দশম শ্রেণী  ভূগোল  

    ষষ্ঠ অধ্যায়

উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র

প্রশ্ন উত্তর (১/২/৩ নম্বর)

Madhyamik Geography

Chapter 6 Question Answer

Published on: 

মাধ্যমিক ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় “উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র” বর্তমান যুগের আধুনিক ভূ-তথ্য প্রযুক্তি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের পোস্টে উপগ্রহ চিত্রের ধারণা, ব্যবহার, বৈশিষ্ট্য এবং ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্রের বাছাই করা ১/২/৩ মার্কস প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হল।

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 দশম শ্রেণী ভূগোল উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 6 Short Question Answer

1.1 উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র ফটো প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 6 MCQ SAQ

1.2 দশম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় ‘উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র’ প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography 6th Chapter Short Question

2 দশম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র ২ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 6 2 Marks Question Answer

3 দশম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Geography Chapter 6 3 Marks Question Answer

দশম শ্রেণী ভূগোল

উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র 

(চতুর্থ অধ্যায়)

প্রশ্ন উত্তর  

১) উপগ্রহ চিত্র কাকে বলে?
উত্তর: সাধারণ কথায় উপগ্রহ চিত্র হল কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত পৃথিবীর আলোকচিত্রঅর্থাৎ, কৃত্রিম উপগ্রহ দ্বারা বিভিন্ন সেন্সরের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দৃশ্য পাঠের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে যে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে।

২) দূর সংবেদন বা রিমোট সেন্সিং কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুকে স্পর্শ না করে দূর থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বস্তুটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাকে দূর সংবেদন বা রিমোট সেন্সিং বলে।

৩) দূর সংবেদনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি কোনটি?
উত্তর: উপগ্রহ চিত্র

৪) উপগ্রহ চিত্রের উৎপত্তি কবে হয়?
উত্তর: ১৯৬০ সালে

৫) উপগ্রহ চিত্রের ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
উত্তর: পিক্সেল (Pixel)

৬) সেন্সর ব্যান্ড কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বস্তু থেকে বিকৃত তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের নির্দিষ্ট অংশ উপগ্রহ সেন্সরের যে ক্ষুদ্র যন্ত্রে লিপিবদ্ধ হয়, তাকে সেন্সর ব্যান্ড বলে।

৭) প্লাটফর্ম কি?
উত্তর: যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে ভূপৃষ্ঠের তথ্য সংগ্রহ বা চিত্র তোলা হয়, তাকে প্ল্যাটফর্ম বলে।

৮) সোয়াথ কাকে বলে?
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহ আড়াআড়ি ভাবে নির্দিষ্ট অক্ষর বরাবর যে মোট দূরত্ব বেষ্টন করে তথ্য সংগ্রহ করে, তাকে সোয়াথ বলে।

৯) উপগ্রহ চিত্রে প্রকৃত রঙের বদলে কোন রং ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: ছদ্মরং

১০) উপগ্রহ চিত্রে লাল, সবুজ ও নীলের বদলে কোন রং ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: লালকে প্রায় ইনফ্রারেড, সবুজকে লাল ও নীলকে সবুজ।

১১) ভূসমলয় বা জিয়োস্টেশনারি উপগ্রহ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব উপগ্রহ পৃথিবীর কোনো একটি স্থানের সাপেক্ষে আবর্তন গতির সমান তালে বা লয়ে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে ও একই স্থানে স্থির আছে মনে হয়, তাদের ভূসমলয় উপগ্রহ বলে।

১২) সূর্যসমলয় বা সানসিনক্রোনাস উপগ্রহ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব উপগ্রহ সূর্যের আপাত কোণের সাপেক্ষে মেরুকক্ষপথে উত্তর থেকে দক্ষিণে পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে, তাদের সূর্যসমলয় উপগ্রহ বলে।

১৩) ভূসমলয় উপগ্রহ কত উচ্চতায় স্থাপন করা হয়?
উত্তর: নিরক্ষীয় তল বরাবর ৩৬,০০ কিমি উচ্চতায়

১৪) সূর্য সমলয় উপগ্রহ কত উচ্চতায় স্থাপন করা হয়?
উত্তর: মেরু অক্ষ বরাবর ৭০০ – ৯০০ কিমি উচ্চতায়

১৫) ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
উত্তর: আর্যভট্ট

১৬) সক্রিয় সেন্সর কাকে বলে?
উত্তর: যে সমস্ত সেন্সর নিজের আলো বস্তুর উপর প্রতিফলন করেই দিন-রাতের যেকোনো সময় তথ্য সংগ্রহ করে, তাদের সক্রিয় সেন্সর বলে। যেমন – রেডার, অ্যাক্টিভ রেডিওমিটার।

১৭) নিষ্ক্রিয় সেন্সর কাকে বলে?
উত্তর: যে সমস্ত সেন্সর কেবলমাত্র দিনের বেলায় বস্তুর সূর্যালোক প্রতিফলনের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে, তাদের নিষ্ক্রিয় সেন্সর বলে। যেমন – ফটোগ্রাফিক ক্যামেরা, ইলেক্ট্রনিক ক্যামেরা।

১৮) ভারতের উপগ্রহ চিত্র প্রস্তুতকারী সংস্থার নাম কি?
উত্তর: ইসরো (ISRO)

১৯) ইসরো এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: বেঙ্গালুরু

২০) ভারতীয় রিমোট সেন্সিং -এর জনক কে?
উত্তর: পিসারথ রামা পিসার্টি

২১) স্যাটেলাইট কথার অর্থ কি?
উত্তর: প্রহরী

২২) বাইনারি চিত্র কাকে বলে?
উত্তর: যে উপগ্রহ চিত্রে লক্ষ্যবস্তু কেবল সাদা ও কালো দুটি রং দ্বারা বোঝানো হয় এবং প্রতিটি পিক্সেল ‘O’ অথবা ‘I’ বাইনারি ডিজিট দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তাকে বাইনারি চিত্র বলে।

২৩) ভারতীয় সর্বেক্ষণ বিভাগ বা সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: ১৭৬৭ সালে | সদর দপ্তর দেরাদুন

২৪) টোপোগ্রাফিক্যাল কথার বুৎপত্তিগত অর্থ কি?
উত্তর: স্থান বিবরণী

২৫) টোপোশিট কোন স্কেলের মানচিত্র?
উত্তর: বৃহৎ স্কেলের

২৬) টপোশিটে সমোন্নতি রেখাকে কি রঙে দেখানো হয়?
উত্তর: বাদামি রঙে

দশম শ্রেণী ভূগোল

ষষ্ঠ অধ্যায়

‘উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র’

প্রশ্ন উত্তর 

Class 10 Geography

6th Chapter Short Question

২৭) টোপোশিটের সূচক সংখ্যা কত?
উত্তর: ভারতে ৪০-৯২ মূল সংখ্যা, A-P গৌণ সংখ্যা, ১-১৬ প্রগৌণ সংখ্যা

২৮) মিলিয়ন সিটের সংখ্যা কত?
উত্তর: ২২২২

২৯) ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্রের RF কত?
উত্তর: ১:১,০০০,০০০

৩০) মিলিয়ন শিটের বিস্তার, RF ও সূচক সংখ্যা কত?
উত্তর: ৪°×৪° | ১:১,০০০,০০০ | ৪০, … ৭২, ৭৩, ৭৪, …. ৯২

৩১) ডিগ্রি শিটের বিস্তার, RF ও সূচক সংখ্যা কত?
উত্তর: ১°×১° | ১:২৫০,০০০ | 73A, 73B, 73C, …. 73P

৩২) আফ ইঞ্চি শিটের বিস্তার, RF ও সূচক সংখ্যা কত?
উত্তর: ৩০’×৩০’ | ১:১০০,০০০ | 73A/NE, 73A/SE, 73A/NW, 73A/SW

৩৩) ইঞ্চি শিটের বিস্তার, RF ও সূচক সংখ্যা কত?
উত্তর: ১৫’×১৫’ | ১:৫০,০০০ | 73A/1, 73A/2

৩৪) নিউ সিরিজ শিটের বিস্তার, RF ও সূচক সংখ্যা কত?
উত্তর: ৭.৫’×৭.৫’ | ১:২৫,০০০| 73A/6/1, 73A/6/2, 73A/6/3, …

দশম শ্রেণী ভূগোল

ষষ্ঠ অধ্যায়

উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র

২ নম্বর প্রশ্ন উত্তর

Class 10 Geography

Chapter 6 2 Marks Question Answer

1. F.C.C কী?

উত্তর: সাধারণ মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের উপাদানগুলির প্রকৃত রং ব্যবহার করা হয়। উপগ্রহ চিত্রের ক্ষেত্রে ভূপৃষ্ঠের উপাদানগুলির প্রকৃত রঙের পরিবর্তে অন্য রং বা ছদ্ম রং ব্যবহার করা হয়, একেই F.C.C. বলা হয়। এক্ষেত্রে লাল, সবুজ ও নীল রঙের উপাদানগুলিকে যথাক্রমে NIR Band, লাল ও সবুজ রং দিয়ে দেখানো হয়।

2. দূর সংবেদন কী?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠের কোনো লক্ষ্য বস্তুকে স্পর্শ না করে, দূর থেকে বিশেষ পদ্ধতির সাহায্যে বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার ব্যবস্থাকে দূর সংবেদন বা ‘Remote Sensing’ বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :– i) এই চিত্র সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়। যথা- (a) উপগ্রহ চিত্র (b) বিমান চিত্র
(ii) উপগ্রহ চিত্রে সেন্সরের সাহায্যে ডিজিটাল পরিসংখ্যান গ্রহণ করে ভূপৃষ্ঠের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রগুলিতে সংরক্ষিত হয়, পরে তা বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

3. সেন্সর কাকে বলে?

উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহে আটকানো থাকে এমন একটি বিশেষ যন্ত্র বা Device হল সেন্সর। যা মহাকাশ থেকে ভূ-পৃষ্ঠের বস্তু দ্বারা প্রতিফলিত আলো সংগ্রহ করে তার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। সেন্সর দুই প্রকারের–

সক্রিয় সেন্সর : এগুলি নিজের দেহের আলো বস্তুর উপর প্রতিফলন করে দিন বা রাত্রি যে-কোনো সময়ের তথ্য সংগ্রহ করে। যেমন- র‍্যাডার, অ্যাকটিভ রেডিয়োমিটার।

নিষ্ক্রিয় সেন্সর :–এগুলি সূর্যের আলো বস্তুর উপর প্রতিফলিত করে তথ্য সংগ্রহ করে। তাই কেবলমাত্র দিনের আলোতেই এগুলি তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। যেমন ফটোগ্রাফিক ক্যামেরা, টিভি ক্যামেরা ইত্যাদি।

দশম শ্রেণী ভূগোল

ষষ্ঠ অধ্যায়

উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র

৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর 

Class 10 Geography

Chapter 6 3 Marks Question Answer

 

1. ভূবৈচিত্র্য সূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্কেল সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: ভূবৈচিত্র্য সূচক মানচিত্রের উপস্থাপনা অনুযায়ী তিনধরনের স্কেলের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যথা – ভগ্নাংশসূচক স্কেল, বিবৃতিমূলক স্কেল ও রৈখিক স্কেল।

১) ভগ্নাংশসূচক স্কেলমানচিত্রের দুরত্ব ও ভূমির দুরত্বের অনুপাতকে যখন ভগ্নাংশে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে ভগ্নাংশসূচক স্কেল বা RF বলে। RF = মানচিত্রের দুরত্ব ÷ ভূমিভাগের দুরত্ব
ব্যবহার :–
 (i) এই স্কেলে কোনো একক থাকে না তাই এই স্কেলকে যেকোনো এককে প্রকাশ করা যায়।
(ii) এই স্কেল থেকে সহজেই বিবৃতিমূলক বা রৈখিকক্কেল তৈরি করা যায়।
 (iii) এই স্কেল ব্যবহার করে অঙ্কনজনিত ত্রুটি দূর করা যায়।

২) বিবৃতিমূলক স্কেল : মানচিত্রের স্কেলকে লিখিত বিবৃতি করা বা ভাষায় বর্ণনামূলক ভাবে প্রকাশ করা হয় তাকে বিবৃতিমূলক স্কেল বলে।
■ ব্যবহার :–
 (i) এই স্কেলে অঙ্ক কষার জটিলতা নেই।
   (ii) এই স্কেল পাট করা খুব সহজ বলে অনঅভিজ্ঞ লোকের অসুবিধা হয় না।
   (iii) মানচিত্রের দুরত্ব ও ভূভাগের দুরত্বের সহজেই তুলনা করা যায়।

৩) রৈখিক স্কেল : মানচিত্রে সরলরেখার মাধ্যমে ভূমির দুরত্ব যে স্কেলে প্রকাশ করা হয় তাকে রৈখিক স্কেল বলে। এই স্কেলের দুটি ভাগ, মূখ্য ভাগ ও গৌণ ভাগ।
■ ব্যবহার :–
 (i) মানচিত্রের পাঠকরা সহজেই রেখার মাপের সঙ্গে তুলনা করে বাস্তব দূরত্ব সর্ম্পকে ধারনা পায়।
   (ii) এই স্কেল বোঝা ও অঙ্কন সকলের পক্ষেই সুবিধাজনক।
   (iii) মানচিত্রের স্কেল ও ক্ষেত্রফলের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।

2. ভূসমলয় ও সূর্যসমলয় উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

বিষয়

ভূসমলয় উপগ্রহ

সূর্য সমলয় উপগ্রহ

আবর্তনের দিক

ইহা পৃথিবীর আবর্তন গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তিত হয়

ইহা পৃথিবীর দুই মেরুকে কেন্দ্র করে উত্তর থেকে দক্ষিনে একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমা বরাবর প্রদক্ষিন করে

উচ্চতা

ভূপৃষ্ট থেকে ৩৬,০০ কিমি উপরে স্থাপন করা হয়

সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৭০০-৯০০ কিমি উচ্চতায় স্থাপন করা হয়

সংগৃহীত তথ্য

এই উপগ্রহ থেকে আবহাওয়া ও যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য এবং পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়

এই উপগ্রহ থেকে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ সমীক্ষা করা যায়

রেজোলিউশন

এই উপগ্রহের রেজোলিউশন ক্ষমতা কম

এই উপগ্রহের রেজোলিউশন ক্ষমতা বেশি

উদাহরণ

ভারতের INSAT, যুক্তরাষ্ট্রে GOES E/W

ভারতের IRS, ফ্রান্সের SPOT

3. ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

বিষয়

ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র

উপগ্রহ চিত্র

সংজ্ঞা

ভূপৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানের সঠিক অবস্থান, আয়তন এবং প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো নির্দিষ্ট স্কেল ও প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন দ্বারা চিত্রায়িত করে যে মানচিত্র প্রস্তুত করা হয়, তাকে ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র বলে

কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে সেন্সরের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন বস্তুসমূহের তথ্য সংগ্রহ করে যে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে

রঙের ব্যবহার

এতে নির্দিষ্ট বস্তুর জন্য নির্দিষ্ট একটি রঙের ব্যবহার করা হয়

এতে প্রকৃত ও ছদ্ম দুই ধরনের রং ব্যবহার করা হয়

তথ্যের ধারণা

তথ্য ডিজিটাল না হওয়ায় কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় না

তথ্য ডিজিটাল হওয়ায় কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়

প্রস্তুত প্রণালী

জরিপকার্যের দ্বারা এই মানচিত্র প্রস্তুত করা হয়

শক্তিশালী সেনসর বা ক্যামেরার সাহায্যে চিত্র তৈরি করা হয়

ব্যবহার

ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসছে

বর্তমানে উপগ্রহচিত্রের গুরুত্ব, ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে

তথ্যের গুণমান

মনুষ্যসৃষ্ট তথ্য হওয়ায় একেবারে নিখুঁত হয়

এই তথ্য ডিজিটাল হওয়ায় সর্বদা নিখুঁত হয় না

4. সক্রিয় সেন্সর ও নিষ্ক্রিয় সেন্সর-এর পার্থক্য লেখো।

বিষয়

সক্রিয় সেন্সর

নিষ্ক্রিয় সেন্সর

তরঙ্গ

সেন্সর থেকে প্রেরিত ও ভূপৃষ্ট থেকে প্রতিফলিত উভয়ই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ

শুধু প্রতিফলিত তরঙ্গ বিদ্যুৎ চুম্বকীয়

কার্যসময়

দিনরাত সর্বদা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে

কেবল দিনের বেলায় তথ্য সংগ্রহ করে

নির্ভরতা

সেন্সরের নিজ দেহ থেকে বিদ্যুৎ চুম্বক তরঙ্গ পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে

সূর্যের প্রতিফলনের উপর নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহ করে

উদাহরন

অ্যাক্টিভ রেডিয়োমিটার, র‍্যাডার

ইলেকট্রনিক ক্যামেরা

5. উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি-

(i) চিত্রগ্রহণ :- নির্দিষ্ট স্কেল অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা অনুসারে উপগ্রহচিত্র চিত্রায়িত করা হয় ফলে ব্যবহার করা অনেক সহজ। উপগ্রহ চিত্রে কোন তারিখ, কোন সময়কালে তোলা তাও উল্লেখ থাকে।

(ii) দুগর্মস্থানে তথ্য প্রদান :— উপগ্রহ চিত্রে দুরসংবেদনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এ কারণে এর দ্বারা দুর্গম স্থানের মানচিত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়। জরিপ কার্যের সময় মানুষ যেসব অংশে পৌঁছাতে পারে না সেইসব অংশে সঠিক তথ্য কেবলমাত্র উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া যায়।

(iii) ডিজিটাল তথ্য :–উপগ্রহ চিত্র ডিজিটাল আকারে পাওয়া যায়। তাই কম্পিউটারে এই চিত্র থেকে তথ্যের বিশ্লেষন ও প্রয়োজন অনুযায়ী মানচিত্র প্রস্তুত করা হয়।

(iv) রঙিন চিত্র :— উপগ্রহ চিত্রে ভূপৃষ্টের উপাদানকে বিভিন্ন রঙে চিত্রায়িত করা হয়। অনেক চিত্রে ভূ-পৃষ্ঠের তথ্যের যে রং সেই রং-এ চিত্রায়িত করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত রং-এর পরিবর্তে ছদ্ম রং ব্যবহার করা হয়৷

(v) প্রতিনিয়ত তথ্য :– প্রতিটি অঞ্চলের তথ্য প্রতিদিন সংগ্রহ করা যায় তাই তথ্যের পরিবর্তন ধরা পড়া সম্ভব নয়।

6. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র কী? অথবা, ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: যে মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলি বিভিন্ন প্রচলিত প্রতীক-চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয় সেই মানচিত্রকে ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বলে। বৃহৎ স্কেলের এই মানচিত্র সুনির্দিষ্ট স্কেলে ও সুনির্দিষ্ট অভিক্ষেপের মাধ্যমে অঙ্কন করা হয়। ভারতীয় সর্বেক্ষণ বিভাগ (Survey of India) এই মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রকাশ করে।

■ ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি হল- (i) ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র কতকগুলি সুনির্দিষ্ট স্কেলে অঙ্কন করা হয়। (ii) মানচিত্রগুলির দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশগত বিস্তার সুনির্দিষ্ট থাকে। (iii) নিখুঁত জরিপকার্যের মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে এই মানচিত্র অঙ্কন করা হয়।

7. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ভগ্নাংশসূচক স্কেলের (R.F.) ব্যবহার উল্লেখ করো।

উত্তর: মানচিত্রে কোনো দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব এবং ভূমিভাগে সেই দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্বের অনুপাতকে যখন ভগ্নাংশের সাহায্যে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে বলা হয় ভগ্নাংশসূচক স্কেল বা R.F. (Representative Fraction)
অর্থাৎ, R.F = মানচিত্রে দূরত্ব ÷ ভূমিভাগে দূরত্ব

■ ব্যবহার : (i) এক্ষেত্রে ভগ্নাংশের লব = মানচিত্রে দূরত্ব এবং হর = ভূমিভাগে দূরত্ব নির্দেশ করে। লব বা হরের কোনো নির্দিষ্ট একক থাকে না। ইহা একটি এককবিহীন স্কেল। (ii) R.F-এর লব এর মান সর্বদা 1 হয়। (iii) লব ও হরের একই একক ধরা হয়। তাই এই স্কেলের ব্যবহারিক গুরুত্ব খুব বেশি। যে কোনো দেশে যে কোনো এককে ইহা কার্যকরী হয়। (iv) এই স্কেলকে বিবৃতিমূলক স্কেলে বা রৈখিক স্কেলে সহজে রূপান্তরিত করা যায়।

 

আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে মাধ্যমিক ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় (উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্র)থেকে   বাছাই করা ১/২/৩ মার্কস এর প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হল, যেগুলি  পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণে সাহায্য করবে।

 

  SOURCE-EDT

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top