Class 10 জীবন বিজ্ঞান
‘অভিব্যক্তি এবং অভিযোজন’ প্রশ্ন উত্তর
Life Science Chapter 4 Question Answer
মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় ‘অভিব্যক্তি এবং অভিযোজন’ (Class 10 Life Science Chapter 4 Question Answer) এর মধ্যে পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি কীভাবে হলো, ডারউইন বা ল্যামার্কের মতবাদ থেকে শুরু করে উট, ক্যাকটাস নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের পোস্টে এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা One Liner প্রশ্ন ও উত্তর আলোচনা করা হল।
বোর্ড: বিষয়বস্তু
1 মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান ‘অভিব্যক্তি এবং অভিযোজন’ (চতুর্থ অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর
1.1 ক্লাস 10 জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর One Liner
1.2 অভিব্যক্তি এবং অভিযোজন Class 10 অনুশীলনী (One Liner)
2 ক্লাস 10 জীবন বিজ্ঞান ‘অভিব্যক্তি ও অভিযোজন’ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Life Science Chapter 4 Question Answer
ক্লাস 10 জীবন বিজ্ঞান
‘অভিব্যক্তি এবং অভিযোজন’ (চতুর্থ অধ্যায়)
অভিব্যক্তি (Evolution)
★ যে ধীর ও গতিশীল প্রক্রিয়ায় সরলতম পূর্বপুরুষ থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল জীবের উদ্ভব হয়েছে, তাকে বলে: অভিব্যক্তি বা বিবর্তন (Evolution)।
★ ল্যাটিন শব্দ ‘Evolvere’ থেকে উৎপত্তি হয়েছে: ইভোলিউশন বা বিবর্তন কথাটির।
★ প্রথম ‘Evolvere’ বা ‘ইভোলিউশন’ কথাটি ব্যবহার করেন: হার্বার্ট স্পেন্সার।
★ প্রাণের উৎপত্তির জৈব রাসায়নিক মতবাদের প্রবক্তা: ওপারিন এবং হ্যালডেন।
★ জীবনের উৎপত্তির আদি পর্যায়কে কী বলা হয়: প্রাথমিক বা রাসায়নিক বিবর্তন (Chemo-evolution)।
★ ওপারিনের মতে, আদি পৃথিবীর সমুদ্রের জলে জটিল জৈব যৌগের মিশ্রণকে বলা হয়: উষ্ণ লঘু সুপ বা হট ডাইলুট সুপ (Hot Dilute Soup)।
★ ওপারিনের মতে, হট ডাইলুট সুপ থেকে লিপিড, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট দিয়ে গঠিত প্রথম যে নির্জীব কোষ সৃষ্টি হয়েছিল: কোয়াসারভেট (Coacervate)।
★ কোয়াসারভেটের সাথে নিউক্লিক অ্যাসিড যুক্ত হয়ে যে প্রথম কোষীয় গঠন তৈরি হয়েছিল: প্রোটোসেল (Protocell) বা আদিকোষ।
★ ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদের পরীক্ষামূলক প্রমাণ করেছিলেন: মিলার ও উরে (Miller and Urey)।
★ মিলার ও উরের পরীক্ষায় কোন কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল: মিথেন, অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন (২:২:১ অনুপাতে) এবং জলীয় বাষ্প।
★ মিলার ও উরের পরীক্ষায় উৎপন্ন প্রধান জৈব যৌগ দুটি হল: গ্লাইসিন এবং অ্যালানিন (অ্যামাইনো অ্যাসিড)।
★ ঘোড়ার বিবর্তন ধারায় আদিমতম পূর্বপুরুষ হল: ইওহিপ্পাস (Eohippus)।
★ ইওহিপ্পাসের সময়কাল ছিল: ইওসিন যুগ (প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর আগে)।
★ আধুনিক ঘোড়ার নাম: ইকুয়াস (Equus)।
★ ঘোড়ার বিবর্তন ধারায় ইওহিপ্পাস ও ইকুয়াসের মধ্যবর্তী একটি পর্যায় হল: মেরিচিপ্পাস (Merychippus)।
★ বিবর্তনের পথে ঘোড়ার কোন আঙুলটি ধীরে ধীরে বড় ও শক্ত হয়ে খুঁড়ে পরিণত হয়েছে: তৃতীয় আঙুল (Middle finger)।
★ ঘোড়ার বিবর্তন ধারার সঠিক ক্রমটি হল: ইওহিপ্পাস → ওরিওহিপ্পাস → মেসোহিপ্পাস → মেরিচিপ্পাস → প্লায়োহিপ্পাস → ইকুয়াস।
★ উৎপত্তি ও গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা—এমন অঙ্গকে বলে: সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous Organ)।
★ সমসংস্থ অঙ্গের উদাহরণ: পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, সিলের ফ্লিপার এবং মানুষের হাত (সবই তিমি, ঘোড়া, বিড়াল, মানুষের অগ্রপদ)।
★ সমসংস্থ অঙ্গ কোন ধরণের বিবর্তনকে নির্দেশ করে: অপসারী বিবর্তন (Divergent Evolution)।
★ উৎপত্তি ও গঠন আলাদা কিন্তু কাজ এক—এমন অঙ্গকে বলে: সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous Organ)।
★ সমবৃত্তীয় অঙ্গের উদাহরণ: পাখির ডানা এবং পতঙ্গের ডানা।
★ সমবৃত্তীয় অঙ্গ কোন ধরণের বিবর্তনকে নির্দেশ করে: অভিসারী বিবর্তন (Convergent Evolution)।
★ নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ: মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স, পুচ্ছাস্থি (কক্সিস), কানের পেশি, নিক্টিটেটিং পর্দা।
★ পাখির ডানায় পালকের সংখ্যা ও তার নাম: ২৩টি পালক, যা রেমিজেস (Remiges) নামে পরিচিত।
★ পাখির লেজে পালকের সংখ্যা ও তার নাম: ১২টি পালক, যা রেক্ট্রিসেস (Rectrices) নামে পরিচিত।
★ জীবের হূৎপিণ্ডের তুলনামূলক গঠন কোন মতবাদকে সমর্থন করে: অভিব্যক্তি বা বিবর্তনবাদকে।
অভিব্যক্তি এবং অভিযোজন
Class 10 অনুশীলনী (One Liner)
অভিযোজন (Adaptation)
★ পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য জীবের আকারগত, গঠনগত ও ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তনকে বলে: অভিযোজন (Adaptation)।
★ পদ্মগাছের কোন অংশ বাতাস পূর্ণ থাকে: পত্রবৃত্ত ও কাণ্ড (Vascular Bundle lacks vessels but contains air cavities)।
★ মাছের জলের গভীরতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী অঙ্গ: পটকা (Swim Bladder)।
★ পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত গ্যাস উৎপাদনকারী গ্রন্থি: রেড গ্রন্থি (Red Gland)।
★ পটকার পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত গ্যাস শোষণকারী গ্রন্থি: রেটিয়া মিরাবিলিয়া (Rete Mirabile)।
★ পায়রার বায়ুখল্লির সংখ্যা কত: ৯টি (Helps in respiration and buoyancy)।
★ পায়রার কোন পেশি ওড়ার জন্য সবথেকে শক্তিশালী: পেক্টোরালিস মেজর (Pectoralis Major)।
★ ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় কারণ: বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য।
★ ক্যাকটাসের চ্যাপ্টা ও সবুজ কাণ্ডকে কী বলে: পর্ণকাণ্ড বা ফাইলোক্ল্যাড (Phylloclade)।
★ রুই মাছের ভারসাম্য রক্ষাকারী ও দিক পরিবর্তনে সাহায্যকারী পাখনা: বক্ষ পাখনা ও শ্রোণী পাখনা (ভারসাম্য); পুচ্ছ পাখনা (দিক পরিবর্তন)।
★ একটি মেসোফাইট (Mesophyte) উদ্ভিদের উদাহরণ: আম, জাম (plants that live in moderate water conditions)।
★ একটি জেরোফাইট (Xerophyte) উদ্ভিদের উদাহরণ: ফণীমনসা (Cactus)।
★ সুন্দরী গাছ কোন ধরণের উদ্ভিদ: হ্যালোফাইট (Halophyte) বা লবনাম্বু উদ্ভিদ।
★ সুন্দরী গাছের শ্বাসমূলের কাজ কী: মাটি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করা (for respiration)।
★ কোন উদ্ভিদে ঠেসমূল দেখা যায়: কেওড়া, সুন্দরী (plants growing in marshy soil)।
★ সুন্দরী গাছের বীজের অঙ্কুরোদগমকে কী বলে: জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous Germination)।
★ মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কাকে: উট (Camel)।
★ উটের কুঁজে কী সঞ্চিত থাকে: চর্বি বা ফ্যাট (which produces water upon oxidation)।
★ উট দীর্ঘক্ষণ জল না খেয়ে থাকতে পারে কারণ: এর পাকস্থলীতে জল সঞ্চয়কারী কোশ থাকে এবং এটি ফ্যাট জারণে জল পায়।
★ সিম্পাঞ্জিরা কাঠ বা পাথরের টুকরো ব্যবহার করে কী করার জন্য: উইপোকা শিকার করার জন্য।
★ সিম্পাঞ্জিরা কোন উদ্ভিদকে ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করে: এস্পিলিয়া (Aspilia rudis) উদ্ভিদের পাতা।
★ মৌমাছিদের খাবারের সন্ধানে নৃত্য বা নাচকে কী বলে: ওয়্যাগল নৃত্য (Waggle Dance)।
★ মৌমাছির নাচের ভঙ্গী দেখতে কেমন: ইংরেজি ‘8’ অক্ষরের মতো।
★ ওয়্যাগল নাচের মাধ্যমে মৌমাছিরা কী তথ্য আদান-প্রদান করে: খাবারের অবস্থান ও দূরত্ব।
★ ‘অনুকৃতি’ (Mimicry) অভিযোজন লক্ষ্য করা যায় কোন প্রাণীতে: ক্যামেলিয়ন (Chameleon)।
‘অভিব্যক্তি ও অভিযোজন’ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
Class 10 Life Science Chapter 4 Question Answer
১. মিলার ও উরের পরীক্ষা (জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি)। ⭐⭐⭐
উত্তর: বিজ্ঞানী মিলার ও উরে পরীক্ষাগারে আদিম পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রমাণ করেন যে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব যৌগের সৃষ্টি সম্ভব।
উপকরণ: মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3) এবং হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস ২:২:১ (বা কোনো বইতে ২:১:২) অনুপাতে এবং জলীয় বাষ্প।
ব্যবস্থা: টাংস্টেন ইলেকট্রোডের সাহায্যে ৭৫০০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ এবং ফুটন্ত জলের ব্যবস্থা।
ফলাফল: পরীক্ষার শেষে ঘনীভবন যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তরলে গ্লাইসিন, অ্যালানিন প্রভৃতি অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা প্রোটিন গঠনের মূল উপাদান।
সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে, রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল।
২. ল্যামার্কের তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। ⭐⭐
উত্তর: ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র: জীব তার দেহের যে অঙ্গটি দিনের পর দিন বেশি ব্যবহার করে, সেটি সুগঠিত ও সবল হয়। আর যে অঙ্গের ব্যবহার কমে যায়, সেটি কালক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত বা লুপ্ত হয়।
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ: জীবদ্দশায় অর্জিত এই পরিবর্তনগুলি পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটায়।
৩. ডারউইনের তত্ত্ব (প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ)। ⭐⭐⭐
উত্তর: ডারউইনের তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্যগুলি হলো:
১. অত্যাধিক হারে বংশবৃদ্ধি: সকল জীবেরই জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করার প্রবণতা থাকে।
২. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: খাদ্য ও বাসস্থানের সীমাবদ্ধতার জন্য জীবকে সংগ্রাম করতে হয় (অন্তঃপ্রজাতি, আন্তঃপ্রজাতি ও পরিবেশগত)।
৩. ভেদ বা প্রকরণ (Variation): এই সংগ্রামের ফলে জীবের মধ্যে কিছু অনুকূল বা প্রতিকূল পরিবর্তন আসে।
৪. যোগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the Fittest): অনুকূল ভেদযুক্ত জীবরাই কেবল প্রকৃতিতে টিকে থাকে।
৫. প্রাকৃতিক নির্বাচন: প্রকৃতি যোগ্যতম জীবকে নির্বাচন করে এবং তারা নতুন প্রজাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৪. জিরাফের গলা লম্বা হওয়া নিয়ে ল্যামার্ক ও ডারউইনের মতবাদ। ⭐⭐
উত্তর: ল্যামার্কের মত: জিরাফের পূর্বপুরুষের গলা ছোট ছিল। উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য গলা ক্রমাগত প্রসারিত করার ফলেই (ব্যবহারের সূত্র) তাদের গলা লম্বা হয়েছে এবং তা বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়েছে।
ডারউইনের মত: জিরাফের পূর্বপুরুষদের মধ্যে ছোট, মাঝারি ও লম্বা—সব ধরণের গলাই ছিল (প্রকরণ)। খাদ্যাভাবের সময় কেবল লম্বা গলার জিরাফরাই উঁচু গাছের পাতা খেতে পেরে বেঁচে থাকে (প্রাকৃতিক নির্বাচন) এবং ছোট গলার জিরাফরা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৫. ঘোড়ার বিবর্তনের ধাপ ও বৈশিষ্ট্য। ⭐
উত্তর: ধারাবাহিকতা: ইওহিপ্পাস → মেসোহিপ্পাস → মেরিচিপ্পাস → প্লায়োহিপ্পাস → ইকুয়াস (আধুনিক ঘোড়া)।
প্রধান পরিবর্তন:
১. উচ্চতা বৃদ্ধি (শেয়াল আকৃতি থেকে বর্তমান আকৃতি)।
২. পায়ের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস (৪টি/৩টি থেকে ১টি খুরে রূপান্তর)।
৩. পেষক দাঁতের আকার বৃদ্ধি।
৬. সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের পার্থক্য (বিবর্তনের প্রমাণ)। ⭐⭐⭐
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য / বিষয় |
সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous Organs) |
সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous Organs) |
|---|---|---|
১. উৎপত্তি ও গঠন |
এদের উৎপত্তি ও ভ্রূণতত্ত্বীয় গঠনগত ভিত্তি এক (একই পূর্বপুরুষ থেকে আগত)। |
এদের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠনগত ভিত্তি সম্পূর্ণ আলাদা। |
২. কাজের প্রকৃতি |
ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজনের কারণে এদের কাজ আলাদা হয়। |
একই পরিবেশে টিকে থাকার প্রয়োজনে এদের কাজ একই প্রকৃতির হয়। |
৩. বিবর্তনের ধরন |
এটি অপসারী বিবর্তন (Divergent Evolution) নির্দেশ করে। |
এটি অভিসারী বিবর্তন (Convergent Evolution) নির্দেশ করে। |
৪. উদাহরণ |
পাখির ডানা, তিমির ফ্লিপার এবং মানুষের হাত। |
পাখির ডানা ও পতঙ্গের (প্রজাপতি) ডানা। |
৭. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কীভাবে বিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে? ⭐
উত্তর: জীবদেহে উপস্থিত যে অঙ্গগুলি পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় ছিল কিন্তু বর্তমানে কার্যহীন ও ক্ষয়প্রাপ্ত, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে (যেমন- মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স)।
সাক্ষ্য: এটি প্রমাণ করে যে, এই অঙ্গটি আমাদের পূর্বপুরুষদের (তৃণভোজী প্রাণীদের) দেহে সক্রিয় ছিল এবং আমরা সেই একই পূর্বপুরুষ থেকেই উদ্ভূত হয়েছি।
৮. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের গঠনগত বিবর্তন। ⭐⭐
উত্তর: প্রাণীদের জটিলতা বাড়ার সাথে সাথে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা বেড়েছে:
-
মাছ: ২ প্রকোষ্ঠ (১টি অলিন্দ, ১টি নিলয়) → শুধু দূষিত রক্ত প্রবাহিত হয় (ভেনাস হার্ট)।
-
উভচর: ৩ প্রকোষ্ঠ (২টি অলিন্দ, ১টি নিলয়) → মিশ্র রক্ত প্রবাহিত হয়।
-
সরীসৃপ: অসম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠ (ব্যতিক্রম কুমির)।
-
পাখি ও স্তন্যপায়ী: সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠ → দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত সম্পূর্ণ আলাদা থাকে।
সিদ্ধান্ত: এটি প্রমাণ করে যে সরলতম মেরুদণ্ডী থেকেই জটিল মেরুদণ্ডী প্রাণীর উদ্ভব হয়েছে।
৯. বিভিন্ন জীবের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য।
ক) ক্যাকটাস (লবণাম্বু উদ্ভিদ): ⭐⭐⭐
-
পাতা: বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।
-
কাণ্ড: কাণ্ড রসালো, সবুজ ও চ্যাপ্টা (পর্ণকাণ্ড) হয়েছে সালোকসংশ্লেষ ও জল সঞ্চয়ের জন্য। দেহত্বকে পুরু কিউটিকল ও মিউসিলেজ থাকে।
খ) সুন্দরী গাছ (লবণাম্বু উদ্ভিদ): ⭐⭐⭐
-
শ্বাসমূল (Pneumatophore): লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় মাটি ফুঁড়ে মূল উপরে উঠে আসে, এতে শ্বাসছিদ্র বা নিউমাটৌথোড থাকে।
-
লবণ গ্রন্থি: অতিরিক্ত লবণ ত্যাগ করার জন্য পাতার গোড়ায় লবণ গ্রন্থি থাকে।
গ) রুই মাছের পটকা (Swim Bladder):
-
এটি মাছকে জলে ভাসতে ও ডুবতে সাহায্য করে (আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ)।
-
রেড গ্রন্থি (Red Gland): গ্যাস উৎপন্ন করে মাছকে ভাসায়।
-
রেটি মিরাবিলি (Rete Mirabile): গ্যাস শোষণ করে মাছকে ডুবতে সাহায্য করে।
ঘ) পায়রার বায়ুথলি (Air Sacs):
-
ফুসফুসের সাথে ৯টি বায়ুথলি যুক্ত থাকে।
-
এটি দেহকে হালকা করে উড়তে সাহায্য করে।
-
এটি দ্বি-শ্বসন (Double Respiration)-এ সাহায্য করে, অর্থাৎ ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেনের যোগান দেয়।
ঙ) শিম্পাঞ্জির আচরণ (বুদ্ধিমত্তা): ⭐
-
এরা উইপোকার ঢিবিতে কাঠি ঢুকিয়ে উইপোকা বের করে খায়।
-
শক্ত পাথর বা কাঠকে ‘হাতুড়ি’ ও ‘নেহাই’ হিসেবে ব্যবহার করে বাদাম ভাঙে।
-
পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে ভেষজ পাতা খেয়ে নিজেকে সারিয়ে তোলে।
চ) উটের অভিযোজন: ⭐⭐
-
RBC: লোহিত কণিকা ডিম্বাকার (Oval) এবং নিউক্লিয়াসবিহীন, যা ঘন রক্তের মধ্যেও প্রবাহিত হতে পারে। জল শুষে এটি ২৪০% পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে কিন্তু ফাটে না।
-
জলক্ষয় রোধ: এদের কুঁজে ফ্যাট সঞ্চিত থাকে যা বিপাকীয় জল উৎপন্ন করে। এরা অত্যন্ত ঘন মূত্র এবং শুষ্ক বিষ্ঠা ত্যাগ করে।





