Biometric Attendance:
স্কুল পড়ুয়াদের বায়োমেট্রিক হাজিরা!
উপস্থিতি কম হলে বসতে পারবে না পরীক্ষায়
Published on:
রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠন ও পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দপ্তর। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের ১১ তম জেলা সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এই নতুন পরিকল্পনা ও নীতিগুলির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
একনজরে »
1 West Bengal Govt School Biometric Attendance: স্কুল পড়ুয়াদের বায়োমেট্রিক হাজিরা
1.1 উপস্থিতি কম থাকলে পড়ুয়াদের সমস্যা
2 পরিকাঠামো ও ল্যাব উন্নয়নে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ
West Bengal Govt School Biometric Attendance:
স্কুল পড়ুয়াদের বায়োমেট্রিক হাজিরা
রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে পঠনপাঠনের পরিবেশ উন্নত করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমেছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে প্রবেশের সময় এবং বের হওয়ার সময় ডিজিটাল আঙুলের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নথিভুক্ত করবে। এতে কোনো পড়ুয়া কখন স্কুলে আসছে ও বের হচ্ছে, তার সঠিক সময় সরাসরি সরকারি তথ্যভান্ডারে জমা হয়ে যাবে।
এছাড়া ম্যানুয়ালি রোল কল করার প্রয়োজন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সময়ের অপচয় বন্ধ হবে এবং প্রশাসনিক কাজের চাপ কমবে। ফলে শিক্ষকরা পঠনপাঠনে আরও বেশি মনোনিবেশ করার সুযোগ পাবেন।
উপস্থিতি কম থাকলে পড়ুয়াদের সমস্যা
স্কুলে নিয়মিত না এসে বা উপস্থিতি কম থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
-
পরীক্ষায় বসতে বাধা:প্রধান সমস্যা হলো, শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই ন্যূনতম উপস্থিতি না থাকলে পড়ুয়াদের বার্ষিক বা বোর্ডের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।
-
স্কলারশিপ ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত: এছাড়া, পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকলে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা, স্কলারশিপ বা শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে প্রতিদিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার ফলে পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়া এবং বিষয়ভিত্তিক ধারণায় ঘাটতি তৈরি হওয়ার মতো একাডেমিক ক্ষতি তো থাকছেই।
অবশ্যই জানুন! স্কুলে মোবাইল ব্যান! শিক্ষা সংসদের নতুন নির্দেশ, কী কী মানতে হবে ছাত্রছাত্রীদের?
পরিকাঠামো ও ল্যাব উন্নয়নে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ
স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নতি করার লক্ষ্যে এবং রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা দূর করতে এবং সেগুলিকে আধুনিক করে তুলতে রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর (Banglar Shiksha)একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে:
-
১০০০ স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাব: রাজ্যের ১,০০০টি স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ল্যাব গড়ে তোলা হবে।
-
স্কুল পিছু ২০ লক্ষ টাকা: এই ল্যাবগুলি তৈরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য বিদ্যালয় পিছু ২০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
জেনে রাখুন:Syllabus Curriculum: প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক সিলেবাসে পরিবর্তন? কমিটি গঠন করল সরকার
সার্বিকভাবে, বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে একদিকে যেমন স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর থেকে প্রশাসনিক কাজের চাপও অনেকটাই লাঘব হবে। সরকারের এই আধুনিক পদক্ষেপ রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।





