তৃতীয় শ্রেণির বাংলা

(পাতাবাহার) বইয়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর:

*********************************************************  

তৃতীয় পাঠ:
ফুল
(সুখলতা রাও)

********************************************************* 

  ১. পরিরা জাদু জানে। তারা ইচ্ছা করলেই অনেক কিছু বদলে ফেলতে পারে। তাদের আছে জাদুদণ্ড। ধরো তুমিও একদিন পেয়ে গেলে এমনই এক জাদুদণ্ড। বদলে ফেলো তোমার অপছন্দের তিনটি জিনিস, কী কী বদলালে লিখে রাখো:


উত্তর: ১. প্রথমেই প্রতিটি দিন বদলে রবিবার করে দেবো।
উত্তর: ২. পড়ার বইগুলি কমিয়ে দেবো।
উত্তর: ৩. বাবা, মা যাতে না বকে, তাই তাদের শান্ত করে দেবো।


২. নীচে দেওয়া বাক্যগুলিতে কিছু শব্দ বাদ পড়েছে। পাশের শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দগুলি নিয়ে বাক্যগুলি ঠিক করে দাও

(উপরে, নীচে, পূর্ব, পশ্চিম, আলো, অন্ধকার, টক, মিষ্টি, খারাপ, ভালো)


২.১ কাঁচা আম খেতে  ——, পাকা আম —– হয়।

উত্তর-২.১ কাঁচা আম খেতে টক, পাকা আম মিষ্টি হয়।

  ২.২ নাগরদোলনা বারবার ——- ওঠে, আবার —- নামে। 

উত্তর-২.২ নাগরদোলনা বারবার উপরে ওঠে, আবার নীচে নামে। 

২.৩ সকালবেলা সূর্য উঠলে চারিদিকে ——- আর রাতের বেলা সব  —— হয়ে যায়।

উত্তর-২.৩ সকালবেলা সূর্য উঠলে চারিদিকে আলো আর রাতেরবেলা সব অন্ধকার হয়ে যায়।


২.৪ আমি যদি দুষ্টুমি করি, সবাই আমাকে —- বলবে, কিন্তু যদি কথা শুনি সবাই বলবে ——-।

উত্তর-২.৪ আমি যদি দুষ্টুমি করি, সবাই আমাকে খারাপ বলবে, কিন্তু যদি কথা শুনি সবাই বলবে ভালো।


২.৫ —– দিকে সূর্য উঠলেও —— দিকে অস্ত যায়।

উত্তর-২.৫ পূর্ব দিকে সূর্য উঠলেও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।


৩. নীচে কতগুলি ফাঁকা জায়গা দেওয়া হল। ঠিক শব্দ বেছে বাক্য গঠন করো:


১৩.১ নানা রঙের কুঁড়ি থেকে হয় নানা রঙের ———- (ফল/পাতা/ফুল)।

উত্তর-১৩.১- নানা রঙের কুঁড়ি থেকে হয় নানা রঙের ফুল 


১৩.২ পৃথিবীর পাতাভরা বাগানে নেমে এল————- (জলপরিরা/ফুলপরিরা/বনপরিরা)।

উত্তর-১৩.২ পৃথিবীর পাতাভরা বাগানে নেমে এল (ফুলপরিরা)।


১৩.৩———–(রোদ/বৃষ্টি/ আলো) এসে তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিত।

উত্তর-১৩.৩ আলো এসে তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিত।


৩.৪ বাতাস পাতা ——(শুঁকে শুঁকে /উড়িয়ে/ঝরিয়ে) চলে গেল।

উত্তর-৩.৪ বাতাস পাতা শুঁকে শুঁকে চলে গেল।


৩.৫ এখনও নাকি ফুলপরিরা নেমে আসে———(চাঁদে/ পৃথিবীতে/আকাশে।

উত্তর-৩.৫ এখনও নাকি ফুলপরিরা নেমে আসে পৃথিবীতে।


৪. ফুলের মধ্যে কিছু গুণ আছে যা অন্যকে সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করে। নীচে গুণগুলি দিয়ে দেওয়া হল। শব্দগুলির ভাব বজায় রেখে নতুন বাক্য তৈরি করো:


গুণ: স্নিগ্ধতা – বাক্য: শরতের সকালে শিউলি ফুলের গন্ধে মন স্নিগ্ধ হয়ে যায়।
গুণ: পবিত্রতা – বাক্য: বিদ্যালয়ের পবিত্রতা ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষা করা উচিত।
গুণ: সুগন্ধ- বাক্য: শরৎকালে শিউলি ফুলের সুগন্ধে বাতাস ম ম করছে।
গুণ: বর্ণময়তা – বাক্য: বার্ষিক অনুষ্ঠানের বর্ণময়তা সকলকে মুগ্ধ করেছে।
গুণ: সৌন্দর্য- বাক্য: ফুলের সৌন্দর্য অকৃত্রিম।


৫. দু-একটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:


৫.১ কোন সময় পৃথিবীতে ফুল ছিল না বলে লেখক আমাদের জানিয়েছেন?
উত্তর: অনেক অনেক কাল আগে, মানুষ তখনও জন্মায়নি। মাটির ওপর শুধু বড়ো বড়ো ঘাস আর পাতাগাছ ছিল সেইসময় পৃথিবীতে ফুল ছিল না।
 ৫.২ যখন ফুলেরা এই পৃথিবীতে ছিল না, তখন পৃথিবীর অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: যখন ফুলেরা এই পৃথিবীতে ছিল না, তখন পৃথিবীর মাটির ওপর ছিল বড়ো বড়ো ঘাস আর পাতাগাছ।
 ৫.৩ ফুলপরিরা কেমন পোশাক পরে? তারা কী খায়?
উত্তর: ফুলপরিরা ফুলের পাপড়ির পোশাক পরে। তারা ফুলের মধু খায়।
৫.৪ ফুলপরিদের নিয়ে আসা বীজ থেকে যে গাছ হয়েছিল, তাতে কী কী রঙের ফুল ফুটেছিল?
উত্তর: ফুলপরিদের নিয়ে আসা বীজ থেকে যে গাছ হয়েছিল, তাতে সাদা, নীল, হলদে, লাল, বেগুনি রঙের ফুল ফুটেছিল।
 ৫.৫ গভীর জঙ্গলে সারারাত ফুলপরিরা কী করে?
উত্তর: গভীর জঙ্গলে সারারাত ফুলপরিরা ফুলবনে হাত ধরাধরি করে নাচ করে। ভোর না হতেই চলে যায়।
৫.৬ গভীর জঙ্গলেই বা তারা কেন নেমে আসে?
উত্তর: গভীর জঙ্গলে ফুলবন থাকে, সেখানে কোনো মানুষ থাকে না। তাই রাতের বেলার চাঁদ উঠলে গভীর জঙ্গলের ফুলবনে ফুলপরিরা নেমে আসে।


৬. এই গল্পে বলা হয়েছে পরিরা কীভাবে পৃথিবীতে ফুল ফোটালো। তুমি তোমার নিজের ভাষায় সেই ঘটনাটি লেখো:


উত্তর: ফুলপরিরা অনেক কাল আগে পৃথিবীতে এসে দেখেছিল যে সেখানে ফুল নেই শুধু আছে পাতা। এরপর সেই বীজ থেকে গাছ গজাল। এভাবে গাছে এল কুঁড়ি। এরপর সেই সেই কুঁড়ি ফুটল আর সাদা, লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি ফুলে পৃথিবী ভরে গেল। বন সুন্দর হয়ে উঠল এভাবেই ফুলপরিরা পৃথিবীতে ফুল ফুটিয়েছিল।

৭. কোন ঋতুতে কী কী ফুল ফোটে তা নীচের ছকে লেখো:


গ্রীষ্ম – উত্তর: টগর/ জবা
বর্ষা – উত্তর: কাঠবাদাম ফুল
শরৎ – উত্তর: স্থলপদ্ম / শিউলি
হেমন্ত – উত্তর: গাঁদা / চন্দ্রমল্লিকা
শীত – উত্তর: দোপাটি/ ডালিয়া
বসন্ত- উত্তর: জুঁই। বেল


৮. একই অর্থের শব্দ পাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:


বসুধা – উত্তর: পৃথিবী।
মৃত্তিকা- উত্তর: মাটি।
বায়ু – উত্তর: বাতাস।
বৃক্ষ – উত্তর: গাছ।
অলি- উত্তর: মৌমাছি।
তৃণ – উত্তর: ঘাস


৯. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:

       

ফুল         রাত

পরি         মধু

বাগান    পোশাক

পাপড়ি   গাছ

 

উত্তর:–
ফুল – উত্তর: মধু
পরি – উত্তর: রাত
বাগান- উত্তর: গাছ
পাপড়ি – উত্তর: পোশাক


১০. বর্ণ বিশ্লেষণ করো:


পৃথিবী- উঃ- প+ঋ+থ+ই+ব+ঈ
মৌমাছি –উঃ- ম+ও+ম+আ+ ছ + ই
চমৎকার – উঃ- চ+ অ+ম্+অ+ত+ক+আ+র+অ
জঙ্গল- উঃ -জ+ অ+ঙ+গ+অ+ল + অ
মানুষ – উঃ- ম + আ +ন+উ+ষ+ অ


১১. কটি বাক্য খুঁজে পেলে লেখো:


অনেক অনেক কাল আগে, যখন মানুষ জন্মায়নি, তখন পৃথিবীতে ফুল ছিল না। মাটির ওপর ছিল কেবল বড়ো বড়ো ঘাস আর পাতাগাছ। আলো এসে ফুলদের খুঁজে খুঁজে যেত। বাতাস পাতা শুঁকে শুঁকে চলে যেত। হায়, ফুল নেই।
উত্তর: পাঁচটি বাক্য খুঁজে পেলাম।


১২. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:


রাত – উত্তর: দিন
বড়ো- উত্তর: ছোটো
আগে – উত্তর: পরে
যেত- উত্তর: আসত
অনেক- উত্তর:অল্প 


১৩. কার্য-কারণ সম্পর্ক অনুযায়ী পাশে পাশে বাক্য লেখো:


১৩.১ পরিরা দুঃখে চলে যেত।
উত্তর: পরিরা দুঃখে চলে যেত কারণ ফুল নেই।
১৩.২ চলো, আমরা ফুল নিয়ে আসি।
উত্তর: চলো আমরা ফুল নিয়ে আসি কারণ এমন চমৎকার জায়গায় ফুল নেই।
১৩.৩ ঘাস শুয়ে পড়েছে।
উত্তর: ঘাস শুয়ে পড়েছে কারণ সারারাত ফুলপরিরা নাচ করে ঘাসের ওপর।


১৪. নীচের সূত্রগুলি কাজে লাগিয়ে শব্দ দুটি পূরণ করো:

(ছক অনুযায়ী উত্তর)


পাশাপাশি:
১. আকাশ, নদী, গাছপালাসহ আমাদের চারপাশ। – উত্তর: পরিবেশ
৩. ফুল বিশেষ। উত্তর: জবা
৫. মৌমাছির আরেক নাম। উত্তর: অল

৭. ছয় ঋতুর মধ্যে সবার শেষে আসে। উত্তর: বসন্ত

৯. ‘আমরা সবাই মিলে… বেঁধে খেলতে যাই।’– উত্তর: দল
১০. পরিরা খুশি হলে যা দেয়। উত্তর: বর


উপর-নীচ:
১. এরা কল্পনা-রাজ্যের বাসিন্দা। উত্তর: পরি
২. খুব জোরে হলে কানের পর্দা ফেটে যায়। – উত্তর: শব্দ
৪. এর মধ্যেও ফুলগাছ লাগানো হয়। উত্তর: টব
৫. মন বা… সর্বদা পবিত্র রাখতে হয়। উত্তর: অন্তর
৬. সূর্য ও মামা… ও মামা। উত্তর: চাঁদ
৮. ‘পাখি… কবে রব, রাতি পোহাইল।’– উত্তর: ডাকবে

 

   ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top