বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন

প্রশ্ন উত্তর (২/৪/৮ মার্ক)

Class 10 History Chapter 7

Long Quesion Answer

Published on: 

মাধ্যমিক ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায় ‘বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ’  (History Chapter 7) এর মধ্যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের অসীম সাহসিকতা, ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নমশূদ্র বা দলিত সম্প্রদায়ের মতো প্রান্তিক মানুষদের অধিকার আদায়ের লড়াই নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের পোস্টে এই চ্যাপ্টার থেকে বাছাই করা ২, ৪ এবং ৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলো শেয়ার করা হল।

 

◆ বিষয়বস্তু ◆

1 মাধ্যমিক ইতিহাস ‘বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন’ বড়ো প্রশ্ন উত্তর (২/৪/৮মার্ক) | Class 10 History Chapter 7 Long Question Answer

1.1 ক্লাস 10 ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় 2 নম্বর প্রশ্ন উত্তর (Class 10 History 7th Chapter 2 Marks Question Answer)

1.2 দশম শ্রেণী ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় ৪ নম্বর প্রশ্ন উত্তর (Madhyamik Class 10 History Chapter 7 4 Marks Question Answer)

1.3 মাধ্যমিক দশম শ্রেণী ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় ৮ মার্কস প্রশ্ন উত্তর (Class 10 History Chapter 7 8 Marks Question Answer)

 

মাধ্যমিক ইতিহাস

‘বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন’ বড়ো প্রশ্ন উত্তর (২/৪/৮মার্ক) 

Class 10 History Chapter 7

Long Question Answer

ক্লাস 10 ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় 2 নম্বর প্রশ্ন উত্তর

Class 10 History 7th Chapter

2 Marks Question Answer

 

উত্তর:  ১৯০৫ খ্রী. ১৯ জুলাই সাম্রাজ্যবাদী শাসক লর্ড কার্জন তাঁর কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনাটি ঘোষনা করলে সারা বাংলাদেশ প্রতিবাদে বিক্ষোভে সোচ্চার হয়। এর প্রতিবাদে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন নামে পরিচিত।
বয়কট, স্বদেশি, জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন ছিল এরই ধারা। সরকার তার সিদ্ধান্তে অটুট থাকলে সমগ্র দেশে শুরু হয় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ।

উত্তর:  ১৯০৫ খ্রী. ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সমগ্র বাংলা প্রদেশে নেমে আসে এক গভীর শোকের ছায়া।

 

রাখিবন্ধন :– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘রাখিবন্ধন’ উৎসব পালিত হয়। রাখি ছিল মিলনের প্রতীক, ঐক্যের প্রতীক তথা দুই বাংলার সংহতির প্রতীক।

অরন্ধন :– প্রাবন্ধিক ও বৈজ্ঞানিক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর প্রস্তাব অনুসারে পালিত হয় ‘ অবন্ধন’। এর মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাংলার প্রতি ঘরে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যবস্থা হয়। এর মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গের বিষয়টি ‘জাতীয় শোকে’ পরিণত করার ব্যবস্থা হয়।

 উত্তর:  ১৯২২ খ্রী. ৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা নামক স্থানে ভগবান আহির নামে কংগ্রেস কর্মীর ওপর পুলিশ অকথ্য অত্যাচার করে। এছাড়াও বিনা কারণে পুলিশ জনতার ওপর গুলি চালালে উত্তেজিত জনতা চৌরিচৌরা থানায় আগুন লাগিয়ে ২২ জন পুলিশকর্মীকে জীবন্ত দগ্ধ করে। এটি চৌরিচৌরা ঘটনা নামে পরিচিত।

আন্দোলন প্রত্যাহার :– এর ফলে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে হিংসার অনুপ্রবেশ ঘটায় এবং সরকারের প্রতিহিংসা গ্রহণের আগে আশঙ্কায় গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

উত্তর:  ১৯৩০ খ্রী. ১২ মার্চ গান্ধিজি তাঁর ৭৮ জন সহযোগীকে নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে ২১ দিনে ২৪১ মাইল পথ অতিক্রম করে গুজরাটের সমুদ্র উপকূলের ডান্ডিতে পৌঁছান। ৬ এপ্রিল সমুদ্রের জল থেকে নিজ হাতে লবন তৈরি করে লবন আইন ভঙ্গ করেন এবং আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন। মা ‘ডান্ডি অভিযান’ নামে খ্যাত।

উত্তর:  ‘বয়কট’ কথাটির অর্থ হল বর্জন। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ কৃষ্ণকুমার মিত্রের প্রস্তাব অনুযায়ী কলকাতার টাউন হলে ১৯০৫ খ্রী. ৭ আগষ্ট ‘বয়কট’ এর প্রস্তাব গৃহীত হয়। বিদেশি পণ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন-আদালত বর্জন করে ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে স্তব্ধ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

উত্তর:  ১৯০৫ খ্রী. অক্টোবর মাস থেকে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী যে আন্দোলন শুরু হয়, তা ‘স্বদেশি আন্দোলন’ নামে পরিচিত। বয়কট ছিল নেতিবাচক ও স্বদেশি ছিল ইতিবাচক আন্দোলন।  স্বদেশি পণ্যের ব্যবহার, শিক্ষার প্রসার, শিল্পের প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত বদল করা এবং অপরদিকে দেশের মৃতপ্রায় শিল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

উত্তর গুজরাটের সুরাট জেলার ধরসানা ছিল একটি সরকারি লবনগোলা। গান্ধি অনুগামী আব্বাস তায়েবজি এই লবণগোলা লুন্ঠন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন এবং ওয়ার্ধার জেলে বন্দি হন।   অতঃপর সরোজিনী নাইডুর নেতৃত্বে ২২ মে চলে ধরসানা সত্যাগ্রহ আন্দোলন। সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সঙ্গে আন্দোলন দমন করলেও এই আন্দোলন নারীদের উদ্বুদ্ধ করে।

উত্তর:  ১৯০৫ খ্রী. ‘কানাইল সার্কুলার, ‘পেডলার’ ও ‘নিয়ন সার্কুলারে’র মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন দমনের ব্যবস্থা হয়। এর বিরুদ্ধে ছাত্রনেতা শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর নেতৃত্বে ১৯০৫ খ্রী. ১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি বা সার্কুলার বিরোধী সমিতি। স্বদেশি আন্দোলনে যোগদানের অজুহাতে বহিষ্কৃত ছাত্রে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা, স্বদেশি আদর্শ প্রচার করা, স্বদেশি দ্রব্য সরবরাহ করা ইত্যাদি ছিল এর উদ্দেশ্য। কৃষ্ণকুমার মিত্র ছিলেন এর সভাপতি ও শচীন্দ্র প্রসাদ বসু ছিলেন এর সম্পাদক।

উত্তর:  ১৯৪২ খ্রী. আগস্ট মাসে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হলে গান্ধিজির আহ্বানে মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠে নারী বাহিনী। বাংলার মেদিনীপুর জেলার তমলুকে মাতঙ্গিনী হাজরা ২০ হাজার নারীকে নিয়ে গড়ে তোলেন ভগিনী সেনা নামে এক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। এই সেনার অনেক নারী জেলে বন্দি হন ও চরম লাঞ্ছনার শিকার হন।

উত্তর:  ১৯৩১ খ্রী. ৬ মার্চ গান্ধি আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে স্থির হয় –

 (১)  সরকার অত্যাচারমূলক অর্ডিন্যান্স আইন প্রত্যাহার করবে ও আন্দোলন কারীদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করবে। (২) গান্ধিজি আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করতে ও ১৯৩১ খ্রী. লন্ডনে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করতে সম্মত হন।

উত্তর:  ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ছিলেন মেদিনীপুরের বীরাঙ্গনা ‘গান্ধি কন্যা’ নামে পরিচিত মাতঙ্গিনী হাজরা। ইতিহাসে তিনি গান্ধী বুড়ি নামেও পরিচিত। তিনি কুড়ি হাজার নারীকে নিয়ে গড়ে তোলেন ভগিনী সেনা। ৭৩ বছর বয়স্ক মাতঙ্গিনী তমলুক থানা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা ও মুখে বন্দেমাতরম ধ্বনি উচ্চারণ ভারতবাসীকে স্বাধীনতার জন্য জীবন দানে উৎসাহিত করে।

উত্তর:  ভারতছাড়ো আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে সকল নারীরা চিরস্মরণীয়া হয়ে রয়েছে তাদের মধ্যে ঊষা মেহতা ছিলেন অন্যতম। তিনি গোপনে বোম্বাইয়ে ‘ভয়েস অফ ফ্রিডম’ নামে কংগ্রেস বেতার কেন্দ্র বা রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপন করে স্বাধীনতার বাণী, গান্ধীজী ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ আদর্শ সহ জাতীয় আদর্শ প্রচার করেন ও আন্দোলন সম্পর্কে নানা তথ্য সরবরাহ করে আন্দোলনকে সর্বাত্মক ও গণ বিদ্রোহে পরিণত করতে প্রয়াসী হন।

উত্তর:  বিংশ শতকে ছাত্র আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো–

 (i) ২০ শতকে ব্রিটিশ সরকারের চরম দমন এর বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করলে জাতীয় আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়, 

(ii) ব্রিটিশ সরকারের বিভেদ নীতির মাধ্যমে ছাত্র সমাজকে জাতীয় আন্দোলন থেকে দূরে রাখার সকল প্রচেষ্টা ছাত্ররাই ব্যর্থ করে দেয়, ইত্যাদি।

 উত্তর:  মারাঠি সাহিত্য থেকে ‘দলিত’ শব্দটি গৃহীত হয়েছে। ব্যুৎপত্তিগতভাবে দলন’ থেকেই ‘দলিত’ কথাটি এসেছে। এর অর্থ হল দমন করা বা বলপূর্বক দমিয়ে রাখা। ভারতীয় হিন্দু সমাজব্যবস্থায় এক অধিকারহীন পিছিয়ে পড়া, অনুন্নত সম্প্রদায়ই ‘দলিত’ নামে পরিচিত। উচ্চবর্ণের মানুষের দ্বারা এরা ছিল অবহেলিত পদদলিত। অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ইত্যাদি অধিকার থেকে এরা ছিল বঞ্চিত। মন্দিরে প্রবেশ, দীঘি বা পুকুর বা ইঁদারার ভুল ব্যবহার, স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এঁরা ছিল অবাঞ্ছিত। গান্ধিজি এদের ‘হরিজন’ অ্যাখ্যা দেন। ড. বি আর আম্বেদকর ছিলেন এঁদের নেতা, কেরলে এর ‘এজহাবা’ তামিলনাড়ুতে ‘নাদার’ মহারাষ্ট্রে ‘মাহার’ দিল্লিতে ‘বাল্মিকী, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ‘চামার’, বাংলায় ‘নমঃশূদ্র ও সরকারি পরিভাষায় ‘তপশিলি ভুক্ত জাতি’ নামে পরিচিত।

উত্তর:  বিহারের মুজাফফরপুরে অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার বিরুদ্ধে বোমা বিস্ফোরণের সূত্রে পুলিশ কলকাতায় মুরারি পুকুরে তল্লাশি চালায় এবং বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষ সহ প্রায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

  এরপর শুরু হয় বিখ্যাত আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলা। ব্যারিস্টার চিত্তরঞ্জন দাসের প্রয়াসে অরবিন্দ নির্দোষ প্রমাণিত হলেও বারীন ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত প্রমুখের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

 উত্তর:  ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে উবাইদুল্লাহ সিন্ধি ১৫ জন ছাত্র নিয়ে বালুচিস্থানে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীন সরকার। ইংরেজ আক্রমণে তারা কাবুলে পালিয়ে যান এবং রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপ ও বরকত উল্লাহের সঙ্গে গড়ে তোলেন অস্থায়ী স্বাধীন সরকার। কাবুল থেকে তারা রেশমি রুমালে সংকেত লিপিতে বিদ্রোহের আদর্শ ভারতে পাঠাতে থাকেন। ইংরেজরা এই গোপন প্রচেষ্টা ধরে ফেলে ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে রেশমি রুমাল ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে আবুল কালাম আজাদ প্রমুখকে গ্রেফতার করা হয়।

উত্তর:  ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স দলের তিনজন সদস্য বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত বাংলার শাসন কেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরন আক্রমণ করেন। তারা অত্যাচারী কারা অধিকর্তা সিম্পসন ও উচ্চপদস্থ কর্মচারী ক্রেগ-কে হত্যা করেন। অতঃপর টেগার্টের নেতৃত্বে পুলিশের সঙ্গে মহাকরনের অলিন্দ বা বারান্দায় বিপ্লবীদের যুদ্ধ চলে, এটি অলিন্দ যুদ্ধ নামে পরিচিত।

উত্তর:  বিভিন্ন কারাগারে বন্দি বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর চরম নির্যাতন শুরু হলে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের সদস্যরা তাদের মুক্ত করার জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, এটি অপারেশন ফিডম নামে পরিচিত। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তাদের উদ্যোগে পুলিশের আইজি লোম্যান কারা অধিকর্তা সিম্পসন ও কারা কর্মচারী ক্রেগ নিহত হন।

উত্তর:  ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদকালে বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যে সমস্ত প্রচেষ্টা চলে, তা সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন নামে পরিচিত। চরম সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বিকল করা ও ভারতমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করাই ছিল এর লক্ষ্য ব্রিটিশের চোখে এরা ছিল সন্ত্রাসবাদী।

উত্তর:  রসিদ আলি ছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর একজন ক্যাপটেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি তাঁর সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষিত হলে প্রতিবাদে বাংলা প্রদেশ ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। তাঁর মুক্তির দাবিতে ১১ ফেব্রুয়ারি মুসলিম ছাত্র লিগ কলকাতায় ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ‘রশিদ আলি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি এতে যোগদান করে। কয়েকদিনের সংঘর্ষে কলকাতায় প্রায় ২০০ জন (সরকারি হিসেবে ৮৪ জন) এর মৃত্যু হয়।

উত্তর টি. এম. নায়ার ও পি. চেট্টির উদ্যোগে মাদ্রাজে ‘ভেলাল’ নামক দলিত উপজাতির লোকেদের দ্বারা ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে’জাস্টিস পার্টি’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উদ্দেশ্য :– ব্রাহ্মণদের অধিপত্যের বিরুদ্ধে দলিতদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ও সংস্কৃত ভাষার প্রাধান্যের হাত থেকে তামিল ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য এটি গঠিত হয়।

উত্তর:  ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের বিশিষ্ট সাধক, সন্ন্যাসী ও সংস্কারক শ্রীনারায়ণ গুরুর নেতৃত্বে শুরু হয় ভাইকম সত্যাগ্রহ আন্দোলন। দক্ষিণ ভারতের একটি হিন্দু মন্দির মুখী রাস্তা নিম্নবর্গের মানুষ যথা এজহাবা ও পুলায়াদের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলে এরই বিরুদ্ধে শুরু হয় ভাইকম সত্যাগ্রহ। উচ্চ শিক্ষা, সরকারি চাকরি, সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার আদায় ছিল ইত্যাদি ছিল এর লক্ষ্য। গান্ধীজি এই আন্দোলন সমর্থন করেন। এই সংস্কার আন্দোলন দক্ষিণ ভারতে হিন্দু সংস্কার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

উত্তর:  ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস নেতা ই ভি রামস্বামী নাইকারের নেতৃত্বে আত্মসম্মান আন্দোলন শুরু হয় বা সেল্ফ রেসপেক্ট আন্দোলন শুরু হয়।

উদ্দেশ্য :– হিন্দু ধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ এবং দলিত শ্রেণীর সামাজিক সমতা ও অধিকার আদায়ের জন্য তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে অচিরেই এই আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

উত্তর:  ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ১৬ আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড সাইমন কমিশনের রিপোর্ট, ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠক ও অনুন্নত সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে সম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি ঘোষণা করেন। এর দ্বারা বর্ণ হিন্দু, অনুন্নত হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান প্রভৃতি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্দেশ্য:– এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়কে পৃথক নির্বাচনের সুযোগ দান করে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা। 

প্রতিক্রিয়া : দলিত নেতা বি. আর. আম্বেদকর একে সমর্থন করলেও গান্ধীজী এর বিরোধিতা করেন।

উত্তর:  উপনিবেশিক বাংলার নিম্নবর্গের হিন্দুদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল নমঃশূদ্র সম্প্রদায়। পূর্ব বাংলার ঢাকা, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বাখরা গঞ্জ, মন্ময় সিংহ, বরিশাল প্রভৃতি এলাকাই ছিল এদের বসবাস। কৃষিকাজ, মাছ ধরা ইত্যাদি ছিল তাদের পেশা। দরিদ্র, অশিক্ষা, পুষ্টি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার অভাব ছিল তাদের নিত্য সঙ্গী। হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল, প্রমথরঞ্জন ঠাকুর প্রমুখের নেতৃত্বে এই অস্পৃশ্য ও অন্ত্যজরা আন্দোলন চালিয়ে যায়।

দশম শ্রেণী ইতিহাস সপ্তম অধ্যায়

৪ নম্বর প্রশ্ন উত্তর

(Madhyamik Class 10 History Chapter 7

4 Marks Question Answer)

 

1.  দলিত বিষয়ে গান্ধিজি আম্বেদকরের বিতর্ক লেখো।   ০৪

উত্তর: জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস নেতা গান্ধিজি ও ভারতের অনুন্নত সম্প্রদায়ের নেতা ভীমরাও রামজি আম্বেদকর উভয়ই অপৃশ্যতা দূরীকরনে ও দলিত শ্রেনীর উন্নয়নে উদ্যোগী হলেও উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

১) অস্পৃশ্যতা বিষয়ে মতপার্থক্য :– গান্ধিজির লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সমাজের সামাজিক ব্যধি অস্পৃশ্যতা দূর করা। অপরদিকে আম্বেদকর চেয়েছিলেন অস্পৃশ্য হিন্দুদের হিন্দু সমাজ থেকে পৃথক করে অস্পৃশ্যদের জন্য একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠীর স্বীকৃতি আদায় করতে চেয়েছিলেন।

২) হরিজন শব্দ ব্যবহারের মতভেদ :– গান্ধিজি দলিতদের হরিজন বা ইশ্বরের আপনজন বলে অভিহিত করেন। অপরদিকে, আম্বেদকর বলেন হরিজন শব্দটি অস্পৃশ্যতার একটি সুমিষ্ট নাম, তাই তিনি বোম্বাই আইন সভায় হরিজন শব্দ ব্যবহারের বিলের বিরোধিতা করেন।

৩) পৃথক নির্বাচনের দাবি নিয়ে মতভেদ :– আম্বেদকর নিম্নবর্গের হিন্দুদের বা দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি জানালে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‌্যামসে ম্যাকডোনাল্ড তা মেনে নেন। কিন্তু গান্ধিজি দলিতদের পৃথক নির্বাচনের বিরোধিতা করেন। তিনি এর বিরুদ্ধে ১৯৩২ খ্রী. ২০ সেপ্টেম্বর জারবেদা জেলে অনশন শুরু করেন।

৪) বর্ণ ব্যবস্থা নিয়ে মতভেদ :– গান্ধিজি হিন্দু সমাজের চতুবর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি দলিতদের বৃক্ষ ও ভারতীয় জাতির ভিত্তি এবং শূদ্রত্বকে ঈশ্বরের দান বলে মনে করতেন।

■ উপসংহার :— দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধিজি-আম্বেদকর বিরোধে মিমাংশা হয়নি। দলিতদের অধিকারের প্রশ্নে গান্ধিজি উদ্দোগকে আম্বেদকর পর্যাপ্ত নয় মনে করে পৃথক নির্বাচনের দাবিতে অটল থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ অনশনে গান্ধিজির প্রাণ সংশয় দেখা দিলে আম্বেদকর গান্ধিজির সঙ্গে পুনা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

2.  টীকা লেখো :– বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স।  ০৪

উত্তর: বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স হল বাংলার একটি বিপ্লবী গুপ্ত সমিতি। ১৯২৮ খ্রী. বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স নামক একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে ওঠে। এই দলের সর্বময় নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র ঘোষ এছাড়াও বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত, দীনেশ গুপ্ত প্রমুখ ছিলেন এই দলের মহান বিপ্লবী।

■ বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স-এর বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দ :– বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের আদর্শ কার্যকলাপে আকৃষ্ট হয়ে বহু নারী ও পুরুষ বিপ্লবী এর সদস্য হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সত্য গুপ্ত, গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, অনন্ত সিং, বাদল গুপ্ত, সূর্য সেন, বিনয় বসু প্রমুখ।

 (i) জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে সহ সভাপতি মোতিলাল নেহেরুকে এই দলের সদস্যরা সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানায়।

(ii) অপরেশন ফ্রিডম : বিপ্লবী কার জন্য বিভিন্ন জেলে বন্দিদের মুক্ত করার জন্য এই দল শুরু করে অপরেশন ফ্রিডম।

(iii) অলিন্দ যুদ্ধ :– বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত, দীনেশ গুপ্ত কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান করেন ১৯৩০ খ্রী. ৮ ই ডিসেম্বর। তারা কারা বিভাগের অধ্যক্ষ সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। রাইটার্স বিল্ডিং-এ ইংরেজ পক্ষের সঙ্গে এই গুলি বিনিময় অলিন্দ যুদ্ধ নামে পরিচিত।

(iv) গালিকে হত্যা :– বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের অন্যতম তরুণ বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্য, দীনেশ গুপ্তের ফাঁসির দন্ডদাতা গালিককে আলিপুর জর্জ কোটের ভিতরে গুলি করে প্রতিশোধ নেন।

(v) অন্যান্য কার্যকলাপ :– বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের সদস্য বিমল দাশগুপ্ত ও জ্যোতিজীবন ঘোষ কর্তৃক মেদিনীপুরের জেলাশাসন পেডি, প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য ও নৃপেন দত্ত কর্তৃক ডগলাস, অনাথ পাঁজা ও মৃগেন দত্ত কর্তৃক বার্জ নিহত হন।

■ বেঙ্গল ভলেনটিয়ার্স দলের অবসান : বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের বিভিন্ন নেতা ও কর্মী কারাদন্ডে দন্ডিত হন। জেলে থাকার সময়ই এই দলের নেতারা আলাপ আলোচনা করে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দল ভেঙে দেন। পরবর্তী কালে এই দলের সদস্যরা সুভাষচন্দ্র বসুর ফরওয়ার্ড দলে যোগদান করেন।

■ উপসংহার : বিংশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা বিপ্লবী আন্দোলনের পীঠস্থানে পরিনত হয়েছিল। বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স ছিল এর প্রধান চালিকাশক্তি। মহাত্মা গান্ধি এই দলের কাজকর্মকে বিদ্রূপ করে ‘পার্ক সার্কাসের সাকার্স’ বলে মন্তব্য করেন। এই দলের বিপ্লবীদের দেশপ্রেম আত্মবলিদান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক চিরস্বরণীয় অধ্যায়।

3. বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা লেখো। ০৪

উত্তর: ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে নারীরা ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করে।

■ সক্রিয় আন্দোলনে নারী :– (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘রাখীবন্ধন’ উৎসব উদ্যাপনের আয়োজন করলে মহিলারা ওই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন

(খ) বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করার দিনটিকে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ‘অরন্ধন’ দিবস হিসেবে পালন করার ডাক দিলে নারীরা ঘরে সেদিন রন্ধনকর্ম থেকে বিরত থাকেন।

 (গ) ওইদিন বিকেলে আনন্দমোহন বসু হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আপার সার্কুলার রোডে ‘মিলন মন্দির’ বা ফেডারেশন হলের ভিত্তি স্থাপন করলে নরনারী নির্বিশেষে ভাবাবেগে আপ্লুত হন।

■ বিলিতি পণ্য বর্জন : বহু নারী বিলিতি পণ্য যেমন– বিলিতি শাড়ি, কাচের চুড়ি, লবণ, ওষুধপত্র ব্যবহার বন্ধ করে এবং দেশীয় মোটা কাপড় ব্যবহার শুরু করে। ঘর থেকে বেরিয়ে তারা মিছিল-মিটিং ও পিকেটিংয়ে অংশ নেন।

■ স্বদেশি প্রচার :– স্বদেশি পণ্যের প্রচারে বিভিন্ন নারী এগিয়ে আসেন। সরলাদেবী চৌধুরানি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ স্থাপন করে স্বদেশি দ্রব্য বিপণন শুরু করেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রতাপাদিত্য উৎসব ও বীরাষ্টমী ব্রত পালন করে বাঙালি যুবকদের মধ্যে শৌর্যবীর্য, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার আদর্শ প্রচার করেন। বহু ছাত্রী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে দেশীয় নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ভরতি হয়।

■ আন্দোলনে নেতৃত্ব :– সরলাদেবী চৌধুরানি, হেমাঙ্গিনী দাস, কুমুদিনী মিত্র, লীলাবতী মিত্র, সুবলা আচার্য, নির্মলা সরকার প্রমুখ নারী জাতীয় স্তরে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেন।

4.  টীকা লেখো :– প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ০৪

উত্তর: বাংলা তথা ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার একটি বিশিষ্ট নাম। তিনি হলেন ভারতের প্রথম মহিলা শহিদ।

■ জন্ম ও শিক্ষা : প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ খ্রী. ৫মে চট্টগ্রামের ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ ও কলকাতার বেথুন কলেজে পড়েন।

(i) বিপ্লবী দলে যোগদান :– ঢাকাতে পড়ার সময় তিনি লীলা রায়-এর দীপালি সংঘের সঙ্গে যুক্ত হন। এখানে তিনি লাঠি খেলা, চোরা খেলায় প্রশিক্ষণ নেন। পরে তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবী কাজে তার জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি ফুলতার ছদ্মনাম গ্রহন করেন।

(ii) চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন :– ১৯৩০ খ্রী. ১৮ ই এপ্রিল মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টেলিগ্রাম, টেলিফোন ধ্বংস, বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করেন।

(iii) ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ :– চট্টগ্রাম শহরের উত্তরে পাহাড়তোলি স্টেশনের কাছে এই ইউরোপীয় ক্লাবটি ছিল ব্রিটিশদের প্রমোদ কেন্দ্র। সূর্য সেনের নির্দেশে ১৯৩২ খ্রী. ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার নেতৃত্বে ১৫ জন বিপ্লবীর একটি দল এই ক্লাব আক্রমণ করেন। তাদের আক্রমনে ১ জন নিহত হন ও ১১ জন আহত হন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

■ উপসংহার :— দেশমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য প্রীতিলতার আত্মত্যাগ ভারতীয় বিপ্লবীদের দারুন ভাবে প্রভাবিত করে। তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম মহিলা শহিদ। তার দেশপ্রেম, সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ভারতীয় নারীদের বিপ্লবী কার্যে উদ্বুদ্ধ করে।

5.  বিংশ শতকের ছাত্র আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। ০৪

উত্তর: বিশ শতকে ভারতের জাতীয়মুক্তি সন্ধানে অপরিহার্য অংশ হিসাবে ছাত্র আন্দোলনের সুচনা হয়। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রথম ছাত্র আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র আন্দোলনে ব্যাপক অংশগ্রহন লক্ষ করা যায়।

১) সর্বভারতীয় আন্দোলনের ছাত্র সমাজ :– বিশ শতকে ভারতে যে কয়েকটি সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। যেমন– বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন, ভারতছাড়ো আন্দোলন। তার সবকয়টিতে ছাত্র সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২) সমাজতান্ত্রিক চেতনার প্রভাব :– ভারতে ছাত্র আন্দোলনের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজতান্ত্রিক চেতনার প্রভাব। রুল বিপ্লব ভারতের ছাত্র সমাজকে প্রবলভাবে আলোকিত করেছিল। পরবর্তী কালে সেই সমাজতান্ত্রিক আদর্শের দ্বারা ভারতের ছাত্র আন্দোলন প্রভাবিত হয়।

৩) ধর্ম নিরপেক্ষ আন্দোলন :– বিশ শতকে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সেগুলি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক ও রক্ষনশীলতামুক্ত।

৪) উচ্চবিত্ত শ্রেনির প্রাধান্য :– বিশ শতকে ভারতের ছাত্র আন্দোলনে যে সমস্ত ছাত্ররা যোগদান করেছিল তাদের অধিকাংশ ছিল ধনী উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। এদের অধিকাংশ পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ছিল।

৫) সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন :– সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ভারতীয় ছাত্রসমাজ বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন গুপ্তসমিতিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে বাংলার ছাত্রসমাজ সশস্ত্র বৈপ্লবিক কাজে অংশগ্রহণ করে।

৬) সমাজ কল্যানমূলক কর্মসূচি :– রাজনৈতিক কার্যকলাপ ছাড়াও দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অস্পৃশ্যতা নিবারণ ইত্যাদিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

■ উপসংহার :— ১৯০৫ খ্রী. বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ও কানাইল সার্কুলারকে কেন্দ্র করে যে ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে গান্ধিজির নেতৃত্বে তা আরও ব্যাপকতা ধারণ করে। সমগ্র বিংশ শতকে জুড়ে সারা ভারতের ছাত্র আন্দোলনে যে বিভিন্ন পর্যায় দেখা গিয়েছিল তা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে এক বিশিষ্ট মাত্রা এনে করেছিল।

6. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ভারতের ছাত্রদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করো। ০৪

উত্তর: ভারতে বাংলা, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের ছাত্রদের মধ্যে বিপ্লবী আন্দোলনের সর্বাধিক প্রভাব পড়ে।

১) বাংলা :– বাংলায় অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর গোষ্ঠী, ব্রতী সমিতি, সাধনা সমিতি, সুহৃদ সমিতি প্রভৃতি বিভিন্ন বিপ্লবী গুপ্তসমিতি স্থাপিত হয়। হেমচন্দ্র কানুনগো, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকি, বাঘাযতীন, সূর্য সেন, বিনয়-বাদল-দীনেশ প্রমুখ বিপ্লবী সশস্ত্র নাশকতামূলক কাজকর্মে যুক্ত ছিলেন।

২) পাঞ্জাব :– পাঞ্জাবে বহু ছাত্র বিপ্লবী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। লালা হরদয়াল বৈপ্লবিক কাজকর্ম শুরু করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নির্বাসন দেয়। এরপর তিনি আমেরিকায় গদর পার্টি নামে বিপ্লবী দল প্রতিষ্ঠা করেন। কোমাগাতামারু নামক জাহাজে করে কলকাতায় আসার সময় এই দলের ২২ জন সদস্য পুলিশের গুলিতে নিহত হন। লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯১৫ খ্রি.) দোষী সাব্যস্ত করে পাঞ্জাবের বহু বিপ্লবীকে ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিপ্লবী ভগৎ সিং, রাজগুরু ও আজাদ অত্যাচারী পুলিশ অফিসার সন্ডার্সকে হত্যা (১৯২৮ খ্রি.) করেন। পরের বছর ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লি আইনসভায় বোমা নিক্ষেপ করেন।

৩) মহারাষ্ট্র :– মহারাষ্ট্রের বাল সমাজ, আর্যবান্ধব সমাজ প্রভৃতি গুপ্ত বিপ্লবী সমিতি গড়ে ওঠে। বাসুদেব বলবন্ত ফাদকে গোপনে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলে যুবকদের বিপ্লবী আদর্শে উদ্‌বুদ্ধ করেন। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি রামোসিস সম্প্রদায়কে অস্ত্রশিক্ষা দেন। বালগঙ্গাধর তিলক মহারাষ্ট্রে ‘শিবাজি উৎসব’ ও ‘গণপতি উৎসব’ চালু করে যুবকদের মধ্যে বিপ্লবের ভাবধারা প্রচার করেন। দামোদর চাপেকর ও বালকৃয় চাপেকর নামে দুই ভাই মি, র‍্যান্ড ও তাঁর সহকারী আয়ার্স্টকে হত্যা (১৮৯৭ খ্রি.) করেন। দামোদর বিনায়ক সাভারকার ‘মিত্রমেলা’ ও ‘অভিনব ভারত’ নামে সমিতি প্রতিষ্ঠা করে মহারাষ্ট্রে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে গতি আনেন।

   উপসংহার :— ভারতের ছাত্ররা এদেশের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে। তাদের উদ্যোগে বাংলা, মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাবে বিপ্লবী আন্দোলন সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

7.  টীকা লেখো : দীপালি সংঘ। ০৪

উত্তর: সুভাষচন্দ্র বসুর ঘনিষ্ঠ লীলা নাগ (রায়) ১৯২৩ খ্রী.১২ জন মহিলা সহযোগীকে নিয়ে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন দীপালি সংঘ। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, বীনা দাস, শান্তি দাস প্রমুখ ছিলেন এই সংঘেরই সদস্যা। তাঁর সহকর্মী রেনুকা সেনের প্রচেষ্টায় কলকাতায় এই প্রতিষ্ঠানের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা হয়। জয়শ্রী ছিল এই পত্রিকার মুখপত্র।

■ দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য :– (i) নারীদের বিপ্লবী আন্দোলন পরিচালনার জন্য যোগ্য করে তোলা (ii) তাদের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি করা (iii) স্বদেশপ্রেম বৃদ্ধি করা (iv) নারী জাগরণ ঘটানো (v) নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ঘটানো ছিল এই সংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
  এই সংঘের মাধ্যমে ভারতে বৈপ্লবিক কার্যে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

■ প্রশিক্ষণ :– প্রকাশ্যে এই সংঘটি ছিল শরীরচর্চা ও নারীশিক্ষা বিকাশের জন্য। কিন্তু এই সংঘের মাধ্যমে বিপ্লবী আদর্শ প্রচার করা হতো। নারীদের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধির জন্য এখানে নিয়মিত লাঠি খেলা, শরীরচর্চা, অস্ত্রচালানো ইত্যাদির প্রশিক্ষন দান করা হতো।

■ শিক্ষার প্রসার :– তাঁর উদ্দোগ্যে মেয়েদের হাতের কাজে, শিল্প ও অন্যান্য কাজে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়। এই সংঘের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন স্নানে ১২ টি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দীপালি স্কুল, নারী শিক্ষা মন্দির, শিক্ষা ভবন প্রভৃতি ইংরাজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়।

■ দীপালি প্রদর্শনী :– দীপালি সংঘের প্রচেষ্টায় ১৯২৪ খ্রী. চালু হয় দীপালি প্রদর্শনী। এতে বাংলার নারীরা খুঁজে পায় মুক্তি সংগ্রামের দিশা।

উপসংহার :— ভারতের নারী মুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে, বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে লীলা রায় এবং তার দলের গুরুত্ব অপনি অপরিসীম। ১৯২৬ খ্রী. তিনি গড়ে তোলেন দীপালি ছাত্রী সংঘ। এটি ছিল ভারতের প্রথম ছাত্রী প্রতিষ্ঠান। দীপালি সংঘের হাত ধরেই বহু নারী বিপ্লবী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা লাভ করে।

8.   বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা লেখো।  ০৪

উত্তর: ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদের জন্য বিংশ শতকের প্রথমদিকে ভারতের বিপ্লবীরা সশস্ত্র যে প্রচেষ্টা চালায় তাকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন বলা হয়। বিংশ শতকে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে বিভিন্ন নারীও যুক্ত হয়ে পড়েন। তারাও ভারতমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য চরম অত্যাচার সহ্য করেছেন, কারাবরণ করেছেন এমনকী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

১) দীপালি সংঘ :– ১৯২৩ খ্রী. লীলা নাগ ঢাকায় নারীদের বিপ্লবে সামিল করার উদ্দেশ্যে দিপালী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংঘে সদস্যদের লাঠি খেলা, শরীরচর্চা, অস্ত্রচালনো প্রভৃতি শিক্ষা দেওয়া হত।

২) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার : প্রীতিলতা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন, জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধ, ধলঘাটের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৩২ খ্রী. ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি পটাশিয়াম সাইনাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। ইনিই ছিলেন প্রথম মহিলা শহিদ।

৩) কল্পনা দত্ত : কল্পনা দত্ত ছিলেন ছাত্রী সংঘ ও রিপাবলিক্যান আর্মির সদস্যা, তিনি বিপ্লবীদের পালানোর সুযোগ করে দিতে কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে বিষ প্রয়োগ করেন। তিনিও ইউরোপিয় ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব পান কিন্তু আক্রমনের আগেই ধরা পড়েন এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত করেন।

৪) বীনা দাস :– বীনা দাস ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসুর শিক্ষাগুরু বেণীমাধব দাসের কন্যা। ১৯৩২ খ্রী. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় ফলে গ্রেপ্তার হন এবং ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

৫) ঝাঁসি বাহিনী :– আজাদ হিন্দ ফৌজের নারীবাহিনীর নাম ছিল ঝাঁসি বাহিনী। এই বাহিনীর নেত্রী ছিলেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন। ১৯৪৪ খ্রী. আজাদ হিন্দ বাহীনি ব্রিটিশদের হাতে পরাজিত হলে লক্ষ্মী স্বামীনাথন গ্রেপ্তার হন।  এছাড়াও সুনীতি চৌধুরি, শান্তি দাস, উজ্জ্বলা মজুমদার প্রমুখ সশস্ত্র নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩১ খ্রী. ১৪ ই ডিসেম্বর সুনীতি চৌধুরি ও শান্তি দাস জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেনকে হত্যা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

■ উপসংহার :— বাংলা তথা ভারতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন অপরিসীম হলেও মূলত বাংলার নারীরা বিপ্লবী আন্দোলনে অনেক বেশি সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেনি। এবং এই আন্দোলন ছিল শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সর্বস্তরের নারীরা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি।

মাধ্যমিক দশম শ্রেণী ইতিহাস

সপ্তম অধ্যায় ৮ মার্কস প্রশ্ন উত্তর

(Class 10 History Chapter 7

8 Marks Question Answer)

 

1.  বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন সম্পর্কে লেখো।   ০৮

উত্তর: নমঃশূদ্র হল বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড়ো জনগোষ্ঠী, ঔপনিবেশিক শাসনকালে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে দলিত সম্প্রদায় নিজ নিজ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলে। এগুলির মধ্যে বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন ছিল অন্যতম। শ্রী হরিচাদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে নমঃশূদ্ররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেন।

■ নমঃশূদ্র আন্দোলনের কারণ :— বিভিন্ন কারণে নমঃশূদ্ররা আন্দোলন শুরু করেছিল।

১) সামাজিক মর্যাদা হীনতা :– নমঃশূদ্ররা নিম্ন সম্প্রদায়ভুক্ত বলে তাদের ঘৃণার চোখে দেখা হত। তাদেঁর অস্পৃশ্য বলে মনে করা হত। ১৮৭২ খ্রী. ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট নমঃশূদ্র নেতার মায়ের সাধ্য অনুষ্ঠানে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা যোগ দান করতে অস্বীকার করলে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

২) দারিদ্রতা :– নমঃশূদ্ররা অন্যের কৃমিভূমিতে মজুরের কাজ, মাছ ধরা, তাঁত বোনা, অন্যের বাড়ি দীনমুজুরের কাজ করা প্রভৃতি নিম্ন আয়ের পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এইসব কারণে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের মনে ক্ষোভ জমে ছিল।

৩) সাম্প্রদায়িকতা :– শুধু উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা নয় মুসলমান সম্প্রদায়ও নমঃশূদ্রদের ওপর চরম অত্যাচার চালাত বল-পূর্বক নমঃশূদ্রদের ফসল কেটে নিতে, ফসল নষ্ট করত, গোরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি কেড়ে নিয়ে যেতে আবার বাঁধা দিলে তাদের ওপর চরম অত্যাচার করত।

৪) বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনা :– নিম্নসম্প্রদায়ভুক্ত বলে সমাজের সকলের সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ, চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা লাভ ইত্যাদি থেকে তারা ছিল বঞ্চিত। ফলে অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতির জন্য তাদের জীবন ছিল অন্ধকারাছন্ন।

■ নেতৃত্ব :— নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের সামাজিক মর্যাদা আদায় ও অর্থনৈতিক শোষন থেকে মুক্তির জন্য কয়েকজন নেতার আবির্ভাব ঘটে। এরা হলেন প্রভু জগবন্ধু, শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর, শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর এছাড়াও মুকুন্দ বিহারী মল্লিক, বিরাটচন্দ্র মন্ডল, যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল প্রমুখ।

■ নমঃশূদ্রদের সামাজিক আন্দোলন : নমঃশূদ্ররা তাদের অসম্মানজনক চন্ডাল নামের পরিবর্তে নমঃশূদ্র নামে অনুমোদন চেয়েছিল। নমঃশূদ্ররা সমাজের উঁচুনীচু বিভেদ দূর করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতীক গ্রহন করতে থাকে –

(i) তারা নিজেদের ব্রাহ্মন বলে দাবি করে এবং তার সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করে।
(ii) তারা ব্রাহ্মনদের মতো উপবীত ধারণ করা শুরু করে।
(iii) পরিবারের মহিলাদের বাজার যাওয়া বন্ধ করে।
(iv) ১১ দিন অশৌচ পালন করে।

■ মূল্যায়ন : নমঃশূদ্র আন্দোলন দলিত আন্দোলন হিসাবে শুরু হলেও তা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। নমঃশূদ্ররা তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য তাদের আন্দোলনকে কখনও জাতি ভিত্তিক কখনও সাম্প্রদায়িক আবার কখনও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে পরিচালিত হয়েছিল।

 

আজকের পোস্টে দশম শ্রেণী ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায় ‘বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন’ থেকে ২/৪/৮ মার্কস এর বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল যেগুলি   পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করবে।  

 

SOURCE-EDT

     ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top