দশম শ্রেণী মাধ্যমিক ভূগোল

ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ

বড়ো প্রশ্ন উত্তর (২/৩/৫ নম্বর)

Madhyamik Class 10 Geography

Chapter 5 Long Question Answer

Updated on: 

মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” এর মধ্যে ভারতের কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বাণিজ্য ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পদের গঠন ও বিস্তার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের পোস্টে এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ২/৩/৫ মার্কস প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করা হল।

 

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 দশম শ্রেণী মাধ্যমিক ভূগোল ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’ বড়ো প্রশ্ন উত্তর (২/৩/৫ নম্বর)

1.1 ক্লাস ১০ ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’ ২ নম্বর ও ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geogarphy Chapter 5 2 Marks and 3 Marks Question Answer

1.2 Class 10 ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’ ৩ মার্কস প্রশ্ন উত্তর | পঞ্চম অধ্যায় ভারতের ভূগোল

1.3 মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’ ৫ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Madhyamik Class 10 Geography 5th Chapter 5 marks Long Question Answer

দশম শ্রেণী মাধ্যমিক ভূগোল

 পঞ্চম অধ্যায় ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’

২ নম্বর ও ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর  

 

উত্তর: কোনো বৃহদায়তন শিল্প থেকে যেসব শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদিত হয় সেইসব শিল্পজাত দ্রব্যকে ব্যবহার করে যেসব ছোটো ছোটো শিল্প গড়ে ওঠে তাদের অনুসারী শিল্প বা ডাউন স্ট্রিম ইন্ডাস্ট্রি বলে। যেমন- পেট্রো-রসায়ন শিল্প থেকে উৎপন্ন প্লাস্টিক বা PVC শিটকে ব্যবহার করে বহু রকমের প্লাস্টিক শিল্প গড়ে উঠেছে।

 

উত্তর: শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের মধ্যে যে-সকল কাঁচামাল ব্যবহার করে শিল্পজাত দ্রব্য প্রস্তুত করলে উৎপন্ন দ্রব্যের ওজন একই থাকে, সেই সকল কাঁচামালকে বলে বিশুদ্ধ কাঁচামাল। কার্পাস একটি বিশুদ্ধ কাঁচামাল। কারণ, 1 টন তুলো থেকে 1 টন সুতো তৈরি হয়। আবার 1 টন সুতো থেকে 1 টন সূতিবস্ত্র তৈরি হয়। এক্ষেত্রে কাঁচামাল ও শিল্পজাত পণ্যের ওজনের অনুপাত থাকে 1:1, বা পণ্যসূচক ।  তাই কার্পাস শিল্পকেন্দ্রগুলি কাঁচামালের উৎস স্থানের কাছে, বা বাজারের কাছে বা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে (যেখানে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, জলের সরবরাহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শ্রমিকের সরবরাহ, আর্দ্র জলবায়ু বর্তমান) গড়ে উঠতে পারে। এ কারণে কার্পাস শিল্পকে শিকড়-আলগা শিল্প বলে।

 

উত্তর: World Commission on Environment and Development অর্থাৎ ব্রুন্টল্যান্ড কমিশনের দেওয়া সংজ্ঞা অনুসারে – “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে কোন বাধা সৃষ্টি না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য যে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলা হয়।” Sustainable Development কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন এভাবেলফোর।

উত্তর: কোন অঞ্চলে মানুষের বন্টনের তারতম্যের সূচক হল জনঘনত্ব অর্থাৎ কোন স্থানের বা দেশের প্রতি বর্গ কিমি ক্ষেত্রফলে যতজন লোক বসবাস করে তাকেই বলা হয় জনঘনত্ব।

অর্থাৎ, জনঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা ÷ মোট জমির পরিমাণ

উদাহরণ :– ২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ১২১.০১ কোটি জন এবং ক্ষেত্রমান ৩১.৬৬ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
সুতরাং, ভারতের জনঘনত্ব = ১২১০১ লক্ষ জন ÷ ৩১.৬৬ লক্ষ বর্গকিমি = ৩৮২.২৪ = ৩৮২ জন/বর্গকিমি।

উত্তর: ১৯৮১ সালের সেনসাসে দেওয়া শহরের সংজ্ঞা অনুযায়ী – “কোনো জনপদের– i) নূন্যতম জনসংখ্যা যদি ৫০০০ জন হয়  (ii) জনসংখ্যার ঘনত্ব যদি ৪০০ জন/বর্গকিমি হয় (iii) জনপদটির মোট জনসংখ্যার ৭৫ % যদি মানুষ অকৃষিকাজে নিয়োজিত  (iv) ওই অঞ্চলটি কোন মিউনিসিপ্যালিটি কর্পোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়, তখনই ওই জনপদটিকে শহর বলে।” যেমন – উলুবেড়িয়া, সিঙ্গুর, হলদিয়া।

উত্তর: ভারতের যে সকল শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষের কম, সেই শহর গুলিকে মহানগর বলা হয়। এই প্রকার শহরকে “মিলিয়ন সিটি”-ও বলা হয়। ২০১১ সালের সেনসাস অনুযায়ী ভারতের মিলিয়ন শহরের সংখ্যা ৫৩ টি।

উত্তর: ভারতের সেনসাস অনুযায়ী, “যে সকল শহরের জনসংখ্যা ১ কোটি বা তার অধিক, সেই শহরকে মেগাসিটি বা অতি মহানগর বলে। যেমন – ভারতের ৩টি অতি মহানগর বা মেগাসিটি হল মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতা।

উত্তর: সোনালী চতুর্ভুজ প্রকল্পের দেশের বৃহৎ ৪টি মেট্রোপলিটান শহর দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই ও কলকাতা সংযোগকারী অতি দ্রুতগামী রেল যোগাযোগ প্রকল্পকে ‘হীরক চতুর্ভুজ’ বলে। ২০১৪-১৫ রেল বাজেটে ঘণ্টায় ৩২০ কিমি গতিসম্পন্ন ৭টি পথে এই স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেল প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই চারটি শহরের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থায় অনেক সময় ও অর্থের আশ্রয় হয়।

দশম শ্রেণী মাধ্যমিক ভূগোল

   ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’

৩ মার্কস প্রশ্ন উত্তর 

পঞ্চম অধ্যায় ভারতের ভূগোল

 

1. ভারতীয় কৃষির বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ভারতের কৃষির প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি হল –

১) জীবিকা সত্তা ভিত্তিক কৃষি : ভারতের কৃষির অধিকাংশ কৃষক তারা নিজের ও পরিবারের খাদ্যের প্রয়োজন মেটানোর জন্য কৃষিকাজ করে, তাই এই কৃষিকে জীবিকা সত্তাভিত্তিক কৃষি বলে।

২) জনসংখ্যার চাপ :– ভারতের জনসংখ্যার চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে খাদ্যের চাহিদাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তাই ভারতের কৃষিতে জনসংখ্যার চাপ অত্যাধিক বেশি।

৩) কৃষিতে পশু শক্তির প্রাধান্য :– ভারতের অধিকাংশ দরিদ্র কৃষক চাষের জন্য দামি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে না। তারা আদিম পদ্ধতিতে পশুর দ্বারা চাষবাস করে থাকেন।

 ৪) অন্যান্য :– এছাড়াও ভারতীয় কৃষি মৌসুমী বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে। ভারতে কৃষি জমি ক্ষুদ্রাকৃতি। ভারতীয় কৃষিতে কীটনাশক রাসায়নিক সার ব্যবহার হয় না।

 

2. ভারতীয় কৃষির সমস্যা গুলি লেখো। 

উত্তর: ভারতের ৬৫% মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। ভারত সব রকম ফসল উৎপাদনে ভারত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেও, ভারতীয় কৃষি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন। যেমন –

১) মাথাপিছু জমি কম এবং জমির আয়তন ক্ষুদ্র :– চাষীদের মাথাপিছু জমি উন্নত দেশগুলির তুলনায় খুবই কম, আবার জমিগুলি আয়তনে এত ছোট এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যে, তাতে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

২) কৃষি মৌসুমী নির্ভর :– এখানে ২/৩ ভাগ কৃষি জমি খামখেয়ালী মৌসুমী বায়ু নির্ভর। ওই জমিগুলিতে বছরে একবার ফসল ফলে আর সেগুলিও অনিশ্চিত। 

৩) উদ্বৃত্ত ফসল কম :– বহু ফসলের উৎপাদন পারিবারিক চাহিদা পূরণ করলেও উদ্বৃত্ত থাকে না। এবং হেক্টর প্রতি ফসলের উৎপাদন কম তাই ফসল উৎপাদন লাভজনক হয় না।

৪) আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার :– উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিজ যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত। সবুজ বিপ্লবের প্রভাব ভারতের সকল স্থানে পড়েনি, তাই উৎপাদনশীলতা কম।

 

3. ভারতের নগরায়নের সমস্যা গুলি লেখো। 

উত্তর: ভারতের নগরায়নের সমস্যা গুলি হল –

১) অপরিকল্পিত নগরায়ন :– ভারতের অধিকাংশ শহর এবং নগর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এর ফলে রাস্তাঘাটে যানজট, আবর্জনা ফেলার সঠিক জায়গার না থাকা, স্বল্প বৃষ্টিপাতে জল দাঁড়িয়ে যাওয়া প্রভৃতি এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রচনা করে।

২) মানুষের শহরমুখী প্রবণতা :– মূলত কাজের টানে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দের তাগিদে বহু মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহর অভিমুখী হয় ফলে অভ্যন্তরীণ পরিব্রাজন ঘটে। এই অধিবাসীদের অস্থায়ী জীবন যাপন ও অনুন্নত বসবাস প্রণালী ভারতের নগর গুলিতে বসতি ও অশ্বাস্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

৩) পরিকাঠামোর অভাব :– ভারতের বেশিরভাগ শহরই পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। যেমন–

  1. বসতি :– স্বল্প উপার্জন, জমির অভাব, গৃহ নির্মাণের সামর্থ্য না থাকাই শহরগুলিতে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে উঠেছে এবং বসতি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। 

  2. পরিবহন ব্যবস্থা :– মহানগরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা চাপে যানজট একটি নিত্য নৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বায়ু দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।

  3. শারীরিক সমস্যা :– নগরায়নের ফলে বসতি এলাকার প্রসার, পরিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব, বায়ু দূষণ প্রভৃতির জন্য অনিদ্রা, হাঁপানি, ক্লান্তি প্রভৃতি শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

  4. শিক্ষাগত সমস্যা :– ভারতের বেশিরভাগ শহরে উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রীভবন এক অন্যতম সমস্যা। এর ফলে যে সমস্যার সৃষ্টি হয় তা হল– শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষার আসন কম, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত সঠিক নয় প্রভৃতি।

  এগুলি ছাড়াও আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হল – বিদ্যুতের সমস্যা, জল নিকাশি সমস্যা প্রভৃতি। যা ভারতে নগরায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

 

4. টীকা লেখো :– সোনালী চতুর্ভুজ।

উত্তর: ভারতের প্রধান চারটি মেট্রোপলিটন শহর – মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই ও কলকাতাকে ৫৮৪৬ কিমি দীর্ঘ ৪-৬ চ্যানেল বিশিষ্ট জাতীয় সড়ক দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে একে ‘সোনালী চতুর্ভুজ’ বলে।  এই চতুর্ভুজের চারটি বাহু হলো– কলকাতা-দিল্লি বা NHI9 (১৪৫৩ KM), দিল্লি-মুম্বই বা NH8 (১৪১৯ KM), মুম্বই-চেন্নাই বা NH48 (বাহু সর্বনিম্ন ১,২৯০ কিমি) এবং চেন্নাই-কলকাতা বা NH16 (দীর্ঘতম বাহু, ১৬৮৪ কিমি) দৈর্ঘ্যযুক্ত।

এর মাধ্যমে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে অতি দ্রুত পরিবহন সম্ভব হয়। দ্রুত ট্রাক চলাচলের জন্য কৃষি যাতে পণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন শহর ও বন্দর গুলোতে পাঠানো যায়। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয় যা শিল্পায়ন ও কর্ম সংস্থানের পক্ষে সহায়ক।

 

5. রেলপথ পরিবহণের গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: স্থলপথ পরিবহনের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো রেলপথ। দেশের আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য ও অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে রেলপথের স্থান সবার আগে। রেলপথের গুরুত্বগুলি হল –

১) সময় ও গতিবেগ :– স্থলপথ পরিবহণে রেলপথ সর্বাপেক্ষা দ্রুতগামী পরিবহণ-ব্যবস্থা। দ্রুত পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে রেলপথ বিশেষ উপযোগী। রেলপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে। রেলপথ পরিবহণ নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী চলে বলে যাতায়াত ও পণ্যপ্রেরণ অনেক সুবিধাজনক।

২) পরিবহণ ব্যয় :– সড়কপথ বা বিমানপথ অপেক্ষা রেলপথে পরিবহণ ব্যয় কম।

৩) ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা :– রেল পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেরিত দ্রব্য নষ্ট হয়ে গেলে তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।

৪) রেলগুদামে পণ্য মজুতের সুবিধা :– রেলে পণ্য বোঝাই ও খালাসের আগে রেলের গুদামে পণ্য মজুত রাখার সুবিধা আছে।

৫) জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন :– রেলপথে পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্থান ঘটে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মানের যথেষ্ট উন্নতি ঘটে।

 

6. ভারতের কৃষিকাজে জলসেচ কেন করা হয়?

উত্তর: ভারতের কৃষিকাজের অনেকাংশেই মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। তবুও কৃষিকাজে জলসেচের সাহায্য নেওয়া হয়। কারণ–

১) অনিয়মিত বৃষ্টিপাত :– অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের জন্য জলসেচের সাহায্য নেওয়া হয়।

২) বৃষ্টিহীন শীতকাল :– শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকায়, শীতকালীন রবিশস্য চাষের জন্য ভারতে জলসেচের প্রয়োজন হয়।

৩) বৃষ্টির বণ্টন সমান নয় :– মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে ভারতে প্রায় ৪০% বৃষ্টিপাত হলেও ভারতের সব জায়গায় সমান বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে যেখানে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম সেখানে জলসেচের প্রয়োজন হয়।

৪) উচ্চফলনশীল শস্যের চাষ : উচ্চফলনশীল শস্য চারে হৃর জলের প্রয়োজন হয়, তাই জলসেচের সাহায্য নেওয়া হয়।

মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল

‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ’

৫ নম্বর প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik Class 10 Geography

5th Chapter 5 marks Long Question Answer

 

1. ভারতে আখ চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: আখ হলো একটি ভারতের বাণিজ্যিক ও অর্থকারী ফসল। আখের রস থেকে চিনি, গুড় তৈরি হয় এবং আখের ছিবড়া কাগজ ও কাঠবোর্ড প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। এই আখ চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা–

 

১) জলবায়ু: আখ ক্রান্তীয় জলবায়ুর ফসল।

  1. উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত: আখ চাষের জন্য ২০°- ২৭°C উষ্ণতা এবং গড়ে ১৫০ সেমি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।  

  2. সামুদ্রিক বাতাস: আখ গাছকে সতেজ করতে সামুদ্রিক লবণাক্ত আবহাওয়া সহায়তা করে। তাই পশ্চিম ভারতে বেশি আখ উৎপন্ন হয়।

  3. কুয়াশা ও তুষারপাত: কুয়াশা ও তুষারপাত আখ চাষের পক্ষে ক্ষতিকারক।

২) মাটি: চুন ও লবণ মেশানো উর্বর দোঁআশ মাটি আখ চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

৩) ভূমির অবস্থা: গাছের গোড়াতে জল দাঁড়ানো আখ চাষের পক্ষে ক্ষতিকর, তাই জল নিকাশি সুবিধা যুক্ত নিচু সমতল জমি আখ চাষের পক্ষে ভালো।

 

১) শ্রমিক: আখের চারা রোপণ, ফসল কাটা, তাকে আখ মারাই কলে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন।

২) পরিবহনের সুবিধা: আখ কাটার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আখ থেকে রস বের করে না নিলে আখে রসের পরিমাণ ও মিষ্টতা কমে যায়। তাই চিনিকলে আখ দ্রুত নিয়ে আসার জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

৩) মূলধন: আখ জমির উর্বরতা নষ্ট করে দেয়, তাই জমিতে প্রচুর সার প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া কীটনাশক প্রয়োগ, জলসেচ করা প্রভৃতি কাজের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়।

৪) চাহিদা ও বাজার: আখকে গুদামজাত করা যায় না, তাই চাহিদার উপর নির্ভর করে চিনিকল ও আখের বাজার গড়ে ওঠে। ভারতের বিপুল জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে আখ চাষের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।

   এই সমস্ত অনুকূল পরিবেশ থাকার জন্য ভারতের উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র প্রভৃতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে আখ চাষ করা হয়।

 

2. ভারতে গম উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: গম নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফসল হলেও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গমের চাষ করা হয়। ভারতে প্রধানত শীতকালে গম চাষ করা হয়। ভারতে গম চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ গুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা–

 

১) জলবায়ু:- নাতিশীতোষ্ণ ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের জলবায়ুতে গমের চাষ ভালো হয়। মাঝারি উষ্ণতা, অল্প বৃষ্টিপাত, তুহিন মুক্ত দিবস গম চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

  1. উষ্ণতা: গম বপণের সময় প্রথম অবস্থায় ১৫°-২০°C তাপমাত্রার প্রয়োজন। কিন্তু ফসল কাটার সময় গড়ে ২৫°C উষ্ণতা থাকলে ভালো হয়।         

  2. বৃষ্টিপাত: গম চাষের জন্য গড়ে ৫০-১০০ সেমি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। তবে গম পাকার সময় বৃষ্টিপাত না হলেই ভালো আবার ৫০ সেমির কম বৃষ্টিপাত হলে জল সেচের প্রয়োজন হয়।

  3. আর্দ্রতা: পরিমাণ মতো আর্দ্রতার উপর গম বীজের অঙ্কুরোদগমের সংখ্যা নির্ভর করে। এই জন্য গম চাষের প্রথম অবস্থায় আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন, দ্বিতীয় অবস্থায় গাছ বৃদ্ধির সময় শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন, তৃতীয় অবস্থায় গমের শীষ বের হওয়ার জন্য হালকা আর্দ্রতা এবং চতুর্থ অবস্থায় গম পাকা ও কাটার সময় উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন।

  4. তুহিনমুক্ত দিবস: তুহিন গম চাষের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর, তাই গম পাকার আগে কমপক্ষে ১১০ টি তুহিন মুক্ত দিবস থাকা প্রয়োজন।

২) মৃত্তিকা: মৃদু ও অম্লধর্মী উর্বর দোঁআশ, বেলে দোঁআশ ও কাদা দোঁআশ মাটি গম চাষের পক্ষে উপযোগী।

৩) ভূমির প্রকৃতি: গম গাছের গোড়ায় জল দাঁড়িয়ে থাকলে গম গাছের গোড়া পচে যায়। তাই উপযুক্ত জল নিকাশি যুক্ত সমতল জমি গম চাষের পক্ষে আদর্শ।

 

১) জলসেচ: ভারতে যেসব অঞ্চলে বছরে গড়ে ৫০ সেমির কম বৃষ্টিপাত হয় সেখানে গম চাষ করতে গেলে যথেষ্ট জলসেচ ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন।

২) শ্রমিক: জমি তৈরি, বীজ বপন, গম কাটা ও ঝাড়া ইত্যাদি কাজে প্রচুর শ্রমিকের দরকার হয়।

৩) উন্নত বীজ: গমের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য উন্নতমানের গম বীজের সহজলভ্যতার প্রয়োজন।

৪) মূলধন: বিস্তীর্ণ জমিতে গম চাষ করতে হলে উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার এবং উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়।

৫) চাহিদা ও বাজার: নাতিশীতোষ্ণ ও শীতপ্রধান দেশের প্রধান খাদ্যশস্য গম হওয়ায় এর আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অনেক বেশি।

   উপরিউক্ত অনুকুল ভৌগলিক পরিবেশ গুলির জন্য গম উৎপাদনে ভারত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা প্রভৃতি রাজ্যে গম উৎপাদন হয়।

 

3. ভারতে চা উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: চা একটি মৃদু উত্তেজক পানীয়। ভারতের মতো জনবহুল দেশে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা আছে। তাছাড়া ভারতের চা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করা হয়। এই চা উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা–

১) জলবায়ু:- চা আর্দ্র ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ুর ফসল। এর জন্য উপযুক্ত উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত ও আদ্রতা প্রয়োজন।

  1. উষ্ণতা: চা চাষের আদর্শ উষ্ণতা হলো ২১°‐ ২৯°C. তবে পার্বত্য অংশে আরো কম তাপমাত্রায় (16°C) চায়ের চাষ হয়ে থাকে।

  2. বৃষ্টিপাত: চা চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।গড়ে বার্ষিক ১৫০‐২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত চা চাষের পক্ষে আদর্শ।

  3. আর্দ্রতা: চা চাষের জন্য সারা বছর বাতাসে অধিক পরিমাণে আদ্রতা থাকা প্রয়োজন।

  4. তুহিন মুক্ত অবস্থা: চা গাছ একভাবে ১০-১২ দিন তুষারপাত সহ্য করতে পারলেও বেশি তুষারপাত চা গাছের ক্ষতি করে। তবে তুষারপাত ও অধিক শীতল আবহাওয়ায় চা গাছের পাতাগুলি ধীরে ধীরে জন্মায় ফলে চা অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত হয়।

২) ভূপ্রকৃতি: চা গাছের গোড়াই জল দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিকর, তাই পাহাড়ি অঞ্চলের জলনিকাশি সুবিধাযুক্ত ঢালু অংশ চা চাষের পক্ষে আদর্শ।

৩) মৃত্তিকা: অম্লধর্মী লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ মিশ্রিত উর্বর দোঁআশ মাটি চা চাষের পক্ষে আদর্শ। মাটিতে পটাশ ও ফসফরাস থাকলেই চা চাষ ভালো হয় এবং চা সুগন্ধিযুক্ত হয়।

৪) ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ: চা গাছ সরাসরি সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না তাই চা বাগানে চা গাছকে সূর্যের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চা বাগিচাই মাঝে মাঝে ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগাতে হয়।

 

১) শ্রমিক: চা বাগান পরিচর্যা, চা পাতা সংগ্রহ ও চায়ের গুণমান নির্ধারণ প্রভৃতি কাজে প্রচুর দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও চা গাছের দুটি পাতা ও একটি কুড়ি এই অনুপাতে সংগ্রহের জন্য প্রচুর মহিলা ও শিশু শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যা পাহাড়ি এলাকায় সহজলভ্য।

২) সার প্রয়োগ: চা গাছ জমির উর্বরতা শক্তি দ্রুত নষ্ট করে তাই চা চাষে প্রচুর পরিমাণে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

৩) মূলধন: চা বাগিচা স্থাপনে প্রচুর মূলধন লাগে। চা গাছ লাগানোর পর প্রথম কয়েক বছর কোন উৎপাদন হয় না, তাছাড়া চা বাগিচার সাথে চা তৈরীর কারখানা স্থাপন করতে হয় এজন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন।

৪) পরিবহন: চা একটি অর্থকারী ফসল তাই চাকে বাজারজাত করার জন্য উপযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

   উপরিউক্ত অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য ভারতের দার্জিলিং, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, হিমালয়, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও কেরলের পার্বত্য ঢালে প্রচুর চা চাষ হয়।

 

4. ভারতের কফি উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ গুলি লেখো।

উত্তর: কফি আর্দ্র ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের পানীয় ফসল। কফি উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা–

১) জলবায়ু: ভারতে আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু কফি চাষের পক্ষে আদর্শ।

  1. উষ্ণতা: কফি চাষের জন্য অধিক উষ্ণতা প্রয়োজন। বার্ষিক গড়ে ২০°-৩০°C উষ্ণতা কফি চাষের পক্ষে আদর্শ। তবে উচ্চভূমিতে ১৫°-২৫°C উষ্ণতা কফি চাষের পক্ষে ভালো।

  2. বৃষ্টিপাত: কফি উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। বার্ষিক ১০০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত কফি চাষের পক্ষে আদর্শ।

  3. আর্দ্রতা: প্রাথমিক অবস্থায় উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া কফি গাছ বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক। দ্বিতীয় পর্যায়ে কফি ফল পাকার সময় শুষ্ক ও রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া দরকার। দক্ষিণ ভারতের নীলগির পার্বত্য অঞ্চলে এই ধরনের জলবায়ু দেখা যায় বলে প্রচুর কফি উৎপন্ন হয়।

২) ভূপ্রকৃতি: কফি গাছের গোড়াই জল দাঁড়ানো ক্ষতিকর, তাই উচ্চ পার্বত্য ঢালু অংশ বা পর্বতের পাদদেশীয় অংশ কফি চাষের পক্ষে ভালো।

৩) মৃত্তিকা: ভারতের লাভাগঠিত উর্বর মাটি ও লাল দোঁআশ মাটিতে কফি চাষ ভালো হয়। মৃদু অম্লধর্মী পটাশ ও হিউমাস সমৃদ্ধ মাটি কফি চাষের পক্ষে আদর্শ।

৪) ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষচা গাছের মতো কফি গাছও সরাসরি সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। তাই কফি বাগিচার মাঝে ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানো হয়।

 

১) শ্রমিক: কফি উৎপাদন অধিক মাত্রায় শ্রম নির্ভর। বাগান পরিচর্যা, কফি ফল সংগ্রহ, ফল শুকানো, বীজ চূর্ণ করা প্রভৃতি কাজে প্রচুর দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

২) মূলধন: কফি একটি বাণিজ্যিক বাগিচা ফসল তাই কফি বাগান পরিচর্যার মজুরি মেটাতে, কফি প্রস্তুত করতে, বাজারজাত করতে প্রভৃতি কাজের জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন।

৩) পরিবহনউৎপাদিত কফি বাজারজাত করার জন্য, বিদেশে রপ্তানি করার জন্য উপযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা দরকার।

  উপরিউক্ত অনুকূল পরিবেশের জন্য ভারতের কর্নাটক, কেরল, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যে কফি উৎপন্ন হয়।

 

5. পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি লেখো।

উত্তর: ভারতের পশ্চিম অঞ্চল বা পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে বিশেষত মহারাষ্ট্রের মুম্বই, নাগপুর, পুনে, কোলাপুর, শোলাপুর, নাসিক, জলগাঁও, আকোলা, সাতারা এবং গুজরাটের আমেদাবাদ, রাজকোট, ভাদোদরা, পোরবন্দর, সুরাট, ভাবনগর, ব্রোচ, ভারুচ, কালোল প্রভৃতি স্থানে অসংখ্য কার্পাস বয়ন শিল্প গড়ে উঠেছে। পশ্চিম ভারতের কার্পাস বয়ন শিল্প গড়ে ওঠার পিছনে অনেক কারণ বিদ্যমান।

 

■ কেন্দ্রীভবন বা একদেশীভবনের কারণ:

১) কাঁচামালের সহজলভ্যতা: পশ্চিম ভারতের স্থানীয় কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে তুলো উৎপন্ন হয়, ফলে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া মুম্বাই বন্দরের মাধ্যমে মিশর ও সুদান থেকে দীর্ঘ আঁশযুক্ত উৎকৃষ্ট মানের তুলো আমদানি করা হয়।

২) আর্দ্র জলবায়ু: আরব সাগরের আর্দ্র সমুদ্র বায়ুর প্রভাব থাকায় গুজরাট ও মহারাষ্ট্র অঞ্চলে অধিক সংখ্যায় কার্পাস বয়ন শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কারণ আর্দ্র আবহাওয়ায় সুঁতো ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৩) বিদ্যুৎ শক্তির প্রাচুর্য: প্রথমে আফ্রিকার নাটাল ও ট্রান্সভালের আমদানিকৃত কয়লা থেকে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করা হতো। পরে ভীরা, ভীবপুরী, খোপালি, উকাই, কয়না প্রভৃতি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও টম্বে, নাসিক প্রভৃতি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তারাপুর ও কাকড়াপাড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সহজে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

৪) বন্দরের নৈকট্য: ভারতের পশ্চিম উপকূলে মুম্বাই, পোর বন্দর, জহরলাল নেহেরু বন্দর, কান্ডালা, কচি প্রভৃতি বন্দরের মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি ও শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি করা হয়।

৫) পর্যাপ্ত জল: সবরমতি, মাহি, নর্মদা, তাপ্তি প্রভৃতির নদীর জল এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় জলের চাহিদা মেটায়।

৬) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা: পশ্চিম, মধ্য ও কোঙ্কন রেলপথ, NH3, NH4, NH6 প্রভৃতি সড়কপথের দ্বারা কাঁচামাল উৎপাদক অঞ্চল থেকে কাঁচামাল আমদানি এবং শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানিতে সুবিধা হয়।

৭) মূলধন :– স্থানীয় পার্শি, গুজরাটি, ভাটিয়া, মারাঠি, মারওয়ারি শিল্পপতিদের মূলধন বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন অর্থ লগ্নী সংস্থার অর্থের যোগান পশ্চিম ভারতের কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশী ভবনে সাহায্য করে।

৮) অন্যান্য কারণ :– এছাড়াও সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক, চাহিদা ও বাজার প্রভৃতি পশ্চিম ভারতের কার্পাস বয়ন শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

 

6. পূর্ব ও মধ্য ভারতের লৌহ ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণ লেখো 

উত্তর: লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গুলি প্রধানত ওজন হ্রাসশিল কাঁচামাল, তাই এই শিল্প কাঁচামালের কাছে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা আছে। ভারতের মোট লোহা ইস্পাত কারখানার অধিকাংশ গড়ে উঠেছে পূর্ব ও মধ্য ভারতে। এই অঞ্চলের প্রধান কারখানা গুলি হল – পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর, বার্নপুর, কুলটি ; ঝাড়খণ্ডের বোকারো, জামশেদপুর ; ওড়িশার রৌরকেল্লা ; ছত্তিশগড়ের ভিলাই।

 

১) আকরিক লোহা: লৌহ ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হল আকরিক লোহা। ঝাড়খন্ডের সিংভূম, নোয়ামুন্ডি ও গুয়া ; ওড়িশার গোরুমহিষানি, ময়ূরভঞ্জ, বোনাই ; ছত্রিশগড়ের বাইলাডিলা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে উন্নতমানের আকরিক লোহা পাওয়া যায়।

২) কয়লা: আকরিক লোহা গলানোর জন্য প্রচুর তাপশক্তির প্রয়োজন ও এই তাপশক্তির উৎস হল কয়লা। দামোদর, মহানদী ও শোন উপত্যকায় উৎকৃষ্ট গন্ডোয়ানা কয়লা ভারতের ৯৫% উত্তোলন হয়। ছত্তিশগড়ের তাতাপানি, কোর্বা; ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া, বোকারো; ওড়িশার তালচের, রামপুর; পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ, দিশেরগড় খনির উৎকৃষ্ট কোককয়লা প্রস্তুত হয়।

৩) ম্যাঙ্গানিজ: ওড়িশার কেওনঝড়, গাংপুর, বোনাই এবং ছত্রিশগড়ের বালাঘাট ও ভান্ডারাতে লৌহ ইস্পাত শিল্পের প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়।

৪) চুনাপাথর ও ডলোমাইট: ওড়িশার বীরমিত্রপুর ও ভবনাথপুর এবং ছত্রিশগড়ের বিলাসপুর, রায়গর ও বাস্তার প্রভৃতি জায়গায় প্রয়োজনীয় চুনাপাথর ও ডলোমাইট পাওয়া যায়।

৫) জলের সহজলভ্যতা: এই শিল্পের প্রয়োজনীয় জল দামোদর, বরাকর, সুবর্ণরেখা, মহানদী প্রভৃতি নদী থেকে সহজেই পাওয়া যায়।

৬) পর্যাপ্তবিদ্যুৎ শক্তিদামোদর অববাহিকায় তিলাইয়া, মাইথন, পাঞ্চেত ও মহানদী অববাহিকায় হিরাকুঁদ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এছাড়াও দুর্গাপুর, বোকারো প্রভৃতি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুতের চাহিদা মেটায়।

৭) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা: পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব রেলপথ এবং NH2, NH6, NH23, NH31, NH33 প্রভৃতি জাতীয় সড়কের মাধ্যমে সহজেই যোগাযোগ ও পণ্যদ্রব্যের আদান প্রদান করা হয়।

৮) সুলভ শ্রমিক: পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খন্ড, ওরিশা, পশ্চিমবঙ্গ ; মধ্য ভারতের মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড় প্রভৃতি রাজ্যে অধিক জনবহুল হওয়ায় এখানে সুলভ শ্রমিক পাওয়া যায়।

৯) বন্দরের নৈকট্য: এই অঞ্চলের নিকটে রয়েছে কলকাতা, হলদিয়া, পারাদ্বীপ, বিশাখাপত্তনম বন্দর যা শিল্পের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।

১০) চাহিদা: নিকটেই হুগলি, দুর্গাপুর, আসানসোল, জামসেদপুর-ঘাটশিলা-চাইবাসা, রাঁচি-হাতিয়া, ধানবাদ-ঝরিয়া, বোকারো শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে ইস্পাতের বিপুল চাহিদা শিল্পটির দ্রুত বিকাশ ঘটায়।

 

আজকের পোস্টে  মাধ্যমিক ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়  ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ থেকে  বাছাই করা ২/৩/৫ মার্কস এর প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হল, যেগুলি   পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণে সাহায্য করবে।

 

  SOURCE-EDT

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top