Class 9 জীবন বিজ্ঞান

‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ প্রশ্ন উত্তর

Life Science Chapter 5 Question Answer

Published on:

নবম শ্রেণির (Class 9) জীবন বিজ্ঞানের (Life Science) পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’-এর মধ্যে বাস্তুতন্ত্র, নাইট্রোজেন চক্র, পরিবেশ দূষণ, গ্রিনহাউস প্রভাব, বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ (In-situ ও Ex-situ) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই পোস্টে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ এক কথার প্রশ্নোত্তর এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) উত্তর   শেয়ার করা হল।

◆ বিষয়বস্তু ◆

1 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়) Oneliner প্রশ্ন উত্তর

1.1 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Life Science Chapter 5 Question Answer

1.2 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Life Science Chapter 5 SAQ Question Answer

1.3 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়) শূন্যস্থানপূরণ | Class 9 Life Science Chapter 5 Fill The Blanks Question Answer

1.4 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়) সত্য মিথ্যা | Class 9 Life Science Chapter 5 True False Question Answer

1.5 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Life Science Chapter 5 Short Question Answer

1.6 নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Life Science Chapter 5 Long Question Answer

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান

‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়)

Oneliner প্রশ্ন উত্তর

★ বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম (Ecosystem) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন: বিজ্ঞানী এ. জি. ট্যানসলে (A.G. Tansley)।
★ ইকোলজি (Ecology) বা বাস্তুবিদ্যা শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন: বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল (Ernst Haeckel)।
★ বাস্তুতন্ত্রে শক্তির মূল উৎস কী: সূর্য (Sun)।

★ সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারে, বাস্তুতন্ত্রে তাদের বলে:উৎপাদক (Producer)।
★ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচিয়ে যারা পুষ্টিরস শোষণ করে এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে, তাদের বলে: বিয়োজক (Decomposer) [যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক]।
★ লিন্ডেম্যানের সূত্র অনুযায়ী, একটি পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে কত শতাংশ শক্তি স্থানান্তরিত হয়: ১০ শতাংশ (10% Law)।

★ বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ সর্বদা কোন প্রকৃতির হয়: একমুখী (Unidirectional)।
★ যে খাদ্যশৃঙ্খল উৎপাদক থেকে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে তৃণভোজী ও মাংসাশী প্রাণীতে শেষ হয়, তাকে বলে:চারণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল (Grazing Food Chain)।
★ মৃত জৈব পদার্থ বা পচা গলিত বস্তু থেকে শুরু হয়ে যে খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষুদ্র প্রাণীদের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়, তাকে বলে: ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল (Detritus Food Chain)।

★ একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে জটিল জালের মতো গঠন তৈরি করে, তাকে বলে:খাদ্যজাল (Food Web)।
★ পরিবেশে নাইট্রোজেন আবদ্ধকারী একটি স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়ার নাম হলো: অ্যাজোটোব্যাকটর (Azotobacter) বা ক্লস্ট্রিডিয়াম (Clostridium)।
★ শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের (যেমন- মটর গাছ) মূলে বসবাসকারী নাইট্রোজেন স্থিতিকারী মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া হলো: রাইজোবিয়াম (Rhizobium)।

★ যে প্রক্রিয়ায় মৃত জীবদেহ বা জৈব বর্জ্য পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয়, তাকে বলে: অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification)।
★ একটি অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ হলো: ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস (Bacillus mycoides)।
★ মাটি থেকে নাইট্রেট যৌগের নাইট্রোজেন গ্যাস রূপে মুক্ত হয়ে পরিবেশে ফিরে যাওয়ার পদ্ধতিকে বলে: ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification)।

★ একটি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ হলো: সিউডোমোনাস (Pseudomonas) বা থায়োব্যাসিলাস (Thiobacillus)।
★ কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী একই প্রজাতির জীবের সমষ্টিকে একত্রে বলে:পপুলেশন (Population)।
★ একক সময়ে কোনো পপুলেশনে যে সংখ্যক নতুন জীবের জন্ম হয় (জনন প্রক্রিয়ায়), তাকে বলে: জন্মহার বা ন্যাটালিটি (Natality)।

★ একক সময়ে কোনো পপুলেশনে যে সংখ্যক জীবের মৃত্যু হয়, তাকে বলে: মৃত্যুহার বা মর্টালিটি (Mortality)।
★ কোনো পপুলেশনে বাইরে থেকে নতুন সদস্যের আগমনকে কী বলে: ইমিগ্রেশন (Immigration)।
★ যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়, তাকে বলে: মিউচুয়ালিজম (Mutualism) [যেমন- লাইকেন, রাইজোবিয়াম ও মটর গাছ]।

★ যে সম্পর্কে একটি প্রজাতি উপকৃত হয় কিন্তু অন্য প্রজাতির কোনো ক্ষতি বা লাভ হয় না, তাকে বলে: কমেনসালিজম (Commensalism) [যেমন- অর্কিড ও আম গাছ]।
★ বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি পুষ্টিস্তরের জীবের সংখ্যা, জীবভর বা শক্তির পরিমাণকে পর্যায়ক্রমে সাজালে যে পিরামিড গঠিত হয়, তাকে বলে: বাস্তুতান্ত্রিক পিরামিড (Ecological Pyramid)।
★ বাস্তুতন্ত্রে শক্তির পিরামিড সর্বদা কেমন আকৃতির হয়: খাড়া বা ঊর্ধ্বমুখী (Upright)।

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান

‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়)

MCQ প্রশ্ন উত্তর 

Class 9 Life Science Chapter 5 Question Answer

 

১. নিম্নলিখিত কোন্টি মরুজ উদ্ভিদ? –
(A) আম
(B) সোলানাম
(C) ফণীমনসা
(D) জবা
উত্তর: (C) ফণীমনসা

২. কোন্টি মরুজ প্রাণী?
(A) টারকি ভালচার
(B) কুমির
(C) ঈগল
(D) গোসাপ
উত্তর: (A) টারকি ভালচার

৩. নিম্নলিখিত কোন্টি অন্তঃপরজীবী?
(A) মাইট
(B) ফ্লি
(C) টিনিয়া
(D) টিকম
উত্তর: (C) টিনিয়া

৪. পুনঃস্থাপন অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ কোন্টি?
(A) প্রাকৃতিক গ্যাস
(B) বন
(C) ফসল
(D) মাটি
উত্তর: (A) প্রাকৃতিক গ্যাস

৫. নিম্নলিখিত কোন্ শৈবাল প্রোটিনযুক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
(A) কারা
(B) ভলভক্স
(C) ক্লোরেল্লা
(D) স্পাইরোগাইরা
উত্তর: (C) ক্লোরেল্লা

৬. কোন্টির মধ্যে শক্তি রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চিত থাকে?
(A) কয়লা
(B) খনিজ তেল
(C) রাসায়নিক সার
(D) প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর: (A) কয়লা

৭. উজ্জ্বল আলোতে ভালো জন্মায় এমন উদ্ভিদদের বলে –
(A) হেলিওফাইট
(B) স্যামোফাইট
(C) সিওফাইট
(D) লিসোফাইট
উত্তর: (A) হেলিওফাইট

৮. জলজ বাস্তুতন্ত্রে ফাইটোপ্ল্যাংকটন হল –
(A) উৎপাদক
(B) বিয়োজক
(C) প্রাথমিক খাদক
(D) গৌণ খাদক
উত্তর: (A) উৎপাদক

৯. যেসকল প্রাণী জলের তলদেশে বসবাস করে তাদের বলে –
(A) ফ্লোরা
(B) ফনা
(C) বেনথস
(D) নেকটন
উত্তর: (C) বেনথস

১০. জলের তলায় থিতিয়ে পড়া পচনশীল জৈব পদার্থকে বলে –
(A) ডেট্রিটাস
(B) উৎপাদক
(C) পরিবর্তক
(D) বিয়োজক
উত্তর: (A) ডেট্রিটাস

১১. বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য পিরামিডের ভূমিতে থাকে –
(A) বিয়োজক
(B) গৌণ খাদক
(C) খাদক
(D) উৎপাদক
উত্তর: (D) উৎপাদক

১২. পপুলেশন ঘনত্ব কম হলে জন্মহার –
(A) বেশি হবে
(B) কম হবে
(C) কোনো পরিবর্তনই হবে না
(D) সমান থাকবে
উত্তর: (A) বেশি হবে

১৩. সর্বোচ্চ কোন্ তাপমাত্রায় জীব স্বাভাবিক জীবনক্রিয়া করতে পারে?
(A) 40°C—45°C
(B) 45°C—50°C
(C) 50°C—55°C
(D) 40°C—60°C
উত্তর: (B) 45°C—50°C

১৪. তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খলে প্রাথমিক খাদকটি হল –
(A) হরিণ
(B) পতঙ্গের লার্ভা
(C) ঘাসফড়িং
(D) শূকর
উত্তর: (C) ঘাসফড়িং

১৫. পৃথিবীতে বিকিরিত সূর্যালোকের কত শতাংশ সবুজ উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত হয়?
(A) 0.02
(B) 0.01
(C) 0.05
(D) 0.10
উত্তর: (A) 0.02

১৬. পুনঃস্থাপন অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদটি হল –
(A) কয়লা
(B) মৃত্তিকা
(C) বন
(D) ফসল
উত্তর: (A) কয়লা

১৭. আমাদের দেশে কৃষিজ জমির কত ভাগ জমিতে ধান, গম, যব, জোয়ার ইত্যাদি চাষ করা হয়?
(A) 100
(B) 75
(C) 80
(D) 70
উত্তর: (B) 75

১৮. মানুষ দৈহিক প্রয়োজনে কত শতাংশ প্রোটিন প্রাণিজ প্রোটিন থেকে সংগ্রহ করে?
(A) 80
(B) 75
(C) 60
(D) 50
উত্তর: (D) 50

১৯. পেট্রোরসায়নিক শিল্পে কোন্টি ব্যবহৃত হয়?
(A) কয়লা
(B) লোহা
(C) খনিজ তেল
(D) রাসায়নিক সার
উত্তর: (C) খনিজ তেল

২০. কোন্ ছত্রাকের মিশ্র কালচার থেকে নিষ্কাশিত প্রোটিন পশুদের বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
(A) রাইজোপাস
(B) ইস্ট
(C) অ্যাগারিকাস
(D) অ্যাসকোবোলাস
উত্তর: (B) ইস্ট

২১. বায়ুর গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে কোন্ শক্তি উৎপন্ন করা হয়?
(A) সৌরশক্তি
(B) বায়ুশক্তি
(C) পারমাণবিক শক্তি
(D) জলবিদ্যুৎ শক্তি
উত্তর: (B) বায়ুশক্তি

২২. কোন্টি প্রোটিন সরবরাহকারী প্রাণী –
(A) ক্লোরেল্লা
(B) মুসুর
(C) পালং
(D) মাছ
উত্তর: (D) মাছ

২৩. কোন্টি দেশি পোনা?
(A) রজত রুই
(B) ঘেসো রুই
(C) কাতলা
(D) আমেরিকান রুই
উত্তর: (C) কাতলা

২৪. পৃথিবীতে মোট ব্যবহারযোগ্য জলের পরিমাণ –
(A) 97.2%
(B) 0.62%
(C) 2.8%
(D) 2.15
উত্তর: (B) 0.62%

২৫. জলের তলায় থিতিয়ে পড়া পচনশীল জৈব পদার্থকে বলে –
(A) ডেট্রিটাস
(B) উৎপাদক
(C) পরিবর্তক
(D) বিয়োজক
উত্তর: (A) ডেট্রিটাস

২৬. বাস্তুতন্ত্রে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ?
(A) উৎপাদক
(B) প্রাথমিক খাদক
(C) খাদক
(D) বিয়োজক
উত্তর: (A) উৎপাদক

২৭. একটি নির্দিষ্ট জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত জীবসম্প্রদায়কে বলে –
(A) ইকোলজিক্যাল নিচ
(B) বায়োস্ফিয়ার
(C) বায়োম
(D) বায়োমাস
উত্তর: (C) বায়োম

২৮. বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য পিরামিডের ভূমিতে থাকে –
(A) বিয়োজক
(B) গৌণ খাদক
(C) খাদক
(D) উৎপাদক
উত্তর: (D) উৎপাদক

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান

‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

Class 9 Life Science Chapter 5

SAQ Question Answer

 

১. দুটি পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদের নাম লেখো।
উত্তর:
সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তি (বা বনভূমি)।

২. খাদ্য সম্পদ বলতে কোন্ প্রকার খাদ্যকে বোঝায়?
উত্তর:
যেসব উদ্ভিদজ ও প্রাণীজ উপাদান থেকে মানুষ পুষ্টি ও শক্তি সংগ্রহ করে, তাদের খাদ্য সম্পদ বলে।

৩. বায়ুশক্তি কী?
উত্তর:
বায়ুর গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে উইন্ডমিলের টারবাইন ঘুরিয়ে যে যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করা হয়, তাকে বায়ুশক্তি বলে।

৪. বাস্তুবিদ্যা কী?
উত্তর:
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীব ও তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।

৫. দুটি মরুজ উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর:
ফণীমনসা এবং ক্যাকটাস (বা বাবলা)।

৬. দুটি অন্তঃপরজীবীর নাম লেখো।
উত্তর:
ফিতাকৃমি এবং গোলকৃমি।

৭. খাদ্যশৃঙ্খলের উদাহরণ দাও।
উত্তর:
ঘাস -> ঘাসফড়িং -> ব্যাঙ -> সাপ -> ময়ূর।

৮. ফণীমনসার মূল কী কারণে দীর্ঘ হয়?
উত্তর:
মরু অঞ্চলে জলের স্তর মাটির অনেক গভীরে থাকায়, গভীর থেকে জল শোষণের জন্য এদের মূল দীর্ঘ হয়।

৯. মরুভূমির প্রাণীদের তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চামড়ার নীচে কী থাকে?
উত্তর:
এদের চামড়া অত্যন্ত পুরু হয় এবং অনেক প্রাণীর চামড়ার নীচে ফ্যাট বা চর্বির স্তর থাকে।

১০. ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীরা দুপুরের সূর্যের তেজ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কী কৌশল অবলম্বন করে?
উত্তর:
এরা দিনের বেলায় মাটির গর্তে বা ছায়াযুক্ত স্থানে লুকিয়ে থাকে এবং রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয় (নিশাচর)।

১১. কোন্ বিজ্ঞানী পপুলেশনের সংজ্ঞা দিয়েছেন?
উত্তর:
বিজ্ঞানী ওডাম (E.P. Odum)।

১২. পপুলেশনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে জন্মহার কীরূপ হবে?
উত্তর:
সম্পদের অভাব দেখা দিলে জন্মহার হ্রাস পাবে।

১৩. খাদ্য-খাদক সম্পর্কে উৎপাদকদের গ্রাস করে কারা?
উত্তর:
প্রাথমিক খাদক বা তৃণভোজী প্রাণীরা।

১৪. কোন্ ধরনের জীবের মধ্যে সহযোগিতা বা মিথোজীবিতা দেখা যায়?
উত্তর:
দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে, যেখানে উভয়ই লাভবান হয়। যেমন: লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক।

১৫. বাস্তুতন্ত্রের দুটি জীবজ শর্তের উদাহরণ দাও।
উত্তর:
উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) এবং খাদক (প্রাণী)।

১৬. আলো কোন্ প্রক্রিয়ার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:
সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায়।

১৭. সবুজ উদ্ভিদ কীসের সাহায্যে সূর্যালোক শোষণ করে?
উত্তর:
পাতায় উপস্থিত ক্লোরোফিলের সাহায্যে।

১৮. রাইজোবিয়াম কোথায় বসবাস করে?
উত্তর:
শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের (যেমন: মটর গাছ) মূলের অর্বুদে বা গুটিতে বসবাস করে।

১৯. খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির উৎস কী?
উত্তর:
সৌরশক্তি বা সূর্য।

২০. যখন উৎপাদক ও বিভিন্ন খাদক পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
উত্তর:
খাদ্যজাল (Food web)।

২১. জল সম্পদের অতিব্যবহারের একটি কুফল উল্লেখ করো।
উত্তর:
ভৌমজলের স্তর তীব্রভাবে নিচে নেমে যাওয়া এবং পানীয় জলের সংকট দেখা দেওয়া।

২২. জল সংরক্ষণের দুটি উপায় উল্লেখ করো।
উত্তর:
বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা এবং কৃষিকাজে ড্রিপরিসেচ বা বিন্দুসেচ পদ্ধতির ব্যবহার করা।

২৩. প্রোটিনের বিকল্প খাদ্য কী?
উত্তর:
সিঙ্গল সেল প্রোটিন (SCP) বা স্পাইরুলিনা এবং মাশরুম।

২৪. কয়লা দহন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনকালে কী পরিমাণ শক্তি নষ্ট হয়?
উত্তর:
প্রায় ৬০-৭০% শক্তি তাপ হিসেবে নষ্ট হয়।

২৫. বাড়িতে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য টিউব লাইট, বালব-এর বদলে কী ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর:
LED (Light Emitting Diode) বা CFL বাল্ব ব্যবহার করা উচিত।

২৬. সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন করা হয় কী থেকে?
উত্তর:
কয়লা দহন করে (তাপবিদ্যুৎ)।

২৭. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
উত্তর:
ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে বর্তমানে প্রায় ৬৭৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

২৮. বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
উত্তর:
ভারতে বর্তমানে প্রায় ৪০,০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ বায়ুশক্তি থেকে উৎপন্ন হয়।

২৯. রান্নার জন্য সৌরশক্তিকে কীরূপে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর:
সোলার কুকার-এর সাহায্যে সৌরশক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত করে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।

৩০. সোলার ড্রায়ার কী কাজে লাগে?
উত্তর:
সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শস্য, ফল, মাছ, শাকসবজি ইত্যাদি শুকানোর (dry) কাজে ব্যবহৃত হয়।

৩১. প্রাণীদেহে জলের একটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
উত্তর:
জল রক্ত ও লসিকার প্রধান উপাদান এবং এটি খাদ্য, হরমোন ও রেচন পদার্থ পরিবহণে সাহায্য করে।

৩২. উদ্ভিদদেহে জলের একটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
উত্তর:
সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির জন্য জল একটি অপরিহার্য উপাদান।

৩৩. উদ্ভিদের বিস্তার রীতিকে প্রভাবিত করে এমন উদাহরণ দাও।
উত্তর:
সূর্যালোক, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাত।

৩৪. যেসব জীব নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করে, তাদের কী বলে?
উত্তর:
স্বভোজী বা উৎপাদক বলে।

৩৫. যেসব পরভোজী সরাসরি উৎপাদকদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের কী বলে?
উত্তর:
প্রাথমিক খাদক বা তৃণভোজী প্রাণী বলে।

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান

‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়)

শূন্যস্থানপূরণ 

Class 9 Life Science Chapter 5

Fill The Blanks Question Answer

 

১. _________ পোড়ালে রাসায়নিক শক্তির তাপশক্তিতে রূপান্তর ঘটে।
উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি

২. বায়ুর গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে _________ উৎপন্ন করা হয়।
উত্তর:
বিদ্যুৎ

৩. _________ হল একপ্রকার পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
উত্তর:
সৌরশক্তি

৪. _________ পোষক দেহের অভ্যন্তরে বাস করে।
উত্তর:
অন্তঃপরজীবী

৫. জীবসম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব ও প্রাকৃতিক অবস্থাকে _________ বলে।
উত্তর:
পরিবেশ

৬. ফণীমনসা গাছের _________ কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।
উত্তর:
পাতা

৭. যেসব উদ্ভিদ কম আলোয় ছায়াযুক্ত পরিবেশে জন্মায়, তাদের _________ বলে।
উত্তর:
সিওফাইট

৮. সন্ন্যাসী কাঁকড়া ও _________ -এর মধ্যে কো-অপারেশন দেখা যায়।
উত্তর:
সি-অ্যানিমন

৯. _________ একটি সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়া।
উত্তর:
রোডোস্পাইরিলাম

১০. বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ সর্বদা _________ ।
উত্তর:
একমুখী

১১. বাস্তুতন্ত্রে মাত্র _________ শতাংশ শক্তি পরবর্তী পুষ্টিস্তরে পৌঁছায়।
উত্তর:
১০

১২. পৃথিবীর সকল বায়োমকে একত্রে _________ বলে।
উত্তর:
বায়োস্ফিয়ার

১৩. পৃথিবীর সমগ্র জলের _________ শতাংশ পানযোগ্য মিষ্টিজল।
উত্তর:
৩

১৪. বাস্তুতন্ত্রের যে উপাদান জটিল যৌগকে সরল জৈব যৌগে পরিণত করে তাকে _________ বলে।
উত্তর:
বিয়োজক

১৫. যে-সকল উদ্ভিদের সংকটকালীন দিবা-দৈর্ঘ্যের তুলনায় বেশি দিবা-দৈর্ঘ্যে ফুল উৎপন্ন হয়, তাদের _________ উদ্ভিদ বলে।
উত্তর:
দীর্ঘ দিবা

১৬. ব্যাঙ _________ শ্রেণির খাদক।
উত্তর:
গৌণ

১৭. _________ খাদকরা সরাসরি উদ্ভিদদের থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।
উত্তর:
প্রাথমিক

১৮. বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহ _________ হয়।
উত্তর:
একমুখী

১৯. খাদ্যশৃঙ্খলের সাংগঠনিক একককে _________ বলে।
উত্তর:
পুষ্টিস্তর

২০. _________ একপ্রকার জাঙ্গল উদ্ভিদ।
উত্তর:
ফণীমনসা

২১. পেট্রোলের সঞ্চিত _________ যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গাড়ি চলে।
উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি

২২. প্রাণীজ প্রোটিনের বেশিরভাগটা _________ থেকে আসে।
উত্তর:
মাছ

২৩. বর্তমানে আমাদের দেশে _________ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে।
উত্তর:
৭টি

২৪. ভারতে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় _________ থেকে।
উত্তর:
কয়লা

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান

‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ (পঞ্চম অধ্যায়)

সত্য মিথ্যা 

Class 9 Life Science Chapter 5 True False Question Answer

 

১. লেগুমিনোসি উদ্ভিদের মূলে অর্বুদ সৃষ্টিকারী রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার মিথোজীবিত্ব লক্ষ করা যায়।
উত্তর:
সত্য (T)

২. বিশ্ব পরিবেশ দিবস 5 মার্চ।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: বিশ্ব পরিবেশ দিবস 5 জুন পালিত হয়।]

৩. মোট শক্তির 90% দেহগঠনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: মোট শক্তির মাত্র 10% দেহগঠনের কাজে বা পরবর্তী পুষ্টিস্তরে ব্যবহৃত হয়। একে লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশের সূত্র বলে।]

৪. পেট্রোলিয়াম একপ্রকার পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: পেট্রোলিয়াম একটি অনবীকরণযোগ্য বা পুনঃস্থাপন-অযোগ্য (Non-renewable) প্রাকৃতিক সম্পদ।]

৫. স্পাইরুলিনা প্রোটিনযুক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
উত্তর:
সত্য (T)

৬. দশ শতাংশ (10% law) সূত্রের প্রবক্তা বিজ্ঞানী হেকেল।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: দশ শতাংশ সূত্রের প্রবক্তা হলেন বিজ্ঞানী লিন্ডেম্যান (Lindeman)।]

৭. যেসব উদ্ভিদ উচ্চ তাপমাত্রা অঞ্চলে বসবাস করে করে তাদের বলে মেগাথারমস।
উত্তর:
সত্য (T)

৮. বীজের অঙ্কুরোদ্গমের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন।
উত্তর:
সত্য (T)

৯. ছত্রাক একপ্রকার রূপান্তরক।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: ছত্রাক হলো বাস্তুতন্ত্রের বিয়োজক (Decomposer)। বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরক বলা হয় সবুজ উদ্ভিদ বা উৎপাদককে।]

১০. ঘাস -> হরিণ -> বাঘ, এটি তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল।
উত্তর:
সত্য (T)

১১. পুকুরের খাদ্য শৃঙ্খল জুপ্ল্যাংকটন থেকে শুরু হয়।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: পুকুরের খাদ্য শৃঙ্খল সর্বদা ফাইটোপ্ল্যাংকটন (Phytoplankton) বা আণুবীক্ষণিক সবুজ উদ্ভিদ থেকে শুরু হয়।]

১২. হেলিওফাইটদের পাতা ছোটো, পুরু কিউটিকলযুক্ত ও নিবেশিত পত্ররন্ধ্র দেখা যায়।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: এই বৈশিষ্ট্যগুলো মরুভূমির জেরোফাইট বা জাঙ্গল উদ্ভিদের (Xerophytes) দেখা যায়। হেলিওফাইট (Heliophytes) বা আলো-প্রেমী উদ্ভিদের পাতা সাধারণত চওড়া হয়।]

১৩. মাছ শীতলশোণিত প্রাণী।
উত্তর:
সত্য (T)

১৪. পরজীবী ও পোষকের আন্তঃক্রিয়া হল পরজীবিতা।
উত্তর:
সত্য (T)

১৫. বিচ্ছুরিত সৌরশক্তির 500 লক্ষ ভাগের মাত্র একভাগ সূর্যালোক হিসেবে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
উত্তর:
মিথ্যা (F) [সঠিক উত্তর: বিচ্ছুরিত সৌরশক্তির প্রায় 200 কোটি ভাগের একভাগ (2 বিলিয়ন ভাগের একভাগ) সূর্যালোক হিসেবে পৃথিবীতে পৌঁছায়।]

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায়

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) 

Class 9 Life Science Chapter 5

Short Question Answer

 

১. জীবসম্প্রদায় কাকে বলে?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বসতি অঞ্চলে বা পরিবেশে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির পপুলেশনের (Population) সমষ্টিকে একত্রে জীবসম্প্রদায় বা বায়োটিক কমিউনিটি (Biotic community) বলে।

২. খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?

উত্তর: বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্তরের খাদকদের মধ্যে খাদ্য ও খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে শৃঙ্খল বা একমুখী পথে শক্তির প্রবাহ ঘটে, তাকে খাদ্যশৃঙ্খল বা Food chain বলে।

৩. পপুলেশন কী?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসকারী এবং আন্তঃপ্রজননে সক্ষম একই প্রজাতিভুক্ত জীবগোষ্ঠীকে একত্রে পপুলেশন (Population) বা জনসংখ্যা বলে।

৪. প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?

উত্তর: প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেসব উপাদান মানুষ তার নিজস্ব চাহিদা পূরণের জন্য, জীবনধারণের জন্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করে, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural Resources) বলে। যেমন: বন, মাটি, জল, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি।

৫. পপুলেশন কাকে বলে?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসকারী একই প্রজাতির জীবসমষ্টিকে একত্রে পপুলেশন বলে।

৬. মৎস্যচাষ কী?

উত্তর: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুকুর, নদী বা অন্যান্য জলাশয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছের প্রজনন, পালন, পরিচর্যা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে মৎস্যচাষ বা পিসিকালচার (Pisciculture) বলে।

৭. খাদ্যজাল কাকে বলে?

উত্তর: বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল যখন একে অপরের সাথে আড়াআড়িভাবে যুক্ত হয়ে একটি জটিল জালিকাকার বিন্যাস গঠন করে, তখন তাকে খাদ্যজাল বা ফুড ওয়েব (Food web) বলে।

৮. পরিপোষক চক্র কাকে বলে?

উত্তর: যে চক্রাকার বা আবর্তনশীল পদ্ধতিতে জীবদেহের প্রয়োজনীয় পরিপোষক বা পুষ্টি উপাদানগুলি (যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস) পরিবেশ (মাটি, জল, বায়ু) থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পুনরায় পরিবেশে আবর্তিত হয়, তাকে পরিপোষক চক্র বা বায়োজিওকেমিক্যাল সাইকেল (Biogeochemical cycle) বলে।

৯. সিনইকোলজি কাকে বলে?

উত্তর: বাস্তুবিদ্যার যে শাখায় কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমগ্র জীবসম্প্রদায়ের (কমিউনিটি) সঙ্গে তাদের পরিবেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সিনইকোলজি (Synecology) বলে।

১০. হাইড্রোফাইট উদ্ভিদ কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: যেসব উদ্ভিদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জলে ডুবে থাকে বা জলজ পরিবেশে জন্মায়, তাদের হাইড্রোফাইট (Hydrophyte) বা জলজ উদ্ভিদ বলে।

বৈশিষ্ট্য: ১. এদের মূলতন্ত্র সুগঠিত নয় বা অনুপস্থিত থাকে।

২. এদের কাণ্ড ও পাতায় প্রচুর বায়ুগহ্বর (অ্যারেনকাইমা) থাকে, যা এদের জলে ভাসতে সাহায্য করে।

১১. বহিঃপরজীবী ও অন্তঃপরজীবী কাকে বলে?

উত্তর: বহিঃপরজীবী: যেসব পরজীবী পোষক দেহের বাইরের পৃষ্ঠে অবস্থান করে পুষ্টি সংগ্রহ করে, তাদের বহিঃপরজীবী বলে (যেমন: উকুন, এঁটুলি)।

অন্তঃপরজীবী: যেসব পরজীবী পোষক দেহের অভ্যন্তরে (যেমন- অন্ত্রে বা রক্তে) বসবাস করে পুষ্টি সংগ্রহ করে, তাদের অন্তঃপরজীবী বলে (যেমন: ফিতাকৃমি, প্লাজমোডিয়াম)।

১২. বাধ্যতামূলক পরজীবিতা কাকে বলে?

উত্তর: যে ধরনের পরজীবিতায় পরজীবী তার জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য পোষক দেহের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল থাকে এবং পোষক ছাড়া তারা বাঁচতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, তাকে বাধ্যতামূলক পরজীবিতা (Obligate parasitism) বলে।

১৩. পরিযান বা মাইগ্রেশন কাকে বলে?

উত্তর: খাদ্যের সন্ধানে, প্রজননের উদ্দেশ্যে বা প্রতিকূল পরিবেশ এড়ানোর জন্য প্রাণীদের এক নির্দিষ্ট স্থান থেকে অন্য স্থানে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে দলবদ্ধভাবে গমন করাকে পরিযান বা মাইগ্রেশন (Migration) বলে।

১৪. রূপান্তরক কাকে বলে?

উত্তর: বাস্তুতন্ত্রে যে সমস্ত অণুজীব (যেমন- ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক) মৃত জীবদেহ বা বর্জ্য পদার্থ থেকে উৎপন্ন সরল জৈব যৌগগুলিকে আরও বিশ্লিষ্ট করে অজৈব উপাদানে পরিণত করে এবং পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়, তাদের রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer) বলে।

১৫. অর্থকরী গুরুত্ব হিসেবে গৃহপালিত পশুদের কীভাবে ভাগ করা যেতে পারে?

উত্তর: অর্থকরী গুরুত্ব অনুযায়ী গৃহপালিত পশুদের প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: ১. দুগ্ধোৎপাদনকারী বা ডেয়ারি পশু (যেমন- গরু, মহিষ), ২. মাংস ও ডিম উৎপাদনকারী পশু (যেমন- ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি), এবং ৩. ভারবাহী বা ড্রাফট পশু (যেমন- ঘোড়া, গাধা, উট)।

১৬. খাদ্যের দুটি বিকল্প উৎস সম্পর্কে উল্লেখ করো।

উত্তর: খাদ্যের দুটি বিকল্প উৎস হলো: ১. সিঙ্গল সেল প্রোটিন (SCP) বা স্পাইরুলিনা (Spirulina), যা প্রোটিনসমৃদ্ধ অনুজীব থেকে তৈরি হয়। ২. ভোজ্য মাশরুম (Mushroom), যা প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর।

১৭. শক্তি সম্পদ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেসব উৎস বা উপাদান থেকে আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন কাজকর্ম, শিল্প, কৃষি ও পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (তাপ, আলো বা যান্ত্রিক শক্তি) পেয়ে থাকি, তাদের শক্তি সম্পদ বলে। যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, সৌরশক্তি ইত্যাদি।

১৮. প্রাত্যহিক জীবনে শক্তি সংরক্ষণের দুটি উপায় উল্লেখ করো।

উত্তর: ১. দিনের বেলায় কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমিয়ে সূর্যালোকের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক পাখা বা আলো নিভিয়ে রাখা।

২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সামগ্রী (যেমন- সাধারণ বাল্বের বদলে LED বাল্ব) ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহণ ব্যবহার করা।

নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায়

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) 

Class 9 Life Science Chapter 5

Long Question Answer

 

১. শক্তি কী? শক্তির ব্যবহারগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: কাজ করার সামর্থ্যকেই শক্তি বলে। জীববিজ্ঞানের ভাষায়, জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ও যান্ত্রিক কাজ সম্পাদনের ক্ষমতাকে শক্তি বোঝায়।

শক্তির ব্যবহার:
১. তাপবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎশক্তি কলকারখানা চালাতে, গৃহস্থালির কাজে এবং আধুনিক পরিবহণে ব্যবহৃত হয়।
২. খনিজ তেল (পেট্রোল, ডিজেল) পরিবহণ ব্যবস্থায় প্রধান চালিকাশক্তি বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩. রান্নার কাজে এবং শিল্পক্ষেত্রে তাপ উৎপাদনের জন্য কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
৪. কৃষিকাজে ট্রাক্টর, সেচের পাম্পসেট ইত্যাদি চালাতে যান্ত্রিক বা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহৃত হয়।

২. বনজসম্পদের ব্যবহার লেখো। বনধ্বংসের কারণ ও ফলাফল লেখো।

উত্তর: বনজ সম্পদের ব্যবহার – ১. আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি ও নৌকা তৈরির জন্য কাঠ পাওয়া যায়।
২. কাগজ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল (বাঁশ, কাঠ) বন থেকে আসে।
৩. বন থেকে মধু, মোম, রজন, গঁদ, ভেষজ ঔষধ ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয়।

বনধ্বংসের কারণ: ১. জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি, বসতি ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য বনভূমি কাটা হচ্ছে। ২. রাস্তাঘাট, বাঁধ নির্মাণ এবং খনি খননের জন্য প্রচুর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে।

বনধ্বংসের ফলাফল: ১. বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global warming) ঘটছে।

২. গাছের শিকড় মাটিকে ধরে রাখতে না পারায় ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বন্যার প্রকোপ বাড়ছে।

৩. বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান নষ্ট হওয়ায় জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে।

৩. জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী? বৃষ্টির জল ধরে রাখার পদ্ধতিগুলি কী কী?

উত্তর: জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা গুলি নিচে আলোচনা করা হল –
১. পৃথিবীতে পানযোগ্য মিষ্টি জলের পরিমাণ মাত্র ৩%, তাই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জলের চাহিদা মেটাতে জল সংরক্ষণ জরুরি।
২. কৃষিকাজে সেচ, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার এবং দৈনন্দিন জীবনে জলের ঘাটতি মেটাতে এটি অপরিহার্য।
৩. ভৌমজলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়া রোধ করতে জল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

বৃষ্টির জল ধরে রাখার পদ্ধতি (Rainwater Harvesting):

১. ছাদের জল সংরক্ষণ: বাড়ি বা কারখানার ছাদে পড়া বৃষ্টির জলকে পাইপের মাধ্যমে নীচে নামিয়ে এনে রিজার্ভার বা ট্যাংকে জমা করে ভবিষ্যতের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়।

২. কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ: নিচু জায়গায় পুকুর, দিঘি বা কৃত্রিম জলাধার খনন করে বৃষ্টির জল আটকে রাখা হয়।

৩. ভৌমজলের পুনর্ভরণ: বৃষ্টির জলকে বিশেষ রিচার্জ পিটের (Recharge pit) মাধ্যমে সরাসরি মাটির নিচে পাঠিয়ে ভৌমজলের স্তর বৃদ্ধি করা হয়।

৪. মরুজ প্রাণীর অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: মরুজ প্রাণীদের (যেমন- উট, টিকটিকি, র‍্যাটল সাপ) প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

১. জল সংরক্ষণ: উট তার নিশ্বাসের জলীয় বাষ্প নাসাপথে আটকে রাখে। এদের মূত্র অত্যন্ত ঘন হয় এবং ঘর্মগ্রন্থি থাকে না বললেই চলে, ফলে দেহ থেকে জলের অপচয় সর্বনিম্ন হয়।

২. তাপ নিয়ন্ত্রণ: এদের ত্বক পুরু হয় যা উত্তাপ থেকে রক্ষা করে। অনেক প্রাণী দিনের বেলায় বালির নিচে বা গর্তে লুকিয়ে থাকে (নিশাচর) যাতে প্রখর রোদ এড়ানো যায়।

৩. শারীরিক গঠন: উটের পিঠের কুঁজে ফ্যাট সঞ্চিত থাকে, যা প্রয়োজনে জারিত হয়ে জল ও শক্তি উৎপন্ন করে। এদের পায়ের পাতা চওড়া ও গদিযুক্ত হওয়ায় উত্তপ্ত বালিতে হাঁটতে সুবিধা হয়।

৫. কমিউনিটি স্তরে সম্ভাব্য আন্তঃক্রিয়াগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: একটি কমিউনিটিতে বিভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে নিম্নলিখিত আন্তঃক্রিয়াগুলি দেখা যায়:

১. মিথোজীবিতা (Mutualism): দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের সাহায্যে জীবনধারণ করে এবং উভয়ই উপকৃত হয়। যেমন- লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাকের অবস্থান।

২. পরজীবিতা (Parasitism): একটি জীব (পরজীবী) অন্য জীবের (পোষক) দেহ থেকে পুষ্টিরস সংগ্রহ করে এবং পোষকের ক্ষতিসাধন করে। যেমন- মানুষের দেহে ফিতাকৃমি।

৩. কমেনসালিজম (Commensalism): দুটি জীবের মধ্যে একটি উপকৃত হয় কিন্তু অপরটির কোনো উপকার বা ক্ষতি হয় না। যেমন- বড়ো গাছের ডালে পরাশ্রয়ী অর্কিড।

৪. শিকার-শিকারী সম্পর্ক (Predation): একটি জীব (শিকারী) অন্য জীবকে (শিকার) হত্যা করে ভক্ষণ করে। যেমন- বাঘ ও হরিণ।

৫. প্রতিযোগিতা (Competition): খাদ্য, বাসস্থান বা প্রজননের জন্য একই বা ভিন্ন প্রজাতির জীবদের মধ্যে সংগ্রাম।

৬. জেরোফাইট উদ্ভিদের অভিযোজন বর্ণনা করো।

উত্তর: শুষ্ক ও মরু পরিবেশে বসবাসকারী জেরোফাইট বা জাঙ্গল উদ্ভিদের (যেমন- ফণীমনসা, ক্যাকটাস, বাবলা) প্রধান অভিযোজনগুলি হলো:

১. মূল: জলের সন্ধানে এদের মূলতন্ত্র মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।

২. কাণ্ড: এদের কাণ্ড চ্যাপটা, রসালো, সবুজ এবং পুরু কিউটিকল যুক্ত হয়। কাণ্ড জল সঞ্চয় করে রাখে এবং সালোকসংশ্লেষ সম্পন্ন করে (একে পর্ণকাণ্ড বা Phylloclade বলে)।

৩. পাতা: বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য এদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। যেসব উদ্ভিদে পাতা থাকে, তা আকারে খুব ছোটো এবং পুরু মোমের আস্তরণযুক্ত হয়।

৪. পত্ররন্ধ্র: বাষ্পমোচনের হার কমানোর জন্য পত্ররন্ধ্র পাতার গভীরে নিবেশিত থাকে।

৭. পরজীবিতা কাকে বলে? পরজীবীর বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: যে পুষ্টি পদ্ধতিতে কোনো জীব (পরজীবী) অন্য কোনো জীবিত প্রজাতির জীবের (পোষক) দেহের ভেতরে বা বাইরে অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে বসবাস করে তার থেকে পুষ্টিরস সংগ্রহ করে এবং পোষকের ক্ষতিসাধন করে, তাকে পরজীবিতা (Parasitism) বলে।

পরজীবীর বৈশিষ্ট্য:
১. এরা সম্পূর্ণভাবে পোষক জীবের ওপর পুষ্টি ও বাসস্থানের জন্য নির্ভরশীল।
২. এদের পরিপাকতন্ত্র ও চলন অঙ্গ সাধারণত সরল প্রকৃতির বা অবলুপ্ত হয়।
৩. পোষকের দেহে শক্তভাবে আটকে থাকার জন্য এদের চোষক (Sucker) বা আংটা (Hook) থাকে।
৪. এদের জনন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হয়, যাতে দ্রুত বংশবিস্তার করে নতুন পোষক আক্রমণ করতে পারে।

৮. পপুলেশন কাকে বলে? পপুলেশনে জন্মহার সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর: নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসকারী একই প্রজাতিভুক্ত আন্তঃপ্রজননশীল জীবগোষ্ঠীকে পপুলেশন বলে।

জন্মহার (Natality): একক সময়ে প্রজননের মাধ্যমে কোনো পপুলেশনে যে সংখ্যক নতুন সদস্য যুক্ত হয়, তাকে জন্মহার বা ন্যাটালিটি বলে।

সূত্র: N = Δ Nn / Δt (যেখানে N = জন্মহার, Δ Nn = নতুন জন্ম নেওয়া সদস্যের সংখ্যা, Δ t = সময়)।

জন্মহার পপুলেশনের আকার ও ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। অনুকূল পরিবেশে এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের উপস্থিতিতে পপুলেশনের জন্মহার সর্বাধিক হয়, যাকে সম্ভাব্য জন্মহার (Potential natality) বলে। প্রকৃতিতে পরিবেশগত বাধার কারণে যে জন্মহার বাস্তবে পরিলক্ষিত হয়, তাকে ইকোলজিক্যাল ন্যাটালিটি বলে।

৯. জলজ উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের যেসব অভিযোজন লক্ষ করা যায় সেই সম্বন্ধে উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: জলজ উদ্ভিদের (হাইড্রোফাইট) অভিযোজন:
১. এদের মূলতন্ত্র খুব একটা সুগঠিত হয় না (যেমন- কচুরিপানা) এবং জলের স্রোতের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কাণ্ড নরম ও নমনীয় হয়।
২. এদের মূল, কাণ্ড ও পাতায় প্রচুর অ্যারেনকাইমা (বায়ুপূর্ণ গহ্বর) থাকে, যা জলে ভাসতে সাহায্য করে। (উদাহরণ: পদ্ম, শালুক)।

জলজ প্রাণীদের অভিযোজন:
১. মাছ: দেহ মাকু আকৃতির বা স্ট্রিমলাইনড হওয়ায় জলে সাঁতার কাটার সময় বাধা কম পায়। গমনের জন্য পাখনা এবং শ্বাসকার্যের জন্য ফুলকা থাকে। অস্থিময় মাছে পটকা থাকে যা প্লবতা রক্ষায় সাহায্য করে।

২. জলজ পাখি: হাঁসের পায়ের আঙুলগুলি পাতলা পর্দা দ্বারা যুক্ত হয়ে লিপ্তপদ গঠন করে, যা সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। এদের পালকে তেল গ্রন্থির ক্ষরণ থাকায় পালক জলে ভেজে না।

১০. সহযোগিতা বা মিথোজীবিতা কাকে বলে? সহযোগিতা কত রকমের হয়?

উত্তর: যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে জীবনধারণ করে এবং উভয় জীবই একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়, তখন সেই পুষ্টি সম্পর্ককে সহযোগিতা বা মিথোজীবিতা বলে।

প্রকারভেদ: মিথোজীবিতা প্রধানত দুই প্রকারের হয়—

১. বাধ্যতামূলক মিথোজীবিতা (Obligate mutualism): এক্ষেত্রে দুটি জীব একে অপরের ওপর এতটা নির্ভরশীল থাকে যে, একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। যেমন- লাইকেন (শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থান)।

২. ফ্যাকালটেটিভ মিথোজীবিতা (Facultative mutualism) বা কো-অপারেশন: এক্ষেত্রে দুটি জীব একসাথে থাকলে লাভবান হয়, কিন্তু একে অপরকে ছাড়াও স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে। যেমন- সন্ন্যাসী কাঁকড়া (Hermit crab) এবং সি-অ্যানিমন (Sea anemone)।

১১. শক্তির উৎস রূপে কয়লা ও খনিজ তেলের ব্যবহারগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর:কয়লার ব্যবহার:
১. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. লোহা ও ইস্পাত শিল্পে ধাতু নিষ্কাশনের জন্য এবং বিভিন্ন কলকারখানায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
৩. গৃহস্থালির কাজে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এবং ইঁটভাটায় কয়লা ব্যবহৃত হয়।

খনিজ তেলের ব্যবহার:
১. পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন ফুয়েল হিসেবে খনিজ তেল সড়ক, রেল, জল ও আকাশপথের সমস্ত পরিবহণ ব্যবস্থায় প্রধান চালিকাশক্তি।
২. কৃষিযন্ত্রপাতি (যেমন- ট্রাক্টর, পাম্পসেট) এবং শিল্প কারখানার জেনারেটর চালাতে ডিজেল ব্যবহৃত হয়।
৩. পেট্রোরসায়নিক শিল্পে (প্লাস্টিক, সার, রং তৈরি) খনিজ তেল কাঁচামাল ও শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১২. বায়ুশক্তি কী? এর ব্যবহারগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে বায়ুশক্তি (Wind Energy) বলে। এটি একটি দূষণমুক্ত ও অচিরাচরিত শক্তির উৎস।

বায়ুশক্তি এর ব্যবহার:
১. বাতাসের গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে উইন্ডমিল (Windmill) বা বায়ুকলের টারবাইন ঘুরিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
২. বায়ুকলের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন করে ভূগর্ভস্থ জল তোলা বা সেচের পাম্প চালানোর কাজ করা হয়।
৩. প্রাচীনকাল থেকে পালতোলা নৌকায় যাতায়াত করতে এবং শস্য মাড়াইয়ের কাজে বায়ুশক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

১৩. বন ধ্বংসের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে উল্লেখ করো।

উত্তর: বনধ্বংসের কারণ গুলি নিচে আলোচনা করা হল –
১. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য বাসস্থানের সংস্থান এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বন কেটে কৃষিজমি তৈরি করা হচ্ছে।
২. শিল্পায়ন, নতুন শহর পত্তন, রাস্তাঘাট ও রেললাইন সম্প্রসারণ এবং খনি উত্তোলনের জন্য ব্যাপকভাবে বৃক্ষচ্ছেদন করা হচ্ছে।
৩. আসবাবপত্র তৈরি, কাগজ শিল্পের কাঁচামাল এবং জ্বালানি কাঠের জন্য অবাধে গাছ কাটা হচ্ছে।

বনধ্বংসের ফলাফল:

১. জলবায়ু পরিবর্তন: বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) ঘটছে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনিয়মিত হয়ে যাচ্ছে।

২. ভূমিরূপের ক্ষতি: বন ধ্বংসের ফলে ভূমিক্ষয় (Soil erosion) মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

৩. জীববৈচিত্র্য হ্রাস: বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হওয়ার ফলে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

১৪. খাদ্য উৎপাদনে মৎস্যচাষের ভূমিকা উল্লেখ করো।

উত্তর: খাদ্য উৎপাদনে মৎস্যচাষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

১. প্রোটিনের উৎস: মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণীজ প্রোটিনের এক বিশাল অংশ আসে মাছ থেকে। বিজ্ঞানসম্মত মৎস্যচাষের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিকর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।

২. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: পরিকল্পিত উপায়ে মাছ চাষ করে প্রচুর মাছ উৎপাদন করা যায়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।

৩. খাদ্য নিরাপত্তা: অন্যান্য গবাদি পশু পালনের তুলনায় কম খরচে এবং কম জায়গায় জলাশয়ে মাছ চাষ করা যায়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে।

৪. ভিটামিন ও খনিজের জোগান: মাছের তেল (যেমন- কড, হাঙ্গর লিভার অয়েল) ভিটামিন A এবং D-এর উৎকৃষ্ট উৎস। মৎস্যচাষ এই অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলি মানুষের কাছে সহজলভ্য করে।

আজকের এই পোস্টে   নবম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল।   পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে ।

SOURCE-EDT

©kamaleshforeducation.in(2023)

  

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top