Kanyaratna Scheme:

কন্যাশ্রী এখন ‘কন্যারত্ন’!

ছাত্রীরা কীভাবে পাবে ২৫ হাজার টাকা? জেনে নিন

Published on:  

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে এবং বাল্যবিবাহ রোধে যে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পটি পরিচালিত হতো, তা বর্তমানে ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হবে। সম্প্রতি নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।

 

১৪ই আগস্ট যা ‘কন্যাশ্রী দিবস’ হিসেবে পালিত হতো, তা এখন থেকে ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হবে। কিভাবে এই প্রকল্পে আবেদন করবে? এবং নতুন কি নিয়ম যোগ করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিস্তারিত জানাবো আজকের এই প্রতিবেদনে।

একনজরে »

1 WB Govt Kanyaratna Scheme: ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্প কী?

1.1 প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ ও আর্থিক সহায়তা (Benefits & Tiers)

1.2 কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে? (Eligibility Criteria)

1.3 আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)

2 আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া (Application Process)

WB Govt Kanyaratna Scheme:

‘কন্যারত্ন’ প্রকল্প কী?

পশ্চিমবঙ্গের নারীশিক্ষার প্রসার এবং ছাত্রীদের বিদ্যালয়মুখী করে রাখার লক্ষ্যে চালু হওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পটি এখন নতুন রূপে ‘কন্যারত্ন’ (Kanyaratna Scheme) নামে পরিচালিত হবে। কোনো যোগ্য ছাত্রী যেন আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা সুনিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ ও আর্থিক সহায়তা

(Benefits & Tiers)

 

নবান্ন সভা করে তথ্য অনুযায়ী রাজ্য সরকারের নতুন কন্যারত্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পূর্বতন সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের (Kanyashree Prakalpa)যা ছিল সেটি অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের আওতায় মূলত তিনটি ধাপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে:

 

  • কে-ওয়ান (K1): ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি (৮ম থেকে ১২শ শ্রেণী) ছাত্রীদের পড়াশোনার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে প্রতি বছর ১,০০০ টাকা করে বার্ষিক বৃত্তি দেওয়া হয়

 

  • কে-টু (K2): ১৮ বছর পূর্ণ হলে এবং ছাত্রীটি অবিবাহিত থাকলে তাকে এককালীন ২৫,০০০ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়

 

  • কে-থ্রি (K3): বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর (Post Graduate) স্তরে বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠরতা মেধাবী ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই ধাপে সহায়তা করা হয়।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে?

(Eligibility Criteria)

 

‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

  • সরকার স্বীকৃত কোনো বিদ্যালয়, কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠরত হতে হবে।

  • কে-ওয়ান (K1): বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে।

  • কে-টু (K2): বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ছাত্রীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে।

  • পারিবারিক আয়: পরিবারের বার্ষিক আয় ১,২০,০০০ টাকার নিচে হতে হবে। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: ৪০% বা তার বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন/প্রতিবন্ধী, অনাথ ছাত্রী এবং জুভেনাইল জাস্টিস হোমে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।)

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

(Documents Required)

 

প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনপত্রের সাথে নিচের নথিপত্রগুলি জমা দিতে হবে:

  • বার্থ সার্টিফিকেট / জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate)

  • আধার কার্ড (Aadhaar Card)

  • অবিবাহিত থাকার স্ব-ঘোষণাপত্র (Self Declaration Form)

  • পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate)

  • ছাত্রীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার কপি (যার সাথে নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড স্পষ্ট থাকে)

  • সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে: প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বা পিতা-মাতার মৃত্যু শংসাপত্র

আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

(Application Process)

 

‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অফলাইনে সম্পন্ন হয়:

 

  • ফর্ম সংগ্রহ: ছাত্রীরা নিজেদের স্কুল বা কলেজ থেকে বিনামূল্যে আবেদনপত্র পাবে। annual scholarship (K1)-এর জন্য হালকা সবুজ রঙের এবং one-time grant (K2)-এর জন্য হালকা নীল রঙের ফর্ম দেওয়া হয়।

  • ফর্ম পূরণ ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক: সঠিকভাবে ফর্মটি পূরণ করে নিজের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সংযুক্ত করতে হবে। সমস্ত সরকারি অনুদান সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্কে পাঠানো হবে।

  • জমা ও রসিদ: পূরণ করা ফর্মটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকার কাছে জমা দিলে সেখান থেকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ (Acknowledgement Slip) এবং ফর্ম নম্বর প্রদান করা হবে।

  • স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং: প্রাপ্ত ফর্ম নম্বরটি ব্যবহার করে অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজের আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা যাবে।

নাম পরিবর্তন করে ‘কন্যারত্ন রাখা হলেও এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করে উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে।

 

 

SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top