

নবম শ্রেণী কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি প্রশ্ন উত্তর
(MCQ ও বড় প্রশ্ন)
Published on:
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘অম্বিকামঙ্গল’ বা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ নবম শ্রেণীর পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত । দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল এবং তার ফলে জনজীবনে যে সীমাহীন দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছিল, তারই নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত চিত্র এই কবিতায় ফুটে উঠেছে।
বিষয় |
বিবরণ |
|---|---|
পাঠের নাম |
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি |
লেখক/কবি |
মুকুন্দ চক্রবর্তী (উপাধি: শ্রীকবিকঙ্কণ) |
গ্রন্থ |
অম্বিকামঙ্গল (চণ্ডীমঙ্গল) |
◆ বিষয়বস্তু ◆
1কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – মুকুন্দ চক্রবর্তী (নবম শ্রেণী বাংলা কবিতা)
1.1 কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – মুকুন্দ চক্রবর্তী লাইন ধরে সহজ বাংলা অর্থ (Line-by-line Meaning)
1.2 কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – শব্দার্থ
2 কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর (বহুবিকল্প প্রশ্ন উত্তর) | Class 9 Kalingadeshe Jhor Brishti MCQ Question Answer
2.1 নবম শ্রেণী বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Kalingadeshe Jhor Brishti Short Question Answer SAQ
2.2 নবম শ্রেণী বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার ২ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Kalingadeshe Jhor Brishti 2 Marks Question Answer
2.3 নবম শ্রেণী বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতা ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর | Kalingadeshe Jhor Brishti Class 9 3 Marks Question Answer
2.4 ক্লাস ৯ বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kalingadeshe Jhor Brishti 5 Marks Important Question Answer
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – মুকুন্দ চক্রবর্তী
(নবম শ্রেণী বাংলা কবিতা)
আজকের এই পোস্টে মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটির উৎস, কবিতার সারাংশ, কবিতার নামকরণের তাৎপর্যতা এবং প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – কবি পরিচিতি
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী হলেন ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটির রচয়িতা। কবিতায় তিনি নিজেকে ‘শ্রীকবিকঙ্কণ’ উপাধিতে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রচিত এই কাব্যটির নাম হলো ‘অম্বিকামঙ্গল’। এই কবিতায় একদিকে যেমন তিনি ঝড়-বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিখুঁত বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ কৃষিজীবী মানুষের দুর্দশার প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া দেবী চণ্ডী, বীর হনুমান, অষ্ট গজরাজ বা ঋষি জৈমিনির মতো পৌরাণিক চরিত্রের নিপুণ ব্যবহার তাঁর লেখনীকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি সারাংশ
(Summary)
কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে নেমে আসা এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা বর্ণিত হয়েছে।
হঠাৎ ঈশান কোণে মেঘ জমে চারদিক এমন গভীর অন্ধকারে ঢেকে যায় যে মানুষ নিজের শরীরও দেখতে পায় না। এর সঙ্গেই শুরু হয় প্রবল ঝড়, ঘনঘন বজ্রপাত এবং হাতির শুঁড়ের মতো মুষলধারে বৃষ্টি। টানা সাত দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে কলিঙ্গদেশ বন্যায় ডুবে যায়, যার ফলে রাস্তাঘাট হারিয়ে যায়, খেতের ফসল নষ্ট হয় এবং ঘরবাড়ি পচে যায়। গর্ত জলে ডুবে যাওয়ায় সাপেরা জলের ওপর ভেসে বেড়ায়।
ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বড়ো বড়ো শিল ঘরের চাল ফুটো করে মেঝেতে পড়তে থাকে। আতঙ্কে ও প্রাণভয়ে কলিঙ্গবাসী বজ্রনিবারক ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। পরিশেষে, দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান মঠ-অট্টালিকা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং নদনদীগুলো প্রবল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে ছুটে এসে কলিঙ্গদেশকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তোলে।
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নামকরণের মধ্য দিয়েই পাঠ্যের মূল ভাব বা বিষয়বস্তুর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আলোচ্য পাঠ্যাংশটি কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘অম্বিকামঙ্গল’ কাব্যের আখেটিক খণ্ড থেকে সংগৃহীত। পাঠ্যবইয়ে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’।
কবিতাটির আদ্যোপান্ত জুড়ে রয়েছে কলিঙ্গদেশে সংঘটিত এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বর্ণনা। মেঘের ঘনঘটা, বিদ্যুতের ঝলকানি, মুষলধারে বৃষ্টি এবং প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে কলিঙ্গের জনজীবন কীভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তারই পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এখানে রয়েছে। টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে চারদিক জলে ডুবে যায়, শস্য নষ্ট হয়, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে হনুমান ও নদনদী কীভাবে কলিঙ্গকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, তা এই কবিতায় বর্ণিত। যেহেতু সমগ্র কাব্যাংশটিতে কলিঙ্গদেশের ঝড় ও বৃষ্টির ভয়াবহতা এবং তার ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ই মূল আলোচ্য বিষয়, তাই এর নামকরণ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ অত্যন্ত সার্থক, যুক্তিযুক্ত ও বিষয়ভিত্তিক হয়েছে।

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – মুকুন্দ চক্রবর্তী
লাইন ধরে সহজ বাংলা অর্থ
(Line-by-line Meaning)
মেঘে কৈল অন্ধকার মেঘে কৈল অন্ধকার।
দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।।
অর্থ: আকাশে এতটাই ঘন কালো মেঘ করেছে যে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে। সেই অন্ধকারে কলিঙ্গদেশের মানুষ নিজেদের শরীরের অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে না।
ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।
উত্তর পবনে মেঘ ডাকে দুর দুর।।
অর্থ: উত্তর-পূর্ব (ঈশান) আকাশে মেঘ জমা হয়েছে এবং ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যাচ্ছে। উত্তরের প্রবল বাতাসের সঙ্গে মেঘ দুরুদুরু শব্দে গর্জন করছে।
নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল।
চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।।
অর্থ: চোখের পলকে মেঘ সারা আকাশ ঢেকে ফেলল এবং চারদিক থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।
কলিঙ্গে উড়িয়া মেঘ ডাকে উচ্চনাদ।
প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।
অর্থ: কলিঙ্গের আকাশে মেঘ উড়ে এসে প্রচণ্ড জোরে গর্জন করতে লাগল। এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে প্রজারা ধ্বংসের ভয়ে আতঙ্কিত ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ল।
হুড় হুড় দুড় দুড় বহে ঘন ঝড়।
বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।।
অর্থ: হুড় হুড় দুড় দুড় শব্দে প্রবল বেগে ঝড় বইতে শুরু করল। এই ঘোর বিপদে ভয় পেয়ে প্রজারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে ছুটতে লাগল।
ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত।
উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত।।
অর্থ: চারপাশের সবুজ খেত ধুলোয় ঢেকে গেল। ঝড়ের দাপটে মাঠের ফসল উপড়ে পড়তে দেখে প্রজারা চমকে উঠল।
চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।
সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কা বাজ।।
অর্থ: মনে হচ্ছিল যেন আটটি শ্রেষ্ঠ হাতি আকাশ থেকে প্রবল বেগে জল ঢালছে। ব্যাঙ যেমন লাফিয়ে চলে, ঠিক তেমনই ঘন ঘন বাজ পড়তে লাগল।
করি-কর সমান বরিষে জলধারা।
জলে মহী একাকার পথ হইল হারা।।
অর্থ: হাতির শুঁড়ের মতো মোটা ধারায় বৃষ্টি পড়তে লাগল। জলে পৃথিবী এমনভাবে ভেসে গেল যে রাস্তাঘাট আর আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল না।
ঘন ঘন শুনি চারি মেঘের গর্জন।
কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন।।
অর্থ: মেঘের এতই ঘন ঘন গর্জন হচ্ছিল যে, তার প্রবল শব্দে কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না।
পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।
কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।।
অর্থ: দিন, রাত বা সন্ধ্যার মধ্যে কোনো তফাত বোঝা যাচ্ছিল না, সারাক্ষণই অন্ধকার। এই অবস্থায় ঘন ঘন বাজ পড়ার হাত থেকে বাঁচতে কলিঙ্গের মানুষ বজ্রনিবারক ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে লাগল।
হুড় হুড় দুড় দুড় শুনি ঝন ঝন।
না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।।
অর্থ: ঝড়ের হুড় হুড় দুড় দুড় ও ঝনঝন শব্দ শোনা যেতে লাগল। মেঘের কারণে কেউ সূর্যের আলোটুকুও দেখতে পাচ্ছিল না।
গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে।
নাহি জানি জলস্থল কলিঙ্গ-মণ্ডলে।।
অর্থ: জলের কারণে সাপেরা গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসে জলে ভেসে বেড়াতে লাগল। কলিঙ্গদেশে জল ও স্থলের কোনো পার্থক্য আর রইল না, সব একাকার হয়ে গেল।
নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর।
আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।।
অর্থ: টানা সাত দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি চলতে থাকল। এর ফলে কৃষিকাজ তো দূর, জলে ভিজে প্রজাদের ঘরবাড়ি পচে নষ্ট হয়ে গেল।
মেঝ্যাতে পড়য়ে শিল বিদারিয়া চাল।
ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।।
অর্থ: ঘরের চাল ফুটো করে মেঝেতে বড়ো বড়ো শিল পড়তে লাগল। শিলের আকার এতটাই বড়ো ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন ভাদ্র মাসে গাছ থেকে পাকা তাল খসে পড়ছে।
চন্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।
মঠ অট্টালিকা ভাঙ্গি করে খান খান।।
অর্থ: দেবী চণ্ডীর নির্দেশ পেয়ে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালাতে লাগলেন এবং বড়ো বড়ো মঠ ও প্রসাদ ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
চারিদিকে বহে ঢেউ পর্বত-বিশাল।
উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল।।
অর্থ: চারদিকে পর্বতের মতো বিশাল বিশাল ঢেউ বইতে শুরু করল, যার ধাক্কায় বাড়িঘরগুলো টলমল করে উঠতে ও পড়তে লাগল।
চন্ডীর আদেশে ধায় নদনদীগণ।
অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ।।
অর্থ: দেবী চণ্ডীর নির্দেশে সমস্ত নদনদী প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আকার ধারণ করে ছুটে এল। এই সমগ্র ঘটনাটিকে নিয়ে কবি শ্রীকবিকঙ্কণ তাঁর ‘অম্বিকামঙ্গল’ কাব্য রচনা করলেন।
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – শব্দার্থ
শব্দ |
অর্থ |
|---|---|
কৈল |
করল |
চিকুর |
বিদ্যুৎ / বাজ |
পবন |
বাতাস |
নিমিষেকে |
মুহূর্তের মধ্যে |
গগন-মণ্ডল |
সমগ্র আকাশ |
বরিষে |
বৃষ্টি বর্ষণ করে |
উচ্চনাদ |
প্রবল গর্জন বা আওয়াজ |
প্রলয় |
সৃষ্টি ধ্বংস বা মহাবিপদ |
বিষাদ |
দুঃখ বা ভয় |
বিপাকে |
বিপদে পড়ে |
রড় |
দৌড় বা ছুটে পালানো |
আচ্ছাদিত |
ঢাকা |
হরিত |
সবুজ (শস্য) |
গজরাজ |
শ্রেষ্ঠ হাতি |
বেঙ্গ-তড়কা |
ব্যাঙের লাফানোর মতো |
করি-কর |
হাতির শুঁড় |
মহী |
পৃথিবী / মাটি |
পরিচ্ছিন্ন |
আলাদা করে বোঝা যায় এমন |
সোঙরে |
স্মরণ করে |
জৈমিনি |
মীমাংসা দর্শনের প্রণেতা মুনি (বজ্রনিবারক) |
ভুজঙ্গ |
সাপ |
বুলে |
ঘুরে বেড়ায় |
নিরবধি |
একটানা / অবিরাম |
হেজ্যা |
পচে বা নষ্ট হয়ে |
বিদারিয়া |
বিদীর্ণ করে বা ভেঙে |
ভাদ্রপদ |
ভাদ্র মাস |
মঠ |
মন্দির বা উপাসনালয় |
দলমল |

কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর
(বহুবিকল্প প্রশ্ন উত্তর) |
১. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটির রচয়িতা কে?
(ক) কৃত্তিবাস ওঝা
(খ) মুকুন্দ চক্রবর্তী
(গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
(ঘ) কাশীরাম দাস
উত্তর: (খ) মুকুন্দ চক্রবর্তী
২. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কোন কাব্যের অন্তর্গত?
(ক) অন্নদামঙ্গল
(খ) মনসামঙ্গল
(গ) অম্বিকামঙ্গল
(ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর: (গ) অম্বিকামঙ্গল
৩. আকাশে মেঘ জমার ফলে কলিঙ্গের মানুষ কী দেখতে পাচ্ছিল না?
(ক) রবির কিরণ
(খ) নিজেদের অঙ্গ
(গ) রাস্তাঘাট
(ঘ) শস্যখেত
উত্তর: (খ) নিজেদের অঙ্গ
৪. মেঘ প্রথমে কোন কোণে উড়িল?
(ক) ঈশানে
(খ) নৈঋতে
(গ) বায়ব্যে
(ঘ) অগ্নিকোণে
উত্তর: (ক) ঈশানে
৫. উত্তর পবনে মেঘ কীভাবে ডাকছে?
(ক) হুড় হুড়
(খ) দুড় দুড়
(গ) ঝন ঝন
(ঘ) কড় কড়
উত্তর: (খ) দুড় দুড়
৬. মেঘের উচ্চনাদ শুনে প্রজারা কী গুনে বিষাদ ভাবছে?
(ক) প্রলয়
(খ) বন্যা
(গ) খরা
(ঘ) ভূমিকম্প
উত্তর: (ক) প্রলয়
৭. বিপাকে পড়ে প্রজারা কী করল?
(ক) প্রার্থনা করল
(খ) ভবন ছাড়ি রড় দিল
(গ) গাছের নিচে লুকাল
(ঘ) ছাদে উঠল
উত্তর: (খ) ভবন ছাড়ি রড় দিল
৮. সবুজ শস্য কীসে আচ্ছাদিত হলো?
(ক) জলে
(খ) কাদায়
(গ) ধুলোয়
(ঘ) মেঘে
উত্তর: (গ) ধুলোয়
৯. চারি মেঘে কারা জল দেয় বলে কবির মনে হয়েছে?
(ক) ইন্দ্রদেব
(খ) বরুণদেব
(গ) অষ্ট গজরাজ
(ঘ) হনুমান
উত্তর: (গ) অষ্ট গজরাজ
১০. বিদ্যুতের ঝলকানি বা বাজ পড়াকে কবি কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
(ক) সাপের ছোবল
(খ) বেঙ্গ-তড়কা
(গ) হাতির গর্জন
(ঘ) পাখির ডাক
উত্তর: (খ) বেঙ্গ-তড়কা
১১. বৃষ্টি কীসের সমান বর্ষিত হচ্ছিল?
(ক) নদীর স্রোত
(খ) করি-কর
(গ) ঝরনার জল
(ঘ) তীরের ফলা
উত্তর: (খ) করি-কর
১২. জলে মহী একাকার হওয়ার ফলে কী হারিয়ে গেল?
(ক) ঘরবাড়ি
(খ) শস্য
(গ) পথ
(ঘ) মানুষ
উত্তর: (গ) পথ
১৩. মেঘের গর্জনে কেউ কী শুনতে পায় না?
(ক) বাজের শব্দ
(খ) রবির কিরণ
(গ) কারও কথা
(ঘ) নদীর গর্জন
উত্তর: (গ) কারও কথা
১৪. মেঘের অন্ধকারে কোন সময়ের পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না?
(ক) গ্রীষ্ম ও বর্ষা
(খ) সন্ধ্যা, দিবস ও রজনী
(গ) সকাল ও দুপুর
(ঘ) শরৎ ও হেমন্ত
উত্তর: (খ) সন্ধ্যা, দিবস ও রজনী
১৫. কলিঙ্গের মানুষ বিপদে পড়ে কাকে স্মরণ করছিল?
(ক) জৈমিনি
(খ) চণ্ডী
(গ) শিব
(ঘ) ইন্দ্র
উত্তর: (ক) জৈমিনি
১৬. গর্ত ছেড়ে জলে কারা ভেসে বেড়াচ্ছিল?
(ক) ইঁদুর
(খ) ব্যাঙ
(গ) ভুজঙ্গ (সাপ)
(ঘ) কচ্ছপ
উত্তর: (গ) ভুজঙ্গ (সাপ)
১৭. কলিঙ্গদেশে কতদিন ধরে একটানা বৃষ্টি হয়েছিল?
(ক) তিন দিন
(খ) পাঁচ দিন
(গ) সাত দিন
(ঘ) নয় দিন
উত্তর: (গ) সাত দিন
১৮. একটানা বৃষ্টির ফলে শস্যের কী অবস্থা হয়েছিল?
(ক) খুব ভালো ফসল হয়েছিল
(খ) শস্যের কার্য হেজ্যা (পচে) গেল
(গ) শস্য শুকিয়ে গেল
(ঘ) শস্য চুরি গেল
উত্তর: (খ) শস্যের কার্য হেজ্যা (পচে) গেল
১৯. মেঝ্যাতে কী পড়ে চাল বিদীর্ণ হচ্ছিল?
(ক) বাজ
(খ) গাছ
(গ) শিল
(ঘ) পাথর
উত্তর: (গ) শিল
২০. চাল ফুটো করে পড়া শিলকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
(ক) নারকেল
(খ) বেল
(গ) তাল
(ঘ) আম
উত্তর: (গ) তাল
২১. এই তাল কোন মাসে পড়ে বলে কবিতায় উল্লেখ আছে?
(ক) আষাঢ়
(খ) শ্রাবণ
(গ) ভাদ্রপদ
(ঘ) আশ্বিন
উত্তর: (গ) ভাদ্রপদ
২২. কে চণ্ডীর আদেশ পেয়েছিলেন?
(ক) অষ্ট গজরাজ
(খ) নদনদীগণ
(গ) বীর হনুমান
(ঘ) শ্রীকবিকঙ্কণ
উত্তর: (গ) বীর হনুমান
২৩. বীর হনুমান কী ভেঙে খান খান করেছিলেন?
(ক) মঠ ও অট্টালিকা
(খ) সাধারণ কুঁড়েঘর
(গ) গাছপালা
(ঘ) পাহাড় পর্বত
উত্তর: (ক) মঠ ও অট্টালিকা
২৪. ঢেউগুলো দেখতে কেমন ছিল?
(ক) নদী-সমান
(খ) পর্বত-বিশাল
(গ) আকাশ-ছোঁয়া
(ঘ) ঘর-সমান
উত্তর: (খ) পর্বত-বিশাল
২৫. বিশাল ঢেউয়ের কারণে ঘরগুলো কী করছিল?
(ক) ভেঙে পড়ছিল
(খ) ভেসে যাচ্ছিল
(গ) দলমল করছিল
(ঘ) উড়ে যাচ্ছিল
উত্তর: (গ) দলমল করছিল
নবম শ্রেণী বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
১. মেঘে চারদিক অন্ধকার হওয়ায় কলিঙ্গবাসীর কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: মেঘে চারদিক এতটাই অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল যে কলিঙ্গবাসীরা নিজেদের শরীরের অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
২. মেঘ প্রথমে কোন দিকে দেখা গিয়েছিল?
উত্তর: মেঘ প্রথমে ঈশান কোণে বা উত্তর-পূর্ব দিকে দেখা গিয়েছিল।
৩. মেঘ কীভাবে গগন-মণ্ডল জুড়ে গেল?
উত্তর: চোখের পলকে বা নিমিষের মধ্যে মেঘ সমগ্র আকাশ বা গগন-মণ্ডল জুড়ে গেল।
৪. প্রজারা কেন বিষাদ ভাবছিল?
উত্তর: মেঘের ভয়ঙ্কর গর্জন এবং দুর্যোগের ভয়াবহতা দেখে প্রজারা প্রলয় বা ধ্বংসের আশঙ্কা করে বিষাদ ভাবছিল।
৫. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়” – ‘রড়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘রড়’ শব্দের অর্থ হলো ছুটে পালানো বা দ্রুত দৌড়ানো।
৬. সবুজ শস্যখেতের কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: ঝড়ের দাপটে সবুজ শস্যখেত ধুলোয় ঢেকে গিয়েছিল এবং শস্য উপড়ে পড়েছিল।
৭. “চারি মেঘে জল দেয়…” কারা জল দেয়?
উত্তর: আটটি দিকের রক্ষক আটটি শ্রেষ্ঠ হাতি বা ‘অষ্ট গজরাজ’ চারি মেঘে জল দেয়।
৮. কবিতায় বাজের পতনকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: বাজের পতনকে ব্যাঙের লাফানোর (বেঙ্গ-তড়কা) সাথে তুলনা করা হয়েছে।
৯. “করি-কর সমান বরিষে জলধারা।” – ‘করি-কর’ মানে কী?
উত্তর: ‘করি-কর’ মানে হলো হাতির শুঁড়।
১০. জলে পৃথিবী একাকার হওয়ায় কী অসুবিধা হয়েছিল?
উত্তর: জলে সমগ্র পৃথিবী একাকার হওয়ায় সমস্ত পথ বা রাস্তাঘাট হারিয়ে গিয়েছিল।
১১. কলিঙ্গদেশের মানুষ কেন কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না?
উত্তর: চারপাশের মেঘের অবিরাম ও তীব্র গর্জনের কারণে কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না।
১২. কোন কোন সময়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না?
উত্তর: দিন, রাত এবং সন্ধ্যার মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না, সারাক্ষণই অন্ধকার ছিল।
১৩. কলিঙ্গের মানুষ কাকে স্মরণ করছিল?
উত্তর: বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে কলিঙ্গের মানুষ বজ্রনিবারক মুনি জৈমিনিকে স্মরণ করছিল।
১৪. কলিঙ্গের মানুষ কীসের কিরণ দেখতে পাচ্ছিল না?
উত্তর: মেঘের ঘন অন্ধকারের কারণে কলিঙ্গের মানুষ রবির বা সূর্যের কিরণ দেখতে পাচ্ছিল না।
১৫. সাপেরা গর্ত ছেড়ে কী করছিল?
উত্তর: বৃষ্টির জলে গর্ত ডুবে যাওয়ায় সাপেরা গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসে জলে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
১৬. কলিঙ্গ-মণ্ডলে জল ও স্থলের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে জল ও স্থল একাকার হয়ে গিয়েছিল, আলাদা করে কিছুই চেনা যাচ্ছিল না।
নবম শ্রেণী বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
কবিতার ২ নম্বর প্রশ্ন উত্তর
১. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।।” – এমন পরিস্থিতির কারণ কী?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে হঠাৎ ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়ে সমগ্র আকাশ আচ্ছন্ন করে ফেলে। মেঘের ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দিনের বেলাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকারের সৃষ্টি হয়, যার ফলে মানুষ নিজেদের শরীরও দেখতে পাচ্ছিল না।
২. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – প্রজারা কেন প্রলয় গুনেছিল?
উত্তর: কলিঙ্গের আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে যায়, প্রবল ঝড় ওঠে এবং চারি মেঘ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। মেঘের এমন বিকট গর্জন ও প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি দেখেই প্রজাদের মনে প্রলয় বা আসন্ন ধ্বংসের আশঙ্কা জেগেছিল।
৩. প্রজারা কেন ‘ভবন ছাড়ি’ রড় দিয়েছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে ‘হুড় হুড় দুড় দুড়’ শব্দে ভয়ানক ঝড় বইতে শুরু করে। ঝড়ের প্রবল দাপটে ঘরবাড়ি ভেঙে প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিলে, প্রজারা নিজেদের বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে ছুটে পালিয়েছিল।
৪. “উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত।।” – প্রজারা চমকিত হয়েছিল কেন?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে আছড়ে পড়া প্রবল ঝড়ে চারদিকের সবুজ শস্যখেত ধুলোয় ঢেকে যায়। কৃষকদের বহু পরিশ্রমে ফলানো শস্য ঝড়ের দাপটে মাঠের মধ্যে উপড়ে উলটে পড়ে থাকতে দেখেই প্রজারা চমকে উঠেছিল।
৫. “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।” – কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: হিন্দু পুরাণ অনুসারে আটটি দিকের রক্ষক হিসেবে আটটি শ্রেষ্ঠ হাতির উল্লেখ আছে (ঐরাবত, পুণ্ডরীক ইত্যাদি)। কলিঙ্গদেশে চারপাশের মেঘ থেকে হাতির শুঁড়ের মতো এত বিপুল পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিল যে কবির মনে হয়েছিল যেন ওই আটটি গজরাজই আকাশ থেকে জল ঢালছে।
৬. “সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কা বাজ।।” – ‘বেঙ্গ-তড়কা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘বেঙ্গ-তড়কা’ বলতে ব্যাঙের লাফানোকে বোঝানো হয়েছে। কলিঙ্গদেশে ঝড়ের সময় মেঘ থেকে এত ঘন ঘন এবং দ্রুতগতিতে এদিক-ওদিক বাজ পড়ছিল যে, কবি তাকে ব্যাঙের লাফানোর সাথে তুলনা করেছেন।
৭. “জলে মহী একাকার পথ হইল হারা।।” – পথ হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে হাতির শুঁড়ের মতো অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার জলে সমগ্র পৃথিবী (মহী) অর্থাৎ স্থলভাগ ডুবে যায়, যার ফলে রাস্তাঘাট বা পথ জলের তলায় তলিয়ে গিয়ে হারিয়ে যায়।
৮. “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।” – এমন অবস্থার কারণ কী?
উত্তর: কলিঙ্গদেশের সমগ্র আকাশ ঘন কালো মেঘে এমনভাবে ঢেকে গিয়েছিল যে সূর্যের আলো একেবারেই মাটিতে পৌঁছাতে পারছিল না। টানা সাতদিন ধরে চলা এই নিকষ অন্ধকারের জন্যই সন্ধ্যা, দিন ও রাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না।
৯. কলিঙ্গের লোক জৈমিনিকে স্মরণ করছিল কেন?
উত্তর: জৈমিনি হলেন হিন্দু পুরাণের একজন বিখ্যাত ঋষি। বিশ্বাস করা হয় যে, বজ্রপাতের সময় তাঁর নাম স্মরণ করলে বজ্রের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই কলিঙ্গদেশে ঘন ঘন ভয়ানক বজ্রপাতের সময় প্রাণভয়ে ভীত মানুষ তাঁকে স্মরণ করছিল।
১০. সাপেরা কেন গর্ত ছেড়ে জলে ভেসে বেড়াচ্ছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে টানা সাতদিনের ভয়াবহ বৃষ্টিতে চারদিকে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়। স্থলভাগের সাথে সাথে মাটির নিচে থাকা সাপেদের গর্তগুলোও জলে সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায়, শ্বাস নিতে ও বাঁচার তাগিদে সাপেরা গর্ত ছেড়ে জলে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
১১. “আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।।” – উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: একটানা সাতদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কলিঙ্গদেশে কৃষিকাজ তো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েই গিয়েছিল, তার ওপর মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ক্রমাগত বৃষ্টির জলে ভিজে প্রজাদের কাঁচা ঘরবাড়িগুলোও পচে (হেজ্যা) নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
১২. মেঝেতে পড়া শিলকে ভাদ্র মাসের তালের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: ভাদ্র মাসে তাল পেকে সশব্দে মাটিতে খসে পড়ে। কলিঙ্গদেশে বৃষ্টির সময় ঘরের চাল ফুটো করে মেঝেতে যে শিলগুলো পড়ছিল, সেগুলোর আকার ছিল অত্যন্ত বড়ো। শিলের এই বিশাল আকার ও পতনের ভয়াবহতা বোঝাতেই ভাদ্র মাসের তালের উপমা দেওয়া হয়েছে।
১৩. চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান কী করেছিলেন?
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর বর্ণনা অনুযায়ী, দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালিয়েছিলেন। তিনি কলিঙ্গদেশের সমস্ত বড়ো বড়ো মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে টুকরো টুকরো (খান খান) করে দিয়েছিলেন।
১৪. পর্বত-বিশাল ঢেউয়ের ফলে ঘরগুলোর কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে বন্যার জল বৃদ্ধি পেয়ে পর্বতের মতো বিশাল বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করেছিল। সেই প্রবল ও বিশাল ঢেউয়ের ধাক্কায় কলিঙ্গবাসীর ঘরবাড়িগুলো জলের ওপর ভাসমান অবস্থায় টলমল (দলমল) করছিল।
১৫. নদনদীগণ কেন কলিঙ্গদেশের দিকে ধেয়ে এসেছিল?
উত্তর: কাব্যের পটভূমি অনুযায়ী, কলিঙ্গরাজকে শাস্তি দেওয়ার জন্য দেবী চণ্ডী এই দুর্যোগের সৃষ্টি করেছিলেন। দেবী চণ্ডীর আদেশেই সমস্ত নদনদী প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা নিয়ে কলিঙ্গদেশকে ধ্বংস করার জন্য ধেয়ে এসেছিল।
নবম শ্রেণী বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
কবিতা ৩ নম্বর প্রশ্ন উত্তর |
১. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।।” – কলিঙ্গদেশে এমন পরিস্থিতি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল তা বর্ণনা করো।
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে।
কলিঙ্গদেশে আচমকা এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। শুরুতে উত্তর-পূর্ব দিকের ঈশান কোণে মেঘ জমা হতে থাকে এবং সেখানে ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। এরপর উত্তরের প্রবল বাতাসের সঙ্গে মেঘ সশব্দে গর্জন করতে শুরু করে। চোখের পলকে সেই মেঘ সমগ্র আকাশমণ্ডল ঢেকে ফেলে। মেঘের স্তর এতটাই ঘন ও কালো ছিল যে, দিনের আলো সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যায় এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারের সৃষ্টি হয়। সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে না পারায় চারদিক এমন গাঢ় অন্ধকারে ডুবে যায় যে, মানুষ নিজের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পারছিল না।
২. “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।” – ‘অষ্ট গজরাজ’ বলতে কী বোঝো? উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: ‘অষ্ট গজরাজ’ বলতে পৌরাণিক আটটি দিকের রক্ষক আটটি শ্রেষ্ঠ হাতিকে বোঝানো হয়েছে। এঁরা হলেন— ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদত্ত, সার্বভৌম এবং সুপ্রতীক।
কলিঙ্গদেশে যখন প্রবল দুর্যোগ শুরু হয়, তখন সমগ্র আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং চারিদিকের মেঘ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির পরিমাণ এবং বেগ এতটাই বেশি ছিল যে, তা কোনো সাধারণ বৃষ্টি বলে মনে হচ্ছিল না। হাতির শুঁড় থেকে যেমন মোটা ধারায় জল নির্গত হয়, ঠিক তেমনই আকাশ থেকে জলধারা নামছিল। এই অতিবৃষ্টির ভয়াবহতা বোঝাতেই কবি কল্পনা করেছেন যেন পৌরাণিক আটটি গজরাজ স্বয়ং উপস্থিত হয়ে আকাশ থেকে অবিরাম জল ঢালছেন।
৩. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।।” – জৈমিনি কে? তাকে স্মরণ করার কারণ কী?
উত্তর: জৈমিনি হলেন প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন ঋষি এবং ‘মীমাংসা দর্শন’-এর রচয়িতা।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ঋষি জৈমিনি হলেন বজ্রনিবারক। অর্থাৎ, বজ্রপাতের সময় তাঁর নাম স্মরণ করলে তিনি মানুষকে বজ্রের আঘাত থেকে রক্ষা করেন। কলিঙ্গদেশে যখন ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়, তখন মেঘের গর্জনের সাথে সাথে মুহুর্মুহু ভয়ানক বাজ পড়তে থাকে। দিনরাতের অন্ধকার একাকার হয়ে যাওয়া এবং এই অবিরাম বজ্রপাতের ফলে মানুষের মনে মৃত্যুভয় গ্রাস করে। নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর আর কোনো বাস্তব উপায় না দেখে, আতঙ্কিত ও অসহায় কলিঙ্গবাসীরা সেই পৌরাণিক বিশ্বাস আঁকড়ে ধরেই ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে শুরু করেছিল।
৪. “নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর। / আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।।” – একটানা সাত দিন বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশে কী কী বিপর্যয় ঘটেছিল?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় একটানা সাত দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কলিঙ্গদেশে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
প্রথমত, জলের তলায় সমস্ত পথঘাট ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, মাঠের সমস্ত শস্য উলটে পড়ে এবং বন্যায় ডুবে নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে কৃষিকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তৃতীয়ত, গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় সাপেরা বাইরে বেরিয়ে এসে জলের ওপর ভেসে বেড়াতে থাকে, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। সবশেষে, টানা বৃষ্টির জলে ভিজে প্রজাদের কাঁচা ঘরবাড়িগুলো পচে (হেজ্যা) বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
৫. “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।।” – কোন বিষয়কে তালের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় প্রবল ঝড়ের সময় আকাশ থেকে পড়া বড়ো বড়ো শিলা বা শিল-কে ভাদ্র মাসের পাকা তালের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
ভাদ্র মাসে তাল পেকে বড়ো ও ভারী হয়ে গাছ থেকে সশব্দে মাটিতে খসে পড়ে। কলিঙ্গদেশে দুর্যোগের সময় বৃষ্টির সাথে আকাশ থেকে যে শিল পড়ছিল, তার আকার সাধারণ শিলের মতো ছোটো ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত বড়ো ও ভারী। সেই শিলগুলো এমন জোরে ঘরের চাল বিদীর্ণ করে মেঝেতে আছড়ে পড়ছিল যে, তার শব্দ এবং বিশালতা ভাদ্র মাসের গাছ থেকে পড়া তালের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। শিলাবৃষ্টির ভয়াবহতা বোঝাতেই এই সার্থক উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে।

ক্লাস ৯ বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতা
বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর



