Expenditure Control Act, 2005 (এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট 2005, বা 2005 সালের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ আইন)। শিক্ষা ও শিক্ষক বিরোধী এই আইনের সংশোধন করা উচিত। এই আইনে স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ব্যাপক বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে স্কুলের আপগ্রেডেশন, নিয়োগ, শিক্ষকদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ, উচ্চ বেতনক্রম বা বিশেষ আর্থিক সুবিধা লাভ, এগুলি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এই আইনের দ্বারা। শিক্ষক শিক্ষিকারা পড়াশোনা করে নিজেদের আপডেট করবেন। শিক্ষার স্বার্থে এটাই তো কাম্য হওয়া উচিত। শিক্ষকের উন্নত শিক্ষা মানে তাঁর দ্বারা উন্নত শিক্ষাদান। স্কুল শিক্ষার সামগ্রিক মান বৃদ্ধি। এই কাজে শিক্ষককে উৎসাহ দিতে হবে। উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করলে উচ্চতর আর্থিক সুবিধা পাওয়া উচিত একজন শিক্ষকের। পদোন্নতি হওয়া দরকার। শিক্ষকরা পড়াশোনা করবে না তো কে করবে?
কিন্তু দুঃখের বিষয় এই কালা আইন বাড়তি আর্থিক সুবিধা তো দূর শিক্ষকের উচ্চশিক্ষার অধিকারকেই কেড়ে নিতে চায়। যাতে উচ্চশিক্ষার পরে শিক্ষক বাড়তি আর্থিক সুবিধা দাবি করতে না পারেন। কিন্তু একটা আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন একটা পরিকল্পনা চলে কি ? আসুন দেখি এই আইনটাকে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া অর্ডারগুলিকে। এই আইনের সবগুলি ধারা নিয়ে আলোচনা করলে আলোচনাটা দীর্ঘ হয়ে যাবে। তাই এই আইনের দ্বারা শিক্ষকদের পেশাগত সুবিধাগুলো কীভাবে সংকুচিত হয়েছিল আজকের আলোচনা সেটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হল।
——————————————————————————————
১) প্রশ্ন — কোন নোটিফিকেশন দ্বারা এই আইন জারি হয় ?
উত্তর – No – 2053 – L , dated – 19/08/2005 । এই অ্যাক্টের পুরো নাম West Bengal Schools ( Control of Expenditure) Act , 2005।
2) প্রশ্ন – এই আইন অনুযায়ী স্কুলের অ্যাডিশনাল পোস্ট কী ভাবে Sanctioned হতে পারে ?
উত্তর – একমাত্র বাজেটে অনুমোদন (Budget Appropriation) থাকলে তবেই রাজ্য সরকারের নির্দেশে DSE এই পোস্ট sanction করবে। স্কুলে অতিরিক্ত ছাত্র সংখ্যার কারনে অ্যাডিশনাল Post Sanction করার পদ্ধতিটিকে জটিল করা হলো। তার ফলে নতুন পোস্ট ক্রিয়েট হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেল।
৩) প্রশ্ন – কোনও স্কুল এর স্টুডেন্ট সংখ্যা অত্যন্ত কমে গেলে বা স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশ অগ্রাহ্য করলে কী ব্যবস্থা সরকার নিতে পারে ?
উত্তর — সেই ক্ষেত্রে সরকার এই ব্যবস্থাগুলো নিতে পারেন —
i) সেই স্কুলকে Derecognise করতে বোর্ডকে নির্দেশ দিতে পারে।
ii) কোনও টিচিং পোস্ট বিলুপ্ত করতে পারেন
iii) বিলুপ্ত পোস্টের টিচারকে অন্য জায়গায় শিফট করতে পারে,
iv) অন্য যে কোনো Action নেওয়া হতে পারে।
অর্থাৎ নতুন টিচিং পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে যতটা অনীহা দেখানো হলো তার বিপরীতে Sanctioned Post তুলে দেওয়া বা স্কুলটাকেই তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই উৎসাহ দেখানো হলো এই আইনে।
৪ ) প্রশ্ন – স্কুলের স্টাফদের উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে বা উচ্চতর পে স্কেল পাওয়ার ক্ষেত্রে বা বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই অ্যাক্ট কীভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ?
উত্তর – টিচারদের উচ্চতর শিক্ষা বা উচ্চতর বেতনক্রম বা বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই অ্যাক্ট নিম্নলিখিত বিভিন্ন কঠিন শর্তাবলী আরোপ করেছে —
i) এই অ্যাক্ট পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছে যে একজন গ্র্যাজুয়েট স্কেলের টিচার কখনও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পর উচ্চতর বেতনক্রম বা অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট পাবেন না।এই কথাটা দিয়েই গ্র্যাজুয়েট স্কেলের টিচারদের নতুন করে নিয়োগের পরীক্ষা না দিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের পর Higher Scale পাওয়ার সম্ভাবনা চিরতরে শেষ করে দেয়।
খ) এই অ্যাক্ট এটাও বলল যে একজন পি জি স্কেলের টিচার তার পি জি স্কেলের বাইরে কোনো উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পর অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট বা উচ্চতর বেতনক্রম পাবেন না। এই কথাটার দ্বারাই পি জি স্কেলের টিচারদের এমফিল বা পি এইচ ডি করার পর অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ করে দিল।
গ) একমাত্র অনার্স স্কেলের টিচাররা পি জি স্কেল পেতে পারেন যদি পরবর্তী সময়ে জারি হওয়া Rules দ্বারা সমর্থিত পথে একজন অনার্স স্কেলের টিচার পি জি ডিগ্রি লাভ করেন। এটাই একমাত্র জায়গা যেখানে আবার পরীক্ষা না দিয়ে Higher Scale পাওয়ার সুযোগ থাকছে। তাও অনার্স গ্র্যাজুয়েট টিচারদের পি জি পাওয়া সহজ হয় না। এই অ্যাক্টের বাহানা দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের উচ্চতর বেতনক্রমের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন ডি আই রা। তখন উকিলকে টাকা দিয়ে দিনের দিনের পর অনেক যন্ত্রণা সহ্য করে কোর্ট কেসের মাধ্যমে বেতন আদায় করেছেন অনেক অনার্স গ্র্যাজুয়েট টিচার। অনেকে তাতেও পাননি।
৫) প্রশ্ন – এই আইন অমান্য করলে কী শাস্তি হতে পারে?
উত্তর – যদি কোনো কর্তৃপক্ষ এই আইনের 4 ও 5 ধারা অমান্য করে সরকারের বিনা অনুমতিতে কোনও পোস্ট তৈরি করেন, স্টাফ নিয়োগ করেন বা পে রিভাইজ করেন তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে ফাইন বা দুই বছরের জেল বা দুটোই হতে পারে। এই কথা শোনার পর কোন আধিকারিক রিস্ক নেবেন শিক্ষক শিক্ষিকাদের কোনো আর্থিক সুবিধা দানে সম্মতি দিতে ? তাই তাঁরা যেটা করেন টিচারদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর তো করেন না বটেই এমনকি প্রাপ্য সুবিধা দিতেও কার্পণ্য করেন। অনেক আধিকারিক বলেই দেন প্রয়োজনে Applicant কেস করুক। তাতে জিতলে সেই সুবিধা তিনি পাবেন। অর্থাৎ নিজের ঘাড়ে যাতে দোষ না আসে তাই আধিকারিকরা সাধারণ শিক্ষক শিক্ষিকাদের অহেতুক মামলার মধ্যে জড়াতে বাধ্য করেন। আল্টিমেটলি মামলা করতে গিয়ে ধনে প্রাণে মরেন নিরীহ শিক্ষক।
৬) প্রশ্ন – এই অ্যাক্টের অধীনে কি কোনও Rules বা সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে ?
উত্তর — হ্যাঁ রাজ্য শিক্ষা দফতর এই অ্যাক্টের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করেছিল G O No – 1595 – SE, তারিখ – 26/12/2005, 37 SE, তারিখ – 05/01/2012, 593 SE, 27/11/2007, ইত্যাদি।
৭) প্রশ্ন – এই অ্যাক্টের পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর নোটিফিকেশন (মেমো নং – 1595 – SE, তারিখ – 26/12/2005 ) এ ঠিক কী বলা হয়েছে ?
উত্তর – পূর্বের এই সংক্রান্ত সমস্ত অর্ডার কে Suppress করে এই নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে যে কেবলমাত্র একজন অনার্স ডিগ্রিধারী ও অনার্স স্কেলের টিচার নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করলে তবেই পি জি স্কেল পেতে পারেন —
ক) যদি তিনি তাঁর জয়েনিং এর আগেই Relevant Subject এ পি জি ডিগ্রি প্রাপ্ত করে থাকেন তাহলে তিনি জয়েনিং এর দিন থেকে পি জি স্কেল পাবেন।
খ) যদি তিনি জয়েনিং এর আগেই Relevant Subject এ পি জি পরীক্ষা কমপ্লিট করে থাকেন কিন্তু উক্ত পরীক্ষার রেজাল্ট আউট হয় জয়েনিং এর পরে তাহলে তিনি ঐ রেজাল্ট আউট এর দিন থেকে পি জি স্কেল পাবেন।
গ) যদি তিনি জয়েনিং এর পর Relevant Subject এ Competent Authority এর পারমিশন নিয়ে পি জি ডিগ্রি অর্জন করেন তাহলে তিনি ওই পরীক্ষার শেষের দিনের পর দিন থেকে পি জি স্কেল পেতে পারেন।
লক্ষ্যণীয় ব্যাপারটা সংকুচিত হয়ে গেল শুধুমাত্র অনার্স স্কেলের টিচারদের জন্য। পাস গ্র্যাজুয়েট স্কেলের টিচাররা হিসাবের বাইরে চলে গেলেন।
৮) প্রশ্ন – টিচারদের উচ্চতর শিক্ষা এবং উচ্চতর পে স্কেল বা আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তি সংক্রান্ত ব্যাপারে এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট এর পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য এবং বর্তমানে কার্যকরী এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর অর্ডার কোনটি ? কী আছে তাতে ?
উত্তর – এই অর্ডারটা জারি করে স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট যার মেমো নং – 593 SE, তারিখ – 27/11/2007। এই অর্ডারটা আগের এই সংক্রান্ত ব্যাপারে জারি হওয়া সমস্ত অর্ডারকে সরিয়ে দেয় এবং উপরে উল্লেখিত অর্ডারটিকেও (1595 SE ) মডিফাই করে বলে যে —
ক) সমস্ত টিচারদের যে কোনও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার উদ্দেশ্যে যে কোনও পড়াশোনার জন্য ভর্তি হতে হলে বা কোনও পরীক্ষায় বসতে হলে MC/ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের পারমিশন নিতে হবে একটা রেজোলিউশনের মাধ্যমে।
খ) যদি উক্ত পড়াশোনা বা পরীক্ষার জন্য যদি স্টাডি লিভ লাগে তাহলে সেই আবেদন এমসির মাধ্যমে বোর্ডে পাঠাতে হবে। এই ছুটি দেওয়ার একমাত্র অথরিটি হলো বোর্ড।
গ) যদি এই ডিগ্রি অর্জনের পর এটা দেখিয়ে Higher Scale বা অ্যাডিশনাল ইনক্রিমেন্ট পেতে হয় তাহলে এমসির পারমিশন এর সঙ্গে সঙ্গে ডি আই এর Prior Permission ও নিতে হবে এমসির মাধ্যমে।
ঘ) তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো গ্র্যাজুয়েট স্কেলের টিচারকে Higher Scale বা অ্যাডিশনাল ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে উচ্চতর পড়াশোনা করার পারমিশন দেওয়ার জন্য ডি আই এর কাছে রেকমেন্ড করতে পারবেন না। এটা করলে উক্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হবেন । কোনও ডি আই যদি এরকম পারমিশন দেন তিনিও আইন ভঙ্গের অপরাধে অপরাধী হবেন।
বিঃ দ্রঃ – অর্ডারের এই পার্টটা ভীষণ tricky করে লিখেছে। এমন ভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে যাতে আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে যেন গ্র্যাজুয়েট স্কেলের টিচারদের কোনো পড়াশোনা করার অনুমতিই দেওয়া যাবে না। দিলে আইনভঙ্গের দায়ে শাস্তির মুখে পড়বেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আসলে যেটা বলেছে সেটা হলো কোনো বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে উচ্চশিক্ষার পারমিশন দিয়ে ডি আই এর কাছে পাঠানো যাবে না। কিন্তু শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জন করার জন্য কেউ পড়াশোনা করতে চাইলে তাকে অনুমতি দিতে বাধা আছে এমন তো মনে হচ্ছে না অর্ডারটা পড়লে। কিন্তু সরকারি নির্দেশে হেঁয়ালি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। অনেক জায়গাতেই এই অর্ডার দেখিয়ে MC এই অনুমতি দেয় না। ভুক্তভোগী হন পাস স্কেলে কর্মরত টিচাররা। এই পারমিশন না নিয়ে পিজি করলে পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষা উচ্চতর স্কেলে জয়েন করতে গিয়ে অথবা HM হিসাবে নিয়োগ পেতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন তাঁরা।
ঙ) উচ্চতর শিক্ষালাভ শুধুমাত্র নিজের Relevant Subject এই করা যাবে। Relevant Subject বলতে সংশ্লিষ্ট ক্যান্ডিডেট আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অনার্স বা পি জি স্তরে যে সাবজেক্ট পড়েছিলেন সেটাকে বোঝাবে।
চ) যে সমস্ত টিচার এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট আসার আগেই উপরোক্ত নিয়ম মেনে Higher Scale এর জন্য আবেদন করেছেন তাঁরাও Higher Scale পেতে পারেন।
ছ) কোনও গ্র্যাজুয়েট স্কেলের টিচার কোনো ভাবেই Higher Scale পাবেন না সে তিনি তাঁর উচ্চতর ডিগ্রিটি এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট আসার আগে বা পরে, যখনই করে থাকুন না কেন।
জ) এরপর থেকে Higher Scale পাওয়ার জন্য উচ্চতর পড়াশোনা করার জন্য কোনও জুনিয়র হাই স্কুলের টিচারকে পারমিশন দেওয়া হবে না। আর 50 বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক কোনও টিচারকেই উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পারমিশন দেওয়া যাবে না।
৯) প্রশ্ন – Phd করলে পূর্বে দুটি অ্যাডিশনাল ইনক্রিমেন্ট পাওয়া যেত। বর্তমানে এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট লাগু হওয়ার পর সেই সুবিধা কি থাকছে ?
উত্তর – এই ব্যাপারে সর্বশেষ অর্ডারটা হলো এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর মেমো নং – 37- SE/ES, তারিখ – 05/01/2012। এই অর্ডারে বলেছে যারা এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট লাগু হওয়ার আগে ( Cut off date – 18/08/2005 ) Phd ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাঁরা সবাই দুটি অ্যাডিশনাল ইনক্রিমেন্ট পেতে পারেন। কিন্তু তারপর উক্ত কাট অফ ডেট এর পর থেকে আর কেউ Phd করার জন্য অতিরিক্ত বেনিফিট পাবেন না।
১০) প্রশ্ন — এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের কোন অর্ডারে শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষালাভের বাধা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল ? সেই অর্ডার কি এখনও কার্যকর আছে ?
উত্তর – এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর মেমো নং – 438 SE, তারিখ – 19/05/2014 অনুসারে টিচারদের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সমস্ত বাধাকে দূর করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাতে খুব সরল ভাবে বলা হয়েছিল কী ভাবে টিচাররা উচ্চ শিক্ষার পারমিশন পাবেন। কিন্তু সেই অর্ডার জারি হওয়ার পর কোনো এক ভুতুড়ে কারনে কিছু দিনের মধ্যেই সেই অর্ডার উইথড্র করে নেয় ডিপার্টমেন্ট। সম্ভবত Higher Scale এর দাবিতে মামলার আশঙ্কায় সেই অর্ডারটিকে আর একটি অর্ডার (মেমো নং – 566 -SE, তারিখ – 08/07/2014) দ্বারা বাতিল (cancelled) করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ টিচারদের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য পারমিসন পাওয়ার সরল অর্ডারটার অল্প কালের মধ্যেই অবলুপ্তি ঘটিয়ে দেওয়া হলো। উপরে আলোচিত 593 SE Dated– 27/11/2007 ই বলবৎ রইলো।
(বিঃ দ্রঃ — উচ্চ শিক্ষা লাভের পারমিশন সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে অন্য পোস্টে আলোচনা হয়েছে। কেউ চাইলে দেখতে পারেন।
১১) প্রশ্ন – এই যে 2005 সালের এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট, এটা কি এই ভাবেই থাকা উচিত ?
উত্তর – না উচিত নয়। এটা কালা কানুন। শিক্ষক শিক্ষিকারা নতুন নতুন শিক্ষা লাভ করবেন, ডিগ্রি অর্জন করবেন, নিজেদের আপগ্রেড করবেন এটাই তো কাম্য। তবেই তো তাঁরা উন্নততর টিচার হয়ে উঠবেন। এই কাজে তাঁদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। কিন্তু উল্টে এটাতে প্রতি পদে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এই আইনের মাধ্যমে। শুধুমাত্র সরকারের কিছু আর্থিক বোঝা বাড়তে পারে এই ভয়ে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। বর্তমানে শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানের নীতি নির্ধারকদের কাছে এই বিষয়টা তুলে ধরতে হবে। এই আইনের কয়েকটি ধারা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া পরবর্তী অর্ডারের বাতিলকরণ বা সংশোধনের দাবিতে।
১২) প্রশ্ন – বর্তমান সরকার অথবা শিক্ষা দফতরের কাছে এই দাবি তুলে ধরার দায়িত্ব কাদের ?
উত্তর – অবশ্যই শিক্ষকদের। অনেক দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্তের সংশোধন বর্তমান নীতি নির্ধারকরা করবেন এই আশা আমরা করতেই পারি।
SOURCE-SMR





