Class 10 ভৌত বিজ্ঞান

‘জৈব রসায়ন’ প্রশ্ন উত্তর

Physical Science Chapter 8.6

Organic Chemistry

Published on: 

 

মাধ্যমিক (Class 10) ভৌত বিজ্ঞানের (Physical Science) অষ্টম অধ্যায়ের ষষ্ঠ উপ-অধ্যায় ‘জৈব রসায়ন’ (Organic Chemistry)-এর মধ্যে কার্বনের ক্যাটিনেশন ধর্ম, সমগণীয় শ্রেণি, কার্যকরী মূলক, মিথেন, ইথিলিন ও অ্যাসিটিলিনের ধর্ম, IUPAC নামকরণ এবং পলিমার (যেমন— পলিথিন, পিভিসি, টেফলন)- নিয়ে আলোচনা করা হয়। আজকের পোস্টে   এই চ্যাপ্টারের বাছাই করা প্রশ্ন-উত্তরগুলো (Question Answer) শেয়ার করা হল।

 

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান ‘জৈব রসায়ন’ Organic Chemistry (অষ্টম অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর

2 জৈব রসায়ন Class 10 প্রশ্ন উত্তর | জৈব রসায়ন সংক্ষিপ্ত ও ব্যখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান

‘জৈব রসায়ন’ Organic Chemistry

(অষ্টম অধ্যায়)

One Liner প্রশ্ন উত্তর

 

★ প্রথম কৃত্রিম উপায়ে তৈরি জৈব যৌগটির নাম হলো: ইউরিয়া (Urea)
★ অ্যামোনিয়াম আইসোসায়ানেট থেকে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন বিজ্ঞানী: ফ্রেডরিখ ভোলার (১৮২৮ খ্রি.)
★ কার্বন পরমাণুর চতুস্তলকীয় মডেলের প্রস্তাবনা করেন বিজ্ঞানী: ভ্যান্ট হফ এবং লা-বেল (১৮৭৪ খ্রি.)
★ মিথেন (CH4) অণুর ত্রিমাত্রিক আকৃতি হলো: সমচতুস্তলকীয় (Tetrahedral)
★ মিথেন অণুতে H-C-H বন্ধন কোণের মান হলো: ১০৯°২৮’ (109o28′)

★ যে ধর্মের জন্য কার্বন পরমাণুগুলি পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শৃঙ্খল বা শাখা শৃঙ্খল গঠন করে, তাকে বলে: ক্যাটিনেশন ধর্ম (Catenation)
★ জৈব যৌগে কার্বন পরমাণুগুলি পরস্পরের সাথে সাধারণত যে ধরনের বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে: সমযোজী বন্ধন
★ কার্বন পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন সংখ্যা বা কার্বনের যোজ্যতা হলো: 
★ সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনগুলিকে (একবন্ধন যুক্ত) সাধারণভাবে বলা হয়: অ্যালকেন (Alkane)
★ অ্যালকেন শ্রেণির সাধারণ আণবিক সংকেত হলো: CnH2n+2

★ অ্যালকিন (অসম্পৃক্ত, দ্বিবন্ধন) শ্রেণির সাধারণ সংকেত হলো: CnH2n
★ অ্যালকাইন (অসম্পৃক্ত, ত্রিবন্ধন) শ্রেণির সাধারণ সংকেত হলো: CnH2n-2
★ সরলতম অ্যালকিন এবং সরলতম অ্যালকাইন হলো যথাক্রমে: ইথিলিন (C2H4) ও অ্যাসিটিলিন (C2H2)
★ অ্যালকোহল শ্রেণির যৌগে উপস্থিত কার্যকরী মূলকটি হলো: হাইড্রক্সিল মূলক (-OH)
★ অ্যালডিহাইড শ্রেণির যৌগে উপস্থিত কার্যকরী মূলকটি হলো: অ্যালডিহাইড মূলক (-CHO)

★ কার্বক্সিলিক অ্যাসিড শ্রেণির যৌগে উপস্থিত কার্যকরী মূলকটি হলো: কার্বক্সিল মূলক (-COOH)
★ কিটোন শ্রেণির যৌগে উপস্থিত কার্যকরী মূলকটি হলো: কিটো মূলক (>C=O)
★ একই সাধারণ সংকেত ও ধর্মবিশিষ্ট এবং পরপর দুটি যৌগের মধ্যে CH2 গ্রুপের পার্থক্য থাকা যৌগের শ্রেণিকে বলে: সমগনীয় শ্রেণি (Homologous series)
★ একই আণবিক সংকেতযুক্ত কিন্তু ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট যৌগগুলিকে বলা হয়: সমাবয়ব (Isomer)
★ এল.পি.জি (LPG) বা রান্নার গ্যাসের প্রধান বা মুখ্য উপাদান হলো: বিউটেন

★ এল.পি.জি (LPG) সিলিন্ডার লিক করলে যে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়, তার জন্য দায়ী সালফারঘটিত যৌগটি হলো: ইথাইল মারক্যাপটান (C2H5SH)।
★ সি.এন.জি (CNG)-এর প্রধান বা মুখ্য উপাদান হলো: মিথেন (CH4) (প্রায় ৯০%)
★ আবদ্ধ জলাভূমিতে গাছপালার পচনের ফলে মিথেন উৎপন্ন হয় বলে মিথেনকে বলা হয়: মার্শ গ্যাস (Marsh Gas)
★ বদ্ধ জলাভূমিতে আলেয়া সৃষ্টির জন্য প্রধানত যে গ্যাস দায়ী: মিথেন গ্যাস
★ কার্বাইড বাতিতে আলো জ্বালানোর জন্য এবং ঝালাইয়ের কাজে (অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা প্রস্তুতিতে) ব্যবহৃত গ্যাসটি হলো: অ্যাসিটিলিন (C2H2)

★ কাঁচা ফল পাকাতে এবং বিষাক্ত মাস্টার্ড গ্যাস প্রস্তুতিতে যে গ্যাস ব্যবহৃত হয়: ইথিলিন (C2H4)
★ পলিস্টাইরিন বা পলিথিন (Polythene) নামক পলিমারটির মনোমার হলো: ইথিলিন
★ নন-স্টিক রান্নার বাসনপত্র তৈরি করতে যে পলিমার ব্যবহৃত হয়: টেফলন (Teflon) বা পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন
★ পি.ভি.সি (PVC) বা পলিভিনাইল ক্লোরাইড-এর মনোমারের নাম হলো: ভিনাইল ক্লোরাইড
★ একটি জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) পলিমারের উদাহরণ হলো: সেলুলোজ, প্রোটিন বা স্টার্চ

★ জৈব যৌগে অসম্পৃক্ততা (দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন) প্রমাণের জন্য ব্যবহৃত হয়: ব্রোমিন জল (লাল বর্ণ অদৃশ্য হওয়ার পরীক্ষা)
★ ভিনিগার (Vinegar) আসলে যে জৈব যৌগের ৫-৮% জলীয় দ্রবণ: অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH)
★ অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সাথে সোডিয়াম বাইকার্বনেটের বিক্রিয়ায় যে গ্যাস তীব্র বেগে নির্গত হয়: কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)
★ ইথাইল অ্যালকোহলের নিরুদনে (গাঢ় H2SO4 এর উপস্থিতিতে ১৭০°C উষ্ণতায়) উৎপন্ন হয়ইথিলিন (C2H4)
★ রেকটিফায়েড স্পিরিট হলো: ৯৫.৬% ইথানল এবং ৪.৪% জলের মিশ্রণ

★ রেকটিফায়েড স্পিরিটকে পানের অযোগ্য করতে মিথানল, পিরিডিন ও সামান্য ন্যাপথা মিশিয়ে যে বিষাক্ত মিশ্রণ তৈরি হয়, তাকে বলে: ডিনেচার্ড স্পিরিট (বা মেথিলেটেড স্পিরিট)
★ অ্যাসিটিক অ্যাসিড ও ইথাইল অ্যালকোহলের বিক্রিয়ায় পাকা কলার মতো মিষ্টি গন্ধযুক্ত যে এস্টার যৌগ উৎপন্ন হয়, তার নাম: ইথাইল অ্যাসিটেট

জৈব রসায়ন Class 10 প্রশ্ন উত্তর 

জৈব রসায়ন সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

 

১: কার্বন পরমাণুর ক্যাটিনেশন ধর্ম বলতে কী বোঝায় এবং এটি কেন ঘটে?

উত্তর: কার্বন পরমাণুগুলি একে অপরের সাথে সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ বা শাখাযুক্ত শৃঙ্খল এবং বলয় তৈরি করার যে বিশেষ ক্ষমতা দেখায়, তাকেই ক্যাটিনেশন ধর্ম বলা হয়।

কার্বনের আকার ছোট হওয়ায় এবং এর তড়িৎ-ঋণাত্মকতা মাঝারি প্রকৃতির হওয়ার কারণে এদের নিজেদের মধ্যকার কার্বন-কার্বন (C-C) সমযোজী বন্ধন অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়। এই কারণেই কার্বন পরমাণুগুলি খুব সহজেই নিজেদের মধ্যে একবন্ধন, দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন গঠন করে অসংখ্য জৈব যৌগ তৈরি করতে পারে।

২: বদ্ধ জলাভূমিতে ‘আলেয়া’ কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: বদ্ধ জলাভূমিতে থাকা মৃত গাছপালা বা প্রাণীর দেহ পচে সাধারণত মিথেন গ্যাস তৈরি হয়। এর পাশাপাশি, প্রাণীর দেহের পচনের ফলে সামান্য পরিমাণে ফসফিন (PH3) এবং ডাইফসফরাস টেট্রাহাইড্রাইড (P2H4) গ্যাসও উৎপন্ন হয়ে থাকে।

এই উৎপন্ন ডাইফসফরাস টেট্রাহাইড্রাইড গ্যাসটি বাতাসের সংস্পর্শে আসামাত্রই নিজে থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্বলে ওঠে। এর ফলে যে তাপের সৃষ্টি হয়, সেই তাপে দাহ্য মিথেন গ্যাসও ফিকে নীলাভ শিখায় জ্বলতে শুরু করে। রাতের অন্ধকারে জলাভূমির উপর এই জ্বলন্ত মিথেন গ্যাসের শিখাকেই আমরা ‘আলেয়া’ বলে থাকি।

৩: জৈব-বিশ্লেষ্য (Biodegradable) পলিমারগুলি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যে পলিমারগুলিকে পরিবেশের বিভিন্ন অণুজীব (যেমন ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক) সহজেই ভেঙে ফেলতে পারে, সেগুলিকে জৈব-বিশ্লেষ্য পলিমার বলা হয়।

পরিবেশে থাকা এই অণুজীবগুলি তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত এনজাইমের সাহায্যে এই পলিমারগুলিকে (যেমন- কাগজ, তুলো, প্রোটিন, স্টার্চ, খড় ইত্যাদি) রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে একেবারে সরল উপাদানে পরিণত করে দেয়। বিশ্লিষ্ট হয়ে যাওয়া এই সরল উপাদানগুলি খুব সহজেই মাটির সাথে মিশে যায়। যেহেতু এরা পরিবেশে দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত অবস্থায় পড়ে থাকে না, তাই এদের দ্বারা কোনো পরিবেশ দূষণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে না।

৪: কয়লা খনিতে অনেক সময় হঠাৎ করে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে কেন?

উত্তর: কয়লা খনির ভেতরের বাতাসে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস জমে থাকে। এই মিথেন গ্যাস খনির বাতাসের অক্সিজেনের সাথে মিশে একটি অত্যন্ত দাহ্য মিশ্রণ তৈরি করে। খনির ভেতরে কোনো কারণে সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হলে, দাহ্য মিথেন ও অক্সিজেনের মধ্যে প্রচণ্ড বেগে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) ও জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। এই আকস্মিক ও দ্রুত বিক্রিয়ার ফলেই খনির ভেতর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

৫: পরীক্ষাগারে ইথিলিন যৌগের অসম্পৃক্ততা কীভাবে প্রমাণ করবে?

উত্তর: ইথিলিনের অসম্পৃক্ততা প্রমাণের জন্য কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl4) বা ক্লোরোফর্ম (CHCl3) দ্রাবকের মধ্যে ব্রোমিন দ্রবীভূত করে একটি দ্রবণ তৈরি করা হয়, যার স্বাভাবিক বর্ণ থাকে লাল।

এবার এই লাল রঙের ব্রোমিন দ্রবণের মধ্যে দিয়ে ইথিলিন গ্যাস চালনা করলে একটি রাসায়নিক যুত বিক্রিয়া ঘটে এবং ১, ২-ডাইব্রোমোইথেন নামের একটি সম্পূর্ণ বর্ণহীন যৌগ তৈরি হয়। বিক্রিয়ার ফলে দ্রবণের লাল রং পুরোপুরি গায়েব হয়ে যায়। এই লাল বর্ণ অন্তর্হিত হওয়াটাই অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে ইথিলিন একটি অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন।

৬: ডিনেচার্ড স্পিরিট বা মেথিলেটেড স্পিরিট কী? এর ব্যবহার লেখো।

উত্তর: রেকটিফায়েড স্পিরিট (যাতে প্রায় ৯৫.৬% ইথানল থাকে) যাতে সাধারণ মানুষ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করতে না পারে, তার জন্য এর সাথে বিষাক্ত মিথানল (উড স্পিরিট), সামান্য পরিমাণে পিরিডিন এবং ন্যাপথা মিশিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষাক্ত মিশ্রণটিকেই ডিনেচার্ড স্পিরিট বা মেথিলেটেড স্পিরিট বলা হয়।

ব্যবহার: এটি প্রধানত কাঠের আসবাবপত্র বার্নিশ করার কাজে এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৭: সমাবয়বতা (Isomerism) কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: যে সমস্ত জৈব যৌগের আণবিক সংকেত একেবারে এক হওয়া সত্ত্বেও অণুর ভেতরের গঠন আলাদা হওয়ার কারণে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মে পার্থক্য দেখা যায়, তাদের সমাবয়ব বা আইসোমার বলা হয়। আর এই ঘটনা বা বৈশিষ্ট্যকেই সমাবয়বতা বা আইসোমেরিজম বলে। উদাহরণ হিসেবে ইথাইল অ্যালকোহল (CH3CH2OH) এবং ডাই-মিথাইল ইথার (CH3-O-CH3)-এর কথা বলা যায়। এদের উভয়েরই আণবিক সংকেত C2H6O হলেও, এদের কার্যকরী মূলক ও ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা, তাই এরা পরস্পরের সমাবয়ব।

৮: এস্টারিফিকেশন (Esterification) বিক্রিয়া কী?

উত্তর: সামান্য পরিমাণ গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডের (H2SO4) উপস্থিতিতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং ইথাইল অ্যালকোহলকে একসঙ্গে উত্তপ্ত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইথাইল অ্যাসিটেট নামক একটি যৌগ এবং জল উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন এই ইথাইল অ্যাসিটেট একটি ‘এস্টার’ জাতীয় যৌগ, যার গন্ধ অনেকটা পাকা কলার মতো মিষ্টি। দুটি যৌগের বিক্রিয়ায় এস্টার তৈরি হওয়ার এই রাসায়নিক পদ্ধতিকেই জৈব রসায়নে এস্টারিফিকেশন বিক্রিয়া বলা হয়।

৯: কোনো জৈব যৌগে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড মূলক (-COOH) উপস্থিত আছে কিনা, তা কীভাবে পরীক্ষা করে বুঝবে?

উত্তর: কোনো জৈব যৌগে কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) আছে কিনা তা জানার জন্য নমুনা যৌগটির সাথে ৫% সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3)-এর জলীয় দ্রবণ মেশানো হয়। দ্রবণটি মেশানোর পর যদি দেখা যায় যে, সেখান থেকে বুদবুদ আকারে একটি বর্ণহীন গ্যাস অতি দ্রুত বেরিয়ে আসছে (যা মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইড বা CO2 গ্যাস), তবে নিশ্চিতভাবে বুঝতে হবে যে ওই জৈব যৌগটিতে -COOH বা কার্বক্সিলিক মূলক উপস্থিত রয়েছে।

১০: মানুষের শরীরে মিথানল ও ইথানল প্রবেশ করলে কী কী মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর: মিথানলের প্রভাব: মিথানল মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে রাসায়নিকভাবে জারিত হয়ে বিষাক্ত ফরমিক অ্যাসিড তৈরি করে। এর ফলে মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে অন্ধত্ব আসতে পারে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উন্মত্ততা দেখা দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও হতে পারে।

ইথানলের প্রভাব: ইথানল বা সাধারণ অ্যালকোহল অতিরিক্ত মাত্রায় পান করলে তা মানুষের নার্ভ বা স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং এর প্রভাবে লিভার ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।

১১: ইথাইল অ্যালকোহলের নিরুদন বিক্রিয়াটি লেখো।

উত্তর: ইথাইল অ্যালকোহলের সাথে গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) মিশিয়ে মিশ্রণটিকে প্রায় ১৭০°C উষ্ণতায় উত্তপ্ত করলে অ্যালকোহলের অণু বিশ্লিষ্ট হয়ে যায় এবং সেখান থেকে এক অণু জল বেরিয়ে যায়। জলের এই অপসারণকেই নিরুদন বলে। এই বিক্রিয়ার ফলে ইথাইল অ্যালকোহল থেকে ইথিলিন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

১২: এল.পি.জি (LPG) এবং সি.এন.জি (CNG)-কে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: এল.পি.জি (LPG) গ্যাসের তাপনমূল্য অনেক বেশি (প্রায় ৪৫ KJ/g), তাই এটি পুড়িয়ে প্রচুর তাপশক্তি পাওয়া যায় বলে গার্হস্থ্য জ্বালানি বা রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। অন্যদিকে সি.এন.জি (CNG) পোড়ালে বায়ুদূষণ অত্যন্ত কম হয় এবং এর তাপনমূল্যও বেশ ভালো (প্রায় ৪৯ KJ/g)। পরিবেশের কম ক্ষতি করে বলে বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো প্রচলিত জ্বালানির একটি দুর্দান্ত বিকল্প হিসেবে সি.এন.জি-র প্রচলন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজকের এই পোস্টে   দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান অষ্টম (8.6) অধ্যায় ‘জৈব রসায়ন’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ান-লাইনার (One-liner) শেয়ার করা হল। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট খুব সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যাতে   MCQ এবং SAQ—সব ধরনের শর্ট প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।

 

SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top