

Class 10 উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত:
বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪)
প্রশ্ন উত্তর
History Chapter 8 Question Answer
Published on:
মাধ্যমিক ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায়—‘উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪)’ (History Chapter 8) এর মধ্যে দেশভাগ, ভয়াবহ উদ্বাস্তু সমস্যা, দেশীয় রাজ্যগুলোর ভারতের সাথে যুক্ত হওয়া এবং ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের মতো স্বাধীন ভারতের শুরুর দিকের ঘটনাবহুল ইতিহাস এই অংশে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের আর্টিকেলে এই গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারের বাছাই করা কিছু ১/২/৪ প্রশ্ন ও উত্তর সাজিয়ে দেওয়া হলো।
◆ বিষয়বস্তু ◆
1 উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪) প্রশ্ন উত্তর (১/২/৪ মার্কস) | Madhyamik Class 10 History Chapter 8 Long Question Answer
1.1 দশম শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় ১ নম্বর ছোট প্রশ্ন উত্তর | Class 10 History 8th Chapter 1 Short Question Answer
1.2 ক্লাস 10 শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 10 History Chapter 8 2 Marks Question Answer
1.3 দশম শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় 4 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Madhyamik History 8th Chapter Question Answer
উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত:
বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪)
প্রশ্ন উত্তর (১/২/৪ মার্কস)
দশম শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় ১ নম্বর ছোট প্রশ্ন উত্তর
Madhyamik Class 10 History Chapter 8 Long Question Answer
১) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কবে ‘ভারতের স্বাধীনতা আইন’ পাশ হয়?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রী. ১৮ জুলাই
২) ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন
৩) স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন
৪) স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন ?
উত্তর: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
৫) স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: জওহরলাল নেহরু
৬) স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল
৭) ভারতের প্রথম ও শেষ গভরনর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: চক্রবর্তী রাজাগোপালচারী
৮) ভারতের লৌহমানব ও বিসমার্ক কাকে বলা হয়?
উত্তর: ‘সর্দার বল্লবভাই প্যাটেলকে
৯) ১৯৪৭ সালে ভারতে মোট কয়টি দেশীয় রাজ্য ছিল?
উত্তর: ৬০১ টি
১০) সবচেয়ে বৃহত্তম দেশীয় রাজ্য কোনটি? এর শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: হায়দ্রাবাদ | নিজাম ওসমান আলি খান
১১) কাশ্মীরের রাজা কে ছিলেন?
উত্তর: হরি সিং
১২) হায়দ্রাবাদের নিজাম কবে ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করেন?
উত্তর: ১৯৪৯ খ্রী.
১৩) নেহেরু-লিয়াকৎ চুক্তি বা দিল্লি চুক্তি কবে হয়?
উত্তর: ১৯৫০ খ্রী.
১৪) পূণর্বাসনের যুগ বলা হয় কোন সময়কে?
উত্তর: ১৯৪৭–৫২ খ্রী. সময়কালকে
১৫) ‘ধ্বংসের পথে পশ্চিমবঙ্গ’ –গ্রন্থটি কার?
উত্তর: রণজিৎ রায়
১৬) ‘দ্যা মার্জিনাল মেন’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী।
১৭) পাথওয়ে টু পাকিস্তান’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: চৌধুরী খালিকুজ্জামানের
১৮) ‘স্বাধীনতার স্বাদ’ –গ্রন্থটি কার লেখা ?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯) ‘আঁধারমানিক’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: মহাশ্বেতা দেবী
২০) ‘মেঘে ঢাকা তারা’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: হৃত্বিক ঘটক
২১) ‘আগুন পাখি’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: হাসান আজিজুল হক
২২) ‘নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
২৩) ‘কেয়া পাতার নৌকা’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: প্রফুল্ল রায়
২৪) ‘এ ট্রেন টু পাকিস্তান’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: খুশবন্ত সিং
২৫) ‘অশনি সংকেত’ –গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: সত্যজিৎ রায়
২৬) পশ্চিমবঙ্গের প্রথম উদ্বাস্তু কমিশনার কে ছিলেন?
উত্তর: হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭) প্রথম ভাষা ভিত্তিক গঠিত রাজ্য কোনটি?
উত্তর: অন্ধ্রপ্রদেশ
২৮) তেলেঙ্গানা রাজ্যটি কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ২০১৪ খ্রী.
২৯) কবে সিকিম ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়?
উত্তর: ১৯৭৫ খ্রী.
৩০) জে.ভি.পি. কমিটির সদস্য কারা ছিলেন?
উত্তর: জহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই প্যাটেল ও পট্টভি সীতারামাইয়া
৩১) মাদ্রাজে তেলেগু ভাষা অঞ্চলের দাবিতে কে অনশন করে মারা যান?
উত্তর: শ্রীরামালু
৩২) রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কবে গড়ে ওঠে?
উত্তর: ১৯৫৩
৩৩) PEPSU এর পুরো নাম কী?
উত্তর: Patiala and East Punjab States Union (পাতিয়ালা এবং পূর্ব পাঞ্জাব রাজ্য ইউনিয়ন)
৩৪) সরকারি ভাষা আইন করে পাশ হয়?
উত্তর: ১৯৫৩ খ্রী.
৩৫) নরেন্দ্রমন্ডল কারা কেন গঠন করেছিলেন?
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর দেশীয় রাজ্যের রাজারা নিজেদের স্বাতন্ত্র রক্ষার জন্য যে সংগঠন গড়ে তোলেন, তা নরেন্দ্র মন্ডল নামে পরিচিত।
৩৬) স্বাধীন ভারতের প্রথম সেনা প্রধানের নাম কী?
উত্তর: জয়ন্ত নাথ চৌধুরী
৩৭) কার নেতৃত্বে জুনাগরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়?
উত্তর: সামলদাস গান্ধি
৩৮) কাশ্মীরের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে?
উত্তর: গোলাম মোহাম্মদ সাদিক
৩৯) রাজাকার বাহিনী করে গড়ে ওঠে?
উত্তর: হায়দ্রাবাদের ভারতভুক্তির সময়
৪০) ভাষাভিত্তিক প্রদেশ কমিশনের প্রধান কে ছিল?
উত্তর: জওহরলাল নেহেরু
৪১) কোন কমিশন ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরোধিতা করে?
উত্তর: দর কমিশন
৪২) পাঞ্জাবে শিখ আন্দোলনে কোন দল নেতৃত্ব দিয়েছিল?
উত্তর: আকালি দল
৪৩) নাগাল্যান্ড রাজ্য করে গড়ে ওঠেছিল?
উত্তর: ১৯৬৩ খ্রী.
৪৪) ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রসচিব কে ছিলেন?
উত্তর: ভি.পি. মেনন
ক্লাস 10 শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায়
2 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
Class 10 History Chapter 8
2 Marks Question Answer
1. ভারতের ইতিহাসে ১৯৫০ খ্রী. ২৬ শে জানুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রী. ২৬ শে জানুয়ারি দিনটি ভারতবর্ষের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ–
সংবিধান কার্যকর :– এই দিনটিতে ভারতের নিজস্ব সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। সেদিন থেকে ভারত একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
স্বাধীনতা দিবস :– ১৯৩০ খ্রী. কংগ্রেসের কার্যনির্বাহক সমিতি ২৬ শে জানুয়ারি দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস রূপে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ও পালন করে আসে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই দিনটিকে তাই প্রজাতন্ত্র দিবসের মর্যাদা দান করা হয়।
2. মাউন্টব্যাটেন রোয়েদার বা মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব কি? এর দুটি শর্ত লেখো।
উত্তর: ভারতের বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ খ্রী. ৩ জুন ভারত বিভাগের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তা মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ বা মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব নামে পরিচিত। এতে বলা হয় যে—
শর্ত :– (a) সমগ্র ভারতকে দুটি ডোমিনিয়ন, যথা- ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত করা হবে। দুটি ডোমিনিয়নই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিষয় পরিচালনা করবে।
(b) মুসলিম প্রধান অঞ্চল, যেমন – বেলুচিস্থান নিয়ে এবং বাংলা, পাঞ্জাবকে খন্ডিত করে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন করা হবে। (c) উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও আসামের শ্রীহট্ট জেলা গণভোটের মাধ্যমে যেকোনো ডোমিনিয়নে যুক্ত হবে।
3. স্বাধীন ভারতের প্রধান দুটি সমস্যা উল্লেখ করো।
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রী. ১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভের সময় ভারতকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এগুলির মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছিল– (a) দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তিকরণ সমস্যা
(b) পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাঞ্জাব থেকে আগত উদ্বাস্তুদের সমস্যা
(iii) ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের আন্দোলনজনিত সমস্যা
(c) দেশভাগ জনিত হিংসা ও সাম্প্রদায়িক হিংসা জনিত সমস্যা, এছাড়াও
(d) বেকারত্ব ও খাদ্য সমস্যা ইত্যাদি।
4. দেশীয় রাজ্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রী. স্বাধীনতা লাভের পূর্বে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৪৮ শতাংশের মতো অংশ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। ইংরেজদের প্রত্যক্ষ শাসনের বাইরে রাজারাই এগুলি শাসন করতেন। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০১টি রাজ্য ছিল। এগুলির লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ কোটির মতো। স্বায়ত্তশাসিত এই রাজ্যগুলি দেশীয় রাজ্য নামে পরিচিত।
5. নরেন্দ্র মন্ডল কি?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রী. ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ পাস হয়। এতে দেশীয় রাজ্যগুলিকে তাদের স্বাধীনতা রক্ষার অধিকার ইচ্ছাধীন করা হয়। এরই ফলস্বরূপ তিনটি দেশীয় রাজ্যের রাজা নিজেদের স্বাতন্ত্র রক্ষার জন্য উদ্যোগী হন। ভূপালের রাজার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘নরেন্দ্র মন্ডল’ নামে একটি সংগঠন। হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, ভূপাল, ত্রিপুরা, মনিপুর, ময়ূরভঞ্জ প্রভৃতি ছিল এর সদস্য।
6. রাজাকার কাদের বলা হয়?
উত্তর: রাজাকার হলো স্বাধীন দেশীয়রাজ্য হায়দ্রাবাদের এক উগ্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাহিনী হায়দরাবাদের শাসক ওসমান আলী খান ও সম্প্রদায়িক নেতা কাশিম রেজভির নেতৃত্বে এই দাঙ্গাবাহিনী গড়ে ওঠে। এই বাহিনী হায়দ্রাবাদের অভ্যন্তরে ও ভারত সীমান্ত অঞ্চলের হিন্দুদের উপর চরম নির্যাতন শুরু করে। হায়দ্রাবাদকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির জন্য জনমত গঠন করায় ছিল এই দলের লক্ষ্য। অতঃপর হাজার হাজার মানুষ ভারত সীমান্তের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করে।
7. কাকে, কেন ‘ভারতের বিসমার্ক’ ও ‘ভারতের লৌহমানব’ বলা হয়?
উত্তর: স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে ‘ভারতের লৌহমানব’ ও ‘ভারতের বিসমার্ক’ বলা হয়। কারণ–
(a) তিনি দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত ডোমিনিয়নের সাথে যুক্ত করার জন্য লৌহের ন্যায় কঠিন ও দীর্ঘ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিসমার্কের মতো একদিকে কূটনীতি ও অপরদিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সেগুলিকে ভারতভুক্ত করেন
(b) তিনি স্বরাষ্ট্র সচিব ভি.পি. মেনন ও বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সহায়তায় ভারত ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বা পাকিস্তানে যোগদানে ইচ্ছুক দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতভুক্ত করে ভারতের ঐক্য স্থাপন করেন।
8. শর্ত সংবলিত চুক্তি বা সংযুক্তি দলিল বা ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাকশন কি? দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি দলিল বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রী. আগস্ট মাসের লর্ড মাউন্ট ব্যাটিং এর পরামর্শে ভারতের লৌহ মানব সরদার বল্লভ ভাই দেশীয় রাজ্যগুলোর সাথে একটি যুক্তিপত্র তৈরি করেন এটি শর্ত সংবলিত চুক্তি বা সংযুক্তি দলিল বা ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাকশন নামে পরিচিত।
দেশীয় রাজারা ভাতা খেতাব ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে নিজ নিজ রাজ্যকে ভারতভুক্ত করতে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে কয়েকটি দেশীয় রাজ্য ছাড়া অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য ভারতভুক্ত হয়।
9. অপারেশন পোলো কি?
উত্তর: ১৯৪৮ খ্রী. ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নির্দেশে জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় বাহিনী হায়দ্রাবাদে প্রবেশ করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর এই দেশীয় রাজ্যটি দখল করে। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর কাছে হায়দ্রাবাদের শাসক ওসমান আলী খান আত্মসমর্পণ করেন। এটা ইতিহাসে অপারেশন পোলো নামে পরিচিত।
10. অপারেশন বিজয় কি?
উত্তর: দেশীয় রাজ্য গোয়া ছিল পর্তুগিজদের অধীনে একটি রাজ্য। গোয়াকে ভারতভুক্ত করার জন্য ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরী ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ১৭-১৯ ডিসেম্বর এক অভিযান শুরু করেন। এই অভিযানকে অপারেশন বিজয় বলে। এর মাধ্যমে গোয়া ভারতভুক্ত হয় এবং ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ আগস্ট গোয়া ভারতের ২৫ তম রাজ্য রূপে স্বীকৃতি লাভ করে।
11. আজাদ কাশ্মীর কি? অথবা কোথায় কবে আজাদ কাশ্মীর সরকার গড়ে ওঠে?
উত্তর: মহারাজ হরি সিং কাশ্মীরকে একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাজ্য রূপে ধরে রাখতে চাইলেও পাক মদতপুষ্ট হানাদার বাহিনী কাশ্মীরে ঢুকে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। কাশ্মীরের রাজার সামরিক সাহায্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে ভারতীয় বাহিনী পাক-হানাদারদের হটিয়ে কাশ্মীরের 2/3 অংশ উদ্ধার করে জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপে ১৩ ডিসেম্বর 1948 খ্রিস্টাব্দে এখানে যুদ্ধ বিরোধী ঘটলেও কাশ্মীরের কিছুটা অংশ পাকিস্তানের অধিনে চলে যায়।
এখানে হরি সিং-এর শাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর সরকার গঠন করেন।
12. উদ্বাস্তু বা বাস্তুহারা বা রিফিউজি কাদের বলা হয়? | ভারত বিভাজনের সময় শরণার্থী কাদের বলা হত?
উত্তর: বহু প্রজন্ম ধরে কোন ভূখণ্ডে বসবাসকারী কোন জনগোষ্ঠী বা তার অংশ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যুদ্ধ, বিগ্রহ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় ইত্যাদি কারণে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ ত্যাগ করে ছিন্নমূল হয়ে অন্যত্র গিয়ে নতুন বাসভূমি গড়ে তোলে, তখন তাদের উদ্বাস্তু বা বাস্তুহারা বা রিফিউজি বা শরণার্থী বলে।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশভাগের পর যারা সাম্প্রদায়িক কারণে মাতৃভূমি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে, সেই সমস্ত ছিন্নমূল মানুষদেরকে উদ্বাস্তু বা বাস্তুহারা বলা হয়। নিরাপত্তা ও আর্থিক দিক থেকে এসব মানুষ চরম সংকটে সম্মুখীন হয়।
13. বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম গণপরিযান বা প্রচরন বা অভিপ্রয়াণ সম্পর্কে কি জানা যায়?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে অখণ্ড ভারত দ্বিখন্ডিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটলে, স্যার সিরিল র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে পাঞ্জাব ও বঙ্গপ্রদেশ বিভাজিত হলে সমগ্র দেশ জুড়ে শুরু হয় ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। জীবন রক্ষার তাগিদে আতঙ্কিত প্রায় এক কোটি মানুষ নিজেদের পছন্দমতো ভারত ও পাকিস্তানে আশ্রয় গ্রহণ করে। বিশ্ব ইতিহাসে এটি বৃহত্তম গণপরিযান বা অভিপ্রয়াণ বা প্রচলন নামে পরিচিত।
14. উদ্বাস্তু সমস্যা কি? বা ভারতে উদ্বাস্ত সমস্যা কিভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: স্বাধীন ভারতের বিভিন্ন সমস্যা গুলির মধ্যে উদ্বাস্তু সমস্যা ছিল সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য দেশভাগের ফলে পশ্চিমপা পাঞ্জাব ও পূর্ববঙ্গ থেকে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু শিখ ও হিন্দু উদ্বাস্তু রূপে ভারতে প্রবেশ করে, তাদের বাসস্থান ও খাদ্য সমস্যার সমাধান ভারত সরকারকে এক কঠিন সমস্যার সম্মুখীন করে এরপর সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি তো শুরু হয় ব্যাপক দাঙ্গা অবশ্য ভারত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়।
15. ভারতীয় স্বাধীনতা আইনে কি বলা হয়েছে?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ৫ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস হয় এবং ১৮ জুলাই আইনটি রাজকীয় সম্মতি লাভ করে। এই আইনে বলা হয়েছে– (a) ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হবে (b) ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত দেশীয় রাজ্যগুলি নিজেদের ইচ্ছানুসারে ভারত বা পাকিস্তানে যোগদানের অথবা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার অধিকার পায়।
16. পুনর্বাসনের যুগ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশ ভাগ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের প্রচুর সংখ্যালঘু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারতের স্বাধীনতার পর ৫ বছর ভারত সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। ওই জন্য ১৯৪৭ খ্রী. থেকে ১৯৫২ খ্রী. পর্যন্ত সময়কালকে পুনর্বাসনের যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
17. স্মৃতিকথা কিভাবে উদ্বাস্তু সমস্যার ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: উদ্বাস্তু সমস্যা ও তার প্রভাব নিয়ে নানা তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আকর ওই সময়ের স্মৃতিকথা গুলি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ কিভাবে প্রভাবিত হয়েছিল সেই ইতিহাস জানার উপাদান হিসেবে স্মৃতিকথা ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহারের সময় ওই লেখার নৈব্যক্তিক বিচার বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন। যেমন– হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উদ্বাস্তু‘।
18. দিল্লি চুক্তি বা নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি কি? এর শর্তগুলি কি কি?
উত্তর: ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যার স্রোত কমানোর জন্য ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত খানের মধ্যে যে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তিতে ঠিক হয় যে–
(a) সংখ্যালঘু শ্রেণী নিজস্ব রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকবে এবং রাষ্ট্রের কাছে যেকোনো সমস্যার প্রতিকার চাইবে
(b) পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে কেউ অন্য দেশের শরনার্থী হতে চাইলে সে সাহায্য পাবে
(c) ভারত ও পাকিস্তান উদ্বাস্তু সমস্যার কারণ ও সংখ্যা নির্ধারণের জন্য অনুসন্ধান কমিটির ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করবে।
19. জে.ভি.পি কমিটি কি?
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনে দাবিতে দক্ষিণের বিভিন্ন প্রদেশের অধিবাসীরা আন্দোলন শুরু করলে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে জে.ভি.পি কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন জহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই প্যাটেল, পট্টভি সীতারামাইয়া। এই কমিটি ১ এপ্রিল ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে তার প্রতিবেদনে ভারতের জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে ও প্রাদেশিক ক্ষেত্রে জটিলতাকে প্রতিহত করতে জানায় যে, ভাষায় ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
20. পট্টি শ্রীরামালু কে ছিলেন?
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের গান্ধীবাদী নেতা ও বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী পট্টি শ্রীরামালু ১৯ অক্টোবর ১৯৫২ খ্রী. মাদ্রাজ প্রদেশের তেলেগু ভাষাভিত্তিক অঞ্চল নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। ৫৮ দিন অনশনের পর তার মৃত্যু হয় এবং তার মৃত্যুর পর অন্ধ্রপ্রদেশ তিন দিন ধরে পৃথক অন্ধপ্রদেশের দাবিতে দাঙ্গা, বিক্ষোভ প্রদর্শন, হরতাল পালিত হয়। তিনি পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ এর উদগাতা নামে পরিচিত।
21. পেপসু কি?
উত্তর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের সময় সংহতি সমস্যার সমাধান করতে ছোট দেশীয় রাজ্যগুলিকে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট রাজ্যগুলিকে এক একটি সংঘের অন্তর্ভুক্ত করেন। পাতিয়ালা ও পূর্ব পাঞ্জাব রাষ্ট্রসংঘকে নিয়ে গড়ে তোলেন পেপসু।
দশম শ্রেণির ইতিহাস অষ্টম অধ্যায়
4 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
Madhyamik History 8th Chapter
Question Answer
1. হায়দ্রাবাদের ভারতভুক্তি কিভাবে হয়েছিল তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। ০৪
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালে ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারত ভুক্তিকরণ সমস্যা। এক্ষেত্রে প্রধানতম সমস্যা ছিল হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীর সমস্যা।
■ হায়দ্রাবাদ :– হায়দ্রাবাদের নিজাম ওসমান আলী খান মুসলমান হলেও সেখানকার জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল হিন্দু। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা ভারতের যোগদানের পক্ষপাতী হলেও নিজাম হায়দ্রাবাদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখতে সচেষ্ট হন, পাশাপাশি ভারত বিরোধী কাজকর্মের সূচনা করেন। তিনি কাশিম রেজভি নামক একজন উগ্র সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির প্রভাবে উগ্র সম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাহিনী রাজাকার গড়ে তোলেন। এই বাহিনী হায়দ্রাবাদের অভ্যন্তরে হিন্দু জনসাধারণের উপর অত্যাচার করত।
■ হায়দ্রাবাদের ভারত ভুক্তি :– ৪২০০০ বর্গমাইল এলাকা বিশিষ্ট হায়দ্রাবাদ ছিল সর্ববৃহৎ দেশীয় রাজ্য। সেখানকার ৮৫ % হিন্দু প্রজা ভারতে যোগদানের পক্ষপাতী হলেও মুসলিম শাসক নিজাম স্বাধীন থাকার পক্ষপাতী ছিলেন।
১) জনগণের বিদ্রোহ :– এই সময় হায়দ্রাবাদে কমবেশি কমিউনিস্ট আন্দোলন শুরু হয়। কংগ্রেসের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিকরণের দাবিতে বিদ্রোহ এবং কমিউনিস্ট প্রভাবে তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ হায়দ্রাবাদের পরিস্থিতি বদলে দেয়।
২) সেনা অভিযান :– এরপর ভারতের প্রস্তাবে রাজাকার বাহিনী ভেঙে দেওয়া সহ কিছু দাবি অগ্রাহ্য করলে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ১৩ সেপ্টেম্বর জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে সেনা অভিযান হয়।
৩) ভারত ভুক্তি :– ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ২৬ শে জানুয়ারি হায়দ্রাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে যোগ দেয়।
উপসংহার :– হায়দ্রাবাদ রাজ্যের অধিগ্রহণে ভারতের দৃঢ় পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছিল। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকায় সর্ববৃহৎ রাজ্যটি ভারতের অন্তর্গত হয়।
2. উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: দেশভাগের সময় থেকে দেশভাগের পর লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু বা শরণার্থী ভারতে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর আগমন কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার গুলিকে এক ভয়ঙ্কর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়। সরকার এই উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেগুলি হল–
■ দিল্লি চুক্তি :– উদ্বাস্তু সংখ্যা কমাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত খানের মধ্যে ১৯৫০ সালে নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি বা দিল্লি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে বলা হয় যে–
(i) উভয় রাষ্ট্রের সরকার উদ্বাস্তু স্রোত হ্রাসে যত্নবান হবে,
(ii) উদবাস্তুদের সম্পত্তি ও জমি বিনিময়ে সাহায্য করবে উভয় সরকার,
(iii) উভয় রাষ্ট্র উদ্বাস্তু সংকটের কারণ জানার জন্য অনুসন্ধান কমিটি ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করবে।
■ আশ্রয় শিবির :– পাকিস্তান থেকে আশা উদ্বাস্তুরা রেলস্টেশন ও ফাঁকা জায়গায় থাকা শুরু করে। সরকার তাদের জন্য অস্থায়ী শিবির তৈরি করেন। তাদের খাদ্য, পানীয় জল ও ঔষধপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। শিলিগুড়িতে নাম নথিভুক্ত করে ভারতীয় নাগরিকত্ব দান ও সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়।
■ পুনর্বাসন নীতি :– ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে উদ্যোগী হন। তাই স্বাধীনতার পরের পাঁচ বছর পুনর্বাসনের যুগ নামে পরিচিত। এই সময় উদ্বাস্তুদের বিভিন্ন স্থানে গৃহ নির্মাণ, কৃষি ঋণদান, কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠায় সাহায্য দান, সামাজিক সুরক্ষা দান ও আর্থিক সহায়তা দানের ব্যবস্থা করা হয়।
■ ত্রুটি :– কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবাংলার বাঙালির উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে ততটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে পাঞ্জাবের উদ্বাস্তু সমস্যার দ্রুত সমাধান ঘটলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এই প্রতিবাদে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও ক্ষিতীশ চন্দ্র নিয়োগী জহরলাল নেহেরুর মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেন।
উপসংহার :– সদ্য স্বাধীন ভারতের কাছে উদ্বাস্তু সমস্যা বিরাট চাপ সৃষ্টি করে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে ভারত সরকারের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে আর্থিক সংকটের সমাধানে সরকারের পদক্ষেপকে অস্বীকার করা যায় না। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে উদ্বাস্তু সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান হয়নি।
3. ভাষার ভিত্তিতে কিভাবে বিভিন্ন রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল?
অথবা, ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন সম্পর্কে লেখো। ০৪
উত্তর: সর্দার বল্লবভাই প্যাটেলের প্রচেষ্টায় দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতভুক্তিকরনের মাধ্যমে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামো সুদৃঢ় হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সৃষ্টি করে। রাজ্যগুলির সীমানা উপজাতিভিত্তি হবে, না ভাষাভিত্তিক হবে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
১) দর কমিশন নিয়োগ :– ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি জোরদার হলে ভারত সরকার এস.কে. দরের নেতৃত্বে দর কমিশন গঠন করে। তবে দর কমিশন তার রিপোর্টে ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরুদ্ধে মত দেয়।
২) JVP কমিটি গঠন :– দর কমিশনের রিপোর্ট পেশের ৮ দিন পর জহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই প্যাটেল ও পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়, একে JVP কমিটি বলা হয়। এই কমিটির রিপোর্টেও ভাষা ভিত্তিক প্রদেশ গঠনের বিরোধিতা করা হয়। তবে বলা হয় যেখানে জনগণের প্রবল চাপ থাকবে সেখানে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন করা যেতে পারে।
৩) পট্টি শ্রীরামালুর অনশনে মৃত্যু :– মাদ্রাজ প্রদেশে তেলেগু ভাষা অঞ্চলের দাবিতে পট্টি শ্রীরামালু ৫৮ দিন অনশন করে মৃত্যুবরণ করলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে সরকার তেলেগু ভাষাভাষীদের একত্রিত করে পৃথক অন্ধপ্রদেশ গঠন করেন। এতে অন্যান্য প্রদেশেও ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি আরো জোরদার হয়।
৪) রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন :– স্বাধীন ভারতের সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করেন। এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়।
৫) ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠন :– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর ভারত সরকার ভাষার ভিত্তিতে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করে। এই আইনের ভিত্তিতে (i) হায়দ্রাবাদ থেকে তেলেঙ্গানাকে বিচ্ছিন্ন করে অন্ধ্রপ্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, (ii) কন্নড়ভাসী অঞ্চলগুলিকে মহীশুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, (iii) মালাবার, ত্রিবাঙ্কুর ও কোচিনকে যুক্ত করে কেরালা গঠন করা হয়, (iv) সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ ও হায়দ্রাবাদের মারাঠিবাসী অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত হয় বোম্বাই প্রদেশ, (v) বিহারের পূর্ণিয়া জেলার কিছু অংশ ও পুরুলিয়াকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
উপসংহার :– ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠনের পদক্ষেপ বেশ কিছু সমস্যা সৃষ্টি করলেও, ভারতের জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকারক মনে হলেও এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের ফলে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য সুদৃঢ় হয় এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জাতীয় সংহতি শক্তিশালী হয়।
4. জুনাগড় কীভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়? ০৪
উত্তর: ভারতের সৌরাষ্ট্র উপকূলে একটি ছোটো দেশীয় রাজ্য ছিল জুনাগড়। রাজ্যটির ৮০ % জনগণ হিন্দু হলেও রাজ্যের শাসক ছিলেন মুসলমান। এর সংখ্যাগরিষ্ট প্রজা ভারতে যোগদান করতে চাইলেও মুসলমান শাসক পাকিস্তানে যোগ দিতে চাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
■ নবাবের সীদ্ধান্ত :– জুনাগড়ের নবাবের ছিলেন দেওয়ান ছিলেন স্যার শাহনওয়াজ ভুট্টো। তিনি মুসলিম লিগের উগ্র সমর্থক ছিলেন। তার প্রভাবে নবান মুসলিম লিগের পক্ষ নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট নবাব পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্তের পরিপেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
■ প্রজা বিদ্রোহ :– নবাবের পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই জুনাগড়ের অমুসলমান প্রজারা ব্যাপকভাবে গনবিদ্রোহ শুরু করে। কাথিয়াবারের যে সকল রাজ্য ইতিমধ্যেই ভারতে যোগদান করেছে তারাও এব্যাপারে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে।
■ ভারতের নেতৃত্ববৃন্দের সিদ্ধান্ত :– জুনাগড়ের প্রজাদের আন্দোলনের ভিত্তিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেন। স্থির হয় গণভোটের মাধ্যমে জুনাগড়ের সমস্যার সমাধান হবে। এই মতো অবস্থায় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ১৫ ই আগস্ট জুনাগড়ের নবাব তৃতীয় মহাম্মদ মহাতাব পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে ভারত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।
■ সেনা অভিযান :– সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী জুনাগড়ে প্রবেশ করে প্রবল গনবিক্ষোভের মুখে পড়ে। জুনাগড়ের নবাব সপরিবারে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়। দেওয়ান শাহনওয়াজ ভুট্টো পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেন। তিনি পাকিস্তানের সাহায্য প্রার্থনা করেন কিন্তু আন্তর্জাতিক কারণে পাকিস্তানের সাহায্য পাঠানো সম্ভব ছিল না। ফলে জুনাগড়ের পরাজয় ঘটে।
■ গণভোট গ্রহণ ও জুনাগড়ের সংযুক্তি :– ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ২০ ফেব্রুয়ারি জুনাগড়ে গণভোট গৃহীত হয়। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না এর ফলে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে জুনাগর ভারতভুক্ত হয়।
5. দেশীয় রাজ্যগুলি ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা কি ছিল?
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার লাভের আগে থেকেই কংগ্রেস নেতা জহরলাল নেহেরু এবং মহাত্মা গান্ধী ইঙ্গিত দেন যে স্বাধীনতা লাভের পর ভারতের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত কোনো দেশীয় রাজ্যের স্বাধীন অস্তিত্ব ভারত সরকার মেনে নেবে না। স্বাধীনতা লাভের পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতভুক্ত করার উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ও অনমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এব্যাপারে। একারণে তাকে ভারতের ‘লৌহমানব’ বা ‘বিসমার্ক’ বলা হয়।
১) দেশীয় রাজ্য দপ্তরের ভূমিকা :– ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে জুলাই মাসে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে দেশীয় রাজ্য দপ্তর গঠিত হয়। অতঃপর তিনি সচিব ভি.পি. মেনন, ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেনের সহযোগিতায় দেশীয় রাজ্যগুলি অধিগ্রহণে উদ্যোগী হন।
২) প্যাটেলের পদক্ষেপ :– দেশীয় রাজ্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি কতকগুলি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন –
(i) সুযোগ সুবিধা খেতাব, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাগুলি লাভের প্রলোভন দান, (ii) কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি, (iii) প্রজা বিদ্রোহের ভিত্তি,
(iv) সামরিক অভিযানের পদক্ষেপ গ্রহণ করে তৈরি করেন ভারতভুক্তি সংক্রান্ত দলিল।
৩) সামরিক অভিযান :– সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কোনো কোনো দেশীয় রাজ্যকে সামরিক অভিযানের কথা বলে ভারতে যোগদানে বাধ্য করে। যেমন- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে জুনাগড়, ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে অক্টোবর মাসে কাশ্মীর এবং ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
মূল্যায়ন :— দেশীয় রাজ্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে যে স্বাধীন ভারত গড়ে ওঠে তাতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অনমনীয় মনোভাব, প্রখর কুনৈতিক বুদ্ধি, সামরিক অভিযান প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার কঠোর রক্ত-লৌহ নীতির চাপেই বহু রাজ্য ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
6. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩ খ্রি.) সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর: স্বাধীন ভারতে কোন্ নীতি অনুসারে অঙ্গরাজ্যগুলির সীমানা চিহ্নিত করা উচিত সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ (SRC) গঠন করেন।
■ সদস্যবৃন্দ :– তিনজন সদস্য নিয়ে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের সভাপতি ছিলেন বিচারপতি ফজল আলি। কমিশনের অপর দুজন সদস্য ছিলেন কে এম পানিক্কর ও হৃদয়নাথ কুঞ্জরু।
■ কমিশনের সুপারিশ :– রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তার প্রতিবেদন পেশ করে। এই প্রতিবেদনে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়।
■ রাজ্য পুনর্গঠন আইন প্রয়োগ :– রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ভারতীয় আইনসভায় ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ‘রাজ্য পুনর্গঠন আইন’ পাস হয়। এই আইন অনুসারে ওই বছর ১ নভেম্বর ভাষাভিত্তিক ১৪টি রাজ্য এবং ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয়।
■ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল :– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে ১৪টি ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠিত হয়। সেগুলি হল অন্ধ্রপ্রদেশ, আসাম, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা, জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, বিহার বোেম্বাই, মধ্যপ্রদেশ, মহীশূর, মাদ্রাজ ও রাজস্থান এবং যে ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয় সেগুলি হল ত্রিপুরা, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দিল্লি, লাক্ষাদ্বীপ, মণিপুর ও হিমাচল প্রদেশ।
উপসংহার :– রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশে কেন্দ্রীয় সরকার ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠন শুরু করলে দক্ষিণ ভারতে ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠনের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনগুলি থেমে যায়। ফলে ভারতের ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় হয়।
আজকের পোস্টে দশম শ্রেণী ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় ‘উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭-১৯৬৪)’ থেকে ১/২/৪ মার্কস প্রশ্ন শেয়ার করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়তা করবে ।
SOURCE-EDT

©kamaleshforeducation.in(2023)

