অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল

(আমাদের পৃথিবী) 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

দ্বিতীয় অধ্যায়

‘অস্থিত পৃথিবী’ 

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:

অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:

 

১. উত্তর: এক বিশাল অখণ্ড স্থলভাগ।
প্রশ্ন: প্যানজিয়া (Pangea) কথাটির অর্থ কী?
২. প্রশ্ন: প্যানথালাসা (Panthalassa) কী?
উত্তর: প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগ বা মহাসাগর।
৩.প্রশ্ন: ‘মহীসঞ্চরণ’ (Continental Drift) মতবাদের প্রবক্তা কে?
উত্তর: আলফ্রেড ওয়েগনার (১৯১২ সালে)।
৪. করেন? প্রশ্ন: টেকটোনিক পাত (Tectonic Plate) শব্দটির প্রথম ব্যবহার কে
উত্তর: জে. টিজো উইলসন।
৫. প্রশ্ন: পাত সংস্থান তত্ত্বের (Plate Tectonics) জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: লা পিচোঁ-কে।
৬.প্রশ্ন: পৃথিবীতে বড় পাতের সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: ৭টি।
৭. প্রশ্ন: মাঝারি পাতের সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: ৮টি।
৮. প্রশ্ন: পাতগুলি বছরে গড়ে কত সেমি করে সরে যায়?
উত্তর: ২ থেকে ২০ সেমি।
৯. প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমানা কাকে বলে?
উত্তর: যখন দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে।
প্রশ্ন: অপসারী পাত সীমানা কাকে বলে? ১০.
উত্তর: যখন দুটি পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়।
১১. প্রশ্ন: নিরপেক্ষ পাত সীমানা কাকে বলে?
উত্তর: যখন দুটি পাত পাশাপাশি ঘর্ষণ করে চলে যায়।
১২. প্রশ্ন: গঠনকারী পাত সীমানা কোনটিকে বলা হয়?
উত্তর: অপসারী পাত সীমানাকে।
১৩. প্রশ্ন: বিনাশকারী পাত সীমানা কোনটিকে বলা হয়?
উত্তর: অভিসারী পাত সীমানাকে।
১৪. প্রশ্ন: মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা কোন পাত সীমানায় গঠিত হয়?
উত্তর: অপসারী পাত সীমানায়।
১৫. প্রশ্ন: ভঙ্গিল পর্বত কোন পাত সীমানায় সৃষ্টি হয়?

উত্তর: অভিসারী পাত সীমানায়।
১৬. প্রশ্ন: পিনাতুবো আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ফিলিপিন্সে।
১৭. প্রশ্ন: মাউন্ট ফুজিয়ামা কোন দেশের আগ্নেয়গিরি?
উত্তর: জাপানের।
১৮. প্রশ্ন: ভারতের একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম কী?
উত্তর: ব্যারন দ্বীপ (আন্দামান)।
১৯. প্রশ্ন: ভারতের একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির নাম কী?
উত্তর: নারকোন্ডাম।
২০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয় (Pacific Ring কী? of Fire)
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের দুই তীরের আগ্নেয়গিরি বলয়।
২১. প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরি কয় প্রকার?
উত্তর: ৩ প্রকার (সক্রিয়, সুপ্ত ও মৃত)।
 ২২. প্রশ্ন: ইতালির ভিসুভিয়াস কোন ধরনের আগ্নেয়গিরি?
উত্তর: সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
২৩  প্রশ্ন: মায়ানমারের পোপো কোন ধরনের আগ্নেয়গিরি?
উত্তর: মৃত আগ্নেয়গিরি।
২৪. প্রশ্ন: সুমাত্রা দ্বীপের ক্রাকাতোয়া দ্বীপে কবে ভয়ংকর অগ্নুৎপাত হয়েছিল?
উত্তর: ১৮৮৩ সালে।
২৫. প্রশ্ন: হিমালয় পর্বত কোন সাগরের পলি রাশিতে ভাঁজ পড়ে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: টেথিস সাগর।
২৬. প্রশ্ন: মারিয়ানা খাত কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে।
২৭. প্রশ্ন: ভূ-আলোড়ন কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ২ প্রকার (মহীভাবক ও গিরিজনি)।
২৮. প্রশ্ন: সান আন্দ্রিয়ান চ্যুতি (San Andreas Fault) কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা।
২৯. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus) কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে যে স্থান থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
৩০. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র (Epicenter) কাকে বলে?
উত্তর: কেন্দ্রের ঠিক উপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুটিকে
৩১. প্রশ্ন: রিখটার স্কেল (Richter Scale) দিয়ে কী মাপা হয়?
উত্তর: ভূমিকম্পের তীব্রতা বা শক্তি।
৩২. প্রশ্ন: সিসমোগ্রাফ (Seismograph) কী?
উত্তর: ভূমিকম্পের তরঙ্গ মাপার যন্ত্র।
৩৩. প্রশ্ন: সুমানি (Tsunami) শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: জাপানি শব্দ (যার অর্থ ‘পোতাশ্রয়ের ঢেউ’)।
৩৪.প্রশ্ন: টাইটানিক জাহাজ কোন মহাসাগরে ডুবেছিল?
উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরে।
৩৫. প্রশ্ন: পাতের সঞ্চলন কেন ঘটে?
উত্তর: গুরুমন্ডলে পরিচলন স্রোতের প্রভাবে।
৩৬. প্রশ্ন: রিখটার স্কেলের পাঠ কত থেকে কত হয়?
উত্তর: ০ থেকে ১০।
৩৭. প্রশ্ন: অগ্নুৎপাতের সময় যে ছাই, পাথর বের হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: পাইরোক্লাস্ট।
৩৮. প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ কাকে বলে?
উত্তর: স্ট্রম্বোলি আগ্নেয়গিরিকে।
৩৯.প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত ধোঁয়ার মেঘকে কী বলে?
উত্তর: নুয়ি আরদঁত।
৪০. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গ সবচেয়ে আগে পৌঁছায়?
উত্তর: পি (P) তরঙ্গ।
৪১. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক?
উত্তর: এল (L) তরঙ্গ।
৪২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পৃথিবীর কত শতাংশ ভূমিকম্প হয়?
উত্তর: প্রায় ৭০ শতাংশ।
৪৩. প্রশ্ন: একটি ছোট পাতের উদাহরণ দাও।
উত্তর: নাজকা পাত বা কোকোস পাত।
৪৪. প্রশ্ন: আল্পস পর্বত কোন মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তর: ইউরোপে।
৪৫. প্রশ্ন: জীবন্ত আগ্নেয়গিরি কাকে বলে?
উত্তর: যেখান থেকে সবসময় বা প্রায়ই অগ্নুৎপাত হয়।
৪৬. প্রশ্ন: ভারতের কোথায় ২০০১ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল?
উত্তর: গুজরাটের ভুজে।
৪৭. প্রশ্ন: গিজার কী?
উত্তর: ভূগর্ভ থেকে ফিনকি দিয়ে বের হওয়া উষ্ণ জলধারা।
৪৮. প্রশ্ন: ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল?
উত্তর: সুনামি।
৪৯. প্রশ্ন: আন্দিজ পর্বত কোন পাত সীমানায় অবস্থিত?
উত্তর: অভিসারী পাত সীমানায়।
৫০. প্রশ্ন: ওয়েগনারের মতে প্যানজিয়া কত কোটি বছর আগে ভাঙতে শুরু করে?
উত্তর: প্রায় ২০ কোটি বছর আগে।

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর: 

==================================================================================

১. প্রশ্ন: আলফ্রেড ওয়েগনারের ‘মহীসঞ্চরণ মতবাদ’ (Continental Drift) সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: ১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ওয়েগনার জানান যে, আজ থেকে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একটি বিশাল ভূখণ্ড হিসেবে ছিল, যার নাম ‘প্যানজিয়া’। কালক্রমে এই প্যানজিয়া ভেঙে গিয়ে স্থলভাগগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে এবং বর্তমানের মহাদেশগুলো সৃষ্টি হয়। একেই মহীসঞ্চরণ মতবাদ বলে।

২. প্রশ্ন: প্যানজিয়া ও প্যানথালাসা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একত্রে একটি বিশাল ভূখণ্ড রূপে অবস্থান করত, একে বলা হতো ‘প্যানজিয়া’। এই প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগ বা আদি মহাসাগরকে বলা হতো ‘প্যানথালাসা’।

৩. প্রশ্ন: পাত সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonics) অনুসারে ‘পাত’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর শিলামন্ডল কতগুলো ছোট-বড় কঠিন খণ্ডে বিভক্ত। এই খণ্ডগুলোকে ‘পাত’ বলা হয়। এই পাতগুলো গুরুমন্ডলের অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং অত্যন্ত ধীর গতিতে সঞ্চলন করে।

৪. প্রশ্ন: অপসারী বা গঠনকারী পাত সীমানা কাকে বলে?

উত্তর: যখন দুটি পাত পরস্পর থেকে বিপরীত দিকে দূরে সরে যায়, তখন তাকে অপসারী পাত সীমানা বলে। এই ফাঁক দিয়ে ভূগর্ভের ম্যাগমা উপরে উঠে এসে নতুন ভূত্বক বা সমুদ্র তলদেশ তৈরি করে, তাই একে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয়। (যেমন- মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা)।
 

৫. প্রশ্ন: অভিসারী বা বিনাশকারী পাত সীমানা কাকে বলে?

উত্তর: যখন দুটি পাত পরস্পরের অভিমুখে এগিয়ে আসে এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন তাকে অভিসারী পাত সীমানা বলে। এই সংঘর্ষের ফলে ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে ঢুকে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তাই একে বিনাশকারী পাত সীমানা বলা হয়। এর ফলেই ভঙ্গিল পর্বত ও সামুদ্রিক খাত সৃষ্টি হয়।

৬. প্রশ্ন: নিরপেক্ষ পাত সীমানা কাকে বলে?

উত্তর: যখন দুটি পাত পরস্পরের পাশ দিয়ে ঘষা খেয়ে সমান্তরালভাবে চলে যায় (কাছেও আসে না, দূরেও সরে না), তখন তাকে নিরপেক্ষ পাত সীমানা বলে। এই সীমানায় কোনো ভূখণ্ড সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, তবে তীব্র ভূমিকম্প ও চ্যুতির সৃষ্টি হয় (যেমন- ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রিয়ান চ্যুতি)।
 : ৭. প্রশ্ন: অভিসারী পাত সীমানায় কীভাবে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়?

উত্তর:দুটি মহাদেশীয় পাত যখন পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, তখন তাদের মাঝখানের জলাশয়ে (যেমন- টেথিস সাগর) জমে থাকা পলি রাশিতে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে। এই চাপের ফলে পলিতে ভাঁজ পড়ে হিমালয় বা আল্পসের মতো বিশাল ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়।
৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয় (Pacific Ring of Fire) বলতে কী বোঝো?

 উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের দুই উপকূল বরাবর পাত সীমানারঅস্থিরতার কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলি (প্রায় ৭০%) সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছে। মানচিত্রে দেখলে একে একটি বলয় বা আংটির মতো মনে হয়, তাই একে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয় বলা হয়।
৯. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে পার্থক্য কী?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থান থেকে ভূমিকম্পের তরঙ্গের উৎপত্তি হয়, তাকে ‘কেন্দ্র’ বলে। আর কেন্দ্রের ঠিক উলম্ব দিকে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দুতে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়, তাকে ‘উপকেন্দ্র’ বলে। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা উপকেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি হয়।
১০. প্রশ্ন: সুনামি (Tsunami) কেন সৃষ্টি হয়?
উত্তর: সমুদ্রের তলদেশে যদি শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভূমিধস বা অগ্নুৎপাত ঘটে, তবে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি আন্দোলিত হয়ে উপকূলে পাহাড়প্রমাণ ঢেউ আছড়ে পড়ে। একেই জাপানি ভাষায় সুনামি বলে। ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি এর বড় উদাহরণ।
১১. প্রশ্ন: সক্রিয়তা অনুযায়ী আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ করো। আগ্নেয়গিরিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়: উত্তর:
(ক) সক্রিয়: যেখান থেকে সবসময় বা প্রায়ই অগ্নুৎপাত হয় (যেমন- ইতালির এটনা)।
(খ) সুপ্ত: যা বর্তমানে শান্ত কিন্তু ভবিষ্যতে যেকোনো সময় অগ্নুৎপাত ঘটতে পারে (যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা)।
(গ) মৃত: যেখান থেকে ভবিষ্যতে অগ্নুৎপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই (যেমন-মায়ানমারের পোপো)।
  ১২. প্রশ্ন: গুরুমন্ডলে পরিচলন স্রোত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর:গুরুমন্ডলের নিচের অংশের ম্যাগমা বেশি উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয় এবং উপরের দিকে উঠে আসে। আবার উপরের অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভারী ম্যাগমা নিচের দিকে নেমে যায়। এইভাবে চক্রাকারে ম্যাগমোর যে স্রোত চলে, তাকে পরিচলন স্রোত বলে। এই স্রোেতই পাতগুলোকে সঞ্চলন করায়।
১৩. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ও মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
 উত্তর: যদিও ভূমিকম্পের সঠিক সময় আগে থেকে বলা কঠিন, তবে মোকাবিলায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়- ভূমিকম্প-নিরোধক বাড়ি তৈরি করা, কম্পন শুরু হলে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসা বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং লিফট ব্যবহার না করা।
১৪. প্রশ্ন: সামুদ্রিক খাত (Oceanic Trench) কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: অভিসারী পাত সীমানায় যখন একটি মহাসাগরীয় পাত অন্য একটি পাতের নিচে প্রবেশ করে, তখন সংযোগস্থলে এক গভীর খাতের সৃষ্টি হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত (১১,০২২ মিটার) এইভাবে তৈরি হয়েছে

১৫.প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে কী কী পদার্থ নির্গত হয়?
উত্তর:অমুৎপাতের ফলে ভূগর্ভ থেকে উত্তপ্ত ও গলিত ম্যাগমা (লাভা), প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প, বিভিন্ন গ্যাস (যেমন- সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড), ছাই এবং ছোট-বড় পাথরের টুকরো (পাইরোক্লাস্ট) নির্গত হয়।
১৬. প্রশ্ন: মহীসঞ্চরণ মতবাদের স্বপক্ষে দুটি প্রমাণ দাও।

উত্তর: (১) জিক্স-ফ-ফিট (Jig-saw-fit): আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের মহাদেশগুলোকে (দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা) মানচিত্রে পাশাপাশি আনলে খাঁজে খাঁজে মিলে যায়।

(২) জীবাশ্মের উপস্থিতি: দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার শিলাস্তরে একই প্রকার প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে একসময় মহাদেশগুলো যুক্ত ছিল।

১৭. প্রশ্ন: ফাটল বা চ্যুতির সঙ্গে অগ্নুৎপাতের সম্পর্ক কী?

উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে প্রচণ্ড চাপের ফলে যখন ভূত্বকের কোনো দুর্বল স্থানে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়, তখন সেই ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা ও গ্যাস প্রবল বেগে বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। এভাবেই চ্যুতি বা ফাটল বরাবর অগ্নুৎপাত ঘটে থাকে।
১৮. প্রশ্ন: পাত সঞ্চালনের প্রধান কারণ কী?

উত্তর: পাত সঞ্চালনের প্রধান কারণ হলো গুরুমন্ডলের অ্যাসথেনোস্ফিয়ার স্তরে সৃষ্ট পরিচলন স্রোত। ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপে ম্যাগমা হালকা হয়ে উপরে উঠে আসে এবং শীতল হয়ে নিচে নামে। এই চক্রাকার স্রোতের ওপর ভাসমান পাতগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যায়।
১৯. প্রশ্ন: মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: অপসারী পাত সীমানায় যখন দুটি মহাসাগরীয় পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়, তখন মাঝখানের ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের ম্যাগমা উপরে উঠে আসে। এই ম্যাগমা সমুদ্রের জলে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে সমুদ্রের তলদেশে পাহাড়ের মতো লম্বা শৈলশিরা গঠন করে।
২০. প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরিকে ‘অন্নুৎপাতের প্রকৃতি’ অনুযায়ী কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর: প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:

(১) হাওয়াইয়ীয় পর্যায়

(২) স্ট্রম্বোলীয় পর্যায়

(৩) ভলকানীয় পর্যায় এবং

(৪) পিলীয়ান পর্যায়।

অগ্নুৎপাতের তীব্রতা ও লাভার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এই ভাগগুলো করা হয়।
২১. প্রশ্ন: রিখটার স্কেল সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: ১৯৩৫ সালে চার্লস রিখটার ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার জন্য এই স্কেল উদ্ভাবন করেন। এটি একটি লগারিদমিক স্কেল যার মান ০ থেকে ১০ পর্যন্ত হয়। এই স্কেলে এক ঘর বৃদ্ধি পাওয়া মানে ভূমিকম্পের শক্তি প্রায় ৩২ গুণ বেড়ে যাওয়া।
২২. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রের মধ্যে ৩টি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (১) কেন্দ্র থাকে ভূ-অভ্যন্তরে, কিন্তু উপকেন্দ্র থাকে ভূপৃষ্ঠে। (২) কেন্দ্রের ঠিক উলম্ব উপরের বিন্দু হলো উপকেন্দ্র। (৩) কেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের তরঙ্গের উৎপত্তি হয়, আর উপকেন্দ্রে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়।
২৩. প্রশ্ন: গিজার ও উষ্ণ প্রস্রবণের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: উষ্ণ প্রস্রবণে ভূগর্ভস্থ গরম জল স্বাভাবিকভাবে চুইয়ে বা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু গিজারের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ গরম জল ও বাষ্প নিয়মিত ব্যবধানে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফোয়ারার মতো প্রবল বেগে স্তম্ভাকারে আকাশে ওপরের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়।
২৪. প্রশ্ন: ‘সুনামি’ শব্দের অর্থ কী? এর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ‘সুনামি’ একটি জাপানি শব্দ, ‘সু’ মানে পোতাশ্রয় এবং ‘নামি’ মানে ঢেউ। সুনামির প্রভাবে উপকূলে বিশাল জলোচ্ছ্বাস ঘটে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে এবং চাষের জমিতে লবণাক্ত জল ঢুকে জমির উর্বরতা নষ্ট করে দেয়।
২৫. প্রশ্ন: ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি কেন অভিসারী পাত সীমানায় ঘটে?

উত্তর: যখন দুটি মহাদেশীয় পাত পরস্পরের অভিমুখে এগিয়ে আসে, তখন তাদের মাঝখানের সঞ্চিত পলি দুপাশ থেকে আসা প্রচণ্ড পার্শ্বচাপের ফলে কুঁচকে বা ভাঁজ খেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। এভাবেই অভিসারী সীমানায় ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়।
২৬. প্রশ্ন: পাত সংস্থান তত্ত্বে ‘বড় পাত’ ও ‘ছোট পাত’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: শিলামন্ডলের বড় ও বিস্তৃত খণ্ডগুলোকে বড় পাত বলে (যেমন- এশিয়াটিক পাত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত)। আর তুলনামূলকভাবে আয়তনে অনেক ছোট খণ্ডগুলোকে ছোট বা মাঝারি পাত বলা হয় (যেমন- নাজকা পাত, কোকোস পাত)।
২৭. প্রশ্ন: লাভা ও পাইরোক্লাস্ট বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা বলে। আর অগ্নুৎপাতের সময় লাভার সঙ্গে যে জ্বলন্ত ছাই, ছোট-বড় পাথরের টুকরো ও ধূলিকণা প্রবল বেগে ছিটকে আসে, তাদের একত্রে পাইরোক্লাস্ট বলা হয়।
২৮. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের ‘পি’ ও ‘এস’ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (১) পি (P) তরঙ্গ বা প্রাথমিক তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুতগামী এবং কঠিন-তরল সব মাধ্যমেই যেতে পারে। (২) এস (S) তরঙ্গ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ অপেক্ষাকৃত ধীরগতির এবং এটি তরল মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না।
২৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত বেশি হয় কেন?

উত্তর: কারণ এই অঞ্চলটি বিশ্বের প্রধান বিনাশকারী বা অভিসারী পাত সীমানার ওপর অবস্থিত। এখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সঙ্গে আমেরিকা ও এশিয়াটিক পাতের অনবরত সংঘর্ষ ও পাতগুলোর নিচে ঢুকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যার ফলে এখানে ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত অস্থিত।
৩০. প্রশ্ন: অস্থিত পৃথিবী অধ্যায়ে ‘সঞ্চরণশীল মহাদেশ’ ধারণাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: এই ধারণাটিই প্রথম প্রমাণ করে যে মহাদেশগুলো স্থির নয়। এর মাধ্যমেই পরবর্তীতে ‘পাত সংস্থান তত্ত্ব’ গড়ে ওঠে, যা পৃথিবীর বিভিন্ন পর্বত গঠন, সমুদ্রের বিস্তার, ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাতের কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top