LATEST PRESS RELEASE-03.07.2024

HEADLINES

 

পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে পেনশন ও পেনশনার কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ অভিযানের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং

নতুন তিনটি ফৌজদারী আইনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমাবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের সাংবাদিক সম্মেলন

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৪-এর জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্ব-মনোনয়ন চালু

এনএমএমএসএস-এর আওতায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে (৩০ জুন, ২০২৪-এর পর থেকে) আবেদন জমা দেওয়ার জন্য জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল খুলে গেল

হাথরসের ঘটনায় শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর, এককালীন অর্থসাহায্য ঘোষণা

রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর জবাবী ভাষণ

সংসদে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় রাজ্যসভাতে প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ

মহারাষ্ট্রে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের খবর মেলায় সব রাজ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠালো কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক

‘সম্পূর্ণতা অভিযান’-এর সূচনা করছে নীতি আয়োগ

================================================================================================================================

বিস্তারিত


কর্মী, জন-অভিযোগএবংপেনশনমন্ত্রক

পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে পেনশন ও পেনশনার কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ অভিযানের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং

 

প্রকাশিত: 01 JUL 2024 6:02PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০১ জুলাই, ২০২৪ 

কর্মী, জনঅভিযোগ এবং পেনশন মন্ত্রকের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে পেনশন ও পেনশনার কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ অভিযানের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং। 
পেনশন গ্রহীতারা দেশ গঠনের ক্ষেত্রে সমান অংশীদার বলে ডঃ সিং মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, পেনশন দেওয়ার বিষয়টি অনুগ্রহ নয়, প্রবীণ নাগরিকরা দেশ ও জাতি গঠনে ইতিবাচক অবদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন। 
বিগত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই দপ্তরের উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে শ্রী সিং জানান। তিনি আরও বলেন, ষাটোর্ধ্ব নাগরিকের সংখ্যা যথেষ্ট এবং অবসরভাতা বা পেনশনের বড় আর্থ-সামাজিক প্রভাব রয়েছে। 
তাঁর দপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডঃ সিং বলেন, আগে বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যারা আইনগতভাবে বিবাহ বিচ্ছিন্না বলে চিহ্নিত হওয়ার আগে পারিবারিক পেনশন পেতেন না। এই নিয়ম বদলানো হয়েছে। নিখোঁজ কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবারকে অপেক্ষা করতে হ’ত ৭ বছর। এই ধরনের আরও অনেক বিষয় সংশোধিত হয়েছে। 
এক মাসের এই বিশেষ অভিযানের আওতায় সিপিইএনজিআরএএমএস পোর্টালে জমে থাকা ৪৬টি দপ্তরের মামলার নিষ্পত্তি হবে। 

PG/AC/SB
(রিলিজ আইডি: 2030146)  

==========================================================================================

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

নতুন তিনটি ফৌজদারী আইনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমাবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের সাংবাদিক সম্মেলন

এই আইনগুলি ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করবে

প্রকাশিত: 01 JUL 2024 7:32PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০১ জুলাই, ২০২৪ 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেছেন, নতুন তিনটি ফৌজদারী আইন ন্যায়বিচারকে সুনিশ্চিত করবে। আজ পয়লা জুলাই থেকে এই তিনটি আইন বলবৎ হ’ল। এই উপলক্ষে নতুন দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রী শাহ বলেন, গত চার বছর ধরে নতুন আইনগুলির সবদিক নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বাধীন ভারতে এর আগে কখনও কোনও আইন নিয়ে এভাবে আলোচনা হয়নি। 
নতুন তিনটি ফৌজদারী আইনে মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর জন্য আইনগুলিতে নতুন অধ্যায় সংযোজিত হয়েছে। আইনগুলি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ভারতে অত্যাধুনিক ফৌজদারী বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা হ’ল। এই আইনগুলিতে তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়া এবং আদালতের বিভিন্ন কাজকর্মের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ৫০ বছরে উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন হলেও, আইনগুলি প্রয়োগে কোনও সমস্যা হবে না। 
সংবিধানের অষ্টম তফশিলের স্বীকৃত ৮টি ভাষায় তিনটি আইনেরই অনুবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভাষাগুলিতেও ভবিষ্যতে বিচার প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করা যাবে। নতুন আইনগুলিতে বর্তমান সময়কালের উপযোগী বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরনো আইনগুলিতে যেসব ধারায় জনগণের সমস্যা হ’ত, সেগুলিকে বাতিল করা হয়েছে।
নতুন তিনটি ফৌজদারী আইনে শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে সুবিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন অপরাধের শিকার হওয়া মানুষ যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ন্যায়বিচার পেতে যাতে অনন্তকাল অপেক্ষা করতে না হয়, তার জন্য বিভিন্ন মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর, সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়ালেও তা এই সময়ের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে। নতুন আইনগুলি কার্যকর হওয়ায় বৃটিশ ঔপনিবেশিক কালের রাষ্ট্রদ্রোহের আইন বিলোপ হয়েছে। 
শ্রী শাহ বলেন, অনেকেই নতুন আইনগুলি সম্পর্কে অপপ্রচার করছেন। তাঁরা বলছেন, নতুন আইনের ফলে অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখার মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আসলে অসত্য। নতুন আইনগুলিতে আগের মতোই ১৫ দিন পর্যন্ত হেফাজতে রাখার সংস্থান থাকছে। যেসব অপরাধের শাস্তি সাত বছর বা তার বেশি হয়, সেক্ষেত্রে ফরেন্সিক তদন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে, বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং শাস্তিদানের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছবে। আইন প্রয়োগে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার পুলিশ কর্মীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ১২ হাজার উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্নকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত, ২৩ হাজারেরও বেশি যোগ্যতাসম্পন্নকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর ফলে, পুলিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে গতি আসবে। 
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, লোকসভায় মোট ৯ ঘন্টা ২৯ মিনিট ধরে ৩৪ জন সাংসদ নতুন আইনগুলি নিয়ে বিতর্কে অংশ নেন। রাজ্যসভায় ৬ ঘন্টা ১৭ মিনিট ধরে চলা বিতর্কে ৪০ জন সাংসদ যোগ দেন। সাংসদদের বহিষ্কার করে এই আইন পাশ করা হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। শ্রী শাহ জানান, বহিষ্কৃত সদস্যদেরও সংসদে যোগ দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তাঁরা কেউই সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি।  

PG/CB/SB

(রিলিজ আইডি: 2030468)  

=================================================================================================================================

মানবসম্পদবিকাশমন্ত্রক

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৪-এর জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্ব-মনোনয়ন চালু

প্রকাশিত: 02 JUL 2024 3:51PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২ জুলাই, ২০২৪

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৪-এর জন্য ২৭ জুন থেকে অনলাইনে স্ব-মনোনয়ন চালু করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রকের পোর্টাল http://nationalawardstoteachers.education.gov.inএ এই মনোনয়ন পাঠানো যাবে। ১৫ জুলাই মনোনয়ন পেশের শেষদিন। এ বছর জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় – এই তিনটি স্তরে ৫০ জন শিক্ষককে বেছে নেওয়া হবে। ৫ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রাপকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি। 

প্রতি বছর শিক্ষামন্ত্রকের অধীন বিদ্যালয় শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতর শিক্ষক দিবসে অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় স্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। সেখানে সেরা শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। 

রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন, স্থানীয় সংস্থা
এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত প্রাথমিক/জুনিয়র/উচ্চ/উচ্চতর বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকরা এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাঠাতে পারেন। স্কুলগুলিকে অবশ্যই রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বোর্ডের স্বীকৃতি পেতে হবে। 

কেন্দ্রীয় স্কুলগুলির মধ্যে রয়েছে, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, জহর নবোদয় বিদ্যালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সৈনিক স্কুল, পরমাণু শক্তি শিক্ষা সোসাইটি পরিচালিত স্কুল এবং একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়। 

এছাড়া সিবিএসই এবং সিআইএসসিই স্বীকৃত বিদ্যালয়গুলির শিক্ষকরাও মনোনয়ন পাঠাতে পারবেন।   

PG/ MP /AG

(রিলিজ আইডি: 2030324)  

============================================================================================

মানবসম্পদবিকাশমন্ত্রক

এনএমএমএসএস-এর আওতায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে (৩০ জুন, ২০২৪-এর পর থেকে) আবেদন জমা দেওয়ার জন্য জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল খুলে গেল

প্রকাশিত: 02 JUL 2024 3:53PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২ জুলাই ২০২৪

ছাত্রছাত্রীরা যাতে এককালীন নথিভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন সেজন্য জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল খুলে দেওয়া হল। এর হোম পেজ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়া, এ সংক্রান্ত একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ এবং উন্নততর ওয়েব সংস্করণেরও সূচনা হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এই পোর্টাল এখন অনেক সহজে ব্যবহারযোগ্য। এখানে বৃত্তির জন্য নতুন করে আবেদন জানানো যাবে। বৃত্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানোর সংস্থানও এতে রয়েছে। 

এককালীন নথিভুক্তিকরণের এই প্রক্রিয়া সারা বছর ধরেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য খোলা থাকবে। আধার / আধার এনরোলমেন্ট আইডি-র ওপর ভিত্তি করে নথিভুক্তিকরণের সময়ে ১৪ সংখ্যার নম্বর, ওটিআর দেওয়া হবে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এই নম্বর আলাদা। এই নম্বর না থাকলে বৃত্তির জন্য পোর্টালে আবেদন জানানো যাবে না। এককালীন নথিভুক্তিকরণ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে একটি আইডি দেওয়া হবে। সেটি সেই শিক্ষাবর্ষের পুরো সময়ের জন্য বৈধ থাকবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় এই আইডি-র সাপেক্ষে আরও একটি আবেদন আইডি পাওয়া যাবে। নথিভুক্তিকরণের আইডি-র সাপেক্ষে একটির বেশি আবেদন আইডি যাতে কোনো সময়েই সক্রিয় না থাকে, প্রযুক্তির সাহায্যে তা নিশ্চিত করা হবে। ২০২৪-২৫ সালের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হল ৩১ আগস্ট। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যেসব পড়ুয়া এই পোর্টালে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে ওটিআর দেওয়া হয়েছে। এসএমএস-এর মাধ্যমে প্রত্যেককে তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলী নিচে দেওয়া হল –

(ক) যেসব পড়ুয়া ওটিআর পেয়েছেন তাঁদের জন্য নির্দেশ :
(১) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জন্য জাতীয় বৃত্তি পোর্টালে আগেই মুখাবয়ব সনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক।

(২) যেসব পড়ুয়া ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মুখাবয়ব সনাক্ত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন, তাঁদের জন্য পোর্টাল থেকে একটি ওটিআর নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেটি তাঁদের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে এসএমএস করে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। 

(৩) যাঁরা এই ওটিআর নম্বর পেয়েছেন, তাঁরা সরাসরি বৃত্তির জন্য জাতীয় বৃত্তি পোর্টালে আবেদন করতে পারেন। 

(৪) কেউ যদি এসএমএস-এর মাধ্যমে ওটিআর নম্বর না পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি পোর্টালের ‘নো ইওর ওটিআর’ বিভাগে গিয়ে ওটিআর নম্বর জানতে পারবেন। 

(খ) যেসব পড়ুয়া রেফারেন্স নম্বর পেয়েছেন তাঁদের জন্য নির্দেশাবলী –

(১) যেসব ছাত্রছাত্রী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ওটিপি-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি-র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন কিন্তু মুখাবয়ব সনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি, তাঁদের পোর্টাল থেকে রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হয়েছে। 

(২) এবার মুখাবয়ব সনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পোর্টাল থেকে তাঁরা ওটিআর নম্বর নিয়ে নিতে পারেন।

(৩) ওটিআর নম্বর পেতে গেলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করতে হবে :

(ক) অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আধার ফেস আরডি পরিষেবা ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন (link: https://play.google.com/store/apps/details?id=in.gov.uidai.facerd)

(খ) গুগল প্লে-স্টোর থেকে এনএসআর ওটিআর ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন (link: https://play.google.com/store/apps/details?id=in.gov.scholarships.nspotr&pli=1)

(গ) মোবাইল অ্যাপটি খুলে ‘ই-কেওয়াইসি উইথ ফেসঅথ’ অপশন বেছে নিন। এটি লাল রং-এ চিহ্নিত রয়েছে। 

জাতীয় বৃত্তি পোর্টালে দুটি স্তরে যাচাইকরণ করা হয় – প্রথম স্তরের যাচাইকরণ করেন প্রতিষ্ঠানের নোডাল অফিসার, দ্বিতীয় স্তরের যাচাইকরণ করেন জেলাস্তরের নোডাল অফিসার। প্রথম স্তরের যাচাইকরণের শেষদিন চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় স্তরের ৩০ সেপ্টেম্বর।

অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর অংশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুলছুটের প্রবণতা কমাতে এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ন্যাশনাল মিনস-কাম-মেরিট স্কলারশিপ স্কিম’ (এনএমএমএসএস) চালু করা হয়। প্রতি বছর এর আওতায় নবম শ্রেণীর ১ লক্ষ বাছাই করা পড়ুয়াকে বৃত্তি দেওয়া হয়। তাঁরা যাতে রাজ্য সরকার, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভা-চালিত স্কুলগুলিতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারেন, সেজন্য এই বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

PG/SD/DM.
(রিলিজ আইডি: 2030323)  

===========================================================================================

প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

হাথরসের ঘটনায় শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর, এককালীন অর্থসাহায্য ঘোষণা

প্রকাশিত: 02 JUL 2024 8:20PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২ জুলাই, ২০২৪ 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ উত্তরপ্রদেশের হাথরসে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ব্যক্ত করেছেন এবং মৃত ও আহতদের নিকট আত্মীয়কে এককালীন অর্থ সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। 

শ্রী মোদী প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের নিকট আত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে জানানো হয়েছে: 

“প্রধানমন্ত্রী শ্রী @narendramodi জি হাথরসের ঘটনায় পিএমএনআরএফ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের নিকট আত্মীয়কে এককালীন ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আহতদের এককালীন দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।” 

এই দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে শ্রী মোদী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং মৃত ও আহতদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। 

এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন: 

“উত্তরপ্রদেশের হাথরসের দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জি-র সঙ্গে কথা বলেছি। উত্তরপ্রদেশ সরকার দুর্ঘটনার শিকার প্রত্যেককে সহায়তা করে চলেছে। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। @myogiadityanath”

PG/ MP /AG
(রিলিজ আইডি: 2030325)   

=============================================================================================

প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর জবাবী ভাষণ

“গত ১০ বছরে আমাদের সরকারের কাজের খতিয়ানের উপর ভারতের জনগণ আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং তৃতীয়বারের জন্য সুশাসন অব্যাহত রাখার সুযোগ দিয়েছেন”
“’জনসেবা হি প্রভু সেবা’ অর্থাৎ মানবসেবায় ঈশ্বরের সেবা – এই নীতি অনুসরণ করে নাগরিকদের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার জনগণ আমাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছেন”
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন নীতিকে জনগণ সম্মানিত করেছেন”
“তোষণের পরিবর্তে সকলকে সন্তুষ্ট করার জন্যই আমরা কাজ করে চলেছি অর্থাৎ প্রতিটি প্রকল্পের সুযোগ প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে”
“১৪০ কোটি নাগরিকের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও আস্থা উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে”
“যখন কোনও দেশ বিকাশের পথে এগিয়ে চলে তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত গড়ে তোলা হয়”
“তৃতীয়বারে আমরা তিনগুণ বেশি গতিতে কাজ করবো, তিনগুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করবো, যাতে তিনগুণ ফল পাওয়া যায়”

প্রকাশিত: 02 JUL 2024 8:46PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০২ জুলাই, ২০২৪ 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবে লোকসভায় জবাবী ভাষণ দিয়েছেন।

সংসদে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং বলেন, শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর ভাষণে বিকশিত ভারতের ধারণাকে তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে উল্লেখ করে শ্রী মোদী শ্রীমতী মুর্মুর পরামর্শের জন্য, তাঁকে ধন্যবাদ জানান।  

লোকসভায় গতকাল ও আজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর বেশ কয়েকজন সাংসদ তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে প্রথমবার নির্বাচিত যেসব সাংসদ বক্তব্য রেখেছেন, শ্রী মোদী বিশেষ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান। নতুন সাংসদদের চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞ সাংসদদের তুলনায় কোনও অংশে কম নয় এবং তাঁদের বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।  

বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এই সরকারকে নির্বাচিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান। পর পর তিনবার তাঁরা এই সরকারকে নির্বাচিত করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গর্বের বলে অভিহিত করেন। গত ১০ বছরে তাঁর সরকারের কাজের খতিয়ানের উপর ভারতের জনগণ আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং তৃতীয়বারের জন্য সুশাসন অব্যাহত রাখার সুযোগ দিয়েছেন। ’জনসেবা হি প্রভু সেবা’ অর্থাৎ মানবসেবায় ঈশ্বরের সেবা – এই নীতি অনুসরণ করে নাগরিকদের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার জনগণ বর্তমান সরকারের মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছেন। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার খুব কম সময়ে ২৫ কোটি দরিদ্র মানুষ দারিদ্র্যের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়েছেন। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের পর থেকে যে আপোষহীন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তার জন্যই নির্বাচক মণ্ডলী আবারও তাঁদের সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছেন। “আজ সারা বিশ্বের কাছে ভারতের সম্মান বৃদ্ধি হয়েছে প্রত্যেক দেশবাসী ভারতীয় হিসেবে গর্ববোধ করেন”। তাঁর সরকারের প্রতিটি নীতি ও সিদ্ধান্ত দেশের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের ভারতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর সরকার ‘দেশ সর্বাগ্রে’ নীতি অনুসরণ করে চলে। সংস্কারের যে প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গত ১০ বছরে সরকার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রে এবং সর্বধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গীর নীতি অনুসরণ করে চলেছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত দীর্ঘসময় ধরে তোষণ নীতি অনুসরণ করেছে। কিন্তু, এই প্রথম তাঁর সরকার নাগরিকদের সন্তুষ্টির কথা বিবেচনা করে ধর্ম নিরপেক্ষতার পথ অনুসরণ করে চলে। জনগণ তাঁদের এই নীতির প্রতি আস্থা রেখেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে যাতে সরকারের প্রতিটি প্রকল্পের সুযোগ পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এর মধ্য দিয়ে সামাজিক ন্যায় ও ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রকৃত নীতি অনুসরণ করা হয়। আর তাই, পর পর তিনবার দেশবাসী তাঁদের প্রতি আস্থা রেখেছেন। 

শ্রী মোদী বলেন, এবারের নির্বাচনে আরও একবার ভারতবাসীর প্রজ্ঞা ও আদর্শের পরিপূর্ণতা প্রকাশ পেয়েছে। “জনগণ আমাদের নীতি, উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকারের প্রতি তাঁদের আস্থা প্রকাশ করেছেন”। বিকশিত ভারত গড়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে মানুষ তাতে সমর্থন জানিয়েছেন।  

উন্নত দেশ গড়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও রাষ্ট্রের বিকাশের মধ্য দিয়েই সেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্ন পূরণ হয়, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিতও গড়ে ওঠে। ভারতবাসীকে উন্নত রাষ্ট্রের সুফল পেতে হবে, যা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছিলেন। বিকশিত ভারত গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ভারতের গ্রাম ও শহরের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে, পাশাপাশি মানুষ গর্ববোধ করবেন। তাঁদের জন্য বহু ধরণের সুযোগ তৈরি হবে। “বিশ্বের উন্নত শহরগুলির সঙ্গে ভারতের শহরগুলিও এক আসনে বসবে”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতের অর্থ হ’ল, দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে নানাধরনের সুযোগ সমানভাবে পৌঁছানো এবং দক্ষতা, সম্পদ এবং সম্ভাবনার বিকাশ নিশ্চিত করা। 

সরকার সততার সঙ্গে বিকশিত ভারতের আদর্শকে অনুসরণ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের আশ্বাস দিয়েছেন। “২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে আমরা সর্বতোভাবে কাজ করে যাব”। 

প্রধানমন্ত্রী ২০১৪’র পূর্ববর্তী সময়কালের কথা উল্লেখ করেন। সেই সময়ে দেশবাসী আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। হতাশা সকলকে গ্রাস করেছিল। সেই সময়কাল দুর্নীতিতে জর্জড়িত ছিল এবং দেশ নীতিহীনতার পঙ্গুত্বে ভুগছিল। সাধারণ মানুষ সবধরনের আশা ত্যাগ করেছিলেন। গৃহ নির্মাণ, রান্নার গ্যাসের সংযোগ অথবা খাদ্যশস্য সংগ্রহ – সবক্ষেত্রেই উৎকোচ দেওয়া স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়।

২০১৪’র পূর্ববর্তী সময়কালে দেশের নাগরিকরা তাঁদের এই খারাপ অবস্থার জন্য নিজেদের ভাগ্যকেই দোষারোপ করতেন। “এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তাঁরা আমাদের নির্বাচিত করেন”।

শ্রী মোদী বলেন, তাঁর সরকার বিভিন্ন অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেছে। তিনি সফলভাবে ফাইভ-জি প্রযুক্তির বাস্তবায়ন, সর্বোচ্চ কয়লা উৎপাদন, দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন নীতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। “সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা হয়েছে”। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটদাতা তাঁদের মতাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৪০ কোটি নাগরিকের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও আস্থা উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে”। এই আস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কালে দেশবাসীর মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, আজ আবার উন্নত রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে তাঁদের সেই মনোভাব প্রতিফলিত হচ্ছে। গত ১০ বছরে ভারতের উন্নয়ন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ভারত নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করছে। আমাদের পুরনো রেকর্ড ভাঙতে হবে এবং দেশকে আরও উন্নত করে তুলতে হবে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাব”।

গত ১০ বছরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত দশম বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে নিজেকে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত করেছে। খুব শীঘ্রই তা তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদক ও রপ্তানীকারক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আত্মপ্রকাশ করেছে। তাঁর সরকারের বর্তমান সময়ে ভারত সেমিকন্ডাক্টার ক্ষেত্রেও বৃহত্তম উৎপাদক ও রপ্তানীকারক হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শ্রী মোদী বলেন, দেশ নতুন নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য পরিষেবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪ কোটি পাকা বাড়ি নির্মিত হয়েছে এবং এই বাড়িগুলি দরিদ্র মানুষদের হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও তিন কোটি নতুন বাড়ি নির্মিত হবে। মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৩ কোটি দিদিকে লাখপতি করে তোলা হবে। তৃতীয়বারে তাঁর সরকার তিনগুণ বেশি গতিতে কাজ করবে, তিনগুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করবে, যাতে তিনগুণ ফল পাওয়া যায় বলে প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শ্রী মোদী বলেন, ৬০ বছর পর, ধারাবাহিকভাবে তিনবার একটি সরকারের ক্ষমতায় আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের আস্থা প্রতিফলিত হয়। “এই সাফল্য সস্তার রাজনীতি করে অর্জিত হয় না, নাগরিকদের আশীর্বাদ পেলেই এটি অর্জন করা যায়”। দেশবাসী স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতার প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের রায়কে তিনি স্বাগত জানান। তাঁর ভাষণে লোকসভা নির্বাচনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দলের বিপুল সাফল্যের প্রসঙ্গটি তিনি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের ভোটের হার বেড়েছে বলেও শ্রী মোদী জানান। “জনতা জনার্দন আমাদের সঙ্গে রয়েছেন”।  

সদ্য অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিরোধী দলগুলিকে স্বীকার করে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, মানুষের বার্তাকে উপলব্ধি করতে হবে। জনগণ উন্নয়নকে বেছে নিয়েছেন। বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে তাঁরা বাস্তবায়িত করতে চান। উন্নয়ন যাত্রার নতুন উদ্যমে সকলকে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা বিশৃঙ্খলা, বিভেদের রাজনীতি অনুসরণ করে এবং আইনকে বুড়ো আঙুল দেখায় – তাদের থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। যারা বিভিন্ন বিষয়ে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে, তাদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্রান্ত অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করলে দেশে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেবে। সংসদের রীতিনীতি বজায় রেখে চলার জন্য তিনি অধ্যক্ষের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলির কাছে আবেদন জানান। সদনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। অধ্যক্ষকে সংসদে পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

জরুরি অবস্থার সময়কালের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, যাঁরা দেশে একনায়কতন্ত্রের পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন, তাঁদের জন্যই নাগরিকরা নির্যাতিত হতেন। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভা থেকে বাবাসাহেব আম্বেদকরের পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। বাবাসাহেব বলেছিলেন, সংবিধানে তপশিলি জাতি, পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষদের অধিকার রক্ষার কথা বলা থাকলেও সরকার সেই অধিকার রক্ষা করছে না। জগজীবন রামজি, চৌধুরী চরণ সিংজি এবং সীতারাম কেশরীজির মতো বিশিষ্ট নেতাদের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গটিও তিনি উল্লেখ করেন। 

স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগোয় অভিভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বামীজী বলেছিলেন, তিনি এমন এক ধর্মের অনুসারী, যে ধর্ম সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয় এবং বিশ্ব জুড়ে যার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সহিষ্ণুতা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতার জন্যই ভারতের গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র্য আজ বিকশিত। অথচ আজ যেভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে এবং এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। 

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীগুলির শৌর্য্য ও শক্তির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার জন্য বাহিনীগুলিকে উন্নত ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকার জন্য সরকার সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একটি যৌথ কম্যান্ড গড়ে তোলার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, এই কাজ আগেই হওয়া উচিৎ ছিল, তবে এখন এটি বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদ তৈরি করে সেই পদে নিয়োগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে। 

আমাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলিকে স্বনির্ভর করে তুলতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হাতে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গটিও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বাহিনীগুলি হবে তারুণ্যে ভরপুর। তাই, বাহিনীগুলিতে তরুণ সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার সময়োচিত সংস্কার বাস্তবায়িত করছে। 

শ্রী মোদী যুদ্ধ ক্ষেত্রে যে বিপুল পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের বাহিনীগুলিকে শক্তিশালী করে তুলতে সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। সমরাস্ত্র অথবা প্রযুক্তি প্রতিটি ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলি দেখা যাচ্ছে, তার মোকাবিলা করতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলিকে শক্তিশালী করে তোলা হচ্ছে।  এই প্রক্রিয়ায় ভুয়ো অভিযোগ আনা অব্যাহত রয়েছে। অথচ, অতীতে দুর্নীতির কারণে সশস্ত্র বাহিনীগুলির দক্ষতা ও শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ‘এক পদ – এক পেনশন’ প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে। এই প্রকল্পটি বহু আগেই কার্যকর হওয়া উচিৎ ছিল। কোভিড অতিমারীর সময় নানা সমস্যা সত্ত্বেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা মঞ্জুর করে।

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সমস্যাটি সমাধানে তাঁর সরকার অত্যন্ত সক্রিয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে তিনি যুবসম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্নাতক স্তরে নিট প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। “কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যেই একটি কঠোর আইন বলবৎ করেছে। বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে”।

শ্রী মোদী বলেন, গত ১০ বছর ধরে তাঁর সরকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে গড়ে তুলতে, প্রত্যেকের বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করতে, প্রত্যেক দরিদ্র পরিবারের জন্য পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করতে, সশস্ত্র বাহিনীগুলিকে আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য শক্তিশালী করতে, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানী উৎপাদনে আরও সক্রিয় হতে, ভারতকে পরিবেশ-বান্ধব হাইড্রোজেন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে, পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে, উন্নত ভারতের জন্য স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে, যুবসম্প্রদায়কে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের জন্য দক্ষ করে তুলতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তিনি তাঁর ভাষণে সেগুলি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম বেসরকারি ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থান হয়েছে। 

ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের কাছে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্ব আমাদের সফল ডিজিটাল উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

ভারতের উন্নয়ন যাত্রার সময় যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের কাছে দেশের উন্নয়ন সমস্যার কারণ, যারা ভারতের গণতন্ত্র জনবিন্যাস ও বৈচিত্র্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মনে হচ্ছে, ভারতের উন্নয়নকে ব্যাহত করার জন্য ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং উন্নয়নযাত্রার ভিতকে দুর্বল করতে কোনও কোনও মহল সক্রিয়। এদের সমূলে বিনাশ করতে হবে”। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, এ ধরনের শক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে নাগরিকদের আহ্বান জানান তিনি। “দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকে ভারত কখনই মেনে নেবে না”।  

শ্রী মোদী বলেন, সারা বিশ্ব ভারতের উন্নয়ন যাত্রাকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে, পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ব্যবস্থাপনার বিষয়েও খোঁজখবর রাখছে। উন্নত ভারত গড়ে তুলতে সংসদের প্রত্যেক সদস্যের সদর্থক ভূমিকার উপর তিনি গুরুত্ব দেন। “নাগরিকদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে”। বর্তমান সময়কালে ইতিবাচক রাজনীতির গুরুত্বের কথা তিনি উল্লেখ করেন। “আসুন, আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সুপ্রশাসন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি”।  

ভাষণ চলার সময়  উত্তর প্রদেশের হাতরাসে পদপিষ্ট হয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের নিকটাত্মীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানান। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে রাজ্য সরকার সক্রিয় বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছেন, যাতে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে আসা সাংসদদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান। তাঁরা সংসদ থেকে অনেক কিছু শিখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিশেষে, শ্রী মোদী রাষ্ট্রপতিকে অভিভাষণ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবে সদস্যরা তাঁদের বক্তব্য জানানোয় তিনি সাংসদদেরও ধন্যবাদ জানান। 

PG/CB/SB
(রিলিজ আইডি: 2030432)  

=============================================================================================

প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

সংসদে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় রাজ্যসভাতে প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ

“বিগত ১০ বছরে দেশের সেবায় আমাদের সরকারের উদ্যোগকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করেছেন ভারতের মানুষ”

বাবা সাহেব আম্বেদকরের দেওয়া সংবিধানের সুবাদে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য না হয়েও আমার মতো মানুষের রাজনীতিতে প্রবেশ এবং এই পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে”

“আমাদের সংবিধান আমাদের দিশা দেখায় আলোকবর্তিকার মতো”

“মানুষ তৃতীয়বার আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন এই বিশ্বাস থেকে যে আমরা ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি করে তুলবো”

“দেশের পক্ষে আগামী ৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”

“সুপ্রশাসনের আদর্শে এগিয়ে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের প্রশ্নে সম্পৃক্তির অধ্যায় করে তোলা হবে এই পর্বকে”

“এখানেই আমরা থামবো না। আগামী ৫ বছরে নতুন নানা ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কাজ করবো আমরা”

“প্রতিটি পর্যায়ে অনুপরিকল্পনার মাধ্যমে বীজ থেকে বাজার পর্যন্ত কৃষকদের জন্য একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত প্রণালী গড়ে তোলায় আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি”

“শুধু শ্লোগান নয়, নারী নেতৃত্বাধীন বিকাশের লক্ষ্যে ভারত দায়বদ্ধতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে”

“জরুরি অবস্থার পর্ব শুধু রাজনৈতিক নয়, ভারতের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং মানবতার প্রশ্ন

প্রকাশিত: 03 JUL 2024 3:06PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৩ জুলাই, ২০২৪

সংসদে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আজ রাজ্যসভাতে প্রধানমন্ত্রী জবাবি ভাষণ দিলেন।

প্রেরণাদায়ী বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদের প্রায় ৭০ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। এদের সকলকে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান। 

দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬০ বছর পরে দেশের মানুষ একটি সরকারকে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছেন – যা ঐতিহাসিক। দেশের মানুষের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের সমালোচনা করেন। অনেকেই নিজেদের পরাজয় এবং সরকার পক্ষের জয় মেনে নিতে পারছেন না বলে তাঁর কটাক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদী যে, বর্তমান সরকার তার সম্ভাব্য মেয়াদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১০ বছর অতিবাহিত করেছে। দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২০ বছর বাকি রয়েছে। তিনি মনে করেন, বিগত ১০ বছরে দেশের সেবায় তাঁদের সরকারের উদ্যোগকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করেছেন ভারতের মানুষ। দেশের নাগরিকরা যেভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং আকাশকুসুম দেখার প্রবণতাকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে রায় দিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অভিমত।

ভারতের সংবিধানের ৭৫ বছর এবং ভারতের সংসদের ৭৫ বছর এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বাবা সাহেব আম্বেদকরের দেওয়া সংবিধানের সুবাদেই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য না হয়েও তাঁর মতো মানুষের রাজনীতিতে প্রবেশ এবং এই পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধান কেবলমাত্র কয়েকটি আইনী ধারার সংকলন নয়, তার মধ্যে নিহিত আদর্শ ও মূল্যবোধ দারুনভাবে প্রাসঙ্গিক।

তাঁর সরকার যখন ২৬ নভেম্বর দিনটিকে “সংবিধান দিবস” হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব দেয়, তখন অনেকেই বিরোধিতা করেছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। কিন্তু ওই উদ্যোগের সুবাদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংবিধান নিয়ে আলোচনা এবং আরও নানা কর্মসূচির ফলে সাংবিধানিক আদর্শ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হয়ে উঠেছেন বলে তিনি মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণার উৎস। তার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার “জন উৎসব” উদযাপনের পরিকল্পনা করেছে।

দেশের ভোটদাতাদের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ধারনায় সমর্থন জানিয়েছেন। বিগত ১০ বছরে তাঁর সরকারের কাজকর্মের স্বীকৃতির পাশাপাশি আগামী দিনের স্বপ্ন পূরণের বিষয়টিও ভোটদাতাদের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে। 

বিশ্বজোড়া প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিগত ১০ বছরে ভারতীয় অর্থনীতি বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় ১০ থেকে ৫ নম্বরে উঠেছে বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, মানুষ এবার ভোট দিয়েছেন ওই তালিকায় ভারতকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। 

উন্নয়নের কাজে গতি আনায় সরকারের দায়বদ্ধতার কথা আবারও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুপ্রশাসনের আদর্শে এগিয়ে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের প্রশ্নে সম্পৃক্তির অধ্যায় করে তোলা হবে আগামী ৫ বছরের পর্বকে। আরও জোর দেওয়া হবে দারিদ্র দুরীকরণে। ভারতকে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ করে তোলায় স্টার্টআপ পরিমণ্ডল এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের শহরাঞ্চল চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। 

বর্তমান শতক প্রযুক্তি চালিত – একথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী গণ পরিবহণ সহ আরও নানা ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগের কথা বলেনন। ছোট শহরগুলি ওষুধপত্র, শিক্ষা এবং উদ্ভাবনের প্রশ্নে বড় ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশাবাদী।

কৃষক, দরিদ্র, নারী শক্তি এবং যুবা শক্তি – চারটি স্তম্ভকে আরও জোরদার করে তোলার গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিকাশ যাত্রায় এই ক্ষেত্রগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

কৃষি এবং কৃষক কল্যাণের প্রশ্নে সাংসদরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছরে কৃষি লাভজনক একটি পেশা হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে তিনি ঋণ, বীজ, সার সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং শস্য বীমার কথা বলেন। প্রতিটি পর্যায়ে অনুপরিকল্পনার মাধ্যমে বীজ থেকে বাজার পর্যন্ত কৃষকদের জন্য একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত প্রণালী গড়ে তোলায় তাঁর সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

কিষান ক্রেডিট কার্ডের ইতিবাচক নানা দিকের কথা উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। এই সুবিধা মৎস্যজীবী এবং পশুপালকদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তুলে ধরেন ক্ষুদ্র কৃষকদের কল্যাণের লক্ষ্যে গৃহীত পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রসঙ্গ – যার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন ১০ কোটি কৃষক এবং গত ৬ বছরে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা। আগের জমানায় এইসব ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। 

বিরোধীরা কক্ষ ত্যাগ করার পরেও ভাষণ চালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সভার চেয়ারম্যানের প্রতি সহমর্মিতার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সেবক হিসেবে তিনি প্রতিক্ষণে দায়বদ্ধ। আইনসভার ঐতিহ্য লঙ্ঘনের জন্য বিরোধীদের সমালোচনা করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার দরিদ্র কৃষকদের সারের ভর্তুকি বাবদ ১২ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে – যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ। কৃষকদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে রেকর্ড বৃদ্ধিই শুধু নয়, তাঁদের থেকে ফসল কেনাতেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। আগেকার জমানার তুলনায় তাঁর সরকার বিগত ১০ বছরের মধ্যেই ধান ও গম চাষীদের ২.৫ গুণ বেশি অর্থ দিয়েছে বলে তাঁর মন্তব্য। আগামী ৫ বছরে নতুন নানা ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কাজ হবে বলে তিনি জানান। বিশ্বের বৃহত্তম শস্য ভাণ্ডার পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে লক্ষ লক্ষ শস্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুল-ফল চাষ কৃষির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে তাঁর সরকার। 

ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় মূল মন্ত্র ‘সকলের সঙ্গে সকলের বিকাশ’ – একথা আবারও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার। স্বাধীনতার পর দশকের পর দশক ধরে যাঁরা অবহেলিত থেকেছেন তাঁদের এখন মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি দিব্যাঙ্গজনের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন। রূপান্তরকামীদের জন্যও তাঁর সরকার নতুন আইন রূপায়ণে উদ্যোগী হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য। এদের অনেকে পদ্ম সম্মানও পেয়েছেন। তিনি সগর্বে বলেন, পশ্চিমী দেশগুলি এখন ভারতের ইতিবাচক যাত্রায় চমৎকৃত।

যাযাবর এবং অর্ধ-যাযাবর জনগোষ্ঠীর একটি কল্যাণ পর্ষদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বিশেষভাবে সঙ্কটাপণ্য আদিবাসী গোষ্ঠী (পিভিটিজি) উন্নয়ন খাতে জন মান প্রকল্পের আওতায় ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি নয়, তাঁর সরকার বিকাশের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয় বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

ভারতের বিকাশ যাত্রায় বিশেষ ভূমিকায় থাকা বিশ্বকর্মাদের পেশাগত দক্ষতা ও রুজিরোজগার বাড়াতে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়া, পিএম স্বনিধি প্রকল্পের আওতায় পথ বিক্রেতাদের কাছে ব্যাঙ্ক ঋণের সুবিধা, পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলিও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন বিকাশের লক্ষ্যে ভারত দায়বদ্ধতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। এটি কেবলমাত্র একটি শ্লোগান হয়ে নেই। এজন্য শৌচালয় নির্মাণ, স্যানিটারি প্যাডের সরবরাহ, প্রতিষেধক প্রদান, রান্নার গ্যাস সরবরাহে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। দরিদ্রদের হাতে তুলে দেওয়া ৪ কোটি বাসস্থানের বেশিরভাগই মহিলাদের নামে নিবন্ধীকৃত বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তাঁর ভাষণে উঠে আসে মুদ্রা এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার কথা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১ কোটি মহিলা লাখ পতি দিদি হয়ে উঠেছেন, তাঁর সরকারের এই মেয়াদে সংখ্যাটি ৩ কোটিতে নিয়ে যাওয়া হবে। নমো ড্রোন দিদি, পাইলট দিদি প্রভৃতি প্রকল্পও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জায়গা পায়। 

মহিলাদের নিয়ে রাজনীতি করার নেতিবাচক প্রবণতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে নারী নির্যাতনের একের পর এক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি পাল্টাচ্ছে। লাল ফিতের দেশের তকমা ঘুচিয়ে ভারত এখন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে, বাড়ছে কর্মসংস্থান।

১৯৭৭-এর লোকসভা নির্বাচনের সময়ে সংবাদ মাধ্যম এবং বেতারের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই সময়ে মানুষ সংবিধান রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিয়েছিলেন। সেই দিশাতেই ভারতের মানুষ এবার তাঁর সরকারকেই বেছে নিয়েছেন। জরুরি অবস্থার সময়ে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওই সময়ে ৩৮, ৩৯ এবং ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মর্যাদা হ্রাস করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়ার জন্য এক সময়ে যেভাবে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গড়া হয়েছিল তাও নিন্দাযোগ্য বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন। একটি পরিবারের বিশেষ সুবিধা পাওয়া ভারতীয় গণতন্ত্রকে অতীতে কালিমালিপ্ত করেছে বলে তাঁর কটাক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি অবস্থার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, ভারতের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং মানবতার প্রশ্নেও বিচার্য। ওই সময়ে বিরোধী পক্ষের শীর্ষ নেতাদের কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়ে আর ফেরেন নি। মুজাফ্ফর নগর কিংবা তুর্কমান গেটে সংখ্যালঘুরা অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন। 

দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষা করতে বিরোধীরা ব্যস্ত বলে প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষ করেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার হচ্ছে এই অভিযোগ খারিজ করে দেন তিনি। ২০১৪-য় তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ার পর দরিদ্রদের কল্যাণে এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের সাজা দিতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

সাম্প্রতিক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তারা রেহাই পাবে না বলে তিনি জানিয়ে দেন। 

জম্মু ও কাশ্মীরে ভোটদানের হারে বৃদ্ধি, ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর সেখানকার মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের বিকাশের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠছে। বর্তমান জমানায় সেখানকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নে নজিরবিহীন কাজ হয়েছে। 

মণিপুর নিয়ে রাজ্যসভার আগের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী। অশান্তির জেরে ১১ হাজারেরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই রাজ্যে হিংসার ঘটনা কমছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। ওই রাজ্যে শান্তি ফেরাতে ছুটে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

মণিপুরে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র মণিপুর সরকারের সঙ্গে একযোগ কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি আরও বলেন, মণিপুরে সামাজিক বিভেদের বিষয়টি বহু দিনের। স্বাধীনতার পর সেখানে ১০বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। ১৯৯৩-এর পর ৫ বছর ধরে সেখানে সামাজিক সংঘাতের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সাক্ষী থেকেছে ইতিহাস। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে আসার অনেক আগেই একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন। সেইজন্য জি২০ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে প্রাদেশিক স্তরেও। কোভিড অতিমারির সময়েও রাজ্যগুলির সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগনো হয়েছে।

প্রাদেশিক প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমি কনডাকটর এবং বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদনের প্রশ্নে ভারত আগামী বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে। এক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য উদ্যোগী হতে রাজ্যগুলিকে তিনি পরামর্শ দেন। উত্তর পূর্বের অসমে সেমি কনডাকটর ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

২০২৩ সালটিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ ঘোষণার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি ভারতের ক্ষুদ্র চাষীদের ক্ষমতায়নের প্রতিফলন। মিলেট উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে প্রাদেশিক স্তরে উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি জানান। 

‘ইজ অফ ডুইং’-এর মন্ত্রকে পাথেয় করে নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজতর করে তোলায় সচেষ্ট হতে রাজ্যগুলির কাছে তিনি আবেদন রাখেন। পঞ্চায়েত, নগরনিগম, জেলা পরিষদ – প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষতা সুপ্রশাসনের অন্যতম অঙ্গ এবং একবিংশ শতকের যাবতীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর অন্যতম চাবিকাঠি বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন। 

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার মোকাবিলায় রাজ্যগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে সর্বস্তরে উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তাঁর মন্তব্য।

বর্তমান শতক ভারতের শতক হতে চলেছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী সকলকে বার্তা দেন। সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নাগরিক কেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ডাক দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত ১৪০ কোটি নাগরিকের একত্রিত অভিযান।

রাষ্ট্রপতির প্রতি আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষ করেন।

PG/AC/SKD

(রিলিজ আইডি: 2030548)  

=============================================================================================

স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক

মহারাষ্ট্রে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের খবর মেলায় সব রাজ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠালো কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক

প্রকাশিত: 03 JUL 2024 3:07PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৩ জুলাই, ২০২৪

মহারাষ্ট্রে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের কয়েকটি ঘটনা নজরে আসায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের স্বাস্থ্য পরিষেবা মহানির্দেশক (ডিজিএইচএস) ডাঃ অতুল গোয়েল রাজ্যগুলিকে পাঠানো নির্দেশিকায় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার কথা বলেছেন। 

জিকা ভাইরাস সংক্রমণে প্রসূতির দেহে থাকা ভ্রুণে স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং নবজাতকের মাথার আয়তন ছোট হতে পারে। সেইজন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে প্রসূতিদের জিকা ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় জোর দিতে বলেছে। সংক্রমিত প্রসূতিদের ভ্রুণ পরীক্ষা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বাড়বাড়ন্ত রোধে হাসপাতালগুলিতে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করার জন্য পরামর্শ দিতেও রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

বসতি এলাকা, কাজের জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্মাণ ক্ষেত্র সহ সব জায়গাতে মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। সামাজিক মাধামেও বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলেই সমন্বিত ব্যাধি নজরদারি কর্মসূচি কিংবা জাতীয় মশকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে তা জানাতে বলা হয়েছে। 

বহু ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসে আক্রান্তরা উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত হয়ে থাকেন। ভারতে অবশ্য নবজাককের মাথার আয়তন ছোটো হওয়া বা মাইক্রোসেফালি-র কোনো খবর ২০১৬-র পরে পাওয়া যায়নি।

জিকা সংক্রমণের পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, দিল্লির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং কয়েকটি মাত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের পরীক্ষাগারেও এই সুবিধা রয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল এবং তারও আগে ফেব্রুয়ারিতে জিকা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া-র বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করেছিল।

ভারতে প্রথম ২০১৬-য় গুজরাটে জিকা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। পরে তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কেরল, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং কর্ণাটকেও এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে। 

এবছর ২ জুলাই পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ৮ জনের দেহে জিকা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

PG/AC/SKD

(রিলিজ আইডি: 2030546)  

=============================================================================================

নীতিআয়োগ

‘সম্পূর্ণতা অভিযান’-এর সূচনা করছে নীতি আয়োগ

৪ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এই অভিযানের লক্ষ্য উন্নয়নকামী জেলা কর্মসূচি এবং উন্নয়নকামী ব্লক কর্মসূচির আওতায় ৬টি সূচকের প্রশ্নে সম্পৃক্তি

প্রকাশিত: 03 JUL 2024 4:37PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৩ জুলাই, ২০২৪

নীতি আয়োগ তিনমাস ব্যাপী ‘সম্পূর্ণতা অভিযান’-এর সূচনা করছে। এর লক্ষ্য উন্নয়নকামী জেলা কর্মসূচি এবং উন্নয়নকামী ব্লক কর্মসূচির আওতায় ৬টি সূচকের প্রশ্নে সম্পৃক্তি। এই পর্বে ১১২টি জেলায় এবং ৫০০টি ব্লকে কাজ চলবে। 

ব্লক পর্যায়ে যে ৬টি সূচকের ওপর কাজ হবে সেগুলি হল :
১. প্রসবের আগে পরিচর্যা কর্মসূচিতে নিবন্ধীকৃত প্রসূতির শতাংশ
২. ডায়াবেটিসের পরীক্ষা হয়েছে এমন ব্যক্তির শতাংশ
৩. হাইপারটেনশনের পরীক্ষা হয়েছে এমন ব্যক্তির শতাংশ
৪. আইসিডিএস কর্মসূচির আওতায় পরিপূরক পুষ্টি বিধান হচ্ছে এমন প্রসূতির শতাংশ
৫. প্রদত্ত সয়েল হেল্থ কার্ড-এর শতাংশ
৬. রিভলভিং ফান্ড-এর সুবিধা পেয়েছে এমন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর শতাংশ

জেলা পর্যায়ে যে ৬টি সূচকের ওপর কাজ হবে সেগুলি হল :
১. প্রসবের আগে পরিচর্যা কর্মসূচিতে নিবন্ধিকৃত প্রসূতির শতাংশ
২. আইসিডিএস কর্মসূচির আওতায় পরিপূরক পুষ্টি বিধান হচ্ছে এমন প্রসূতির শতাংশ
৩. সম্পূর্ণভাবে প্রতিষেধক প্রাপ্ত ৯ থেকে ১১ মাসের শিশুর শতাংশ
৪. প্রদত্ত সয়েল হেল্থ কার্ড-এর শতাংশ
৫. মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যুৎ সংযোগ সমৃদ্ধ বিদ্যালয়ের শতাংশ
৬. শিক্ষা বর্ষ শুরু হওয়ার ১ মাসের মধ্যে শিশুদের পাঠ্য বই দিয়ে থাকে এমন বিদ্যালয়ের শতাংশ

এই কর্মসূচির আওতায় জেলা এবং ব্লক স্তরে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছে নীতি আয়োগ সেগুলি হল :
১. জেলা এবং ব্লক স্তরে ৩ মাস ব্যাপী নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ
২. প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা
৩. মানুষের আচরণগত পরিবর্তন এবং সচেতনতার প্রসার
৪. ক্ষেত্রীয় স্তরে নজরদারি চালাবেন জেলা আধিকারিকরা

এই কর্মসূচি সার্থক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং দপ্তর, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে নীতি আয়োগ। 

PG/AC/SKD

(রিলিজ আইডি: 2030550)  

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!