Madhyamik Life sci Model Answers-1/2
Madhyamik Life Sci Model Answers-1
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন ? তাহলে এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-1) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-1

Madhyamik Life Sci Model Answers
Life Science(জীবন বিজ্ঞান)
(Part-2)
⟽ Previous Part
বিভাগ – ঘ: রচনাধর্মী উত্তর (5×6=30)
4.1 মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ চিত্র সহ
উত্তর : মানব মস্তিষ্ককে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
1. অগ্র মস্তিষ্ক:
i) গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম: মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (80%)। দুটি গোলার্ধে বিভক্ত। এর ভাঁজগুলিকে গাইরাস ও খাঁজগুলিকে সালকাস বলে। কাজ: চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, বাকশক্তি, জ্ঞান আহরণ, ঐচ্ছিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
ii) থ্যালামাস: সংবেদন গ্রহণ কেন্দ্র। ব্যথা, তাপ, চাপের অনুভূতি সেরিব্রামে পাঠায়।
iii) হাইপোথ্যালামাস: ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, তাপমাত্রা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি পিটুইটারি গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে তাই একে প্রভু গ্রন্থির প্রভু বলে।
2. মধ্য মস্তিষ্ক: দৃষ্টি ও শ্রবণ সংক্রান্ত প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক:
i) লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম: দেহের ভারসাম্য রক্ষা, পেশির সমন্বয় ও ঐচ্ছিক চলনে সাহায্য করে।
ii) পনস: সেরিব্রাম ও সেরিবেলামের মধ্যে সংযোগ সেতু হিসাবে কাজ করে, শ্বাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
iii) সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডুলা অবলংগাটা: একে প্রাণকেন্দ্র বলে। হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, গলাধঃকরণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
4.2 উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও চলনে হরমোনের ভূমিকা + ফটোট্রপিজম পরীক্ষা
হরমোনের ভূমিকা:
i) অক্সিন: কাণ্ডের অগ্রভাগে তৈরি হয়। কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ফটোট্রপিজম ও জিওট্রপিজম নিয়ন্ত্রণ করে। আলোর বিপরীত দিকে বেশি জমে কাণ্ডকে আলোর দিকে বাঁকায়।
ii) জিব্বেরেলিন: বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে, পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে, বীজহীন ফল তৈরিতে সাহায্য করে।
iii) সাইটোকাইনিন: কোষ বিভাজনে সাহায্য করে, বার্ধক্য রোধ করে।
iv) ইথিলিন: গ্যাসীয় হরমোন, ফল পাকাতে সাহায্য করে।
v) ABA বা অ্যাবসিসিক অ্যাসিড: বৃদ্ধি রোধক হরমোন, পাতা ঝরা ও সুপ্তাবস্থা সৃষ্টি করে।
ফটোট্রপিজম পরীক্ষা:
উপকরণ: একটি টবের গাছ, একটি অন্ধকার বাক্স।
পদ্ধতি: টবের গাছটিকে অন্ধকার বাক্সের মধ্যে রাখো। বাক্সের একদিকে একটি ছোট ছিদ্র করে আলো আসতে দাও। 3-4 দিন রাখো।
পর্যবেক্ষণ: দেখা যাবে গাছের কাণ্ড ছিদ্রের দিকে অর্থাৎ আলোর দিকে বেঁকে গেছে।
সিদ্ধান্ত: এটি পজিটিভ ফটোট্রপিজম। কারণ আলোর বিপরীত দিকে অক্সিন বেশি জমে বেশি বৃদ্ধি পায়।
4.3 কোষ বিভাজনের গুরুত্ব, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য
গুরুত্ব: i) জীবের দেহের বৃদ্ধি ঘটে।
ii) ক্ষতস্থান পূরণ হয়।
iii) জনন কোষ ও অযৌন জননে সাহায্য করে।
iv) মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে এবং প্রকরণ সৃষ্টি করে বিবর্তনে সাহায্য করে।
পার্থক্য 5টি:
মাইটোসিস মিয়োসিস
1. দেহকোষে ঘটে 1. জনন মাতৃকোষে ঘটে
2. একবার বিভাজন হয় 2. পরপর দুইবার বিভাজন হয়
3. 2n থেকে 2n থাকে, সমবিভাজন 3. 2n থেকে n হয়, হ্রাস বিভাজন
4. ক্রসিং ওভার হয় না, প্রকরণ হয় না 4. ক্রসিং ওভার হয়, প্রকরণ সৃষ্টি হয়
5. 2টি অপত্য কোষ তৈরি হয় 5. 4টি অপত্য কোষ তৈরি হয়
মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলে কেন? কারণ মিয়োসিসে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা (2n) থেকে অপত্য কোষে অর্ধেক (n) হয়ে যায়। ফলে নিষেকের সময় দুটি n গ্যামেট মিলে আবার 2n ফিরে আসে, প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।
4.4 মানব জননতন্ত্রে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের কাজ, নিষেক, যৌন জনন উন্নত কেন?
শুক্রাশয়: i) শুক্রাণু উৎপন্ন করে (স্পার্মাটোজেনেসিস)। ii) টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণ করে যা পুরুষের গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশ করে।
ডিম্বাশয়: i) ডিম্বাণু উৎপন্ন করে (উজেনেসিস)। ii) ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণ করে যা স্ত্রীদেহে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
নিষেক কাকে বলে? পুংগ্যামেট (শুক্রাণু) ও স্ত্রীগ্যামেট (ডিম্বাণু) এর মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠনের প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে। মানবে এটি ফ্যালোপিয়ান নালীতে ঘটে।
অযৌন জননের তুলনায় যৌন জনন উন্নত কেন?
i) যৌন জননে পিতা ও মাতার জিনের মিশ্রণে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
ii) প্রকরণের ফলে অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ে ও প্রাকৃতিক নির্বাচনে সুবিধা হয়।
iii) বিবর্তনে সাহায্য করে।
iv) নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অপত্য সৃষ্টি হয় যা অযৌন জননে সম্ভব নয়।
Madhyamik Life Sci Model Answers-1
4.5 মেন্ডেলের একসংকর জনন চেকার বোর্ড সহ
পরীক্ষা: বিশুদ্ধ লম্বা গাছ (TT) x বিশুদ্ধ বেঁটে গাছ (tt)
P জনু: TT x tt
গ্যামেট: T , t
F1 জনু: সব Tt লম্বা। এতে প্রমাণ হয় লম্বা প্রকট।
এবার F1 x F1 অর্থাৎ Tt x Tt স্বপরাগযোগ:
চেকার বোর্ড:
T t
T TT লম্বা Tt লম্বা
t Tt লম্বা tt বেঁটে
ফল: ফিনোটাইপ অনুপাত – 3 লম্বা : 1 বেঁটে। জিনোটাইপ অনুপাত – 1 TT : 2 Tt : 1 tt
প্রথম সূত্র: পৃথকীভবন সূত্র – গ্যামেট গঠনের সময় একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের অ্যালিল দুটি আলাদা হয়ে যায়।
অসম্পূর্ণ প্রকটতা: যখন প্রকট বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকাশ না পেয়ে মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। যেমন সন্ধ্যামালতী ফুলে লাল RR x সাদা rr = গোলাপি Rr ফুল হয়। F2 তে অনুপাত 1:2:1।
4.6 ঘোড়ার বিবর্তনের চারটি ধাপ ও জীবন্ত জীবাশ্ম
ঘোড়ার বিবর্তন:
i) ইওহিপ্পাস: 60 মিলিয়ন বছর আগে ইওসিন যুগে, শিয়ালের সমান আকার, সামনে 4টি ও পিছনে 3টি আঙুল, নিচু মুকুটযুক্ত দাঁত, জঙ্গলে বাস।
ii) মেসোহিপ্পাস: 30 মিলিয়ন বছর আগে অলিগোসিন যুগে, ভেড়ার সমান, 3টি আঙুল, পা কিছুটা লম্বা।
iii) মেরিচিপ্পাস/প্লায়োহিপ্পাস: 15 মিলিয়ন বছর আগে মায়োসিন যুগে, গাধার সমান, 1টি আঙুল প্রধান, বাকি দুটি ছোট, উঁচু মুকুটযুক্ত দাঁত, তৃণভূমিতে বাস।
iv) ইকুয়াস: আধুনিক ঘোড়া, 1টি আঙুল খুরে পরিণত, দ্রুত দৌড়াতে পারে, মস্তিষ্ক উন্নত।
পরিবর্তন: আকার বৃদ্ধি, পা লম্বা, আঙুল কমে খুর, দাঁত শক্ত, মস্তিষ্ক বড়।
জীবন্ত জীবাশ্ম: যেসব জীব বহু মিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হয়েও আজও প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় পৃথিবীতে বেঁচে আছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। যেমন – লিমুলাস বা নীল কাঁকড়া (400 মিলিয়ন বছর), জিঙ্কো বাইলোবা উদ্ভিদ, লাংফিশ, প্লাটিপাস। এরা বিবর্তনের প্রমাণ দেয়।
4.7 সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যা ও সমাধান, জৈব বিবর্ধন
সমস্যা: i) বিশ্ব উষ্ণায়নে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি।
ii) ম্যানগ্রোভ ধ্বংস, চোরা কাঠ কাটা।
iii) বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি।
iv) চোরাশিকার, দূষণ, তেল ছড়িয়ে পড়া।
v) জনসংখ্যা চাপ।
সমাধান: i) ম্যানগ্রোভ রোপণ কর্মসূচি।
ii) JFM এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে নিয়ে বন রক্ষা।
iii) বিকল্প জীবিকা – মৌ চাষ, ইকো-ট্যুরিজম।
iv) শক্ত আইন ও সচেতনতা শিবির।
v) বাঁধ নির্মাণ ও লবণাক্ততা রোধ।
জৈব বিবর্ধন বা Biomagnification: খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে অবিশ্লেষ্য দূষক পদার্থ যেমন DDT, পারদের ঘনত্ব নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে ক্রমাগত বাড়তে থাকে, একে জৈব বিবর্ধন বলে।
উদাহরণ: জলে DDT 0.01 ppm → ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনে 0.1 ppm → ছোট মাছে 1 ppm → বড় মাছে 10 ppm → মাছরাঙা পাখি বা মানুষে 100 ppm জমা হয়। ফলে ক্যান্সার, স্নায়ুর ক্ষতি হয়।
4.8 নাইট্রোজেন চক্র চিত্র সহ ও JFM
নাইট্রোজেন চক্রের চিত্র: N2 বায়ুমণ্ডল → [স্থিতিকরণ – রাইজোবিয়াম দ্বারা] → NH3 → [নাইট্রিফিকেশন – নাইট্রোসোমোনাস দ্বারা NO2-, নাইট্রোব্যাকটর দ্বারা NO3-] → উদ্ভিদ দ্বারা আত্তীকরণ → প্রাণী খায় → মৃত্যুর পর অ্যামোনিফিকেশন দ্বারা NH3 → ডিনাইট্রিফিকেশন – সিউডোমোনাস দ্বারা আবার N2 বায়ুমণ্ডলে।
ধাপ 5টি: স্থিতিকরণ, অ্যামোনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন, আত্তীকরণ, ডিনাইট্রিফিকেশন।
JFM কী? JFM = Joint Forest Management, যৌথ বন ব্যবস্থাপনা। 1971 সালে পশ্চিমবঙ্গের আরাবারি থেকে শুরু। বনদপ্তর ও স্থানীয় গ্রামবাসী যৌথভাবে বন রক্ষা ও পরিচালনা করে।
সুবিধা: i) বন রক্ষা পায়, চুরি কমে।
ii) গ্রামবাসী জ্বালানি, ফল, মধু, কর্মসংস্থান পায়।
iii) মাটি ক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা হয়।
iv) সরকার ও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হয়।
4.9 ইনসুলিনের কাজ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার প্রতিরোধ
ইনসুলিনের কাজ: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। i) রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়, গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন রূপে জমা করে। ii) কোষে গ্লুকোজ প্রবেশে সাহায্য করে শক্তি উৎপাদনে। iii) প্রোটিন ও ফ্যাট সংশ্লেষে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস কেন হয়? ইনসুলিন কম ক্ষরিত হলে বা ইনসুলিন কাজ না করলে (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স) রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়, প্রস্রাবে গ্লুকোজ বের হয়, একে মধুমেহ বা ডায়াবেটিস বলে। বংশগতি, মোটা হওয়া, অনিয়মিত জীবনযাপন কারণ।
ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়: i) ধূমপান, গুটখা, তামাক, মদ বর্জন।
ii) ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, অতিরিক্ত ভাজা খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফল বেশি খাওয়া।
iii) নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ।
iv) অতিরিক্ত UV রশ্মি, দূষণ, রাসায়নিক এড়ানো।
v) HPV ও হেপাটাইটিস B টিকা নেওয়া।
vi) নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
SOURCE-NIRYAS





