স্কুল ও কলেজে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রকাশিত হয়েছে: 

Calcutta High Court

১. মামলার মূল বিষয়

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্কুল ও কলেজে নির্ধারিত শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতাহীন শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য আইন অনুসারে নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে কোনও শিক্ষককে স্কুল বা কলেজে নিয়োগ করা যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার অধীনে চাকরিতে অন্তর্ভুক্তও করা যাবে না।

এই নির্দেশ অসম সরকারের শিক্ষক নিয়োগ ও চাকরি সরকারি ব্যবস্থার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রকল্প সংক্রান্ত একটি মামলায় দেওয়া হয়।

২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ

তিন বিচারপতির বেঞ্চে ছিলেন—

  • প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত

  • বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী

  • বিচারপতি ভি. মোহনা

৩. কোন কোন আইনের অধীনে যোগ্যতা বাধ্যতামূলক?

১. শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ (RTE Act)

প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শিক্ষক-যোগ্যতা ও শিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণের সঙ্গে এই আইন সম্পর্কিত।

২. জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ আইন, ১৯৯৩ (NCTE Act)

শিক্ষক-শিক্ষণ ও স্কুলশিক্ষকদের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ডের সঙ্গে এই আইন সম্পর্কিত।

৩. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৫৬ (UGC Act)

কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যোগ্যতা ও নিয়মকানুনের সঙ্গে এই আইন সম্পর্কিত।

 

৪. মামলাটি কেন দায়ের করা হয়েছিল?

অসম শিক্ষা (শিক্ষকদের চাকরির প্রাদেশিকীকরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন) আইন, ২০১৭-কে চ্যালেঞ্জ করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, স্থানীয় এলাকায় স্কুল চালু রাখার জন্য কিছু শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে তাঁদের চাকরি সরকারি ব্যবস্থার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।

এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত যোগ্যতা ও নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এর আগে গৌহাটি হাইকোর্টেও সংশ্লিষ্ট আইন ও চাকরি অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা নিয়ে মামলা হয়েছিল।

 

৫. প্রধান বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন যে, যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি হবে।

তাঁর পর্যবেক্ষণের মূল বক্তব্য ছিল, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য শিক্ষক নিয়োগে নির্ধারিত যোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৬. সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ

আদালত নির্দেশ দেয়—

1. প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা ছাড়া কোনও শিক্ষককে স্কুল বা কলেজে নিয়োগ করা যাবে না।

2. নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অধীনে শিক্ষককে চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

3. মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

4. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মামলার বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

৭. এই নির্দেশের আইনি গুরুত্ব

এই নির্দেশের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।

  • শিক্ষকের নির্ধারিত শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।

  • চাকরি সরকারি ব্যবস্থার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযোজ্য যোগ্যতার শর্ত এড়ানো যায় না।

  • নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি।

  • শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।

  • সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার নীতিও প্রাসঙ্গিক।

৮. পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এর তাৎপর্য

এই নির্দেশ শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে মামলাটি অসমের শিক্ষক-প্রাদেশিকীকরণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।

তাই এই আদেশের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত কর্মরত শিক্ষক বা চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই ফল প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি, প্রযোজ্য আইন এবং আদালতের আদেশের সুনির্দিষ্ট পরিধি বিবেচনা করতে হবে।

৯. উপসংহার

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ শুধু প্রশাসনিক নিয়মের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারি চাকরিতে ন্যায়সংগত সুযোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের মূল শিক্ষা হলো, প্রযোজ্য আইন অনুসারে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করলে শিক্ষক নিয়োগ বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অধীনে চাকরিতে অন্তর্ভুক্তি করা যাবে না।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ, চূড়ান্ত রায় নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টির আরও ব্যাখ্যা আসতে পারে।

 SOURCE-BARANDBENCH

©Kamaleshforeducation.in (2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top