
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল
(আমাদের পৃথিবী)
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
তৃতীয় অধ্যায়
‘শিলা’ ‘
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:
অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. প্রশ্ন: শিলা কাকে বলে?
উত্তর: ভূত্বক গঠনকারী বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মিশ্রিত শক্ত বা নরম উপাদানকে শিলা বলে।
২. প্রশ্ন: প্রধানত শিলাকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
উত্তর: ৩টি ভাগে (আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা)।
৩. প্রশ্ন: পৃথিবীর প্রথম সৃষ্টি হওয়া শিলা কোনটি?
উত্তর: আগ্নেয় শিলা।
8. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলার অপর নাম কী?
উত্তর: প্রাথমিক শিলা।
৫. প্রশ্ন: নিসারী আগ্নেয় শিলার একটি উদাহরণ দাও
উত্তর: ব্যাসাল্ট।
৬.প্রশ্ন: উদবেধী আগ্নেয় শিলার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: গ্র্যানাইট।
৭. প্রশ্ন: পাতালে সঞ্চিত উদবেধী শিলাকে কী বলে?
উত্তর: পাতালিক শিলা।
৮. প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠের সামান্য নিচে সঞ্চিত উদবেধী শিলাকে কী বলে?
উত্তর: উপপাতালিক শিলা।
৯.প্রশ্ন: উপপাতালিক শিলার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ডোলারাইট।
১০. প্রশ্ন: গ্র্যানাইট শিলা ক্ষয়ে গিয়ে গোল আকার ধারণ করলে তাকে কী বলে?
উত্তর: টর (Tor)
১১. প্রশ্ন: রেললাইনের ধারে যে কালো পাথরের টুকরো দেখা যায় তা কী শিলা?
উত্তর: ব্যাসাল্ট।
১২. প্রশ্ন: স্তরীভূত শিলা কাকে বলা হয়?
উত্তর: পাললিক শিলাকে।
১৩. প্রশ্ন: জীবশ্ম (Fossil) কোন শিলায় দেখা যায়?
উত্তর: পাললিক শিলায়।
১৪. প্রশ্ন: কাদা পাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
উত্তর: স্লেট।
১৫. প্রশ্ন: চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
উত্তর: মার্বেল বা শ্বেতপাথর।
১৬. প্রশ্ন: গ্র্যানাইট রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?
উত্তর: নিস (Gneiss) |
১৭. প্রশ্ন: ব্যাসাল্ট রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?
উত্তর: অ্যাম্ফিবোলাইট।
১৮. প্রশ্ন: বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?
উত্তর: কোয়ার্টজাইট।
১৯. প্রশ্ন: কোন শিলায় ছিদ্র বা রন্ধ্র বেশি থাকে?
উত্তর: পাললিক শিলায়।
২০. প্রশ্ন: পিউমিস (Pumice) শিলা কেন জলে ভাসে?
উত্তর: কারণ এতে অসংখ্য বায়ু কুঠুরি থাকে।
২১. প্রশ্ন: কয়লা কোন ধরনের শিলা?
উত্তর: জৈব পাললিক শিলা।
২২. প্রশ্ন: খনিজ কাকে বলে?
উত্তর: নির্দিষ্ট রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট অজৈব পদার্থকে খনিজ বলে।
২৩. প্রশ্ন: মোস স্কেল (Mohs Scale) দিয়ে কী মাপা হয়?
উত্তর: খনিজের কাঠিন্য।
২৪. প্রশ্ন: পৃথিবীর কঠিনতম খনিজ কোনটি?
উত্তর: হিরে।
২৫. প্রশ্ন: খনিজ তেল কোন শিলায় পাওয়া যায়?
উত্তর: পাললিক শিলায়।
২৬. প্রশ্ন: তাজমহল কোন শিলা দিয়ে তৈরি?
উত্তর: শ্বেতপাথর বা মার্বেল।
২৭. প্রশ্ন: কেল্লা বা লাল কেল্লা কোন শিলা দিয়ে তৈরি?
উত্তর: লাল বেলেপাথর।
২৮. প্রশ্ন: পেন্সিলের সিস কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: গ্রাফাইট (রূপান্তরিত শিলা)।
২৯. প্রশ্ন: শিলাচক্র (Rock Cycle) কী?
উত্তর: শিলার এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় চক্রাকার আবর্তন।
৩০. প্রশ্ন: কোন শিলায় কেলাস দেখা যায়?
উত্তর: আগ্নেয় শিলায়।
৩১. প্রশ্ন: ডেকান ট্র্যাপ (Deccan Trap) কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর: ব্যাসাল্ট।
৩২. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলা কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ২ প্রকার (নিসারী ও উদবেধী)।
৩৩. প্রশ্ন: চুনাপাথরের প্রধান খনিজ কী?
উত্তর: ক্যালসাইট।
৩৪. প্রশ্ন: স্লেট শিলার রঙ সাধারণত কেমন হয়?
উত্তর: ধূসর বা কালো।
৩৫. প্রশ্ন: কোন শিলায় পারগম্যতা সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: বেলেপাথরে।
৩৬. প্রশ্ন: সংঘাত শিলা (Clastic Rock) কোনটি?
উত্তর: পাললিক শিলা।
৩৭. প্রশ্ন: চুনাপাথর কোন অঞ্চলে গুহা সৃষ্টি করে?
উত্তর: কাস্ট (Karst) অঞ্চলে।
৩৮.প্রশ্ন: আকরিক কাকে বলে?
উত্তর: যে খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়।
৩৯. প্রশ্ন: লোহার প্রধান আকরিক কোনটি?
উত্তর: হেমাটাইট বা ম্যাগনেটাইট।
৪০. প্রশ্ন: তামার একটি আকরিকের নাম লেখো।
উত্তর: কপার পাইরাইটস।
৪১. প্রশ্ন: অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক কোনটি?
উত্তর: বক্সাইট।
৪২. প্রশ্ন: পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের কত শতাংশ অধিকার করে করে আছে?
উত্তর: প্রায় ৭৫ শতাংশ।
৪৩. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলার মধ্যে কোনটি প্রাচীন?
উত্তর: আগ্নেয় শিলা।
88. প্রশ্ন: স্যান্ডস্টোন বা বেলেপাথরের প্রধান খনিজ কী?
উত্তর: কোয়ার্টজ।
৪৫. প্রশ্ন: গ্রাফাইট কোন খনিজের রূপান্তরিত রূপ?
উত্তর: কয়লার।
৪৬. প্রশ্ন: ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর: ব্যাসাল্ট।
৪৭. প্রশ্ন: কোন শিলা সবচেয়ে বেশি প্রবেশ্য?
উত্তর: পাললিক শিলা।
৪৮. প্রশ্ন: খনিজের কাঠিন্য মাপার সবথেকে নরম খনিজ কোনটি?
উত্তর: ট্যালক (Talc)।
৪৯. প্রশ্ন: কোয়ার্টজাইট কোন শিলা থেকে রূপান্তরিত হয়েছে?
উত্তর: বেলেপাথর।
৫০. প্রশ্ন: সচ্ছিদ্রতা (Porosity) কোন শিলার বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: পাললিক শিলার।

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
==================================================
১. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলা কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময় উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে যে শিলা তৈরি হয়েছে, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
বৈশিষ্ট্য: (১) এই শিলা খুব শক্ত ও ভারী হয়।
(২) এতে কোনো স্তর থাকে না।
(৩) এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।
(৪) এই শিলা সহজে ক্ষয় পায় না।
২. প্রশ্ন: পাললিক শিলা কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: নদী, বায়ু বাহিমবাহের দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ (পলি, বালি, কাদা) সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে স্তরে স্তরে জমা হয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ওপরের স্তরের চাপে ও ভূগর্ভের তাপে এই পলি জমাট বেঁধে যে শিলা তৈরি করে, তাকে পাললিক শিলা বলে।
৩. প্রশ্ন: রূপান্তরিত শিলা বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:আগ্নেয় বা পাললিক শিলা ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ, চাপ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে নিজের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম পরিবর্তন করে নতুন যে শিলা গঠন করে, তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
উদাহরণ: চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল পাথরে পরিণত হয়।
8. প্রশ্ন: পাললিক শিলায় কেন জীবাশ্ম দেখা যায়?
উত্তর: পাললিক শিলা তৈরির সময় পলি স্তরে স্তরে জমা হয়। সেই সময় কোনো সামুদ্রিক প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহাবশেষ দুই স্তরের মাঝে চাপা পড়ে যেতে পারে। পরবর্তীকালে ওই স্তুপ জমাট বেঁধে শিলা হওয়ার সময় প্রাণী বা উদ্ভিদের ছাপ স্থায়ীভাবে থেকে যায়, যা জীবাশ্ম নামে পরিচিত। আগ্নেয় শিলা খুব উত্তপ্ত হওয়ায় সেখানে জীবাশ্ম থাকা সম্ভব নয়।
৫. প্রশ্ন: নিসারী ও উদবেধী আগ্নেয় শিলার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের বাইরে এসে শীতল হয়ে শিলা তৈরি করে, তাকে নিসারী শিলা বলে (যেমন- ব্যাসাল্ট)। অন্যদিকে, ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে না পেরে ভূগর্ভেই শীতল হয়ে জমাট বাঁধলে তাকে উদবেধী শিলা বলে (যেমন- গ্র্যানাইট)।
৬. প্রশ্ন: গ্র্যানাইট ও ব্যাসাল্ট শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। উত্তর: গ্র্যানাইট: এটি খুব শক্ত, এর দানাগুলো বড় হয় এবং এটি হালকা রঙের হয়। এটি দিয়ে ঘরবাড়ির মেঝে বা স্তম্ভ তৈরি হয়।
ব্যাসাল্ট: এটি খুব ভারী ও গাঢ় রঙের শিলা। এর দানাগুলো খুব সূক্ষ্ম হয়। এটি রাস্তা তৈরির কাজে বা রেললাইনে ব্যবহৃত হয়।
৭. প্রশ্ন: খনিজ ও আকরিকের মধ্যে সম্পর্ক বুঝিয়ে বলো।
উত্তর: প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট রাসায়নিক ধর্মযুক্ত অজৈব পদার্থই হলো খনিজ। কিন্তু সব খনিজ থেকে সহজে বা লাভজনকভাবে ধাতু পাওয়া যায় না। যে সমস্ত খনিজ থেকে সহজে ও কম খরচে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাদের আকরিক বলে। তাই বলা হয়- “সব আকরিকই খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয়।”
৮. প্রশ্ন: শিলাচক্র (Rock Cycle) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রকৃতিতে শিলার এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরের যে চক্রাকার পদ্ধতি চলে, তাকে শিলাচক্র বলে। আগ্নেয় শিলা ক্ষয় হয়ে পাললিক হয়, আবার পাললিক শিলা তাপে রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তরিত বা পাললিক শিলা আবার ভূগর্ভে গলে গিয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয় এবং পুনরায় আগ্নেয় শিলা তৈরি করে।
৯. প্রশ্ন: পাতালিক ও উপপাতালিক শিলার পার্থক্য কী?
উত্তর: উদবেধী আগ্নেয় শিলা যখন ভূগর্ভের অনেক গভীরে খুব ধীরে ধীরে শীতল হয়, তাকে পাতালিক শিলা বলে (যেমন- গ্র্যানাইট)। আর ম্যাগমা যখন ভূত্বকের ফাটলের মধ্যে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে জমাট বাঁধে, তাকে উপপাতালিক শিলা বলে । (যেমন-ডোলারাইট)।
১০. প্রশ্ন: পাললিক শিলাকে ‘স্তরীভূত শিলা’ বলা হয় কেন?
উত্তর: পাললিক শিলা সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে পলি বা কাদা স্তরে স্তরে জমা হয়ে গঠিত হয়। এই শিলাখণ্ডে স্পষ্ট স্তরবিন্যাস লক্ষ্য করা যায় বলে একে স্তরীভূত শিলা বা ‘Stratified Rock’ বলা হয়।
১১. প্রশ্ন: মানুষের দৈনন্দিন জীবনে শিলার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর:(১) ঘরবাড়ি, মন্দির ও স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিতে শিলা ব্যবহৃত হয়।
(২) খনিজ তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎস হলো শিলা।
(৩) শিলা ক্ষয় হয়েই উর্বর মাটি তৈরি হয় যা কৃষিকাজে লাগে।
(৪) লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় ধাতু শিলার আকরিক থেকেই পাওয়া যায়।
১২. প্রশ্ন: রূপান্তরিত শিলার দুটি বিশেষ সুবিধা বা ব্যবহার লেখো।
উত্তর: (১) রূপান্তরিত শিলা আদি শিলার তুলনায় অনেক বেশি শক্ত ও সুসংহত হয়, তাই এটি দিয়ে টেকসই নির্মাণকাজ করা যায় ।
(যেমন- মার্কেল)।
(২) স্লেটের মতো রূপান্তরিত শিলা পাতলা স্তরে ভেঙে যায় বলে এটি ঘর ছাওয়া বা ব্ল্যাকবোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
১৩. প্রশ্ন: কোয়ার্টজাইট ও স্লেট কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: বেলেপাথর প্রচণ্ড তাপে রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট তৈরি হয়। অন্যদিকে, পাললিক শিলা কাদা পাথর প্রচণ্ড চাপে ও তাপে রূপান্তরিত হয়ে স্লেট পাথরে পরিণত হয়।
১৪. প্রশ্ন: প্রবেশ্যতা (Permeability) বলতে কী বোঝো? কোন শিলায় এটি বেশি?
উত্তর: শিলার মধ্য দিয়ে জল বা অন্য কোনো তরল চলাচল করার ক্ষমতাকে প্রবেশ্যতা বলে। পাললিক শিলা (বিশেষ করে বেলেপাথর) অধিক সচ্ছিদ্র হওয়ায় এর প্রবেশ্যতা সবচেয়ে বেশি।
১৫. প্রশ্ন: শিলার রূপান্তরের প্রধান কারণগুলি কী কী?
উত্তর: শিলার রূপান্তরের প্রধান তিনটি কারণ হলো-
(ক) অত্যধিক তাপ: ভূগর্ভের ম্যাগমোর সংস্পর্শে এসে শিলা পরিবর্তিত হয়। (খ) প্রবল চাপ: ওপরের শিলাস্তরের ভারে নিচের শিলার গঠন বদলে যায়। (গ) রাসায়নিক বিক্রিয়া: ভূগর্ভস্থ তরল বা গ্যাসের প্রভাবে শিলার খনিজ উপাদানের পরিবর্তন ঘটে।
১৬. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলার মধ্যে প্রধান ৩টি পার্থক্য লেখো। উত্তর: (১) আগ্নেয় শিলা ম্যাগমা জমাট বেঁধে তৈরি হয়, আর পাললিক শিলা পলি স্তরে স্তরে জমে তৈরি হয়।
(২) আগ্নেয় শিলা খুব শক্ত ও কেলাসিত হয়, পাললিক শিলা তুলনামূলক নরম ও ভঙ্গুর।
(৩) আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না, কিন্তু পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায়।
১৭. প্রশ্ন: ‘টর’ (Tor) কী এবং এটি কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: গ্র্যানাইট শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চলে আবহবিকারের ফলে শিলার উপরিভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে আলগা হয়ে যায়। অনেক সময় এই ক্ষয়িত শিলা অপসারিত হলে নিচের শক্ত শিলাখণ্ডগুলো গোল গোল স্তূপের মতো পড়ে থাকে। এই বিশেষ ভূমিভাগকে ‘টর’ বলে। দক্ষিণ ভারতের মালভূমি অঞ্চলে এটি দেখা যায়।
১৮. প্রশ্ন: ডেকান ট্র্যাপ (Deccan Trap) কী? এটি কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর: ‘ট্র্যাপ’ শব্দের অর্থ সিঁড়ি। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলে লাভা উদগিরণের ফলে ভূখণ্ডটি সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে সজ্জিত হয়েছে। একেই ডেকান ট্র্যাপ বলে। এটি প্রধানত ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে গঠিত।
১৯. প্রশ্ন: খনিজ পদার্থ কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:প্রকৃতিতে নির্দিষ্ট রাসায়নিক ও ভৌত ধর্ম এবং নির্দিষ্ট পারমাণবিক গঠনযুক্ত অজৈব পদার্থকে খনিজ বলে।
বৈশিষ্ট্য: (১) খনিজ পদার্থ কঠিন এবং অজৈব উপাদানে গঠিত।
(২) প্রতিটি খনিজের নির্দিষ্ট স্ফটিক আকার বা কেলাস থাকে।
২০. প্রশ্ন: তাজমহল ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল তৈরিতে কোন শিলা ব্যবহৃত হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: এই স্থাপত্যগুলো তৈরিতে সাদা মার্বেল বা শ্বেতপাথর ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ মার্বেল হলো একটি রূপান্তরিত শিলা যা অত্যন্ত শক্ত, মসৃণ এবং এর উজ্জ্বলতা অনেক বেশি। এটি দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় এবং দেখতে অত্যন্ত সুন্দর।
২১. প্রশ্ন: জৈব পাললিক শিলা কীভাবে তৈরি হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর: সমুদ্র বা জলাশয়ের নিচে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ বছরের পর বছর জমে এবং রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যে শিলা গঠন করে, তাকে জৈব পাললিক শিলা বলে। যেমন- কয়লা ও চুনাপাথর।
২২. প্রশ্ন: শিলার কাঠিন্য বলতে কী বোঝো? এটি কীভাবে মাপা হয়?
উত্তর: একটি শিলা বা খনিজ অন্য একটি শিলাকে কতটা আঁচড কাটতে পারে বা বাধা দিতে পারে, তাকেই শিলার কাঠিন্য বলে। খনিজ বিজ্ঞানী ফ্রেডরিখ মোস-এর আবিষ্কৃত ‘মোস স্কেল’ (Mohs Scale) দিয়ে এটি মাপা হয়। এই স্কেলের মান ১(ট্যালক) থেকে ১০ (হিরে) পর্যন্ত হয়।
২৩. প্রশ্ন: শিলা ও খনিজের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: শিলা ও খনিজ কোনো দেশের সম্পদের প্রধান উৎস। শিলা থেকে আমরা ঘরবাড়ি তৈরির উপাদান পাই। খনিজ থেকে লোহা, তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতু পাওয়া যায়। এছাড়া পাললিক শিলা থেকে কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো শক্তি সম্পদ পাওয়া যায় যা কলকারখানা ও পরিবহনে অপরিহার্য।
২৪. প্রশ্ন: রাসায়নিক পাললিক শিলা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সমুদ্র বা হ্রদের জল যখন বাষ্পীভূত হয়, তখন জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণগুলো নিচে থিতিয়ে পডে যে শিলা তৈরি করে, তাকে রাসায়নিক পাললিক শিলা বলে। যেমন-জিপসাম ও সৈন্ধব লবণ।
২৫. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলাকে ‘প্রাথমিক শিলা’ বলা হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির পর উত্তপ্ত অবস্থা থেকে শীতল হওয়ার সময় সবার আগে এই শিলা গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই শিলা থেকেই পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়েছে। যেহেতু এটি প্রথম উৎপন্ন শিলা, তাই একে প্রাথমিক শিলা বলা হয়।
২৬. প্রশ্ন: পাললিক শিলার সচ্ছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর:পাললিক শিলা যেহেতু আলগা পলি বা বালি দিয়ে তৈরি, তাই দানার মাঝে অনেক ফাঁক বা ছিদ্র থাকে (সচ্ছিদ্রতা)। এই ফাঁক দিয়ে জল সহজেই চলাচল করতে পারে (প্রবেশ্যতা)। এই কারণেই পাললিক শিলাস্তরে ভৌমজল এবং খনিজ তেল বা গ্যাস সহজেই সঞ্চিত থাকতে পারে।
২৭. প্রশ্ন: গ্রাফাইট ও হিরের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: গ্রাফাইট ও হিরে- দুটিই কার্বন দিয়ে গঠিত হলেও এদের গঠন আলাদা। গ্রাফাইট রূপান্তরিত শিলা, যা খুব নরম এবং কালচে রঙের। এটি পেন্সিলের সিস তৈরিতে লাগে। অন্যদিকে, হিরে হলো পৃথিবীর কঠিনতম খনিজ এবং এটি স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল যা অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২৮. প্রশ্ন: চুনাপাথর অঞ্চলের গুহার ছাদ থেকে ঝুলে থাকা শিলাস্তম্ভকে কী বলে?
উত্তর: একে স্ট্যালাকটাইট (Stalactite) বলা হয়। চুনাপাথর মিশ্রিত জল যখন গুহার ছাদ থেকে নিচে পড়ে, তখন চুন শুকিয়ে গিয়ে ওপর থেকে নিচের দিকে স্তম্ভের মতো বাড়তে থাকে।
২৯. প্রশ্ন: কংগ্লোমারেট ও ব্রেসিয়া শিলা কী?
উত্তর: গোলাকার বা মসৃণ শিলাচূর্ণ সিমেন্টের মতো পদার্থ দিয়ে জমাট বাঁধলে তাকে কংগ্লোমারেট বলে। আর কোণাকার বা তীক্ষ্ণ প্রান্তযুক্ত শিলাখণ্ড জমাট বাঁধলে তাকে ব্রেসিয়া বলা হয়।
৩০. প্রশ্ন: শিলাচক্রের মাধ্যমে শিলার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে? উত্তর: শিলাচক্রের ফলে শিলা কখনও পুরোপুরি ধ্বংস হয় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়। অন্নুৎপাত থেকে আগ্নেয় শিলা, তা থেকে পাললিক শিলা, আবার রূপান্তরের মাধ্যমে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত এই শিলাগুলো আবার ভূগর্ভে গিয়ে গলে ম্যাগমায় পরিণত হয়। এই নিরবচ্ছিন্ন চক্রের মাধ্যমেই পৃথিবীতে শিলার ভারসাম্য বজায় থাকে।


©kamaleshforeducation.in(2023)



