২০২৭ থেকেই প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু, পড়ুয়াদের আর যেতে হবে না হাইস্কুলে

 

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যজুড়ে ২০২৭ থেকেই প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু করার উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এজন্য রাজ্যের যেসমস্ত সরকারি এবং সরকার-পোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলির বিস্তারিত তালিকা চেয়ে সমস্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে বিকাশ ভবন। যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়, তবে বিরাট সুবিধা হতে চলেছে রাজ্যের প্রাথমিক স্তরে পড়ুয়া ছোটো ছোটো ছাত্রছাত্রীদের। কারণ চতুর্থ শ্রেণি পাশের পরই তাদের হাইস্কুলে যেতে হবে না, আরও বেশিদিন তারা নিজের স্কুলে পড়াশোনা করতে পারবে।

২০২৭ থেকেই প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু

দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা অধিকার আইনের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক স্তরে পঞ্চম শ্রেণিকে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা চলছিল। বর্তমানে রাজ্যের বহু উচ্চ প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ানো হলেও বহু প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাথমিক স্কুলে কেবল চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। ফলে চতুর্থ শ্রেণি পাস করার পর অনেক পড়ুয়াকে দূরের হাইস্কুলে যেতে হয়, যা ড্রপআউট বা স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ায়। পড়ুয়াদের এই অসুবিধার কথা চিন্তা করেই এবার রাজ্যজুড়ে সরকারিভাবে প্রাথমিকেই পঞ্চম শ্রেণি চালুর প্রস্তাব রেখেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

এতে পড়ুয়াদের কি কি সুবিধা হবে?

  • প্রত্যন্ত এলাকার ছোট ছোট পড়ুয়াদের দূরের হাইস্কুলে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।

  • প্রাথমিক স্তর শেষ করেই মাধ্যমিক স্তরে মসৃণভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

  • এছাড়াও ছোটো থেকে এক জায়গায় পড়ার পর হঠাৎ করে বড় স্কুলে যাওয়া ছোটো ছোটো পড়ুয়াদের জন্য খানিকটা অস্বস্তিকর এবং ভীতিকর। প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণি চালু হলে তারা আরো কিছুদিন চেনা পরিবেশেই পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

  • সার্বিক স্কুলছুটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

 

কোন কোন তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে?

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলির কাছে পাঠানো নির্দিষ্ট আবেদনপত্রে স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। তালিকায় মূলত যে বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে:

  • বিদ্যালয়ের নাম, সঠিক ঠিকানা এবং সরকারি ইউ-ডাইস (UDISE) কোড।

  • মোট শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা এবং সেগুলির বর্তমান পরিকাঠামোগত অবস্থা।

  • বর্তমানে প্রি প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠরত মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা।

  • স্কুলে কর্মরত স্থায়ী ও পার্শ্বশিক্ষকের সংখ্যা এবং অনুমোদিত পদের বিবরণ।

  • বিশুদ্ধ পানীয় জল, পৃথক শৌচাগার (ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য), বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মিড-ডে মিলের পরিকাঠামো।

 

কবে এই সুবিধা চালু হবে?

রাজ্যের সমস্ত জেলার DPSC কে যে সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা সম্ভব, তাদের সঠিক তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তথ্য বিকাশ ভবনে জমা দেওয়ার জন্য ২১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পঞ্চম শ্রেণি চালু করার কাজ শুরু হবে।

 

 

SOURCE-EXB

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

 

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top