.৩ ক্লাসে পাঠশালার উঁচু পড়ে।
উত্তর: পাঠশালার উঁচু ক্লাসে পড়ে।
১৬.৪ সোনারগাঁ হল সেই নাম সেই থেকে গায়ের।
উত্তর: সেই থেকে গায়ের নাম হল সোনারগাঁ।
১৬.৫ চিকচিক বালি মেয়ের করে গায়ে।
উত্তর: মেয়ের গায়ে বালি চিকচিক করে।

 ৭. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:
কুকু লল – উত্তর: কুলকুল

• কেঢুঢেকে – উত্তর: ঢেকেঢুকে
• মাড়িগুহা – উত্তর: হামাগুড়ি
• ততক্ষণে – উত্তর: ততক্ষণে
লসফ – উত্তর: ফসল
মদিগিদি – দিদিমণি
তাড়িতপা – পাততাড়ি
কারসর- সরকার

 ৮. শূন্যস্থান পূরণ করো:

৮.১ : চাষির ঘর আলো করে উঠোনে ————দেয়।

৮.১ উত্তর: চাষির ঘর আলো করে উঠোনে হামাগুড়ি দেয়।

৮.২   গায়ের —— রোদ লেগে ঠিকরােয়।

৮.২ উত্তর: গায়ের সোনায় রোদ লেগে ঠিকরােয়।

৮.৩   তুই মেয়ের হাতে  ——– দিতে চাইছিলি।

৮.৩ উত্তর: তুই মেয়ের হাতে কাঁকন দিতে চাইছিলি।

৮.৪  সংস্কৃতের দিদিমণি নাম রেখেছেন  ———–।

৮.৪ উত্তর: সংস্কৃতের দিদিমণি নাম রেখেছেন নদীমাতৃকা।

৮.৫ উত্তর: আপনার মেয়ের কথা শুনে ——— নিয়ে এসেছি।

৮.৫ উত্তর: আপনার মেয়ের কথা শুনে যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছি।

 ৯. ‘সোনা’ শব্দটি নীচের বাক্যগুলিতে কোথায় ব্যক্তি আর কোথায় বস্তু বোঝাচ্ছে লেখো
১৯.১ চাষির মেয়ে সোনা।
উত্তর: ব্যক্তি বোঝাচ্ছে। সোনা একটি মেয়ের নাম।
৯.২ মা ভাবে, সোনার হাতে দু-খানি কাঁকন দিলে বড়ো মানাত।
উত্তর: ব্যক্তি বোঝাচ্ছে। মা ও সোনা মেয়ের নাম।
৯.৩ সোনার যা দাম।
উত্তর: বস্তু বোঝাচ্ছে। সোনা একটি ধাতু বা বস্তু।
৯.৪ গায়ের সোনার রোদ লেগে ঠিকরায়।
উত্তর: বস্তু বোঝাচ্ছে। সোনা একটি ধাতু বা বস্তু।
৯.৫ এ যে দেখছি সোনা।
উত্তর: বস্তু বোঝাচ্ছে। সোনা একটি ধাতু বা বস্তু

৯.৬ সোনার হাতে-গলায় সোনা চিকচিক করছে।
উত্তর: প্রথম ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বস্তু বা ধাতু বোঝাচ্ছে।

 ১০. একই অর্থের শব্দ পাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:
• অন্যগ্রাম- উত্তর: ভিন্ন গাঁ।
• কনক- উত্তর: সোনা।
• তটিনী – উত্তর: নদী।
• কঙ্কণ – উত্তর: কাঁকন।
• নীড়- উত্তর: পাখির বাসা।
• নির্মল- উত্তর: স্বচ্ছ, পরিষ্কার।

 ১১. গল্পের ঘটনাক্রম সাজিয়ে লেখো:
উত্তর (সঠিক ক্রম):
১. নদীমা তাঁর মেয়ের গায়ে গয়না পরিয়ে দিয়েছেন।
২. এক চোর এসে সোনাকে তুলে নিয়ে চম্পট।
৩. সোনা বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
৪. সরকারের লোক যন্ত্রপাতি বসিয়ে সোনা খুঁজতে লেগে গেল।
৫. সোনারগাঁ-র লোকেরা কেউ নদীকে নোংরা করে না।
 ১২. বিপরীতার্থক শব্দ:
গাঁ- উত্তর: শহর।
উঁচু- উত্তর: নিচু।
 এক- উত্তর: অসংখ্য।
 সামনে- উত্তর: পিছনে।
মিথ্যে – উত্তর: সত্য।

১৩. বর্ণ বিশ্লেষণ করো:
কাঁকন- উঃ- ক্ +ঁ+ আ+ক্+অ+ন +অ
পরিষ্কার- উঃ- প্+অ+র+ই+ষ+ক+ আ+র

চম্পট – উঃ- চ+অ+ম+প+অ+ট্ + অ
যন্ত্রপাতি – উঃ- য+অ+ন+ত+র+প+আ+ত+ই
নদীমাতৃকা- উঃ -ন+অ+দ+ঈ+ম+আ+ত+ ঋ + ক + আ
হিরণ্যবঙ্খা – উঃ হ+ই+র+অ+ণ+য+ব+ন+ঘ+ আ

 ১৪. কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে পাশাপাশি বাক্য লেখো:

১৪.১ মেয়েকে আঁচল দিয়ে ঢেকেঢুকে চাষি বউ বাড়ি নিয়ে এল।
উত্তর: মেয়েকে আঁচল দিয়ে ঢেকেঢুকে চাষি-বউ বাড়ি নিয়ে এল কারণ নদীমা মেয়ের সারা গায়ে সোনা পরিয়ে দিয়েছিল।
১৪.২ মা পাগলের মতো বাজাতে লাগল- ঢং ঢং ঢং…।
উত্তর: মা পাগলের মতো বাজাতে লাগল- ঢং ঢং ঢং… কারণ একটা চোর মেয়েকে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল।
১৪.৩ আপনার মেয়ের কথা শুনে যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছি।
উত্তর: আপনার মেয়ের কথা শুনে যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছি কারণ, নদীতে সোনা আছে, সোনা খুঁজতে।
১৪.৪ তুই যেন জলের মাছ।
উত্তর: তুই যেন জলের মাছ কারণ সোনা জলে মাছের মতো সাঁতার কাটে।

 ১৫. বাক্য রচনা করো: (হামাগুড়ি, হন্তদন্ত, ইঞ্জিন, অদ্ভুত, পিশাচ।)
হামাগুড়ি – উত্তর: শিশুরা সকলেই আগে হামাগুড়ি দেয়।
হন্তদন্ত – উত্তর: নরেশবাবু ট্রেন ধরার জন্য হন্তদন্ত হয়ে ছুটছেন।
ইঞ্জিন – উত্তর: মাঝরাস্তায় মোটর গাড়ির ইঞ্জিনটা হঠাৎ বিকল হয়ে গেল।
অদ্ভুত – উত্তর: সার্কাসের জোকারটাকে অদ্ভুত দেখতে লাগছিল।
পিশাচ – উত্তর: শ্মশানের ধারে লোকে বলে রাতে পিশাচ দেখা যায়।

 ১৬. বাক্য বাড়াও:
১৬.১ একটুখানি জায়গা মায়ে-বাপে বেড়া দিয়েছে। (কেন?)
উত্তর: মেয়ে যাতে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে না যায়, তাই একটুখানি জায়গা মায়ে-বাপে বেড়া দিয়েছে

১৬.২ প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড দু-তিনটে আসছে। (কোথা দিয়ে?)
উত্তর: বড়ো রাস্তা দিয়ে প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড দু-তিনটে গাড়ি আসছে।
১৬.৩ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছি। (কেন?)
উত্তর: নদী থেকে সোনা খুঁজতে যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছি।
১৬.৪ সোনা ঠিক টের পায় যেখানেই থাকুক। (কী টের পায়?)
উত্তর: নদীকে কেউ নোংরা করলে সোনা ঠিক টের পায় যেখানেই থাকুক।
১৬.৫ ভিনগাঁয়ের লোকেরা এসে বলে? (কী বলে?)
উত্তর: ভিনগাঁয়ের লোকেরা এসে বলে, বাঃ তোমাদের এখানে নদী তো বেশ বেশ পরিষ্কার।
 ১৭. নদীতে কোন কোন প্রাণী বাস করে? সাঁতার কাটতে পারে কোন পাখি?
উত্তর: নদীতে মাছ, বিভিন্ন প্রকার জলজ পোকা, বিভিন্ন প্রকার জলজ উদ্ভিদ বাস করে। হাঁস, পানকৌড়ি ইত্যাদি সাঁতার কাটতে পারে।
১৮. ‘সোনা’ গল্পটি থেকে তোমরা কী শিখলে তা লেখো। গল্পটির আর একটি নাম দাও।
উত্তর: ‘সোনা’ গল্পটি থেকে আমরা শিখেছি নদী আমাদের মায়ের মতো। তাই নদীকে নোংরা, দূষিত করা উচিত নয়। নদী সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। গল্পের আরেকটি নাম হল- “জলকন্যা”।

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top