তৃতীয় শ্রেণির বাংলা

(পাতাবাহার) বইয়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর:

*********************************************************  

চতুর্থ পাঠ:

চতুর্থ পাঠ: নদীর তীরে একা  

********************************************************* 

 

 

চতুর্থ পাঠ:

চতুর্থ পাঠ: নদীর তীরে একা 

অধ্যায় ভিত্তিক অতিরিক্ত প্রশ্নােত্তর:

 

১. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:
১.১ প্রকৃতি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আমাদের চারপাশের গাছপালা, পশুপাখি, মানুষজন, নদী, নালা, খাল-বিল এই সবকে প্রকৃতি বলা হয়।

১.২ প্রকৃতি যে উপাদান বা জিনিসগুলি নিয়ে গড়ে ওঠে তার কয়েকটি নীচে দেওয়া হল। এর কোন কোন উপাদান পর্যবেক্ষণ করে তুমি এর  কী কী জেনেছ  তুমি এর শিখেছ, তা লেখো:
** উপাদান: গাছপালা
কী কী জানি আর শিখি: গাছপালা অক্সিজেন দেয়, ঠান্ডা বাতাস দেয়, পাখি, পোকামাকড় প্রভৃতিকে আশ্রয় দেয়। গ্রীষ্মকালে ছায়া দেয়। ফুল-ফল প্রভৃতি দেয় অনেক ক্ষেত্রে বড়ো গাছ ছোটো গাছকে আশ্রয় দেয়। গাছের থেকে আমরা কাঠ, জ্বালানি পাই।
উপাদান: বাতাস
** কী কী জানি আর শিখি: বাতাস বা হাওয়া ছাড়া কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না। বাতাস চোখে দেখা যায় না, অনুভব করা যায়। বাতাসের গতি হঠাৎ জোরে হলে তাকে আমরা ঝড় বলি। বাতাসে গাছের ডালপালা নড়ে আবার ভেঙেও পড়ে। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ দিক থেকে এবং শীতকালে উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়।
* উপাদান: পাহাড় – পর্বত
কী কী জানি আর শিখি: মাটি থেকে অনেক উঁচু স্থানকে পাহাড় বলে। পাহাড়ের থেকে উঁচু স্থানকে বলে পর্বত। এগুলি পাহাড়-পর্বত মূলত পাথর দিয়ে তৈরি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর ওপর জল থাকে। আর প্রায় সব নদীই এগুলির ওপর থেকে উৎপত্তি হয়।
* উপাদান: নদী
কী কী জানি আর শিখি: নদী থেকে আমরা সাধারণত জল, মাছ, কাঁকড়া প্রভৃতি পেয়ে থাকি। নদীতে শামুক, গুগলি প্রভৃতি দেখতে পাই। নদীর চড়ায়, তীরে প্রকৃতি স্থানে নানারকম পাখি দেখি। এ ছাড়া নদী থেকে জোয়ার-ভাটা, পলির স্তর, বড়ো বাঁধ প্রভৃতি জানতে পারি।
* উপাদান: খোলা মাঠ
কী কী জানি আর শিখি: খোলা মাঠে দেখা যায় নানা ধরনের পোকা, কেঁচো, কেন্নো, নানা পাখি, মাঠে থাকা ছোটো বড়ো ঘাস, সেই ঘাসকে আশ্রয় করা পোকার বাসা। মাঠের মধ্যে গর্ত করে থাকা ইঁদুর, ছুঁচো প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে পারি। কোথাও কোথাও মাঠে খরগোশ, শেয়াল প্রভৃতির বাসাও থাকে। মাঠের মধ্যে সাপের গর্তও লক্ষ করা যায়।

 ২. আমাদের দেশে ছয়টি ঋতু আছে। প্রতিটি ঋতুর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। নীচের বাক্স থেকে সেগুলি বেছে নিয়ে ঠিক ঋতুর পাশে বসাও:
* গ্রীষ্ম: চাতকপাখি ডাকছে ফটিকজল, নদী-নালার জল শুকিয়ে গেছে।
* বর্ষা: ঝমঝম করে বৃষ্টি এলো, পথে-ঘাটে খুব কাদা জমেছে।
* শরৎ: সাদা সাদা কাশফুলের মাঠ ভরে গেছে। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ দেখা যাচ্ছে

* হেমন্ত: হেমন্ত এখন ঠান্ডা পড়তে আর অল্পই দেরি, চারিদিকের আবহাওয়া খুব মনোরম।
* শীত: গাছের সব পাতা ঝড়ে যাচ্ছে, আজ সোয়েটার গায়ে দিতেই হবে।
* বসন্ত: কদিন থেকে গুটিবসন্তের প্রকোপ দেখা দিয়েছে, বাইরে ফুরফুরে দখিনা হাওয়া বইছে।

  ৩. বাক্য রচনা করো:
▲ হাজির: আমি প্রতিবছর পুজোর ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে হাজির হই।
চওড়া: আমাদের বাড়ির সামনের গলি খুব চওড়া।
নৌকা: আমার নৌকোয় চড়তে ভালো লাগে।
রং: বসন্তকালে সব গাছে নতুন করে রং লাগে।
 প্রজাপতি: প্রজাপতির গায়ে খুব সুন্দর রং দেখা যায়।

 ৪. তোমরা যে গদ্যটি পাঠ করলে, তাতে কিছু নদী এবং পাখির নাম পেয়েছ। সেগুলো খুঁজে বের করে নীচের তালিকায় লেখো:

নদী: ইছামতি, দামোদর, রূপনারায়ণ।
পাখি: বালিহাঁস, সরাল, চখা, মাছরাঙা, মেছো বক।

 ৫. তুমি প্রকৃতির কোলে পুরো একটা দিন কাটানোর সুযোগ পেলে কোন জায়গাটি বেছে নেবে? সেখানে  সারাদিন কীভাবে কাটাবে ছয়টি বাক্যে লেখো:
উত্তর: আমি নদীর ধার জায়গাটি বেছে নেব।

 সারাদিন যেভাবে কাটবে: সকালবেলা আমি নদীর ধারে যাব আর একটি গাছের ছায়ায় বসে সূর্য ওঠা দেখব। সারাদিন ধরে ধরে নদীর নদীর ঢেউ, নদীতে আসা পাখি, তাদের মাছ ধরা, নৌকোর যাতায়াত সব দেখব আর মনে মনে তাদের সঙ্গে যোগ দেবো। যদি কোনো মাঝিকে পাই তাহলে তার সঙ্গে নৌকায় চড়ে গল্প করতে করতে ঘুরে বেড়াব। সারা দুপুর নৌকায় করে এখানে-ওখানে ঘুরে নদীর দুই পার, পাড়ের জঙ্গল, জনবসতি সব দেখব। নদীতে কোথায় কোথায় গেলে চালে কী কী দেখা যায়, কোথায় কোন পাখি আসে, কোথায় কী মাছ পাওয়া যায়, সেইসব মাঝির কাছ থেকে শুনব। তারপর দিনের শেষে নদী, মাছ, পাখি, গাছপালা এবং আমার নৌকার মাঝিকে বিদায় জানিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসব।

 ৬. ফাঁকা ঘরে ঠিক শব্দ বসাও:
৬.১ নৌকায় বসে দেখি মাঠে গোরু ——-, আর ছেলেরা ——– গাছে।

৬.১ নৌকায় বসে দেখি মাঠে গোরু চরছে, আর ছেলেরা চড়ছে গাছে।

 ৬.২ প্রতিদিন  ——করে নদীর ধারে যাই জোয়ারের জল—– দেখব বলে।

৬.২ প্রতিদিন আশা করে নদীর ধারে যাই জোয়ারের জল আসা দেখব বলে।

 ৬.৩ আমিও দমদার পাত্র —–, মনও —–।

 ৬.৩ আমিও দমদার পাত্র নই, মনও নম্র।

৬.৪ বহুদিন পরে —– ফিরে —— গেল।

৬.৪ বহুদিন পরে গাঁয় ফিরে গা জুড়িয়ে গেল।

৬.৫ কোনো ——– না মেনে —— পাখিটিকে উড়িয়ে দিয়েছি।

৬.৫ কোনো বাধা না মেনে বাঁধা পাখিটিকে উড়িয়ে দিয়েছি।

 ৬.৬ ——— চুড়ির আওয়াজ ——- গেল।

 ৬.৬ সোনার চুড়ির আওয়াজ শোনা গেল।

 ৭. একই অর্থের শব্দ পাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:
* সেতু – পুল।
* ছোটো –নৌকা- ডিঙি।
* বদলে – পালটে।
  কূল-কিনারা।
* নির্মোক – সাপের খোলস।

 ৮. নীচের বাক্যগুলি থেকে কাজ, ব্যক্তি, বস্তু, গুণ আলাদা করে লেখো:
৮.১ যেখানে যেমন মাটি তেমন তার দশা।
* ব্যক্তি: (উহ্য), বস্তু: মাটি, গুণ: দশা, কাজ: হয় (উহ্য)।
* ৮.২ আমি ফুরসত পেলেই একটা না একটা নদীর তীরে যাই।
* ব্যক্তি: আমি, বস্তু: নদীর তীরে, গুণ: ফুরসত, কাজ: যাই

* ৮.৩ সেগুলো হয়তো শীত পড়তে না পড়তেই হাজির হবে।
* ব্যক্তি: সেগুলো, বস্তু: শীত, গুণ: হয়তো, কাজ: হাজির।
* ৮.৪ তার চড়ায় চখা দেখেছি, কাদাচোখা দেখেছি।
* ব্যক্তি: আমি (উহ্য), বস্তু: চড়ায়, কাজ: দেখেছি।
* ৮.৫ দামোদরে এমন জোয়ার-ভাটা খেলে না।
* বস্তু: দামোদর, গুণ: জোয়ার-ভাটা, কাজ: খেলে না

 ৯. বর্ণ বিশ্লেষণ করো:
নৌকো-ন+ঔ+ক+ও
* সরাল- স+অ+র+আ+ল
* ইন্টিশন-ই+ন+ট+ই+শ+অ+ন্+অ
প্রজাপতি –প+র+অ+জ+আ+প+অ+ত+ই
* চৈত্র-চ+ঐ+ত+র+অ

 ১০. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:
* দাখোকাচা- কাদাচোখা
* সাকাদালো- সাদাকালো
* ঘখামবানহি – মহিষবাথান
* ঠানা ও মা- ওঠানামা
* রাতিকেম- কেরামতি

 ১১. বাক্য বাড়াও:

১১.১ সেই খোঁজ নেওয়া ছিল আমার খেলা। (কীসের খোঁজ?)
* উত্তর: ওই নদী কেমন নদী, সেই খোঁজ নেওয়া ছিল আমার খেলা।
১১.২ দুজনে নদীর কথা বলি। (কোন কোন নদী?)
* উত্তর: এসো দুজনে দামোদর, রূপনারায়ণ, ইছামতি নদীর কথা বলি।
 ১১.৩ খঞ্জন আসবে। (কখন?)
* উত্তর: শীতের সময়  খঞ্জন  আসবে।
* ১১.৪ চরে না গেলে দেখা যাবে না। (কী?)
উত্তর: চখা কিংবা বড়ো জাতের হাঁস চরে না গেলে দেখা যাবে না।
১১.৫ চলাচল দেখতে পাব। (কাদের?)
* উত্তর: এবার ওপারের পাখির, প্রজাপতির চলাচল দেখতে পাব।

 ১২. বাক্য সাজিয়ে লেখো:
* ১২.১ সেই মাঝির ডিঙি খুব চিনি আমি ভালো।
* উত্তর: সেই ডিঙির মাঝিকে আমি খুব ভালো চিনি।
* ১২.২ সাদাকালো নজরে আমার একটা মাছরাঙা পড়ল।
* উত্তর: আমার নজরে একটা সাদাকালো মাছরাঙা পড়ল।
১২.৩ আমার সেখানে কঠিন নয় পক্ষে পৌঁছে যাওয়া।
উত্তর: আমার পক্ষে সেখানে পৌঁছে যাওয়া কঠিন নয়।
১২.৪ প্রজাপতির পাব দেখতে চলাচল।
* উত্তর: প্রজাপতির চলাচল দেখতে পাব।
* ১২.৫ জল নেই তবে, খুব চওড়া নদীতে বটে।
উত্তর: খুব চওড়া বটে, তবে নদীতে জল নেই।

 ১৩. দু-এক কথায় উত্তর দাও:
* ১৩.১ লেখকের প্রিয় তিনটি নদী কী কী?
* উত্তর: লেখকের প্রিয় তিনটি নদী হল-দামোদর, রূপনারায়ণ, ইছামতি ।

* ১৩.২ এখানে তার প্রিয় ঘাটের কথাও রয়েছে। ঘাটটির নাম কী?
* উত্তর: তাঁর প্রিয় ঘাট হল ‘খাদিনান’।
* ১৩.৩ লেখক কার নৌকোয় উঠলেন?
* উত্তর: লেখক মনুমঝির নৌকোয় উঠলেন।
* ১৩.৪ জোয়ার-ভাটা বলতে কী বোঝো?
* উত্তর: নদীর জল চাঁদের আকর্ষণের জন্য বেড়ে গেলে হয় জোয়ার আর কমলে হয় ভাটা।
* ১৩.৫ লেখক কেন দামোদরের তীরে এসেছেন?
* উত্তর: লেখক ভরা বর্ষার নদী দেখার জন্য দামোদরের তীরে এসেছেন।

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top