দশম শ্রেণী  ভূগোল

  চতুর্থ অধ্যায়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

প্রশ্ন উত্তর

Madhyamik Geography

Chapter 4 Question Answer

Published on: 

মাধ্যমিক ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” এর মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে, পরিবেশ দূষণ বাড়ছে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আজকের পোস্টে এই অধ্যায় থেকে সম্ভাব্য শর্ট প্রশ্নগুলি সংক্ষিপ্ত ও সহজভাবে আলোচনা করা হল।

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 দশম শ্রেণী ভূগোল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 4 Short Question Answer

1.1 মাধ্যমিক ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছোট প্রশ্ন উত্তর | Madhyamik Geography Chapter 4 MCQ SAQ

1.2 দশম শ্রেণীর ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 4 Short Question Answer

2 দশম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ২ নম্বর ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 4 2 Marks and 3 Marks Question Answer

2.1 দশম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ২ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 4 2 Marks Question Answer

2.2 মাধ্যমিক ভূগোল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (চতুর্থ অধ্যায়) ২ মার্কস প্রশ্ন উত্তর | Madhyamik Geography 2 Marks Question Answer Chapter 4

2.3 দশম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 4 3 Marks Question Answer

দশম শ্রেণী ভূগোল

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (চতুর্থ অধ্যায়

 ছোট প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik Geography

Chapter 4 MCQ SAQ

১) বর্জ্য কাকে বলে?
উত্তর: দৈনন্দিন কাজের পর প্রয়োজনের অতিরিক্ত, বাতিল ও আপাতভাবে ব্যবহারের অযোগ্য যে সব কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় দ্রব্য পরিত্যাগ করা হয় এবং যা মানুষসহ পরিবেশের ক্ষতি করে, তাকে বর্জ্য বলে।

২) কঠিন বর্জ্য কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের ব্যবহারের অবশিষ্টাংশ যা কঠিন আকারে পরিবেশে আসে, তা হল কঠিন বর্জ্য। যেমন – কারখানার ভাঙা মন্ত্রাংশ, ভাঙা ইট, ইত্যাদি।

৩) কঠিন বর্জ্য পোড়ানো উচিত নয় কেন?
উত্তর: কঠিন বর্জ্য পোড়ালে তা থেকে যে গ্যাসগুলি নির্গত হয়, যেমন – সালফার ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন ফ্লুরাইড, কার্বন মনোক্সাইড প্রভৃতি  বায়ুতে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

৪) তরল বর্জ্য কাকে বলে?
উত্তর: প্রকৃতিতে দূষণ সৃষ্টিকারী তরল অব্যবহৃত যৌগ যখন অপরিশোধিত অবস্থায় পরিবেশের ক্ষতি করে, তখন তাকে তরল বর্জ্য বলে। যেমন –গৃহস্থলি ও কলকারখানায় ব্যবহৃত দূষিত তেল।

৫) গ্যাসীয় বর্জ্য কাকে বলে?
উত্তর: কঠিন ও তরল বর্জ্যের পচনের ফলে উৎপন্ন, যানবাহন, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, কলকারখানা থেকে নির্গত সে সব গ্যাসীয় পদার্থ পরিবেশে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করে, তাদের গ্যাসীয় বর্জ্য বলে। যেমন – রান্নার ধোঁয়া।

৬) বিষাক্ত বর্জ্য কাকে বলে?
উত্তর: যেসব বর্জ্য মানুষসহ সমস্ত জীবের বিপাকীয় কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নানা রোগ সৃষ্টি করে এমনকি মৃত্যু ঘটায়, তাদের বিষাক্ত বর্জ্য বলে। যেমন – সিসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ,আর্সেনিক, ডাইঅক্সিন, অ্যাসবেস্টস ইত্যাদি।

৭) ই-বর্জ্য বা বৈদ্যুতিন বর্জ্য কাকে বলে?
উত্তর: ইলেকট্রনিক দ্রব্য গুলির অব্যবহৃত বাতিল অংশগুলিকে বৈদ্যুতিন বর্জ্য বলা হয়। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ এই বর্জ্যকে বর্জ্যের সুনামি বলে অভিহিত করেছেন। যেমন – সার্কিট বোর্ড, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের ভাঙ্গা অংশ প্রভৃতি।

৮) হ্যাজার্ডস ওয়াস্ত কাকে বলে?
উত্তর: বিষাক্ত ধাতু বর্জ্য যেমন– সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক অ্যাসবেস্টস জাতীয় দ্রব্য পরিবেশে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে মানবদেহের রোগ সৃষ্টি করে, একে হ্যাজার্ডস ওয়েস্ট বলে।

৯) কোন বর্জ্য থেকে পরিবেশ দূষণের মাত্র সর্বাধিক হয়?
উত্তর: শিল্পজাত বর্জ্য থেকে

১০) বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার যন্ত্রের নাম কি?
উত্তর: ইনসিনারেটর

১১) কঠিন বর্জ্যের অক্সিজেন বিহীন দহনকে কি বলা হয়?
উত্তর: পাইরোলিসিস

১২) বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে?
উত্তর: ৫ জুন

১৩) তেজস্কিয় বর্জ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: ট্রাইটিয়াম, সিজিয়াম-১৩৭, আয়োডিন-১৩১

১৪) তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি কি?
উত্তর: নিষ্কাশন

১৫) বিপদজনক গ্যাসীয় বর্জ্যকে জীবাণুমুক্ত করার উপায় কি?
উত্তর: স্কাবার্ড

১৬) বিভিন্ন বর্জ্য ও আবর্জনা মাটির নিচে গর্ত করে জৈব সার তৈরির পদ্ধতিকে কি বলে?
উত্তর: কম্পোস্টিং

দশম শ্রেণীর ভূগোল

চতুর্থ অধ্যায়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন উত্তর 

Class 10 Geography

Chapter 4 Short Question Answer

 

১৭) চিকিৎসা সংক্রান্ত সংক্রামক বর্জ্যের নাম লেখো
উত্তর: ইনজেকশন সিরিঞ্জ, ছুরি, কাঁচি।

১৮) বর্জ্য উৎপাদনে প্রথম কোন দেশ?
উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

১৯) সিসা দূষণে কোন রোগ হয়?
উত্তর: ডিসলেক্সিয়া

২০) পারদ দূষণে কোন রোগ হয়?
উত্তর: মিনামাটা

২১) ক্যাডমিয়াম দূষণের কোন রোগ হয়?
উত্তর: ইটাই ইটাই

২২) আর্সেনিক দূষণে কোন রোগ হয়?
উত্তর: ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ

২৩) ফ্লুরাইড দূষণে কোন রোগ হয়?
উত্তর: ফ্লুরোসিস

২৪) ময়লা আবর্জনা ধোয়া জলকে কি বলা হয়?
উত্তর: লিচেট

২৫) লেজিওনিয়ার্স কি?
উত্তর: নরওয়েতে স্ক্যাবার থেকে সৃষ্ট একটি রোগ।

২৬) D-WASTE কাকে বলে?
উত্তর: বিভিন্ন মেট্রোপলিটন শহর তথা মহানগরে পুরনো নির্মাণ কার্য ভেঙে নতুন নির্মাণ কার্য চলছে। পুরনো নির্মাণ সামগ্রী ভেঙ্গে দেওয়ার ফলে যেসব বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে তাকে D-WASTE বলে।

২৭) ড্রেনেজ কাকে বলে?
উত্তর: শহরাঞ্চলে নালা-নর্দমাগুলিকে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করে থকথকে কাদাসহ নোংরা জল সুষ্ঠুভাবে অপসারণ পদ্ধতিকে ড্রেনেজ বলে।

২৮) সিউয়েজ কি?
উত্তর: শহরের নালা নর্দমা ও সেপটিক ট্যাংকে কাদার মতো নোংরা তরল পদার্থকে সিউয়েজ বলে।

২৯) স্লাজ কি?
উত্তর: নর্দমার নীচে বা সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে জলাধারের তলদেশে যে ভারী ও কঠিন উপাদান থিতিয়ে পড়ে, তাকে স্লাজ বলে।

৩০) কলিফর্ম কি?
উত্তর: নদীর জলে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু হলো কলিফর্ম

৩১) গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কবে হয়?
উত্তর: ১৯৮৫ সালে

দশম শ্রেণী ভূগোল

চতুর্থ অধ্যায়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

২ নম্বর ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর

Class 10 Geography Chapter 4

2 Marks and 3 Marks Question Answer

 

উত্তর:  বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্জ্যকে ফেলে না রেখে ক্ষতিকর অংশকে অপসারণের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার করার জন্য বর্তমান যে পাঁচটি প্রক্রিয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পাদনা করা হয়, সেগুলিকে একত্রে 5r পদ্ধতি বলে।

এগুলি হল (I) বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস [Reduce](Ii) পুনর্ব্যবহার [Reuse] (Iii) পুনরাবর্তন [Recycle] (Iv) প্রত্যাখ্যান [Refuse] (V) পুনরুদ্ধার [Recover]  মূলত উন্নত দেশগুলি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে থাকে

উত্তর:  মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন বর্জ্য সমুদ্রবক্ষে নিক্ষেপ করে তথা ভরাট করনের ফলে যেসব বর্জের সৃষ্টি হয়, তাকে সামুদ্রিক রাবিশ বলে। ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন নদ-নদী দ্বারা বাহিত পদার্থ সমুদ্রতটে সঞ্চিত হয়। সেই সঙ্গে মানুষও সরাসরি বিভিন্ন বর্জ্য প্রচুর পরিমাণে সমুদ্রে প্রতিনিয়ত নিক্ষেপ করে থাকে, যাকে ওশান ডাম্পিং বলে।

উত্তর:  যখন কোন দ্রব্য একবার ব্যবহার করার পর ফেলে না দিয়ে আবার কাজে লাগানো হয়, তখন তাকে পুনর্ব্যবহার বলে। পরিবেশে এমন কিছু দ্রব্য আছে যা পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। যেমন– শাক সবজির খষা, নানা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজ, ঘর সাজানোর জিনিস প্রভৃতি কোনো দ্রব্যের পুনর্ব্যবহার গচ্ছিত সম্পদের ভান্ডারকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

উত্তর:  যে পদ্ধতিতে কঠিন জৈব বর্জ্য আণুবীক্ষণিক জীবের প্রভাবে বিভাজিত হয়ে হিউমাস মৃত্তিকায় পরিণত হয়, তাকে কম্পোস্টিং বলে। হিউমাস মৃত্তিকা গঠিত জৈব সার কম্পোস্ট সার নামে পরিচিত।

শ্রেণীবিভাগ :– কম্পোস্টিং দুটি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। (I) বায়ুর উপস্থিতিতে সবাত কম্পোস্টিং, (Ii) বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত কম্পোস্টিং।

উপযোগিতা :– এই সার মাটির উর্বরতা ও জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। মাটি দীর্ঘদিন তার উর্বরতা ধরে রাখে। এই সার ফসল উৎপাদনের জন্য আদর্শ।

মাধ্যমিক ভূগোল

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (চতুর্থ অধ্যায়)

২ মার্কস প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik Geography

2 Marks Question Answer Chapter 4

 

উত্তর:  ইংরেজি ‘Eutrophication’ কথাটি গ্রিক শব্দ ‘Eutrophy’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হল- ‘Wellnourished’ বা যে বস্তুকে ভালোভাবে পুষ্টিদান করা হয়েছে। জলাশয় সংলগ্ন অঞ্চলের কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার থেকে নাইট্রোজেন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস জাতীয় পদার্থ জলে মিশে জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ইউট্রোফিকেশন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জলাশয়ের জলে উক্ত পুষ্টিকর পদার্থগুলি মিশ্রিত হয়ে এইভাবে জলজ উদ্ভিদ ও আগাছার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীকালে এগুলি পচে গিয়ে জলাশয়ের তলদেশের ভরাটকরণ ঘটায়। ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলাশয়ের মাছ মরে যায়।

উত্তর:  সুপরিকল্পিত যে প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে পরিবেশে আসা বিভিন্ন ক্ষতিকর বর্জ্যগুলির কুপ্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত করে এর গুণমান বজায় রাখা হয়, তাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে। এই প্রক্রিয়াগুলি হল বর্জ্যের পরিমাণগত হ্রাস, পুনর্ব্যবহার, পুনর্নবীকরণ ও প্রত্যাখ্যান।

উত্তর:  জৈব অবশিষ্টাংশ এবং জীবদেহ নির্গত যে সমস্ত বর্জ্য জীবজগৎ ও পরিবেশের ক্ষতি না করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৃত্তিকার উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, তাদের বিষহীন বা পরিবেশ মিত্র বর্জ্য বলে।

উদাহরণ :– শাক-সবজি এবং ফলের খোসা, গাছের পাতা, গৃহপালিত প্রাণীদের বিষ্ঠা প্রভৃতি।

বৈশিষ্ট্য :– ক) এই সকল জৈব বর্জ্যগুলি জমিয়ে রেখে পচালে এগুলি কম্পোস্ট সার হিসাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। (খ) জৈব বর্জ্য মাটিতে ব্যবহার করলে মাটির উৎপাদনশীলতার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। (গ) জৈব অবশিষ্টাংশ পশু ও পাখিদের খাওয়ালে দুধ, ডিম প্রভৃতি প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়।

উত্তর:  বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সামগ্রী বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার পর পরিত্যক্ত যেসকল বৈদ্যুতিন সামগ্রী তথা বিভিন্ন গ্যাজেট পরিবেশে মিশে পরিবেশকে দূষিত করে, সেগুলিকে ই-ওয়েস্ট (E-Waste) বা বৈদ্যুতিন বর্জ্য বলে। যেমন- কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রেডিয়ো, টিভি, বৈদ্যুতিন খেলনা, ফ্রিজ, টেপরেকর্ডার, ইত্যাদির পরিত্যক্ত অংশ। এই সমস্ত যন্ত্রাংশের অবশিষ্ট অংশে সিসা, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়াম জাতীয় ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে। এগুলির প্রভাবে ব্ল্যাকফুট, ইতাই ইতাই, মিনামাটা ইত্যাদি রোগ হয়।

উত্তর:  পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ কেন্দ্র এবং পারমাণবিক চুল্লি থেকে প্রাপ্ত বা পারমাণবিক গবেষণার দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন প্রকার তেজস্ক্রিয় পদার্থকে বলে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। যেমন– ইউরেনিয়াম 234, নেপটুনিয়াম 237, প্লুটোনিয়াম 234, রেডিয়াম 226 ইত্যাদি।

এই সকল তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থের প্রভাব মানবদেহে বহুকাল স্থায়ী হয়। এই বর্জের প্রভাবে ঘটে বন্ধ্যবত্ব, স্নায়ুরোগ, পঙ্গুতা, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, লিউকোমিয়া, ক্যানসার ইত্যাদি।

উত্তর:  আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিকাঠামগত অভাব যথেষ্ট আছে। তাই দৈনন্দিনের ব্যবহৃত শাক সবজির খসা, পচে যাওয়া ফলমূল, খাবারের অবশিষ্টাংশ প্রভৃতিকে বাড়ি সংলগ্ন স্থানে গর্ত করে ফেলে রাখা হয়। এই গর্ত সম্পূর্ণরূপে ভর্তি হয়ে যাওয়ার পর গর্তের উপরের অংশে ঢেকে দেওয়া হয়। ৩–৫ মাস পর ঢেকে রাখা জৈব বর্জ্যগুলি জৈবসারে রূপান্তরিত হয়, একে ম্যানিয়র পিট বলে।

দশম শ্রেণী ভূগোল

চতুর্থ অধ্যায়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর

Class 10 Geography

Chapter 4 3 Marks Question Answer

 

11. গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের উপায় গুলি কি কি? অথবা, স্ক্রাবার বলতে কী বোঝো?

উত্তর:  বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান নির্ভর প্রক্রিয়া হল স্ক্রাবার। এই পদ্ধতিতে শিল্প থেকে নির্গত দূষিত বায়বীয় ও গ্যাসীয় উপাদানের অপসারণ ঘটিয়ে বায়ুকে বিশুদ্ধ করা হয়। স্ক্রাবার দুই প্রকার, যথা–

শুষ্ক স্ক্রাবার :– এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্গত দূষিত ধোঁয়াকে অম্ল মুক্ত করা হয়।

আর্দ্র স্ক্রাবার :–এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দূষণকারী গ্যাস, দূষণ কণা অপসারণ করা হয়। সাধারণত কোনো দ্রবণের মাধ্যমে দূষিত গ্যাসীয় পদার্থকে এই পদ্ধতি দ্বারা অপসারণ করা হয়। দ্রবণে গ্যাসের দ্রাব্যতার উপর এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করে। যেমন– Nh3 বা H2s মিশ্রিত জলীয় দ্রবণ থেকে দূষিত গ্যাস স্ক্রাবার পদ্ধতিতে দূষণমুক্ত করা হয়।

12. ‘ভরাটকরণ’ বা ‘ল্যান্ডফিল’ কী?

উত্তর:  কঠিন বর্জ্য পদার্থ দ্বারা অবনমিত ভূভাগ বা নীচু ভূভাগ উঁচু করাকে ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল বলে।

ফল :–নীচু ভূভাগ উঁচু হয় এবং বিভিন্ন স্থানের কঠিন বর্জ্য একটি স্থানে এসে সঞ্চিত হয়। এই সুফলের সাথে সংলগ্ন অঞ্চলের পরিবেশ দূষণ এবং মানব শরীরে নানান রোগের প্রাদুর্ভাব প্রভৃতি কুফল দেখা যায়।

সতর্কতা :– জনবসতি থেকে দূরে বড়ো গভীর জায়গায় ভরাটকরণ করা উচিত। ভরাটকরণ স্থানের থেকে দূষিত জল চুঁইয়ে যাতে ভৌমজলে না মেশে এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। দুর্গন্ধ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তা দেখা উচিত। ভ্যাট থেকে ময়লা সংগ্রহকালে প্রক্রিয়াকরণের পর তা নিয়ে যাওয়া উচিত প্রভৃতি।

13. কম্পোস্টিং (Composting) কাকে বলে?

উত্তর:  যে পদ্ধতিতে কঠিন জৈব বর্জ্য আণুবীক্ষণিক জীবের প্রভাবে বিয়োজিত হয়ে হিউমাস মৃত্তিকায় পরিণত হয়, তাকে কম্পোস্টিং (Composting) বলে। হিউমাস মৃত্তিকা গঠিত জৈব সার কম্পোস্ট সার নামে পরিচিত।

শ্রেণিবিভাগ :– কম্পোস্টিং দুটি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, যথা– বায়ুর উপস্থিতিতে সবাত কম্পোস্টিং এবং বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত কম্পোস্টিং।

উপযোগিতা :– কম্পোস্ট সার মাটির উর্বরতা ও জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। মাটি দীর্ঘদিন উর্বরতা ধরে রাখে। কম্পোস্ট সার ফসল উৎপাদনের জন্য আদর্শ।

14. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা লেখো। 

উত্তর: ক্রমবর্ধন বর্জ্য পদার্থকে সঠিক উপায়ে ব্যবস্থাপনা করা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য আগামী দিনে জাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদেরকেই পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে দায়িত্ববান হতে হবে। এইজন্য নিম্নলিখিত বর্জ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১) সঠিক স্থানে বর্জ্য নিক্ষেপ : বিদ্যালয় ও বাড়িতে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পদার্থ গুলিকে একটি নির্দিষ্ট ঢাকা দেওয়া পাত্রে নিক্ষেপ করতে হবে।

২) জনসচেতনতা বৃদ্ধি :– ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পথ পরিক্রমনা, পথনাটিকা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পারিপার্শ্বিক লোকজনদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সচেতন বাড়িয়ে তুলতে হবে। এছাড়াও স্কুলে, বাড়িতে বা বাজার এলাকায় প্রত্যেকে যাতে শৌচাগার ব্যবহার করে সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে হবে।

৩) পুনর্ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি :– পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর এমন জিনিসের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদের ব্যবহারের অভ্যাস শিক্ষার্থীদেরকে করতে হবে। যেমন – প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগের ব্যবহার।

15. পরিবেশের উপর বর্জ্যের প্রভাবগুলি লেখো।

উত্তর:  সামগ্রিকভাবে বর্জ্য পদার্থ পরিবেশের উপর যে খারাপ প্রভাবগুলি ফেলে সেগুলি হল–

১) পরিবেশ দূষণ :– যত্রতত্র বর্জ্য পদার্থ গুলি ফেলার ফলে পরিবেশের মূল উপাদান জল, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল দূষিত হচ্ছে। শিল্প কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত জল, গৃহস্থলীর দূষিত নোংরা জল নদীপুকুর জলাশয়ের জলকে দূষিত করে নষ্ট করছে এবং সর্বোপরি দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে বাতাসে মিশছে। ক্ষুদ্র দূষিত কণা গুলি বাড়িতে মিশে বায়ু দূষণ ঘটাচ্ছে।

২) মৃত্তিকার উর্বরতা হ্রাস : শিল্প কলকারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য আবর্জনাগুলি মাটিতে পড়ে মাটির উর্বরতা শক্তি অবনমন ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে ফসলের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলি প্রবেশ করে ফসলের গুণমান নষ্ট হয়। মানুষের শরীরে এগুলি প্রবেশ করে রোগ ব্যাধি তৈরি হয়।

৩) জীববৈচিত্র ধ্বংস : শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ জলাশয়, নদী, নালা, পুকুরে জমা হয়ে সেখানকার জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। মৃত্তিকা দূষণ ঘটিয়ে স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস এবং বায়ুমণ্ডলে সিসা, ধূলিকণা প্রভৃতি বায়ুদূষণ ঘটিয়ে সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্রকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

16. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 4r এর ভূমিকা লেখো। 

উত্তর:  বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 4r (Reduce, Reuse, Recycle, Refuse) এর গুরুত্ব অপরিসীম।
১) বর্জ্যের পরিমাণগত হ্রাস (Reduce) :– সঠিকভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ করা গেলে বর্জ্যের পরিমাণ কমানো যায়। যেমন : (I) শিল্প কলকারখানায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কম বর্জ্য নির্গত হয়, (Ii) প্যাকেট জাতীয় খাবারের পরিবর্তে বাড়ির রান্না করা খাবার ব্যবহার করলে বর্জ্যের পরিমাণ কমে।

২) বর্জের পুনর্ব্যবহার (Reuse) :– এমন কিছু বর্জ্য দ্রব্য আছে যেগুলি পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এতে যেমন বর্জ্যের ব্যবহার কমে তেমনি অর্থেরও সাশ্রয় হয়। 

যেমন : (I) পুরানো খবরের কাগজ মোড়কের কাজে ব্যবহার করা যায়, (Ii) পুরনো কাপড় বই চেরিটেবল সংস্থার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করা যায়।

৩) পুনর্নবীকরণ (Recycle) :– পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থকে নতুন দ্রব্যে পরিণত করা যায়। দেখা গেছে কঠিন বর্জ্যের ৫০% পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে অন্যান্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উন্নত দেশগুলি বর্জ্য পদার্থ থেকে নতুন দ্রব্য তৈরিতে অগ্রগণ্য। যেমন : পুরনো লোহা থেকে ইস্পাত তৈরি হচ্ছে, কৃষিজ বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি হচ্ছে।

৪) প্রত্যাখ্যান (Refuse) :– পরিবেশকে দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে সঠিক, সুস্থ ও দূষণমুক্ত রাখতে কিছু কিছু দ্রব্যকে পুরোপুরি বর্জন বা প্রত্যাখ্যান করা দরকার। যেমন : পলিথিন, থার্মোকল প্রভৃতি ।

 

আজকের পোস্টে দশম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Bajro Bebosthapona)থেকে সর্বমোট ৪৭ টি বাছাই করা ১/২/৩ মার্কস প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। যেগুলি   পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করবে।

  SOURCE-EDT

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top