
তৃতীয় শ্রেণির বাংলা
(পাতাবাহার) বইয়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর:
*********************************************************
প্রথম পাঠ:
সত্যি সোনা
*********************************************************
১.১ বুড়ো চাষির সংসারে কে কে ছিল?
উত্তর: বুড়ো চাষির সংসারে তার একমাত্র ছেলে আর ছেলের বউ ছিল।
১.২ চাষির ছেলেটি কেমন প্রকৃতির ছিল?
উত্তর: চাষির ছেলে খুব অলস প্রকৃতির ছিল।
১.৩ বাপের কথা শুনে ছেলের মনের অবস্থা কেমন হল?
উত্তর: বাপের কথা শুনে ছেলের চোখ দুটি লোভে চকচক করে উঠল।
১.৪ বুড়ো চাষি কোন কথাটা তার ছেলেকে বলে যাননি?
উত্তর: মাটির নিচে সোনা ঠিক কোন জায়গায় পোঁতা আছে তা বুড়ো চাষি তার একমাত্র ছেলেকে বলে যাননি।
২.১ চাষির ছেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কতটা জমি খুঁড়েছিল?
উত্তর: চাষির ছেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচণ্ড পরিশ্রম করে পাঁচ বিঘা (১০০ কাঠা) জমি খুঁড়েছিল।
২.২ চাষির ছেলের প্রথম রোজগারে কে খুশি হয়েছিল?
উত্তর: চাষির ছেলের প্রথম রোজগারে তার বউ খুব খুশি হয়েছিল।
২.৩ গল্পে কোদাল দিয়ে মাটি খোঁড়ার কথা বলা আছে, আর কী কী জিনিস দিয়ে মাটি খোঁড়া যায় বলে তোমার জানা আছে?
উত্তর: কোদাল ছাড়াও লাঙল, শাবল, বেলচা, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর প্রভৃতি দিয়ে মাটি খোঁড়া যায়।
২.৪ ‘সত্যি সোনা’ গল্পটির মতো আর কোনো গল্প তোমার জানা আছে? জানা গল্পটি বন্ধুদের শোনাও।
উত্তর: হ্যাঁ। ‘একতাই বল’ গল্পটি আমার জানা আছে। এক চাষির ছিল তিন ছেলে। তারা তিনজন খুব ঝগড়া করত। চাষি একদিন তাদের তিনজনকে ডেকে একগোছা লাঠি দিয়ে ভাঙতে বলল। তারা কেউ পারল না। তখন চাষি তাদের একটি করে লাঠি নিয়ে ভাঙতে বলল। এবার তারা অনায়াসে ভেঙে ফেলল। তখন চাষি তাদের বোঝালো যে লাঠিগুলি একসঙ্গে ছিল বলে তারা ভাঙতে পারেনি। ঠিক একইভাবে তারা তিনভাই যদি নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে তাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। ছেলেরা বাবার কথা বুঝতে পারল এবং তারপর থেকে নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে থাকতে লাগল।
৩.১ ছেলের চোখ দুটো লোভে (ঝকঝক/চকচক/ঝকমক/চিকমিক) করে ওঠে।
উত্তর: ছেলের চোখ দুটো লোভে চকচক করে ওঠে।
৩.২ চাষির ছেলের বউ ছিল খুব (চালাক/সরল/বোকা/বুদ্ধিমতী)।
উত্তর: চাষির ছেলের বউ ছিল খুব বুদ্ধিমতী।
৩.৩ ‘বউ বলেছিল, ‘সোনা যদি পাও তবে (আমাদের/তোমার/মজুরদের/আমার) কপাল ফিরে যাবে।
উত্তর: বউ বলেছিল, সোনা যদি পাও তবে আমাদের কপাল ফিরে যাবে।
৩.৪ চাষির ছেলে ফসল কাটার পর তা (কম পয়সায়। দোকানে/হাটে/বাজারে) বিক্রি করে।
উত্তর: চাষির ছেলে ফসল কাটার পর তা হাটে বিক্রি করে।
৪.১ চাষির ছেলে নিজে চাষ-আবাদ করার কথা ভাবতে পারত না কেন?
উত্তর: চাষির ছেলে খুব অলস ও লোভী প্রকৃতির ছিল। সে কোনো কাজ করত না। চিরকাল সে শুয়ে বসে কাটিয়েছে। তাই সে নিজে চাষ-আবাদ করার কথা ভাবতে পারত না।
৪.২ শেষ পর্যন্ত চাষির ছেলের মাঠে কাজ করতে যাওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: মৃত্যুশয্যায় চাষির বলা লুকোনো সোনার লোভে এবং বউয়ের কথায় দুজন আবার মজুর তাকিয়ে জমি খুঁড়তে লাগিয়ে দেয়। অন্যদিকে মজুররা যেন সোনার খল সরিয়ে ফেলতে না পারে তা ভেবে নিজেও কোদাল নিয়ে কাজে লেগে যায়। এভাবে মজুর ও চাষির ছেলে মিলে পাঁচ বিঘা জমি খুঁড়ে ফেলে। তারপর সে ভাবে জমি যখন খোঁড়াই হয়েছে তখন চাষ করা ভালো। এই ভেবে সে শেষ পর্যন্ত চাষ করতেও যায়।
৪.৩ চাষির বউ কোন সময়কে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় বলেছে?
উত্তর: তন্দ্র চাষি প্রতিবছর বর্ষার আগে জমিতে ধানের চাষ করতেন। তাই চাষির ছেলের বউ বর্ষা নামার আগের সময়কে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় বলেছে।
৪.৪ সে কোথা থেকে বীজ কিনেছিল?
উত্তর: চাষির ছেলের বউ হাট থেকে বীজ কিনে এনেছিল।
৪.৫ সে কীসের বীজ কিনেছিল?
উত্তর: সে হাট থেকে সবচেয়ে সেরা ধানের বীজ কিনেছিল।
৪.৬ গল্পের কোন্ মানুষটিকে তোমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হল?
উত্তর: চাষির ছেলের বউ খুব বুদ্ধিমতী ছিল। তাই গল্পে চাষির ছেলের বউয়ের বুদ্ধিমত্তার কারণে আমার তাকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ হল।
৫.১ ‘সেটা বলব বলেই তো ডেকেছি তোমায়’-কে এই কথা বলেছে? সে কাকে এই কথা বলেছে? সে তাকে কী বলার জন্য ডেকেছিল?
উত্তর: গল্পে বৃদ্ধ চাষি এই কথা বলেছে। সে তার একমাত্র ছেলেকে এই কথা বলেছে। সে তাকে তার লুকোনো সোনার ঠিকানা অর্থাৎ, পরিশ্রম করে টাকা রোজগার করার কথা বলার জন্য ডেকেছিল।
৫.২ গল্পে চাষির ছেলের বউ চাষির ছেলেকে কীভাবে সাহায্য করেছে তা লেখো।
উত্তর: চাষির ছেলের বউ অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ছিল। সে চাষির কথার প্রকৃত অর্থ বুঝতে পেরেছিল। তাই তার স্বামীকে সোজাসুজি কিছু না বলে সে সোনার লোভ দেখিয়ে, তাকে বুদ্ধি দিয়ে, হাট থেকে ধানের বীজ কিনে এনে, মাঠে খাবার পৌঁছে দিয়ে, তামাক সাজিয়ে দিয়েছে। এভাবে তার পাশে থেকে চাষির ছেলেকে সাহায্য করে।
৫.৩ ‘সত্যি সত্যি সোনা ফলেছে মাঠে’-কে এই কথা বলেছে? সোনা বলতে এখানে আসলে কোন জিনিসকে বোঝানো হয়েছে? সেই জিনিসটা সোনা না হলেও তার সঙ্গে সোনার কী কী মিল আছে?
উত্তর: এই কথাটি চাষির ছেলের বউ বলেছে। সোনা বলতে আসলে ধান গাছের ফুলকে বোঝানো হয়েছে। জিনিসটা সোনা না হলেও জিনিসটির সঙ্গে সোনার রং-এর মিল আছে। ধান বিক্রি করেও অর্থ রোজগার করা সম্ভব। অথই হল এখানে সোনা।
৫.৪ চাষির ছেলে ফসল বিক্রি করে বাড়ি ফিরলে তার বউ কী কারণে খুব খুশি হল?
উত্তর: চাষির ছেলের প্রথম রোজগার ফসল বিক্রির টাকা। কারণ জমিতে সত্যিই সোনা পোঁতা ছিল।
৫.৫ চাষির ছেলে আর তার বউ বুদ্ধি খাটিয়ে আর পরিশ্রম করে কী পুরস্কার পেয়েছে?
উত্তর: চাষির ছেলে আর তার বউ বুদ্ধি খাটিয়ে আর পরিশ্রম করে ধানের চাষ করে তা থেকে টাকা রোজগার করেছে। তার সঙ্গে সঙ্গে চাষির অলস ছেলেও বুঝতে পেরেছে যে বুদ্ধি খাটালে ও পরিশ্রম করলে তার পুরস্কার অবশ্যই পাওয়া যায়। অর্থাৎ, তারা বুদ্ধি খাটিয়েছে বলেই সোনার মতো পুরস্কার পেয়েছে।
৫.৬ ‘ছেলের বউ বউ খুব বুদ্ধিমতী’-তার বুদ্ধির প্রকাশ গল্পে কীভাবে লক্ষ করা গেল?
উত্তর: উত্তর: বৃদ্ধ চাষির কথার আসল অর্থ একমাত্র চাষির ছেলের বউ বুঝেছিল। তাই সে প্রথমে অলস স্বামীকে সোনার লোভ দেখিয়ে পাঁচ বিঘা জমি খোঁড়ায়। তারপর ধীরে ধীরে, ভালো ভালো কথা বলে তার পাশে থেকে তাকে দিয়ে জমিতে চাষ করায়। এভাবে তার অলস স্বামী পরিশ্রমী হয়ে ওঠে। চাষির ছেলের বউয়ের এই ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে তার বুদ্ধির সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়।
৬.১ পিতলের খালাটা সোনার মতোই———-
উত্তর: পিতলের থালাটা সোনার মতোই চকচকে।
৬.২ পাকা ধান সোনার মতোই————-
উত্তর: পাকা ধান সোনার মতোই ঝলমলে।
৬.৩———-সোনা দিয়ে গয়না বানানো যায় না।
উত্তর: আসল সোনা দিয়ে গয়না বানানো যায় না।
৬.৪ রুপো চকচকে হলেও সোনার চেয়ে কম——–
উত্তর: রুপো চকচকে হলেও সোনার চেয়ে কম দামি।
©kamaleshforeducation.in(2023)






