নদীর বিদ্রোহ অধ্যায় থেকে আরোও প্রশ্ন ও উত্তর দেখুন :

 

 নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতি সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর 

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১) নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প প্রশ্ন উত্তর  

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

১. নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির লেখক হলেন

(ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তরঃ (গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

২. কোন্ সময়ের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকেরওনা করিয়ে দিয়েছিল নদেরচাঁদ?

ক) তিনটের (খ) চারটা পঁয়তাল্লিশের (গ) দুটো পনেরোর (ঘ) এগারোটার

উত্তরঃ (খ) চারটা পঁয়তাল্লিশের

৩. রেলস্টেশন থেকে কত মাইল দূরে ছিল নদীর ব্রিজ?

(ক) দুই মাইল (খ) দেড় মাইল (গ) এক মাইল (ঘ) আড়াই মাইল

উত্তরঃ (গ) এক মাইল

৪. কতদিন ধরে অবিরত বৃষ্টি চলছে?

(ক) তিনদিন (খ) চারদিন (গ) সাতদিন (ঘ) পাঁচদিন

উত্তরঃ (ঘ) পাঁচদিন

৫. নদেরাদের কতদিন নদীকে দেখা হয়ে ওঠেনি?

(ক) তিনদিন (খ) চারদিন (গ) দু-দিন (ঘ) পাঁচদিন

উত্তরঃ (ঘ) পাঁচদিন

৬. “ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল”—কে?

(ক) নতুন সহকারী (খ) নদেরচাঁদ (গ) ট্রেনের চালক (ঘ) ট্রেনের খালাসি

উত্তরঃ (খ) নদেরচাঁদ

৭. দু-দিকে মাঠ-ঘাটের কী অবস্থা হয়েছিল?

(ক) ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল (খ) জলে ডুবে গিয়েছিল (গ) বন-জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল (ঘ) নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছিল

উত্তরঃ (খ) জলে ডুবে গিয়েছিল

৮. কোথাকার উঁচু বাঁধ ধরে নদেরচাঁদ হাঁটছিল?

(ক) নদীর (খ) মাঠের (গ) রেলের (ঘ) সদর রাস্তার

উত্তরঃ (গ) রেলের

৯. কত বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের মায়া একটু বেশি স্বাভাবিক?

(ক) ত্রিশ বছর (খ) পঁয়ত্রিশ বছর (গ) পঁচিশ বছর (ঘ) কুড়ি বছর

উত্তরঃ (ক) ত্রিশ বছর

১০. নদেরচাঁদের জন্ম

(ক) শহরে (খ) নদীর ধারে (গ) নদীর অনেক দূরে (ঘ) মফস্সলে

উত্তরঃ (খ) নদীর ধারে

১১. নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল

(ক) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব (খ) খরস্রোতা (গ) শুষ্কপ্রায় (ঘ) শীর্ণকায়া

উত্তরঃ (ক) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব

১২. নদেরচাঁদ প্রায় কেঁদে ফেলেছিল কারণ

(ক) নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছিল বলে (খ) তার প্রিয় নদীটি শুকিয়ে যাচ্ছিল বলে (গ) নদীতে ঢেউ উঠেছিল বলে (ঘ) নদীর ঢেউয়ের প্রভাবে ব্রিজ ভেঙে গিয়েছিল বলে

উত্তরঃ (খ) তার প্রিয় নদীটি শুকিয়ে যাচ্ছিল বলে

১৩. কোথায় এসে নদেরচাঁদ নদীর দিকে তাকিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল?

(ক) স্টেশনের কাছে এসে (খ) নদীর বাঁধের কাছাকাছি এসে (গ) ব্রিজের কাছাকাছি এসে (ঘ) রেললাইনের কাছে এসে

উত্তরঃ (গ) ব্রিজের কাছাকাছি এসে

১৪. “নদেরচাদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।”—কারণ

(ক) নদীর পাড়ে বসতে পেরেছে বলে (খ) ব্রিজের ওপর বসতে পেরেছে বলে (গ) ইচ্ছে করলেই হাত বাড়িয়ে জল স্পর্শ করতে পারবে বলে (ঘ) নদীকে দেখতে পাচ্ছে বলে

উত্তরঃ (গ) ইচ্ছে করলেই হাত বাড়িয়ে জল স্পর্শ করতে পারবে বলে

১৫. নদেরচাঁদ পকেট থেকে কী বের করে নদীর জলে ফেলছিল?

(ক) পাথর (খ) চিঠির পাতা (গ) ইটের টুকরো (ঘ) চকের টুকরো

উত্তরঃ (খ) চিঠির পাতা

১৬. নদেরচাঁদ কাকে চিঠি লিখেছিল?

(ক) মা-কে (খ) বাবা-কে (গ) বউকে (ঘ) ভাইকে

উত্তরঃ (খ) বাবা-কে

১৭. নদেরচাঁদ বউকে কত পাতার চিঠি লিখেছিল ?

(ক) চার পাতার (খ) তিন পাতার (গ) দুই পাতার (ঘ) পাঁচ পাতার

উত্তরঃ (গ) দুই পাতার

১৮. অন্ধকারে অতি সাবধানে লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে নদেরচাঁদ কোথায় ফিরে চলল?

(ক) স্টেশনের দিকে (খ) বাজারের দিকে (গ) অফিসের দিকে (ঘ) মাঠের দিকে

উত্তরঃ (ক) স্টেশনের দিকে

১৯. কোন্ ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে মেরে দেয় ?

(ক) ২নং আপ প্যাসেঞ্জার (খ) ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার (গ) ৮নং ডাউন প্যাসেঞ্জার (ঘ) ৪নং আপ প্যাসেঞ্জার

উত্তরঃ (খ) ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

২০. “… এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।”– গর্ব অনুভবের কারণ

(ক) নদীর প্রতি তার ভালোবাসা (খ) নতুন রং করা ব্রিজ (গ) নিজের জীবিকা-পেশা (ঘ) শৈশবের ক্ষীণস্রোতা নদী

উত্তরঃ (খ) নতুন রং করা ব্রিজ

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১) নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প প্রশ্ন উত্তর 

১. নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি কোন পত্রিকায়, কবে প্রকাশিত হয়?

উত্তরঃ নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি ‘বঙ্গশ্রী’ পত্রিকায় ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

২. নদেরচাঁদ তার সহকারীকে কোনো কথা বললে সে কী উত্তর দিত?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ তার সহকারীকে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করলে সে ‘আজ্ঞে হ্যাঁ” অথবা “আজ্ঞে না’ বলত।

৩. নদেরচাঁদ লাইন ধরে কোন দিকে হাঁটছিল?

উত্তরঃ নদেরচাঁদ লাইন ধরে একমাইল দূরে নদীর ওপরকার ব্রিজের দিকে হাঁটছিল।

৪. ক-দিন অবিরত বৃষ্টি হয়ে, কখন বৃষ্টি থেমেছিল ?

উত্তরঃ পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টি হয়ে বিকালের দিকে বৃষ্টি থেমেছিল।

৫. পাঁচদিন নদীকে না-দেখে নদেরচাঁদ কেমন বোধ করছিল ?

উত্তরঃ পাঁচদিন নদীকে না-দেখে নদেরচাঁদ নদীকে দেখার জন্য ছেলেমানুষের মতো উৎসুক হয়ে উঠেছিল।

৬. নদেরচাঁদ কীসের ওপর দিয়ে হাঁটতে থাকে?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ রেলের উঁচু বাঁধ ধরে হাঁটতে থাকে।

৭. নদেরচাঁদের দেশের নদীটির ক্ষীণ স্রোতধারা একবার শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে কী করেছিল?

উত্তরঃ নদেরচাঁদের দেশের নদীটির অনাবৃষ্টির জন্য ক্ষীণ স্রোতধারা শুকিয়ে যাওয়া উপক্রম হলে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।

৮. ব্রিজের কাছাকাছি এসে প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করে নদেরচাঁদ কী করল?

উত্তরঃ বিজের কাছাকাছি এসে প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করে নদের স্তম্ভিত হয়ে গেল।

৯. স্টেশনের কাছে নদীটি নদেরচাঁদের কত বছরের চেনা ?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে স্টেশনের কাছে নদী নদেরচাঁদের চার বছরের চেনা।

১০. “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”—কী কৈফিয়ত দিয়েছে নদেরচাঁদ?

উত্তরঃ নদীকে এমনভাবে ভালোবাসার কারণ হিসেবে নদেরচাঁদ কৈফিয়ত দিয়েছে নদীর ধারে তার জন্ম, নদীর ধারে সে মানুষ হয়েছে এবং নিবিড়ভাবে চিরদিন নদীকে সে ভালোবেসেছে।

১১. “কিন্তু সে চাঞ্চল্য যেন ছিল পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ।”—কোন্ চাঞ্চল্যের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ পাঁচদিন আগে বর্ষার জলে পরিপুষ্ট নদীর পঙ্কিল জলস্রোতে যে-চাল দেখা গিয়েছিল—এখানে সেই চাঞ্চল্যের কথাই বলা হয়েছে।

১২. নদেরচাঁদের চার বছরের চেনা নদীর মূর্তিকে দেখে কীরকম মনে হয়েছিল?

উত্তরঃ নদেরচাঁদের চার বছরের চেনা নদীর মূর্তিকে দেখে আরও বেশি ভয়ংকর আরও বেশি অপরিচিত মনে হয়েছিল।

১৩. নদেরচাঁদ তার বউকে যে চিঠি লিখেছিল, সেটা কোথায় ছিল?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ তার বউকে যে চিঠি লিখেছিল, সেটা তার পকেটেই ছিল।

১৪. চিঠির মধ্যে কী কথা লেখা ছিল?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে দেরাদ তার বউকে যে চিঠি লিখেছিল, তার মধ্যে বিরহবেদনাপূর্ণ কথা ছিল।

১৫. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।”—কী কারণে নদেরচাঁদের ভারি আমোদ বোধ হচ্ছিল?

উত্তরঃ নদীর জল ফুলে-ফেঁপে এত উচু হয়েছিল যে, ইচ্ছে করলেই হাত বাড়িয়ে নদীর জলকে স্পর্শ করা যায়–তা দেখে নদের্চাদের ভারি আমোদ বোধ হচ্ছিল।

১৬. “চিঠি পকেটেই ছিল।”—কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ দু-দিন ধরে বাইরের অবিশ্রান্ত বর্ষণের সঙ্গে সুর মিলিয়ে নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে প্রাণপণে একটি পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল—সেই চিঠির কথা এখানে বলা হয়েছে।

১৭. “একটু মমতা বোধ করিল বটে,”~-কীসের প্রতি মমতাবোধের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ দু-দিন অবিরাম বৃষ্টির সঙ্গে সুর মিলিয়ে নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে একটি পাঁচ বৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল, সেই চিঠিটিকে নদীর স্রোতে ফেলে দেওয়ার ব্যাপারে একটু মমতাবোধ করছিল সে।

১৮. “নদেরচাঁদের মন হইতে ছেলেমানুষি আমোদ মিলাইয়া গেল।”—কেন নদেরচাঁদের মন থেকে ছেলেমানুষি আমোদ মিলিয়ে গেল?

উত্তরঃ নদী থেকে একটি অশ্রুতপূর্ব শব্দ উঠছিল এবং তার সঙ্গে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মিশে হঠাৎ এমন একটি সংগত সৃষ্টি করেছিল যে, নদেরচাঁদের মন থেকে ছেলেমানুষি আমোদ মিলিয়ে গেল।

১৯. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”—কীসের ভয় করছিল নদেরচাঁদের?

উত্তরঃ নদীর ক্ষিপ্ত রূপ এবং প্রবল বর্ষণ ও ব্রিজের ওপর দিয়ে দ্রুতবেগে ট্রেন যাওয়ার শব্দ—সবমিলিয়ে, এমন একটি ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি করছিল যে, তাতে নদেরচাঁদের ভয় করতে লাগল।

২০. “হঠাৎ তাহার মনে হইয়াছে,”—কার, কী মনে হয়েছে?

উত্তরঃ নদেরচাঁদের হঠাৎ মনে হয়েছে রোযে, ক্ষোভে উন্মত্ত এই নদীর আর্তনাদি জলরাশির কয়েক হাত উঁচুতে এমন নিশ্চিন্ত মনে এতক্ষণ বসে থাকা তার উচিত হয়নি।

২১. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—নদীর বিদ্রোহের কী কারণ সে বুঝতে পেরেছে?

উত্তরঃ নদীর বিদ্রোহের কারণ হল—ব্রিজটি ভেঙে, দু-পাশে মানুষের হাতে গড়া বাঁধ চুরমার করে সে স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হওয়ার পথ করে নিতে চায়।

২২. “এত কাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।”—কার জন্য নদেরচাঁদ এতকাল গর্ব অনুভব করেছে?

উত্তরঃ স্টেশনের কাছে নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করেছে।

২৩. “আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?”—এই প্রশ্নের কী পরিণাম লক্ষ করা যায়?

উত্তরঃ প্রশ্নোদ্ধৃত প্রশ্নটির জবাব দেওয়ার জন্যই হয়তো ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে ছোটো স্টেশনের দিকে চলে গেল।

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৩) নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প প্রশ্ন উত্তর  

১. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।”—নদেরচাঁদ। কে? নদেরচাঁদ কেন ছেলেমানুষের মতো ‘ঔৎসুক্য বোধ’ করতে লাগল? ১+২

২. “ব্রিজের একপাশে আজ চুপচাপ বসিয়া কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।”–‘সে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? নদীর কোন্ রূপকে। সে কল্পনা করার চেষ্টা করছিল ? ১+২

৩. “নদীর জন্য এমনভাবে পাগল হওয়া কি তার সাজে?”—কার কথা বলা হয়েছে? তার কোন পাগলামির কথা এখানে প্রকাশ পেয়েছে? ১+২

৪. “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”—নদীকে ভালোবাসার কী কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিয়েছিল?

৫. “…সে প্রায় কাদিয়া ফেলিয়াছিল,”–‘সে’ কে? তার এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল কেন? ১+২

৬. “ব্রিজের কাছাকাছি আসিয়া প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।” -নদেরচাঁদের স্তম্ভিত হওয়ার কারণ কী?

৭. “আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।”—কাকে, কার অপরিচিত মনে হয়েছিল? কোন্ ঘটনায় তাকে অপরিচিত মনে হয়েছিল? ১+২

৮. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।”—কোন্ ঘটনায় নদেরচাঁদ আমোদ বোধ হচ্ছিল?

৯. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।”—নদেরচাঁদ তার আনন্দের প্রকাশ কীভাবে ঘটিয়েছিল?

১০. “একটু মমতা বোধ করিল বটে।”—কীসের প্রতি, কার মমতা বোধ করছিল? তার মমতাবোধের কারণ কী?

১১. “নদেরচাঁদের মন হইতে ছেলেমানুষি আমোদ মিলাইয়া গেল,”—কীভাবে নদেরচাদের মন থেকে ছেলেমানুষি আমোদ’ মিলিয়ে গিয়েছিল?

১২. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”—নদেরচাদের ভয়ের কারণ কী?

১৩. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—নদীর বিদ্রোহী হয়ে ওঠার কারণ কী?

রচনাধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৫) নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প প্রশ্ন উত্তর  

১. নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের চরিত্রটি আলোচনা করো।

৩. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদীর ভূমিকা আলোচনা করো।

  1. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পকে ছোটোগল্প বলা যায় কিনা, তা আলোচনা করো।

৫. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদেরচাঁদ চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

৬. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।”কার লেখা, কোন্ রচনার অংশ? কার পাগলামির কথা বলা হয়েছে? কথাটির তাৎপর্য লেখো। ১+১+৩

৭. “কিন্তু পারিবে কি? পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?”—কে পারবে? কী পারবে? কখন এই কথা বলা হয়েছে? কথাটির তাৎপর্য আলোচনা করো। ১+১+১+২

৮. “দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগিতে ভুগিতে পরমাত্মীয়া মরিয়া যাওয়ার উপক্রম করিলে মানুষ যেমন কাঁদে।”- কার কাদার কথা বলা হয়েছে? সে কেন কঁদছিল? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কথাটির তাৎপর্য লেখো। ১+১+৩

৯. “না জানি মোটে আর কতদিন লাগবে?”- কে, কার সম্পর্কে এই কথা বলেছে? কখন বলেছে? কথাটি ব্যাখ্যা করো। ১+১+৩

১০. “একটু মমতা বোধ করিল বটে, কিন্তু নদীর সঙ্গে খেলা করার লোভটা সে সামলাইতে পারিল না,”–‘সে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? কখন এই কথা বলা হয়েছে? বক্তব্যটির অর্থ পরিস্ফুট করো। ১+১+৩

১১. “চার বছর যেখানে স্টেশনমাস্টারি করিয়াছে এবং বন্দি নদীকে ভালোবাসিয়াছে।”—কার সম্পর্কে এই কথা বলা হয়েছে? স্টেশনমাস্টারি ও বন্দি নদীকে ভালোবাসার কাহিনি লিপিবদ্ধ করো। ১+৪

১২. “এই নদীরমূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।”-নদীকে দেখে কার ভয়ংকর ও অপরিচিত মনে হল ? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তিটি করা হয়েছে? উক্তিটির সরলার্থ লেখো। ১+২+২

১৩. “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”-নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের সম্পর্ক কেমন? নদীকে ভালোবাসা কারণ হিসেবে ওর কী কৈফিয়ত ছিল?

পাঠ্যগত ব্যাকরণ – নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প প্রশ্ন উত্তর  

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১)

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

কারক-বিভক্তি

১. “প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করাইয়া দিয়া…”—‘ট্রেনটিকে’ পদটির কারক ও বিভক্তি হবে

(ক) কর্মকারকে ‘কে’ বিভক্তি (খ) কর্তৃকারকে ‘কে’ বিভক্তি (গ) করণকারকে ‘কে’ বিভক্তি (ঘ) অধিকরণ কারকে ‘টিকে’ বিভক্তি

উত্তরঃ (ক)

২. “ব্রিজের একপাশে আজ চুপচাপ বসিয়া…।”—ব্রিজের’ পদটির কারণ ও বিভক্তি হবে

(ক) কর্তৃকারকে ‘এর’ বিভক্তি (খ) সম্বন্ধপদে ‘এর’ বিভক্তি (গ) সম্বোধন পদে ‘এর’ বিভক্তি (ঘ) করণকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি

উত্তরঃ (খ)

৩. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।”-‘নদেরচাঁদ’ পদটির কারক ও বিভক্তি হবে

(ক) করণকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি (খ) কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি (গ) অধিকরণ কারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি (ঘ) অপাদান কারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি

উত্তরঃ (খ)

৪. “আকাশে যেমন মেঘ করিয়া আছে,”—‘আকাশে’ পদটির কারক ও বিভক্তি হবে

(ক) কর্মকারকে ‘এ’ বিভক্তি (খ) কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি (গ) অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি (ঘ) অপাদান কারকে ‘এ’ বিভক্তি

উত্তরঃ (গ)

৫. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।”—রেখাঙ্কিত পদটির কারক ও বিভক্তি হবে

(ক) সম্বোধন পদে ‘এর’ বিভক্তি (খ) সম্বন্ধপদে ‘এর’ বিভক্তি (গ) অপাদান কারকে ‘এর’ বিভক্তি (ঘ) কর্মকারকে ‘এ’ বিভক্তি

উত্তরঃ (ঘ)

সমাস

৬. “নদের চাঁদ নূতন সহকারীকে ডাকিয়া বলিল’–‘সহকারী’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস হবে

(ক) সহ ও কারী—দ্বন্দ্ব সমাস (খ) সহকার (কাজে সাহায্য) করে যে—উপপদ তৎপুরুষ সমাস (গ) সহ নামক কারী—মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস (ঘ) সহ রূপ কারী—রূপক কর্মধারয় সমাস

উত্তরঃ (খ)

৭. “একবার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে চাহিয়া বলিল,”–‘মেঘাচ্ছন্ন শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস হবে

(ক) মেঘের ন্যায় আচ্ছন্ন—উপমান কর্মধারয় সমাস (খ) মেঘ ও আচ্ছন্ন দ্বন্দ্ব সমাস (গ) মেঘ দ্বারা আচ্ছন্নকরণ তৎপুরুষ সমাস (ঘ) মেঘকে আচ্ছন্নকর্মতৎপুরুষ সমাস

উত্তরঃ (গ)

৮. “পাঁচ দিন অবিরত বৃষ্টি হইয়া আজ…।”–‘অবিরত’শব্দটির সমাস হবে

(ক) বিরত থাকে না যা-বহুব্রীহি সমাস (খ) অ এবং বিরত—দ্বন্দ্ব সমাস (গ) নয় বিরত—নঞ তৎপুরুষ সমাস (ঘ) অ-এর ন্যায় বিরত–উপমিত কর্মধারয় সমাস

উত্তরঃ (গ)

৯. “এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক।”–‘অস্বাভাবিক’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম হবে

(ক) স্বাভাবিকতাহীন—অব্যয়ীভাব সমাস (খ) নয় স্বাভাবিক-নঞ তৎপুরুষ সমাস (গ) অ-এর মতো স্বাভাবিক—উপমান কর্মধারয় সমাস (ঘ) অ এবং স্বাভাবিক—দ্বন্দ্ব সমাস

উত্তরঃ (খ)

১০. “একবার অনাবৃষ্টির বছরে নদীর ক্ষীণ স্রোতধারাও…।”—‘অনাবৃষ্টি শব্দটির সমাস হবে

(ক) নঞ তৎপুরুষ সমাস (খ) নঞ বহুব্রীহি সমাস (গ) দ্বন্দ্ব সমাস (ঘ) দ্বিগু সমাস

উত্তরঃ (ক)

১১. “পরমাত্মীয়া মরিয়া যাওয়ার উপক্রম করিলে..।”—‘পরমাত্মীয়া’শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস হবে

(ক) পর ও আত্মীয়া—দ্বন্দ্ব সমাস (খ) পরমরূপ আত্মীয়া—রূপক কর্মধারয় সমাস (গ) পরম যে আত্মীয়া–কর্মধারয় সমাস (ঘ) পরমকে আত্মীয়া-কর্ম তৎপুরুষ সমাস

উত্তরঃ (গ)

বাক্য

১২. “নদেরচাঁদ নূতন সহকারীকে ডাকিয়া বলিল,”—বাক্যটিকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) নদেরচাঁদ নূতন সহকারীকে ডাকিয়া বলিল না (খ) নদেরচাঁদ যখন নূতন সহকারীকে ডাকিল তখন বলিল (গ) নদেরচাঁদ নুতন সহকারীকে ডাকিল এবং বলিল (ঘ) নদেরচাঁদ নূতন সহকারীকে না-ডাকিয়া বলিল

উত্তরঃ (গ)

১৩. “পাঁচ দিন নদীকে দেখা হয় নাই।”—বাক্যটিকে ইতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) পাঁচদিন নদীকে দেখতে পারিনি (খ) পাঁচদিন নদীকে দেখা থেকে বিরত থেকেছি (গ) দু-একদিন নয় নদীকে পাঁচদিন দেখা হয় নাই (ঘ) পাঁচদিন নদীকে দেখেছি

উত্তরঃ (খ)

১৪. “ব্রিজের একপাশে আজ চুপচাপ বসিয়া কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।”—বাক্যটিকে ইতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) ব্রিজের একপাশে আজ চুপচাপ বসিয়া কিছুক্ষণ নদীকে দেখিলেই সে বাঁচিবে (খ) ব্রিজের একপাশে আজ চুপচাপ বসিয়া কিছুক্ষণ নদীকে দেখিলে সে মরিবে না (গ) ব্রিজের একপাশে আজ চুপচাপ বসিয়া বেশিক্ষণ নদীকে দেখিলে সে বাঁচিবে না (ঘ) ব্রিজের একপাশে বসে নদীকে দেখলে সে মরবে

উত্তরঃ (ক)

১৫. “কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।”—বাক্যটি কী জাতীয় বাক্য?

(ক) নাস্ত্যর্থক বাক্য (খ) সরলবাক্য (গ) জটিল বাক্য (ঘ) মিশ্র বাক্য

উত্তরঃ (ক)

বাচ্য

১৬. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।”—বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের দ্বারা ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল (খ) নদেরচাঁদ যে-ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল তাহা ছেলেমানুষের মতো (গ) নদেরচাঁদের দ্বারা ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করা হইতে লাগিল (ঘ) ছেলেমানুষের দ্বারা নদেরচাঁদ ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।

উত্তরঃ (গ)

১৭. “পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই।”—বাক্যটিকেকর্তৃবাচ্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) নদী পাঁচদিন দেখেনি (খ) পাঁচদিন নদীর দ্বারা দেখা হয়নি (গ) পাঁচদিন নদীকে দেখি নাই (ঘ) নদী তার পাঁচদিন দেখা হয় নাই

উত্তরঃ (গ)

১৮. “চিরদিন নদীকে সে ভালোবাসিয়াছে।”—বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) চিরদিনের দ্বারা সে নদীকে ভালোবাসিয়াছে (খ) চিরদিন নদীর দ্বারা সে ভালোবাসিয়াছে (গ) চিরদিন নদীকে তাহার দ্বারা ভালোবাসা হইয়াছে (ঘ) ভালোবাসার দ্বারা সে নদীকে চিরদিন দেখেছে

উত্তরঃ (গ)

১৯. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।”—বাক্যটিকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) নদেরচাঁদের ভারী আমোদ হইতেছিল (খ) নদেরচাঁদ ভারী আমোদ বোধ করিতে লাগিল (গ) আমোদ করতে লাগল নদের চাদ (ঘ) নদেরচাঁদের দ্বারা ভারী আমোদ করা হইতেছিল

উত্তরঃ (খ)

২০. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—বাক্যটিকে ভাববাজে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়

(ক) নদীর বিদ্রোহের কারণ তার দ্বারা বুঝিতে পারা হইয়াছে (খ) নদীর দ্বারা বিদ্রোহের কারণ তার বোঝা হইয়াছে (গ) নদীর বিদ্রোহের কারণ তাহার বোঝা হইয়াছ (ঘ) নদীর বিদ্রোহের কারণ তার বুঝিতে পারা হইয়াছে

উত্তরঃ (গ)

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১) নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গল্প প্রশ্ন উত্তর  

কারক-বিভক্তি

১. “নদেরচাঁদ নূতন সহকারীকে ডাকিয়া বলিল….।”—নিম্নরেখাঙ্কিত পদটির কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো।

উত্তরঃ নদেরচাঁদ—কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।

২. “নূতন সহকারী একবার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে চাহিয়া বলিল, আজ্ঞে হ্যাঁ।”—নিম্নরেখাঙ্কিত পদগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো।

উত্তরঃ মেঘাচ্ছন্ন আকাশের—অধিকরণ কারকে ‘এর’ বিভক্তি।

৩. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।”—‘আনন্দই পদটির কারক-বিভক্তি লেখো।

উত্তরঃ আনন্দই–কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।

৪. “পাঁচদিন আগেও বর্ষার জলে পরিপুষ্টনদীর পঙ্কিল জলস্রোতে সে চাঞ্চল্য দেখিয়া গিয়াছে।”—নিম্নরেখাঙ্কিত পদগুলির কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো।

উত্তরঃ বর্ষার জলে-করণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।

৫. “পকেট খুঁজিয়া পুরাতন একটি চিঠি বাহির করিয়া সে স্রোতের মধ্যে ছুড়িয়া দিল।” -‘পকেট’ পদটির কারক-বিভক্তি কী হবে?

উত্তরঃ পকেট—অপাদান কারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।

সমাস

৬. “ত্রিশ বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটা অস্বাভাবিক।”—নিম্নরেখাঙ্কিত পদটির সমাস নির্ণয় করো।

উত্তরঃ অস্বাভাবিক—নয় স্বাভাবিক (নঞ তৎপুরুষ সমাস।

৭. “দুদিকে মাঠঘাট জলে ডুবিয়া গিয়াছিল।”–‘মাঠঘাট’ পদটির ব্যাসবাক্যস সমাস নির্ণয় করো।

উত্তরঃ মাঠঘাট—মাঠ ও ঘাট (দ্বন্দ্ব সমাস)।

৮. “সে তো একটা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার।”—রেখাঙ্কিত পদটিতে কোন সমাস হয়েছে?

উত্তরঃ স্টেশনমাস্টার স্টেশনের মাস্টার (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।

৯. “দিবারাত্রি মেল”—“দিবারাত্রি’ পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো।

উত্তরঃ দিবারাত্রি-দিবা ও রাত্রি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

১০. “প্যাসেঞ্জার আর মালগাড়িগুলির তীব্রবেগে ছুটাছুটি নিয়ন্ত্রিত করিবার দায়িত্ব যাহাদের সেও তো তাহাদেরই একজন।”—নিম্নরেখাঙ্কিত পদটির সমাস নির্ণয় করো।

উত্তরঃ মালগাড়ি-মালের নিমিত্ত গাড়ি (নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস), সেগুলির।

বাক্য

১১. “নূতন সহকারী একবার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে চাহিয়া বলিল, “আজ্ঞে হ্যাঁ।”—যৌগিক বাক্যে পরিণত করো।

উত্তরঃ নূতন সহকারী একবার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে চাহিল এবং বলিল, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ’।

১২. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।”—প্রশ্নবোধ বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তরঃ নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল না কি?

১৩. “তারপর নামিল বৃষ্টি, সে কী মুষলধারার বর্ষণ।”—জটিল বাক্যে লিখলে কী হবে?

উত্তরঃ তারপর যে বৃষ্টি নামিল সেটা ছিল মুশলধারার বর্ষণ।

১৪. “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?”—না-বাচক বাক্যে লেখো।

উত্তরঃ পারিলেও মানুষ তাকে রেহাই দিবে না।

১৫. “যেনদী এমনভাবে ক্ষেপিয়া যাইতে পারে তাহাকে বিশ্বাস নাই।” হ্যাঁ-বাচব বাক্যে পরিণত করো।

উত্তরঃ যে নদী এমনভাবে ক্ষেপিয়া যাইতে পারে তাহাকে অবিশ্বাস করিতে হয়

বাচ্য

১৬. “পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই।”—কর্তৃবাচ্যে রূপ দাও।

উত্তরঃ পাঁচদিন নদীকে দেখে নাই।

১৭. “কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।”—ভাববাচ্যে পরিণত করো।

উত্তরঃ কিছুক্ষণ নদীকে না-দেখিলে তার বাঁচা হইবে না।

১৮. “নদীর ধারে তার জন্ম হইয়াছে।”—কর্তৃবাচ্যে লেখো।

উত্তরঃ নদীর ধারে সে জন্মগ্রহণ করেছে।

১৯. “চিরদিন নদীকে সে ভালোবাসিয়াছে।”—কর্মবাচ্যে রূপান্তর করো।

উত্তরঃ চিরদিন তাহার দ্বারা নদীকে ভালোবাসা হইয়াছে।

২০. “মানুষ যেমন কাঁদে।”—ভাববাচ্যে কী হবে?

উত্তরঃ মানুষের যেমন করে কাঁদা হয়।

 

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৪ – নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৪ - নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
নদীর বিদ্রোহ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 

(১) নিচের বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

১.১ “আর বৃষ্টি হবে না, কি বল?” – কথাটি কে বলেছিল?

(ক) নতুন সহকারি

(খ) নদের চাঁদ

(গ) রেলের কর্মাধ্যক্ষ

(ঘ) রেলের টিকিট পরীক্ষক

উত্তর : (খ) নদেরচাঁদ

১.২ নদের চাঁদ লাইন ধরে যে দিকে হাঁটতে শুরু করেছিল তা হল –

(ক) স্টেশনের দিকে

(খ) বাড়ির দিকে

(গ) নদীর উপরের ব্রীজের দিকে

(ঘ) পরবর্তী স্টেশনের দিকে

উত্তর : (গ) নদীর উপরের ব্রীজের দিকে

১.৩ “ছেলে মানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল” – এখানে কার সম্পর্কে এরকম কথা বলা হয়েছে?

(ক) ট্রেনের খালাসী

(খ) নদের চাঁদ

(গ) ট্রেনের চালক

(ঘ) নতুন সহকারি

উত্তর : (খ) নদের চাঁদ

১.৪ “এমন ভাবে পাগলা হওয়া কি তার সাজে?” – কিসের জন্য নদের চাঁদ পাগলা হয়েছিল?

(ক) অবিরত বৃষ্টির জন্য

(খ) নদীর জন্য

(গ) নদীর কথা মানুষকে জানানোর জন্য

(ঘ) নিজের পত্নীর জন্য

উত্তর : (খ) নদীর জন্য

১.৫ নদের চাঁদ প্রায় কেঁদে ফেলেছিল, কারণ –

(ক) নদীর ঢেউয়ের প্রভাবে ব্রিজ ভেঙে যাচ্ছিল

(খ) নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছিল

(গ) তার প্রিয় নদীটি শুকিয়ে যাচ্ছিল

(ঘ) নদীতে ঢেউ উঠেছিল

উত্তর : (গ) তার প্রিয় নদীটি শুকিয়ে যাচ্ছিল

১.৬ নদের চাঁদ ব্রিজের মাঝামাঝি কোথায় এসে বসেছিল?

(ক) একটি কাঠের গুঁড়ির ওপর

(খ) একটি থামের উপর

(গ) ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে

(ঘ) একটি ইটের উপর

উত্তর : (গ) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে

১.৭ “নদের চাঁদের ভারী আমোধ বোধ হইতে লাগিল” – এর কারণ কি ছিল?

(ক) ইচ্ছে করলেই হাত বাড়িয়ে নদীর জল স্পর্শ করতে পারবে বলে

(খ) নদীর পাড়ে বসতে পেরেছে বলে

(গ) নদীকে দেখতে পাচ্ছে বলে

(ঘ) ব্রিজের উপর বসতে পেরেছে বলে

উত্তর : (ক) ইচ্ছে করলেই হাত বাড়িয়ে নদীর জল স্পর্শ করতে পারবে বলে

১.৮ নদের চাঁদ নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছিল একটি –

(ক) বইয়ের পৃষ্ঠা

(খ) শুকনো পাতা

(গ) খাতার পৃষ্ঠা

(ঘ) একটি পুরনো চিঠি

উত্তর : (ঘ) একটি পুরনো চিঠি

১.৯ একটা বেদনাদায়ক চেতনা কিছুক্ষণের জন্য নদের চাঁদকে কি করেছিল?

(ক) রোমাঞ্চিত

(খ) দিশেহারা

(গ) আচ্ছন্ন

(ঘ) উন্মাদ

উত্তর : (খ) দিশেহারা

১.১০ “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – নদীর বিদ্রোহের কারণ কি?

(ক) অনাবৃষ্টি

(খ) লোহা ইট কাঠ কংক্রিট এর বন্ধন

(গ) বর্ষাকাল

(ঘ) অতিরিক্ত বৃষ্টি

উত্তর : (খ) লোহা ইট কাঠ কংক্রিট এর বন্ধন

(২) নিচের অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ “আমি চললাম হে!” – কে, কাকে একথা বলেছেন?

উত্তর : নদের চাঁদ তার সহকারীকে একথা বলেছিল।

২.২ স্টেশন থেকে নদীর উপর ব্রিজের দূরত্ব কত?

উত্তর : এক মাইল

২.৩ নদের চাঁদ কত দিন নদীকে দেখা হয়ে ওঠেনি?

উত্তর : পাঁচ দিন

২.৪ “না দেখিলে সে বাঁচিবে না।” – কে, কি না দেখলে বাঁচবে না?

উত্তর : নদীকে না দেখলে নদের চাঁদ বাঁচবেনা।

২.৫ ” সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল।” – কে এবং কি কারণে কেঁদে ফেলেছিল?

উত্তর : ছোট বেলায় একবার অনাবৃষ্টিতে নদীর জল শুকিয়ে যাওয়ায় নদের চাঁদ প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।

 

 

২.৬ “আজ যেন সেই নদী ক্ষেপিয়া গিয়াছি” – নদীর ক্ষেপে যাওয়ার কারন কি?

 

 

উত্তর : পাঁচদিন অনবরত বৃষ্টির জলে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল যা নদীর ক্ষেপে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়।

২.৭ “আজও সে সেই খানে গিয়া বসিল।” – কে এবং কোথায় গিয়ে বসলো?

উত্তর : রেল স্টেশন থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি ব্রীজের মাঝামাঝি স্থানে একটা ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে।

২.৮ “লোভটা সামলাইতে পারিল না” – এখানে কোন লোভের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : নদীর জলের সঙ্গে খেলা করার লোভকে নদের চাঁদ সামলাতে পারেনি।

 

 

২.৯ নদের চাঁদ কত বছর স্টেশনমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেছে?

উত্তর : চার বছর

২.১০ কোন ট্রেনটি নদের চাঁদ কে পিষে দিয়ে চলে যায়?

উত্তর : সাত নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার

(৩) নিচের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা মূলক প্রশ্ন গুলোর উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ “ট্রেনটিকে রওনা করাইয়া দিয়া” – কোন্ ট্রেনটির কথা বলা হয়েছে? ট্রেনটিকে রওনা করানোর পর কী ঘটল?

 

 

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে চারটে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির কথা বলা হয়েছে। ট্রেন রওনা হওয়ার পরবর্তী ঘটনা ট্রেনটিকে রওনা করানোর পর স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ তার নতুন সহকারীকে নিজের প্রস্থান করার কথা জানায়। তারপর আর হয়তো বৃষ্টি হবে না, এই অনুমান ব্যক্ত করে সহকারীর সমর্থন প্রত্যাশা করে। সহকারীও সহমত ব্যক্ত করলে সে নদীর দিকে রওনা হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ ‘নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাদ দিতে পারে।’ – কৈফিয়তটি কী? কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল কেন?

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই নদীকে ঘিরে। তার দেশের যে শীর্ণকায় ক্ষীণস্রোতা নদীটিকে কৈফিয়তটি বা সে বড়ো ভালোবাসত। সেইজন্য কর্মক্ষেত্রের নদীসহ যে কোনো নদীর প্রতিই তার অস্বাভাবিক মায়া ছিল। নদীকে এমন পাগলের মতো ভালোবাসার জন্য সে এমন কৈফিয়তই দিয়েছিল।

  রেল নিয়ন্ত্রণের মতো দায়িত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত একজন প্রাপ্তবয়স্কের নদীকে নিয়ে এমন পাগলামো সকলে স্বাভাবিকভাবে নেবে না তাই নদেরচাদ নিজেই কৈফিয়ত দিয়েছিল ।

 

 

প্রশ্নঃ ‘ব্রিজের দিকে হাঁটিতে লাগিল।’ — কোন্ ব্রিজের কথা বলা হয়েছে? সেই ব্যক্তি ব্রিজের দিকে হাঁটতে লাগল কেন?

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে নদেরচাঁদ যে স্টেশনের ব্রিজের স্টেশনমাস্টার, সেখান থেকে এক মাইল দূরে নদীর ওপরে নতুন তৈরি ব্রিজটির কথা বলা হয়েছে।

   নদেরচাঁদ ছিল প্রকৃতিপ্রেমিক। বিশেষত নদীর প্রতি তার ছিল অপরিসীম আকর্ষণ। সে প্রায় রোজই নদীর পাশে বসে সময় কাটায়। বিগত পাঁচদিন ধরে মুশলধারায় বৃষ্টির জন্য সে নদীকে দেখতে যেতে পারেনি। তাই কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি থামতেই সে নদীকে দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

প্রশ্নঃ ‘ব্রিজের কাছাকাছি আসিয়া প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।’ – কোন্ ব্রিজের কথা বলা হয়েছে? সেখানে এসে নদেরচাঁদ কী দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেল?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মুখ্য চরিত্র গল্পে উদ্ধৃত ব্রিজের পরিচয়। নদেরচাদ যে অখ্যাত স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ছিল সেখান থেকে মাইলখানেক দূরে নদীর ওপর যে নতুন ব্রিজটি তৈরি হয়েছিল এখানে তার কথা বলা হয়েছে। নদেরচাদের স্তম্ভিত একটানা পাঁচদিন বৃষ্টির পর নদেরচাদ নদীটিকে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। কয় দিন আগে সে নদীর পঙ্কিল জলের যে উল্লাস ও চঞ্চলতা দেখে গিয়েছিল আজ অতিবৃষ্টির পর তা যেন পরিণত হয়ে ভয়ংকরভাবে ফুঁসছে।

প্রশ্নঃ ‘নদের চাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।’ – ‘ছেলেমানুষের মতো বলার কারণ কী? নদেরচাদের ঔৎসুক্য হয়েছিল কেন?

উত্তরঃ চঞ্চলমতি শিশুদের ধৈর্য খুবই কম। ছেলেমানুষের মতো ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। নদেরচাঁদও একটানা পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বর্ষণের ফলে নদীকে দেখতে না পেয়ে অধৈর্য হয়ে পড়ে। বয়সের তুলনায় তার এই অধৈর্যকে লেখক ছেলেমানুষির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

      শৈশব থেকেই নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের সখ্য। তাঁর কর্মস্থলের নদেরচাদের কাছাকাছি নদীটিকে প্রতিদিন দেখতে যেত। পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বর্ষণে যেতে না পারায় নদীটির চেহারা ঔৎসকোর কারণ কেমন হয়েছে তা দেখার জন্য সে উৎসুক হয়েছিল।

প্রশ্নঃ ‘আজ যেন সেই নদী খেপিয়া গিয়াছে’ – তার পূর্বরূপ ও পরবর্তী রূপ বর্ণনা করো।

উত্তরঃ একটানা পাঁচদিন পর নদীর দিকে প্রথমবার দৃপা করে নদীর পূর্ব ও পরবর্তী রূপ নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গেল। বর্ষার জল পেয়ে উচ্ছ্বসিত নদীর পঙ্কিল জলে সে যে উল্লাস ও চঞ্চলতা দেখে গিয়েছিল, একটানা বৃষ্টির পর সেই উল্লাস ও চঞ্চলতা যেন পরিণত হয়েছে ফুঁসতে থাকা ভয়ংকরতায়। আগের চঞ্চলতায় ছিল পরিপূর্ণতার উল্লাস; কিন্তু এখন নদী যেন খেপে উঠেছে। গাঢ় কালো পৰিকূল জল ফুলেফেঁপে তরঙ্গায়িত হয়ে ছুটে চলেছে।

প্রশ্নঃ ‘কিছুক্ষণ নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।’ – কার না বাঁচার কথা বলা হয়েছে? নদীকে না দেখলে সে বাঁচবে না কেন?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মুখ্য চরিত্র যার না বাচার নদেরচাদ নদীকে না দেখলে বাঁচবে না বলা হয়েছে। নদেরচাঁদ জন্ম থেকেই নদীর পাশে বড়ো হয়েছে। নদী তার জীবনে শ্বাসপ্রশ্বাসের মতোই মূল্যবান। নদীকে ছেড়ে সে কখনও থাকেনি। এমনকি, বরাতজোরে তার কর্মক্ষেত্রে সে নদীকে পাশে পেয়েছে। তাই নদীর প্রতি তার আকর্ষণ যেন পাগলামিতে পরিণত হয়েছে। এই কারণে নদীকে না দেখলে সে বাঁচবে না।

প্রশ্নঃ ‘তার চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল’ – চার বছরের চেনা ‘বলার কারণ কী? আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হল কেন?

উত্তরঃ চার বছর হল নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টারের দায়িত্বভার গ্রহণ ‘চার বছরের চেনা’ করে এই অঞ্চলে এসেছে। তাই নদীটির সঙ্গে তার বলার কারণ চার বছরের চেনা।

     নদেরচাদ তার কর্মস্থলের অনতিদূরে অবস্থিত বর্ষার জলে পৃষ্ট নদীটিতে পাঁচদিন আগে পঙ্কিল জলস্রোতে যে চাঞ্চল্য দেখে গিয়েছিল তাতে ছিল পরিপূর্ণতার আনন্দ। কিন্তু পাঁচদিন আরও বেশি অপরিচিত অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর সে চেনা নদীর রূপই প্রত্যক্ষ করবে ভেবেছিল, কিন্তু নদেরচাঁদ দেখল নদী আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি ভয়ংকর ও অপরিচিত হয়ে উঠেছে।

প্রশ্নঃ ‘রেলের উঁচু বাঁধ ধরিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে দু–পাশে চাহিয়া চাহিয়া নদেরচাদ নদীর বর্ষণপুষ্ট মূর্তি কল্পনা করিবার চেষ্টা করিতে লাগিল।’ – দু–পাশে চেয়ে চেয়ে নদেরচাঁদ কী দেখছিল? সে নদীর বর্ষণপুষ্ট মূর্তি কেন কল্পনা করার চেষ্টা করছিল?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে রেলের উঁচু বাঁধের দু–পাশের মাঠঘাট অতিবৃষ্টিতে জলে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। নদেরচাঁদ তা দেখতে দেখতেই নদেরচাদ যা দেখেছিল। 

     নদীর প্রতি নদেরচাদের ছিল অপরিসীম আকর্ষণ। পাঁচদিনের টানা বৃষ্টির জন্য সে নদীকে দেখতে যেতে পারেনি। তাই সে নদীকে দেখার জন্য উন্মত্তপ্রায় হয়ে উঠেছিল। পাঁচদিনের অতিবৃষ্টি তার প্রতিদিনের চেনা ক্ষীণকায়া নদীটিকে কী মূর্তি দান করেছে, সে কথাই সে কল্পনা করছিল।

প্রশ্নঃ ‘আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল।’ – সে কোথায় গিয়ে বসল? তার সেখানে বসার কারণ কী ছিল?

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অনুসারে নদেরচাঁদ যে–স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ছিল, তার এক মাইল দূরে নদীর ওপরে একটি নতুন রং করা ব্রিজ ছিল। সেই ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি আর সিমেন্ট গাঁথা ধারকস্তঙের কিনারায় বসে সে রোজ নদীকে দেখত। সেদিনও নদেরচাঁদ সেইখানেই গিয়ে বসল। ব্রিজের ধারকস্তম্ভের কিনারায় বসে নদীকে দেখলে নদীবক্ষের ওপর থেকে নদীর বিস্তারসহ সামগ্রিক রূপটাই দর্শকের চোখে ধরা পড়ে। তাই নদেরচাঁদ সেখানে বসত।

প্রশ্নঃ ‘নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।’ – নদেরচাদের মনের এই আনন্দের স্বরূপ পরিস্ফুট করো।

উত্তরঃ গ্রামবাংলার ছেলে নদেরচাদের জন্ম, শৈশব, বেড়ে ওঠা, আশা–আকাঙ্ক্ষা সবই নদীকে কেন্দ্র করে। নদীর সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক। নদীর ক্ষীণধারা দেখে বর্ষণপষ্ট স্ফীতকায় নদী তার মনে পুলক জাগায়। নদীর প্রতি এইরূপ প্রেম তার যে সাজে না একথা সে বুঝলেও তার মনকে বোঝাতে পারে না। কোথাও যেন নিজের এই পাগলামিতে সে আনন্দ উপভোগ করে।

প্রশ্নঃ ‘কিন্তু সে চাঞ্চলা যেন ছিল পরিপূর্ণতার আনলের প্রকাশ।’ – কোন চাঞ্চল্যের কথা বলা হয়েছে? ‘পরিপূর্ণতার আনন্দ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ পাঁচদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হওয়ার আগে নদেরচাঁদ তার প্রিয় নদীটিকে বর্ষার জলে পরিপুষ্ট আর পাঁচটা সাধারণ নদীর মতো পরিপূর্ণতার আনন্দে চঞ্চল হয়ে উঠতে দেখেছিল। এখানে সেই চাঞ্চল্যের কথা বলা হয়েছে। 

     সারাবছরই নদীগুলি জলাভাবে অপুষ্ট থাকে। তাদের মধ্যেকার পূর্ণতার আনন্দ যেন অধরা থাকে। কিন্তু বর্ষার নব জলধারায় পুষ্ট হয়ে তাদের মধ্যে আসে পরিপূর্ণতার আনন্দ। তাদের প্রবাহে আসে উল্লাস, চলায় আসে ছন্দ, এসব কিছুকেই পরিপূর্ণতার আনন্দ বলা হয়েছে।

(৪) নিচের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ ‘নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাদ দিতে পারে।’ – নদেরচাঁদ কে? নদীকে ভালোবাসার কী কৈফিয়ত সে দিয়েছিল? নদীকে খুব ভালোবাসার পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি মনস্তাত্ত্বিক আঙ্গিকে লেখা। গল্পটি আধুনিক মানুষের পরিবেশচেতনার ইঙ্গিতবাহী। মানুষ নগরায়ণের জন্য দ্রুত বন কেটে মরুভূমিতে আহ্বান জানাচ্ছে, বাতাসে মেশাচ্ছে বিব। নদীর বুকে বাঁধ বেঁধে, ব্রিজ গড়ে সে বিদীর্ণ করছে নদীবক্ষ মানুষ বুঝতে পারছে না প্রকৃতি ও পরিবেশকে ধ্বংস করে যে মৃত্যুফাদ সে রচনা করছে সেখান থেকে তার বেরিয়ে আসা মুশকিল।

      পাঁচ দিনের অবিশ্রান্ত বর্ষণের ফলে, নদেরচাদের নদীর সঙ্গে দেখা হয়নি। পঞ্চম দিন বিকেলে বৃষ্টির ক্ষণিক বিরতি পেতেই সে বেরিয়ে পড়ে। নদীকে খুব কিন্তু ব্রিজের কাছাকাছি এসে নদীর দিকে দৃষ্টিপাত ভালোবাসার পরিণতি করেই সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। উত্তাল ভয়ংকর এই নদীকে তার যেন অচেনা মনে হয়। অভ্যাসমতো ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে সে বসে। ক্রমে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। নদীস্রোত আর বৃষ্টির মিলিত শব্দে তার ভয় হয়। মনে হয় বন্দিনি নদী আজ বিদ্রোহিনী হয়ে উঠেছে। খ্যাপা নদী ব্রিজকেও বুঝি ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। সে অন্ধকারে রেললাইন দিয়ে হেঁটে স্টেশনের দিকে ফিরে চলে। কিন্তু স্টেশনের পৌঁছোনোর আগেই তাকে ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি পিষে দিয়ে চলে যায়। এভাবেই প্রাণ দিয়ে নদীকে ভালোবাসার মূল্য চুকোয় নদেরচাঁদ।

প্রশ্নঃ ‘নদেরচাদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।’ এবং ‘নদেরচাদের মন হইতে ছেলেমানুষি আমোদ মিলাইয়া গেল।’ – মাত্র একটি অনুচ্ছেদের ব্যবধানে লেখকের এই দু–রকম বিবৃতির পিছনে যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাদ নদীকে না দেখে একটি দিনও থাকতে পারে না। পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর তাই সে নদীকে দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ে। ব্রিজের কাছে এসে নদীকে দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। বৃষ্টির পর নদী যেন খেপে গেছে। নদেরচাদ এতক্ষণ ক্ষীণস্রোতা নদীর কথা ভাবছিল, তাই চেনা নদীটির মূর্তি তার আরও বেশি ভয়ংকর ও অপরিচিত লাগছিল। প্রতিদিনের অভ্যাসমতো সে ধারবস্তত্ত্বের শেষ প্রান্তে বসে নদীকে দেখল। নদীর স্রোত সেই স্তস্তে আঘাত পেয়ে আবর্তাকারে ফেনায়িত হয়ে উপরের দিকে উঠে আসছে। তার মনে হল ইচ্ছা করলেই স্পর্শ করা যাবে। আমোদিত নদেরচাদ খেলার ছলে স্ত্রীকে লেখা চিঠি স্রোতের মধ্যে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিল। ঘণ্টা তিনেক পর আবার আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টির শব্দ আর নদীর জলের গর্জন মিলেমিশে তাকে আতঙ্কিত ও অবসন্ন করে তুলল, ক্রমে তার ছেলেমানুষি উধাও হয়ে গেল। তার মনে হল নদী যে কোনো সময় ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে নিজেকে মুক্ত করতে পারে। প্রকৃতির স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করে মানবসভ্যতার যান্ত্রিক উন্নয়নকে নদী যেন ধ্বংস করতে চায়। সময়ের পরিবর্তনে পরিস্থিতির বদলের সম্ভাবনাকে সমর্থন করে; লেখক স্বল্প ব্যবধানে উক্তি দুটি করতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রশ্নঃ ‘নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।’ – নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল? ‘সে’ কীভাবে তা বুঝতে পেরেছিল?

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে আমরা দেখি ছোটোবেলা থেকেই নদেরচাদের সমস্ত কিছু নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। নদীর ভাষা সে বুঝবে এটাই স্বাভাবিক। বর্ষণপুষ্ট উত্তাল নদীকে সে ক্ষিপ্ত ও বিক্ষুব্ধ বলে চিনতে পেরেছিল। মানুষের তৈরি বাঁধ এবং ব্রিজ নদীকে শীর্ণকায় করে তোলায় নদী যে তাতে ক্ষুব্ধ, নদীর বিদ্রোহের, কারণ নদেরচাঁদ তার সংবেদনশীল মন দিয়ে তা উপলব্ধি করেছিল। মানুষের প্রযুক্তির কাছে অবদমিত প্রকৃতি যেন নদীর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে চাইছে। নদেরচাঁদ বুঝেছিল, প্রকৃতির প্রতি মানুষের অবিচারই মানবসভ্যতাকে একদিন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। 

     নদেরচাঁদ সংবেদনশীল মানুষ। নদীকে নিয়ে তার কৌতূহল পাগলামির পর্যায়ের হলেও নদীকে নিয়ে তার অন্তর্দৃষ্টি তাকে অনন্যপূর্ব সিদ্ধান্তে উপনীত করে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বলে বলীয়ান নদেরচাদ যেভাবে দাম্ভিক মানুষ প্রকৃতিকে বশে আনতে নদীর বুকে ব্রিজ বানিয়েছে, বাঁধ বেঁধেছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ যেন ধ্বনিত হয় নদীর গর্জনে, সব কিছুকে ভেঙে ফেলার চেষ্টায়। নদীর এই কাজকে যেন সমর্থন করে চলে প্রকৃতির বৃষ্টি, মেঘ ও অন্ধকার। প্রকৃতির এইসব আয়োজনের দিকে লক্ষ রেখে নদীর বিদ্রোহকে নদেরচাঁদ অন্তরাত্মা দিয়ে অনুভব করেছে।

প্রশ্নঃ ‘প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।’ – প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করে নদেরচাঁদ কী দেখেছিল? নদেরচাঁদের স্তম্ভিত হয়ে যাওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর নদীকে দেখার কথা বলতে গিয়ে লেখক ‘প্রথমবার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। একটানা বৃষ্টির জন্য পাঁচ দিন নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের দেখা হয়নি। বৃষ্টি সাময়িকভাবে থামতে, সে উন্মত্তের মতো নদীকে দেখতে ছোটে। বর্ষার শুরুতে যে শীর্ণ নদীকে নদেরচাঁদ কল্লোলিত হয়ে উঠতে দেখেছিল, অতিবর্ষণের পর তার রূপটি কেমন দাঁড়িয়েছে তা দেখবার জন্য সে উৎসুক হয়ে পড়ে। কিন্তু নদীর ধারে গিয়ে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। পাঁচদিনের অতিবর্ষণে নদী এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছিল। নদীর জলস্ফীতি ব্রিজের ধারকস্তম্ভে আঘাত পেয়ে আবর্ত রচনা করে ফেনায়িত হয়ে অনেকটা ওপরে উঠে আসছিল । নদীর এই উন্মত্ত রুপ তাকে অবাক করেছিল।

    নদেরচাঁদ প্রথমবার নদীর বর্ষণপুস্টরূপ দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। পাঁচদিন আগেও বর্ষার জলে পরিপুষ্ট নদীর জলস্রোতে যে চাঞ্চল্য সে দেখে গিয়েছিল, সে চাঞ্চল্য ছিল পরিপূর্ণতার। আজ সেই নদী খেপে গিয়ে গাঢ় পঙ্কিল জল ফুলেফেঁপে ফেনায়িত হয়ে ছুটে চলেছে। তাই তার চার বছরের চেনা নদীর মূর্তিকে নদেরচাদের যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ ‘বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাদের।’ – নদেরচাঁদের ভয়ের স্বরূপ আলোচনা করো। 

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে আমরা দেখি, নদীবক্ষে নির্মিত যে ব্রিজের ধারকস্তম্ভের প্রান্তে বসে নদেরচাদ ভয়ংকরী নদী জলরাশির উন্মাদনা লক্ষ করছিল, তার মাত্র কয়েক হাত নীচেই ছিল বিপুল বিস্ফারিত জলরাশি। এরপর প্রবল বৃষ্টি নামলে নদীর জল ও বৃষ্টিপাতের শব্দ মিলেমিশে যে চাপা গর্জন সৃষ্টি করে, তা নদেরচাদকে আতঙ্কে অবশ করে তোলে।

    নদেরচাঁদ এক অদ্ভূত অবসন্নতা আর বিবশতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তার মন জানত, সেখান থেকে উঠে চলে যাওয়াই যথাযথ সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার শরীর যেন কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। তার এই আতঙ্কের উৎস ছিল সংবেদনশীল মন, সে বুঝে গিয়েছিল নদীর এই ভয়াবহতার কারণ হল, মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রকৃতির যুদ্ধঘোষণা। মানুষ যুগ যুগ ধরে প্রকৃতিকে বশ মানাতে গিয়ে এভাবেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছে। প্রকৃতিপ্রেমিক নদেরচাঁদ নদীর এই বিদ্রোহ অনুভব করেছিল। সে বুঝেছিল, এই ক্ষিপ্ত নদী প্রতিশোধ নিতে বাঁধ ও ব্রিজ ভেঙে নিজের পথ পরিষ্কার করে নেবে। আর সেই বিক্ষুব্ধ নদীর সামনে মানবসভ্যতার একমাত্র প্রতিনিধিরূপে নদেরচাঁদ সন্ত্রস্ত আর আতঙ্কিত বোধ করে।

প্রশ্নঃ ‘ত্রিশ বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক।’ – মায়াকে ‘অস্বাভাবিক’ বলা হয়েছে কেন? এই অস্বাভাবিকত্বের পিছনে নদেরচাঁদ কী কৈফিয়ত পেশ করত।

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নায়ক নদেরচাদের নদীর প্রতি অতিরিক্ত মায়াকে ‘অস্বাভাবিক’ উন্মাদনা ছিল। একটা দিনও সে নদী অদর্শনে থাকতে পারত না। টানা পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির জন্য নদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় সে প্রায় পাগল বলার কারণ হয়ে যায়। ত্রিশ বছর বয়সি নদেরচাঁদের এই আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে ছেলেমানুষি বলে মনে হত। তা ছাড়া তার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির এমন আচরণ মোটেই স্বাভাবিক নয় বলেই, একথা বলা হয়েছে।

     নদীর প্রতি নদেরচাদের আকর্ষণ ও উন্মত্ততা যে অস্বাভাবিক তা নদেরচাঁদ নিজেও জানত। নিজের এই অস্বাভাবিকতা নিয়ে তার কোনো দুর্ভাবনা ছিল না, বরং সে তা নিয়ে আনন্দই অস্বাভাবিকত্বের উপভোগ করত। আর এই অস্বাভাবিক আচরণের কৈফিয়ত দেওয়ার তাগিদ সে নিজে থেকেই অনুভব করেছিল। কৈফিয়ত হিসেবে সে নিজের নদীর ধারে ও জন্মানো ও বেড়ে ওঠার কথা জানিয়েছে। নদীর সঙ্গে তার আন্তরিকতার কথাও সে বলেছে যে নদীটিকে ঘিরে সে বড়ো হয়েছে সেটি শীর্ণকায় হলেও নদেরচাঁদ অসুস্থ আত্মীয়ার মতো তাকে ভালোবেসেছে এবং মৃত্যুপথযাত্রী আত্মীয়ার জন্য কষ্ট পাওয়ার মতো অনাবৃষ্টিতে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া নদীটিকে দেখে ব্যথিত হয়েছে। পরবর্তীকালে কর্মক্ষেত্রের পাশে নদীর উপস্থিতি তাকে আনন্দিত করেছিল। 

প্রশ্নঃ ‘একটা বেদনাদায়ক চেতনা কিছুক্ষণের জন্য নদেরচাদকে দিশেহারা করিয়া রাখিল, তারপর সে অতিকষ্টে উঠিয়া দাঁড়াইল।’ – নদেরচাদ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল কেন? তার উঠে দাঁড়াতে কষ্ট হওয়ার কারণ কী ছিল?

উত্তরঃ পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর নদীর রূপ দেখে নদেরচাঁদ প্রথমে আমোদিত হলেও, অল্পক্ষণ পরেই তার মন থেকে ছেলেমানুষি উধাও হয়ে গিয়েছিল। আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় স্রোতপূর্ণ নদীর শব্দ ও বৃষ্টির আওয়াজ মিলেমিশে এমন একটা শব্দের সৃষ্টি করল, যা শুনে সে আতঙ্কিত ও আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। সেখান থেকে উঠে যাওয়ার ক্ষমতাটুকুও সে হারিয়ে ফেলল। প্রকৃতির রোষের কাছে মানুষ অসেরচাদের দিশেহারা যে কতটা অসহায় তার একটা ভীতিময় অনুভূতি হয়ে পড়ার কারণ নদেরচাদের চেতনা ও অবচেতন মনের মধ্যেকার ফারাক ঘুচিয়ে দিল। এমন সময় একটা ট্রেন চলে যাওয়ার আকস্মিক শব্দের মতন বেদনাদায়ক আঘাতে তার ঘোর ভাঙে। কিছুক্ষণের জন্য তার ভারাক্রান্ত মন তাকে দিশেহারা করে তোলে।

     মানুষ যখন আতঙ্কিত হয় তখন তার মধ্যে দু–ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। হয় সে অতিসক্রিয় হয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালায়, নয় সে স্থির ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে নদীর গর্জন এবং বৃষ্টির শব্দ তার মনে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছিল, তাতে সে হতভম্ব আর অবসন্ন হয়ে পড়েছিল। এইজন্য নদেরচাদ ব্রিজের ওপর থেকে উঠে যেতে চাইলেও তার শরীর মন তাতে সংগত করতে পারেনি। কিন্তু ট্রেন চলে যাওয়ার মতো কোনো একটি প্রচণ্ড শব্দে যখন তার সংবিৎ ফিরল, তখন সে অতিকষ্টে উঠে দাঁড়াল।

প্রশ্নঃ ‘দুদিন ধরিয়া বাহিরের অবিশ্রান্ত বর্ষণের সঙ্গে সুর মিলাইয়া নদেরচাদ বউকে প্রাণপণে একখানা পাঁচপৃষ্ঠাব্যাপী বিরহ–বেদনাপূর্ণ চিঠি লিখিয়াছে,’ – ‘অবিশ্রান্ত বর্ষণের সঙ্গে সুর মিলাইয়া’–র অর্থ কী? চিঠির পরিণতি যা হয়েছিল, তার পিছনের কারণটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ যুগে যুগে বর্ষার আবহের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক স্বীকৃত। এই ব্যাকুলতার আভাস মেলে কালিদাস, রবীন্দ্রনাথ কিংবা বৈষুব ‘অবিভ্রান্ত বর্ষণের সঙ্গে সুর মিলাইয়া পদকর্তাদের লেখা কাব্যের ছত্রে ছত্রে।’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নায়ক নদের চাঁদ দীর্ঘদিন কর্মসূত্রে ঘরছাড়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন। তাই পাঁচ দিন ধরে একটানা বৃষ্টি তার বিরহব্যথাকে আরও প্রবল করে তুলেছিল। বৃষ্টির সুরের কোমলতা মাখিয়ে সে স্ত্রীকে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখেছিল। চিঠির পরিণতির পিছনে প্রকৃত কারণ বহু যত্নে ও আবেগে স্ত্রীকে লেখা চিঠি নদেরচাঁদ ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীর ফেনিল জলস্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। এর কারণ এই নয় যে, সে চিঠিটি স্ত্রীর হাতে পৌঁছে দিতে উৎসাহী ছিল না। বরং এর কারণটি ছিল অত্যন্ত শিশুসুলভ। সে ভয়ংকরী নদীর উত্তাল জলরাশির সঙ্গে খেলায় মেতেছিল। খেলার অন্য কোনো সরঞ্জাম না–পেয়ে নদেরচাঁদ পকেট থেকে চিঠিটি বের করে ছিঁড়ে নদীর জলে ভাসাতে থাকে। নদী কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে চিঠিগুলি ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তাই দেখাই তার উদ্দেশ্য ছিল। এসবের পিছনেই ছিল নদেরচাঁদের নদী সম্পর্কে অস্বাভাবিক পাগলামি। মানুষের কাছে তার প্রিয়জন সবচেয়ে আপন। কিন্তু নদেরচাঁদের আচরণ বুঝিয়ে দেয় যে, তার কাছে নদীর চেয়ে বেশি আপনজন আর কেউ নেই। এখানে নদী আসলে তার প্রেয়সীতে রূপান্তরিত হয়।

প্রশ্নঃ নদেরচাদের চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি নদীপ্রেমিক নদেরচাদের তীব্র আবেগ ও আকুলতাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। গল্পের নিয়ন্ত্রক বা কেন্দ্রীয় চরিত্র যে সে এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 

   নদেরচাঁদের চরিত্রের যে–দিকটি সবচেয়ে প্রকট, তা হল নদীর প্রতি তার তীব্র আকর্ষণ। নদীর ধারে বড়ো হয়ে ওঠার দরুন নদীর প্রতি তার টান থাকা স্বাভাবিক। তার গ্রামের ক্ষীণকায়া মীর প্রতি তীব্র নদীটিকে সে ভালোবাসত এক অসুস্থ আত্মীয়ার আকর্ষণ মতোই। এমনকী তার কর্মস্থলের কাছের নদীটিকে প্রতিদিন না–দেখেও সে থাকতে পারত না। নদীর প্রতি তার এই টান যে অস্বাভাবিক, তা বুঝলেও এই পাগলামিটা সে উপভোগ করত। আকোপ্রবণতা অস্থিরতা নদেরচাদের নদীর প্রতি ভালোবাসা, বর্ষায় স্ত্রীর বিরহে কাতর হয়ে ওঠা এগুলি আবেগপ্রবণতার লক্ষণ। আবার বিরহে কাতর হয়ে স্ত্রীকে লেখা চিঠি খেলার ছলে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দেয় নদেরচাঁদ। এ থেকে বোঝা যায়, তার মধ্যে কাজ করে চলে এক অস্থিরতা। তাই অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে পাঁচদিন নদীর কাছে যেতে না পেরে ছটফট করে সে। নদীই যেন নিঃসঙ্গ নদেরচাঁদের প্রেয়সীতে রূপান্তরিত হয়। 

    সংবেদনশীলতা নদেরচাঁদ নদীর ভাষা বুঝত। নদীর ভয়ংকরী রূপ দেখে সে বুঝতে পেরেছিল, সভ্যতার নামে প্রকৃতিকে পদানত করলে শেষপর্যন্ত তা ধ্বংসই ডেকে আনবে। তার এই উপলব্ধি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতারই পরিচয়। তাই সে যে ব্রিজ নিয়ে গর্ব করেছিল, তার প্রয়োজনীয়তা বিষয়েই সংশয় প্রকাশ করে। নদেরচাঁদ যতই আবেগপ্রবণ হোক, নদীর প্রতি তার যতই টান থাকুক, তা কিন্তু কখনোই তার কর্তব্য পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। স্টেশনমাস্টার হিসেবে সে তার দায়িত্ববোধ দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করে। এইসব মিলিয়ে নদেরচাঁদ একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে। গল্পের শেষে তার নিয়তি–নির্দিষ্ট মৃত্যু যেন মানুষের নিজের তৈরি যন্ত্রসভ্যতার হাতে অসহায় ও করুণ পরিণতির এক আশ্চর্য ভাষ্য হয়ে ওঠে।

প্রশ্নঃ ‘এই ভীষণ মধুর শব্দ শুনিতে শুনিতে সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হইয়া আসিতেছে। – উক্ত শব্দকে ‘ভীষণ মথুর’ এই বৈপরীত্যসূচক বিশেষণে বিশেষিত করার কারণ কী? এই শব্দ শোনার সঙ্গে সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হয়ে আসার সম্পর্ক কী?

উত্তরঃ পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর অভ্যাসবশত নদেরচাঁদ নদীর রূপ দেখতে যায়। ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে নদীর রূপ দেখে সে বেশ ‘ভীষ মধুর’ – বৈপরীত্যসূচক ডিও বিশোষণ, আমোদিত বোধ করে। আবার আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। সেই বৃষ্টির শব্দ আর নদীর জলের গর্জন মিলেমিশে তাকে বিবশ করে। নদীর উন্মত্ততা ও বৃষ্টির প্রাবল্য তার মনে আতঙ্কের সঞ্চার করে। ভয়ংকর জলতরঙ্গের চাপা গর্জন আর বৃষ্টির শব্দ মিলেমিশে যে–ঐক্যতান সৃষ্টি করেছিল, তা শ্রুতিমধুর হলেও ভয়ংকর এই শব্দের অভিঘাত নদেরচাঁদকে বিবশ ও আতঙ্কিত করে তুলেছিল। শব্দের এই দ্বিমুখী ক্রিয়ার জন্যই ‘ভীষণ মধুর’ বিশেষণটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

      ভয় মানুষকে অতিসক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে দেয়। সক্রিয়তা তাকে বিপদস্থল থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় আর নিষ্ক্রিয়তা তাকে সেখানেই আতঙ্কের গভীরে নিমজ্জিত করে। নদীর ধ্বংসাত্মক ভয়াবহতা, তার রুষ্ট গর্জন ও বৃষ্টির প্রাবল্য সব কিছু মিলিয়ে যে–ভয় নদেরচাঁদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল, তা তাকে বিবশ ও অবসন্ন করে তুলেছিল। সে পরিস্থিতির প্রতিকূলতা উপলব্ধি করেও তাই সেখান থেকে উঠে যেতে পারেনি। কেন না তার মানসিক ও শারীরিক জোর সে মুহূর্তে ছিল না।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *