শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধকরণ নিয়ে আবার শুরু হয়েছে একপ্রস্থ আলোচনা।
সত্যিই কি ব্যাপারটা নতুন ?
সব ধরনের পড়ানোই কি নিষিদ্ধ ?
শুধু প্রাইভেট টিউশনেই কি এই নিষেধাজ্ঞা ?
আসুন দেখি সবটা।
——————————————————
১) প্রশ্ন – সম্প্রতি কোন অর্ডারে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধকরনের কথা বলা হয়েছে ? কী আছে এই অর্ডারে ?
উত্তর – সম্প্রতি স্কুল এডুকেশন ডিরেক্টরেট তার মেমো নং – 662 Sc/Apt/DSE, তারিখ -04/06/2026 দ্বারা এই সংক্রান্ত অর্ডার জারি করেছে। কিন্তু প্রথমেই মনে রাখতে হবে এটা টিউশন নিষিদ্ধ করার কোনো নতুন অর্ডার নয়। এটাতে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের থেকে প্রাপ্ত একটা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে ডি আই দের নির্দেশ দিয়েছে ডিরেক্টরেট। আসলে কেউ NHRC এর কাছে অভিযোগ করেছে যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে থাকা টিচাররা RTE Act, 2009 এর সেকশন 28 এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায় এর ভায়োলেশন করে বেআইনিভাবে প্রাইভেট টিউশন পড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয় ঐ টিচাররা ছাত্র ছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশন নিতে বাধ্য করার জন্য তাদের এই হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে যে তাঁদের কাছে প্রাইভেট টিউশন না পড়লে সেই ছাত্র বা ছাত্রীকে অ্যাকাডেমিক মার্কস কম দেওয়া হবে। এই বেআইনি কাজের অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রাজ্যের শিক্ষা দফতরের কাছে নোটিশ জারি করেছে NHRC (National Human Rights Commission)।
সেই নোটিশ পাওয়ার পর রাজ্যের শিক্ষা দফতরের পক্ষে ডিরেক্টরেট ডি আই দের উদ্দেশ্যে এই অর্ডার জারি করেছে। এখানে ডি আই দের বলা হয়েছে এই ব্যাপারের সত্যতা সম্পর্কে তদন্ত করতে এবং অভিযোগের সত্যতা থাকলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। সুতরাং এটা পরিষ্কার হলো যে এটা টিউশন নিষিদ্ধ করার কোনো নতুন অর্ডার নয়। সেটা নিষিদ্ধ আছে বহু পূর্ব হতেই। সেই নিষিদ্ধ কাজ কেউ করছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা এবং করলে পূর্বের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এই অর্ডারের উদ্দেশ্য।
২) প্রশ্ন – উপরে বলা হলো যে ডি আই রা খতিয়ে দেখবেন কোনো টিচার বেআইনি ভাবে প্রাইভেট টিউশন করছেন কি না। এই ব্যাপারে ডি আই গণ ঠিক কী করতে পারেন ?
উত্তর – ডি আই রা যা করবেন –
i) এই অর্ডার স্কুলের HOI দের কাছে ফরোয়ার্ড করবেন। জানতে চাইবেন স্কুলের কোনো টিচার প্রাইভেট টিউশন করেন কি না।
ii) প্রাইভেট পড়ান না টিচারদের থেকে এই মর্মে ডিক্লারেশন নিতে বলতে পারেন ডি আই।
iii) স্কুল থেকে পাওয়া রিপোর্ট কনসোলিডেট করে ডিরেক্টরেট এ পাঠিয়ে দেবেন ডি আই।
৩) প্রশ্ন – এই প্রাইভেট নিষিদ্ধকরণ ব্যাপারটা কোন সময় থেকে লাগু হয়েছে ?
উত্তর – অনেক দিন আগে থেকেই এই নিয়ম চালু আছে। 2005 সালে WBBSE তার মেমো নং – S/18, তারিখ – 14/01/2005 দ্বারা টিচারদের কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হয়। সেখানেই প্রথম প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধ করা করে। এমনকি এই ব্যাপারে টিচারদের কাছ থেকে মুচলেকাও আদায় করা হয় তখন। এরপর আসে কেন্দ্রীয় RTE Act, 2009 । এই অ্যাক্টের সেকশন 28 পরিষ্কার করে বলে দেয় যে টিচাররা প্রাইভেট টিউশন করতে পারবে না অথবা প্রাইভেট টিচিং অ্যাক্টিভিটিতে যোগদান করতে পারবে না। তারপর 2011 সালে স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট তার মেমো নং 189-SE (Law), তারিখ – 14/02/2011 জারি করে স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকে বলে দেয় যে তাঁদের স্কুলের কোনো টিচার যেন প্রাইভেট টিচিং বা প্রাইভেট টিচিং অ্যাক্টিভিটিতে জড়িয়ে না পড়েন সেটা নিশ্চিত করতে। কোনো টিচার প্রাইভেট টিউশন বা প্রাইভেট টিচিং অ্যাক্টিভিটিতে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে যেন ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশান নেওয়ার পদ্ধতি শুরু করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। 2012 সালের রাজ্যের RTE Rules ও একই কথা বলে। প্রাইভেট টিউশনকে টিচারদের কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গ করা বলে অভিহিত করে সেটাকে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশানের আওতায় নিয়ে আসে স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট তার গেজেট নোটিফিকেশন মেমো নং -214 SE, তারিখ -08/03/2018 দ্বারা। বোর্ড প্রত্যেক বছর যে অ্যানুয়াল একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে তার সঙ্গে টিচারদের জন্য কিছু নিয়ম বিধির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই বিধির মধ্যে প্রতি বছর উপরোক্ত গেজেট নোটিফিকেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা থাকে যে টিচারদের জন্য প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধ। সুতরাং ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই এই নিষেধাজ্ঞা আছে। বর্তমানে ব্যাপারটা নিয়ে আবার নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে মাত্র। নতুন কিছু করা হচ্ছে না।
৪) প্রশ্ন – আচ্ছা টিচাররা প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে ? স্কুলের বাইরে যে কোনো ধরনের পড়ানোই কি টিচারদের জন্য নিষিদ্ধ ?
উত্তর – সত্যি কথা বলতে কী RTE Act, 2009 এর সেকশন 28 বলেছে টিচারদের প্রাইভেট টিচিং বা প্রাইভেট টিচিং অ্যাক্টিভিটি নিষিদ্ধ। 2011 সালের স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের অর্ডারও তাই বলেছে। RTE Rules, 2012ও তাই। এখানে কিন্তু অর্থের বিনিময়ে না বিনা পারিশ্রমিকে প্রাইভেট টিউশনকে বোঝাচ্ছে সেটা নিশ্চিত করে বলেনি। অর্থাৎ ধরে নিতে হবে যে সব ধরণের প্রাইভেট টিউশনের কথাই বলা হয়েছিল। এরপর আসে স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক জারি করা গেজেট নোটিফিকেশন মেমো নং- 214 SE, তারিখ – 08/03/2018। এটা অনুযায়ী বলা যায় যে শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে পড়ানো আর নিজের শিক্ষক হওয়ার সুবিধাটা কাজে লাগিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের তাঁর কাছে টিউশন পড়তে বাধ্য করাটা নিষিদ্ধ। সুতরাং কোনো শিক্ষক যদি কোনো রকম আর্থিক লেনদেন ছাড়া অথবা কোনো রকম ব্যক্তিগত সুবিধা লাভ ছাড়া কোনো ছাত্র বা ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিকে সেবামূলক মনোভাব নিয়ে পড়ান সেটা কোনো বেআইনি কাজ হবে না। এই গেজেট নোটিফিকেশন মেমো নং – 214 SE, তারিখ- 08/03/2018 এর Rule 4(6) বলছে , ” No teacher shall engage himself in any sort of private tuition for personal gain”। “Personal Gain” অর্থাৎ পড়িয়ে অর্থ উপার্জন না করলে আপত্তি নেই। অর্থাৎ বলা যায় চ্যারিটি করার জন্য পড়ালে বেআইনি কাজ হবে না। আবার যদি স্কুলের পক্ষ থেকে school hours এর বাইরে দুর্বল ছাত্র ছাত্রীদের জন্য রেমিডিয়াল টিচিং এর ব্যবস্থা করা হয় সেটাতে টিচাররা পড়াতেই পারেন। এমন কথাও রয়েছে এই নোটিফিকেশনে। এটাই শেষ নোটিফিকেশন এই ব্যাপারে। সুতরাং এটাকেই সর্বোচ্চ মান্যতা দিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে যে মূল RTE Act এ কিন্তু কোনো রকম আর্থিক ব্যাপারের উল্লেখ না করে সব রকমের প্রাইভেট টিউশনই টিচারদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫) প্রশ্ন – উপরে বলা হলো আর্থিক লাভের বিনিময়ে টিউশন পড়ালে সেটা দোষের। এখন প্রশ্ন উঠবে যে টিচার পড়াচ্ছেন তিনি আর্থিক লাভের বিনিময়ে পড়াচ্ছেন নাকি চ্যারিটি করার জন্য পড়াচ্ছেন সেটা বুঝব কী ভাবে ? অভিযুক্তের শাস্তিই বা কীভাবে হবে ?
উত্তর – লাখ টাকার প্রশ্ন। কোনো টিচার তো আর ফিজের Receipt দিয়ে প্রাইভেট টিউশন করেন না। তাই আর্থিক লাভের বিনিময়ে পড়াচ্ছেন সেটা প্রমাণ করা খুব কঠিন। যিনি অভিযোগ করছেন তাঁকেই সাক্ষী টাক্ষী জোগাড় করে অভিযোগ করতে হবে। মামলা করতেও হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত করা ভীষণ কঠিন। অকাট্য প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র সাক্ষীর বয়ানে কিছু করা মুস্কিল। অভিযুক্ত বলবেন তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে। তিনি নিজের স্বপক্ষে কয়েক জনকে দাঁড় করিয়েও দেবেন যারা বলবে স্যার তাদের বিনা পয়সায় পড়ান। ব্যস, ওখানেই খেল খতম। তবে অকাট্য প্রমাণ পেশ করতে পারলে কিন্তু অভিযুক্ত শাস্তি পেতে পারেন কারন এই ব্যাপারে শুধু Government Notification নয় একটা সেন্ট্রাল আইনও রয়েছে যেটাতে যে কোনো ধরনের প্রাইভেট টিচিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৬) প্রশ্ন – উপরের আলোচনায় শুধুমাত্র প্রাইভেট টিউশন করে অর্থ উপার্জন করার ক্ষেত্রে আইনত বাধার কথা বলা হলো। শুধু প্রাইভেট পড়িয়ে অর্থোপার্জন করলেই দোষ, আর কোনো ভাবে অর্থোপার্জন করলে কি কোনো সমস্যা নেই ?
উত্তর – স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের গেজেট নোটিফিকেশন মেমো নং- 214 SE, তারিখ -08/03/2018 তে টিচারদের যে কোড অফ কন্ডাক্ট চালু করা হয়েছে সেটা অনুযায়ী শুধুমাত্র প্রাইভেট টিউশনই নয় নিম্নলিখিত অর্থোপার্জন মূলক কাজগুলিও টিচাররা করতে পারবেন না —
i) কোনো ট্রেড বা বিজনেস করতে পারবেন না।
ii) কোনো আর্থিক লেনদেন কারী সংস্থার এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে পারবেন না।
iii) নিজের চাকরির বাইরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোনো এমপ্লয়মেন্ট নিতে পারবেন না।
iv) নিজের পজিশনকে কাজে লাগিয়ে কোনো ব্যবসায়িক লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ বউ এর নামে বিজনেস করলেন আর আপনি নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সেই ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি করতে থাকলেন সেটাও চলবে না।
তবে এখানে উল্লেখ্য যে এই অর্ডারে এটাও বলা হয়েছে যে যদি কোনো কাজ বিনা পারিশ্রমিকে এবং সোশ্যাল ও চ্যারিটেবল প্রকৃতির হয় সেই কাজে টিচাররা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই কথাটি বিনা পারিশ্রমিকে পড়ানো শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। আপনি যদি ছাত্র ছাত্রীদের বিনা পারিশ্রমিকে চ্যারিটির উদ্দেশ্যে পড়ান তাহলে সেটাও একটি সামাজিক কাজ বলেই গণ্য হতে পারে। তা যদি হয় সেটাতে তাহলে আর বাধা থাকে না। এই ব্যাপারে কিন্তু কিছু বিতর্ক আছেই। তাই সতর্ক থাকবেন।
৭) প্রশ্ন – উপরে বলা হলো টিচাররা কোনো অর্থোপার্জন মূলক কাজ করতে পারবেন না। সত্যিই কি অন্য কোনো কাজের বিনিময়ে টিচাররা অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না ?
উত্তর – উপরে উল্লেখিত গেজেট নোটিফিকেশনের Rule 4 তে দুটি ক্ষেত্রে অর্থোপার্জনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হলো –
১) একজন টিচার যদি কোনো বই লিখে (সব ধরনের বই লিখতে পারবেন না। নীচে ডিটেইলস দিলাম ) ন্যায়সঙ্গত পারিশ্রমিক পান তাহলে সেটা গ্রহণ করতে পারেন।
২) কোনো টিচার কোনো পাবলিক এক্সামিনেশনে ( যেমন পিএসসি না এসএসসি) ডিউটি করার জন্য যদি কোনো পারিশ্রমিক পান সেটাও গ্রহণ করতে পারেন।
৮) প্রশ্ন – কোনো টিচার বই লিখতে চাইলে সেটা করতে পারবেন কি ? এই কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন ? এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিয়মটা কী ?
উত্তর — কোনো টিচার বই লিখতে পারবেন। নিম্নলিখিত শর্ত গুলি মেনে –
i) নিজে এককভাবে বা অন্য লেখকদের সঙ্গে যৌথভাবে বই লিখতে পারেন।
ii) বই লেখার আগে অবশ্যই এমসির পারমিশন নেবেন। পারমিশন বলতে কোন বিষয়ে বই লিখতে চাইছেন , কেন চাইছেন ইত্যাদি জানিয়ে HOI এর মাধ্যমে এমসির কাছে বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এর কাছে আবেদন করবেন পারমিসন চেয়ে। এমসি বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সন্তুষ্ট হলে একটা রেজোলিউশন করে আপনাকে এই পারমিশন দেবে।
iii) তবে মনে রাখুন কোনো নোট বুক বা সহায়িকা বই লিখতে পারবেন না।
iv) পারমিশন নিয়ে বই লেখার জন্য ন্যায়সঙ্গত পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু এই ভাবে যে টাকা উপার্জন করলেন সেটা স্কুল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন এবং ইনকাম ট্যাক্সের হিসাবে শো করবেন।
৯) প্রশ্ন – এই অর্ডারের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়প্রধান বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এই মুহূর্তে কী করবেন ?
উত্তর – আপাতত কিছুই করবেন। ডি আই এর থেকে এই ব্যাপারে যেমন নির্দেশ আসবে সেটা করবেন। ডি আই যদি টিচারদের থেকে কোনো ডিক্লারেশন নিতে বলেন নেবেন। তবে সম্ভবত ডি আই সেটা করবেন না। হয়ত আপনার কাছ থেকে রিপোর্ট চাইবেন আপনার স্কুলের কোনো টিচার প্রাইভেট টিউশন করেন কি না সেটা জানতে চেয়ে। এখন এই রকম রিপোর্ট দিতে বললে আপনি ডি আই থেকে প্রাপ্ত অর্ডারটা অ্যাটাচ করে স্টাফের উদ্দেশ্যে এই মর্মে একটা নোটিশ করে দেবেন যে যদি কেউ প্রাইভেট টিউশন করেন তিনি যেন লিখিতভাবে সেটা HOI কে জানান। এই নোটিশে প্রত্যেকের সই করিয়ে নেবেন। এই কৌশলে সাপ মরবে কিন্তু লাঠি ভাঙবে না। আপনাকে জনে জনে ডিক্লারেশন নিতে হবে না। কিন্তু আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য আপনি পেয়ে যাবেন। কেউ যদি তথ্য গোপন করে তার দায় সেই স্টাফের। আপনার নয়।
এখন আর একটি ঘটনা ঘটতে পারে। সেটি হচ্ছে গৃহ শিক্ষকদের দল বা ব্যক্তিগত ভাবে কেউ HOI এর কাছে নালিশ করলেন যে সেই স্কুলের কোনো টিচার প্রাইভেট টিউশন করেন। সেক্ষেত্রে আপনি ঐ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বলবেন উপযুক্ত প্রমাণ সহ অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দিতে। HOI এই ব্যাপারে একটা রেজোলিউশন করে ডি আই এর কাছে সেই কমপ্লেইন পাঠিয়ে দেবেন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। অভিযোগ সত্য কী মিথ্যা, অভিযোগ নিয়ে যাঁরা এসেছেন তাঁদের উদ্দেশ্য কী এসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই। সাপ ব্যাঙ যা দিয়েছে সেটাই ডি আই এর কাছে পাঠিয়ে দিন। এরপর ডি আই যেমন সিদ্ধান্ত নেবেন তেমন কাজ হবে।
১০) প্রশ্ন – আচ্ছা যদি এমন হয় সত্যিই কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রাইভেট টিউশন করেন সেটা প্রমাণিত হলো। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে ?
উত্তর – আগেই বলেছি এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের গেজেট নোটিফিকেশন মেমো নং – 214 SE, তারিখ -08/03/2018 অনুসারে অর্থের বিনিময়ে টিচারদের প্রাইভেট টিউশন করা টিচারদের কোড অফ কন্ডাক্ট এর বিরোধী কাজ। কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গ করলে কী শাস্তি হতে পারে তা উক্ত নোটিফিকেশনেই উল্লেখ করা আছে। সেই শাস্তি হতে পারে সাধারণ সতর্কীকরণ, এক বা একাধিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ, কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট বেনিফিট কেড়ে নেওয়া, পেনশন বা গ্রাচুইটি কেটে নেওয়া, পেনশন সহ বাধ্যতামূলক অবসর নিতে বাধ্য করা অথবা চাকরি থেকেই অপসারণ। তবে শাস্তি কী হবে তা ঠিক করার ক্ষমতা একমাত্র বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি অথরিটির। ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশান নেওয়ার একটা সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘ পদ্ধতি আছে। চাইলেই দুম করে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।
পুনশ্চ : আমার ব্যক্তিগত মত সরকারি বেতনভুক কর্মচারীদের অবশ্যই দেশের আইন কানুন ও সরকারি নির্দেশনামা মেনে চলা উচিত। –