
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল
(আমাদের পৃথিবী)
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রথম অধ্যায়
‘পৃথিবীর অন্দরমহল’
অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. প্রশ্ন: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত কিমি?
উত্তর: ৬,৩৭০ কিমি।
২. প্রশ্ন: দক্ষিণ আফ্রিকার পৃথিবীর গভীরতম সোনার সোনার খনিটির নাম কী
উত্তর: রবিনসন প্যডিপ।
৩. প্রশ্ন: রবিনসন ডিপ সোনার খনিটি কত কিমি গভীর?
উত্তর: প্রায় ৩-৪ কিমি।
৪. প্রশ্ন: পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে।
৫. প্রশ্ন: রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের গর্তটির গভীরতা কত?
উত্তর: ১২ কিমি।
৬. প্রশ্ন: পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে গেলে কত কিমি গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে?
উত্তর: ৬,৩৭০ কিমি।
প্রশ্ন: প্রতি কত মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়ে?
উত্তর: প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায়।
৮. প্রশ্ন: ভূ-তাপ (Geothermal Energy) কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপকে ভূ-তাপ বলে।
৯. প্রশ্ন: ম্যাগমা কাকে বলে?
উত্তর: ভূগর্ভের উত্তপ্ত ও গলিত সান্দ্র মিশ্রণকে ম্যাগমা বলে।
১০. প্রশ্ন: লাভা কাকে বলে?
উত্তর: ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে তখন তাকে লাভা বলে।
১১. প্রশ্ন: পৃথিবীর গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: ২.৬ থেকে ৩.৩ গ্রাম/ঘন সেমি (পুরো পৃথিবীর ক্ষেত্রে ৫.৫ গ্রাম/ঘন সেমি)।
১২. প্রশ্ন: ঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর: একক আয়তনে পদার্থের ভরকে ঘনত্ব বলে।
১৩. প্রশ্ন: পৃথিবীর কেন্দ্রে পদার্থের ঘনত্ব কত?
উত্তর: প্রায় ১১ গ্রাম/ঘন সেমি।
১৪.প্রশ্ন: সিসমোগ্রাফ কী?
.উত্তর: ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র।
১৫প্রশ্ন: ভূ-অভ্যন্তরের কয়টি স্তর ও কী কী?
উত্তর: ৩টি স্বর- ভূত্বক, গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল।
১৬.প্রশ্ন: ভূত্বক কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর উপরের পাতলা ও কঠিন স্তরকে ভূত্বক বলে।
১৭.প্রশ্ন: মহাসাগরীয় ভূত্বক প্রধানত কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর: ব্যাসাল্ট শিলা।
১৮.প্রশ্ন: মহাদেশীয় ভূত্বক প্রধানত কোন শিলা দিয়ে গঠিত? ত?
উত্তর: গ্র্যানাইট শিলা।
১৯. প্রশ্ন: ‘শিয়াল’ (SIAL) স্তর কোন কোন উপাদান দিয়ে গঠিত?
উত্তর: সিলিকা (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI)।
২০. প্রশ্ন: ‘সিমা’ (SIMA) স্তর কোন কোন উপাদান দিয়ে গঠিত?
উত্তর: সিলিকা (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg)।
২১. প্রশ্ন: কনরাড বিযুক্তি রেখা কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: শিয়াল ও সিমা স্তরের মাঝে।
২২. প্রশ্ন: মোহোরোভিসিক বা মোহো বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ভূত্বক ও গুরুমন্ডলের মাঝে।
২৩. প্রশ্ন: গুরুমন্ডল কাকে বলে?
উত্তর: ভূত্বক ও কেন্দ্রমন্ডলের মধ্যবর্তী অংশকে গুরুমন্ডল বলে।
২৪. প্রশ্ন: গুরুমন্ডল কত কিমি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত?
উত্তর: প্রায় ২,৯০০ কিমি।
২৫. প্রশ্ন: ক্রফেসিমা (CROFESIMA) স্তরের প্রধান উপাদানগুলি কী কী?
উত্তর: ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম।
২৬. প্রশ্ন: নিফেসিমা (NIFESIMA) স্তরের প্রধান উপাদানগুলি কী কী?
উত্তর: নিকেল, লোহা, সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম।
প্রশ্ন: রেপিত্তি বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
২৭. উত্তর: ক্রফেসিমা ও নিফেসিমার মাঝে।
২৮. প্রশ্ন: অ্যাসথেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: দুর্বল স্তর।
২৯. প্রশ্ন: অ্যাসথেনোস্ফিয়ার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: গুরুমন্ডলের উপরের অংশে।
৩০. প্রশ্ন: পাত (Plate) কাকে বলে?
উত্তর: ভূত্বক ও গুরুমন্ডলের ওপরের অংশ নিয়ে গঠিত কঠিন খণ্ডকে পাত বলে।
৩১. প্রশ্ন: কেন্দ্রমন্ডল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকের স্তরকে কেন্দ্রমন্ডল বলে।
৩২. প্রশ্ন: ‘নিফে’ (NIFE) কী?
উত্তর: কেন্দ্রমন্ডলের প্রধান উপাদান নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe)।
৩৩. প্রশ্ন: গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডলের মাঝে।
৩৪. প্রশ্ন: লেহম্যান বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: অন্ত-কেন্দ্রমন্ডল ও বহি-কেন্দ্রমন্ডলের মাঝে।
৩৫. প্রশ্ন: অন্ত-কেন্দ্রমন্ডল কোন অবস্থায় আছে?
উত্তর: প্রচণ্ড চাপে কঠিন অবস্থায়।
৩৬. প্রশ্ন: বহি-কেন্দ্রমন্ডল কোন অবস্থায় আছে?
উত্তর: সান্দ্র বা অর্ধ-তরল অবস্থায়।
৩৭. প্রশ্ন: আইসল্যান্ডে ভূতাপ শক্তি দিয়ে কী করা হ
উত্তর: বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৩৮. প্রশ্ন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত?
উত্তর: ১৫° সেলসিয়াস।
৩৯. প্রশ্ন: ভূত্বক ও গুরুমন্ডলের ওপরের ওপরের অংশ মিলে কোন মন্ডল গঠিত হয়?
উত্তর: শিলামন্ডল।
৪০. প্রশ্ন: কেন্দ্রমন্ডল কত কিমি গভীরতা থেকে শুরু হয়?
উত্তর: ২,৯০০ কিমি।
প্রশ্ন: পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা কত?
৪১ উত্তর: প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস।
৪২. প্রশ্ন: পি-তরঙ্গ (P-Wave) কাকে বলে?
উত্তর: প্রাথমিক ভূমিকম্প তরঙ্গ যা কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যম দিয়ে চলতে পারে।
৪৩. প্রশ্ন: এস-তরঙ্গ (S-Wave) কোন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না?
উত্তর: তরল বা অর্ধ-তরল মাধ্যমের মধ্য দিয়ে।
৪৪. প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরি দিয়ে কী বের হয়?
উত্তর: উত্তপ্ত ম্যাগমা ও গ্যাস।
৪৫. প্রশ্ন: পৃথিবীর চুম্বকত্ব কোথায় সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: বহি-কেন্দ্রমন্ডলে।
৪৬. প্রশ্ন: শিয়াল স্তরটি সিমার চেয়ে ভারী না হালকা?
উত্তর: হালকা।
৪৭. প্রশ্ন: বিযুক্তি রেখা কী?
উত্তর: দুটি ভিন্ন ঘনত্বের স্তরের বিভাজিকা তল।
৪৮. প্রশ্ন: শিলামন্ডলের গভীরতা কত?
উত্তর: প্রায় ১০০ কিমি। ৪৯.প্রশ্ন: পৃথিবীর সবথেকে পুরু স্তর কোনটি?
উত্তর: কেন্দ্রমন্ডল (ব্যাসার্ধের হিসেবে)।
৫০.প্রশ্ন: লাভা ও ম্যাগমোর প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ম্যাগমা থাকে ভূগর্ভে, লাভা থাকে ভূপৃষ্ঠের ওপরে।

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
============================================================================
১. প্রশ্ন: ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে শিলা যখন গলিত ও সান্দ্র অবস্থায় থাকে, তখন তাকে ম্যাগমা বলে। এই ম্যাগমা যখন আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বা ভূত্বকের ফাটল দিয়ে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলা হয়। অর্থাৎ ম্যাগমা থাকে ভূ-অভ্যন্তরে আর লাভা থাকে ভূপৃষ্ঠের ওপরে।
২. প্রশ্ন: পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ কেন উত্তপ্ত?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময় ছিল একটি অত্যন্ত তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। কয়েকশ কোটি বছর ধরে তাপ বিকিরণ করে এটি শীতল হলেও এর অভ্যন্তরভাগ এখনও অত্যন্ত গরম। এছাড়া ভূগর্ভের তেজস্ক্রিয় পদার্থের (যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম) স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজন এবং প্রচণ্ড চাপের কারণে পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ এখনও তপ্ত। ৩. প্রশ্ন: আমরা পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৩৭০ কিমি গভীরে অবস্থিত। ভূগর্ভে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। সেই হিসাবে কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস। এই প্রচণ্ড তাপ ও কেন্দ্রের অসহ্য চাপের কারণে মানুষের পক্ষে বা কোনো যন্ত্রের পক্ষে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব নয়।
৪. প্রশ্ন: ভূ-তাপ শক্তি কাকে বলে? এর একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে সঞ্চিত তাপকে ভূ-তাপ শক্তি বলে। এই তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যেমন- আইসল্যান্ড তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অনেকটা অংশই এই ভূ-তাপ শক্তি থেকে পায়।
৫. প্রশ্ন: শিয়াল (SIAL) ও সিমা (SIMA)-র মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: মহাদেশের নিচে ভূত্বকের যে স্তরটি সিলিকা (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দিয়ে গঠিত, তাকে শিয়াল বলে। এটি হালকা গ্র্যানাইট শিলা দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে, মহাসাগরের নিচে ভূত্বকের যে স্তরটি সিলিকা (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দিয়ে গঠিত, তাকে সিমা বলে। এটি ভারী ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে তৈরি।
৬. প্রশ্ন: বিযুক্তি রেখা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্তরের ঘনত্ব, উপাদান এবং রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য আলাদা। ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলি যখন এক স্তর থেকে অন্য স্তরে প্রবেশ করে, তখন তাদের গতিবেগ ও অভিমুখ বদলে যায়। দুটি স্তরের মধ্যবর্তী যে সীমানা বরাবর এই পরিবর্তন ঘটে, তাকেই বিযুক্তি রেখা বলা হয়।
৭. প্রশ্ন: অ্যাসথেনোস্ফিয়ার কী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: শিলামন্ডলের নিচে ও গুরুমন্ডলের উপরের অংশে একটি সান্দ্র বা অর্ধ-তরল স্তর আছে, যাকে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার বলে। এর বৈশিষ্ট্য হলো- এটি অত্যন্ত নমনীয় ও প্লাস্টিক প্রকৃতির। প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এখানকার শিলা গলিত অবস্থায় থাকে এবং এখানেই পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয় যা পাতের চলনে সাহায্য করে।
৮. প্রশ্ন: পরিচলন স্রোত কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: গুরুমন্ডলের উত্তপ্তম্যাগমা হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে আসে এবং তুলনামূলক শীতল ম্যাগমা নিচের দিকে নেমে যায়। এর ফলে ভূগর্ভে একপ্রকার স্রোত সৃষ্টি হয়, একেই পরিচলন স্রোত বলে। এই স্রোতের ফলেই ভূপৃষ্ঠের পাতগুলি একস্থান থেকে অন্যস্থানে সরে যায়।
৯. প্রশ্ন: শিলামন্ডল কাকে বলে?
উত্তর: ভূত্বক এবং গুরুমন্ডলের উপরের অংশ (প্রায় ১০০ কিমি গভীরতা পর্যন্ত) নিয়ে গঠিত পৃথিবীর কঠিন আবরণকে শিলামন্ডল বলে।এটি বিভিন্ন খনিজ ও শিলা নিয়ে গঠিত । এর উপরে আমরা বসবাস করি।
১০. প্রশ্ন: অন্ত-কেন্দ্রমন্ডল কঠিন অবস্থায় আছে কেন?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস হওয়া সত্ত্বেও অন্ত-কেন্দ্রমন্ডল কঠিন অবস্থায় রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো প্রচণ্ড চাপ। পৃথিবীর ওপরের স্তরগুলোর বিপুল ভার বা চাপের ফলে কেন্দ্রের পদার্থগুলো তরল হতে পারে না, ফলে তা অত্যন্ত ঘন ও কঠিন অবস্থায় থাকে।
১১. প্রশ্ন: পৃথিবীর চুম্বকত্ব কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীর বহি-কেন্দ্রমন্ডলে লোহা ও নিকেল অত্যন্ত তপ্ত ও সান্দ্র অবস্থায় আছে। এই অর্ধ-তরল লোহা পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতে থাকে এবং এক বিশাল তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করে, যা থেকে পৃথিবীর চুম্বকত্ব বা চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে।
১২. প্রশ্ন: বিযুক্তি রেখা কেন সৃষ্টি হয়?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময় যখন তরল অবস্থায় ছিল, তখন ভারী পদার্থগুলো কেন্দ্রের দিকে চলে যায় এবং হালকা উপাদানগুলো বাইরের দিকে ভেসে ওঠে। উপাদানের এই পার্থক্যের ফলে পৃথিবীর ভেতরে বিভিন্ন ঘনত্বের স্তরের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুটি ভিন্ন ঘনত্বের স্তরের মিলনস্থলেই বিযুক্তি রেখা তৈরি হয়।
১৩. প্রশ্ন: অমুৎপাত কীভাবে ভূ-অভ্যন্তরের পরিচয় দেয়?
উত্তর: অগ্নুৎপাতের সময় আগ্নেয়গিরি থেকে যে উত্তপ্ত ম্যাগমা, গ্যাস ও জলীয় বাষ্প বেরিয়ে আসে, তা পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা ভূগর্ভের তাপমাত্রা, চাপ এবং পদার্থের গঠন সম্পর্কে ধারণা পান। এর থেকেই বোঝা যায় যে পৃথিবীর ভেতরে কোনো কোনো স্তর গলিত অবস্থায় রয়েছে।
১৪. প্রশ্ন: মহাসাগরীয় ভূত্বক ও মহাদেশীয় ভূত্বকের প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: মহাসাগরীয় ভূত্বক প্রধানত ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে গঠিত এবং মহাদেশীয় ভূত্বকের তুলনায় বেশি ভারী ও পাতলা। অন্যদিকে, মহাদেশীয় ভূত্বক গ্র্যানাইট শিলা দিয়ে গঠিত এবং এটি তুলনামূলক হালকা কিন্তু অনেক বেশি পুরু।
১৫. প্রশ্ন: ভূমিকম্পের তরঙ্গ কীভাবে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন জানতে সাহায্য করে?
উত্তর: ভূমিকম্পের পি (P) ও এস (S) তরঙ্গের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পৃথিবীর স্তরবিন্যাস বোঝা যায়। ‘P’ তরঙ্গ কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমেই যেতে পারে, কিন্তু ‘S’ তরঙ্গ তরল মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। যেখানে ‘S’ তরঙ্গ থেমে যায়, তা থেকে বোঝা যায় ভূগর্ভের সেই স্তরটি তরল বা সান্দ্র অবস্থায় আছে।
১৬. প্রশ্ন: পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার সময় কেমন ছিল এবং কেন তা বর্তমানে এমন অবস্থায় এসেছে?
উত্তর: পৃথিবী প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হওয়ার সময় একটি অত্যন্ত তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ছিল। সময়ের সাথে সাথে এটি বাইরের দিক থেকে তাপ বিকিরণ করে শীতল ও কঠিন হতে শুরু করে। এর ফলে হালকা উপাদানগুলো উপরে ভেসে ওঠে এবং ভারী উপাদানগুলো অভিকর্ষজ বলের কারণে কেন্দ্রের দিকে থিতিয়ে পড়ে। এইভাবে পৃথিবীর ভেতরে বিভিন্ন স্তরের সৃষ্টি হয়েছে।
১৭. প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিতে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার-এর ভূমিকা কী?
উত্তর: অ্যাসথেনোস্ফিয়ার একটি সান্দ্র বা অর্ধ-তরল স্তর। এখানে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা ভূত্বকের নিচে থাকা পাতগুলোকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। এই পাতের চলনের ফলেই ভূত্বকে ফাটল বা ঘর্ষণ তৈরি হয়, যার ফলে আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত ঘটে এবং ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
১৮. প্রশ্ন: কেন্দ্রমন্ডলকে কেন ‘নিফে’ (NIFE) বলা হয়?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের স্তর বা কেন্দ্রমন্ডল মূলত অত্যন্ত ভারী দুটি খনিজ উপাদান দিয়ে গঠিত। এগুলি হলো নিকেল (Ni) এবং লোহা (Fe)। এই দুই উপাদানের নামের প্রথম দুটি অক্ষর মিলিয়ে এই স্তরকে সংক্ষেপে ‘নিফে’ বলা হয়।
১৯. প্রশ্ন: ক্রফেসিমা (CROFESIMA) ও নিফেসিমা (NIFESIMA)-র মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: গুরুমন্ডলের উপরের অংশ (৩০-৭০০ কিমি গভীরতা) ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকা (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দিয়ে গঠিত, তাই একে ক্রফেসিমা বলে। অন্যদিকে, গুরুমন্ডলের নিচের অংশ (৭০০-২৯০০ কিমি গভীরতা) নিকেল (Ni), লোহা (Fe), সিলিকা (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দিয়ে গঠিত হওয়ায় একে নিফেসিমা বলে।
২০. প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে তাপমাত্রার পরিবর্তন কেমন হয়?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ভেতরে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা তত বাড়তে থাকে। প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় প্রায় ১০ সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়ে। পৃথিবীর একদম কেন্দ্রে এই তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াসে।
২১. প্রশ্ন: কোলা উপদ্বীপের ১২ কিমি গভীর গর্ত থেকে কী জানা গেছে?
উত্তর: রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের এই গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি থেকে জানা গেছে যে, ভূ-অভ্যন্তরে গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা ও ঘনত্ব কীভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ভূ-অভ্যন্তরের শিলার প্রকৃতি ও উপাদানের গঠন সম্পর্কেও অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া গেছে।
২২. প্রশ্ন: ভূত্বকের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: ভূত্বক হলো পৃথিবীর বাইরের শীতল ও কঠিন পাতলা আবরণ। এর গড় গভীরতা প্রায় ৩০ কিমি (মহাদেশের নিচে বেশি এবং সমুদ্রের নিচে কম)। এই স্তর শিয়াল ও সিমা নামে দুটি উপ-স্তরে বিভক্ত। এটি বিভিন্ন প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদানে গঠিত।
২৩. প্রশ্ন: বহি-কেন্দ্রমন্ডল কেন তরল অবস্থায় থাকে?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের ঠিক বাইরের স্তর অর্থাৎ বহি-কেন্দ্রমন্ডলে তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে লোহা ও নিকেলের মতো ধাতুগুলো গলে যায়। যদিও এখানে চাপ অনেক, কিন্তু তাপমাত্রা চাপের তুলনায় বেশি প্রভাবশালী হওয়ায় এই স্তরটি তরল বা সান্দ্র অবস্থায় থাকে।
২৪. প্রশ্ন: মোহো বিযুক্তি ও গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ভূত্বক ও গুরুমন্ডলের সংযোগস্থলে মোহোরোভিসিক বা মোহো বিযুক্তি রেখা অবস্থিত। অন্যদিকে, গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডলের সংযোগস্থলে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা অবস্থিত।
২৫. প্রশ্ন: পৃথিবীর গভীরতম সোনার খনি রবিনসন ডিপ সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর: দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রবিনসন ডিপ পৃথিবীর গভীরতম সোনার খনি। এর গভীরতা প্রায় ৩-৪ কিমি। এখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভূগর্ভের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও অসহনীয় চাপ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।
২৬. প্রশ্ন: লাভা ও ম্যাগমোর ভৌত অবস্থা কেমন হয়?
উত্তর: ম্যাগমা হলো ভূগর্ভের অত্যন্ত উত্তপ্ত, গ্যাস ও বাষ্প মিশ্রিত তরল শিলা। এটি সান্দ্র বা থকথকে হয়। যখন এই ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে লাভা হিসেবে বেরিয়ে আসে, তখন বাতাসের সংস্পর্শে এসে গ্যাস ও বাষ্প হারিয়ে কিছুটা পাতলা হয় এবং ক্রমে শীতল হয়ে কঠিন শিলা গঠন করে।
২৭. প্রশ্ন: পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘনত্ব কেন সবথেকে বেশি?
উত্তর: পৃথিবী যখন গলিত অবস্থায় ছিল, তখন লোহার মতো ভারী ও ঘন উপাদানগুলো পৃথিবীর টানে কেন্দ্রের দিকে থিতিয়ে পড়েছিল। এছাড়া ওপরের স্তরের প্রবল চাপের কারণে কেন্দ্রের উপাদানগুলো সংকুচিত হয়ে অত্যন্ত ঘন হয়ে যায়। এই কারণেই কেন্দ্রের ঘনত্ব সবথেকে বেশি (প্রায় ১১-১৩ গ্রাম/ঘন সেমি)।
২৮. প্রশ্ন: শিয়াল ও সিমা স্তরের মধ্যে কোন বিযুক্তি রেখা অবস্থিত? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: শিয়াল ও সিমা স্তরের মধ্যে কনরাড বিযুক্তি রেখা অবস্থিত। এটি মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় ভূত্বকের বিভাজিকা তল হিসেবে কাজ করে এবং এই স্তরে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
২৯. প্রশ্ন: গুরুমন্ডলকে কেন পৃথিবীর বৃহত্তম স্তর বলা হয়?
উত্তর: পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং মোট ভরের প্রায় ৬৮ শতাংশ অংশই গুরুমন্ডল দখল করে আছে। এটি ভূত্বকের নিচে প্রায় ২৯০০ কিমি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই একে পৃথিবীর বৃহত্তম স্তর বলা হয়।
৩০. প্রশ্ন: ভূ-তাপ শক্তি ব্যবহারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেমন?
উত্তর: কয়লা বা পেট্রোলিয়ামের মতো প্রচলিত জ্বালানি শেষ হয়ে আসার কারণে ভূ-তাপ শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং অফুরন্ত। পৃথিবীর অনেক তপ্ত প্রস্রবণ ও আগ্নেয়গিরি প্রবণ অঞ্চলে এই শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।


©kamaleshforeducation.in(2023)



