
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল
(আমাদের পৃথিবী)
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
পঞ্চম অধ্যায়
‘মেঘ-বৃষ্টি’
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:
অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১.প্রশ্ন: জলীয় বাষ্পের জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে
উত্তর: ঘনীভবন।
২. প্রশ্ন: মেঘের ক্ষুদ্র জলকণাগুলোর গড় ব্যাস কত?
উত্তর: ০.০২ মিলিমিটার।
৩. প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেঘ ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে।
8. প্রশ্ন: কোন্ মেঘ দেখতে সাদা তুলোর মতো?
উত্তর: কিউমুলাস।
৫. প্রশ্ন: কোন্ মেঘকে ‘বজ্রমেঘ’ বলা হয়?
উত্তর: কিউমুলোনিম্বাস।
৬. প্রশ্ন: কোন্ মেঘ দেখতে অনেকটা ঘোড়ার লেজের মতো?
উত্তর: সিরাস।
৭. প্রশ্ন: সবচেয়ে উচতে অবস্থিত মেঘের নাম কী?
উত্তর: সিরাস।
৮. প্রশ্ন: ‘ম্যাকেরেল আকাশ’ (Mackerel Sky) (কোন্ মেঘের আধিক্যকে
বলা হয়?
উত্তর: সিরাস কিউমুলাস।
৯. প্রশ্ন: বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: রেইন গেজ (Rain Gauge)
১০. প্রশ্ন: বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: হাইগ্রোমিটার।
১১. প্রশ্ন: আপেক্ষিক আর্দ্রতা কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: শতাংশ (%)।
১২. প্রশ্ন: কোন প্রক্রিয়ায় মেঘের জলকণা বড় হয়ে বৃষ্টিরূপে নিচে পড়ে?
উত্তর: অভিকর্ষজ টানে।
১৩. প্রশ্ন: সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত?
উত্তর: ১০০%।
১৪. প্রশ্ন: মেঘের ওপরের অংশ সাধারণত কেমন হয়?
উত্তর: ধনাত্মক (+) তড়িৎযুক্ত।
১৫. প্রশ্ন: মেঘের নিচের অংশ সাধারণত কেমন হয়?
উত্তর: ঋণাত্মক (-) তড়িৎযুক্ত।
১৬. প্রশ্ন: শিশিরাঙ্ক (Dew Point) কাকে বলে?
উত্তর: যে তাপমাত্রায় বায়ু সম্পৃক্ত হয়।
১৭. প্রশ্ন: বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা বা লবণাংশকে কী বলে?
উত্তর: ঘনীভবন কেন্দ্র।
১৮. প্রশ্ন: পৃথিবীর প্রধান বৃষ্টিপাত কোনটি?
উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত।
১৯. প্রশ্ন: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে পর্বতের কোন্ ঢালে বৃষ্টি বেশি হয়
উত্তর: প্রতিবাদ ঢালে।
২০. প্রশ্ন: পর্বতের কোন্ ঢালে ‘বৃষ্টিছায় অঞ্চল’ সৃষ্টি হয়?
উত্তর: অনুবাদ ঢালে।
২১. প্রশ্ন: ভারতের একটি বৃষ্টিছায় অঞ্চলের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল বা শিলং।
২২. প্রশ্ন: পরিচলন বৃষ্টিপাত প্রধানত কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে।
২৩. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে যে বৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: ফোর ও’ক্লক রেইন (4 o’clock rain) |
২৪. প্রশ্ন: শিলাবৃষ্টি (Hailstorm) কেন হয়?
উত্তর: মেঘের মধ্যে জলকণা অতি দ্রুত জমে বরফ হয়ে গেলে।
২৫. প্রশ্ন: গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিকে ইংরেজিতে কী বলে?
উত্তর: ড্রিল (Drizzle)|
২৬. প্রশ্ন: স্লিট (Sleet) কী?
উত্তর: তুষার ও বৃষ্টির মিশ্রিত রূপ।
২৭. প্রশ্ন: বৃষ্টিপাতের প্রধান উৎস কী?
উত্তর: মেঘ।
২৮. প্রশ্ন: কোন মেঘ অনেকটা স্তরহীন ধোঁয়াটে পর্দার মতো?
উত্তর: অলটোস্ট্রাটাস।
২৯. প্রশ্ন: কুয়াশা কি মেঘের পর্যায়ে পড়ে?
উত্তর: না, কুয়াশা একপ্রকার ঘনীভূত জলীয় বাষ্প যা ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুতে থাকে।
৩০. প্রশ্ন: বরফকণা যখন বৃষ্টির সাথে পড়ে তাকে কী বলে?
উত্তর: শিলাবৃষ্টি।
৩১. প্রশ্ন: ধোঁয়াশা (Smog) কী?
উত্তর: ধোঁয়া ও কুয়াশার মিশ্রণ।
৩২. প্রশ্ন: শীতকালে আমাদের দেশে কোন্ মেঘের আধিক্য দেখা যায়?
উত্তর: স্ট্র্যাটো কিউমুলাস।
৩৩. প্রশ্ন: ঘূর্ণবাতের প্রভাবে যে বৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: ঘূর্ণবৃষ্টি।
৩৪. প্রশ্ন: নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবৃষ্টিতে কোন্ সীমান্ত দেখা যায়?
উত্তর: উষ্ণ ও শীতল সীমান্ত।
৩৫. প্রশ্ন: ঘনীভবন শুরু হওয়ার জন্য বায়ুকে কী হতে হয়?
উত্তর: সম্পৃক্ত।
৩৬. প্রশ্ন: কোন মেঘ অনেকটা বাম্পি বা ঢেউ খেলানো স্তরের মতো?
উত্তর: স্ট্র্যাটো কিউমুলাস।
৩৭. প্রশ্ন: বজ্রপাত ঘটার কারণ কী?
উত্তর: মেঘের মধ্যে থাকা বিপরীত তড়িৎ আধানের ঘর্ষণ।
৩৮. প্রশ্ন: বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সমান এমন রেখাকে কী বলে?
উত্তর: সমবর্ষণ রেখা (Isohyet)।
৩৯. প্রশ্ন: ঘনীভবনের তিনটি রূপের নাম লেখো।
উত্তর: শিশির, কুয়াশা, মেঘ।
৪০. প্রশ্ন: তুষারপাত (Snowfall) কোথায় হয়?
উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশ বা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে।
৪১. প্রশ্ন: ঘনীভবনের লীনতাপ কী করে?
উত্তর: বায়ুস্তরের তাপ বাড়িয়ে দেয়।
৪২. প্রশ্ন: ক্রান্তীয় ঘূর্ণবৃষ্টি কোথায় বেশি হয়?
উত্তর: সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে।
৪৩. প্রশ্ন: সিরাস মেঘে কী থাকে?
উত্তর: খুব সূক্ষ্ম বরফ কণা।
88. প্রশ্ন: কোন্ মেঘ অনেকটা বলের মতো বা কলার মতো স্তরে সাজানো থাকে?
উত্তর: অলটো কিউমুলাস।
৪৫. প্রশ্ন: বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে তার আর্দ্রতা বাড়ে না কমে?
উত্তর: বাড়ে।
৪৬. প্রশ্ন: শৈলোৎক্ষেপ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শৈল (পাহাড়) দ্বারা উৎক্ষিপ্ত (ওপরে ওঠা)।
৪৭. প্রশ্ন: শিশির কি অধঃক্ষেপণ?
উত্তর: না, শিশির অধঃক্ষেপণ নয়।
৪৮. প্রশ্ন: মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে কোন্ মেঘ দেখা যেতে পারে?
উত্তর: সিরাস।
৪৯. প্রশ্ন: একটি অধঃক্ষেপণের উদাহরণ দাও।
উত্তর: বৃষ্টিপাত।
৫০. প্রশ্ন: বায়ুচাপ কমলে জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়ে না কমে?
উত্তর: বাড়ে।

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
=============================================================================
১. প্রশ্ন: জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের শর্তগুলি কী কী?
উত্তর: ঘনীভবন হওয়ার প্রধান শর্তগুলি হলো-
(১) বায়ুকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত হতে হবে।
(২) বায়ুর তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নামতে হবে।
(৩) বায়ুতে ধূলিকণা, ধোঁয়া বা লবণাংশ থাকতে হবে যা জলীয় বাষ্পকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
(৪) বায়ুর তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পেতে হবে।
২. প্রশ্ন: উচ্চতা অনুযায়ী মেঘের শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর: মেঘকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়-
(ক) উচ্চতার মেঘ (৫০০০ মিটারের ওপরে): সিরাস, সিরোস্ট্যাটুস, সিরোকিউমুলাস।
(খ) মাঝারি উচ্চতার মেঘ (২০০০-৫০০০ মিটার): অলটোস্ট্যাটুস, অলটোকিউমুলাস।
(গ) নিম্ন উচ্চতার মেঘ (২০০০ মিটারের নিচে): স্ট্যাটুস, স্ট্র্যাটোকিউমুলাস, নিম্নোস্ট্যাটুস।
এছাড়াও উল্লম্ব মেঘ হিসেবে কিউমুলাস ও কিউমুলোনিস্বাস পরিচিত।
৩. প্রশ্ন: কিউমুলোনিম্বাস মেঘকে ‘বজ্রমেঘ’ বলা হয় কেন?
উত্তর: এই মেঘ দেখতে বিশাল গম্বুজের মতো এবং এর উল্লম্ব বিস্তার অনেক বেশি। এই মেঘে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে এবং বায়ুর প্রবল আলোড়নের ফলে মেঘের মধ্যে ঘর্ষণ ঘটে। এর ফলে তীব্র বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টিপাত বা শিলাবৃষ্টি হয়। এই কারণে একে বজ্রমেঘ বলা হয়।
৪. প্রশ্ন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত কেন প্রতিদিন বিকেলে হয়?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। তীব্র তাপে এখানকার স্থলভাগ ও জলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে বায়ু হালকা ও উর্ধ্বমুখী হয়। দুপুরের পর বায়ু অত্যন্ত সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি করে। বিকেল ৪টের দিকে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হয়, যাকে ‘ফোর ও’ক্লক রেইন’ বলে।
৫. প্রশ্ন: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে ঘটে?
উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহিত হওয়ার পথে যদি কোনো উঁচু পাহাড় বা পর্বতে বাধা পায়, তবে ওই বায়ু পর্বত গাত্র বেয়ে উপরে উঠে যায়। উপরে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে পর্বতের যে ঢালে বাধা পায় (প্রতিবাদ ঢাল), সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
৬. প্রশ্ন: ‘বৃষ্টিছায় অঞ্চল’ (Rain Shadow Area) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির সময় বায়ু যখন পর্বত পার হয়ে উল্টো দিকের ঢালে (অনুবাদ ঢাল) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প খুব কম থাকে। এছাড়া নিচে নামার সময় বায়ুর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় তা অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। ফলে এই ঢালে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। এই স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন- শিলং বা পুনে।
৭. প্রশ্ন: ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic Rainfall) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: কোনো স্থানে হঠাৎ নিম্নচাপ তৈরি হলে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল বেগে ওই কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। এই বায়ু ঘূর্ণির আকারে উপরে উঠে গিয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে। এটি প্রধানত ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।
৮. প্রশ্ন: শিলাবৃষ্টি ও তুষারপাতের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মেঘের মধ্যে জলকণা অতি দ্রুত উপরে উঠে গিয়ে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় বরফে পরিণত হয়ে যখন বৃষ্টির সাথে নিচে পড়ে, তখন তাকে শিলাবৃষ্টি বলে। অন্যদিকে, অতিতীব্র ঠান্ডায় জলীয় বাষ্প জলকণায় পরিণত না হয়ে সরাসরি পেঁজা তুলোর মতো বরফকুচিতে পরিণত হয়ে নিচে পড়লে তাকে তুষারপাত বলে।
১. প্রশ্ন: সম্পৃক্ত বায়ু ও অসম্পৃক্ত বায়ুর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যতটা জলীয় বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা থাকে, ঠিক ততটা বাষ্পই থাকলে তাকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে। আর যদি জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কম থাকে, তবে তাকে অসম্পৃক্ত বায়ু বলে। সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হয়।
১০. প্রশ্ন: সিরাস মেঘের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: (১) এটি সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মেঘ।
(২) দেখতে সাদা রঙের ও পাতলা তক্তর মতো বা ঘোড়ার লেজের মতো।
(৩) এই মেঘ সূক্ষ্ম বরফকণা দিয়ে তৈরি।
(৪) এই মেঘের মধ্য দিয়ে সূর্য বা চাঁদকে দেখা যায় এবং এর উপস্থিতিতে পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে।
১১. প্রশ্ন: কুয়াশা ও শিশিরের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: কুয়াশা হলো বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ভাসমান জলকণা যা মেঘের মতো দেখায় এবং দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু শিশির হলো ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন ঘাস বা গাছের পাতায় জমে থাকা জলবিন্দু। কুয়াশা বায়ুতে ভেসে থাকে আর শিশির ভূপৃষ্ঠের বস্তুর ওপর জমা হয়।
১২. প্রশ্ন: আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং ওই একই তাপমাত্রায় ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এটি শতাংশ (%) এককে প্রকাশ করা হয়।
১৩. প্রশ্ন: বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়গুলি কী কী?
উত্তর: (১) বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা উঁচু গাছের নিচে দাঁড়ানো উচিত নয়। (২) কোনো পাকা বাড়ির নিচে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
(৩) বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। (৪) গাড়ির ভেতরে থাকলে জানলা বন্ধ করে ভেতরেই বসে থাকতে হবে।
১৪. প্রশ্ন: বাষ্পীভবন ও ঘনীভবনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: সূর্যতাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে উপরে উঠে যাওয়াকে বাষ্পীভবন বলে। এই বাষ্প উপরে উঠে শীতল হয়ে পুনরায় জলবিন্দুতে পরিণত হওয়াকে ঘনীভবন বলে। অর্থাৎ বাষ্পীভবন হলো মেঘ তৈরির প্রথম ধাপ আর ঘনীভবন হলো মেঘ ও বৃষ্টির মূল কারণ।
১৫. প্রশ্ন: রেইন গেজ যন্ত্রের সাহায্যে কীভাবে বৃষ্টিপাত মাপা হয়?
উত্তর: রেইন গেজ হলো একটি চওড়া মুখওয়ালা চোঙাকার পাত্র। খোলা জায়গায় এটি বসিয়ে রাখা হয়। বৃষ্টির জল এই পাত্রে জমা হয়। এরপর একটি পরিমাপক স্কেলের সাহায্যে পাত্রে জমা জলের উচ্চতা দেখে কত মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে তা নির্ধারণ করা হয়।
১৬. প্রশ্ন: কিউমুলাস মেঘের বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়া কেমন হয়?
উত্তর: এই মেঘ দেখতে অনেকটা পাহাড়ের চূড়া বা সাদা তুলোর স্তূপের মতো। এর উলম্ব বিস্তার বেশি থাকে এবং ওপরের দিকটা বাঁধাকপির মতো দেখায়। এই মেঘে সাধারণত পরিষ্কার আবহাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে এটি রূপান্তরিত হয়ে কিউমুলোনিম্বাসে পরিণত হলে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
১৭. প্রশ্ন: তুষারপাত কাকে বলে? এটি কোন অঞ্চলে বেশি হয়?
উত্তর:যখন বায়ুর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে (০° সেলসিয়াসের নিচে) নেমে যায়, তখন জলীয় বাষ্প সরাসরি জলকণায় পরিণত না হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফ স্ফটিকে পরিণত হয়। এই বরফ স্ফটিকগুলো পেঁজা তুলোর মতো ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়াকে তুষারপাত বলে। এটি মেরু অঞ্চল ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বেশি হয়।
১৮. প্রশ্ন: ঘূর্ণবৃষ্টির প্রভাবে কী কী ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: ঘূর্ণবৃষ্টির সাথে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া থাকে বলে ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়ে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয় এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
১৯. প্রশ্ন: ঘনীভবনের ফলে সৃষ্ট কুয়াশা ও ধোঁয়াশা (Smog)-র পার্থক্য লেখো। উত্তর: কুয়াশা হলো জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের ফলে সৃষ্ট ক্ষুদ্র জলকণা যা বায়ুমণ্ডলে ভাসমান থাকে। অন্যদিকে, ধোঁয়াশা হলো ধোঁয়া এবং কুয়াশার মিশ্রণ। ধোঁয়াশা শহরে বেশি দেখা যায় এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
২০. প্রশ্ন: শিশির তৈরির প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: শীতকালীন রাতে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে যায়। ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বায়ুও ঠান্ডা হয়ে সম্পৃক্ত হয় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়। তখন বায়ুর জলীয় বাষ্প ঘাস, গাছের পাতা বা ঠান্ডা বস্তুর ওপর জলবিন্দু হিসেবে জমা হয়, একেই শিশির বলে।
২১. প্রশ্ন: আকাশ পরিষ্কার থাকলে কোন মেঘ দেখা যায় এবং কেন?
উত্তর: আকাশ পরিষ্কার থাকলে সিরাস মেঘ দেখা যায়। এই মেঘ খুব উচ্চতায় থাকে এবং সূক্ষ্ম বরফকণা দিয়ে তৈরি হয় বলে সূর্যের আলো সহজেই এর মধ্য দিয়ে আসতে পারে। এই মেঘ থাকলে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
২২. প্রশ্ন: জানালা-দরজায় কেন অনেক সময় জল জমে থাকতে দেখা যায়? উত্তর: ঘরের ভেতরের গরম বায়ু যখন জানলার ঠান্ডা কাঁচের সংস্পর্শে আসে, তখন তা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে সম্পৃক্ত হয় এবং ঘনীভূত হয়ে জলবিন্দুতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।
২৩. প্রশ্ন: বৃষ্টিছায় অঞ্চল কেন শুষ্ক হয়?
উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির সময় বায়ু যখন পাহাড় পেরিয়ে অপর ঢালে নেমে আসে, তখন তার জলীয় বাষ্প প্রায় শেষ হয়ে যায়। এছাড়া নিচে নামার ফলে বায়ুর তাপমাত্রা বাড়ে, ফলে বায়ু প্রসারিত হয় এবং অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। তাই ওই অঞ্চলে বৃষ্টি হয় না এবং জায়গাটি শুষ্ক থাকে।
২৪. প্রশ্ন: উল্লম্ব মেঘ (Vertical Clouds) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✓ উত্তর: যে মেঘের বিস্তার অনুভূমিকের চেয়ে উল্লম্বভাবে অর্থাৎ ওপরের দিকে বেশি হয়, তাকে উল্লম্ব মেঘ বলে। যেমন- কিউমুলাস ও কিউমুলোনিম্বাস মেঘ।
২৫. প্রশ্ন: মেঘ তৈরির জন্য ‘ঘনীভবন কেন্দ্র’ (Condensation Nuclei) কেন প্রয়োজন?
উত্তর: জলীয় বাষ্প কেবল ঠান্ডা হলেই মেঘ তৈরি করতে পারে না। তার জলকণায় পরিণত হওয়ার জন্য ভাসমান ধূলিকণা, ধোঁয়া বা লবণাংশের প্রয়োজন হয়, যার ওপর বাষ্প জমাট বাঁধতে পারে। এই কণাগুলোই ঘনীভবন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
২৬. প্রশ্ন: তড়িৎ আধান (Electric Charge) কীভাবে মেঘে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: মেঘের মধ্যে থাকা জলকণা ও বরফ স্ফটিকগুলো প্রবল বাতাসে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলে মেঘের কণাগুলো তড়িৎগ্রস্ত বা আধানযুক্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত মেঘের ওপরের দিকে ধনাত্মক (+) এবং নিচের দিকে ঋণাত্মক (-) আধান তৈরি হয়।
২৭. প্রশ্ন: ‘ড্রিল’ (Drizzle) বা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এই ধরনের বৃষ্টিতে জলের ফোঁটাগুলো খুব ছোট হয় (ব্যাস ০.৫ মিলিমিটারের কম) এবং এগুলো খুব ধীরগতিতে আকাশ থেকে পড়ে। এটি সাধারণত নিম্নস্তরের স্ট্যাটুস মেঘ থেকে হয়।
২৮. প্রশ্ন: কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে কীভাবে মেঘের ছবি নেওয়া হয়?
উত্তর: আবহাওয়া উপগ্রহগুলিতে বিশেষ ক্যামেরা থাকে যা মেঘ থেকে প্রতিফলিত সূর্যালোক (দৃশ্যমান আলো) অথবা মেঘের তাপমাত্রা (ইনফ্রারেড) শনাক্ত করতে পারে। এই তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়ে মেঘের বিস্তৃতি ও ধরন বিশ্লেষণ করা হয়।
২৯. প্রশ্ন: উষ্ণতা হ্রাসের সাথে জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতার সম্পর্ক কী?
উত্তর: বায়ুর তাপমাত্রা কমলে তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। যদি বায়ুর তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কে নেমে আসে, তবে বায়ু সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং জলীয় বাষ্প জলকণায় পরিণত হয়।
৩০. প্রশ্ন: বৃক্ষরোপণ কীভাবে স্থানীয় মেঘ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে পারে?
উত্তর: গাছপালা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ছাড়ে। এছাড়া গাছপালা বায়ুর গতিপথ পরিবর্তন করে বায়ুকে উপরে উঠতে সাহায্য করে। ফলে স্থানীয়ভাবে আর্দ্রতা বেড়ে মেঘ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।


©kamaleshforeducation.in(2023)



